ঢাকার এক মসজিদের অযুখানায় লেখা আছে, যে ব্যক্তি অযুর শুরুতে

প্রশ্ন

ঢাকার এক মসজিদের অযুখানায় লেখা আছে, যে ব্যক্তি অযুর শুরুতে বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পাঠ করবে, অযু ভঙ্গের পূর্ব পর্যন্ত ফেরেশতারা তার আমলনামায় সওয়াব লিখতে থাকবে। (তারগীব) এই সহীহ ও দলিলভিত্তিক কি না? এছাড়া শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার অন্য কোনো হাদীস আছে কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

অযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা অথবা আল্লাহ তাআলার নামের কোনো যিকির দ্বারা অযু শুরু করাসুন্নত ও ফযীলতের কাজ। একাধিক হাদীসে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস রা.-এর সূত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর নামে অযু শুরু কর। (সহীহ ইবনে খুযাইমা,হাদীস : ১৪৪)

হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে নির্ভরযোগ্য আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ঐ ব্যক্তির নামায হবে না, যার অযু নেই। আর ঐ ব্যক্তিরঅযু হবে না (অর্থাৎ অযুর সওয়াব পাবে না), যে অযুর শুরতে আল্লাহর নাম পাঠ করবে না।(মুসতাদরাক হাকিম, হাদীস : ৫৩৪; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫)

হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আরেকটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা বিসমিল্লাহিররাহমানির রাহীম দ্বারা শুরু করা হয়নি তা অসম্পূর্ণ।-জামে সগীর, সুয়ূতী, হাদীস : ৬২৮৪

কোনো কোনো বর্ণনায় বিসমিল্লাহ-এর পরিবর্তে ‘বিযিকরিল্লাহ’ আর কোনো বর্ণনায় ‘বিহামদিল্লাহ’শব্দ এসেছে। তাই ফকীহগণ ও মুহাদ্দিসগণ এ সংক্রান্ত সকল হাদীসের সমন্বয়ে এ কথা বলেছেনযে, বিসমিল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো যিকির দ্বারা শুরু করলেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে এবং এরফযীলতও অর্জিত হবে।

আর প্রশ্নোল্লেখিত বর্ণনাটি মুজামে সগীর, তবারানী নামক গ্রন্থে (১/৭৩) সাহাবী হযরত আবুহুরায়রা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর সনদ নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ এর বর্ণনাকারীদেরমধ্যে ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ নামে একজন ব্যক্তি রয়েছেন, তার সম্পর্কে হাফেয ইবনে আদী(মৃত : ৩৬৩ হি.), হাফেয যাহাবী (মৃত্যু : ৭৪৮ হি.) এবং হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (মৃত্যু : ৮৫২ হি.) বলেছেন, তার থেকে অনেক মুনকার তথা অগ্রহণযোগ্য রেওয়ায়েত বর্ণিতহয়েছে। দেখুন : আলকামিল ফিযযুয়াফা ১/২৬২; মীযানুল ই’তিদাল ১/৯১; লিসানুল মীযান ১/৯৮

এছাড়াও উক্ত সনদে আরেকজন বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদের উস্তাদ আলী ইবনে সাবিতআছে, যাকে হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. মাজহুল অর্থাৎ অজ্ঞাত বলেছেন। দেখুন :নাতাইজুল আফকার ১/১৬৮

এ প্রেক্ষিতে হাদীস বিশরাদগণ এই বর্ণনাটিকে মুনকার তথা অগ্রহণযোগ্য আখ্যাদিয়েছেন।

-মুজামুস সগীর, তবারানী ১/৭৩; মীযানুল ইতিদাল ১/৯১; নাতাইজুল আফকার, হাদীস : ১৬৩; নায়লুল আওতার ১/১৩৪; আলমাসনূ’ পৃষ্ঠা : ২০৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ১৪৪; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫; মাআরিফুস সুনান ১/৪; শরহুন নববী ২/৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/১০৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>