buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

তার পবিত্র স্বভাব-চরিত্রের বিবরণ

আবদুল্লাহ্ ইবন আল হারিছ ইবন জায্ থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর চেয়ে অধিক মৃদু হাসতে আমি কাউকে দেখিনি ৷ তারপর তিনি লায়ছের হাদীস
স ৎগ্রহ থেকে আবদুল্লাহ হারিছ থেকে তা বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন রাসুলুল্লাহ্
(সা) কখনও মৃদু হাসি ব্যতীত হাসতেন না ৷ তারপর তিনি হাদীসখানিকে সহীহ্ বলেছেন ৷
মুসলিম, ইয়াহ্য়া ইবন ইয়াহ্য়া সিমাক ইবন হড়ারব সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন,
আমি (একবার) জাবির ইবন সামুরাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর
সাথে উঠাবসা করতেন? তিনি বললেন, হী ৷ প্রায়শই তিনি যে স্থানে ফজরের নামায পড়তেন
সুর্যোদয় পর্যন্ত যে স্থান থেকে উঠতেন না ৷ আর সাহাবাগণ আলাপ আলোচনা করতেন এবং
কখনও কখনও জাহিলিয়াতের কো ন বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করতে ন ৷ কিন্তু রাসুলুল্লাহ্ (না) শুধু
মৃদু হাসতেন ৷ আবু দাউদ ৩য়োলিসী শুরায়ক ও কায়স ইবন সা দ সুত্রে সিমাক হারব
থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি
নবী করীম (সা) এর সাথে উঠাবসা করতেন? তিনি বললেন, হা ৷ তিনি চুপ থাকতেন কম
এবং হাসতেন কম, কখনওব৷ তার সাহাবাগণ তার কাছে কবিতা আবৃত্তি করতেন, কখনওবা
তাদের কোন বিষয় নিয়ে হাসাহাসি কর৩ ত,ন তখন তিনি মাঝে মধ্যে মৃদু হাসতে ন ৷ হাফিয
বায়হাকী, আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয এবং আবু সাঈদ ইবন আবু আমর সুত্রে খারিজা
ইবন যায়দ (ইবন ছাবি৩ ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার কতিপয় ব্যক্তি তার পিতার
সাক্ষাতে প্রবেশ করে বললেন, আমাদের রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কিছু স্বভাব চরিত্রের কথা বলুন ৷
তখন তিনি বললেন, আমি তার প্রতিবেশী ছিলাম ৷ যখনই ওহী নাযিল হত, তখন তিনি
আমাকে ডেকে পাঠ্যতেন এবং আমি তার কাছে আসতাম এবং নাযিলকৃত ওহী লিখতাম ৷ আর
আমরা যখন নিজেদের মাঝে দুনিয়ার কথা উল্লেখ করতাম তখন আমাদের সাথে তিনিও তার
উল্লেখ করতেন, তদ্র্যপ আমরা যখন আখিরাঃ৩ তর কথা উল্লেখ করতাম তখন আমাদের সাথে
তিনিও তা উল্লেখ করতেন, এবং আমরা যখন খাবারের আলোচনা করতাম, তখন তিনিও
আমাদের সাথে তার আলোচনা করতেন এ সবই তার বরাতে আমরা তোমাদের সাথে
আলোচনা করি ৷ ইমাম তিরমিযী তার শামায়েলে’ আব্বাস আদ্দাওরীয় আবদুল্পাহ্ ইবন
ইয়াযীদ সুত্রে হাদীসখানি ঐ সনদে অনুরুপ করে রিওয়ায়৷ ত করেছেন ৷

নবীজীর বদান্যতা ও মহানুভবতা

যুহরী ইবন আব্বাস সুত্রে বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত যে হাদীস বিগত হয়েছে, তা হল,
তিনি (ইবন আব্বাস) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (মা) ছিলেন শ্রেষ্ঠতম বদান্য ব্যক্তি ৷ আর তিনি
সবচেয়ে অধিক বদন্য হতেন রমযান মাসে, যখন ওহী নিয়ে জিবরীল (আ) তার সাক্ষাতে
আসতেন এবং তাকে কুরআন শোনাতেন এবং তার থেকে কুরআন শুনতেন ৷ আর আল্লাহর
রাসুল বদান্যতায় অবাধ বায়ুর চাইতে ও অগ্রগামী ছিলেন ৷ সন্দেহ নেই এই উপম৷ আরবী
ভাষার অলঙ্করণের অনুপম প্রকাশ ৷ এখানে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বদান্যতাকে তার ব্যাপকতা,
সার্বক্ষণিকতা ও নিরবচ্ছিন্নতায় অবাধ প্রবাহের মুক্ত বাতাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে ৷
সুফিয়ান ইবন সাঈদের হাদীস সংগ্রহ থেকে মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির জাবির ইবন
আবদুল্লাহ্ সুত্রে বুখারী ও মুসলিম শরীফে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা হল, রাসুলুল্লাহ্

(সা)-এর কাছে কোন কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো না’ বলেননি ৷ ইমাম আহমদ, ইবন আবু
আদী আনাস (রা) সুত্রে বংনাি করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে মুসলমান অবস্থায়
কিছু চাওয়া হলেই তিনি তা দান করতেন ৷ তিনি বলেন, (একবার) তার কাছে এক ব্যক্তি
আসল তখন তিনি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানরত সদকার যেষপাল থেকে তাকে বহু
থােক ছাগল দান করলেন ৷ তিনি বলেন, এরপর সে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে বলল, হে
আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে নাও, কেননা, মুহাম্মদ কােনরুপ দারািদ্র্যর
আশংকা না করে উদার হস্তে দান করেন ৷ ণ্ আসিম ইবন নসর হুমায়দ সুত্রে ইমাম মুসলিম
তা ৰিওয়ায়াত করেছেন ৷ আহমদ আফ্ফান আনাস (রা) সুত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা
করেন ৷ তাতে অতিরিক্ত আছে, শুধুমাত্র এ দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যেই যদি কেউ রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর কাছে আসত, সন্ধ্য৷ হতে না হতেই তার দীন ঐ ব্যক্তির কাছে গোটা দুনিয়া ও তার
সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় ও মর্যাদাপুর্ণ হয়ে যেত ৷ হ ৷ম্মাদ ইবন সালামার হাদীস সংগ্রহ থেকে
ঐ সনদে ইমাম মুসলিম এই হাদীসখঃানি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আর এই দান ছিল দুর্বল চিত্ত
(ঈমান) মুসলমানদের চিত্ত জয়ের উদ্দেশ্যে ৷ এ ছাড়া এ দ্বারা তিনি অন্যদেরকে ইসলামের
দিকে আকৃষ্ট করেছেন যেমন হুনায়নের দিন করেছেন ৷ সেদিন এই শ্রেণীর লোকদের মাঝে
বিশাল ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রৌপ্য ও উটযেষ প্রভৃতি বন্টন করেছেন ৷ অথচ আনসারদের
কাউকে এবং মুজাহিদদের অধিকাংশকে কিছুই দেননি ৷ বরং তা ব্যয় করেছেন তাদের মাঝে,
যাদেরকে তিনি ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছেন ৷ আর ওদেরকে দেননি যেহেতু
আল্লাহ্ তাদের হৃদয়কে অভাবমুক্ত ও কল্যাণময় করেছিলেন ৷
এই বণ্টনের রহস্য সম্পর্কে আনসারদের যারা সমালোচনা করেছিলেন, তাদেরকে সান্তুনা
দিয়ে তিনি বলেছিলেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা উট ও যেষ নিয়ে যাবে আর
তোমরা আল্পাহ্র রাসুলকে নিয়ে তোমাদের গৃহে ফিরবে? তখন তারা বললেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্
আমরা সভুষ্ট আছি ৷ একইভাবে তিনি তার পিতৃব্য আব্বাস (রা) কে ইসলাম গ্রহণের পর দান
করেছিলেন ৷ যখন বাহরায়ন থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাল এসে তার সামনে রাখা হল ৷ এ
সময় আব্বাস এসে বললেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্৷ আমাকে দান করুন, বদরের দিন আমি নিজের
মুক্তিপণ দিয়েছি এবং আর্কীলের মুক্তিপণ দিয়েছি ৷ তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে, আপনি
নিন ৷ তখন তিনিত তার পরনের জামা খুলে সে সাল থেকে নিয়ে তা ভরে ফেললেন এরপর তা
উঠাতে গেলেন; কিন্তু পারলেন না ৷ তখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে বললেন, তা আমার উপর
উঠিয়ে দিন ৷ তিনি বললেন আমি তা করব না ৷ তখন আব্বাস বললেন, আপনি কাউকেত
উঠিয়ে দিতে বলুন! তখনও তিনি বললেন না, তাও পারব না ৷ তখন তিনি (আব্বাস)ত
থেকে কিছু মাল নামিয়ে তা উঠাতে গেলেন কিন্তু সক্ষম হলেন না ৷ এরপর পুনরায় তিনি
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে তা উঠিয়ে দিতে কিত্বা দেয়ার জন্য কাউকে নির্দেশ দিতে বললেন ৷ কিন্তু
তিনি তা করলেন না ৷ তখন আব্বাস তার উঠানাে মাল আরো কমালেন এরপর অবগ্রিষ্টি মাল
বহন করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার এই সম্পদাসক্তি দেখে
অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তা ৷কিয়ে থাকলেন ৷
আমি বলি, হযরত আব্বাস বেশ দীর্ঘকায় ও শক্ত সমর্থ ব্যক্তি ছিলেন ৷ তিনি যা বহন
করেছেন তা কম করে হলেও প্রায় চল্লিশ হাজার দিরহাম হবে ৷ আল্লাহ্ই সর্বাধিক জানেন ৷

ইমাম বৃখারী তার সহীহ্ গ্রন্থে একাধিক স্থানে তালীক রুপে হাদীসখানি দ্ব্যর্থহীনভা ৷বে উল্লেখ
করেছেন ৷ এ হাদীসখানি হযরত আব্বাসের মানবিক বা প্রশংসনীয় বৈশ্যিষ্ট্যর ক্ষেত্রে আলোচিত
হতে পারে এই আঘাতের কারণে ং

“হে নবী ! তোমাদের করায়ত্ত্ব যুদ্ধ বন্দীদিগকে বল আল্লাহ যদি ণ্তা মাদের হৃদয়ে ভাল কিছু
দেখেন তাহলে তোমাদের নিকট থেকে যা নেওয়া হয়েছে তা অপেক্ষা উত্তম কিছু তিনি
তােমাদেরকে দান করবেন এবং তােমাদেরকে ক্ষমা করবেন ৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু!
(৮ : ৭০)

ইতিপুর্বে তার খাদিম আনাস ইবন মালিকের উদ্ধৃতিতে বিগত হয়েছে যে, তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ছিলেন গ্রেষ্ঠতম দানশীল ও সাহসী ব্যক্তি ৷ আর ণ্কনইবা তা হবেনা, অথচ
তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ গুণে গুণাযি৩ রুপে সৃষ্ট আল্লাহর রাসুল যিনি আল্লাহর হাতে যা আছে সে
ব্যাপারে পুর্ণ আন্থাবান, যিনি তার সুদৃঢ় গ্রন্থে৩ তার প্রতি নাযিল করেছেন :

“তোমরা আল্লাহর পথে কেন ব্যয় করবে না? আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিকানাভাে

আল্লাহ্রই (৫৭ : ১০) ৷
তিনি আরো বলেছেন :

আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার প্রতিদান দেবেন ৷ তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা
(৩৪ং : ৩৯) ৷

আর তিনিই তার মুয়ায্যিন বিলাল (রা)-কে বলেছিলেন ৷ আর তিনি কথায় ও
প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী ও সত ত্যায়িত-

“হে বেলাল ৷ তুমি মুক্ত হতে ব্যয় কর, আরশাধিপতি থেকেহ্রাসের আশংকা করো না” ৷

তিনিই বলেছেন,

“প্রতিদিন যখন বান্দারা সকাল যাপন করে তখন দুইজন ফেরেশতার আবির্ভাব হয়, তাদের
একজন বলে, হে আল্লাহদ্বু তুমি ব্যয়কারীকে উত্তম বিনিময় দান কর ৷ আর অন্যজন বলে, হে
আল্লাহ! তুমি কৃপণকে ধ্বংস কর” ৷

অন্য হাদীসে রয়েছে যে, তিনি আইশা (রা)-কে বলেন, ধ্নসষ্পদ সংরক্ষণ করে রেখোনা
তাহলে আল্লাহ্ও তােমা থেকে তা সংরক্ষণ করে রাখবেন, আর কৃপণতাবশত মশকের মুখের

ন্যায় তা বেধে ব্লেখোনা, তাহলে তোমাকে দেয়৷ থেকে আল্লাহ্ও তা বেধে রাখবেন ৷ সহীহ্
বুখারীতে রয়েছে যে, নবী করীম (সা) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, (হড়াদীসে কুদসী) :

“হে আদমসম্ভান ! তুমি (অন্যের জন্য) ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব” ৷

সুতরাং কেন তিনি শ্রেষ্ঠতম দানশীল ও সাহসী ব্যক্তি হবেন না, অথচ আল্লাহর ভরসায়
ও>ার চেয়ে বড় কেউ নেই, তিনি আল্লাহর দান ও সাহায্যের ব্যাপারে পুর্ণ বিশ্বাসী, সকল বিষয়ে
নিজ প্রতিপালকের সাহায্যপ্রাথী ৷৩ তদুপরি তিনি তার নৃবুওয়াতের পুর্বে ও পরে এবং হিজরতের
পুর্বে দরিদ্র ও বিধবাদের এবং পিতৃহীন ও নিংস্বদের আশ্রয়স্থল ছিলেন ৷ যেমনটি তার পিতৃব্য
আবু তালিব এক প্রসিদ্ধ পংক্তি তবর্ণন৷ করেছেন, যা আমরা ইতিপুর্বে উল্লেখ করেছি৪

“তুমি পিতৃহীন হও! গোত্র কর্তক এমন নেতাকে বর্জন, তুমি কী মনে কর, যিনি

মড়ান-মর্যাদার রক্ষক যিনি অশ্লীল ও তীক্ষ্ণ-বাক্ নন ৷

যিনি গৌরবর্ণ, হার দোহাই দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়, পিতৃহীনদের আশ্রয় এবং

বিধবাদের রক্ষক ৷

হড়াশিম গোত্রের অসহায়রা তার আশ্রয় নেয়, তখন তার দান ও অনুগ্রহ লাভে ধন্য হয় ৷

আর তার বিনয়ের পরিচয় হল হাম্মাদ ইবন সালামাব হাদীস সংগ্রহ থেকে হযরত
আনাসের বরাতে ইমাম আহমদ যে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ্
(সা) কে সম্বোধন করে বলল, হে আমাদের নেতার পুত্র নেতা ! তখন তিনি বললেন, হে লোক
সকল! তোমরা তোমাদের স্বাভাবিক কথা বল, শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে,
আমি আবদৃল্লাহর পুত্র ও আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে মর্যাদার যে স্তরে
উন্নীত করেছেন, আমি এটা পছন্দ করি না যে, তোমরা আমাকে তারও উপরে উন্নীত করবে ৷
হযরত উমর ইবন খাত্তাব থেকে সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)
ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করে৷ না (আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি
করে৷ না) যেমন খ্রিষ্টানরা হযরত ঈসাকে নিয়ে করেছে ৷ আমি তো এক বান্দা ৷ সুতরাং
তোমরা বল, আল্লাহর বান্দ৷ ও তার রাসুল ৷ ইমাম আহমদ ইয়াহয়৷ আল-আসওয়াদ সুত্রে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি আইশা (রা) কে বললাম, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তীর
শ্রী পরিজনের মাঝে কিভাবে থাকতেন? তিনি বললেন, তিনি তীর পরিবার পরিজনের
গৃহান্থলীর কাজ করতেন, যখন নামাযের সময় হত, তখন তিনি নড়ামাযে বের হতেন ৷ আর
ওকী আসওয়াদ সুত্রে বর্ণিত হয়েছে ৷ তিনি (আসওয়াদ) বলেন, আমি আইশা (রা)-কে
জিজ্ঞেস করলাম, গৃহে অবস্থানকালে নবী করীম (সা) কী কী করতেন? তিনি বললেন, তিনি
র্তার পবিবার পরিজনের গৃহাস্থুলীর কাজ আঞ্জাম দিতেন, আর যখন নামাযের সময় হত তখন
বেবিয়েগ্ গিয়ে নামায পড়তে তন ৷ হাদীসখানি ইমাম বুখারী আদম ও ও বা সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম আহমদ আবদাহ সুত্রে অনিপতি এক ব্যক্তিকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
হযরত আইশা (রা)-কে প্রশ্ন করা হল, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার গৃহে কী করতেন? তিনি বললেন,
তিনি কখনও কাপড়ে তালি লাগাতেন, কখনও জুতা মেরামত করতেন এবং এ জাতীয় অন্যান্য
কাজ করতেন ৷ এই সুত্রে হাদীসটিমুনকাতি বা ছিন্নসুত্র ৷ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামার
উরওয়া সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, (একবার) এক ব্যক্তি অইিশা (রা)-কে প্রশ্ন
করল, রাসুলুল্লাহ্ (না) তার গৃহাভ্যতরে কােনৃ কাজ করতেন? তিনি বললেন, হা; তিনি তার
জুতা মেরামত করতেন, কাপড় সেলাই করতে ন, যেমনটি তোমাদের কেউ তার গৃহে কাজ
করে থাকে ৷ বায়হড়াকী হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তা মুত্তাসিল বা সং যুক্ত
সনদে বর্ণনা করেছেন৷ তিনি বলেন, উমরাহ সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, হযরত
আইশা (রা) কে আমি জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার গৃহে কী করতেন? জবাবে তিনি
বললেন তিনিও অন্যদের মতই একজন মানুষ ছিলেন, নিজ কাপড় উকুনমুক্ত করতে ন, নিজের
বকরী দােহন করতে ন, নিজের কাজকর্ম করতে তন ৷ তিরমিযী তার শামায়েলে মুহম্মদ ইবন
ইসমাঈল উমরা সুত্রে হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিনি (উমরা) বলেন, হযরত
আইশা (রা)-কে প্রশ্ন করা হল, রাসুলুল্পাহ্ (সা) তার পরিবারে কীভাবে চলতেন? এ ছাড়া
ইবন আসাকির আবু উসামা উমরা সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি হযরত আইশা
(বা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার শ্রী ও পরিজনদের সাথে কেমন ছিলেন?
জবাবে তিনি বললেন, তিনি ছিলেন কােমলতম ও উদারতম ব্যক্তি, সহাস্য প্ৰসন্ন মুখ ৷ আবু
দাউদ তায়ালিসী শু বা মুসলিম আবু আবদুল্লাহ আ ওর সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি হযরত
আনাসকে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বহুল পরিমাণে যিক্র করতেন এবং অনর্থক কথা
খুবই কম বলতেন, গাধায আরোহণ করতেন এবং সাধারণ পশমী জুব্বা পরিধান করতেন,
দাসের আহ্বানেও সাড়া দিতেন ৷ তুমি যদি তাকে খয়বার বিজয়ের দিন দেখতে তাহলে দেখতে
পেতে তিনি এমন এক গাধার আরােহী যার লাগাম কাি খেজুর গাছের আশের রশি ৷ তিরমিযী
ও ইবন মাজাতে মুসলিম ইবন কায়সানের হাদীস সংগ্রহ থেকে হযরত আনাসের বরাতে এর
অংশবিশেষ উল্লেখিত হয়েছে ৷ বায়হাকী হাফিয আবু আবদুল্লাহ হুসায়ন ইবন ওয়াকিদ
সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইয়াহ্ইয়া ইবন আকীলকে বলতে শুনেছি, তিনি
বলেন যে, আমি আবদুল্লাহ্ ইবন আবু আওফা (রা) কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বহুল
পরিমাণে যিক্র করতে ন, অনর্থক কথা কম বলতে ন, নামায দীর্ঘ করতেন, থুৎবা স ক্ষিপ্ত
করতেন, দাস কিৎবা বিধবার সাথে পথ চলতেও সংকোচবোধ করতেন না, যতক্ষণ না তাদের
প্রয়োজন পুরণ করে দিতেন ৷ নাসাঈ ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল আযীয সুত্রে ইবন আবু
আওফা থেকে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷

বায়হাকীর হাফিয আবু আবদৃল্লাহ্ হযরত আবু মুসা থেকে এ মর্মে বর্ণিত হাদীসে
অতিরিক্ত আছে তিনি বলেন, নিজ হাতে অতিথির সেবা করতেন, অবশ্য এই সুত্রে হাদীসটি,
গরীব’ শ্রেণীর ৷ আর সিহাসিত্তার সঙ্কলক এটি উল্লেখ করেননি, তবে এ সনদটি উত্তম ৷
মুহাম্মদ ইবন সা’দ ইসমাঈল ইবন আবু ফুদায়ক উতবার আযাদকৃত গোলাম সাহ্ল থেকে
বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মারীসবাসী খ্রিষ্টান ছিলেন ৷ তিনি তার চাচার তত্ত্বড়াবধানে লালিত
পালিত হতেন, তিনি বলেন, একদিন আমি আমার চাচার একটি ধমীয়গ্রন্থ পড়লাম, আর

সেখানে মুহাম্মাদ (না)-এর দেহাবয়বের বিবরণ : “তিনি বেটেও নন অতি দীর্ঘকায়ও নন, চুলে
দুটি গুচ্ছ বা বেণীসদৃশ গুচ্ছের অধিকারী, তার দুই র্কাধের মধ্যবর্তী স্থানে নবুওয়াতের মােহর
চিহ্ন, ইহ্তিব১ আসনে অধিক বলবেন, সাদকা গ্রহণ করতেন না শাখা ও উটে আরোহণ
করতেন, বকরী দোহন করতেন, তালিযুক্ত জামা পরতেন ৷ আর যে তা করে সে অহং কারমুক্ত
হয় ৷ তিনি হযরত ইসমাঈলের অধ৪স্তন বংশধর এবং নাম আহমদ’ ৷ ’তিনি বলেন, এরপর
আমার চাচা এসে যখন দেখলেন আমি সেটি পড়ে ফেলেছি তখন আমাকে প্রহার করে বললেন,
তুমি এটা খুলতে গেলে কেন? তখন আমি বললাম, এতে তাে (শেষ নবী) আহমাদের বিবরণ
রয়েছে ৷ তখন তিনি বললেন, তিনি এখনো আসেন নি ৷ ইমাম আহমদ, ইসমাঈল আনাস
(রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, পােষ্য পরিজনের প্রতি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর চাইতে
অধিক দয়ার্দ্র হৃদয় কাউকে আমি দেখিনি এবং একথা বলে তিনি হাদীসখড়ানি উল্লেখ করলেন ৷
ইমাম মুসলিম যুহায়র ইবন হারব ইসমাঈল ইবন উলায়্যা সুত্রে ঐ সনদে তা বর্ণনা
করেছেন ৷ শামাইলে’ তিরমিযী মাহমুদ ইবন গায়লান আশ’আছ ইবন সুলায়ম সুত্রে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, আমি আমার ফুফুকে তার চাচার বরাতে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
একবার আমি মদীনায় পথ ধরে হীটছি, হঠাৎ আমার পিছন থেকে কে একজন বলে উঠলেন,
তোমার লুঙ্গি উঠিয়ে পর ৷ কেননা, তা অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও স্থায়ী ৷ তখন আমি তাকিয়ে দেখি
যে তিনি রাসুলুল্পাহ্ (সা) ৷ তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটা তো গাঢ় নীল রঙের
চাদর (তেমন ময়লা হবে না), তখন তিনি বললেন, আমার মধ্যে কি তোমার জন্য অনুকরর্ণীয়
আদর্শ নেই? তখন আমি দেখতে পেলাম তার লুঙ্গি পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত উঠানাে ৷

তারপর তিনি সুওয়াদ ইবন ইয়াস ইবন সালামার পিতা সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি
বলেছেন (একবার) উছমান ইবন আফ্ফান (রা)ত তার পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত উঠিয়ে
লুঙ্গি পরেছিলেন, এ সময় তিনি বললেন, আমার নবীজীর লুঙ্গিও এমনই ছিল ৷ এছাড়াও তিনি
ইউসুফ ইবন ঈসা আনাস ইবন মালিক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) প্রায়শই অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের কারণে মাথায় এক খণ্ড কাপড় ব্যবহার করতেন,
মনে হত তার এই কাপড় যেন কোন তে ল বিক্রেতার কাপড় ৷ এই হাদীসটি গরীব পর্যায়ের
এবং অগ্রহণযােগ্য ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ বুখারী আলী ইবন আল জা’ দ আনাস (রা) সুত্রে
বর্ণনা করেন যে, (একবার) রাসুলুল্লাহ্ (সা) ক্রীড়ারত কয়েকজন বালকের পাশ দিয়ে যাওয়ার
সময় তাদেরকে সালাম করলেন ৷ মুসলিম অন্য সুত্রে শু’বা থেকে হাদীসখানি রিওয়ায়াত
করেছেন ৷

নবীজীর হাসি-কৌতুকরস পরিহাস

ইবন লাহীআ, উমারা ইবন গাযিয়্যা আনাস সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আল্লাহর
রাসুল (সা) একটি শিশুর সাথেও সরসত ম ব্যক্তি ছিলেন ৷ আর ইতিপুর্বে তার (আনাসের)
ছোট ভাই আবু উমায়রের সাথে নবীজীর কৌতৃকের কথা এবং তার এই বাক্য “হে আবু
উমায়র! কী করল নুগায়র” উল্লেখিত হয়েছে ৷ এ বাক্য দ্বারা তিনি তার খেলার সাথী বুলবলি
পাখীর মৃত্যুর কথা ৷উল্লেখ করে তার সাথে একটু কৌতুক করলেন ৷ এটা হল ছোট শিশুদের

১ নিতন্বে ঠেস দিয়ে উরুদ্বর পেটসংলগ্ন করে উভয় পা-কে হাত বা অন্য কিছু দ্বারা জড়িয়ে বসা ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest