আত্মহত্যা কারীর শাস্তি কি? তারা কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী?

প্রশ্ন
মুফতী সাহেবের নিকট আমার প্রশ্ন হল, যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে সে কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে?একজনকে বলতে শুনেছি, যে যে পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করবে জাহান্নামে সে চিরকাল সে পদ্ধতিতেই শাস্তি পেতে থাকবে৷ অর্থাৎ কেউ ফাসী লেগে আত্মহত্যা করলে জাহান্নামে সে চিরকাল ফাসীর মাধ্যমে শাস্তি পাবে৷ বিষ পান করে আত্মহত্যা করলে জাহান্নামে সে চিরকাল বিষ পান করবে ৷ এসব কথা কতটুকু সঠিক? জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
মানুষের জীবন তার নিকট আল্লাহপ্রদত্ত আমানত৷ তা বিনষ্ট করার অধিকার মানুষের নেই৷ তাই আত্মহত্যা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।
-সূরা নিসা, আয়াত নং-২৯
প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্যটি হাদীস শরীফে এভাবে বর্নিত হয়েছে যে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে চিরদিন সেভাবেই লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে তার বিষ তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে সেখানে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।
-সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২৷
উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, আত্মহত্যাকারী যে
পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করবে, সেভাবে জাহান্নামে চিরকাল শাস্তি পেতে থাকবে।
অবশ্য এ হাদীস দ্বারা বাহ্যিকভাবে এটাও বুঝা যায় যে,আত্মহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। কিন্তু মুলত বিষয়টি এমন নয়। কারণ আত্মহত্যা করা কবিরাহ গুনাহ যা তৌবা করলে মাফ হয়ে যায় ৷ কিন্তু আত্মহত্যা কারীর যেহেতু সেই সুযোগ নাই তাই তাকে জাহান্নামের শাস্তি পাবে ৷ আর তৌবা না করলেও আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে উক্ত ব্যক্তিকে মাফ করে দিতে পারেন৷ কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন।
-সূরা নিসা-১১৬৷
হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।
-সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১২৫৷
সুতরাং আত্মহত্যা কারীর মৃত্যুর সময় যদি ইমান বহাল থেকে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে না। কেননা চিরস্থায় জাহান্নামী কেবল কাফের-মুশরিকরা হবে। এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্যও এটাই। এবং আরবদের পরিভাষায়ও “চিরকাল” এর দ্বারা কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকেন। উক্ত হাদীসেও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উদ্দেশ্য ৷ চিরস্থায়ী হওয়া নয়।
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest