দশম হিজয়ী সাল : খালিদ ইবনুল ওলীদ (রা)-এর নাজরান অভিযান

(কুযাদ) আম যিয়াদী, শাদ্দাদ ইবন উবায়দুল্লাহ্ আল কান্নানী ও আম্র ইব ন আবদৃল্লাহ্ আঘৃ
যাবাৰী প্রমুখ ৷ তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি তাদের দেখে বললেন-
এরা কােথাকার লোক ? মনে হয় যেন ভারতীয়
মানুষ! কেউ একজন বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! এরা বনৃল হারিছ ইবন কাব সম্প্রদায়ের লোক ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সামনে দাড়িয়ে তার তাকে সালাম করে বলল, আপনি আল্লাহর রাসুল
এবং এক আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই ৷ ’ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন শ্ব ঠো ম;ন্উর্ণী “আমিও সাক্ষ্য দেই যে, এক আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্
তোমরা তো যে ধরনের লোক যাদের উত্তেজিত করা হলে তারা দুঃসাহসী হয়ে উঠে ৷ ’ এ
কথার জবাবে তারা নিরবতা অবলম্বন করল এবং তাদের কেউই তাকে জবাব দিল না ৷ তিনি
দ্বিতীয়বার কথাটির পুনরাবৃত্তি করলেন এবং তভীয়বার করার পরেও তাদের কেউ জবাব দিল
না ৷ তিনি চতুর্থবার কথাটির পুনরাবৃত্তি করলে ইয়াযীদ ইবন আবদুল মদোন বলল, জী হা, ইয়া
রাসুলাল্লাহ্! আমরা সে ধরনের লোকই যাদের উত্তেজিত করা হলে তারা দুঃসাহসী হয়ে এগিয়ে
যায় ৷ ইয়াযীদ৷ চ ৷রবার বলল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন-
খালিদ যদি আমাকে না লিখত যে তোমরা লড় ই না করেই ইসলাম গ্রহণ করেছ, তবে
তোমাদের মাথাওলেড়া তোমাদের পায়ের তলায় ফেলে দি৩ ৷ম ৷ ইয়াযীদ ইবন আবদুল মাদান
বলল, আল্লাহর কলম! আমরা আপনার ম্ভতি করি নি; খালিদেরও স্তুতি করি নি ৷ নবী করীম
(সা) বললেন, তবে ৫তড়ামরা কার স্তুতি করেছ? তারা বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ্!
আমরা তো আল্লাহ্র হামৃদ করেছি, যিনি আপনার মাধ্যমে আমাদের হিদায়াত করেছেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ! ণ্তামরা যথার্থ বলেছ ৷ তারপর বললেন,১ জাহিলী যুগে
’ তোমাদের সাথে লড়াই করতে আপমনকদ্বয়ীদের উপর তোমরা কিভাবে বিজয়ী হতে ? তারা
বলল, “আমরা তো কারো উপরে বিজয়ী হতাম না ৷” তিনি বললেন,২ অবশ্যই; তোমাদের
উপর আক্রমপকড়া রীদের উপর তোমরা অবশ্যই বিজয়ী হতে ৷ তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ষ্
আমাদের সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আপ৩ তদের উপরে আমাদের বিজয়ী হওয়ার কা ৷রণ ছিল
এই যে, আমরা যুথবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতাম, বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন হতাম না এবং আমরা কখনো
কারো উপরে জুলুমের সুচনা করতাম না ৷ নবী করীম (সা) বললেন, সত্য বলেছ ৷
পরে তিনি কায়স ইবনুল হুসায়ন (রা)-কে তাদের আমীর ও গোত্রপতি মনোনীত করলেন ৷

ইব ন ইসহাক (র) বলেন, প্রতিনিধি দলটি শাওয়ালের শেষ ভাগে কিংবা যিলকদ মাসের
প্রথম ভাগে স্বগােত্রে ফিরে গেল ৷ তাদের চলে যাওয়ার পরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে দীন ও
ঈমানের তালীম, সৃন্নাহ্ ও ধর্মীয় বিষয়াদিরশিক্ষাদান ও তাদের যাকাত উসুল করার উদ্দেশ্যে
অড়ামৃর ইবন হড়ায্ম (রা)কে সেখানে পড়াঠালেন ৷ তার সাথে একখানি লিপিকা দিলেন এবং

তাতে তার দায়িতু কর্তব্য উল্লেখ করে দিলেন ৷ (ইবন ইসহাক (র) এ পর্যায়ে নিয়োগ পত্রটির
বিবরণ উদ্ধৃত করেছেন ৷ আমরা হিময়াবী প্রতিনিধি দল প্রসঙ্গে বায়হার্কী (র) সুত্রে তা উল্লেখ-
করে এসেছি ৷ নাসাঈ (র) সনদৰিহীনরুপে ইবন ইসহড়াকের বর্ণনার অনুরুপ ৰিওয়ায়াত
করেছেন) ৷

ইয়ামানবাসীদেয় জন্য আমীর নিয়োগ প্রসঙ্গ

বুখারী (র) বলেন-
অনুচ্ছেদ : বিদায়হওজ্জর পুর্বেআবুমুসা ও মৃআযইবনজাবাল (রা)কেইয়ামান প্রেরণপ্রসঙ্গ

মুসা (র) আবু বুরদা (বা) থেকে বংনাি করেন, তিনি বলেছেন, নবী করীম (না) আবু
মুসা ও মুআয ইবন জাবাল (রা) কে ইয়ামানে পাঠালেন ৷ তিনি বলেন, তাদের প্রত্যেককে এক
একটি অঞ্চলের দায়িতৃ দিয়েছিলেন (তিনি বলেছেন, ইয়ামান দুটি বড় অঞ্চলে বিভক্ত ছিল) ৷
নবী করীম (না) তাদের বললেন ৷ “৫তড়ামরা সহজ করবে,
কঠিন করবেঃ না ৷ সুসংবাদ দিবে; ৰিতৃষ্ণা করবে না ৷ ” অন্য একটি ৰিওয়ায়তে রয়েছে
“তোমরা পরস্পর মিলে-নিশে থাকবে, মতবিরোধে লিপ্ত হবে না ৷
দু’জনের প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্তব্য কাজে গমন করলেন ৷ বর্ণনাকড়ারী বলেন, দু’জনের
প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় পরিদর্শন করতে করতে যখন অন্যজনের কাছাকাছি পৌছে
যেতেন তখন সেখানে কিছু সময় দৃজনে একত্রে অবস্থান করতেন (এবং পরস্পর সালাম
কালাম করতেন) ৷ এভাবে একবার মুআয (বা) তার এলাকায় পরুিদ্র্শনকালে তার বন্ধু আবু
মুসা (রা)-এর কাছে পৌছলেন ৷ তিনি খচচরের পিঠে চড়ে আবু মুসা (রা)-এর কাছে উপনীত
হলেন ৷ দেখলেন, আবু মুসা (রা) বসে রয়েছেন, তার কাছে লোকজন সমবেত হয়ে রয়েছে
এবং তার কাছে এক ব্যক্তিকে দৃহাত বেধে রাখা হয়েছে ৷ ঘুআয (রা) আবু মুসা (রা)-কে
বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! লোকটির ব্যাপার কী? তিনি বলেলেন, এ লোকঢি
মুসলমান হওয়ার পরে ধর্মত্যাগী হয়েছে ৷ মুআয (রা) বললেন, “এর শিরচ্ছেদ না করা পর্যন্ত
আমরা অবতরণ করছি না ৷ আবু মুসা (রা) বললেন, “এ উদ্দেণেইে তাকে এখানে নিয়ে আনা
হয়েছে ৷” সুতরাং নেমে পড়ুন! তিনি বললেন, “(না) তার শিরোচ্ছেদ করার আগে আমি
নামছি না ৷” তখন নির্দেশ দেয়া হলে তার শিরোচ্ছেদ করা হলো ৷

