রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

উবায়দা ইবন হারিসের অভিযান

উবায়দা ইবন হারিসের অভিযান

মজীদের সুরা যেভাবে শিখভাম , সে ভাবে রাসুল (সা)-এর যুদ্ধের বিববণসমুহ সম্পর্কে শিক্ষা
লাভ করি ৷ ওয়াকিদী বলেন : আমি মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
আমি আমার চাচা যুহ্রীকে বলতে শুনেছি : ইলমুল মাগাযী হচ্ছে এমনি এক ইল্ম, যাতে
নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের জ্ঞান ৷

আর মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র ) ইয়ড়াহুদী মুনাফিকদের বড় বড় কাফিব সম্পর্কে আলোচনা
করার পর বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন দুশমনের সঙ্গে জিহাদের
জন্য আল্পাহ্র নির্দেশ অনুযায়ী ৷ আশপাশের মুশরিকদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য আল্লাহ্ র্তাকে
নির্দেশ দেন ৷ তিনি বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) ১ ২ই রবিউল আউয়াল সোমবার দুপুরের দিকে
মদীনায় আগমন করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বয়স তখন ছিল ৫৩ বছর ৷ এটা ছিল
নুবুওয়াতপ্রাপ্তির ১৩ বছর পরের ঘটনা ৷ রবিউল আউয়াল মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো, রবিউছ
ছানী, জুমদােল উলা ও জুমাদাছ ছানী, রজব, শাবান, রমড়াযান, শাওয়াল , যিলকাদ ও যিলহাজ্জ
অর্থাৎ বছরের শেষাবধি তিনি মদীনায় অবস্থান করেন ৷ এ বছর হজ্ঞেৰুর কর্তৃতু মুশরিকদের হাতে
ছিল ৷ মুহাররম মাসও তিনি এভাবে কাটালেন ৷ মদীনায় আগমনের ১২ মাসের মাথায় সফর
মাসে তিনি মুজাহিদের বেশে বের হন ৷ ইবন হিশাম বলেন : এ সময় তিনি সাআদ ইবন
উবাদাকে মদীনায় তার স্থলাভিষিক্ত করে যান ৷ ইবন ইসহাক বলেন, তিনি ওয়াদ্দান পর্যন্ত
পৌছেন; এটাকে আব্ওয়ার যুদ্ধ বলা হয়ে থাকে ৷ ইবন জারীর বলেন : এটাকে ওয়াদ্দানের
যুদ্ধও বলা হয় ৷ তিনি কুরায়শ এবং বনী যামরা ইবন বকর ইবন আবদ মানাত ইবন কিনানার
উদ্দেশ্যে বহির্গত হন ৷ এখানে তিনি বনী যামরার সাথে সমঝোতা করেন এবং বনী যামরার পক্ষ
থেকে মাখৃশী ইবন আম্র যামরী উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যন্থতা করেন ৷ সে সময় ইনিই ছিলেন
তাদের নেতা ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরে আসেন, কোন সংঘাতের মুখোমুখি হননি ৷ সফর
মাসের অবশিষ্ট দিনগুলাে এবং রবিউল আউয়ালের প্রাথমিক দিনগুলাে তিনি মদীনায় অবস্থান
করেন ৷ ইবন হিশাম বলেন : এটা ছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রথম গায্ওয়া ৷ আর ওয়াকিদী
বলেন ;; তার পতাকা ছিল চাচা হড়ামযার হাতে এবং তীর পতাকা ছিল সাদা বঙ্গের ৷

উবায়দা ইবন হাবিছের অভিযান

ইবন ইসহাক বলেন : রাসুলুল্পাহ্ (সা) মদীনায় অবস্থানকালে উবায়দা ইবন হারিছ ইবন
মুত্তালিব ইবন আবদ্ মানাফ ইবন কুসাইকে ৬০ জন যা ৮০ জনের বাহিনীসহ প্রেরণ করেন ৷ এ
বাহিনীর সকলেই ছিলেন অশ্বারোহী এবং মুহাজির ৷ তাদের মধ্যে কোন আনসরীি ছিলেন না ৷ এ
বাহিনী রওনা হয়ে চলতে চলতে ছানিয়ড়াতুল মুররার’ নিস্নাঞ্চলে একটা কৃয়াের নিকট পৌছে ৷
সেখানে কুরায়শের এক বিশাল দলের মুখোমুখি হয় ৷ তবে সেখানে কোন সংঘর্ষ হয়নি ৷ অবশ্য
সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাস এ সময় একটা তীর নিক্ষেপ করেন ৷ আর এটা ছিল ইসলামের
ইতিহাসে আল্লাহর রাস্তায় নিক্ষিপ্ত প্রথম তীর ৷ এরপর সকলে সেখান থেকে ফিরে আসেন ৷
মুসলমানরা তখন ছিলেন হর্যোৎফুল্ল ৷ এ সময় বনু যুহ্রার মিত্র মিকদাদ ইবন আমর
আল-বাহরানী এবং বনু নাওফিল ইবন আবদ মড়ানাফের মিত্র উতবা ইবন গায্ওয়ান ইবন জাবির
আল-মাযিনী মুশরিকদের দল থেকে পলায়ন করে মুসলমানদের দলে যোগ দেন ৷ এরা উভয়েই

ছিলেন মুসলমান ৷ তবে কাফিরদের দলের সঙ্গে মিশে বেরিয়েছিলেন ৷ ইবন ইসহড়াক বলেন : এ
সময় মুশরিকদের দলপতি ছিল ইকরিমা ইবন আবু জাহ্ল ৷ পক্ষান্তরে ইবন হিশাম আবু আমর
ইবন আলা এবং আবু আমর আল-মদােনীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে , তখন ঘুশরিকদের দলপতি
ছিল মিক্রায ইবন হাফ্স ৷

আমার মতে, ওয়াকিদীর উদ্ধৃতি দিয়ে ইতেড়াপুর্বে দুটি উক্তি উল্লিখিত হয়েছে ৷ এক উক্তি
মতে মুশরিকদের দলপতি ছিল মিক্রায ৷ অপর উক্তি মতে তাদের দলপতি ছিল আবু সুফিয়ান
সাখৃর ইবন হার্ব ৷ তবে আবু সুফিয়ান সে বাহিনীর নেতা ছিলেন এ মতকেই তিনি প্রাধান্য
দেন ৷ এরপর ইবন ইসহাক এ বাহিনী সম্পর্কে একটা কসীদার উল্লেখ করেছেন, যা (আবু
বকর) সিদ্দীকের বলে কথিত আছে ৷ কাসীদাটির শুরু এই :

গ্লুা
তুমি কি সালমার কল্পনায় কোমল উপত্যকায় জন্ম নিয়েছ ? এবং সমাজে এক নব বিষয়
হিসাবে উদ্ভুত হয়েছ ?
তুমি লুয়াই গােত্রকে দেখতে পারে যে কোন উপদেশ বা কোন বাহিনী তাদেরকে কুফর
থেকে বিরত রাখে না ৷

তাদের কাছে এসেছেন এক সত্য রাসুল ৷ র্তড়ারুক তারা অস্বীকার করে এবং বলে তুমি
আমাদের মধ্যে থাকতে পারবে না ৷
আমরা তাদেরকে সত্যের দিকে ডাকলে তারা পেছনে ফিরে যায় এবং হীপানো কুকুরের
মতো ঘেউ ঘেউ করে পালায় ৷

দীর্ঘ এ কাসীদার জবাবে আবদুল্লাহ ইবন যাবআরীর একটি কাসীদা বর্ণিত আছে, যার শুরু
এ রকম :
,
আমি কি এমন ব্যক্তির ধ্বংসন্তুপের নিকট আশাইছ নামক স্থানে ক্রন্দন করেছি এমন চক্ষু
দিয়ে, যায় অশ্রু অব্যাহত ধারায় প্রবাহিত হয় ?
কালের বিম্ময়, আর কাল তো সবটাই বিস্ময়, তা আগের হোক বা পরের হোক ৷
একটা বিদ্রোহী বাহিনী আমাদের নিকট এসেছে, যার নেতৃতৃ দিচ্ছে উবায়দা, যুদ্ধকালে
যাকে ডাকা হয় ইবন হারিছ বলে ৷

(আমাদেরকে আহ্বান করে যে,) আমরা যেন মক্কায় বিসর্জা৷ দেই মুর্তিপুজা, যা সম্রান্তদেব
, জন্যে উত্তম উত্তরাধিকার ৷

তিনি দীর্ঘ কাসীদাটি উল্লেখ করেছেন ৷ আমরাও পুরোটাই উদ্ধৃত করতাম, তবে বাধ
সেধেছে এই যে, ভাষায় পণ্ডিত ইমাম আবদুল মালিক ইবন হিশাম উল্লেখ করেছেন যে,
অধিকাংশ জ্ঞানীরা এ কাসীদাদ্বয়কে অস্বীকার করেছেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, সাআদ ইবন
আবু ওয়াক্কাস তার যে তীর নিক্ষেপ সম্পর্কে এ কবিতা আবৃত্তি করেছেন বলে ঐতিহাসিকরা
উল্লেখ করেন :

রাসুলুল্লাহ্ কি খবর পেয়েছেন যে, আমি আমার সঙ্গীদের সহায়তা করেছি আমার তীরের
অগ্রভাগ দ্বারা ?
আমি সেগুলো দিয়ে প্রতিরোধ করে চলেছি তাদের অগ্রবর্তীদেরকে প্রতেৰুক প্রস্তরময় এবং
নরম ভুমিতে ৷
হে আল্লাহ্র রাসুল ! আমার আগে কোন তীর নিক্ষেপকারী দুশমনের জন্যে তীর তৈয়ার
করেনি ৷
এ্যাএএ
আর তা এ জন্যে যে, আপনার দীন সত্য দীন এবং আপনার আনীত দীন সত্য, তাই
সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী ৷
তা দ্বারা মু’মিনরা পাবে নাজাত আর কাফিররা হবে লাঞ্ছিত অপেক্ষা-স্থলে ৷

হে (ইকরামা) ইবন আবু জাহ্ল! ধিক তোমাকে ! আমাকে তিরস্কার করবে না যে, আমি
গোমরাহ করেছি গোত্রকে ৷

ইবন হিশাম বলেন, কবিতা বিষয়ে যাদের জ্ঞান আছে, তাদের অধিকাৎশ এ পংক্তিগুলাে
সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাসের বলে স্বীকার করেন না ৷ ইবন ইসহাক বলেন ষ্ক উবায়দার পতাকা
ছিল ইসলামে প্রথম পতাকা, যা রাসুলুল্লাহ্ (সা) কোন মুসলমানের নিকট নিজ হাতে অর্পণ
করেছেন ৷ পক্ষান্তরে যুহ্রী, মুসা ইবন উকবা এবং ওয়াকিদী এ মতের বিরোধিতা করেন ৷
তাদের মতে হাম্যার বাহিনী উবায়দা ইবন হারিছের বাহিনীর পুর্বেই প্রেরিত হয়েছিল ৷ আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷ সাআদ ইবন আবু ওযাক্কাস প্রসঙ্গে উল্লিখিত হবে যে, সারিয়ার আমীরদের মধ্যে
প্রথম ছিলেন আবদুল্লাহ্ ইবন জাহাশ আসাদী ৷

ইবন ইসহাক বলেন ঘ্র কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন যে, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) গায়ওয়া
আবৃওয়া থেকে ফিরে মদীনা পৌছার পুর্বেই র্তাকে প্রেরণ করেছিলেন ৷ মুসা ইবন উকবাও যুহ্রী
সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

অনুচ্ছেদ
সারিয়্যা হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব প্রসঙ্গে

ইবন ইসহাক বলেন : বাসুলুল্লাহ্ (না) এ স্থান থেকে হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব ইবন
হাশিমকে ৩০ জনের একটা বাহিনীসহ ঈস’ নামক স্থানের দিকে সীফুল বাহরে প্রেরণ করেন ৷
এ বাহিনীতে কোন আনসারী সাহাবী ছিলো না ৷ এ বাইিনীটি সমুদ্র তীরে আবু জাহ্ল ইবন
হিশামের নেতৃত্বে পরিচালিত ৩০০ অশ্বারোহী বাহিনীর মুখোমুখি হয় ৷ এখানে মাজদী ইবন
আম্র আল-জুহানী উভয় বাহিনীর মধ্যে মধ্যন্থতা করে সমঝোতা করে দেন ৷ ফলে উভয় দলের
লোকেরা ফিরে যান তাদের মধ্যে কোন সংঘর্ষ হয়নি ৷

ইবন ইসহাক বলেন : কেউ কেউ বলেন যে, হামযার পতাকা ছিল প্রথম পতাকা, যা
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কোন মুসলমানের হাতে তুলে দেন ৷ আর এটা এ কারণে যে, হামযা আর
উবায়দার বাহিনী একই সময় প্রেরণ করা হয়, তাই তা লোকদের নিকট সন্দেহের কারণ হয়ে
দাড়ায় ৷

মুসা ইবন উকবা যুহ্রী সুত্রে বর্ণনা করেন যে, উবায়দা ইবন হারিছের বাহিনীর পুর্বে
হামযার বাহিনীকে প্রেরণ করা হয় ৷ আর হামযার বাহিনীকে যে আবওয়ার যুদ্ধের পুর্বে প্রেরণ
করা হয় তিনি তার পক্ষে প্রমাণও পেশ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবৃওয়া থেকে প্রত্যাবর্তন
করে মুহাজিরদের ৬০ জনের বাহিনীসহ উবায়দা ইবন হারিছকে প্রেরণ করেন ৷ এ প্রসঙ্গে তিনি
যা বলেছেন, তা পুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ ইভােপুর্বে ওয়াকিদীর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা
হয়েছে যে, তিনি বলেন : প্রথম হিজরী সনের রমাযান মাসে হামযার বাহিনীকে প্রেরণ করা হয়,
এরপর শাওয়াল মাসে প্রেরণ করা হয় উবায়দার বাহিনীকে ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহড়াক হামযা (রা)-এর একটা কবিতা উল্লেখ করেছেন, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে
ইসলামে তার পতাকাই ছিল প্রথম পতাকা ৷ তবে ইবন ইসহাক বলেন, হামযা এ কবিতা বলে
থাকলে ঠিবইি বলেছেন ৷ কারণ, তিনি সত্য কথাই বলেন ৷ আসলে কোনটা ঘটেছিল, তা
আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ তবে আমরা জ্ঞানীদের নিকট থেকে যা শুনেছি, সে অনুযায়ী উবড়ায়দাই
ছিলেন অপ্রবর্তী ৷ আর তার কাসীদাটি এই —

হে আমার সম্প্রদায়, সাবধান! নিজেদের মিথ্যা স্বপ্ন আর অজ্ঞতার জন্য বিস্ময় প্রকাশ কর;
বিম্ময় প্রকাশ কর জ্ঞান-বুদ্ধি আর লোকের মতের বিরুদ্ধাচরণের জন্যেও ৷
দৌন্
আরো বিম্ময় প্রকাশ কর অশ্বারােহী বাহিনীর জুলুম নির্যাতনের জন্যে ৷ আমরা তাদের
সম্পদ আর জনবলের অবমাননা করিনি ৷

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.