ইয়াজুজ-মাজুজ ও তাদের প্রাচীরের বিবরণ

ইয়াজুজ-মাজুজ ও তাদের প্রাচীরের বিবরণ

ইয়াজুজ-মাজুজরা যে হযরত আদম (আ)-এর বংশধর, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত আছে
বলে আমাদের জানা নেই ৷ প্রমাণ হল সহীহ বুখারী ও ঘুসলিমে বর্ণিত হযরত আবু সাঈদ
(রা) এর হাদীস ৷

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন : কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা আদেশ
দিবেন, হে আদম ! উঠ, তোমার বৎশধরদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে
পাঠিয়ে দাও ৷ হযরত আদম (আ) বলবেন, হে প্রতিপালক ! জাহান্নামীদ্যো সংখ্যা কত? আল্লাহ
তাআলা বলবেন, প্রতি৷ হ জাবে ৯৯৯ জন জাহান্নামী আর একজন মাত্র জান্নাতী ৷ তখন শিশুগণ
বৃদ্ধে পরিণত হয়ে ৷ গর্ভ<াভী নারীদের গর্ভপাত যটবে এবৎ৩ ত তাদেরকে মাতালের মত
দেখতে পারে, যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয় ৷ বন্তুত আল্লাহর শাস্তি কঠিন ৷

সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে সে একজন কে হবে? জবাবে
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, সুসৎবাদ গ্রহণ কর যে, তোমাদের থেকে হবে একজন আর ইয়াজুজ
মাজুজের মধ্য থেকে হবে এক হাজার জন ৷ অপর বর্ণনায় এসেছে যে, সুসৎবাদ গ্রহণ কর,
তোমাদের মধ্যে দৃ’টো দল রয়েছে; যে দৃ’দল যেখানে যাবে সেখানে সংখ্যাধিক্য হবে ৷ এটি
প্রমাণ করে যে, ইয়াজুজ মাজুজের সংখ্যা অত্যধিক এবং তারা সাধারণ মানুষের চাইতে
অনেকগুণ বেশি ৷

দ্বিতীয় কথা হল, তারা হযরত নুহ (আ) এর বংশধর ৷ কারণ জগতবাসীর উদ্দেশ্যে
হযরত নুহ হে আমার
প্রতিপালক, পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিবেন নাহু১)
আল্লাহ তা আলা কবুল করেছেন বলে জানিয়েছেন ৷ আবার আল্লাহ তা আলা বলেছেন ৮;

ক্রো তারপর আমি তাকে এবং নৌকায় আরোহনকারীদেরকে

রক্ষা র্করেছি ৷(২) তিনি অন্যত্র বলেহ্নে৷ শ্রো৷ ণ্১ ধ্ট্রুৰু স্৷ &£; , তার বংশধরদেরকেই
আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরম্পরায় (ং)

মুসনাদ ও সুনাম-এর বরাতে ইতিপুর্বে আলোচিত হয়েছে যে, হযরত নুহ্ (আ)-এর তিন
পুত্র ছিলেন সাম, হাম ও ইয়াফিছ ৷ এদের মধ্যে সাম হচ্ছেন আবরদের পুর্বপুরুয, হাম
সৃদানীদের পুর্বপুরুষ এবং ইয়াফিছ তুর্কীৰ্দ্যা পুর্বপুরুষ ৷ সুতরাং ইয়াজুজ মাজুয ভুর্বীদেরই

১, ৭১ নুহ ২৬
২ ২৯ : আনকাবুত ১৫
৩ ৩৭ সাফফ্াত ৭৭ ৷

গোত্র ৷ এরা মােঙ্গল সম্প্রদায়ভুক্ত ৷ দৃর্ধর্ষতা এবং সে সাধনে এরা মােঙ্গলদের অন্যান্য শাখার
তুলনায় অগ্রগামী ৷ সাধারণ মানুষের তুলনায় সাধারণ মােঙ্গলদের যে অবস্থান; সাধারণ
মােঙ্গলদের তুলনায় ইয়াজুজ মাজুজের অবস্থা তদ্র্যপ ৷ কথিত আছে যে, তুর্কীদের এরুপ
নামকরণের কারণ হল বাদশাহ যুলক৷ ৷রনাইন যখনত তার ঐতিহাসিক প্রাচীর তৈ বি করেন, তখন
ইয়াজুজ মাজুজকে ঐ প্রাচীরের পেছনে থাকতে বাধ্য করেন ৷ ওদের একটি গোত্র বিচ্ছিন্ন হয়ে
প্রাচীরের এদিকে রয়ে গিয়েছিল ৷ এদের দুর্ধর্ষত৷ পুর্বোক্তদের সমপর্যায়ের ছিল না ৷ ওদেরকে
প্রাচীরের এ পাশে রেখে দেয়া হয়েছিল ৷ ত ৷ই তাদের নাম হয়েছে তর্ক বা পরিত্যক্ত ৷

কেউ কেউ বলেন যে, ইয়াজুজ মাজুজের সৃষ্টি হযরত আদম (আ )-এর স্বপ্নদোষকালীন
বীর্য থেকে ৷ ঐ বীর্য মাটির সাথে মিলিত হয় এবং তা থেকে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল ৷
তারা হযরত হাওয়া (আ)-এর গর্ভজাত সন্তান নয় ৷ শায়খ আবু যাকারিয়া নববী সহীহ
মুসলিমের ভাষ্যগ্রন্থ ও অন্যান্য গ্রন্থে এ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং এ বক্তব্য যথার্থতাবেই দুর্বল
বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন ৷ কারণ এর পক্ষে কোন দনীল প্রমাণ নেই ৷ বরং কুরআনের
আয়াত দ্বারা আমরা যা প্রমাণ করেছি যে, এ যুগের সকল মানুষই নুহ (আ)-এব বংশধর,
উপরোক্ত বক্তব্যতার বিপরীত ৷

যারা এ ধারণা পোষণ করেন যে, ইয়াজুজ মাজুজের অবয়ব বিভিন্ন প্রকারের এবং শারীরিক
দৈর্যোতাদের মধ্যে পরস্পরের ব্যবধান বিস্তর ৷ কতক হল সুদীর্ঘ খেজুর গাছের মত অ,ার
কতক একেবারে খাটো ৷৩ তাদের কতক এমন যে, এক কান বিছিয়ে অপর কান দিয়ে নিজেকে
ঢেকে নেয় ৷ এ সব উক্তির কোন প্রমাণ নেই, এগুলো নেহায়েত কাল্পনিক উক্তি ৷
সঠিক মত হল এই যে, তারা হযরত আদম ধুআ) এর ব্খ্শষর এবং তাদের
আকৃতি-প্ৰকৃতিও সাধারণ মানুষের ন্যায়ই ৷ নবী করীম (সা) বলেছেন :

আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ) কে সৃষ্টি করেছেন ৷ হযরত ৩আদম (আ) এর দৈর্ঘ ছিল
ষাট হাত ৷ তারপর মানুষ ক্রমান্বয়ে খাটো হতে হতে বর্তমান পর্যায়ে এসে পৌছেছে ৷ এ বিষয়ে
এটিই চুড়ান্ত ফয়সালা ৷

কেউ কেউ যে বলেন, ওদের একজনের ঔরসে ১০০০ জন সন্তান জন্মগ্রহণ না করা
পর্যন্ত তার মৃত্যু হয় না; এ বর্ণনা যদি বিশুদ্ধ প্রমা ৷ণিত হয় তবেই আমরা মানব ৷ তা না হলেও
আমরা ওটি প্রত্যাখ্যান করব না, কারণ বিবেক-বুদ্ধি এবং রেওয়ায়াংত র আলোকে এমনটি
হওয়াও সম্ভব ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷ অবশ্য এ ব্যাপারে একটি হাদীসও রয়েছে ৷ তবে তা প্রমাণ
সাপেক্ষ ৷

আল্লাম৷ তাবারানী বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন :
,দ্বু

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় থাঃ)২

ইয়াজুজ মাজুজ হযরত আদম (আ) এর বংশধর ৷ তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলে মানব
জাতির জীবনােপকরণগুলো ধ্বং স করে দিত ৷ এক হাজার কিংবা তব্লুত ৷ধিক সন্তানের জন্ম না
দেওয়া পর্যন্ত তাদের কোন পুরুষের মৃত্যু হয় না ৷ ওদের পশ্চাতে রয়েছে তিনটি দল ৷ত তাবীল,
তারীগ ও মানসাক ৷ এটি একটি চুড়ান্ত গরীব পর্যায়ের হাদীস ৷ এর সনদ দুর্বল এবং এতে
অ্যাহণযোগ্য বর্ণনাকারী রয়েছে ৷