তখন তিনি নেমে পড়লেন এবং বললেন, ভাই আবদুল্লাহ আপনি (রাতের তাহাজ্জ্বদ
সালাতে) কুরআন কীভাবে (ও কি পরিমাণে) তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি থেমে
থেমে অনঃবরত পড়তে থাকি ৷ তা ভাই যুআয ! আপনি কীভাবে পড়ে থাকেন? তিনি বললেন,
রাতের প্রথম অংশে (ইশার পরে) আমি ঘুমিয়ে পড়ি, আমার ঘুমের চাহিদা পুর্ণ হয়ে গেলে
উঠে পড়ি এবং আল্লাহ যা তাওফীক দেন যে পরিমাণ (সালাতে) তিলাওয়াত করি এবং আমার
ঘুমেও ছাওয়াবের আশা রাখি ৷ যেমন আমার জাপরণে ছাওয়াবের আশা রাখি ৷ এ সুত্রে এটি
বুখড়ারী (র)-এর একক বংনাি ৷ মুসলিম (র) এ সুত্রে রিওয়ায়ড়াত করেন নি ৷ বুখারী (র) পরবর্তী
ৰিওয়ায়াতে বলেছেন, ইসহাক (র) আবু মুসা আল-আশআরী (রা) থেকে বর্ণনা করেন এ
মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইয়ামান নিয়োগ দিয়ে পাঠালে তিনি সেখানকার কয়েকটি পানীয়

সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন ৷ নবী করীম (না) বললেন, সেগুলো কী কী? আবু মুসা (বা)
বললেন, বিত ও মিয্র’ ৷ (মধ্যবর্তী রাবী সাঈদ ইবন আবু বৃরদা বলেন) আমি (আমার পিতা
ও শায়খ) আবু বুরদাকে বললড়াম, আল-রিত ও আল-যিয্র কী জিনিস ? তিনি বললেন ৰিত
হ্ন৷ মধু থেকে তৈরি সুরা এবং মিয্র হল যব ভিজিয়ে তৈরি সুরা ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না) বললেন,
ণ্৮ ১ এও “নেশা সৃষ্টিকারী বম্ভমত্রেই হারাম ৷ আবীর ও আবদুল ওয়াহীদ (র) আবু
বুৰদা (রা) থেকে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ মুসলিম (র) সাঈদ ইবন আবু বৃরদা (বা)
থেকে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷

বুণাবী (র) অন্য রিওয়ায়াতে বলেন, হাব্বান (র)ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন, মুআয ইবন জাবাল (রা)-কে ইন্নামানে পাঠাবার সময় রাসুলুল্লাহ্ (সা ) র্তাকে
বললেন-

“তুমি একটি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ; সেখানে পৌছে তুমি তাদের এ
আহ্বান জানাবে যে, তারা যেন এ সাক্ষ্য দেয় যে, এক আল্লাহ্ ব্যতীত আর কো ন ইলড়াহ্ নেই
এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহ্র রাসুল ৷ এ বিষয়ে তারা তোমার আনুগত্য করলে তাদের অবগত
করবে যে, আল্লাহ্ তাদের উপর দিনে রাতে পীচবারের সালাত করব করেছেন ৷ এ বিষয়ে
তারা তাোমর আনুগত্য করলে তাদের অবগত করবে যে, আল্পাহ্ তাদের উপর যাকাত ফরম
করেছেন, যা তাদের বিত্তবানদের কাছ থেকে উসুল করে তাদেরই ৰিত্তহীনদের মাঝে বিতরণ
করা হবে ৷

এ বিষয়ে তারা তোমাদের আনুগত্য করেল তুমি তাদের বাছা বাছা ও পসন্দনীয়
সম্পদগুলাে বেছে নেয়ার ব্যাপারে সাবধান থাকবে ৷ মযলুমের আহাজারিকে ভয় করে চলবে ৷
রেপ্সনা, সে আহাজারি ও আল্লাহ্র মাঝে কোন অম্ভরায় নেই ৷ (সিহাহ্ গ্রন্থসমুহের) ছয়
ইমামের অন্যরাও বিভিন্ন সুত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, আবুল মুগীরড়া (র)মুআয ইবন জাবাল (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন, তিনি বলেছেন, র্তাকে ইয়ামানের শাসনকর্তা করে পাঠাবার সময় রাসুলুল্পাহ্ (সা) জকে
উপদেশ দিতে দিতে (মসজিদ থেকে) বেরিয়ে আসলেন ৷ মুআয (রা) বাহনে আরোহী হয়ে
লেছিলেন, আর রাসুলুল্লাহ্ (না) তার বাহনের পাশে পাশে হেটে চলছিলেন ৷ প্রয়োজনীয়
কথাবার্তা শেষ হলে তিনি বললেন-

