আপনি কি জানেন কি ভাবে আপনার নেক ‘আমলগুলো নষ্ট হয়ে যায়?

যে সকল কারণে আপনার নেক (উৎকৃষ্ট) ‘আমলগুলো নষ্ট হয়ে যায় তার মধ্যে অন্যতম কাজগুলো হচ্ছে-
১-আপনি পর্দা তথা হিজাব পালন করেন অথচ, আপনি সুগন্ধিময় মেকআপ করে ও সুগন্ধি লাগিয়ে রাস্তায় বের হন।
কারণ, ইসলামি শরিয়তে মহিলাদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম (শুধুমাত্র ঘরের ভেতরে যেখান থেকে কোন পর পুরুষ তার ঘ্রাণ পাবে না সেখানেই ব্যবহার করতে পারে)।
রসূল সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“পুরষ মানুষ গন্ধ পাবে এমন উদ্দেশ্যে কোন মহিলা যদি পুরুষের মাঝে চলাফেরা করে তাহলে সে (মহিলা) একজন যিনাকারী তথা ব্যাবিচারিনী হিসেবে গণ্য হবে।”
সূত্র: আহমাদ ৪/৪১৮, স‘হীহুল জামি হাদীস- ১০৫।
২-আপনি দাড়ি রেখেছেন অথচ, রাস্তায় চলাফেরার সময় আপনার দৃষ্টি নত থাকে না।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়, ততটা গুরুত্ব পুরুষদের ক্ষেত্রে দেয়া হয় না।
অথচ- আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে উপদেশ দিয়ে বলেন:
“মু’মিনদেরকে বলে দাও: তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম; তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ অবহিত”। সূরা নূর-৩০
আর হাদীস শরীফে এসেছে এ ভাবে-
হযরত বুরায়দাহ ইবনুল-হাসীব রদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত,
রসূল সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলী রদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলেন:
“হে ‘আলী“ দৃষ্টির উপর দৃষ্টি ফেলো না। হঠাৎ যে দৃষ্টি পড়ে ওটা তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমা যোগ্য না।
সূত্র: সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস-২১৪৯/অধ্যায়-১২,হাদীস-১০৪।
৩-আপনি সঠিক সময়ে নামায বা সালাত আদায় করেন কিন্তু নামায বা সালাতটি আদায় করে খুব তাড়াহুড়ো করেন যদ্বরুন রুকূ‘,সিজদার পুরোপুরি হক্ব আদায় হয় না।
কেননা হাদীসে এসেছে-
সবচেয়ে বড় চুরি হলো নামাযে চুরি করা।
রসূল সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
সবচেয়ে জঘন্য চোর হল- যে তার নামাযে চুরি করে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কি ভাবে নামাযে চুরি করে? তিনি বললেন, রুকূ’ ও সিজদাহ পুরোপুরি আদায় করে না।
সূত্র: আহমাদ ৫/৩১০, স‘হীহ আল-জামি’ ৯৯৭।
৪-লোক সম্মুখে নম্রতা,ভদ্রতা ও শালিনতার সহিত কথা বলেন অথচ, পরিবারের সদস্যদের সাথে কর্কশ তথা শক্ত ভাষায় কথা বলেন।
৫-আপনি মেহমানদের সাথে উত্তম আচরণ করেন কিন্তু তারা চলে গেলে পেছনে সমালোচনা করেন।
৬-আপনি অসহায় ও গরীব-মিসকিনদের দান করেন অথচ, তাদের সাথে মন্দ আচরণ করেন।
৭-আপনি নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামায তথা সালাত আদায় করেন, রোযা রাখেন,কুরআন তিলাওয়াত করেন কিন্তু আত্মিয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী।
৮-আপনি সারাটা দিন রোযা রাখেন, পানাহার থেকে বিরত থেকে ধৈর্য ধারণ করেন কিন্তু রোযা অবস্থায় মানুষেকে দুর্ব্যাহার করে, গালিগালাজ করে কষ্ট দেন।
৯-আপনি মানুষকে সাহায্য বা দান-দক্ষিনা করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নয় বরং লোক দেখানোর জন্যে বা বিনিময় পাওয়ার আশায়।
১০-আপনি মানুষকে সৎ উপদেশ দান করেন, ভাল ভাল নসীহত শুনান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নয় বরং নিজের সুখ্যাতি অর্জন বা শুধুমাত্র নিজের প্রচার প্রসারের লক্ষে।
তাহলে নিশ্চিত ধরে রাখতে পারেন যে, আপনার নেক (উত্তম) আমলগুলো আপনার কোন কাজে আসবে না। কারণ, যে আশায় আপনি এসব করেছেন তার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা আপনাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেবে।
আর যখন কাল কিয়ামতের দিন শেষ বিচারের ময়দানে আপনি বলবেন যে, ইয়া আল্লাহ! আমি অমুক নেক কাজটি করেছিলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন তুমি ওসব কাজগুলো আমার সন্তুষ্টির জন্যে করোনি বরং নিজের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে করেছো। অতএব, আমি তোমাকে তোমার ওসব কাজের বদলা দুনিয়াতেই দিয়ে দিয়েছি, তখন আপনার নেকির পাল্লায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
মহান রব্বুল ‘আলামীন প্রতিটি নেক আমল শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যেই করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন
লেখাটি শেয়ার করে প্রতিটি মুসলমানের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আপনি দ্বীন প্রচারে অংশগ্রহন করুন।
রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“যে, আমার পক্ষ থেকে যদি একটিমাত্র বানিও তোমার কাছে পৌঁছে তুমি তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.