আমার চাচা এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৮ লক্ষ টাকায় একটি…

প্রশ্ন

আমার চাচা এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৮ লক্ষ টাকায় একটি প্রাইভেট কার ক্রয় করেছে। নগদ ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছে। আর বাকি ৪ লক্ষ টাকা এক বছর পর পরিশোধ করবেন বলে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু চার মাস পর ঐ ব্যক্তির টাকার প্রয়োজন হওয়ায় চাচাকে অবশিষ্ট ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বলেন। তখন চাচা বলেছেন, যদি ৫০ হাজার টাকা কম নেওয়া হয় তাহলে তিনি বাকি মূল্য পরিশোধ করবেন। অন্যথায় এক বছর পরই টাকা নিতে হবে। ঐ ব্যক্তি চাচার কথায় ৫০ হাজার টাকা কম নিতে রাজি হয়েছে এবং চাচা তাকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন।

জানার বিষয় হল, চাচার জন্য ৫০ হাজার টাকা কম দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

বাকি বা কিস্তিতে বেচা-কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগে মূল্য পরিশোধ করলে নির্ধারিত মূল্য থেকে কম নিবে-এমন শর্ত করা হারাম। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার জন্য নির্ধারিত মেয়াদের আগে পরিশোধের শর্তে ৫০ হাজার টাকা কম দেওয়া হারাম হয়েছে। ঐ টাকা বিক্রেতাকে ফেরত দেওয়া জরুরি।

হযরত আবু সালেহ রাহ. বলেন, আমি বাজারের লোকদের কাছে বাকিতে কিছু কাপড় বিক্রি করেছি। (চুক্তি হয়েছে) একটি নির্দিষ্ট সময় তারা মূল্য পরিশোধ করবে। অতপর আমি (যখন) কূফা সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন (নির্ধারিত মেয়াদের আগে) তারা আমার কাছে এসে বলল, যদি তাদের থেকে মূল্যের কিছু অংশ কমিয়ে দেই তবে তারা এখনই পরিশোধ করে দিবে। (আবু সালেহ বলেন) আমি এ বিষয়টি যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.কে জানালাম। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এটি গ্রহণ করা কিংবা অন্যকে দেওয়ার অনুমতি দিতে পারি না। (সুনানে বায়হাকী, হাদীস : ১১৩৮)

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে-হযরত মায়সারা রাহ. বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম, এক ব্যক্তির নিকট আমার কিছু মেয়াদি ঋণ ছিল। (মেয়াদের আগেই) তাকে বললাম, আমার পাওনা দিয়ে দাও, কিছু কমিয়ে দিব। (এটা বৈধ কি না?) তিনি বললেন, এমনটি করা সুদ। (আহকামুল কুরআন জাসসাস ১/৪৬৭)

প্রকাশ থাকে যে, মেয়াদের আগে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে যদি কম নেওয়ার বা দেওয়ার শর্ত না করা হয় এবং এমন কোনো প্রচলিত রীতিও না থাকে; বরং পাওনাদার নিজ থেকেই কিছু মূল্য কমিয়ে নেয় তবে তা সুদ বা নাজায়েয হবে না। এক্ষেত্রে বিক্রেতা স্বেচ্ছায় কিছু টাকা কম নিলে ক্রেতার জন্য ঐ পরিমাণ টাকা রেখে দেওয়া বৈধ হবে।

-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ২৭৮-২৭৯; সুনানে বায়হাকী, হাদীস : ১১৩৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮/৭১; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৭; হেদায়া ৩/২৫১; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৫৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৬/১০৯; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছিরা ১/২৫-২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest