ইলম ও জিহাদের সম্মিলনে বিজয়,আর বিচ্ছেদে পরাজয়

যতদিন মুসলিমরা ইলম অর্জনের পাশাপাশি জিহাদ জারী রেখেছিলেন, ততদিন তারা ছিলেন বিজয়ী ও সম্মানিত। গোটা দুনিয়া মুসলিমদের পদানত হয়েছে। গোটা দুনিয়াকে তারা ইলম বিতরণ করেছেন। পক্ষান্তরে যখনই মুসলিমরা ইলম অর্জন করেছে কিন্তু জিহাদ পরিত্যাগ করেছে,তখনই তারা লাঞ্চনা ও অবর্ণনীয় নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অনেক ভূখণ্ড থেকে একেবারে নির্মূল করে বিদায় করা হয়েছে স্বয়ং ইসলামকে। উদাহরণস্বরূপঃ বেনযীর ইলমের ভূমি স্পেন, ইসলামের ইতিহাসে ইলমের অন্যতম সর্বাধিক চর্চা হয়েছে এমন ভূমি বুখারা-সমরকন্দ।

কেউ আবার এমন দাবী করে থাকে, তখন ইলম ছিলো কিন্তু ইসলামের প্রচার ছিলো না,তাই এ অবস্থা হয়েছিলো !!! এধরণের দাবী ইসলাম ও ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে নিরঙ্কুশ অজ্ঞ লোকেরাই করতে পারে। ইলম চর্চা নিজেই ইসলাম প্রচার বরং এটি সর্বোৎকৃষ্ট ইসলাম প্রচার।

ছিলো না শুধু জিহাদ,বাকী সবই ছিলো। স্পেনের কথা হয়তো সবারই জানা থাকবার কথা ! স্পেনের বিশ্বাসঘাতক বাদশাহ আবু আব্দুল্লাহ জিহাদ পরিত্যাগ করে ক্রুসেডার খ্রিস্টানদের সাথে আপোষ করেছিলো। আর তৎকালীন জিহাদ বিমুখ আলিম সমাজ বিশ্বাসঘাতক বাদশাহ আবু আব্দুল্লাহকে সমর্থন করেছিলো। মুষ্টিমেয় কিছু আবেগী (!) দুঃসাহসী তাদের রক্তের বিনিময়ে উম্মাহর পতন ঠেকানোর চেষ্টা করে ইযযতের পথ অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু যে জাতির কর্মের জন্য যিল্লতির ফায়সালা হয়ে যায়, তা কী আর ঠেকানো যায় ! ঠেকানো যায়নি স্পেনে ইসলাম ও মুসলিমদের সর্বব্যাপী পতন।

৮০০ বছরের জৌলুসপূর্ণ অবস্থান হারিয়ে নির্মূল হলো মুসলিমরা। কী ছিলো না আমাদের সেই স্পেনে ! গোটা ইউরোপ তখন অজ্ঞতার নিকষ কালো আঁধারে ডুবেছিলো। অথচ স্পেন ছিলো ইলম-জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকোজ্জ্বল পাদপীঠ। গোটা দুনিয়াকে আমাদের সেই স্পেন জ্ঞান বিতরণ করেছে। আজো আলোকোজ্জ্বল স্পেনের সেই জ্ঞান দ্বারা আমরা উপকৃত হচ্ছি।
কর্ডোবা তথা কুরতুবার ইমাম কুরতুবী রাহঃ এবং উনার জগদ্বিখ্যাত তাফসীরে কুরতুবীর(আল-জামি’উ লি-আহকামিল ক্বুরআন) কথা কে না জানে !! ইমাম ইবনে হাযম রাহঃ এর ইলমের কথা জানে না এবং উপকৃত হয় না,এমন আলিম থাকা অনেকটাই দুরূহ।

স্পেনে মুসলিমরা প্রবেশ করেছিলো জিহাদের মাধ্যমে। আর বিদায় নিয়েছে জিহাদ ছাড়ার মাধ্যমেই। এটা অবধারিত। এটা অনিবার্য। এটা মুহাম্মাদে আরাবী সাঃ কর্তৃক নির্ধারিত পরিণতি।
…… “যখন তোমরা জিহাদ পরিত্যাগ করবে,তখন তোমাদের উপর লাঞ্চনা চাপিয়ে দেয়া হবে।”

বুখারার ইলমের কথাতো শুধু আলিমরা নয়,জাহেলরাও জানে। বুখারা-সমরকন্দের ইলম না থাকলে দুনিয়া হয়তো অনেক ইলম থেকে বঞ্চিতই থেকে যেতো,আল্লাহু আ’লাম।

