ওমর রা: এরপর বনু উমাইয়া বাদশাহদের নাম প্রসঙ্গে

হযরত আমেরে শাবী রহঃ থেকে বর্নিত, তিনি মুসতালিক বংশের এক লোক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এরশাদ করেন:

একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে জানতে চাইলাম যে, হযরত ওমর এর মৃত্যুর পর আমার গোত্রের লোকজন কাকে যাকাত প্রদান করবে?

জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, তোমরা ওমরের পর ওসমান ইবনে আফফানকে যাকাত দিবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৯৫ ]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
ওমর রাযিঃ এরপর ওসমান ইবনে আফফান খলীফা হবেন, তারপরে মোয়াবিয়া তারপর তার ছেলে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৯৬ ]

হযরত কাব রহঃ থেকে পূর্বের হাদীসের ন্যায় বর্ণিত।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৯৭ ]

মুগীস আল আওযায়ী বলেন,

একদিন হযরত ওমর রাযিঃ তার পরে কে খলীফা হবেন সে সম্বন্ধে জানতে চাইলে হযরত কাব রহঃ তাকে বললেন,
আপনার পর এমন একজন খলীফা হবেন, যাকে তার উম্মতগন খুবই নির্মমভাবে হত্যা করবে। অর্থাৎ, ওসমান রা: খলীফা হবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৯৮ ]

হযরত কাব রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, একদিন আমাকে নবীর পর এই উম্মতের খলীফা কে হবেন জিজ্ঞাসা করেন। এটা হযরত ওমর রাযিঃ এর কাছে খলীফা সম্বন্ধে জানতে চাওয়ার পূর্বে। জবাবে ওমর রাযিঃ বললেন, আল আমীন, অর্থাৎ, ওসমান ইবনে আফফান। তার পরবর্তীতে বাদশাহ শুরু হবে এবং তাদের অন্যতম হবেন, মোয়াবিয়া।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৯৯ ]

ওমর রাযিঃ এর মোয়াজ্জিন ওকাইলী রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন হযরত ওমর তার উপস্থিতিতে জনৈক খ্রীষ্টান ধর্ম যাজকের কাছে তার পরবর্তীতে খলীফা কে হবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন এক লোক খলীফা হবেন, যিনি তেমন শক্তিশালী না হলেও তার আত্নীয়দেরকে প্রাধান্য দিবেন একথা শুনে হযরত ওমর রাযিঃ বললেন, আল্লাহ যেন ওসমানের উপর দয়া করেন!আল্লাহ তাআলা যেন, ওসমানের উপর দয়া করেন!!
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০০ ]

হযরত হেলাল ইবনে ইয়াসাফ রহঃ বলেন:

একদিন মুয়াবিয়া রাযিঃ বারীদকে রোমের সম্রাটের কাছে এ মর্মে জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন যে,
ওসমান আমীরুল মুমিনীনের পর খলীফা কে হবেন?
জবাবে রোমের সম্রাট একটি বই আনতে বললেন। এর পর সেটা দেখে বললেন,
ওসমান ইবনে আফফানের তোমাকে প্রেরনকারী মোয়াবিয়া খলিফা হবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০১ ]

হযরত আবু সালেহ রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা মোয়াবিয়া রাযিঃ হযরত ওসমান ইবনে আফফান রাযিঃ এর সাথে সাফররত ছিলেন, তখন জনৈক উট চালক আবৃতি করছিলেন:

উনার পর আমীর হবেন আলী
উনার উপর সকলে থাকবেন রাজী।

বর্ণনাকারী কাব রহঃ বলেন, উক্ত কাফেলায় হযরত মোয়াবিয়া ধূসর বর্নের একটি খচ্চরের উপর আরোহন করে একপার্শ্ব দিয়ে চলছিলেন, এক পর্যায়ে উল্লিখিত উট চালক বলে উঠলেন:

তারপর আমীর হবেন, ধূসর বর্নের খচ্চরের উপর আরোহী।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০২ ]

হযরত হাসান ইবনে আলী রাযিঃ বলেন:
আমি আলী ইবনে আবু তালেব রাযিঃ কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেন:

আমার উম্মত মোয়াবিয়ার নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবেনা।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৩ ]

হযরত আবু সালেম আল জয়শানী রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী রাযিঃ কে কুফাতে বলতে শুনেছি, আমি হক্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুদ্ধ সংগ্রাম চালিয়ে যাব। তার দ্বারা হক্ব প্রতিষ্ঠা হোক বা না হোক। সিদ্ধান্ত তাদের জন্যই হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার সাথীদেরকে বললাম, সেখানে অবস্থান কেমন হবে, অথচ তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত তাদের জন্য হবেনা। যার কারনে আমরা তার কাছে মিশর চলে যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম, এবং তিনি যাদের ইচ্ছা তাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। আর আমাদের প্রত্যেককে এক হাজার দেরহাম করে দান করেছেন। আমাদের কেউ কেউ চলে গেলেও একদল তার সাথে থেকে গিয়েছেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৪ ]

হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আল জুরাশী রাযিঃ থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ শাম সম্বন্ধে আলোচনা করলে জনৈক লোক বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের জন্য শাম দেশের অবস্থা কেমন হবে, অথচ সেখানে শক্তিশালী রোমান বাহিনী থাকবে। লোকটির কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাঃ সহসা বলে উঠলেন শাম কে নিজেদের অধীনে রাখার জন্য কুরাইশ বংশের পুরুষদের থেকে একজনই যথেষ্ট, তখন তিনি তার সাথে থাকা লাঠি দ্বারা মোয়াবিয়ার কাধের প্রতি ইঙ্গেত করেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৫ ]

হযরত আব্দুল করীম ইবনে রশিদ রহঃ থেকে বর্নিত, আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর রাযিঃ এরশাদ করেন হে আসহাবে রাসূল! তোমরা পরস্পর কল্যান কামনা কর, না হয় তোমাদের খলাফতের উপর আমর ইবনুল আস ও মোয়াবিয়ার ন্যায় শাসকগন বিজয়ী হয়ে যাবেন।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৬ ]

হযরত মুহাম্মদ ইবনে সীরীন রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহে আমি দেখে আসছি, হযরত আবু বকর ও ওমর রাযিঃ এর যুগ থেকে মোয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের জন্য খেলাফতের জিম্মাদারী প্রস্তুত করা হচ্ছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৭ ]

ওমারা ইবনে আবুহাফসা রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইকরামা রহঃ কে বলতে শুনেছি, বনু উমাইয়ার ভাইদের ব্যাপারে আমি খুবই আশ্চর্য্য হই। আমাদের দাবি হচ্ছে, মুমিনের, আর তাদের দাবি হচ্ছে, মোনাফিকের দাবি। এবং আমাদের বিপক্ষে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৮ ]

হযরত আলী ইবনে আবু আলেব রাযিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে মোয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান তোমাদের উপর অতিসত্ত্বর বিজয়ী হবে। উপস্থিত লোকজন বললেন, আমি কি তখন তার সাথে যুদ্ধ করবোনা জবাবে আলী রাযিঃ বললেন, না, আমীর ভালো হোক বা খারাপ হোক তার আনুগত্য করতে হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০৯ ]

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.