তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কিছু নিয়মিত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: ১ অনেকে বলে থাকেন, তাবলীগ জামাত ইসলামেরপ্রতিনিধিত্ব করে?
জ্বি করে তবে ইলিয়াসী পদ্ধতিতে !

উত্তর: ইলিয়াসী পদ্ধতি কি?

“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের
(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজেরআদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০ )

“তার চেয়ে ভাল কথা আর কি হতে পারে, যে মানুযকে আল্লাহর দিকেডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্য হতেএকজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত -৩৩)
নবী মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেন:

« ﻣَﻦْ ﺩَﻋَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﻫُﺪًﻯ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺟْﺮِ ﻣِﺜْﻞُ ﺃُﺟُﻮﺭِ ﻣَﻦْ ﺗَﺒِﻌَﻪُ ﻻَ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ ﺃُﺟُﻮﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻣَﻦْ ﺩَﻋَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺿَﻼَﻟَﺔٍ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣِﻦَ ﺍﻹِﺛْﻢِ ﻣِﺜْﻞُ ﺁﺛَﺎﻡِ ﻣَﻦْ ﺗَﺒِﻌَﻪُ ﻻَ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ ﺁﺛَﺎﻣِﻬِﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ »

“যে হেদায়েতের প্রতি আহবান জানায়, তার জন্য তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, তবে তা তাদের সওয়াবথেকে কোন কিছু হ্রাস করবে না। আর যে পথভ্রষ্টতার প্রতি আহবান জানায়, তারওপর তার অনুসারীদের সমপরিমাণ পাপ আরোপিত, তবে তা তাদের পাপ থেকেকোন কিছু হ্রাস করবে না।” [মুসলিম(২৬৭৪)]

প্রশ্ন : ২ কোথা থেকে আসল এই পদ্ধতি?

উত্তর: স্বপ্ন থেকে … কিন্তু দলীল?
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবুওয়তে আরকিছু অবশিষ্ট নেই, বাকী আছে কেবল মুবাশশিরাত (সুসংবাদ)।সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন: ভাল স্বপ্ন।
প্রশ্ন : ৩
আর কারো কি এই রকম স্বপ্ন ব্যপারে কোনঘটনা আছে?
উত্তর: আছে। যেমন- ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেন, একদা আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একটিহাতপাখা দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেহেমোবারকে বাতাস করছি এবং তাঁর দেহ মোবারক থেকে মাছি তাড়াচ্ছি।

একজনঅভিজ্ঞ স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তদুত্তরেবললেন, তুমি এমন কোন কাজ করবে যার দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা ও জাল কথা সম্পৃক্ত করার ঘৃণ্য প্রয়াস মূলোৎপাটিতহবে।” বস্তুত উক্ত স্বপ্নই সহীহ বুখারী লিখতে আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
(হাদিউস সারী ৯:৬৫)
প্রশ্ন : ৪ ফাযায়েলে আমলে যে অনেক ঘটনা দেখা যায় সেগুলোর ব্যাপরে কিবলবেন ?

উত্তর: হাদীসে আছে,
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ : ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺑﻠﻐﻮﺍ ﻋﻨﻲ ﻭﻟﻮ ﺁﻳﺔ ﻭﺣﺪﺛﻮﺍ ﻋﻦ ﺑﻨﻲ ﺇﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﻭﻻ ﺣﺮﺝ ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ، ﺘﺎﺏﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺫﻛﺮ ﻋﻦ ﺑﻨﻲ ﺇﺳﺮﺍﺋﻴﻞ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 3274– )
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে,

“আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেওপৌঁছে দাও। আর বনী ইসরাঈলের বিষয় বর্ণনা কর, কোন সমস্যা নাই”।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪, সহীহ, ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬২৫৬, সুনানে, আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৬৬৪, সুনানেনাসায়ী, হাদীস নং-৫৮৪৮}

এখানে দ্বীন প্রচারের সুবিধার জন্য যদিবনী ইসরাঈলের বিষয়ে বর্ণনা করা দোষের না হয়, তবে দ্বীন প্রচারেরসুবিধারন জন্য উম্মতে মোহাম্মদীর ভিতরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রচারেসমস্যা কোথায় ???
শাইখুল হাদীস আল্লামা শায়েখ জাকারিয়া রহঃ এর লিখা“ফাযায়েলে আমাল ” কিতাবটিতেতিনি ফাযায়েল সম্পর্কিত বেশ কিছু হাদীস বিভিন্ন হাদীসের কিতাবথেকে একত্র করেছেন। সেই সাথে বুযুর্গানে দ্বীনের জীবনে ঘটে যাওয়াঈমান উদ্দীপক কিছু ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন।

ঘটনা মূলত ঘটনাই। এর দ্বারা কোন বিধানসাব্যস্ত হয়না। আর বুযুর্গানে দ্বীন থেকে ঘটিত আশ্চর্য ঘটনাবলী কোন শরয়ী দলিল নয়, কিন্তু ঈমান উদ্দীপক। যার মাধ্যমেআমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এগুলোতে অযথা শিরক খোঁজাটা বোকামীরশামিল। সেই সাথে শিরকের অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক।

আশ্চর্য ঘটনাবলী বা বুযুর্গানে দ্বীনেরকারামাত বুযুর্গানে দ্বীনের নিজের ইচ্ছাধীন নয়। বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।যদি কেউ মনে করে যে , কারামাত বাআশ্চর্য ঘটনাবলীর ঘটানোর মূল ক্ষমতা বুযুর্গের, তাহলে এটা শিরক হবে, এতেকোন সন্দেহ নাই। কিন্তু একথাতো ফাযায়েলে আমালের কোথাওলিপিবদ্ধ নাই যে , কারামাতগুলোঘটানোর ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বুযুর্গের। তাহলে এসব ঘটনা শিরক হল কিভাবে?

বনী ইসরাঈল হল হযরত মুসা আঃ ও হযরত ঈসাআঃ এর উম্মত বা জাতি। যদি হযরত মুসা ও ঈসা আঃ এর জাতির ঘটনা বর্ণনাকরাতে কোন সমস্যা না থাকে, তাহলে শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম উম্মত, উম্মতে মুহাম্মদীর বুযুর্গানে দ্বীনের ঈমানদীপ্ত ঘটনা বর্ণনা করা শিরক বা দোষণীয় হয় কি করে?