কিন্তু কী পরিণতি হয়েছে বুখারা-সমরকন্দের ? নির্মূল হয়েছে ইলম-আলিম-উলামা। নির্মূল করা হয়েছে ইসলামকে।
কিন্তু কেনো ? কীসের অভাব ছিলো তখন মুসলিমদের ?
শুধুমাত্র জিহাদ পরিত্যাগই ছিলো সেই যিল্লতির একমাত্র কারণ। তৎকালীন বুখারা-সমরকন্দের উলামাগণ জিহাদ ছেড়ে দিয়ে ইসলাম বাঁচাতে চেয়েছিলেন ! এজন্য মুষ্টিমেয় কিছু মুজাহিদদের বিরুদ্ধে সেই আলিমগণ ফাতাওয়াও দিয়েছিলেন !
আফসোস ! তারা মাদরাসা-মাসজিদ-ইলম রক্ষা করার জন্য জিহাদের বিরুদ্ধে ফাতাওয়া দিয়েছিলেন ! কিন্তু ইসলামকে রক্ষা করতে পারেননি । পারেননি নিজেদেরকেও বাঁচাতে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা নাকি এটিই যে,ইতিহাস কেউ মনে রাখে না। তাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে বারংবার।
এতো দামী ইলম যা আমাদের সোনালী উম্মাহ গোটা দুনিয়াকে বিতরণ করেছে। গোটা দুনিয়া আমাদের ইলমের মুহতাজ হয়ে পড়েছিলো। আজ সেই ইলম কতটা মূল্যহীন ! আমাদের কাছে দুনিয়া আসবে দূরের কথা,আমরা সেই ইলম নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি,তবুও কেউ নিচ্ছে না ! কেউ স্বীকৃতি দিচ্ছে না।

কতটা মূল্যহীন বানিয়েছি আমরা সেই মূল্যবান ইলমকে যে, আমরা আজ সেই ইলমের মূল্যায়নের জন্য ইসলামের দুশমনের দ্বারস্থ হচ্ছি। ওয়াল্লহি,তাল্লহি, এই ইলম আমাদেরকে অভিশাপ দিবে নিঃসন্দেহে। আমরা এর বে-ইযযতি করছি।
ইলম এবং তার বাহকরা কেনো এতোটা মূল্যহীন হয়ে পড়েছেন ? কেনোইবা এতো যিল্লতির মুখোমুখি হয়েছেন ?
কারণ,এই ইলমের পাহারাদার নেই। সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। আর তা হচ্ছে জিহাদ,যা ইলম ও ইসলামের পাহারাদার।
ফুটপাথ থেকে কী কেউ কোটি টাকার হীরা-জহরত কিনবে ? কখনোই না। বাস্তবিকই তা হীরা-জহরত হলেও কেউ তা গ্রহণ করতে চাইবে না। সবাই মূল্যহীন মনে করবে। কারণ ফুটপাথে মূল্যবান বস্তু থাকে না।

আজ আমাদের ইলমের পাহারাদার ও রক্ষণাবেক্ষণকারী তথা জিহাদ না থাকার কারণে তা মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। আর আমরা তা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমাদের সোনালী অতীতে এতো পাকা মাসজিদ-মাদরাসা হয়তো ছিলো না,কিন্তু ইলম ছিলো মহামূল্যবান। আর তার ধারক তথা আলিমগণ ছিলেন সম্মানিত। আর সেজন্য দেখতে পাই সোনালী যুগের খলীফাহ,বাদশাহগণ সেই ইলমের ধারকদেরকে কতটা সম্মান করতো। অনেকেতো খলীফাহ হওয়া সত্ত্বেও উলামাদের সামনে নিজেদেরকে ভৃত্যের মতো মনে করতো ! সুবহানাল্লাহ।

সেই সোনালী অতীত কী একেবারেই হারিয়ে গেছে ! অতীতের চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে !! চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়েছে !!
না, সেই অতীতের প্রদীপ আবারো জ্বলে উঠছে খোরাসানের বরকতময় ভূমিতে। উম্মাহর হক্ব জামা’আহ আত-ত্বয়িফাতুল মানসূরাহ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইলম ও জিহাদের বাহক তালিবান মুজাহিদরা। ইলম ও জিহাদের বরকতময় সাজে সজ্জিত উম্মাহর গোরাবাহরা খোরাসানের পাহাড়ী ভূমি থেকে এই পয়গাম নিয়ে ছড়িয়ে গেছেন বিশ্বব্যাপী। হেরার আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার প্রাক্কালে আবারো গোটা দুনিয়া। সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনা উম্মাহর দুঃসাহসী সেই সন্তানরা তাদের পূর্বসূরীদের মতোই বালুকাময় ভূমিতে বসে ইলম অর্জন করছেন। এর পাশাপাশি যুগের হুবাল আমেরিকা ও তার সতীর্থদের বিরুদ্ধে ইলম ও দ্বীনের রক্ষাকবচ জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উম্মাহর গৌরবোজ্জ্বল ও সোনালী ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে ইনশাআল্লাহ্‌।
এক সোনালী অধ্যায়ের যুগ-সন্ধিক্ষণে আলোকোজ্জ্বল সুবহি-সাদিকের ইন্তেযাররত একজন গোরাবা ।

ছবি ক্যাপশনঃ ইমারতে ইসলামীয়া আফগানিস্তানের শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে আফগানিস্তানের বালুকায় বসে ইলম অর্জন ও পরীক্ষা দিচ্ছেন উম্মাহর সেই সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টারত দুঃসাহসী সৈনিক তালিবানরা।
(কপি)
-Ahmad Amin

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>