রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

এক আরব মুজাহিদের হৃদয়স্পর্শী মৃত্যুকাহিনী

এক আরব মুজাহিদের হৃদয়স্পর্শী মৃত্যুকাহিনী

আব্দুল্লাহ তালহা
আমার একজন নিকটাত্মীয় কিছুদিন পূর্বে তাবলীগের সফর থেকে ফিরে এসেছেন। কারগুজারী শোনাতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ঈমানোদ্দীপক একটি ঘটনা শোনালেন। ঘটনাটি শুনে আমরা কেউ অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না।
ঘটনা এরূপ
মাঝরাতে জামাতের সকল সাথী একজন সাথীকে ঘিরে বসে আছে। তার প্রতি সবার উৎসুক দৃষ্টি। আমীর সাহেব বারংবার একই কথা বলে চলেছেন লোকটিকে উদ্দেশ্য করে- আজ আপনাকে আসল ঘটনা খুলে বলতেই হবে।
লোকটা প্রতিদিন ঘুমের মাঝে চিৎকার করে ওঠেÑ বাঁচাও… বাঁচাও….। আমি জানি না….. আমার নিকট কোন তথ্য নেই……।
সাথীরা মনে করেছিল দুঃস্বপ্ন। এজন্য দুয়েকদিন কিছুই মনে করেনি। কিন্তু ঘটনাটি যখন প্রতিরাতেই হতে থাকলো। এবং একইরূপে তখন সবার মনেই সন্দেহ জাগল-নিশ্চয় এর কোন কারণ আছে। দুঃস্বপ্ন হলে প্রতিরাতেই একইভাবে লোকটি চিল্লাবে কেন?
আজ সবাই আচ্ছা করে ধরেছে লোকটিকে। বলতেই হবে।
লোকটা বললো, ঘটনাটি শুনলে আপনারা সবাই আমাকে ঘৃণা করবেন। ধিক্কার দিবেন। আমি বলতে লজ্জাবোধ করছি।
উদাস ভঙ্গিতে তবুও সে বলতে শুরু করলো-
আমি ছিলাম সি আই এ-এর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আমার টর্চার সেল ছিল সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ও মর্মান্তিক। এখানে অপরাধী হয়তো নিজে মরবে নয়তো অন্য কাউকে মারার সন্ধান দিবে।
একবার এক আরব মুজাহিদকে ধরে আনা হলো। অসম্ভব সুদর্শন, নূরানী চেহারা থেকে নূর ঠিকরে বেরুচ্ছে। চেহারায় ভাসছে ঈমানী দৃঢ়তার সুস্পষ্ট ছাপ। এমন ফেরেশতা মানুষ ইতিপূর্বে দেখিনি আমি।
সে আমার মুখোমুখি বসলো। শুরু করলাম জেরা।
আমি: ‘তুই জানিস লোক আমাকে কী বলে চেনে’ আমি চেহারাকে যতটা সম্ভব ভয়ংকর করে প্রশ্ন করলাম।
মুজাহিদ: ‘কসাই’ সে শান্ত-স্থীরভাবে উত্তর দিলো।
আমি: ‘তোর নাম?’
মুজাহিদ: শাহ আহমাদ।
-তোর বাপের নাম?
-শেখ মুহাম্মদ সা‘দ
নিয়ম হিসেবে প্রশ্নগুলো করছি। আগে থেকেই সব উত্তর জানা আমাদের।
অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় স্থীরভাবে উত্তর দিয়ে চলেছে সে। এরপর জিজ্ঞেস করলাম,
-তোদের মিশন কি?
এটাই ছিল মূল প্রশ্ন। এর মাধ্যমে শুরু হলো জুলুম অধ্যায়।
-বসনিয়া, চেচনিয়া, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাক সহ সকল মুসলিম দেশ কুফুরি শক্তির নাগপাশ থেকে মুক্ত করা। কাফেরদেরকে সেসব দেশ থেকে বিতাড়িত করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অঙ্কিত পতাকা ওড়ানো। সেসব দেশের মজলুম মুসলিম মা-বোনদের ইজ্জত বাচানো। সারা দুনিয়ায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
এরপর সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো, তোমার চেহারা ভুলুণ্ঠিত হোক, তুমি লাঞ্ছিত হও। তোমরা বন্ধুর লেবাস ধারণ করে মুসলমানদের চির শত্রুদের পক্ষে কাজ করছো।
রাগে গোস্বায় তার চেহারা অগ্নিসদৃশ হয়ে গিয়েছে।
-সামনে টার্গেট কী? তার বিস্তারিত উত্তরে আশ্বস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
-সামনের পরিকল্পনা সম্পর্কে মুখ খুলবো না আমি। যে কথাগুলো এতক্ষণ বললাম সেসব কথায় আমার মিশনেরও কোন ক্ষতি হবে না। আমার সাথীদেরও কোন ক্ষতি হবে না।
দৃঢ়কণ্ঠে কথাগুলো বলে গেলো সে।
-তুই বলবি না। তোর বাপ বলবে।
আমার রাগ তখন তুঙ্গে। এক গ্লাস পানি চাইলাম আমি। তার দৃঢ়তায় কিছুটা সমস্যায় পড়ে গেলাম। পানি খাওয়ার সময় নিয়ে দেখি কিছু বের করে কি না। পানি খাওয়া শেষ হতেই সে যে কথা বললো, তাতে আমি সীমাহীন আশ্চর্য হলাম। রাগও তখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গিয়েছে আমার।
সে বললো, তুমি আমাকে ভয় দেখাচ্ছো! আরে অফিসার! দেখি তোমার কতটুকু শক্তি আছে! পাড়লে এই পানিটুকু আমাকে দিয়ে পান করাও।
-বলবি, না বলবি না? এই কথা বলেই আমি চাকু দিয়ে তার পায়ের আঙ্গুল কাটা শুরু করলাম।
-সব অঙ্গ কেটে ফেলো। তবুও একটি প্রশ্নেরও উত্তর পাবে না। সারা শরীর পিস পিস করে ফেললেও আমার মুখ খুলতে পারবে না।
পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে সে বললো কথাগুলো।
এরপর আমি তার হাতের আঙ্গুলগুলো নির্মমভাবে কাটলাম।
শাহ আহমাদ তবুও মুখ খুললো না।
তার সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাকু দিয়ে পোচ দিলাম। গোটা শরীর রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেলো। তবুও সে নিশ্চুপ। ফ্যালফ্যাল নেত্রে তাকিয়ে দেখছে শুধু।
এরপর তার জিহ্বা টেনে বের করলাম কাটার জন্য। তখন সে মুখ খুললো- দয়া করে জিহ্বাটা কেটো না।
কিন্তু তখন আমার ঘারে ফেরআউনের দৈত্য সওয়ার হয়েছে। মনুষ্যত্ববোধ তখন আমার থেকে বিদায় নিয়েছে। নির্দয়ভাবে তার জিহ্বাটাও কেটে ফেলে দিলাম।
গলাকাটা মুরগীর মতো তড়পাতে লাগলো সে। এভাবে একসময় কাতরাতে কাতরাতে আপন রবের সান্নিধ্যে চলে গেলো আরব মুজাহিদ শাহ আহমাদ।
সেদিন থেকে প্রতিরাতেই দেখি শাহ আহমাদকে। অপরূপ সুন্দর পোশাকে সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। তাকে দেখার সাথে সাথেই এক মারাত্মক ভিতি আমাকে গ্রাস করে নেয়। চিৎকার করতে করতে আমি জেগে উঠি।
এমন মানসিক কষ্টের কথা শুনে একভাই বললো, তাবলীগে বের হয়ে যান। মন ভালো হয়ে যাবে। সফরে বের হওয়ার পর থেকে মন আগের থেকে অনেক ভালো। তবে এখনো শাহ আহমাদ ঘুমের মাঝে আসে। আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। হাসে।
আমি এসব মজলুমদের জন্য খুব দোয়া করি। প্রতিদিন তাদের রুহের উদ্দেশ্যে ইছালে সওয়াব করি। আপনাদের সবার নিকট দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।
আমার আত্মীয় বললো, আমরা দেখলাম বেদনার অশ্রুতে তার দাড়ি ভিজে গিয়েছে। অনুতপ্ততার আগুনে সে জ্বলেপুড়ে ছাড়খার হচ্ছে। আশ্চর্য হলাম! মহান আল্লাহ কত দয়ালু। এমন জালেমকেও আপন পথে নিয়ে এসেছেন।
কিন্তু মনে রাখতে হবে সবাই সুযোগ পায় না। কাফেররা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে টুকরো টুকরো করছে আর আমরা তাদের চলন বলন সবকিছুকেই গলার মালা বানিয়ে নিয়েছি। কাফেরদের অনুসরণ করে আমরা আমাদের রবকে প্রতিক্ষণ অসন্তুষ্ট করে চলেছি। রোজ কেয়ামতে শাহ আহমাদ ও তার সঙ্গীরা আমাদের কলার টেনে ধরবে। মহান আল্লাহর ইনসাফের কাঠগড়ায় আমাদেরকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাবে।
সুতরাং আসুন আমরা মুজাহিদদের জন্য দোয়া করি। কারণ তাদের কুরবানি ও আত্মত্যাগের বদৌলতেই আজ আমরা শান্তির নিদ্রায় গা এলিয়ে দিতে পারছি।

Related Posts