কাবীল ও হাবীলের কাহিনী

কাৰীল ও হাবীলের কাহিনী
আল্লাহ্ তাআলা বলেন :

অর্থাৎ আদমের দৃ’ পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনাও , যখন তারা উভয়ে
কুরবানী করেছিল তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো, অন্য জনের কবুল হলো না ৷ তাদের
একজন বলল, আমি তোমাকে হত্যা করব-ই ৷ অপরজন বলল, আল্লাহ মুত্তাকীদের কুরবানী
কবুল করেন ৷

আমাকে হত্যা করার জন্য আমার প্রতি তুমি হাত বাড়ালেও তোমাকে হত্যা করার জন্য
আমি হাত বাড়ার না ৷ আমি তো জগতসমুহের রব আল্লাহকে ভয় করি ৷ আমি চাই যে, তুমি
আমার ও তোমার পাপের ভার বহন করে জাহান্নামী হও এবং এটা জালিমদের কর্মফল ৷
তারপর তার প্ৰর্বৃত্তি তাকে তার ভাইকে হত্যায় প্ৰরোচিত করল এবং সে তাকে হত্যা করল,
ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো ৷

তারপর আল্লাহ্ তাআলা একটি কাক পাঠালেন যে তার ভাই-এর লাশ কিভাবে গোপন
করা যায় তা দেখাবার জন্য মাটি খুড়তে লাগল ৷ সে বলল, হায় ! আমি কি এ কাকের মতও
হতে পারলাম না যাতে আমার ভাই-এর লাশ গোপন করতে পারি? তারপর সে অনুতপ্ত
হলো

তাফসীর গ্রন্থে আমরা সুরা মায়িদার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে এ কাহিনী সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনা
করেছি ৷ এখানে শুধু পুর্বসুরি ইমামগণ এ বিষয়ে যা বলেছেন তার সারাংশ উল্লেখ করব ৷

সুদ্দী (র) ইবন আব্বাস ও ইবন মাসউদ (রা)-সহ কতিপয় সাহাবা সুত্রে বর্ণনা করেন যে,
আদম (আ) এক গর্ভের পুত্র সন্তানের সঙ্গে অন্য গর্ভের কন্যা সম্ভানকে বিয়ে দিতেন ৷ হাবীল
সে মতে কাবীলের যমজ বোনকে বিয়ে করতে মনস্থ করেন ৷ কাবীল বয়সে হাবীলের চাইতে
বড় ছিল ৷ আর তার বোন ছিল অত্যধিক রুপসী ৷ >

তাই কাবীল ভাইকে না দিয়ে নিজেই আপন বোনকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাইল
এবং আদম (আ) হাবীলের সাথে তাকে বিবাহ দেয়ার আদেশ করলে সে তা অগাহ্য করল ৷
ফলে আদম (আ) তাদের দৃ’জনকে কুরৰানী করার আদেশ দিয়ে নিজে হজ্জ করার জন্য মক্কায়
চলে যান ৷ যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি আসমানসমুহকে তার সন্তানদের দেখাশুনার দায়িত্ব দিতে
চান কিন্তু তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় ৷ যমীন এবং পাহাড় পর্বতসমুহকে তা নিতে বললে
তারাও অস্বীকৃতি জানায় ৷ অবশেষে কাবীল এ দায়িত্বভার গ্রহণ করে ৷

তারপর আদম (আ) চলে গেলে তারা তাদের কুরৰানী করে ৷ হাবীল একটি মােটা-তাজা
বকরী কুরৰানী করেন ৷ তার অনেক বকরী ছিল ৷ আর কাবীল কুরৰানী দেয় নিজের উৎপাদিত
নিম্নমানের এক বোঝা শস্য ৷

তারপর আগুন হাবীলের কুরৰানী গ্রাস করে নেয় আর কাবীলের কুরৰানী অগাহ্য করে ৷
এতে কাবীল ক্ষেপে গিয়ে বলল, তোমাকে আমি হত্যা করেই ছাড়ব ৷ যাতে করে তুমি আমার
বোনকে বিয়ে করতে না পড়ার ৷ উত্তরে হাবীল বললেন, আল্লাহ্ তাআলা কেবল মুত্তার্কীদের
কুরৰানী-ই কবুল করে থাকেন ৷

ইবন আব্বাস (বা) থেকে আরো একাধিক সুত্রে এবং আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকেও
এটা বর্ণিত আছে ৷ আবদুল্লাহ ইবন অড়ামর (রা) বলেন, আল্লাহর কসম ৷ তাদের দুজনের মধ্যে
নিহত সােকটি-ই অধিকতর শক্তিশালী ছিল ৷ বিক্ষ্ম নিদোর্ষ থাকার প্রবণতা তাকে হভ্যাকারীর
প্রতি হাত বাড়ানো থেকে বিরত রাখে ৷

আবু জাফর আল-বাকির (র) বলেন, আদম (আ) হাবীল ও কাবীলের কুরৰানী করার এবং
হাবীলের কুরৰানী কবুল হওয়ার আর কাবীলের কুরৰানী কবুল না হওয়ার প্রতক্ষেদর্শী ছিলেন ৷
তখন কাবীল বলল, ওর জন্য আপনি দুআ করেছিলেন বিধায় তার কুরৰানী কবুল হয়েছে আর
আমার জন্য আপনি দৃআই করেননি ৷ সাথে সাথে সে ভাইকে হুমকি প্রদান করে ৷

এর কিছুদিন পর একরাতে হাবীল পশুপাল নিয়ে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব করেন ৷ ফলে আদম
(আ) তার ভাই কাবীলকে বললেন, দেখতাে ওর আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন? কাবীল গিয়ে
হাবীলকে চারণ ভুমিতে দেখতে পেয়ে তাকে বলল, তোমার কুরৰানী কবুল হলো আর
আমারটা হয়নি ৷ হাবীল বললেন, আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের কুরৰানী-ই কবুল করে থাকেন ৷ এ
কথা শুনে চটে গিয়ে কাবীল সাথে থাকা একটি লোহার টুকরো দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা
করে ৷

১ মুল আরবীতে সম্ভবত ভুলবশত কাবীল স্থলে হাবীল ছাপা হয়েছে ৷ সম্পাদকদ্বয়
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খমোঃগ্যেষ্ট্র৮-শ্

কেউ কেউ বলেন কাবীল ঘুমন্ত অবস্থায় হাবীলকে একটি পাথর খণ্ড নিক্ষেপে তার মাথা
চুর্ণ বিচুর্ণ করে দেয় ৷ কেউ কেউ বলেন, কাবীল সজােরে হাবীলের গলা টিপে ধরে এবং ইিৎস্র
পশুর ন্যায় তাকে কামড় দেয়াতেই তিনি মারা য়ান ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

