একটি মাল নগদ মূল্যে ক্রয় করলে যে মূল্য নেওয়া হয়…

প্রশ্ন

একটি মাল নগদ মূল্যে ক্রয় করলে যে মূল্য নেওয়া হয় কিস্তিতে তা ক্রয় করলে তার চেয়ে বেশি মূল্য নেওয়া হয়। এরূপ ক্রয়-বিক্রয় শরীয়তসম্মত কি না? জমি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি এই পদ্ধতিতে ক্রয়বিক্রয় করা শরীয়তসম্মত হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, নগদ মূল্যের তুলনায় কিস্তিতে বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দাম নেওয়া জায়েয আছে। তবে এক্ষেত্রে বাকির মেয়াদ এবং পণ্যের মূল্য চুক্তির সময়ই নির্ধারণ করে নিতে হবে। আর পণ্য নগদে হস্তান্তর করতে হবে। উভয়টি বাকি রাখা যাবে না। এছাড়া কিস্তি আদায়ে বিলম্ব হলে চুক্তির সময় যে মূল্য ধার্য করা হয়েছিল তার চেয়ে দাম বাড়িয়ে নেওয়া জায়েয হবে না।

উল্লেখ্য যে, জমি এবং তৈরি ফ্ল্যাটও কিস্তিতে কেনা জায়েয। তবে এগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় বিক্রেতার বা ক্রেতার পক্ষ থেকে শরীয়ত পরিপন্থী শর্তাবলিও আরোপ করা হয়ে থাকে। তাই এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে হলে বিজ্ঞ আলেম থেকে এর শর্তাবলি সুনির্দিষ্টভাবে জেনে নেওয়া আবশ্যক।

হযরত শুবা ইবনুল হাজ্জাজ রাহ. (মৃত্যু : ১৬০ হি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাকাম ইবনে উতাইবা এবং হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমকে এক ক্রেতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সে অন্যের থেকে পণ্য ক্রয় করে আর বিক্রেতা তাকে বলে যে, নগদ মূল্যে কিনলে এত টাকা আর বাকিতে কিনলে এত টাকা। (এতে কোনো অসুবিধা আছে কি?) তারা উভয়ে বললেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে যদি (মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে) কোনো একটি (মূল্য) চূড়ান্ত করে নেয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই।

দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২০৮৩৬; জামে তিরমিযী ১/১৪৭; মাবসূত ১৩/৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১৪২; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/৭-৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.