মুআয! হতে পারে, এ বছরের পরে তুমি আর আমার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পাবে না;
আর সম্ভবত তুমি আমার এ মসজিদ এবং আমার এ কবরের পাশ দিয়ে পথ চলবে ! এ

কথা শুনে মুআয (বা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আসন্ন ৰিরহ আশঙ্কায় কেদে ফেললেন ৷ তারপর
ৰিবগ্ন বদলে মদীনায় পানে দৃষ্টি ঘোরালেন ৷ নবী করীম (সা) বললেন-

“আমার অধিকতর সাব্লিধ্যের লোক হল যুত্তাকীরা ৷ তারা যে কোন দেশ গোত্রের হোক
এবং যেখানে থাকুক না কেন ৷ আহমদ (র) পরবর্তী রিওয়ায়াত নিয়েছেন আবুল ইয়ামান
(র)আসিম ইবন হুমারদ আস সাকুনী (র) থেকে এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) তাতে
অতিরিক্ত আছে তখন আরো বলেছিলেন-
-এক্রো এ,ও ম

া:হ মুআয! কেদাে না, কান্নার অনেক উপযোগী সময় রয়েছে ! (তা ছাড়া) কান্না মুলত
শয়তানের পক্ষ থেকে ৷ ইমাম আহমদ (র) আরো বলেছেন, আবুল মুগীরা (র) মুআয (না)
থেকে এ মর্মে যে, তিনি বলতেন, রাসুলুস্লাহ্ (সা) আমাকে ইরামানে পাঠালেন ৷ তিনি আমাকে
বললেন,

হয়ত, তুমি আমার কবর ও মসজিদের পাশ দিয়ে পথ চলবে; তোমাকে আমি এমন একটি
সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাচ্ছি যাদের হৃদয় কোমল, যারা ন্যারের ভিত্তিতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়
(কথাটি তিনি দৃ’বার বললেন) ৷ সুতরাং তাদের মাঝে যারা তোমার অনুণামী হয়ে তাদের
সহায়তা নিয়ে তাদের মধ্যকার অবাধ্যদের সাথে যুদ্ধ করবে ৷ ফলে তারা ইসলামের দিকে
ফিরে আসবে ৷ এমন কি শ্রী তার স্বামীর সাথে, সন্তান তার জনকের সাথে এবং তইি ভাইয়ের
সাথে প্রতিযোগীতা করে দীনের পথে ফিরে আসবে ৷ তুমি সাকুন’ ও সাকাসিক’ পােত্রদ্বরের
মাঝে অবস্থান করবে ৷

এ হাদীসে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, পরবর্তী সময়ে মুআয (বা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে
মিলিত হওয়ার অবকাশ পাবেন না ৷ বাস্তবেও তাই ঘটেছিল ৷ কেননা, বিদায় হজ্জ পর্যন্ত মুআয
(রা) ইয়ামড়ানেই অবস্থানরত ছিলেন ৷ এদিকে হচ্ছে আকবর (বিদায় হজ্জএর একাশি দিন
পরে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ওফাত হয়ে যায় ৷ তাই যে সব হাদীসে এর বিপরীত বর্ণনা পরিদৃষ্ট
হয় যেমন, ইমাম আহমদ (র) বলেন, ওয়াকী (র)মুআয (রা) থেকে বর্ণনা করেন এ মর্মে
যে, তিনি ইয়ামান থেকে ফিরে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্পাহ্! আমি ইয়ামানে কিছু লোক
এমন দেখেছি যারা একে অন্যকে সিজদা করে ৷ আমরাও কি আপনাকে সিজদা করবো না ?

তিনি বললেন-
“আমি কোন মানুষকে অন্য কোন মানুষের সামনে সিজদাবনত হওয়ার হুকুম করতে চইিলে
দ্রীদের হুকুম দিতাম, তারা যেন তাদের স্বামীদের সিজদা করে ৷” আহমদ (র) এ হাদীসখানা

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.