অর্থাৎ আমাকে খুন করার জন্য তুমি আমার প্রতি হাত বাড়ালেও তোমাকে খুন করার
জন্য আমি তোমার প্রতি হাত বাড়াবার নই ৷ (৫ : ২৮)

কাবীলের হত্যার হুমকির জবাবে হাবীলের এ বক্তব্য তার উত্তম চরিত্র, খােদাভীতি এবং
ভাই তার ক্ষতি সাধন করার যে সংকল্প ব্যক্ত করেছিল তার প্ৰতিশোধ নেয়া থেকে তার বিরত
থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় ৷

এ প্রসঙ্গেই সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রাসুলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন :
তরবারি উচিয়ে দু’ মুসলিম মুখোমুখি হলে হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি দৃ’জনেই জাহান্নামে
যাবে ৷ একথা শুনে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! হত্যাকারী জাহান্নামে
যাওয়ার কারণটা তো বুঝলাম, কিন্তু নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে তার কারণ? উত্তরে
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন৪ এর কারণ সেও তার সঙ্গীকে হত্যার জন্য লালায়িত ছিল ৷

অর্থাৎ আমিণ্ তামার সাথে লড়াই করা পরিহার করতে ৩চাই ৷ যদিও আমি তোমার চেয়ে
বেশি শক্তিশালী ৷ কারণ আমি এ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছি যে, তুমি আমার ও তোমার পাপের তার
বহন করবে ৷ অর্থাৎ তোমার পুর্ববর্তী পাপসমুহের সাথে আমাকে হত্যা করার পাপের বোঝাও
তুমি বহন করবে, আমি এটাই চাই ৷ মুজাহিদ সুদ্দী ও ইবন জারীর (র) প্রমুখ আলোচ্য
আঘাতের এ অর্থ করেছেন ৷ এ আঘাতের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, নিছক হত্যার কারণে নিহত
ব্যক্তির যাবতীয় পাপ হত্যাকারীর ঘাড়ে গিয়ে চাপে, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন ৷
কেননা, ইবন জারীর এ মতের বিপরীত মতকে সর্ববড়াদী সম্মত মত বলে বর্ণনা করেছেন ৷
অজ্ঞাত নামা কেউ কেউ এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা)
বলেছেন : হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির যিম্মায় কোন পাপ অবশিষ্ট রাখে না ৷ কিন্তু এর কোন ভিত্তি
নেই এবং হাদীসের কোন কিভাবে সহীহ; হাসান বা যয়ীফ কোন সনদে এর প্রমাণ পাওয়া যায়
না ৷ তবে কারো কারো ব্যাপারে কিয়ামতের দিন এমনটি ঘটবে যে, নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর
নিকট ক্ষতিপুরণ দাবি করবে ৷ কিন্তু হত্যাকারীর লেক আমলসমুহ তা পুরণ করতে পারবে না ৷
ফলে নিহত ব্যক্তির পড়াপকর্মহত্যাকারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে ৷ যেমনটি সর্বপ্রকার
অত্যাচা ৷বা-অবিচ ৷রের ব্যাপারে সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ৷ আর হত্যা হলো, সব জুলুমের বড়
জুলুম ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷৩ তাফসীবে আমরা এসব আলোচনা লিপিবদ্ধ করেছি ৷ সকল প্রশংসা
আল্লাহরই প্রাপ্য ৷

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিষী (র) সাদ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন যে, তিনি উছমান ইবন আফ্ফান (রা)ণ্এর পােলযোগের সময় বলেছিলেন, আমি সাক্ষ্য
দিচ্ছি যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : “অদুর ভবিষ্যতে এমন একটি গোলযােগ হবে যে, সে
সময়ে বসে থাকা ব্যক্তি দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তির চাইতে, দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তি চলন্ত ব্যক্তির চাইতে
এবং চলন্ত ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চাইতে উত্তম হবে ৷ ” এ কথা শুনে সাদ ইবন আবু ওয়াক্কাস
(বা) বললেন, আচ্ছা, কেউ যদি আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে হত্যা করার জন্য হাত বাড়ায়
তখন আমি কি করব? রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন : “তখন তুমি আদমের পুত্রের ন্যায় হয়ো ৷”
হুযায়ফা ইবন য়ামান (রা) থেকে ইবন মারদুয়েহ মারকু স্যুত্র এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷
তাতে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : “তখন তুমি আদমের দৃ’পুত্রের উত্তমজনের ন্যায় হয়ো ৷ ”
মুসলিম এবং একমাত্র নাসাঈ ব্যতীত সুনান সংকলকগণ আবু যর (যা) থেকে এরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷

আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন মাসউদ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
“অন্যায়ভাবে যে ব্যক্তিই নিহত হয় তার খুনের একটি দায় আদমের প্রথম পুত্রের ঘাড়ে চাপে ৷
কারণ সে-ই সর্বপ্রথম হত্যার রেওয়াজ প্রবর্তন করে ৷”

আবু দাউদ (র) ব্যতীত সিহাহ সিত্তাহ্র সংক কলকগণ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ ড্ডাপ
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন অসে (রা) ও ইবরাহীম নাখয়ী (র) থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা
এতটুকু বলার পর আরো বলেছেন যে, দামেশৃকের উত্তর সীমান্তে কাসিউন পাহাড়ের সন্নিকটে
একটি বধ্যভুমি আছে বলে কথিত আছে ৷ এ স্থানটিকে মাগারাতৃদ দাম বলা হয়ে থাকে ৷
কেননা সেখানেই কাবীল তার ভাই হাবীলকে খুন করেছিল বলে কথিত আছে ৷ এ তথ্যটি
আহলে কিতাবদের থেকে সংগৃহীত ৷ তাই এর যথার্থত৷ সম্পর্কে আল্লাহ-ই ভালো জানেন ৷

হাফিজ ইবন আসাকির (র)৩ তার গ্রন্থে আহমদ ইবন কাসীর (র) এর জীবনী প্রসঙ্গে উল্লেখ
করেছেন যে, তিনি একজন পুণ্যবান লোক ছিলেন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ (সা), আবু বকর (বা) ,
উমর (রা) ও হাবীলকে স্বপ্ন দেখেন ৷ তিনি হাবীলকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করেন যে, এখানেই
তার রক্তপাত করা হয়েছে কি না ৷ তিনি শপথ করে তা স্বীকার করেন এবং বলেন যে, তিনি
আল্লাহর নিকট দু’আ করেছিলেন, যেন তিনি এ স্থানটিকে সব দুআ কবুল হওয়ার স্থান করে
দেন ৷ আল্লাহ তাআল৷ তার দৃআ কবুল করেন ৷ আর রড়াসুলুল্লাহ (সা) এ ব্যাপারে র্তাকে
সমর্থন দান করে বলেন : আবু বকর (রা) ও উমর (রা) প্রতি বৃহস্পতিবার এ স্থানটির যিয়ারত
করেন ৷ এটি একটি স্বপ্ন মাত্র ৷ ঘটনাটি সত্যি সত্যি আহমদ ইবন কালীর-এর হলেও এর উপর
শরয়ী বিধান ক৷ ৷র্যকর হবে না ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

