রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং পল্লবী…

আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং পল্লবী…
প্রশ্ন

আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং পল্লবী এলাকার প্রায় শরয়ী মসজিদে মকতবের রেকর্ড করা হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকগণ বিনিময় নিয়েই ছেলে-মেয়েদেরকে মসজিদে বসে ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা সবকের সময়ের ভিতর মসজিদের পাখা, বাতি ইত্যাদি জিনিসপত্রও ব্যবহার করছে। শোরগোল তো আছেই। এভাবে দীর্ঘকাল ধরে মকতব চললেও স্বতন্ত্রভাবে মকতবের জন্য কোনো ঘর তৈরির ভাবনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে নেই বললেই চলে। বলতে গেলে এভাবে মসজিদগুলো সাময়িকভাবে নয়; বরং এক একটা অনুমোদিত স্থায়ী মাদরাসায় পরিণত হয়েছে। অবশ্য মুসলমানদের ছেলেমেয়েকে ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাবোধ প্রত্যেকের ভিতর থাকা উচিত। সেটা কীভাবে কোথায় হবে সেটাও নিরুপণ করে নেওয়া উচিত।

বর্ণিত বিষয় আমাদের জিজ্ঞাস্য, এভাবে বিনিময় নিয়ে মসজিদের ভিতর কিংবা বারান্দায় বসে ছেলেমেয়েদের পড়ানো বৈধ কি না? যদি বৈধ না হয় তবে বৈধতার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রয়োজনীয় দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয। প্রত্যেক এলাকায় এ উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত দ্বীনী প্রতিষ্ঠান থাকা আবশ্যক। যেখানে সহীহশুদ্ধভাবে দ্বীনের জরুরি বিষয় শিক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সেভাবে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। প্রত্যেক মসজিদের পাশে অথবা মহল্লায় মহল্লায় দ্বীনী মকতব চালু করা এজন্যই অপরিহার্য। আর সমাজের লোকজন এ বিষয়টি নিয়ে ভাবলে তা কঠিন ছিল না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে অদ্যাবধি অনেক এলাকাতে এমন কোনো পৃথক ব্যবস্থা পড়ে উঠেনি, যার দ্বারা ঐ ফরয দায়িত্বটুকু পুরো হবে। এসব কারণেই প্রয়োজনের তাগিদেই মসজিদভিত্তিক মকতবগুলো চালু হয়ে গেছে। এছাড়া দ্বীনী তালীম মসজিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে দ্বীনী তালীমের গোড়াপত্তন করেছেন।

অবশ্য মসজিদে বেতন ও পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বীনী শিক্ষা চালু করতে ফিকহবিদগণ নিষেধ করেছেন। অতএব স্থায়ীভাবে মসজিদে বেতনভিত্তিক দ্বীনী শিক্ষা চালু করা যাবে না। হ্যাঁ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যতদিন প্রত্যেক এলাকায় দ্বীনী শিক্ষার জন্য পৃথক ব্যবস্থা না হবে ততদিন অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসাবে মসজিদে তা করা যাবে।

উল্লেখ্য যে, ফকীহগণ জরুরতের সময় এবং অস্থায়ীভাবে মসজিদে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দ্বীনী তালীমকে বৈধ বলেছেন।

তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হল :

ক) উস্তাদ, তালিবে ইলম সকলেই মসজিদের আদাবের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবে। আদাব ক্ষুণ্ন হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকবে।

খ) এলাকার সকল মুসলমানদের কর্তব্য হল, দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজন পূরণ হয় এমন পৃথক মকতব মাদরাসা নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলবে এবং মসজিদের মকতব সেখানে স্থানান্তর করবে।

গ) একেবারে অবুঝ শিশু, যারা মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করতে পারবে না তাদেরকে আসার সুযোগ দিবে না। তেমনিভাবে পর্দার বয়স হয়ে যায় এমন মেয়েদেরকেও মসজিদে আসতে দিবে না। তাদের জন্য নিজ বাড়িতে পর্দার সাথে শিক্ষার ব্যবস্থা করবে।

ঘ) যেহেতু মসজিদভিত্তিক মকতব আমাদের দেশের বহুদিনের প্রচলন। এতে দাতা ও মুসল্লীদেরই সন্তানরা শিক্ষাগ্রহণ করে। তাই এই মকতবের জন্য মসজিদের চাটাই, বিদ্যুৎ ইত্যাদির প্রয়োজনীয় ব্যবহার দাতাদের মৌন সম্মতির দৃষ্টিতে বৈধ গণ্য হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১০, ৪/৪৫৭; ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫; আননাহরুল ফায়েক ১/২৯০; রদ্দুল মুহতার ৬/৪২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.