তাহলে কি গায়রে মুকাল্লিদদের মতে উম্মতে মুহাম্মদীর চেয়ে বনী ইসরাঈলরা বেশি মর্যাদার অধিকারী? বা বেশি শ্রেষ্ঠ? বেশি বুযুর্গ?

প্রশ্ন : ৫ আপনাদের পাঠ্যক্রমে কুরআন ও প্রচলিতহাদীস গ্রন্থ যেমন বুখারী , মুসলিম, আবূ দাঊদ ইত্যাদি এমনকি রিয়াদূসসালেহীন এর মত কোন গ্রন্থের উল্লেখ নেই। আপনাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ
হল, আপনারা তাফসীরগ্রন্থ পড়তে নিষেধকরেন।

উত্তর: এটা মাদ্রাসা নয় যে হাদীসগ্রন্থগুলো তালিম দেয়া হবে। এখানে কিছুকিতাব লিখা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের জন্য আসা মানুষগুলোর মাঝেদ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার আকাঙ্খা সৃষ্টি হয়।

আমাদের মধ্যে কুরআন এর তাফছীর পড়াতে কোন নিষেধ নেই। হাদীসপড়তে কোন নিষেধ নেই। ইসলামী গ্রন্থ পড়তে নিষেধ নেই। তবে যে লোকটিএখনো অ, আ, ক, খ পড়তে শিখেনি। তাকে যদি একটি সাহিত্য গ্রন্থ দেয়া হয়তাহলে সেতো পড়তে পারবে না বরং তাকে দিতে হবে একটি আদর্শলিপি। যাতে সে পড়া শিখতে পারে। তদ্রুপ আমাদের জামায়াতে যে সমস্তভাইয়েরা আসেন তারা যাতে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের পড়া শিখতে পারে তারজন্য সে অনুযায়ী ফাযায়েলে আমল, ফাযায়েলে সাদাকাত, মুন্তাখাবহাদীস, হায়াতুস সাহাবা ইত্যাদি গ্রন্থ পড়তে দেয়া হয়।

ফাযায়েল অর্থ হলো লাভ। মানুষ যে জিনিসে লাভ দেখেতা পাওয়ার জন্য জীবনও দিয়ে দেয়। সে জন্য তাবলিগের ভাইদের দ্বীনের জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই ধরনের গ্রন্থ গুলো আগে পড়তে উৎসাহিত করা হয়।

প্রশ্ন: ৬ আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, সরাসরি কুরআনের অর্থ পড়লে নাকি আমরা বিভ্রান্ত হব।

উত্তর : কথাটা ঠিক নয়। কুরআন অর্থ পড়লে আমরাবিভ্রান্ত হব না। তবে কুরআন ও হাদীস পড়ে মাসয়ালা বের করতে গেলে আমরা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারন উক্ত কাজ করার আগে আমাকে মুজতাহিদহওয়া প্রয়োজন। হাদীসে আছে-
ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺑﺮﺃﻳﻪ ﻓﻠﻴﺘﺒﻮﺃﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ
অর্থঃ যে ব্যক্তি মনগড়া কুরআনের তাফসীর করল সে জাহান্নামে আপনস্থান বানিয়ে নিল, (তিরমিযিশরিফ-২৯৫১)

প্রশ্ন: ৭ আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, কুরআনের তাফসির পড়লেও নাকি আমরা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাআছে।

উত্তর: এটাও ভুল কথা। তবে বর্তমানে এমন কিছুতাফসির বাজারে আছে যাদের উক্ত হাদীসটি সম্ভবত জানা নাই। বর্তমানসময়ের একজন বিখ্যাত তাফসীর লিখনেওয়ালা বলেছেন,

“কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করার পরযে অর্থ আমার বুঝে আসে এবং আমার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাযথাসম্ভব বিশুদ্ধভাবে আমার নিজস্ব ভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি।”
(তাফহীমুল কোরআন, উর্দ্দু ভূমিকা, মুদ্রণে:মার্কেন্টাইল প্রেস, পৃষ্ঠা নং- ১০ লাহোর, সন ১৯৫১ইং)
আরো বলছেন,

“কোরআন বুঝার উত্তম পন্থা একমাত্র ইহাই হতে পারে যে, কোরআন বুঝারইচ্ছাপোষণকারী সর্বপ্রথম ইহা জানবে যে, কোরআনের ইলহাম তার উপর নাজিলহচ্ছে (অর্থাৎ সে রাসূল!)। অতঃপর ইহাবুঝে কোরআন পাঠ করবে যে, সে নিজেই কোরআনকে নাজিল করেছে(অর্থাৎ সে স্বয়ং আল্লাহ!!)। আমিকোরআন বুঝার জন্য এই পন্থাকেই গ্রহণ করেছি।”
(তথ্য সূত্র : নাওয়ায়ে পাকিস্তান, লাহোর ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫)
প্রশ্ন : ৮
আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, কোন ওস্তাদের নিকট হাদীসগ্রন্থ না পড়ে সরাসরি পড়লেবিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উত্তর :বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস হল-সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
এখন এক লোক এই নিয়তে জেনা করা শুরুকরল যে, জেনা করার পর যে সন্তান হবে তাকে আমি ইসলামের বড় দ্বায়ী বাপ্রচারক বানাব। তাহলে আমার জেনা করা জায়েজ হয়ে যাবে।কারন হাদীসে আছে সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল !!!

এখন প্রশ্ন হল এই লোকটি কি আসলেই কুরআনও হাদীস অনুযায়ী আমল করল?
প্রশ্ন: ৯ আপনার নাকি বলে থাকেন জিহাদের কোন প্রয়োজন নাই। দাওয়াত দিতেদিতেই নাকি ইসলাম কায়েম হয়ে যাবে।

উত্ত : এই রকম কথা শুধু জাহেল বলতে পারে কোন আলেম নয় এবং তাবলীগের কোনমুরুব্বিদের মুখে আমি এই কথা শুনিনি। তবে কোন কোন অতি উৎসাহীতাবলীগি ভাই যার কিনা কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান তারা এইধারনা পোষন করে থাকেন এবং তাদের এই ধারনা অবশ্যই পরিত্যাগ করা উচিত।
প্রশ্ন: ১০ কাকরাইলের মুরুব্বিরা যা বলেন এর বাহিরে তাবলীগওয়ালারা কিছু বলবেন না কিছু করবেনও না। ওনারা যা পড়তেবলেন তাই পরবে।

উত্তর: কাকরাঈলের মুরুব্বিরা হচ্ছেন আলেম।এখন কোন সাধারন মানুষ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে কোন আলেমের কথা মত চলেতবে আমি দোষের কিছু দেখি না।
হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেন,
« ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﺷِﻔَﺎﺀُ ﺍﻟْﻌِﻰِّ ﺍﻟﺴُّﺆَﺍﻝُ ».
‘নিশ্চয় অজ্ঞতার চিকিৎসা হলোজিজ্ঞাসা’। [আবূ দাঊদ : ৩৩৬]
প্রশ্ন: ১১ আপনাদের ফাযায়েলে আমলের ভূমিকাতে লিখা আছে,
“এত বড় বুজুর্গের [মাঃ ইলিয়াস] সণ্তুষ্টি বিধান আমার পরকালের নাজাতেরউছিলা হবে মনে করে আমি কিতাব লিখার কাজে সচেষ্ট হই “।

উত্তর: আসলে ওখানে কি বুজুর্গের বলা হয়েছেনাকি বুজুর্গগণের বলা হয়েছে?
প্রশ্ন: ১২ আপনাদের ফাজায়েলের কিতাবে সূরা কামারের ১৭নং আয়াতের অর্থ লেখাআছে, “আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি কোন ব্যক্তিকি হেফজ করিতে প্রস্তুত আছে?” কিন্তু আপনারা যদি এ আয়াতের অর্থ ভিন্ন কোন কুরআনে দেখতেন তাহলেদেখতে পেতেন সেখানে অর্থ লেখা রয়েছে,

“এই কুরআনকে আমি সহজ করিয়াদিয়াছি উপদেশ গ্রহনের জন্য, অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেহ আছে কি?”

উত্তর: (এটার জবাবটা কপি-পেষ্ট করে দিলাম)
মুরাদ বিন আমজাদ এই আয়াতের অর্থ বিকৃতির অভিযুগে সাইখ যাকারিয়ারাহ এর উপর কেমন আক্রমন চালিয়েছে । দেখুন ।
আমি এখানে আহলে হাদিস মুরাদ বিন আমজাদের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছি । দেখুনহতবাগা কি বলছে ।

“(তাবলীগি)নিসাবের গ্রন্থকারকোরআনের আরেকটি আয়াতের বিকৃত অনুবাদ করে চরম দৃষ্টতা প্রদর্শন করেছেন ।
তিনি সুরা কামারের ১৭ নং আয়াতের তরজমা করেছেন –
ﻭﻟﻘﺪﻳﺴﺮﻧﺎ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻟﻠﺬﻛﺮ ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺪ ﻛﺮ
‘আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি । কোন ব্যক্তি কি হেফজ করিতে প্রস্তুত আছে ?’

শায়খ সাহেব উক্ত আয়াতের যে তরজমাকরেছেন পৃথিবীর কোন তাফসিরকারক সে তরজমা গ্রহন করেনি। এটা তারউদ্দেশ্য প্রণোদিত বানোয়াট অনুবাদ।- সহিহ আকিদার মানদণ্ডে তাবলীগিনিসাব, ৫৩-৫৬

দেখুন কেমন জাহেল আর বেয়াদব ! সে যদি তাফসিরের এক-দুটি কিতাবওদেখেনিত তাহলে এমন কথা বলার সাহস পেতনা । কারন সকল তাফসিরকারক এই অর্থ গ্রহন করেছেন । সাহাবা- তাবেয়ি থেকেও এই অর্থ প্রমানিত । তবে বিষয়টিকোন জটিল না হওয়ায় মনে হয় এটা আহলে হাদিসদের প্রতারনার একটি ফাদ। যাতে তারা মানুষকে ফেলার জন্য বর্তমানে আরও অনেক খেত্রেও করছে ।আরও মারাত্তক কথা ও বকা-ঝকও করেছেন এখানে । আফসুস, নিজের অযুজ্ঞতার শাস্তি আরেকজনের উপর চাপান হচ্ছে।

এবার দেখুন আয়াতের তাফসির – যেখানে সকল মুফাসসিরগন ﺫﻛﺮ শব্দের অর্থ‘হেফজ’ দারাও করেছেন । আমরাআমাদের হাতের কাছে (সুরা কামারের ১৭ নং আয়াতের তাফসির) বাংলামাআরেফুল কুরআন ও দেখে নিতে পারি।

আমি এখানে শুধু কিতাবের নাম ও এর আরবি পাঠগুলো উল্লেখ করব । অনুবাদেরপ্রয়জন নেই । কারন সকলে একই –‘‘আমিকোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি’ –অর্থ করছেন ।আগে বর্তমান আরবের কয়েকজন আলেমের তাফসির দেখুন ।

১-ইবনে উসাইমিন।
তিনি আয়াতের অর্থ হেফজ দ্বারা করেছেন –
ﻓﺘﺎﻭﻯ: ﻟﻘﺎﺀﺍﺕ ﺍﻟﺒﺎﺏ ﺍﻟﻤﻔﺘﻮﺡ ﻟﻔﻀﻴﻠﺔ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ : ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺻﺎﻟﺢ ﺍﻟﻌﺜﻴﻤﻴﻦ ﺇﻥ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ : ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﺴﺮ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﺃﻱ : ﻳﺴﺮ ﻣﻌﺎﻧﻴﻪ
ﻟﻤﻦ ﺗﺪﺑﺮﻩ، ﻭﻳﺴﺮ ﺃﻟﻔﺎﻇﻪ ﻟﻤﻦ ﺣﻔﻈﻪ، ﻓﺈﺫﺍ ﺍﺗﺠﻬﺖ ﺍﺗﺠﺎﻫﺎً ﺳﻠﻴﻤﺎً ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻳﺴﺮﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻚ ،
এই আয়াতের অর্থ হল আল্লাহ যারা কুরআনকে নিয়ে চিন্তা করবে তাদের জন্য এর মর্ম এবং যারা হেফজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এর শব্দগুলো শজ করে দিয়েছেন ।

২- বিন বায রাহ –
ﻣﺠﻤﻮﻉ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﺑﻦ ﺑﺎﺯ ” ( 11/117
ﻟﻴﺲ ﻫﻨﺎﻙ ﺁﻳﺎﺕ ﺃﻭ ﺻﻠﻮﺍﺕ ﻣﺨﺼﻮﺻﺔ ﻟﺤﻔﻆ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻭﻳﺤﺮﺹ ﻋﻠﻰ ﺣﻔﻆ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ،
ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﺍﻵﻳﺔ 17
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﻠﺬِّﻛْﺮِ ﻓَﻬَﻞْ ﻣِﻦْ ﻣُﺪَّﻛِﺮٍ ﻓﻤﻦ ﺍﺟﺘﻬﺪ ﻓﻲ ﺣﻔﻆ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﻋﺎﻧﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻳﺴﺮﻩ ﻋﻠﻴﻪ ، ﻭﺃﻣﺎ ﺗﺨﺼﻴﺺ ﺁﻳﺎﺕ ﺃﻭ ﺻﻠﻮﺍﺕ
ﻣﻦ ﺃﺟﻞ ﺫﻟﻚ ﻓﻼ ﺩﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ، ﻭﻟﻜﻦ ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﺃﻥ ﻳﻌﻴﻨﻪ ﻋﻠﻰ ﺣﻔﻆ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻗﺮﻳﺐ ﻣﺠﻴﺐ

৩-
ﻓﻲ ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﻠﺬِّﻛْﺮِ ( ﺃﻱ: ﺳﻬﻠﻨﺎ ﻟﻔﻈﻪ، ﻭﻳﺴﺮﻧﺎ ﻣﻌﻨﺎﻩ ﻟﻤﻦ ﺃﺭﺍﺩﻩ، ﻟﻴﺘﺬﻛﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ.
ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ : [ ﻛِﺘَﺎﺏٌ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻣُﺒَﺎﺭَﻙٌ ﻟِﻴَﺪَّﺑَّﺮُﻭﺍ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﻭَﻟِﻴَﺘَﺬَﻛَّﺮَ ﺃُﻭﻟُﻮ ﺍﻷَﻟْﺒَﺎﺏِ [ ﺹ : 29 ،

ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : [ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎﻩُ ﺑِﻠِﺴَﺎﻧِﻚَ ﻟِﺘُﺒَﺸِّﺮَ ﺑِﻪِ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ
ﻭَﺗُﻨْﺬِﺭَ ﺑِﻪِ ﻗَﻮْﻣًﺎ ﻟُﺪًّﺍ [ ﻣﺮﻳﻢ : 97.
ﻗﺎﻝ ﻣﺠﺎﻫﺪ: ( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﻠﺬِّﻛْﺮِ ) ﻳﻌﻨﻲ: ﻫَﻮّﻧّﺎ ﻗﺮﺍﺀﺗﻪ.

ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺴﺪﻱ: ﻳﺴﺮﻧﺎ ﺗﻼﻭﺗﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻟﺴﻦ.
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻀﺤﺎﻙ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ: ﻟﻮﻻ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺴﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﻟﺴﺎﻥ ﺍﻵﺩﻣﻴﻴﻦ، ﻣﺎ ﺍﺳﺘﻄﺎﻉ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺃﻥ ﻳﺘﻜﻠﻢ
ﺑﻜﻼﻡ ﺍﻟﻠﻪ، ﻋﺰ ﻭﺟﻞ.
ﻭﻗﻮﻟﻪ: ( ﻓَﻬَﻞْ ﻣِﻦْ ﻣُﺪَّﻛِﺮٍ ) ﺃﻱ : ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺘﺬﻛﺮ ﺑﻬﺬﺍ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻗﺪ ﻳَﺴَّﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﻔﻈﻪ ﻭﻣﻌﻨﺎﻩ؟

ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺣﺎﺗﻢ: ﻓﻲ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ( ﻓَﻬَﻞْ ﻣِﻦْ ﻣُﺪَّﻛِﺮٍ) ﻫﻞ ﻣﻦ ﻃﺎﻟﺐ ﻋﻠﻢ ﻓَﻴُﻌَﺎﻥ ﻋﻠﻴﻪ؟ ﺍﻫـ
৪-
ﻓﻰ ﺃﻳﺴﺮ ﺍﻟﺘﻔﺎﺳﻴﺮ ﻟﻜﻼﻡ ﺍﻟﻌﻠﻲ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ=
ﻭﻟﻘﺪ ﻳﺴﺮﻧﺎ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻠﺬﻛﺮ : ﺃﻱ ﺳﻬﻠﻨﺎﻩ ﻟﻠﺤﻔﻆ ، ﻭﻫﻴﺄﻧﺎﻩ ﻟﻠﺘﺬﻛﻴﺮ.
ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺪﻛﺮ : ﺃﻱ ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺘﻌﻆ ﺑﻪ ﺣﺎﻓﻆ ﻟﻪ ﻧﺘﺬﻛﺮ.

৫-
ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﺴﻌﺪﻱ=
) ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﻠﺬِّﻛْﺮِ ﻓَﻬَﻞْ ﻣِﻦْ ﻣُﺪَّﻛِﺮٍ ( ﺃﻱ: ﻭﻟﻘﺪ ﻳﺴﺮﻧﺎ ﻭﺳﻬﻠﻨﺎ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ، ﺃﻟﻔﺎﻇﻪ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻭﺍﻷﺩﺍﺀ، ﻭﻣﻌﺎﻧﻴﻪ ﻟﻠﻔﻬﻢ ﻭﺍﻟﻌﻠﻢ، ﻷﻧﻪ ﺃﺣﺴﻦ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻟﻔﻈﺎ، ﻭﺃﺻﺪﻗﻪ ﻣﻌﻨﻰ ، ﻭﺃﺑﻴﻨﻪ ﺗﻔﺴﻴﺮﺍ ، ﻓﻜﻞ ﻣﻦ ﺃﻗﺒﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﻳﺴﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻄﻠﻮﺑﻪ ﻏﺎﻳﺔ ﺍﻟﺘﻴﺴﻴﺮ، ﻭﺳﻬﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ، ﻭﺍﻟﺬﻛﺮ ﺷﺎﻣﻞ ﻟﻜﻞ ﻣﺎ ﻳﺘﺬﻛﺮ ﺑﻪ ﺍﻟﻌﺎﻣﻠﻮﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﺤﻼﻝ ﻭﺍﻟﺤﺮﺍﻡ، ﻭﺃﺣﻜﺎﻡ ﺍﻷﻣﺮ ﻭﺍﻟﻨﻬﻲ ، ﻭﺃﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﺠﺰﺍﺀ ﻭﺍﻟﻤﻮﺍﻋﻆ ﻭﺍﻟﻌﺒﺮ، ﻭﺍﻟﻌﻘﺎﺋﺪ ﺍﻟﻨﺎﻓﻌﺔ ﻭﺍﻷﺧﺒﺎﺭ ﻟﺼﺎﺩﻗﺔ، ﻭﻟﻬﺬﺍ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺣﻔﻈﺎ ﻭﺗﻔﺴﻴﺮﺍ، ﺃﺳﻬﻞ ﺍﻟﻌﻠﻮﻡ، ﻭﺃﺟﻠﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻹﻃﻼﻕ ،

ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺍﻟﻨﺎﻓﻊ ﺍﻟﺬﻱ ﺇﺫﺍ ﻃﻠﺒﻪ ﺍﻟﻌﺒﺪ ﺃﻋﻴﻦ ﻋﻠﻴﻪ، ﻗﺎﻝ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﻋﻨﺪ ﻫﺬﻩ ﺍﻵﻳﺔ: ﻫﻞ ﻣﻦ ﻃﺎﻟﺐ ﻋﻠﻢ ﻓﻴﻌﺎﻥ [ ﻋﻠﻴﻪ] ؟ ﻭﻟﻬﺬﺍ ﻳﺪﻋﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺒﺎﺩﻩ ﺇﻟﻰ ﺍﻹﻗﺒﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻟﺘﺬﻛﺮ ﺑﻘﻮﻟﻪ: ( ﻓَﻬَﻞْ ﻣِﻦْ ﻣُﺪَّﻛِﺮٍ)
.

৬-
ﻓﻰ ﺍﻟﺒﺤﺮ ﺍﻟﻤﺪﻳﺪ ﻓﻲ ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻤﺠﻴﺪ= ﺍﺑﻦ ﻋﺠﻴﺒﺔ ﻭﻗﻴﻞ : ﻭﻟﻘﺪ ﺳﻬّﻠﻨﺎﻩ ﻟﻠﺤﻔﻆ، ﻭﺃﻋﻨّﺎ ﻣَﻦ ﺃﺭﺍﺩ ﺣﻔﻈﻪ ، ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻃﺎﻟﺐ ﻟﺤﻔﻈﻪ ﻟﻴُﻌﺎﻥ ﻋﻠﻴﻪ؟ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻘﺸﻴﺮﻱ: { ﻭﻟﻘﺪ ﻳَﺴَّﺮﻧﺎ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥَ ﻟﻠﺬﻛﺮ } ﻳﺴَّﺮ ﻗﺮﺍﺀﺗﻪ ﻋﻠﻰ ﺃﻟﺴﻨﺔ ﻗﻮﻡ، ﻭﻋِﻠْﻤَﻪ ﻋﻠﻰ ﻗﻮﻡ، ﻭﻓﻬﻤﻪ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﻮﺏ ﻗﻮﻡ ، ﻭﺣِﻔْﻈﻪ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﻮﺏ ﻗﻮﻡ،

৭-তাফসিরে মুয়াসসার
ﻓﻰ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﻤﻴﺴﺮ=
ﻭﻟﻘﺪ ﺳَﻬَّﻠْﻨﺎ ﻟﻔﻆ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻠﺘﻼﻭﺓ ﻭﺍﻟﺤﻔﻆ ، ﻭﻣﻌﺎﻧﻴﻪ ﻟﻠﻔﻬﻢ ﻭﺍﻟﺘﺪﺑﺮ، ﻟﻤﻦ ﺃﺭﺍﺩ ﺃﻥ ﻳﺘﺬﻛﺮ ﻭﻳﻌﺘﺒﺮ ، ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺘﻌﻆ ﺑﻪ؟

৮-
ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ : ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﻷﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ=
ﺍﻟﻤﺆﻟﻒ : ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺑﻦ ﻓﺮﺡ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﺍﻟﺨﺰﺭﺟﻲ ﺷﻤﺲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻲ (ﺍﻟﻤﺘﻮﻓﻰ : 671 ﻫـ) { ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﻠﺬِّﻛْﺮِ } ﺃﻱ ﺳﻬﻠﻨﺎﻩ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻭﺃﻋﻨﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺃﺭﺍﺩ ﺣﻔﻈﻪ ؛ ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻃﺎﻟﺐ ﻟﺤﻔﻈﻪ ﻓﻴﻌﺎﻥ ﻋﻠﻴﻪ ؟

৯-
ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ : ﺍﻟﻜﺸﻒ ﻭﺍﻟﺒﻴﺎﻥ=
ﻭﻟﻘﺪ ﻳﺴّﺮﻧﺎ ( ﺳﻬّﻠﻨﺎ ﻭﻫﻮﻧّﺎ ) ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻠﺬﻛﺮ ( ﺍﻱ ﻟﻴﺘﺬﻛﺮ ﻭﻳُﻌﺘﺒﺮ ﺑﻪ ﻭﻳﺘﻔﻜﺮ ﻓﻴﻪ ، ﻭﻗﺎﻝ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ : ﻳﺴّﺮﻧﺎ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻇﺎﻫﺮﺍً ،

১০-
ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﺴﻤﺮﻗﻨﺪﻱ ( ﺑﺤﺮ ﺍﻟﻌﻠﻮﻡ ﺍﻟﻤﺆﻟﻒ : ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻠﻴﺚ ﻧﺼﺮ ﺑﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻟﺴﻤﺮﻗﻨﺪﻱ ﺍﻟﻔﻘﻴﻪ ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ
ﻭﻟﻘﺪ ﻳﺴﺮﻧﺎ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻠﺬﻛﺮ ” ﻳﻌﻨﻲ ﺳﻬﻠﻨﺎﻩ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻷﻥ ﻛﺘﺐ ﺍﻷﻭﻟﻴﻦ ﻳﻘﺮﺅﻫﺎ ﺃﻫﻠﻬﺎ ﻧﻈﺮﺍ ﻭﻻ ﻳﻜﺎﺩﻭﻥ ﻳﺤﻔﻈﻮﻥ ﻣﻦ ﺃﻭﻟﻬﺎ ﺇﻟﻰ ﺁﺧﺮﻫﺎ ﻛﻤﺎ ﻳﺤﻔﻆ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ” ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺪﻛﺮ ” ﻳﻌﻨﻲ ﻣﺘﻌﻆ ﺑﻪ
‘ আমি কোরআনকে সহজ করেছি হেফজ করার জন্য ।‘ কেননা পূর্ববর্তী কিতাবসমুহ লোকেরা দেখে দেখে পড়ত ।কোরআনের মত তারা তা মুখস্ত করতে পারতনা ।
১১-
ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﺒﻐﻮﻯ=
{ ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻳَﺴَّﺮْﻧَﺎ } ﺳﻬﻠﻨﺎ { ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﻠﺬِّﻛْﺮِ } ﻟﻴﺘﺬﻛﺮ ﻭﻳﻌﺘﺒﺮ ﺑﻪ، ﻭﻗﺎﻝ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ : ﻳﺴﺮﻧﺎﻩ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀﺓ، ﻭﻟﻴﺲ ﺷﻲﺀ ﻣﻦ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﺮﺃ ﻛﻠﻪ ﻇﺎﻫﺮًﺍ ﺇﻻ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ “ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺪﻛﺮ ” ، ﻣﺘﻌﻆ ﺑﻤﻮﺍﻋﻈﻪ.

১২-তাফসিরে জালালাইন
ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻟﺠﻼﻟﻴﻦ ﺍﻟﻤﺤﻠﻲ، ﺍﻟﺴﻴﻮﻃﻲ= 17 – { ﻭﻟﻘﺪ ﻳﺴﺮﻧﺎ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻠﺬﻛﺮ } ﺳﻬﻠﻨﺎﻩ ﻟﻠﺤﻔﻆ ﻭﻫﻴﺄﻧﺎﻩ ﻟﻠﺘﺬﻛﺮ { ﻓﻬﻞ ﻣﻦ ﻣﺪﻛﺮ } ﻣﺘﻌﻆ ﺑﻪ ﻭﺣﺎﻓﻆ ﻟﻪ ﻭﺍﻹﺳﺘﻔﻬﺎﻡ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﺍﻷﻣﺮ ﺃﻱ ﺍﺣﻔﻈﻮﻩ ﻭﺍﺗﻌﻈﻮﺍ ﺑﻪ ﻭﻟﻴﺲ ﻳﺤﻔﻆ ﻣﻦ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻦ ﻇﻬﺮ ﺍﻟﻘﻠﺐ ﻏﻴﺮﻩ
আমি কুরাআনকে হেফজ করার জন্য সহজ করেদিয়েছি ।এবং উপদেশ গ্রহন করার জন্য ও আরও অনেক কিতাবের হাওয়ালা আনাসম্ভব , কিন্তুসময়ের অভাবে এখানে থামলাম । আয়াতনং -১৭, খণ্ড ১ পঃ৭০৬
প্রশ্ন: ১৩ ফাযায়েলে আমালে দুর্বল হাদীস আছে, তাই এ কিতাবটি কেন পরিত্যাজ্য নয় …

উত্তর: মুহাদ্দিসীনে কেরামের মূলনীতি হল দুর্বল হাদীস ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। যেমন-
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববীরহঃ বলেন –
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ ﻭﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻳﺠﻮﺯ ﻭﻳﺴﺘﺤﺐ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻔﻀﺎﺋﻞ ﻭﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ﻭﺍﻟﺘﺮﻫﻴﺐ ﺑﺎﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻀﻌﻴﻒ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻮﺿﻮﻋﺎ ( ﺍﻷﺫﻛﺎﺭ– ৭-৮
মুহাদ্দিসীন ও ফুক্বাহায়ে কেরাম এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম বলেন-দুর্বল হাদীসের উপর ফাযায়েল ও তারগীব তথা উৎসাহ প্রদান ও তারহীব তথা ভীতি প্রদর্শন এর ক্ষেত্রে আমল করা জায়েজ ওমুস্তাহাব। যখন উক্ত হাদীসটি জাল না হয়। {আল আজকার-৭-৮}

এ মূলনীতিটি নিম্ন বর্ণিত বিজ্ঞব্যক্তিগণও বলেছেন-
১- মোল্লা আলী কারী রহঃ-মওজুয়াতে কাবীর-৫, শরহুন নুকায়া-১/৯

২- ইমাম হাকেম আবু আব্দুল্লাহ নিশাপুরীরহঃ-মুস্তাদরাকে হাকেম-১/৪৯০

৩- আল্লামা সাখাবী রহঃ- আল কাওলুলবাদী’-১৯৬

৪- হাফেজ ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রহঃ- মাজমুআ ফাতওয়া ইবনেতাইমিয়া-১/৩৯ আহলে হাদীস নামধারী
গায়রে মুকাল্লিদগণও এ মূলনীতিতে একমত।

১- শায়খুল কুল মিয়া নজীর হুসাইন সাহেবদেহলবী রহঃ- ফাতওয়া নজীরিয়া-১/২৬৫

২- নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান – দলীলুততালেব আলাল মাতালিব-৮৮৯ {নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান সাহেবকে গায়রে মুকাল্লিদদের আকাবীরদের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে ধর্তব্য করা হয়। {আপকিমাসায়েল আওর উনকা হল কুরআন ওয়া সুন্নাত কি রওশনী মে, লেখক-মুবাশশিরআহমাদ রাব্বানী-২/১৮১}

৩- মাওলানা সানাউল্লাহ ওমরতাসরী রহঃ- আখবারুল হাদীস-১৫ শাওয়াল ১৩৪৬ হিজরী।

৪- হাফেজ মুহাম্মদ লাখওয়ী রহঃ- আহওয়ালুল আখরাস -৬

৫- মাওলানা আব্দুল্লাহ রূপরী সাহেবরহঃ- ফাতওয়া আহলে হাদীস-২/৪৭৩ বিখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবন হুমাম (র) লিখেছেন
”জইফ হাদীস যা মউজু নয়, তা ফজিলত অর্জনের জন্য আমল করা যায়।(ফাতহুল কাদীর)মোল্লা আলী কারী বলেন, “সকলেই একমতযে, জইফ হাদীস ফজীলত হাসিল করের জন্য আমল করা জায়ীজ আছে।”
যে ক্ষেত্রে জইফ হাদীস পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই কিয়াস হালাল নয়। তাই ইমামগণ প্রত্যেকে বাক্তিগত রায়-এর উপর জইফ হাদীসকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা’র বাণী

“হুজুরে পাক (সা হতেবর্ণিত হাদীস যদিও তা রাবীদের কারণে জইফ হয়, ওটা কিয়াস হতে উত্তম।যে ক্ষেত্রে জইফ হাদীস পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই কিয়াসহালাল নয়” ( মুকাদদিমা এলাউস সুনান)
যয়ীফ সনদে বর্ণিত রেওয়ায়াত আমলযোগ্যহওয়ার মানদন্ড)

১। ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী রহঃ তাঁর উসূলেহাদীসের কিতাব ‘আননুকাত’ এ লেখেন-“যয়ীফ হাদীস যখন ব্যাপকভাবে উম্মাহর (মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের) কাছে সমাদৃত হয় তখন তার উপর আমল করা হবে-এটাই বিশুদ্ধকথা। এমনকি তখন তা হাদীসে মুতাওয়াতির(বিপুলসংখ্যক সূত্রে বর্ণিত)হাদীসের পর্যাযে পৌঁছে যায়।”- আননুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিসসালাহ ১/৩৯০

২। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ লেখেন-“হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হল,ইমামগণ তার বক্তব্যের উপরআমল করতে একমত হওয়া।এক্ষেত্রে হাদীসটি গ্রহণ করা হবে এবং এর উপরআমল অপরিহার্য হবে।উসূলের অনেক ইমাম এ বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন।”- আননুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ ১/৪৯৪

৩। মুরসাল বর্ণনার সমর্থনে উম্মাহর অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা বিদ্যমান থাকলে তা গ্রহনযোগ্য হওয়ার ব্যপারে ইমামগনএকমত। এখানে শুধু শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর বক্তব্যটিই উদ্ধৃতি করছিযাকে গায়েরে মুকাল্লিদরা ‘আপন মানুষ’ মনে করেন- “যে মুরসালের অনুকূলে অন্য কিছু পাওয়াযায় কিংবা পূর্বসূরিগণ যার অনুসরণ করেছেন তা ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমেদলীল হিসেবে গ্রহণীয়।” –ইকামাতুদ দলীল আলা বুতলানিত তাহলীল,আলফাতাওয়াল কুবরা ৪/১৭৯।

আরো দেখুন তাঁরই কিতাব মাজমূউল ফাতাওয়া ২৩/২৭১;মিনহাজুস সুন্নাতিননাবাবিয়্যা ৪/১১৭
সুতরাং গায়েরে মুকাল্লিদরা যদি হাদীসের ইমামগণের অনুসরণ করে ‘যয়ীফবা মুরসাল’ বলে থাকেন তাহলে সেই ইমামদের নীতি অনুসারেই যয়ীফ রেওয়ায়াতকে(যা শুধু সনদের বিবেচনায় যয়ীফ) অবশ্যই আমলযোগ্য স্বীকার করে নিতে হবে ;যদি তারা তা স্বীকার নাকরে তবে রেওয়ায়াতটিকে যয়ীফ বলার কোনো অধিকারই তাদের নাই।

অতএব এমন রেওয়াত যার সনদটা শুধুমাত্রযয়ীফ/মুরসাল,কিন্তু মান ও এর বক্তব্যসাহাবা যুগ থেকে নিয়ে গোটা উম্মাতের আমলের মাধ্যমে অনুসৃত;তারবিপরীতে কেবল যারা মারফু মারফু বলে চিল্লায় তারা মূলত হাদীস অস্বীকারকরার মতলববাজি করা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্যই নাই।

শায়েখ জাকারিয়া রহঃ ও এ মূলনীতিরকথা বলেছেন-“এ বিষয়ে সতর্ক করাও জরুরী যে, হযরত
মুহাদ্দিসীন রাঃ গণের নিকট ফাযায়েলের বর্ণনায় অনেক সুযোগআছে। আর মামুলী দুর্বলতা গ্রহণযোগ্য। তবে সুফীয়ায়ে কেরামের ঘটনাতোঐতিহাসিক বিষয়। আর এটা জানা কথা যে, ঐতিহাসিক বিষয় হাদীসেরমর্যাদার তুলনায় খুবই কম। {ফাযায়েলে আমাল, উর্দু এডিশন-৩৮৪, রেসালায়ে ফাযায়েলে নামায , তৃতীয় অধ্যায়, ফাযায়েলে আমাল পর ইশকালাতআওর উনকা জাওয়াব নম্বর-৬৫, ফাযায়েলে দরূদ-৫৬}

যে প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসীনরা স্বীয়কিতাবে ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস এনেছেন
১- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ স্বীয়কিতাব “আস সুন্নাহ” এর মাঝে ৩০৩টি।

২- ইমাম বায়হাকী রহঃ “কিতাবুল আসমাইওয়াস সিফাত” গ্রন্থে ৩২৯টি।

৩- ইবনে তাইমিয়া রহঃ তার “আলমুনতাকা” গ্রন্থে ২৬২টি।

৪- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ তার “বুলুগুল মারাম মিনআদিল্লাতিল আহকাম” গ্রন্থে ১১৭টি।

৫- ইমাম নববী রহঃ তার খুলাসাতুল আহকাম মিন মুহিম্মাতিস সুনান ওয়া কাওয়ায়িদিল ইসলাম” গ্রন্থে ৬৫৪টি।

৬- মুহাম্মদ ইবনে খুজাইমা রহঃ তার“কিতাবুস সিহাহ” গ্রন্থে যা সহীহ ইবনে খুজাইমা নামে প্রসিদ্ধ এনেছেন-৩৫২টি।

৭- মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান রহঃ তার“কিতাবুস সিহাহ” যা সহীহ ইবনেহিব্বান নামে প্রসিদ্ধ, তাতে এনেছেন-২৯৪টি।

৮- ইমাম দারা কুতনী রহঃ তার “সুনানেদারা কুতনী” তে অনেক দুর্বল হাদীস এনেছেন বলে মুহাদ্দিসীনে কেরামবলেন।

৯- গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম নওয়াবসিদ্দীক হাসান খানও তার “কিতাবু নুজুলিল আবরার” নামক গ্রন্থে ১৩৩টি দুর্বল হাদীস এনেছেন।
প্রশ্ন: ১৪ আপনারা বলেন নবীগণ কবরে জীবিত। এর কোন দলীল কি আপনাদের কাছে
আছে?
উত্তর: নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার দলীল …

১-
ﻭَﻻَ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻟِﻤَﻦْ ﻳُﻘْﺘَﻞُ ﻓِﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻣْﻮَﺍﺕٌ ﺑَﻞْ ﺃَﺣْﻴَﺎﺀ ﻭَﻟَﻜِﻦ ﻻَّ ﺗَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ -154)
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদেরতোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত।
তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪}

উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত।
আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা– নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরেজীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।

২-
ﻋَﻦ ﺃَﻧَﺲ ؛ ﺃَﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻓﻲ ﻗﺒﻮﺭﻫﻢ ﻳﺼﻠﻮﻥ (ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ – ﻣﺴﻨﺪ ﺃﺑﻲ ﺣﻤﺰﺓ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -6888 )
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূলসাঃ ইরশাদ করেছেন -নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামাযপড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীসনং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীসনং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}

তবে সেটা বারযাখী জীবন, যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। ঐ ছালাতদুনিয়াবী ছালাতের সাথে তুলনীয় নয়।

৩-
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ( ﺃﻛﺜﺮﻭﺍ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ . ﻓﺈﻧﻪ ﻣﺸﻬﻮﺩ ﺗﺸﻬﺪﻩ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ . ﻭﺇﻥ ﺃﺣﺪﺍ ﻟﻦ ﻳﺼﻠﻲ ﻋﻠﻲ ﺇﻻ ﻋﺮﺿﺖ ﻋﻠﻲ ﺻﻼﺗﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻔﺮﻍ ﻣﻨﻬﺎ ) ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻟﻤﻮﺕ ؟ ﻗﺎﻝ ( ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻟﻤﻮﺕ . ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﺮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﺭﺽ ﺃﻥ ﺗﺄﻛﻞ ﺃﺟﺴﺎﺩ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ( ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺠﻨﺎﺋﺰ ، ﺑﺎﺏ ﺫﻛﺮ ﻭﻓﺎﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -1637 )
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরাজুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যিথাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে
তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়।

আবুদারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করাহবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করেদিয়েছেন।{ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯ , আল মুজামুল আওসাত, হাদীসনং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীসনং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার , হাদীসনং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}

এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণকবরে জীবিত।হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীতথাকা সত্য ও হক্ব। ইমাম বাইহাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপরএকটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ ইবনে হাজার (রহ) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬ -এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট বলেছেন ।

এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রহ) লিখেন যে –আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জিবীত এবং তাঁকে রিযিক দেয়াহয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না। আর এর উপরউম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক। (আলকওলুল বদী’- ১২৫)

মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর কিতাব ﺍﻟﺪﺭﺓ ِﺍﻟﻤﻀٔﻴﺔ ﻓﻲ ِﺍﻟﺰﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻤﺼﻄﻔﻮﻳﺔ তে লিখেন-”
নবিজীর কবর জিয়ারাতের ফায়েদা সমূহের মাঝে সবচেয়ে বড় ফায়েদা এই যে, যখন যিয়ারাতকারী হুজুরের কবরেরনিকট দুরুদ ও সালাম পাঠ করে তখন তিনি তা যথাযথভাবে তা শুনেন ও তার জবাব
দেন কোন প্রকার মাধ্যম(ফেরতেশতা ) ছাড়া, তার বিপরীতে যখন কোনব্যাক্তি দূর হতে দুরূদ ও সালাম পাঁঠ করে ,তখন ফেরেশতার মাধ্যমে তা হুজুরেরনিকট পৌঁছানো হয়। ( এ আকিদার কারণ ) এজন্য যে , মজবুত সনদে এসেছে (হুজুরবলেন)যে আমার কবরের নিকট দুরূদ পড়ে আমি তা সরাসরি শুনি, আর যে দূর হতে দুরূদ পড়ে,তা আমার নিকট পৌঁছে দেয়া হয়।”

উপরের মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) যেহাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে ﻣﻦ ﺻﻠّﻲ ﻋﻨﺪ ﻗﺒﺮﺉ আছে তা আবুশ শায়খ –এর সনদে সহীহ। এই হাদিসে মুহাম্মাদ বিনমারওয়ান সুদ্দী নেই। এই প্রসঙ্গেই হাফেজ ইবনে হাজার আস্কালানী (রহ)বলেন যে , ﺑﺴﻨﺪ ﺟﻴِّﺪ পোক্তা সনদে বর্ণিত(ফতহুল বারী ৬: ৩৫২ ) এবং উক্ত সনদকে আল্লামা সাখাবী (রহ ) ﻭﺳﻨﺪﻩ ﺟﻴِّﺪ – এর সনদ মজবুত লিখেছেন। (আল কওলুল বদী-১১৬)এবং আহলে হাদিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক খান লিখেন ﺍﺳﻨﺎﺩ ﺟﻴِّﺪ বর্ণনা- সূত্র উত্তম (আদদলীলুত ত্বালেব-৮৪৪)এবং অধিক সম্ভাব্য যে , এর উপরই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) এইমাসয়ালার বুনিয়াদ রেখে লিখেন যে ,

ﻓﺎﺧﺒﺮﺍﻧّﻪ ﻯﺴﻤﻊ ﺍﺻﻠﻮﺓ ﻭﺍﺳّﻼﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﻯﺐ ﻭﺍﻧّﻪ ﻯﺒﻠﻎ ﺫﺍﻟﻚ ﻣﻦ ﺑﻌﺪ ( ﻣﻨﺎ ﺳﻚ ﻟﺠﺠﻊ ﺹ ٨٤ (
অর্থাৎ,হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে ,
তিনি নিকটবর্তী থেকে নিজেই দুরূদ ওসালাম শুনতে পান। আর দূর থেকে হুজুরের নিকট দুরূদ ও সালাম পৌঁছানো হয়।

ইবনুল কায়্যিম(রহ) লিখেন যে –

“যদিও হুজুরসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরামআলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন, কিন্তুএতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যেকারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন( যাদুল মা’আদ খঃ ২, পৃঃ ৪৯)রুহুল আয়ানীর লেখক তার কিতাবের ২২ঃ৩৬ এবং আল্লামা সবকী (রহ)শিফাউস সিকাম-১৪৩ এ বর্ণনা করেন যে, এই কবরের জীবন সমস্ত আহকামেরক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত নয় এবং সব দুনায়াবী আহকাম তার উপর বিন্যস্ত হয়না যে, এরকম বলা – যেমন দুনায়াবী খাওয়া ও পান করার প্রয়োজনছিল, কবরেও এরকম হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

বরং তিনি বলেন যে, ঐ জীবন ইলম তথাজানা ও শ্রবন করা ইত্যাদি অর্জনের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত এবং এসম্পর্কেই আল্লাম সুবকী (রহ) ও অন্যান্যগণ
–বলেন
ﻓﻼ ﺷﻚّ ﺍﻥّ ﺫﻟﻚ ﺛﺎﺑﺖ (ﺷﻔﺎﺀ؟)
এসো আল্লাহ‘র হুকুম মানি, রাসুলুল্লাহ্ – সাঃ এর নির্দেশিত পথে চলি
(ফেসবুক প্রোফাইল থেকেসংগ্রহ)
(লিখেছেন আবদুস সবুর)

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Share This