ইবন জা ৷রীর (র)ত তার ইতিহাস গ্রন্থে এ মর্মের একটি হাদীস উল্লেখ৷ করেছেন যে, মিরাত্তজর
রাতে রাসুলুল্লাহ (সা) ওদের নিকট গিয়েছিলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর পথে আমার দাওয়াত
দিয়েছিলেন ৷ তারা তার ডাকে সাড়া দেয়নি এবং তার অনুসরণ করেনি ৷ তিনি ওখানকার ঐ
উম্মত ত্রয়কেও দাওয়াত দিয়েছিলেন, এরা তার আহ্বানে সাড়া মুলত এটি একটি
জাল হাদীস ৷ এই আবু নুআয়ম আমর ইবন সুবৃহর গড়া জাল বর্ণনা ৷ মিথ্যা হাদীস রচনার
ম্বীকারােক্তিকড়ারীদের সে অন্যতম ৷

যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে, সহীহ বুখ৷ ৷রী ও সহীহ ঘুসলিমের হাদীস কী করে প্রমাণ করে যে,
কিয়ামত্তত তর দিনে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায় ঈমানদারদের বদলে যাবে জাহান্নামে অথচ
ইয়াজুজ-মাজুজের নিকট তো কোন রাসুল প্রেরিত হননি?
অথচ আল্লাহ তা’আল৷ বন্ন্যেছন , আমি
রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না ৷ ১ ’

তাহলে এ প্রশ্নের উত্তর হবে এই যে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাব্যস্ত না করে এবং তাদেরকে
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাদেরকে শান্তি দেয়৷ হবে না ৷ যেমনটি উক্ত আয়াতে
রয়েছে ৷

তারা যদি রাসুলুল্লাহ (না)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পুর্ববর্তী সময়ের লোক হয়ে থাকে এবং
তাদের প্রতি অন্যান্য রাসুল এসে থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ তো সাব্যস্ত হয়েই
গিয়েছে ৷ আর যদি তাদের প্রতি কো ন রাসুল প্রেরিত না হয়ে থাকেন তবে তাদের বিধান হবে
দুই রাসুলের অন্তবর্তী যুগের লোকদের মত এবং যাদের নিকট দাওয়াত পৌছেনি তাদের মত ৷

এ বিষয়ে একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন এ
পর্যায়ের লোকদের কিয়ামতেব ময়দানে পরীক্ষা করা হবে ৷ তখন যে ব্যক্তি সত্যের ডাকে
সাড়া দিয়ে সে জ ন্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করবে সে জাহান্নামে
প্রবেশ করবে ৷ বিতিন্ন সনদ, শব্দ ও ইমামগণেব মন্তব্য সহ আলোচ্য হাদীসটি আমরা উল্লেখ

করেছি আঘাতের ব্যাখ্যার ৷

শায়খ আবুল হাসান আশআরী এ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআকৃত তর ইজমা বা
ঐকমত তা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ৷

১ ১ ৭ বনী ইস্রাঈল :: ১৫

তাদেরকে পরীক্ষা ৷করায় তাদের মুক্তি অনিবার্য সাব্যস্ত হয় ন এবং এটি তাদের জা ৷৷ন্নামী
হওয়া বিষয়ক সং বাদেব পরিপন্থীও নয় ৷ কারণ, আল্লাহ তা আলা তো রাসুলকে আপন ইচ্ছা
মুতাবিক অদৃশ্য বিষয়াদি অবহিত করেন ৷ আল্লাহ তাকে অবহিত ৩করেছেন যে, ওরা পাপাচারী
লোক এবং তাদের প্রকৃতিই সত্য গ্রহণে ও সত্যের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে অস্বীকৃতি ৩জা না৷য় ৷
ফলে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তারা সতেব্রর আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে ন ৷ একৃ৩ তপ্ৰমাণিত
হয় যে দুনিয়াতে তাদের নিকট সত্যের দাওয়াত পৌছলে তারা অধিকতর দৃঢ়তার সাথে
প্রত্যাখ্যান করত ৷ কারণ দুনিয়াতে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী অনেক মানুষই ভয়ংকর কিয়ামতের
ময়দানে আনুগত্য প্রদর্শন করবে ৷ সুতরাং ঐ সব ড্যানক ও ভয়ংকর অবস্থা দর্শনের পর ঈমান
আনা, দুনিয়ার ঈমান আনা অপেক্ষা অধিকতর যুক্তিযুক্ত ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

আল্লাহ তাআলা বলেছেন :

এবং হায়, যদি তুমি দেখতে যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে নতশির হয়ে
বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম, এখন তুমি
আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ কর আমরা সৎকর্ম করব, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী ৷ ১

আল্লাহ তা জানা আরও বলেন, ৷ ওরা সে দিন
আমার নিকট আসবে সেদিন কত স্পষ্ট আসে ও দেখবে ৷ ২

ইতিপুর্বে আলোচিত হয়েছে যে, যুল-কারনাইন প্রাচীর নির্মাণ করেছেন লোহা এবং তামা

দ্বারা ৷ সেটিকে তিনি সুউচ্চ, সৃদৃঢ় ও সুদীর্ঘ পর্বতের সমান করেছেন ৷ পৃথিবীর বুকে এর চেয়ে
শ্রেষ্ঠ এবং উপকারী নির্মাণ কাজ আর আছে বলে জানা যায় না ৷

ইমাম বুখারী (র) বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্পাহ (না)-কে বলল, আমি ঐ প্রাচীরটি
দেখেছি ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, কেমন দেখেহঃ সে বলল, জমকালো চাদরের ন্যায় ৷৩
রাসুলুল্লা হ (সা) বললেন, আমিও তাই দেখেছি ৷ ইমাম বুখারী (র) এ হাদীসটি সনদ উল্লেখ না
করেই দৃঢ় প্ৰ৩ ত্যায়র সাথে উদ্ধৃত করেছেন ৷ অবশ্য আমি অবিচ্ছিন্ন সনদে এটির বর্ণনা খুজে
পাইনি ৷

তবে ইবন জা ৷রীর (র)৩ তার তাফসীর গ্রন্থে মুরসাল রুপে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ তিনি
বলেছেন, হযরত কাতাদ৷ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আলোচনা করা
হয়েছে যে, এক ব্যক্তি বলেছিল , ইয়া রাসুলাল্পাহৰু আমি ইয়াজুজ মাজুজেব প্রাচীর দােন্াছি ৷

১ ৩২ সাজদাহ ১২
২ ১৯ মাধ্যমে ৩৮
অর্থকালাে বক্স ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, তাহলে আমার নিকট সেটির বর্ণনা দাও ৷ সে ব্যক্তিটি বলল, সেটি
ভোরাদার চাদরের ন্যায়, যার একটি ভোরা কালো এবং অপরটি লাল ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা )
বললেন, আমিও তাই দেখেছি ৷ কথিত আছে যে, খলীফা ওয়াছিক বিল্লাহ যুলকারনাইনের
প্রাচীর দেখার জন্য একল্দো প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিলেন ৷ পথে অবস্থিত রাজ্য সমুহের রাজাদের
নিকট তিনি চিঠি লিখে দিয়েছিলেন যে, র্তারা যেন ঐ প্রতিনিধি দলকে নিজ নিজ রাজ্য অতিক্রম
করে প্রাচীর পর্যন্ত পৌছার ব্যাপারে সাহায্য করেন ৷ যাতে তারা প্রাচীর সম্পর্কে অবপতি লাভ
করতে পারেন এবং যুলকারনাইন এটি কিভাবে নির্মাণ করেছেন তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে
পারে ৷ ঐ প্রতিনিধি দলটি ফিরে এসে ঐ প্রাচীর সম্পর্কে বর্ণনা দেয় যে, তাতে একটি বিরাট
দরজা রয়েছে ৷ দরজায় রয়েছে বহু তালা ৷ এটি সুউচ্চ, মজবুত ৭ সুদৃঢ় ৷ প্রাচীর নির্মাণের পর
যে লোহার ইট ও যন্ত্রপাতি অবশিষ্ট ছিল সেগুলো একটি সুদৃঢ় মহলের মধ্যে রক্ষিত আছে ৷
তারা আরও বলেন যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজাদের পক্ষ ;পকে নিয়োজিত প্রহরীগণ
সার্বক্ষণিক ঐ প্রাচীরটি প্রহ্রায় নিয়োজিত রয়েছে ৷ এটির অবস্থান ছিল পৃথিবীর উত্তর পুর্বে
কোণের উত্তর পুর্ব অংশে ৷ কথিত আছে, তাদের শহর বহুদুর পর্যন্ত বিন্তুত ও প্রশান্ত ছিল ৷
কৃষিকাজ ও জলে-স্থলে শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতো ৷ একমাত্র সষ্টিকর্তা আল্লাহ
তাআলা ব্যতীত ওদের সংখ্যা কেউ জানে না ৷

যদি কেউ প্রশ্ন করে যে , আল্লাহ তাআলার বাণী :
(এরপর তারা সেটি অতিক্রম করতে পারল না এবং ভেদ করতেও পারলসংনা)১ এবং
রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিম্নোক্ত হাদীসটির মাঝে সমন্বয় সাধন করা যাবে কিভ্রাবেঃ হাদীসটি ইমাম
বৃখারী ও মুসলিম (র) এভাবে উদ্ধৃত করেছেন যে, উম্মুল মুমিনীন যায়নার বিনত জাহান (রা )
বলেন : একদা রাসুলুল্লাহ (সা) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন ৷ তার মুখমণ্ডল তখন রক্তিম বর্ণ ৷
তিনি বলছিলেন, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ; আরবদের ধ্বংস নিকটবর্তী ৷ আজ ইয়াজুজ মাজুজের
প্রাচীর এতটুকু ছিদ্ব হয়ে গেছে ৷ (অতঃপর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তজ্জী দ্বারা বৃত্ত বানিয়ে দেখান ) ৷
আমি আরও করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ থাকা সৰ্;ত্তও কি
আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, ই৷ ৷ যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে ৷ সহীহ বৃখারী ও সহীহ
মুসলিমে উহায়ব আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে উদ্ধৃত করেছেন ৷ তিনি বলেন, রাসৃলুল্লাহ (সা )
ইরশাদ করেছেন, আজ ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর এতটুকু খুলে গিয়েছে ৷ তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও
তর্জনী দ্বারা বৃত্ত বানিয়ে দেখালেন ৷

উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর হয়ত এই যে, রাসুলুল্লাহ (সা) “প্রাচীর খুলে গিয়েছে” বাক্যাৎশের
দ্বারা ফিতনা ও অকল্যাণের দরজাগুলো খুলে গিয়েছে বুঝিয়েছেন ৷ এটি একটি রুপক বাক্য ও
বাগধারা স্বরুপ ৷ তাই এতে কোন অসঙ্গক্তি নেই ৷ অথবা উত্তর এই যে, প্রাচীর খুলে গিয়েছে

বাক্যাৎশের দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা) বাস্তবে প্রাচীর খুলে গিয়েছে বুঝিয়েছেন এবং আয়াতে “তারা
এটি অতিক্রম করতে পারল না এবং ভেদ করতেও পারল যা” দ্বারা তখনকার সময়ের প্রতি
নির্দেশ করা হয়েছে ৷ কারণ, আয়াতে বর্ণিত শব্দ অতীত্যাচক ৷ সুতরাং পরবর্তীতে তাতে ছিদ্র
হয়ে যাওয়া আঘাতের পরিপন্থী নয় ৷ পরবর্তীতে এমন হতে পারে যে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে
এবং আল্লাহ কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে তারা অল্প অল্প করে ক্রমান্বয়ে ঐ নির্ধারিত সময়ে প্রাচীর
ক্ষয় করে ফেলবে ৷

অবশেষে এক সময়ে নির্ধারিত যেয়াদও পুর্ণ হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্যও
সফল হবে তারপর তারা বেরিয়ে পড়বে ৷ যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

এবং তারা প্রতি উচ্চ ভুমি হতে ছুটে আসবে ৷ ২১

অবশ্য অন্য একটি হাদীসের কারণে অধিক সমস্যা সৃষ্টি হয় ৷ হাদীসটি ইমাম আহমদ
(র) তার মুসনাদ গ্রন্থে আবু হুরড়ায়রা (বা) সুত্রে উদ্ধৃত করেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ
করেছেন :

ইয়াজুজ মাজুজ প্রতিদিন ঐ প্রাচীরটি খুড়ে চলছে ৷ খুড়তে খুড়তে তারা যখন এতটুকু
পৌছে সুর্যের আলো দেখতে পাওয়ার উপক্রম হয়, তখন তাদের উট ও বকরীর নাকে জন্ম নেয়
এমন কীট ৷ নেতা বলে যে, আজ তোমরা ফিরে যাও; আগামী কাল অনায়াসে খোড়া শেষ করে
দিয়ে ৷ পরের দিন তারা এসে দেখতে পায় যে, ইতিপুর্বে যতটুকু ছিল প্রাচীরটি এখন তার
চাইতে অধিকতর মজবুত হয়ে রয়েছে ৷ এভাবে যখন তাদের অবরুদ্ধ রাখার মেয়াদ শেষ হবে
এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লোকালয়ে প্রেরণের ইচ্ছা করবেন, তখন তারা খুড়তে খুড়তে
সুর্যের আলো দেখার পর্যায়ে চলে এলে তাদের নেতা বলবে, এখন ফিরে যাও অড়াপামীকাল
ইনশাআল্লাহ বেড়াড়া শেষ করতে পারবে ৷

পরদিন তারা এসে প্রাচীরটিকে পুর্ববর্তী দিবসের রেখে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পাবে ৷
তখন তারা খনন কার্য শেষ করে লোকালয়ে বেরিয়ে আসবে ৷ তারা পৃথিবীর সব পানি পান
করে ফেলবে ৷ লোকজন নিজ নিজ দুর্গে আশ্রয় নিবে ৷ এরপর ইয়াজুজ মাজুজ আকাশের দিকে
তীর নিক্ষেপ করবে ৷ রক্তের চিহ্নসহ তীর ফিরে আসবে ৷ তারা বলবে যে , আমরা পৃথিবীর
অধিবাসীদেরকে পদানত করেছি এবং আকাশের অধিবাসীদের উপর বিজয় লাভ করেছি ৷
তারপর আল্লাহ তা’আলা তাদের ঘাড়ে কীট সৃষ্টি করে দিবেন ৷ এ কীটের দ্বারা তিনি তাদেরকে
ধ্বংস করবেন ৷

রাসৃলুল্লাহ্ আরও বলেছেন

যে মহান সভার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তার শপথ ওদের পােশত ও রক্ত খেয়ে পৃথিবীর
জীবজভুগুলাে মোটা তাজা হয়ে উঠবে এবং শুকরিয়া প্রকাশ করবে ৷

ইমাম আহমদ (র) ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী (র) ভিন্ন ভিন্ন সুত্রে হড়াদীসটি বর্ণনা
করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী (র) হড়াদীসটি গরীব পর্যায়ের বলে মন্তব্য করেছেন ৷ এ হড়াদীসে
উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওরা প্রতিদিন জিহবা দিয়ে ঐ প্রাচীরঢি চাটতে থাকে ৷ চাটতে চাটতে
প্রাচীরটি এমন পাতলা হয়ে যায় যে, অপর দিকে সুর্যের কিরণ দেয়া যাওয়ার উপক্রম হয় ৷

এ হড়াদীসটি যদি রাসুলুল্লাহ (সা) এর উক্তি না হয়ে কাব আল আহবারের উক্তি হয় যেমন
কেউ কেউ বলেছেন, তবে আমরা ঐ অসঙ্গতির হাত থেকে মুক্তি পাই ৷ আর এটি যদি প্রকৃতই
রাসুলুল্পাহ (না)-এর বাণী হয়ে থাকে তবে বলা হবে যে, তাদের ঐ কর্মতৎপরতা চলবে আখেরী
যামানায় তাদের বেরিয়ে আসার নিকটবর্তী সময়ে, যেমন কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত
হয়েছে ৷ অথবা এটি বলা যাবে যে, এে১ ও ৷টুছুএেশু র্চুপ্ অর্থ এদিক থেকে ওদিক পর্যম্ভ
ছিদ্র করে সারতে পারেনি ৷ সুতরাং এটি তাদের জিহ্বা দিয়ে চাট অথচ ছিদ্র না করা এর
পরিপন্থী নয় ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷ এ সুত্রে আলোচ্য হাদীস এবং সহীহ বৃখারী ও ঘুসলিমে উদ্ধৃত
হাদীস রাসুলুল্লাহ (না)-এর বাণী “আজ ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর এই পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গেছে
এর সমন্বয় সাধন করা যায় এভাবে যে, আজ ছিদৃ হয়ে গিয়েছে অর্থ প্রাচীরের এপার-ওপার-
ভেদ করে ছিদ্র হয়েছে ৷ অড়াল্লাহই সম্যক জ্ঞাত ৷

আসহাবে কাহাফ এর ঘটনা

আল্পাহতাআলা বলেন :

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>