আমাদের এলাকায় জামে মসজিদ কমিটি আমাদের গ্রামের এক বাসিন্দা থেকে…

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জামে মসজিদ কমিটি আমাদের গ্রামের এক বাসিন্দা থেকে জামে মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিম দিকের ৮ শতাংশ জমি সাব কবলা ক্রয়ের জন্য ১,৭০,০০০/- (এক লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা শতাংশ হিসেবে ২,২০,০০০/- (দুই লক্ষ বিশ হাজার) টাকা বায়না চুক্তি করে। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় যে, অদ্যাবধি তিনি মসজিদকে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিচ্ছেন না। ইতিমধ্যে আমরা মসজিদ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে তার বাসায় গিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার অনুরোধ করি। সে সভায় তিনি আমাদেরকে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তবে শর্ত দেন যে, গ্রামে সে জমির পাশে তাদের আত্মীয়ের নিকট তাদের জমি বেদখল হয়ে আছে সেগুলো আদায় করে দেওয়ার। আমরা তাকে আমাদের সহযোগিতা করার কথা দেই। কিন্তু যে তারিখে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল সেই তারিখে তিনি উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তার সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার কথা হলেও তিনি বারবার আমাদের এড়িয়ে যান।

মসজিদটি আমাদের গ্রামের একমাত্র মসজিদ। বর্তমানে মসজিদটি দ্বিতল বিশিষ্ট ৮৯০ বর্গফুট। এত ছোট মসজিদে আমাদের সম্পূর্ণ গ্রামের প্রায় ১০০০ (এক হাজার) জন মুসল্লির জুমার নামায আদায় করতে সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় আমাদের মসজিদটি পুনঃনির্মাণের জন্য উক্ত ব্যক্তির বায়নাকৃত (জমিটি বর্তমানে মসজিদ কমিটির দখলে আছে) জমিতে আমরা মসজিদটি সম্প্রসারণ করতে পারি কি না? সম্প্রসারণকৃত স্থানে ওয়াক্তিয়া ও জুমার নামায আদায়ে কোনো সমস্যা হবে কি? সমাধানের জন্য আপনার সুচিন্তিত মতামত কামনা করছি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির সাথে বায়না চুক্তি সম্পন্ন করার দ্বারা উক্ত জমির বিক্রি সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং জমিটি মসজিদের দখলে থাকার কারণে তাতে মসজিদের মালিকানাও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এখন বিক্রেতার দায়িত্ব হল,জমিটি মসজিদ বরাবর রেজিস্ট্রি করে দেওয়া। আর মসজিদ কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে বকেয়া মূল্য নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করে দেওয়া। এক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে বিলম্ব করা বা অস্বীকৃতি জানানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে অন্যের হক আটকে রাখার মতো বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর জমিটির উপর যেহেতু মসজিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে তাই রেজিস্ট্রি কাজে বিলম্ব হলেও এখন ঐ জায়গায় মসজিদ সম্প্রসারণ করা যাবে। তবে রেজিস্ট্রির সময়ই বিক্রেতার অবশিষ্ট মূল্য অবশ্যই পরিশোধ করে দিতে হবে।

-কিতাবুল হুজ্জা আলা আহলিল মাদীনা ১/৭২৮; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৬২; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ১৬৭, ৩৬৯; রদ্দুল মুহতার ৪/৫০৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৮২; শরহুল মাজাল্লাহ, খালেদ আতাসী ২/৩৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>