আমি পাশের গ্রামের এক চাষীকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছি এই…

প্রশ্ন

আমি পাশের গ্রামের এক চাষীকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছি এই শর্তে যে, তিন মাস পর বোরো ধানের মৌসুমে সে আমাকে পাঁচশত টাকা দরে দুই শত মণ ধান দিবে। টাকা দেওয়ার একমাস পরেই আমার মা অসুস্থ হয়ে যান। ফলে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন আমার মামা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা এ কথা বলে ধার নিলাম যে, দু মাস পরে ঐ কৃষক দুইশত মণ ধান দিলে আমরা দুজনে একশত মণ করে ভাগ করে নিব। আর এভাবে তার ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। মামার সাথে আমার এই ঋণচুক্তিটি কি ঠিক হয়েছে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

আপনার মামা থেকে ঐভাবে টাকা নেওয়া বৈধ হয়নি। এটাকে ঋণ বলা হলেও বাস্তবে এটি ধানের আগাম খরিদচুক্তি, ঋণচুক্তি নয়। কারণ এক্ষেত্রে আপনি মামা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছেন এ শর্তে যে, পরবর্তীতে আপনি এর বিনিময়ে চাষী থেকে আপনার পাওনা ধানের অর্ধেক তাকে দিবেন। সুতরাং আপনার মামার সাথে ঐ টাকার বিনিময়ে ধানের আগাম ক্রয় চুক্তি করা হল। অথচ চাষী থেকে এখনো আপনি ঐ ধান হস্তগত করেননি। আর ক্রয়কৃত পণ্য হস্তগত করার আগেই তা বিক্রি করে দেওয়া জায়েয নয়। হাদীস শরীফে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করল তা হস্তগত করার আগেই যেন সে তা বিক্রি না করে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৪৩৮)

সুতরাং এ চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়া জরুরি।

-আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/৫১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Login