তায় প্রতিনিধি দল ও ‘আদী ইবৃন হৰ্তিম (রা) সম্পর্কিত হাদীস

সিরিয়ার উপনীত হলাম ৷ “আদী (বা) বর্ণনা করেন, আল্লাহর কসম ! আমি (সিরিয়ার) আমার
পরিবারের মাঝে বসা ছিলাম ৷ দুরে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম এক মহিলা আরােহী আমাদের বসতির
দিকে ঢালু পথে নেমে আসছে ৷ “আদী (রা) বলেন, হাতিম কন্যা? “আদী বলেন, একটু পরেই
দেখি কি সে তো সেই ৷ সে আমার সামনে এসে র্দাড়ানাে মাএই কোন প্রকার ভুমিকার আশ্রয়
না নিয়ে মুখের উপর বলতে লাগল, নিমকহারাম , জ্যলিম ৷ নিজের বউ ছেলে মেয়েদের নিয়ে
আসতে (পরেছো আর তোমার জন্মদাতার শেষ স্মৃতি এক অবলাকে দুশমনের দরা-মায়ার
উপর ছেড়ে আসতে তোমার বাধল্যে না ? আমি বললাম দোমটি আমার , মন্দ কথা উচ্চারণ
করে মুখ খারাপ কর না ; আল্লাহর কলম, আমার বলার মত সৎপত কোন যুক্তি নেই, তোমার
অভিযোগে সত্যিই আমি অভিযুক্ত ৷ আদী বলেন তখন সে বাহন থেকে নামল এবং আমার
সাথে অবস্থান করতে লাগল ৷

একদিন আমি তাকে বললাম, যে ছিল স্থির বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন নারী এ ল্যেকটি সম্পর্কে
তোমার অভিমত কী? যে বলল, আমার অভিমত হল আল্লাহর কলম ৷ তুমি অবিলম্বে তার
সাথে মিলিত হয়ে ৷ কেননা, ব াম্ভবে সে যদি নবী হয় তা হলে তার কাছে আগে পমনকারী হবে
বিশেষ মাহাতোরে অধিকারী ৷ আর যদি ল্যেকটি রাজা-বাদশাহ্ হয় ৷ তবে তোমার বর্তমান
মর্যাদার কোন হানি না হয়ে বরং তা বৃদ্ধি পাবে, তু তো যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান ৷ আমি
বললাম , অড়াল্লাহর কলম! এটাই যুক্তিযুক্ত কথা ৷ আদী (বা) বলেন, তখন আমি বেরিয়ে
পড়লাম এবং মদীনায় রা”সুলুল্লাহ্ (সা)এর কাছে উপনীত হলাম ৷ তারপর আমি মসজিদে তার
সাথে সাক্ষাত করে তাকে সালাম করলাম ৷ তিনি বললেন, আগন্তুকের পরিচয় কী ? আমি
বললাম, আদী ইবন হাতিম ৷ রড়াসুলুল্পাহ্ (সা) উঠে র্দাড়ালেন এবং আমাকে নিয়ে তার ঘরের
দিকে রওয়ানা হলেন ৷ আল্লাহর কসম৷ তিনি আমাকে তার সাথে নিয়ে চলতে উদতি হওয়ার
মুহুর্তে অতি দুর্বল এক বৃদ্ধা নারী তার সাথে সাক্ষাত করতে এসে তাকে র্দাড়াতে বলল ৷ তিনি
দীর্ঘক্ষণ র্দাড়িয়ে দাড়িয়ে তার সাথে তার প্রয়োজন সম্পর্কে আলোচনা করলেন ৷ আদী বলেন,
তখন আমি মনে মনে বললাম, ল্যেকটি রাজা বাদশাহ; তো নয় ৷ আদী বলেন, তারপর
রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে সাথে নিয়ে বয়ে প্রবেশ করলেন এবং থেজুরের ছাল ভর্তি একটা
চামড়ার আসন এসে আমার পাশে রেখে দিয়ে বললেন, রস এটিতে ৷ আদী বলেন, আমি
বললাম ববং আপনিই বসুন ৷ তিনি বললেন, না তুমিই ৷ আমি নদীতে বললাম আর
রাসুলুল্লাহ্ (সা) মাটিতেই বসে পড়লেন ৷ আদী বলেন , আমি মনে মনে বললাম , এটাও কোন
রাজার আচরণ হতে পারে না ৷ তারপর আলোচনা শুরু করে তিনি বললেন, অড়াদী ইবন হাতিম, তুমি না রাকুসী১ ধর্যমতের অনুপড়ামী-ছিলে ? আমি বললাম
জী হী , তাই ৷ তিনি বললেন, তুমি কি লুষ্ঠিত সম্পদের
চৌথ (চতু ৎা) উসুল করার জন্য গোত্র মাঝে ঘুরে বেড়াতে না ? আদী বললেন, আমি
বললাম জী হী , তাই ৷ তিনি বললেন,এে কিন্তু, তোমার
বর্মমত অনুসারে তা তো ভৈবধ ছিল না ৷ আদী বলেন, আমি বললাম , ঠিক তাই ৷ আল্লাহর
কলম! “আদী বলেন, তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে, তিনি প্রেরি৩
ৰিমরই তার জানা ৷ একটু পরে বললেন

আদী ! এ ধর্মের অনুসারীদের অভাব অনটনই সম্ভবত এ ধর্ম গ্রহণের পথে তোমার জন্য
অতর!য় হয়ে রয়েছে ৷ আল্লাহর কসম অদুর ভবিষ্যতে এদের জন্য সম্পদের চল নামবে এমন
কি তা গ্রহণ করার মত লোক খুজে পাওয়া যাবে না ৷ এবং এ ধর্ম গ্রহণে £৩ !মার দৃষ্টিতে এ
ধর্মানুসারীদের সংখ্যা স্বল্পতা ও তাদের শত্রুর আ !ধিক্য সম্ভবত তোমার জন্য বাধা হয়ে রয়েছে ৷
আল্লাহর কসম ! অদুর ভবিষ্যতে তুমি শুনতে পারে যে, কোন নারী (এক!কিনী) তার উটে চড়ে
ক!দিসিয়! থেকে সফর আরম্ভ করে নিঃশঙ্ক ঢিত্তে এ ব!য়তুল্লাহর যিয়ারতে আসবে ৷ এবং
সম্ভবত এ ধর্ম গ্রহণে তোমার জন্য আঃর!য় হয়ে রয়েছে এ ব্যাপারটি যে, রড়াজক্ষমতা ও
প্রতিপত্তি তুমি অন্যদের অধিকারে দেখতে পাচ্ছ ! আল্লাহর কসম! অদুর ভবিষ্যতে তুমি শুনতে
পারে যে, ব্যৰিলন ও প্রাচ্য দেশীয় (পারস্যের) শ্বেত তবনসমুহ এদের হাতে বিজিত হয়ে
গিয়েছে ৷

আদী (র! ) বলেন, তখনই আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম ৷ বর্ণন!ক! রী বলেন, উল্লিখিত তিনটি
বিষয়ের দুটি আমি মোঃ ত্যক্ষ করেছি; তৃতীয়টি এ খন পর্যন্ত ঘটেনি ৷ আল্লাহর কসম! তা !!অবশ্
ঘটবে ৷ ব্যবিলন ও প্রাচ্যের শ্বেত তরনওলি ৰিজিত হতে ৩আমি দেখেছি ৷ আর দেখেছি, কোন
নারী (এক! !কিনী) তার উটে চড়ে সুদুর ক! !দিসিয়! থেকে সফর করে নির!পদে নিঃশংক!য় এ
ব!যতুল্লাহর হজ্জ সম্পাদন করেছে ৷ আল্লাহর কসম! তৃতীয়টিও অবশ্যই বাস্তবায়িত হয়ে ৷
এমনভাবে সম্পদের ঢল ন!মবে যে, ত! নেওয়ার মত চাহিদা ক!রাে থাকবে ন! ৷

ইবন ইসহ!ক (র) এ বিবরণটি এভাবেই সনদ বিহীন বণ্নাি করেছেন৷ তবে একাধিক সুত্রে
এর সমর্থক রিওয়!য!ত রয়েছে ! যেমন ইমাম আহমদ (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন জা ফর (র)
আদী ইবন হ!তিম (র!) থেকে , তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর ঘোড়স!ওয়ার বাহিনী
আমাদের এলাকায় অভিযানে এল ৷ আমি তখন অ!কয!বেআকর!ব!য়১ অবস্থান করছিল!ম ৷
তার! আমার ফুফুকে সহ আরে! কিছু লোককে বন্দী করে নিয়ে পেল ৷ তাদেরকে ব!সুলুল্লাহ
(সা) এর কাছে নিয়ে আস! হলেও তার! তার সামনে স!রিবদ্ধ হয়ে দাড়!ল ৷ তখন আমার ফুফু
বললেন ইয়! র!সুলুল্লাহ্ ! ভরসা দুরে সরে গিয়েছে; সন্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে; আমি এক
অভিনয় বৃদ্ধা, আমাকে দিয়ে তে! কোন কাজ হবে না, তাই আমার প্রতি অনকম্মা করুন,
আল্লাহ আপনার প্ৰতি অনুকম্মা করবেন ৷ নবী করীম (স!) বললেন, তোমার তরল! ক ? ফুফু

১ দামেশকের একটি জিলা শহর ও বন্দর ইয়!ম!ম!র একটি স্থান !

বললেন, আদী ইবন হাতির ৷ তিনি বললেন, যে নাকি আল্লাহ্ ও ও৷ র রাশুলকে ছেমে,
পালিয়েছে ?

বচ্নািকারীনী বলেন, তিনি আমাকে মুক্তি দিলেন ৷ তিনি চলে যেতে লাগলে তার পাশের
এক ব্যক্তি ফুক্যু ধারণার তিনি ছিলেন আলী (রা) আমাকে বললেন, তীর কাছে রড়াহনের
আবেদন কর ৷ তিনি আবেদন করলে নবী করীম (মা) তাকে তা দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
দিলেন ৷ আদী (রা) বলেন, ফুফু আমার কাছে চলে এলেন এবং আমাকে বললেন, তুমি এমন
জঘন্য আচরণ করেছো, যা তোমার বড়াপ কখনো করতেন না ৷ তিনি আমাকে এ কথাও
বললেন, আমার হোক কিৎরা নিরাশারষ্শ্ তার কাছে যাও ৷ অযুক তার কাছে গিয়েছিল ৷ যে
কিছু পেয়ে এসেছে; অমুক তার কাছে গিয়েছিল, খালি হাতে তাকে ফিরতে হয়নি ৷ আদী
বলেন, আমিও তার কাছে গেলাম ৷ দেখি কী ? তার কাছে এক নারী ও কয়েকটি (কিৎরা
একটি) শিশু ৷ আদী (রা)-এ পর্যায়ে নবী করীম (না)-এর কাছে ঐ নারী ও শিশুর সহজ
নিকটবর্তী তার কথা উল্লেখ করেছেন ৷ (আদী বলেন,) আমি তখন উপলব্ধি করলাম যে এ
সােকটি পারস্য ন্মােট বা রােমক ন্য়োট নয় ৷ নবী করীম (মা) তাকে বললেন-

“ তোমাকে পালাতে বাধ্য করল কে ? এক আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ যেই ৷ এ
কথার স্বীকারোক্তি তোমাকে পালাতে বাধ্য করেছে ? তা হলে এক আল্লাহ্ ছাড়া আরো ইলাহ
আছে কী ? কোন বিষয়টি তোমাকে পালাতে বাধ্য করল? আল্লাহ সর্ব গ্রেষ্ঠ’ এ কথার স্বীকৃতি
প্রদানই তোমাকে পলায়নে বাধ্য করল কি ? তা হলে মহান ও মহীয়ান আল্লাহর চাইতে বড়
কেউ আছে কি ?

আদী বলেন, আমি মুসলমান হয়ে গেলাম ৷ দেখলাম তাতে র্তার চেহারা আনন্দে উচ্ছল
হয়ে উঠেছে ৷ তিনি বললেন, ৰু,৷ (আল
কুরআনে উল্লিখিত) অভিশপ্ত হল ইয়াহদীরা আর ভ্রান্ত হল খৃস্টানরা ৷ আদী (রা) বলেন, তখন
লোকেরা তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পরে বললেন,

“তারপর হে লোক সকল, তোমাদের কর্তব্য তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে
কিছু না কিছু দান কর ৷ (ফলে লোকেরা সাদাকার মালামাল নিয়ে আসাতে লাগল ৷) কেউ এক
সা১ দান করল, কেউ সা এর অংশ বিশেষ ৷ আবার কেউ এক ঘুঠো পরিমাণ , কেউ তার
চইিতেও কম ৷ ”

(মধ্যবর্তী রাবী) শৃবা (র) বলেন, আমার যতদুর মনে পড়ে এ হাদীসে এ কথাও রয়েছে
কেউ একটি থুরমা কেউ থুরমার টুকরা নবী কবীম (সা) আরো বললেনগুৰু

১ স” আট রলোঃাট পাউণ্ড; প্রায় দোয়া তিন কেজি :

“ তড়ামাদের প্রতেদ্রকেই আল্লাহর সামনে দাড়াবে; তিনি তখন বলবেন না আমি তোমাদের
এখন বলে দিচ্ছি (তিনি বললেন) আমি কি তোমাকে শ্রবণশক্তি সম্পন্ন চোখ কান দিয়েছিলাম
না ? ও চক্ষুম্মান বানিয়েছিলাম না ? আমি কি তোমাকে সন্তান ও সম্পদ দিরেজ্জিক্ষ্মম না? তা
থেশ্রো ধ মি নিজের তথ্যে কী পরিমাপ পাঠিয়েছ ? তখন যে নিজের সামনে পিছনে ভাবে বামে
তাকাবে, কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না ৷ তখন নিজের চেহারা দিয়ে দোমখের আগুন (ঠকানো
ব্যতীত আর কোন উপায় থাকবে না ৷ তাই তোমরা আগুন থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা কর এক
টুকরা থুরমা দিয়ে হলেও ৷ আর তাতেও সমর্থ না হলো অন্তত নরম কথা দিয়ে (যস্ফোকারীকে
তুষ্ট করে দাও ) ৷ তোমরা ক্ষুধার জ্বালা ভোগ করবে এ আশংকা আমার সেই; আল্লাহ অবশ্যই–
তোমাদের সহায় হবেন এবং ণ্তামাদের অবশ্যই অচেল সম্পদ দিবেন কিৎবা (বর্ণনা সন্দেহ্
তিনি বলেছিলেন) তোমাদের অবশ্যই বিজয় দেয়া হবে ৷ এমন কি (একাকী) হাণ্ডদানাশীনা
নারী হীরড়া থেকে য়াছরিব (মদীনা) পর্যন্ত নিরাপদে সফর করবে ৷ বেশীর চে বেশী তার
হাওদায় চোরের হাত লাগার আশংকা থাকবে ৷
তিরমিযী (র)ও এ হড়াদীছ রিওয়ায়াত করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন ৷ হাসড়ানুন পারীবুন
একক সুত্রে উত্তম; সিমাক (র)-এর সুত্র ব্যতীত অন্য কোন সুত্রে এ হাদীসের পরিচিতি আমি
পাই নি৷ ইমাম আহমদ (র) আরো বলেছেন, ইয়াষীদ (র) হুযায়ফা (রা)-এর পুত্র আবু
উৰায়ড়াদা জনৈক ব্যক্তির বরাতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি আদী ইবন হাতিম (রা) কে
বললাম, আপনার পক্ষ থেকে একটি হড়াদীছ আমার নিকট পৌছেছে, তা আমি আপনার কাছে
সরাসরি কাছে শুনতে অস্যেহী ৷ তিনি বললেন ঠিক আছে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর (আমাদের
এলাকার) অভিযান সংবাদ পেয়ে তার আপমনে আমি যারপরনাই বিতৃষ্ণ হয়ে পড়লাম ৷ তাই
আমি দেশ ত্যাগ করে রোম সীমান্তে উপনীত হলাম ৷ (অন্য এক রিওয়ড়ায়াত মতে রোম
সম্রাটের দরবারে উপনীত হলাম ৷ আদী (রা)বলেন ৷ কিন্তু নবী করীম (না)-এর আগমনের
প্রতি ৰিতৃষ্ণার চাইতে আমার এ পরবর্তী অবস্থান আমার কাছে অধিকতর অসহনীয় হয়ে
উঠল ৷ আমি মনে মনে বললাম , আল্লাহর কসমগু আমি তো ঐ ল্যেকটার কাছেও যেতে
পারতড়াম ৷ পরে সে মিথ্যাবাদী হলে সে আমার কোন অনিষ্ট করতে পারতনা; আর সত্যবাদী
হলে তা আমি উপলব্ধি করতাম ৷ আদী (রা) বলেন, এ ভাবনার পর আমি তার কাছে যাওয়ড়ার
সিদ্ধান্ত নিলাম ৷ সেখানে পৌছলে লোকেরা বলে উঠল আদী ইবন হাতিম ? আমি রাসুলুল্লাহ্
“আদী ইবন হাতিম
ইসলাম গ্রহণ করে নাও নিরাপত্তা লাভ করবে ৷ আদী (রা) বলেন, আমি বললাম, আমি তো
একটা ধর্ম অনুসরণ করে চলছি ৷ তিনি বললেন, “ তোমার ধর্মের সম্পর্কে

আমি তোমার চা ৷ইত বেশী অবগত ৷ ” আমি বললাম, আমার ধর্ম সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে
বেশী জানেন? তিনি বললেন, হা, তুমি রড়াক্ষুসী’ ধর্মমস্তু৩ র অনুসারী হয়েও তোমার গোত্রের
চৌথ’ খেয়ে থাক নয় কি ? অ ৷মি বললাম, আমি তা অস্বীকার করছি না ৷ তিনি বললেন,
তামার ধর্মে এটা অবৈধ ৷ আ ৷মি
বললাম হা, ত ই ৷ ” তার এ বক্তব্যের সামনে আমাকে মাথা নত করে দিতে ৩হল ৷ তখন তিনি
বললেন-

শ্যেন, ইসলাম গ্রহৰ্;ণ (ও আমার জন্য বাধা কি তা আ ৷মি ভাল করেই জানি ৷ তোমার ধারণা,
দুর্বল শ্রেণীর লোকের এ দীনের অনুসারী হয়েছে ৷ যাদের কোন শক্তি সামর্থ্য নেই, ও দিকে
গোটা আরব তাদের প্ৰতিপক্ষে র্দাড়িয়েছে ৷ হীরা শহর কোথায় তুমি জান ? আমি বললাম, তা
দেখার সুযোগ হয়নি ৷ তবে ল্যেকমুখে তার কথা শুনেছি ৷ তিনি বললেন-

“যার অধিকারে আমার জীবন তার কলম! অড়াল্লাহ্ অবশ্যই এ দীনকে এমন পুর্ণতা দিবেন
যে, কোন হাওদানাশীনা সুদুর হীরা থেকে সফর করে এসে বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করবে, তাতে
কোন লোকের আশ্রয় দানের প্রয়োজন তার হবে না ৷
আর হুরযুয পুত্র খসরুর ধনাগার অবশ্যই ৰিজিত হবে ৷ আদী বলেন, আমি বললাম, সম্রাট
হ্বযুঘের পুত্রের ধনাগার ? তিনি বললেন-
হী! হুরমুয পুত্র খসরুর ধনভান্ডারই ৷ আর সম্পদের এত ছড়াছড়ি হবে যে, তা নেওয়ার
মত কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না ৷ আদী ইবন হাতিম (বা) বলেন, এই তো আমি
দেখছি হাওয়াদানাশীনা কারো নিরাপত্তা সংগ ছাড়া ই হীরা থেকে এসে বায়তুল্লাহ্ তাওয়ড়াফ
ৰৰ্র যাচ্ছে ৷ আর খসরুর ভাণ্ডার বিজেতা দলে তে তা আমি নিজেই শরীক ছিলাম ৷ তার তৃতীয়
ৰিষরটিও অবশ্যই বা ৷স্তবায়িত হবে, কেননা, তা তো আল্লাহর রাসুল (সা) বলে গিয়েছেন ৷

পরে ইমাম আহমদ (র) আর একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করেছেন ৷ ইউনুস ইবন মুহাম্মদ
(ৰ্) আবু উবায়দা ইবন হুযায়ফা জনৈক ব্যক্তি সুত্রে বর্ণনা করেন আর হাম্মদ ও হিশাম (র)-
এ! রিঃয়ায়াত জনৈক ব্যক্তি থেকে না বলে সরাসরি মুহাম্মদ ইবন আবু উবায়দা (র) থেকে
ঝাদ্ব হ্যরছে ৷ তিনি বলেন, আমি লোকজনের কাছে আদী ইবন হাতিম (রা)-র ঘটনা সম্পর্কে
নিঃসা করে বেড়াতাম, অথচ তিনি আমার পাশেই থাকতেন, তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা
ৰ্শ্ইসাম না ৷ বর্ণনাকড়ারী বলেন, অবশেষে একদিন তার কাছে? গিয়ে সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা
ৰ্ষ্াম ৷ তিনি বললেন, আচ্ছা, পােন তবে৩ তারপর পুর্ণ বিবরণ টি আমাকে শুনালেন ৷ হাফিয
সুক্ষ্ম ৰাষহাকী (র) বলেন, আবু আমর আল আদীব (র) অড়াদী ইবন হাতিম (বা) সুত্রে

বর্ণনা করেন ! আমি নবী করীম (সা)এর কাছে বসা ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তার কাছে এসে
তাকে থাদ্যাভাবের অভিযোগ জানাল ৷ আর এক ব্যক্তি এসে বাহনের অনটনের অভিযোগ
জানাল ৷ নবী করীম (না) বললেন, হে আদী ইবন হাতিম ৷ তুমি কখনো হীর৷ নগরী দেখেছে৷ ?
আমি বললাম তা আমি দেখি নি, তবে তার কথা আমি শুনেছি তিনি বললেন,
“তোমার জীবন দীর্ঘায়িত হলেও ভুমি দেখতে পাবে ৷ হওদানশীন৷ নারী হীর৷ থেকে সফর
করে এনে কা বা ঘরের তাওরাক করে যাচ্ছে;
মহান মহীয়ান আল্লাহ্ ব্যতীত কাউকে ভয় পাওয়ার তার জন্য কোন কারণ নেই ৷ আদী
(রা) বলেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, তা হলে তার গোত্রের বদমাশ গুলোণ্ণ্যার৷ এ গোটা
পথে ছিনতাই রাহাজানীর আগুন জানিয়ে রেখেছে এদের অস্তিতৃ টিকে থাকবে কী করে ? (অথচ
নবী করীম (সা) বলে যাচ্ছিলেন) তোমার জীবন দীর্ঘ হলে আমরা খসরু বিন হুরয়ুযের
ধনভাণ্ডার জয় করে আনব ৷ আমি বললাম, স্ম্রাট খসক বিন হুরযুয এর? তিনি বললেন (হী )

হুরমুয পুত্র খসকই ৷ আর তোমার জীবন দীর্ঘয়ীত হলে৩ তুমি দেখবে কোন মানুষ ঘুঠোভরা
সোনা বা রুপ৷ নিয়ে দান-খররাত গ্রহণকারীকে খুজে বেড়াৰে কিন্তু তা নেওয়ার মত কাউকে
খুজে পাবে না ৷ তোমাদের প্রত্যেকে এমন একদিন আল্লাহ্র সামনে র্দাড়াবে যখন তার ও
আল্লাহর মাঝে কোন দো ভাষী থাকবে না ৷ সে তার ডান দিকে তাকাবে, কিন্তু জাহান্নাম
ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না , বাম দিকে নজর দিয়েও যে জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই
দেখতে পাবে না ৷

আদী (রা) বলেন, এ পর্যায়ে আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনলাম

“এক টুকর৷ খুরমা দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর ৷ এক টুকরা
খুরম৷ দানের সামর্থ্যও যদি না থাকে তা হলে উত্তম কথা বলে যাঞ্চা কারীকে বিদায় করবে ৷ ”

আদী (র৷ ) বলেন, আমি তো দেখেছি হাওদানাগ্রি শিনী নারী কুক৷ থেকে সফর করে এনে
বায়তুল্লাহ্ তাওয়াক করে যাচ্ছে মহান মহীয়ান আল্লাহ ছাড়া কারো ভয়ে সে শংকিত নয় ৷
আর কসক বিন হুরষুয এর ধন তাণ্ডার বিজেতাদের অনা৩ তম ছিলাম আমিও ৷ আর কিছু দিন
তোমরা বেচে থাকলে আবুল কা ৷সিম (না)-এর অন্য কথাটির বাস্তবারনও তোমরা দেখতে
পাবে ৷

বুখাৰী (র) মহশ্যেদ ইবনৃল হাকাম (র) উল্লিখিত সনদে হাদীসটি আনুপুর্বিক ব্রিওরারাত
করেছেন ৷ তিনি অন্য একটি সুত্রেওখ্; তা রিওরায়াত ৩করেছেন ৷ ইমাম আহমদ ও নসােট (র) ও
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আদী (বা) থেকে এ কাহিনী রিওয়ারাতকারীদের মরে আমির ইকুন

শুরাহ্বীল (র) ও রয়েছেন ৷ তার বিবরণও পুবর্বনৃরুপ ৷ তবে এতট্রুকু ব্যবধান রয়েছে যে, নবী
করীম (সা ) বলেছেন, “আল্লাহ্ ব্যতীত আর কারো ভর এবং বকধী পা ণে গেকত্বের ৩র ছাড়া
আর কোন আশংকা থাকবে না ৷

সহীহ্ বুখারীতে শুবড়া (ব ) হতে বর্ণিত হাদীস এবং মুসলিম শরীফে যুহারব ইবন মুআবিয়া
(র) (উভয় সনদ) আদী ইবন হাতিম (বা) থেকে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেছেন,
জাহান্নামেব আগুন থেকে আত্মবক্ষা কর এক টুকরা খুরমা দিয়ে হলেও ৷ আর মুসলিম শরীফের

“তোমাত্বদব মধ্যে মার সমর্থ হয় যে, এক টুকরা খুরমা দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন
থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারে, সে যেন তা করে ৷” এটি পুর্ববর্তী বর্ণনার জন্য একটি
সমর্থক সুত্র ৷

হাফিব বারহাকী (র) আরো বলেছেন, আবু আবদুল্লাহ্ আল হাফিজ (ব ) কুমায়ল ইবন
যিয়াদ (র) থেকে, তিনি বলেন, আলী ইবন আবু তালিব (বা) বলেন, “সৃবহানাহাল্লড়াহ্! হার ,
পুণ্য কাজে অনেক মানুষের কতই না অনীহা ৷ বিস্ময়কর সে লোকটি , যার কাছে তার কোন
মুসলমান তাই কোন অভাব নিয়ে এল, অথচ সে নিজেকে কল্যাণের যােণ্যপাত্র বানানো
পসন্দ করল না ৷ ছাওয়াবের আশা কিৎবা আযাবের তার তার যদি কিছু করার ইচ্ছা নাও হয়,
তবু চারিত্রিক সৌন্দর্য অ্যাগামী হওয়া অন্তত তার জন্য বাঞ্চুনীর ৷ কারণ , তা সফলতার পথ
নির্দেশ করে ৷ তখন এক ব্যক্তি তার সামনে দাড়িয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন ! আপনার জন্য
আমার মাবা প কুরবড়ান হোন ! আপনি কি এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর কাছে শুনেছেন ?
তিনি বললেন, হা, এর চাইতে উত্তম কথাও শুনেছি ৷ তার গোত্রের বন্দীদের নিয়ে আসা হলে
রক্তিম বর্ণ, অবরা, ধীর চরণা, সতেজ লম্বা সরু গ্রীবা, তীক্ষ্ণ নাসিকড়া, মুভৌল দেহবল্লবী ও
সুগঠিত মস্তক, মাংসল গোড়ালী, পুরু গোছা , পুষ্ট উরুদ্বয়, হলেকা €কষ্মের, ক্ষীণ কটি, মসৃন
পিঠ এক তরুণী র্দাড়াল ৷ আলী (রা) বলেন, তাকে দেখে আমি মুগ্ধ অভিভুত হলড়াম এবং
ম্ৰ মনে বললাম, পনীমতে প্রাপ?৷ আমার অংশে তাকে দিয়ে দেয়ার জন্য আমি রাসুলুল্লাহ্
(স্ম)-এর কাছে আবেদন জানার ৷

কিন্তু সে যখন মুখ খুলে কথা বলল, তখন তার বড়াগিাতা আমাকে তার রুপ সৌন্দর্যের
ৰ্ধ্ দুলিয়ে দিল ৷ সে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনি ভাল মনে করলে আমাদের মুক্ত করে
ঘিব্ক্ত পারেন এবং আমাদের বন্দীভৈতু আরব পােত্রগুলােকে শত্রুর বিপদে আনন্দিত হবার
মোঃ না দিতে পারেন ৷ কেননা, আমি আমাদের গোত্র প্ৰ ধানের কন্যা ৷ আমার পিতা
মোঃ সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করতেন ৷ বিপদগ্রস্তকে বিপদমুক্ত করতেন, ক্ষুধার্তকে
ব্লিক্কুষ্ করতেন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিতেন, অতিথিদেব আপ্যায়ন করতেন, মানুষকে
ল্টো ব্বতে ভালৰাসতেন ৷ সালামের প্রসার ঘটাতেন এবং কখনো কোন অভাবগ্রস্ত
স্লে কুষ্ হাতে ফিরিয়ে দিতেন না ৷ আমি (দানৰীব) হাতিম তায়ষ্ এর কন্যা ৷ রাসুলুল্লাহ্

“হে বালিকা, এ সবই প্রকৃত ঈমানদারের গুণ ৷ তোমার পিতা মুসলমান হলে আমরা তার
জন্য দয়াদ্র হতাম ৷ একে যুক্ত করে দাও ৷ তার পিতা চারিত্রিক উৎকর্ষকে তালবাসতেন ৷ আর
আল্লাহ্ চারিত্রিক উৎকর্য পসন্দ করেন ৷”

তখন আবু বুরদা ইবন নিয়ার (বা) র্দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্৷ আপনিও তো
চারিত্রিক উৎকর্ষ পসন্দ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,

“যীর হাতে আমার জীবন সেই পবিত্র সত্তার কসম ! চারিত্রিক মাধুর্য ছাড়া কেউ জান্নাতে
যেতে পারবে না ৷ এ হাদীসের মতন ভাষ্য উত্তম; তবে এর সনদ ও উৎস অতি দুর্লভ ৷

আমরা ইতােপুর্বে জাহিলিয়্যাত যুগে ওফাতপ্রাপ্ত বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের আলোচনা প্রসঙ্গে
হাতিম তায়-এর জীবন চরিত আলোচনা করে এসেছি ৷ সেখানে মানুষের সাথে তীর বদান্যতা
ও অনুগ্রহ অনুকস্পার ৰিষয়টিও উল্লিখিত হয়েছে ৷ তবে কিনা আখিরাতে এ সৰের সুফলপ্রাপ্তি
ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত ৷ আর হাতিম ছিলেন সে সব লোকের অন্তর্ভুক্ত যারা জীবনে একবারও
এ কথা বলেন নি যে, “আমার প্রতিপালক! শেষ বিচার দিনে আমার অন্যায়-অপরাধগুলো
ক্ষমা করে দিও ৷ ”

ওয়াকিদীর ধারণার নবম হিজরীর রাবীউছ-ছানী মাসে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আলী (রাক্ষে তার
গোত্রের এলাকায় অভিযানে পাঠিয়েছিলেন ৷ তিনি নিজের সাথে একদল যুদ্ধ বন্দী নিম্নে
এসেছিলেন, যাদের মাঝে আদী ইবন হাতিম-এর কন্যাও ছিলেন ৷ এ ছাড়া তিনি তাদের
প্রতিমা মন্দিরে রক্ষিত দু’টি তরবারিও নিয়ে এসেছিলেন ৷ যার একটির নাম ছিল আর রাসুব’
অন্তর্ভেদী) এবং অপরটির নাম ছিল আলযিব ষাম হ্যৰিছ
ইবন আবু সস্ফোরা (মতাম্ভরে আবু ইসহাক) তরবারি দৃৰাৰি ঐ; মোঃ উদ্দেশ্যে মানত
করেছিল ৷

দাওস গোত্র ও তাদের নেতা তুফায়ল ইবন
আবু নুআয়ম (র)আবু হুরাররা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি ৰ্ণেম্, স্কো ইবন
আমৃর বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে এসে বলালন, হয়ে ও
ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করে ধ্বংসের পথ ধরেছে ৷ আপনি জ্জক্ষ্ম ৰ্!হে ডো ন্যে বদ
দুআ করুন ! রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন-

fl; এৰুস্ গ্লু ক্রো ন্প্রুম্রা “ইয়া আল্লাহ্ দাওসীদের হিদারাত নঙ্গীৰ্ ৰ্ঘৰ এবং তাদের
(ইসলামে) এনে দিন!” বুখারী (র) এ সুত্রে একাকী এ হাদীস ৰুনাি স্কো ৷ পরবর্তী সনদে
তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল আলা (র)আবু হরায়রা (বা) ৷ৰ্ৰে ৰর্ণৰ্ ৰ্নরন, তিনি
বলেছেন, নবী করীম (না)-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পথিময্যে অমি এ পর্যউ আবৃত্তি

“হায় দুংখ-কষ্টের বিপদ-সং কুল দীঘল রজনী; তবুও তো কুফ্রস্থান থেকে সে রাত
আমাকে মুক্তি দিয়েছে!”

পথিমধ্যে আমড়া ড়ার একটি গোলাম পালিয়ে (গল ৷ আমি নবী করীম (সা) এর কাছে উপনীত
হয়ে তার হাতে বায়আত করলাম ৷ তখন সেখানে থাকাক ড়ালে দেখতে পেলাম, গোলামঢি
আসছে! নবী করীম (সা) আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা! ঐ যে তোমার গোলাম এসে
পড়েছে ৷ আমি বললাম, মহান-মহীয়ান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে সে মুক্ত! আমি তাকে
মুক্ত করে দিলাম ৷ ইসমড়াঈল ইবন আবু খালিদ (র)-এর হাদীস সমষ্টি হতে বুখারী (র) একাকী
এ হাদীসটি রিওয়ড়ায়াত করেছেন ৷

মন্তব্য : বুখারী (র) বর্ণিত হাদীস মতে তৃফায়ল ইবন আমর (না)-এর এ আগমন ছিল
হিজরতের আগে ৷ আর হিজরতের পরে তার আগমনের কথা স্বীকার করে নিলেও তা ছিল
মক্কা বিজয়ের আগে (অর্থাৎ নবম হিজরীতে নয় ৷ বরং সপ্তম হিজয়ীতে) ৷ কেননা, দাওসীদের
আগমনকালে আবু হুরায়রা (রা)-ও তাদের দলভুক্ত ছিলেন ৷

আর আবু হুরায়রা (না)-এর আগমন ঘটেছিল যখন নবী করীম (সা) খায়বার অবরোধ করে
রেখেছিলেন ৷ মদীনায় নবী করীম (না)-কে না পেয়ে আবু হুরায়রা (বা) খায়বারের উদ্দেশ্যে
বেরিয়ে পড়লেন এবং খায়বার বিজিত হওয়ার পরে তার খিদমতে পৌছলেন ৷ তাই খায়বারের
গনীমত থেকে দাওসীদের অনির্ধারিদ্ভ হিস্সারুপে কিছু সম্মড়ানী দেয়া হয়েছিল ৷ প্রসঙ্গটি
আমরা যথান্থানে বিশদভ্যবে বর্ণনা করে এসেছি ৷

ইয়ামনেৰাসী ও আশআরীদেব্ল আগমন
বুখারী (র) বলেন, শুবা (র) আবু হুরায়রা সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ নবী কবীম (সা) বলেন-
ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে, ওরা নরম মন ! কোমল প্রাণ; ঈমান তো
, ইন্নামানের, হিকমত ও প্রজ্ঞাও ইয়ড়ামড়ানের ৷ গর্ব ও অহংকার উটপালের মড়ালিকদের মাঝে;
ধশান্তি ও ভৈস্থর্য ছাগলপালের মড়ালিকদের মাঝে ৷” মুসলিম (র) ও ভাষা (র) থেকে এ
হাদীসখানা রিওয়ায়াত করেছেন ৷ অন্য এক সনদে বুখারী (র) আবুল ইয়ড়ামান (র) আবু
হ্বায়রা (বা) সুত্রে নবী করীম (সা) থেকে, তিনি বলেন, “ইয়ড়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে
এসেছে, দৃরু দৃরু মন, কোমল প্রাণ; ফিক্হ তথা দীনের বুৎপত্তি ইয়ামড়ানবাসীদের, হিকমত ও
ঞ্চা ইয়ামানবাসীদের ৷ অন্য এক সনদে ইসমাঈল (র) আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণনা
ৰদরন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন
ঈমান হল ইয়মােনী; আর ফিত্না ঐ দিকে; ঐ দিকেই উদিত হয় শয়তানের শিংা
কুশ্ন্াম (র) এ হাদীসখানা রিওয়ায়াত করেছেন শুআয়ব (র) আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে ৷ অন্য

এক সনদে বুখারী (র) রিওয়ায়াত করেছেন, ও না (র)আবু মাসউদ (বা) থেকে বর্ণনা
করেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন-

“ঈমান এখানে (এ কথা বলার সময়) তিনি ইয়ামানের দিকে ইঙ্গিত করলেন ৷ কর্কশ
ভাবা, দৃর্ব্যবহার ও হৃদয়ের কাঠিন্য উটপালের পিছনে চিৎকারে অভ্যস্তদের মাঝে যে দিকে
শয়তানের দুটি শিং উদিত হয় ৷

অর্থাৎ রড়াবীঅ৷ ও মুযার গোত্রদ্বয় ৷ বুখারী (র) অন্যত্র এবং মুসলিম (র)-ও ইসমাঈল ইবন
আবু খড়ালিদ (র) আবু মাসউদ উকবা ইবন আমৃর (বা) থেকে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷
তারপর উল্লেখ করেছেন সুফিয়ান ছাওয়ী (র)ইমরান ইবন হুসায়ন (বা) এর রিওয়ায়াত ৷
তিনি বলেন, বনুত তামীমের লোকেরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে এলে তিনি বললেন, “তামীমীরা!
সুসৎ বাদ গ্রহণ কর ’তার৷ বলল–

“সুসৎ বাদ যখন দিলেনই, তবে আমাদের কিছু দান-দক্ষিণাও করুন না ৷ তাদের এ
বেপরোয়৷ জবাবে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর চেহারা বিবর্ণ হল ৷৩ তখন ইয়ামানবাসী একদল লোক
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে এলে তিনি তাদের বললেন, “তামীযীর৷ যখন সুসং বাদ গ্রহণে আগ্রহী
হল না, তখন তোমরা তা গ্রহণ কর !” তার৷ বলল, আমরা তা গ্রহণ করলাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ !
তিরমিষী ও নসােঈ (র)-ও এ হাদীস উল্লিখিত সনদে ছাওয়ী (র) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন ৷

“এসব হাদীসই ইয়ামানী প্রতিনিধি দলের মাহাত্ম্য নির্দেশ করে ৷ তবে এগুলোতে
প্রতিনিধিরব্পে তাদের আগমনের সময় নির্দেশিকা নেই ৷” তামীঘী প্রতিনিধি দলের আগমনকালে
পরবর্তী সময়ে হলেও তাতে আশআরীদের আগমন তার স কলীেন হওব৷ অনিবার্য নয় ৷ বরং
তাদের আগমন ঘটেছিল আরো আগে ৷

কেননা, আশআরীদের অন্যতম সদস্য ক ;” ঘুস৷ স্রভ্রশআরী (না)-এর সৃহবত ও নবী
সাহচর্যকাল জাফর ইবন আবু তালিব (রা)-ও তার সঙ্গীদের সহ্বত লন্সে সমকলীেন ৷ যারা
প্রথমবার হিজরত করে আৰিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) গিয়েছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
খায়বার বিজয়কালে সেখানে উপনীত হয়েছিলেন ৷ আমরা যখাস্থানে এর বিশদ বিবরণ পেশ
করে এসেছি ৷ সে সাথে নবী বত্রীম
আল্লাহর কসম! আমি বুঝতে পারি না, কোনটি আমার জন্য অধিক আনন্দদায়ক
জা ফরের প্রত্যাগমন কিৎবা খায়বার বিজয় উড়িটি সেখানে উল্লিখিত হয়েছে ৷ মন্ ৷ন আল্লাহ্ই
সমধিক অবগত ৷

১ অর্থাৎ তামীমীদের প্রত্যাথ্যাত সুসৎবাদ ইয়ামানীদের প্রদান করার উভয় প্রজ্যো দল সমকালীন হওয়া
জরুরী নয় ৷ যেহেতু সুসৎবাদ গ্রহগকারী ইয়ামানীর৷ ঐ সময়ই প্রতিনিধিরুপে এস্নি এমন প্রমণে নেই ৷ বরৎ
পুরেই তাদের আগমনের প্রমাণ রয়েছে ৷ অতএব, এখানে উল্লিখিত ইয়ামানীর৷ মদীনায় অবস্থান রত ইয়ামানী

কিৎবা ঐ সময় সাধারণ সফরে আগত ইয়ামানীর৷ হতে পারে ৷ অনুবাদক

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.