থার্টিফাস্ট নাইট ও ইসলাম

মহান আল্লাহ আমাদের সুখ-শান্তির জন্য পৃথিবীকে অসংখ্য নিয়ামত দ্বারা সু-সজ্জিত করেছেন। তাঁর অন্যতম একটি নিয়ামত হচ্ছে দিন-রাত ও মাসের মাধ্যমে বৎসরের হিসাব। আমাদের উচিত এর শুকর বা কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং সময়ের কদর করা।
বর্তমানে আমরা ইংরেজী বর্ষবরণে “থার্টিফাস্ট নাইটের” নামে বিধর্মীদের অপসংস্কৃতির অনুরসণ করছি। অথচ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করে:
“যে, ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।
(আবূ দাঊদ-৪০৩১)

দিন-রাতের পরিবর্তনে আমাদের মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে, আনন্দ-উল্লাস নয় পরকালের হিসাবের প্রস্তুতির প্রয়োজন। দিন-রাত এবং কবর প্রতিদিন আমাদের সতর্ক করছে। অথচ, আমরা উদাসিনতার মধ্যে সময় কাটিয়ে দিচ্ছি।

থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন হারাম-
(এক) এটি বিজাতী ও বিধর্মীদের একটি উৎসব, এতে মুসলমানদের অংশ গ্রহণ হারাম।
[আবূ দাঊদ ৪০৩১]

(দুই) আতশবাজী করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া এবং অর্থের অপচয় করা হারাম।
[বানী ইসরাইল-২৭, আহযাব-৫৮ দ্রষ্টব্য]

(তিন) এতে তরুন-তরুনীরা নির্লজ্জভাবে রাস্তায় ঘুরা-ফেরা করে, আড্ডা দেয়, অবৈধ, অশ্লীল সম্পর্ক গড়ার এক সুযোগ সৃষ্টি হয় যা সম্পূর্ণ হারাম।
[সূরা নূর-৩০-৩১ দ্রষ্টব্য]

(চার) এতে মদ্যপান, বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনার এবং অর্ধালোঙ্গ নারীর নাচ-গান শোনার এক গর্হিত গুনাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা সম্পূর্ণ হারাম।
[সূরা নিসা-২৩, লোকমান-৬ দ্রষ্টব্য]

পাপ আল্লাহর আযাব ডেকে আনে-
এগুলো সবই পাপ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করেন:
“যখন কোন জাতির মাঝে প্রকাশ্যে পাপ সংগঠিত হয় এবং ঐ জাতির লোকেরা তা বন্ধ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে না। তখন আল্লাহর আযাব তাদের (ভাল-মন্দ) সকলকে গ্রেফতার করে নেয়।
[মুসনাদে আহমাদ-১৯১২৮]

তাই আসুন!
নিজেরা জিম্মাদার হয়ে উম্মতকে পাপ থেকে বাঁচানোর জন্য মেহনত শুরু করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.