অর্থাৎ তারপর আল্লাহ এক কাক পাঠালেন, যে তার ভইি-এর শব কিভ৷ ৷বে গোপন করা
যায় তা দেখাবার জন্য মাটি খনন করতে লাগল ৷ সে বলল, হায় ! আমি কি এ কাকের মতও

হতে পারলাম না, যাতে আমার ভাইয়ের লাশ গোপন করতে পারি? তারপর সে অনুতপ্ত
হলো ৷ (৫ : ৩১)

কেউ কেউ উল্লেখ করেন যে, কা ৷বীল হাবীলকে হত্যা করে এক বছর পর্যন্ত; অন্যদের মতে
একশত বছর পর্যন্ত তাকে নিজের পিঠে করে রাখে ৷ এরপর আল্লাহ্ তা আল৷ দু’টি কা ক প্রেরণ
করেন ৷ সুদ্দী (র) সনদসহ কতিপয় সাহাবীর বরাতে বর্ণনা করেন যে, দৃ৩ তাই (ভাই সম্পফীয়ি
দু’টি কাক) পরস্পর ঝগড়া করে একজন অপরজনকে হত্যা করে ফেলে ৷ তারপর মাটি খুড়ে
তাকে দাফন করে রাখে ৷ তখন কাবীল এ দৃশ্য দেখে বলল, $§;’;: ড্রেপুড্রু প্র এরপর
সে কাকের ন্যায় হাবীলকে দাফন করে ৷

ইতিহাস ও সীরাত বিশারদগণ বলেন যে, আদম (আ) তার পুত্র হাবীলের জন্য অত্যন্ত
শোকাহত হয়ে পড়েন এবং এ বিষয়ে কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করেন ৷ ইবন জারীর (র) ইৰ্ন
হুমায়দ থেকে তা উল্লেখ করেন ৷ তাহলো০ ং

অর্থাৎ জনপদ ও জনগণ সব উলট পালট হয়ে গেছে ৷ ফলে পৃথিবীর চেহারা এখন
ধুলি ধুসর ও মলিন রুপ ধারণ করেছে ৷ কো ন কিছুৱই রং রুপস্বাদগহ্ম এখন আর আগের মত
নেই ৷ লাবণ্যময় চেহারার উজ্জ্বলতাও আগের চেয়ে কমে গেছে ৷
এর জবাবে আদম (আ)-এর উদ্দেশে বলা হলো :

অর্থাৎ হে হাবীলের পিতা ওরা দৃ’জনই নিহত হয়েছে এবং বেচে থাকা লোকটিও
যবাইকৃত মৃতে তর ন্যায় হয়ে গেছে ৷ যে এমন একটি অপকর্ম করলো যে, তার ফলে সে
ভীত-সস্ত্রস্ত হয়ে আর্তনাদ করতে করতে ছুটতে লাগলো ৷
পৎক্তিগুলোও সন্দেহমুক্ত নয় ৷ এমনও হতে পারে যে, আদম (আ) পুত্রগােকে নিজের
ভাষায় কোন কথা বলেছিলেন, পরবর্তীতে কেউ তা এভাবে কবিতায় রুপ দেয় ৷ এ ব্যাপারে
মতভেদ রয়েছে ৷ আল্লাহই ভালো জানেন ৷

মুজাহিদ (র) উল্লেখ করেন যে, কাবীল যেদিন তার ভাইকে হত ত্যা করেছিল সেদিনই নগদ
নগদ তাকে এর শাস্তি প্রদান করা হয় ৷ মাতা পিতার অবাধ্যতা, ভাইয়ের প্ৰতি হিৎসা এবং
পাপের শ স্তিস্বরুপ তার পায়ের গোছাকে উরুর সাথে ঝুলিয়ে এবং মুখমণ্ডলকে সুর্যমুখী করে
রাখা হয়েছিল ৷ হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনং : পবকালের জন্য শাস্তি সঞ্চিত
রাখার সাথে সাথে আল্লাহ্ তাআলা দৃনিয়াতেওতার নগদ শাস্তি প্রদান করেন ৷ শাসকের
বিরুদ্ধাচরণ ও আত্মীয়ত৷ ছিন্ন করার মত এমন জঘন্য অপরাধ আর নেই ৷

আহ্লে কিতাবদের হাতে রক্ষিত তথাকথিত তাওরাতে আমি দেখেছি যে, আল্লাহ তাআলা
কাবীলকে অবকাশ দিয়েছিলেন ৷ সে এডেনের পুর্বদিকে অবস্থিত নুদ অঞ্চলের কিন্নীন নামক
স্থানে কিছুকাল বসবাস করেছিল এবং খানুখ নামক তার একটি সন্তানও জন্ম হয়েছিল ৷ তারপর
খানুকের ঔরসে উনদুর, উনদৃরের ঔরসে মড়াহ্ওয়াবীল, মড়াহওয়াবীলের ঔরসে মুতাওয়াশীল
এবং মুতাওয়ড়াশীলের ঔরসে লামাকের জন্ম হয় ৷ এই লামাক দু’ মহিলাকে বিবাহ করে ৷
একজন হলো আদা আর অপর জন সালা ৷ আদা ইবিল নামক একটি সন্তান প্ৰসব করেন ৷ এ
ইবিলই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি গম্বুজাকৃতির তীবুতে বসবাস করেন এবং সম্পদ আহরণ করেন ৷ ঐ
আদায় গর্ভে নওবিল নামক আরেকটি সন্তান জন্ম হয় এবং ঐ ব্যক্তিই সর্বপ্রথম বাদ্যযন্ত্র এবং
করতাল ব্যবহার করে ৷

আর সালা তৃবলাকীন নামক একটি সন্তান প্রসব করেন ৷ এ তৃবলাকীনই সর্বপ্রথম তামা ও
লোহা ব্যবহার করেন ৷ সালা একটি কন্যা সন্তানও প্রসব করেন, তার নাম ছিল নামা ৷

কথিত তাওরাতে এও আছে যে, আদম (আ) একদা শ্রী সহবড়াস করলে তার একটি পুত্র
সন্তান জন্মলাভ করে ৷ শ্রী তার নাম শীছ রেখে বললেন, কাবীল কর্তৃক নিহত হাবীলের
পরিবর্তে আমাকে এ সন্তান দান করা হয়েছে বলে এর এ নাম রাখা হলো ৷ এ শীছের ঔরসে
আনুশ-এর জন্ম হয় ৷

কথিত আছে যে, শীছ-এর যেদিন জন্ম হয় সেদিন আদম (আ)-এর বয়স ছিল একশ ত্রিশ
বছর ৷ এরপর তিনি আরো অটিশ বছর বেচেছিলেন ৷ আনুশের জন্মের দিন শীছ-এর বয়স ছিল
একশ পয়ষট্টি বছর ৷ এরপর তিনি আরো আটশ’ সাত বছর বেচেছিলেন ৷ আনুশ ছাড়া তার
আরো কয়েকটি ছেলে-যেয়ে ভুমিষ্ঠ হন ৷ আনুশের বয়স যখন নব্বই বছর, তখন তার পুত্র
কীনান-এর জন্ম হয় ৷ এরপর তিনি আরো আটশ’ পরের বছর বেচেছিলেন ৷ এ সময়ে তার
আরো কয়েকটি ছেলে-মেয়ের জন্ম হয় ৷ তারপর যখন কীনানের বয়স সত্তর বছরে উপনীত হয়,
তখন তার ঔরসে মাহলইিল-এর জন্ম হয় ৷ এরপর তিনি আরো আটশ চল্লিশ বছর আযু পান ৷
এ সময়ে তার আরো কিছু ছেলে-যেয়ের জন্ম হয় ৷ তারপর মড়াহলাইল পয়ষট্টি বছর বয়সে
উপনীত হলে তার পুত্র য়ারদ-এর জন্ম হয় ৷ এরপর তিনি আরো অটিশ ত্রিশ বছর বেচে
ছিলেন ৷ এ সময়ে তার আরো কয়েকটি ছেলে-মেয়ে জন্ম হয় ৷ তারপর য়ারদ একশ বাষট্টি
বছর বয়সে পৌছুলে তার পুত্র খড়ানুখ-এর জন্ম হয় ৷ এরপর তিনি আরো আটশ’ বছর বেচে
থাকেন ৷ এ সময়ে তার আরো কয়েকটি পুত্র-কন্যার জন্ম হয় ৷ তারপর খানুখের বয়স পয়ষট্টি
বছর হলে তার পুত্র মুতাওয়ড়াশৃশালিহ-এর জন্ম হয় ৷ এরপর তিনি আরো আটশ’ বছর
বেচেছিলেন ৷ এ সময়ে তার আরো কয়েকটি ছেলেযেয়ে জন্ম নেয় ৷ তারপর যখন
মুতাওয়াশৃশালিহ একশ সাতাশি বছর বয়সে উপনীত হন, তখন তার পুত্র লামাক-এর জন্ম হয় ৷
এরপর তিনি আরো সাতশ বিরাশি বছর হড়ায়াত পান ৷ এ সময়ে তার আরো কয়েকটি
ছেলে-মেয়ে জন্মলাত করে ৷ লামাক এর বয়স একশ’ বিরাশি বছর হলে তার ঔরসে নুহ
(আ)-এর জন্ম হয় ৷ এর পর তিনি আরো পড়াচশ’ পচানব্বই বছর বেচে থাকেন ৷ এ সময়ে তার
আরো কয়েকটি ছেলে-যেয়ের জন্ম হয় ৷ তারপর নুহ (আ)-এর বয়স পড়াচশ বছর হলে তার
ঔরসে নাম, হাম ও য়াফিছ-এর জন্ম হয় ৷ এ হলো আহলি কিতাবদের গ্রন্থের সুস্পষ্ট বর্ণনা ৷

উক্ত ঘটনাপঞ্জি আসমানী কিতাবের বর্ণনা কি না এ ব্যাপারে যথাযথ সন্দেহের অবকাশ
রয়েছে ৷ বহু আলিম এ অভিমত ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে আহ্লি কিতাবদের বক্তব্যের সমালোচনা
করেছেন ৷ উক্ত বর্ণনায় যে অবিবেচনা প্রসুত অতিকথন রয়েছে তা বলাই বাহুল্য ৷ অনেকে এ
বর্ণনাটিতে ব্যাখ্যাস্বরুপ অনেক সংযোজন করেছেন এবং তাতে যথেষ্ট ভুল রয়েছে ৷ যথাস্থানে
আমি বিষয়টি আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ্ ৷

ইমাম আবু জাফর ইবন আবীর তার ইতিহাস গ্রন্থে কতিপয় আহ্লি কিতড়াবের বরড়াতে
উল্লেখ করেছেন যে, আদম (আ) এর ঔরসে হাওয়া (আ) এর বিশ গর্ভে চল্লিশটি সন্তান প্রসব
করেন ৷ ইবন ইসহাক এ বক্তব্য দিয়ে তাদের নামও উল্লেখ করেছেন ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

কেউ কেউ বলেন, হাওয়া (আ) প্রতি গর্ভে একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান করে একশ’
বিশ জোড়া সন্তানের জন্ম দেন ৷ এদের সর্বপ্রথম হলো, কাবীল ও তার বোন কালীমা আর
সর্বশেষ হলো আবদুল মুগীছ ও তার বোন উম্মুল মুগীছ ৷ এরপর মানুষ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং
ৎখ্যায় তারা অনেক হয়ে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বিস্তার লাভ করে দ্
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন০ ং

অর্থাৎ হে মানব জাতি ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তােমাদেরকে
এক ব্যক্তি হত্রুআ সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তার থেকে তার সৎগিনী সৃষ্টি করেন এবং যিনি তাদের
দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন ৷ (৪ : ১)

ঐতিহাসিকগণ বলেন, আদম (আ) তার নিজের ঔরসজাত সন্তান এবং তাদের সন্তানদের
ৎখ্যা চার লক্ষে উপনীত হওয়ার পরই ইন্তিকাল করেন ৷

আল্লাহ তাআলা বলেন০ ং

অর্থাৎ তিনিই তােমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তার সংগিনী
সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার নিকট শান্তি পায় ৷ তারপর যখন সে তার সাথে স০ গত হয়, তখন
সে এক লঘৃ গর্ত ধারণ করে এবং তা নিংয় সে অনায়াসে চলাফেরা করে; গর্ত যখন গুরুভার হয়
তখন তারা উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে যদি তুমি আমাদেরকে
এক পুর্ণাঙ্গ সন্তান দাও, তবে তো আমরা কৃতজ্ঞ থাকবই ৷ তারপর যখন তিনি তাদেরকে এক
পুর্ণাঙ্গ সন্তান দান করেন, তখন তারা তাদেরকে যা দান করা হয় সে সম্বন্ধে আল্লাহর শরীক
করে, কিন্তু তারা যাকে শরীক করে আল্পাহ্ তা অপেক্ষা অনেক উর্ধে ৷ (৭ : ১৮৯)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম আদম (আ)-এর কথা উল্লেখ করে পরে জিন তথা
মানব জাতির আলোচনায় চলে গেছেন ৷ এর দ্বারা আদম (আ) ও হাওয়া (আ)-কে বুঝানো
হয়নি বরং ব্যক্তি উল্লেখের দ্বারা মানব জাতিকে বুঝানােই আসল উদ্দেশ্য ৷

যেমন এক স্থানে আল্লাহ তাআলা বলেন০ ং

অর্থাৎ আমি মানুষকে মৃত্তিকার উপাসান থেকে সৃষ্টি করেছি ৷ তারপর আমি তাকে শুক্র
বিন্দুরুপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধারে ৷ (২০ : ১ ২ ১৩)

অন্যত্র আল্লাহ বলেনঃ

অর্থাৎ আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং তাদেরকে
করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ ৷ (৬৭ং : ৫)

এখানে একথা সকলেরই জানা যে, শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ সত্যি সত্যি
আকাশের নক্ষত্ররাজি নয় ৷ আয়াতে নক্ষত্র শব্দ উল্লেখ করে নক্ষত্র শ্রেণী বুঝানো হয়েছে ৷

ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে, সামুরা (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
হাওয়ার সন্তান জন্মগ্রহণ করে ৰ্বাচত না ৷ একবার তার একটি সন্তান জন্ম হলে ইবলীস তার
কাছে গমন করে বলল, তুমি এর নাম আবদুল হারিছ রেখে দাও, তবে সে ৰীচবে ৷ হাওয়া তার
নাম আবদুল হারিছ রেখে দিলে সে বেচে যায় ৷ তা ছিল শয়তানের ইংগিত ও নির্দেশে ৷

ইমাম তিরমিযী, ইবন জারীর, ইবন আবু হাতিম ও ইবন মারদুয়েহ (র) এ আয়াতের
ব্যাখ্যার আপন আপন তাফসীরে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ আর হাকিম বর্ণনা করেছেন তার
মুসতড়াদরাকে ৷ এরা সকলেই আবদুস সামাদ ইবন আবদুল ওয়ারিছ-এর হাদীস থেকে হাদীসটি
বর্ণনা করেছেন ৷ হাকিম বলেছেন, এর সনদ সহীহ ৷ তবে বুখারী ও মুসলিম (র)৩ তা বর্ণনা
করেননি ৷ আর তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব ৷ উমর ইবন ইবরাহীম-এর
হাদীস ব্যতীত অন্য কোনভাবে আমি এর সন্ধান পইিনি ৷ কেউ কেউ আবদুস সামাদ থেকে
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ তবে মারকু সুত্রে নয় ৷ এ সাহাবী পর্যন্ত মওকুফ সুত্রে বর্ণিত হওয়াই
হাদীসটি ক্রটিযুক্ত হওয়ার কারণ ৷ এটিই যুক্তিসঙ্গত কথা ৷ স্পষ্টতই বর্ণনাটি ইসরাঈলিয়াত
থেকে সংগৃহীত ৷ অনুরুপভাবে ইবন আব্বাস (বা) থেকেও মওকুফ রুপে হাদীসটি বর্ণিত
হয়েছে ৷ স্পষ্টতই এটা কাব আহবার সুত্রে প্রাপ্ত হাসান বসরী (র) এ আয়াতগুলোব এর
বিপরীত ব্যাখ্যা করেছেন ৷ তার নিকট যদি সামুরা (রা) থেকে মারফু সুত্রে হাদীসটি প্রমাণিত
হতো, তাহলে তিনি তিন্নমত পোষণ করতেন না ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

তাছাড়া আল্লাহ তাআলা আদম ও হাওয়া (আ)-কে এ জন্য সৃষ্টি করেছেন যে, তারা মানব
জাতির উৎসমুল হবেন এবং তাদের থেকে তিনি বহু নর-নারী বিস্তার করবেন ৷ সুতরাং
উপরোক্ত হাদীসে যা উল্লেখ করা হয়েছে যদি তা যথার্থ হয়ে থাকে, তাহলে হাওয়া (আ)-এর

সভানাদি না বীচার কী যুক্তি থাকতে পারে? নিশ্চিত হলো এই যে, একে মারফু আখ্যা দেয়া
ভুল ৷ মওকুফ হওয়ইি যথার্থ ৷ আমি আমার তাফসীরের কিভাবে বিষয়টি আলোচনা করেছি ৷
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর ৷

উল্লেখ যে, আদম ও হাওয়া (আ) অত্যন্ত মুত্তাকী ছিলেন ৷ কেননা আদম (আ) হলেন
মানব জাতির পিতা ৷ আল্লাহ তড়াআলা তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেন, তার মধ্যে নিজের রুহ্
সঞ্চার করে তার ফেরেশতাদেরকে তার সম্মুখে সিজদাবনত করান, তাকে যাবতীয় বস্তুর নাম
শিক্ষা দেন ও তাকে জান্নড়াতে বসবাস করতে দেন ৷

ইবন হিব্বান (র) তার সহীহ গ্রন্থে আবু যর (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি
বললাম, হে আল্লাহর রাসুল ! নবীর সংখ্যা কত? রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন : এক লক্ষ চব্বিশ
হাজার ৷ আমি বললাম , হে আল্লাহর রাসুল ! তাদের মধ্যে রাসুলেৱ সংখ্যা কত? রাসুলুল্লাহ (সা)
বললেন : তিনশ তেরজনের বিরাট একদল ৷ আমি বললাম , তাদের প্রথম কে ছিলেন ?
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন : আদম (আ) ৷ আমি বললাম , হে আল্লাহর রাসুল তিনি কি প্রেরিত
নবী? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ই৷ ৷ আল্লাহ তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেন ৷ তারপর তার মধ্যে
তার রুহ্ সঞ্চার করেন ৷ তারপর তাকে নিজেই সুঠাম করেন ৷

তাবারানী (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস (রা) বলেন, রাসুলুন্নাহ (যা) বলেছেন :
“শুনে রেখ, ফোরশতাদের সেরা হলেন জিবরাঈল (আ) ৷ নবীদের সেরা হলেন আদম (আ) ৷
দিবসের সেরা হলো জুম্আর দিন, মাসের সেরা হলো রমযান, রাতের সেরা হলো লাইলাতুল
কদর এবং নারীদের সেরা হলেন ইমরান তনয়া মারয়াম ৷”

এটি দুর্বল সনদ ৷ কারণ, রাবী আবু হুরমুয নাফিকে ইবন মাঈন মিথুক্লক সাব্যস্ত করেছেন ৷
আর আহমদ, আবু যুরআ, আবু হাতিম , ইবন হিব্বান (র) প্রমুখ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন ৷
আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

কাব আল-আহবার বলেন, জান্নাতে কারো দাড়ি থাকবে না ৷ কেবল আদম (আ)-এর নাতি
পর্যন্ত দীর্ঘ কালো দাড়ি থাকবে ৷ আর জান্নড়াতে কাউকে উপনাম ধরে ডাকা হবে না ৷ শুধুমাত্র
আদম (আ)-কেই উপনাম ধরে ডাকা হবে ৷ দৃনিয়াতে তার উপনাম হলো আবুল বাশার আর
জান্নাতে হবে আবু মুহাম্মদ ৷

ইবন আদী জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা) থেকে মারকু সুত্রে বর্ণনা করেন যে, “আদম (আ)
ব্যতীত সকল জান্নড়াতীকেই স্বনামে ডাকা হবে ৷ আদম (আ)-কে ডাকা হবে আবু মুহাম্মদ
উপনামে ৷” ইবন আবু আদী আলী (রা) ইবন আবু তালিব-এর হাদীস থেকেও এ হাদীসটি
বর্ণনা করেছেন ৷ তবে তা সর্বদিক থেকেই দুর্বল ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত মিরাজ সংক্রান্ত হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) যখন
নিম্ন আকাশে আদম (আ)-এর নিকট গমন করেন; তখন আদম (আ) তাকে বলেছিলেন,
পুণ্যবান পুত্র ও পুণ্যবান নবীকে স্বাগতম ৷ তখন রাসুলুল্লাহ (সা) তার ভানে একদল এবং বামে
একদল লোক দেখতে পান ৷ আদম (আ) ডানদিকে দৃষ্টিপাত করে হেসে দেন ও বামদিকে
দৃষ্টিপাত করে কেদে পেলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন : আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, জিবরাঈল

এসব কী? উত্তরে জিবরাঈল (আ) বললেন, ইনি আদম এবং এরা তার বংশধর ৷ ডান দিকের
লোকগুলাে হলো জান্নড়ার্তী ৷ তাই সেদিকে দৃষ্টিপাত করে তিনি হেসে দেন আর বামদিকের
লোকগুলাে হলো জাহান্নামী ৷ তাই ওদের দিকে দৃষ্টিপাত ৩করে তিনি কেদে ফেলেন ৷ আবুল
বায্যার বর্ণনা করেন যে, হাসান (র) বলেন যে, আদম (আ) এর জ্ঞান-বুদ্ধি তার সমস্ত
সন্তানের জ্ঞান-বুদ্ধির সমান ছিল ৷

রাসুলুল্লাহ (না) ঐ হাদীসে আরও বলেন : তারপর আমি ইউসুফ (আ)-এর নিকট গমন
করি ৷ দেখতে পেলাম, তাকে অর্ধেক রুপ দেয়া হয়েছে ৷ আন্সিমগণ এর অর্থ করতে গিয়ে
বলেন, ইউসুফ (আ) আদম (আ)-এর রুপের অর্ধেকের অধিকারী ছিলেন ৷ এ কথাটা
যুক্তিসঙ্গত ৷ কারণ, আল্লাহ তাআলা আদম (আ) কে নিজের পবিত্র হাতে সৃষ্টি করেছেন ও
আকৃতি দান করেছেন এবং তার মধ্যে নিজের রুহ্ সঞ্চার করেছেন ৷ অতএব, এমন সােকটি
অন্যদের তুলনায় অধিক সুন্দর হবেন এটাই স্বাভাবিক ৷

আমরা আব্দুল্লাহ ইবন উমর (বা) এবং ইবন আমর (বা) থেকেও মওকুফ ও মারকু রুপে
বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাত সৃষ্টি করেন; তখন ফেরেশতাগণ বলেছিল যে,
হে আমাদের বব! এটি আপনি আমাদেরকে দিয়ে দিন ৷ কারণ, আদম (আ)-এর সন্তানদের
জন্যে তো দুনিয়া-ই সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যাতে তারা সেখানে পানাহার করতে পারে ৷ উত্তরে
আল্লাহ তাআলা বললেন : আমার সম্মান ও মহিমার শপথ! যাকে আমি নিজ হাতে সৃষ্টি
করলাম, তার সন্তানদেরকে আমি তাদের সমান করবো না যাদেরকে আমি কুন (হও)
বলতেই হয়ে গেছে ৷

সহীহ বুখারী ও মুসলিম ইত্যাদিতে বিভিন্ন সুত্রে বর্ণিত একটি হাদীস আছে যে, রাসুলুল্লাহ
(সা) বলেছেন : “আল্লাহ তাআলা আদম (আ)-কে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করেন ৷” এ হাদীসের
ব্যাখ্যার অনেকে অনেক অভিমত ব্যক্ত করেছেন ৷ তার বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই ৷
আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷

আদম (আ) এর ওফাত ও আপন পুত্র শীছ (আ)-এর প্রতি তার ওসীয়ত

শীছ অর্থ আল্লাহর দান ৷ হাবীলের নিহত হওয়ার পর তিনি এ সন্তান লাভ করেছিলেন বলে
আদম ও হাওয়া (আ) তার এ নাম রেখেছিলেন ৷

আবু বর (বা) রাসুলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা
একশ’ চারখানা সহীফা (পুস্তিকা) নাযিল করেন ৷ তন্মধ্যে পঞ্চাশটি নাযিল করেন শীছ-এর
উপর ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে আদম (আ)৩ তার পুত্র শীছ
(আ) কে ওসীয়ত করেন, তাকে রাত ও দিবসের ক্ষণসমুহ এবং সেসব ক্ষণের ইবাদতসমুহ
শিখিয়ে যান ও ভবিষ্যতে ঘটিতব্য তৃফান সম্পর্কে অবহিত করে যান ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক
(র) বলেন, আজকের সকল আদম সন্তানের বংশধারা শীছ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়ে যায় এবং
শীছ ব্যতীত আদম (আ) এর অপর সব ক টি ব :শধারাই বিলুপ্ত হয়ে যায় ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহড়ায়া (১ম খণ্ড) ২৯-

কোন এক জুঘু’আর দিনে আদম (আ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে ফেরেশতাগণ আল্লাহর
পক্ষ হতে জান্নাত থেকে কিছু সুগন্ধি ও কাফন নিয়ে তার নিকট আগমন করেন এবং তার পুত্র
এবং স্থলাভিষিক্ত শীছ (আ)-কে সান্তুনা দান করেন ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, আর

সাত দিন ও সাতরাত পর্যন্ত চন্দ্র ও সুর্যের গ্রহণ লেগে থাকে ৷

ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, য়াহয়া ইবন যামরা সাদী বলেন, মদীনায়
আমি এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখতে পেয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলে লোকেরা
বলল, ইনি উবইি ইবন কাব ৷ তখন তিনি বলছিলেন যে, “আদম (আ)-এর মৃত্যুর সময়
ঘনিয়ে এলে তিনি তার পুত্রদেরকে বললেন, আমার জান্নড়াতের ফল খেতে ইচ্ছে হয় ৷ ফলে তারা
ফলের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন ৷ পথে তাদের সঙ্গে কতিপয় ফেরেশতার সাক্ষাৎ ঘটে ৷ তাদের
সাথে আদম (আ)-এর কাফন, সুগন্ধি, কয়েকটি কুঠার, কােদাল ও থলে ছিল ৷ ফেরেশতাগণ
তাদেরকে বললেন, হে আদম-পুএগণ ৷ তোমরা কী চাও এবং কী খুজছো ? কিংবা বললেন,
তোমরা কি উদ্দেশ্যে এবং কোথায় যাল্দো ? উত্তরে তারা বললেন, আমাদের পিতা অসুস্থ ৷ তিনি
জান্নাতের ফল খাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন ৷ এ কথা শুনে ফেরেশতাগণ বললেন : তোমরা
ফিরে যাও ৷ তোমাদের পিতার ইস্তিকালের সময় ঘনিয়ে এসেছে ৷ য়া হোক, ফেরেশতাগণ
আদম (আ)-এর নিকট আসলে হাওয়া (আ) তাদের চিনে ফেলেন এবং আদম (আ)-কে
জড়িয়ে ধরেন ৷ তখন আদম (আ) বললেন, আমাকে ছেড়ে দিয়ে তুমি সরে যাও ৷ কারণ
তোমার আগেই আমার ডাক পড়ে গেছে ৷ অতএব, আমি ও আমার মহান রব-এর
ফেরেশতাগণের মধ্য থেকে তুমি সরে র্দাড়াও ৷ তারপর ফেরেশতাগণ তার জানকবয করে
নিয়ে গোসল দেন, কাফন পরান, সুগন্ধি মাখিয়ে দেন এবং তার জন্য বগলী কবর খুড়ে
জানাযাব নামায আদায় করেন ৷ তারপর তাকে কবরে রেখে দাফন করেন ৷ তারপর তারা
বললেন, হে আদমের সন্তানগণ ! এ হলো তোমাদের দাফনের নিয়ম ৷ এর সনদ সহীহ ৷

ইবন আসাকির (ব) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ
(সা) বলেছেন : ফেরেশতাগণ আদম (আ)-এব জানাযায় চারবার, আবু বকর (রা) ফাতিমা
(রা)-এর জানাযায় চারবার, উমর (রা) আবু বকর (রা)-এর জানাযায় চারবার এবং সুহায়ব
(রা)-র উমর (রা)-এর জানাযায় চারবার তাকবীর পাঠ করেন ৷১ ইবন আসাকির বলেন,
শায়বান ব্যতীত অন্যান্য রাবী মাইমুন সুত্রে ইবন উমর (রা) থেকে হড়াদীসটি বর্ণনা করেন ৷

আদম (আ)-কে কোথায় দাফন করা হয়েছে, এ ব্যাপারে মতভেদ আছে ৷ প্রসিদ্ধ মত
হলো, তাকে সে পাহাড়ের নিকটে দাফন করা হয়েছে, যে পাহাড় থেকে তাকে ভারতবর্ষে
নামিয়ে দেয়া হয়েছিল ৷ কেউ কেউ বলেন, মক্কার আবুকুবায়স পাহাড়ে তাকে দাফন করা হয় ৷
কেউ কেউ বলেন, মহা প্লাবনের সময় হযরত নুহ (আ) আদম ও হাওয়া (আ)-এর লাশ একটি
সিন্দুকে ভরে বড়ায়তৃল মুকাদ্দাসে দাফন করেন ৷ ইবন জারীর এ তথ্য বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন
আসাকির কারো কারো সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আদম (আ)-এর মাথা হলো
মসজিদে ইব্রাহীম (আ)-এর নিকট আর পা দু’থানা হলো বায়তুল মুকাদ্দাস-এর সাখরা নামক
বিখ্যাত পাথর খণ্ডের নিকট ৷ উল্লেখ্য যে, আদম (আ)-এব ওফাতের এক বছর পরই হাওয়া
(আ)-এর মৃত্যু হয় ৷

১ হাদীসটি বিশুদ্ধ হয়ে থাকলে এটাকে রহুজ্যোপ্হহেমোঃন্ষুৰুনাঃকদ্বুন্ত্নৰিষষ্দ্বাণী বলে বিবেচনা করতে হবে ৷ সম্পাদক

আদম (আ)-এর আবু কত ছিল এ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে ৷ ইবন আব্বাস (রা) ও আবু
হুরায়রা (রা) থেকে মারফু সুত্রে বর্ণিত হাদীসে আমরা উল্লেখ করে এসেছি যে, আদম
(আ)-এর আবু লাওহে মাহফুজে এক হাজার বছর লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ৷ আদম (আ)
ন’শ ত্রিশ বছর জীবন লাভ করেছিলেন বলে তাওরাতে যে তথ্য আছে, তার সঙ্গে এর কোন
বিরোধ নেই ৷ কারণ ইহুদীদের এ বক্তব্য আপত্তিকর এবং আমাদের হাতে যে সংরক্ষিত সঠিক
তথ্য রয়েছে; তার সঙ্গে সাংঘর্ষির্কহওয়ার কারণে তা প্রত্যাখ্যাত ৷ তাছাড়া ইহুদীদের বক্তব্য ও
হাদীসের তথ্যের মাংঝ সমন্বয় সাধন করাও সম্ভব ৷ কারণ তাওরাতের তথ্য যদি সংরক্ষিত হয়;
তা হলে তা অবতরণের পর পৃথিবীতে অবস্থান করার মেয়াদের উপর প্রয়োগ হবে ৷ আর
তাহলো সৌর হিসাবে নশ ত্রিশ বছর আর চান্দ্র হিসাবে নয় শ সাতান্ন বছর ৷ এর সঙ্গে যোগ
হবে ইবন আবীর-এর বর্ণনানুযায়ী অবতরণের পুর্বে জান্নাতে অবস্থানের মেয়াদকাল তেতাল্লিশ
বছর ৷ সর্বসাকুল্যে এক হাজার বছর ৷

আতা খুরাসানী বলেন, আদম (আ)-এ ইস্তিকাল হলে গেটি৷ সৃষ্টিজগত সাতদিন পর্যন্ত
ত্রুন্দন করে ৷ ইবন আসাকির ছুর) এ তথ্য বর্ণনা করেন ৷ তার মৃত্যুর পর তার পুত্র শীছ (আ)
তার স্থলাভিষিক্ত হন ৷ তিনি সে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী নবী ছিলেন যা ইবন হিব্বান তার
সহীহ-এ আবু যর (রা) থেকে মারফু সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে, শীহ (আ)-এর উপর পঞ্চাশটি ন্
সহীফা নাযিল হয় ৷ এরপর তার মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে তার ওসীয়ত অনুসারে তার পুত্র আনুশ,
তারপর তার পুত্র কীনন দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ৷ তারপর তিনিও মৃত্যুবরণ করলে তার ছেলে
মাহলাঈল দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ৷ পারসিকদের ধারণা মতে, এ মাহলাঈল সপ্তরাজ্যের তথা
গোটা পৃথিবীর রাজা ছিলেন ৷ তিনি-ই সর্ব প্রথম গাছপালা কেটে শহর, নগর ও বড় বড় দুর্গ
নির্মাণ করেন ৷ বাবেল ও সুস আল-আকসা’ নগরী তিনিই নির্মাণ করেন ৷ তিনিই ইবলীস ও
তার সাঙ্গপড়াঙ্গদেরকে পরাজিত করে তাদেরকে পৃথিবী সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমুহ এবং বিভিন্ন
পাহাড়ী উপত্যকায় তাড়িয়ে দেন ৷ আর তিনিই একদল অৰাধ্য জািভুতকে হত্যা করেন ৷ তার
একটি বড় মুকুট ছিল ৷ তিনি লোকজনের উদ্দেশে বক্তৃতা প্রদান করতেন ৷ তার রাজত্ব চল্লিশ
বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে ৷ তার মৃত্যুর পর তার পুত্র য়ারদ তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ৷
এরপর র্তারও মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি আপন পুত্র খানুখকে ওসীয়ত করে যান ৷ প্রসিদ্ধ
মত অনুযায়ী এ খানুখ-ই হলেন ইদরীস (আ) ৷

ইদ্রীস (আ)
আল্লাহ্ তা জানা বলেন,

অর্থাৎ- কর, এ কিভাবে উল্লেখিত ইদরীস এর কথা ৷ সে ছিল সত্যনিষ্ঠ, নবী এবং
আমি তাকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদার ৷ ( ১৯ ৫৬)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইদ্রীস (আ)-এর প্রশংসা করেছেন এবং তার নবী ও সিদ্দীক
হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ৷ তিনিই হলেন, উপরে বর্ণিত খানুখ ৷ বংশ বিশেষজ্ঞদের অশোক
বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা) এর বংশ লতিকার অন্যতম স্তম্ভ ৷ আদম (আ) ও শীছ
(আ)-এর পরে তিনিই সর্বপ্রথম আদম সন্তান র্ষাকে নবুওত দান করা হয়েছিল ৷ ইবন ইসহাক
(র) বলেন, ইনিই সর্বপ্রথম কলম দ্বারা লেখার সুচনা করেন ৷ তিনি আদম (আ)-এর জীবন
কালের তিনশত আশি বছর পেয়েছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেন, মুআবিয়৷ ইবন হাকাম
সুলামী-এর হাদীসে এ ইদরীস (আ)-এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (না)-কে
জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, একজন নবী ছিলেন যিনি এ বিদ্যার
সাহায্যে রেখা টানতেন ৷ সুতরাং যার রেখা চিহ্ন তার রেখা চিহ্নের অনুরুপ হবে৩ তারটা সঠিক ৷
বেশকিছু তাফসীরকার মনে করেন যে, ইদরীস (আ) ই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ বিষয়ে
আলোকপাত করেছেন ৷ তারা র্তাকে দৃর্ধর্ষ সিংহকুলের জোাতিষী বলে অভিহিত করেন এবং
তাদের বক্তব্যে অনেক অসত্য তথ্য তার প্রতি আরোপ করা হয়েছে যেমনটি অন্য অনেক
নবী-রসুল, দার্শনিক, পণ্ডিতবর্গ ও ওলীর প্রতি আরোপ করা হয়েছিল ৷

আল্লাহর ’

(আর আমি তাকে সুউচ্চ মর্যাদার উন্নীত করেছিলাম ৷) (১ ৯ ৫ ৭ ) প্রসঙ্গে সহীহ বুখারী ও
মুসলিমে মি রাজ সংক্রান্ত হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) এর চতুর্থ আসমানে তার সঙ্গে
সাক্ষাৎ হয়েছিল ৷ ইবন জারীর (র) হিলাল ইবন য়াসাফ (র) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, ইবন
আব্বাস (বা) আমার উপস্থিতিতে কাব (বা) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ইদরীস (আ)
সম্পর্কে আল্লাহ তা জানার উক্তি এর অর্থ কী? উত্তরে কা ব (বা)
বলেছিলেন, আল্লাহ তা জানা ইদরীস (আ) এর কাছে ওহী প্রেরণ করেন যে, প্রতিদিন আমি
আদম সন্তানদের সমস্ত আমলের সমপরিমাণ প্রতিদান দেবাে ৷ সম্ভবত র্তার সমকালীন মানব
সভানদেরকেই বুঝানো হয়েছে ৷ এতে তিনি তার আমল আরো বৃদ্ধি করতে আপ্রহাম্বিত হয়ে
পড়েন ৷ এরপর তার এক ফেরেশত৷ বন্ধু তার নিকট আগমন করলে তিনি তাকে বললেন
আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি এরুপ এরুপ ওহী পাঠিয়েছেন ৷ আপনি মালাকুল মউতএর সঙ্গে
কথা বলুন, যাতে আমি আরো বেশি আমল করতে পারি ৷ ফলে সেই ফেরেশত৷ র্তাকে তার
দৃ’ডানার মধ্যে বহন করে আকাশে নিয়ে যান ৷ তিনি চতুর্থ আসমানে পৌছলে তার সঙ্গে

মালাকুল মউতের সাক্ষ৷ ৷৩ ঘটে ৷ ফেরেশত৷ তার সঙ্গে ইদরীস (আ) এর বক্তব্য সম্পর্কে আলাপ

করেন ৷ মালাকুল মউত বললেন, ইদরীস (আ) কোথায়ঃ জবাবে তিনি বললেন০ এইতে ৷তিনি

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest