নবী করীম (সা) এর কুরবানী প্রসংগ

করতে দেখেছেন ৷ কোন যায়া-মারি ছিল না ৷ কোন হীকা-ইাকিও ছিল না এবং হটে যাও সরে
যাও’ ধ্বনিও দিল না ৷ আহমদ (র)-এর হাদীনটিও কী প্ৰস্ময (আয়মান হতে) ঐ সনদে
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ অনুরুপ, আবু কুরবা ছাওবী সনদেও রিওয়ায়াতটি করেছেন ৷ নাসাঈ ও
ইবন রাজা (র)-এ হাদীস ওয়াকী (র)-এর বরাতে ঐ সনদে বর্ণনা করেছেন ৷ তিরমিযী (র)ব
সুত্র হল আহ্মদ ইবন মড়ানী’ (র) (আয়মান ঐ সনদ) ৷ তার মন্তব্য এটি হাসান সাহীহ ইমাম
আহমদ (র) আরো বলেন, নুহ্ ইবন মড়ায়ঘুন নাফি (র) হতে, তিনি বলেন, ইব ন উমর (রা)
দশ তারিখে তার বাহনে করে জামরাতুল আকাবায় কংকর মারতেন এবং এর পরবর্তী সবগুলি
জামরায় কংকর যাবার সময় পায়ে হেটেই আসতেন ৷ এবং বলতেন যে, নবী কবীম (না)-ও
সে গুলিতে১ কংকর মারার জন্য পায় হেটেই আসা যাওয়া করতেন ৷ আবু দাউদ (র) এ
হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন কানাবী (র) (আবদুল্লাহ আল-উমরী) ঐ সনদে ৷

নবী কবীম (না) এর কুরৰানী প্রসংগ

জাবির (বা) বলেন, এরপর নবী কবীম (সা) কুরবানীর স্থানের দিকে চললেন এবং নিজ
হাতে তেষট্টিটি উট নাহ্র২ (জবাই) করলেন ৷ পরে আলী (রড়া)-কে দিয়ে দিলে তিনি অবশিষ্ট
গুলি নাহ্র করলেন ৷ নবী কবীম (সা) তার হড়াদীতে আলী (রা)-কে শরীক করে নিলেন ৷
এরপর প্রতিটি উট হতে এক এক টুকরা গোশৃত নিতে বললেন ৷ টুকরাগুলি একটি হীড়িতে
রেখে তা রান্না করা হল ৷ র্তারা দু’জন সে পে“াশৃত আহার করলেন এবং তার ঝোল’ পান
করলেন ৷ এবন্টু পরে এ হাদীসের সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব ৷

ইমাম আহ্মদ ইবন হাম্বাল (র) বলেন, আবদুর রায্যাক (র) নবী কবীম (না)-এর জনৈক
সাহাবী (রা) সুত্রে বলেন যে, নবী কবীম (সা) মিনার খৃতবা দিলেন এবং উপস্থিত লোকদেরকে
যার যার উপযোগী স্থানে অবস্থান করালেন ৷ তিনি বললেন, “মুহাজিররা এ দিকে অবস্থান
নিরে” তিনি কিবলার ডান দিকে ইংগিত করলেন এবং কিবলার বাম দিকে ইংগিত করে
বললেন, “আর আনসাররা এ দিকে” ৷ “এরপর অন্য লোকেরা ওদের চার পাশে অবস্থানে
নিবে ৷ বর্ণনাকাবী বলেন, তিনি তাদের কে মানাসিক-হজ্জ কৃরবানীর বিধি বিধান শিখালেন ৷
মিনার উপস্থিত লোকদের কান খোলা থাকল, র্তারা নিজ-নিজ অবস্থানে থেকে তার ভাষণ
শুনতে পেলেন ৷ বর্ণনাকাবী বলেন, তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম “তোমরা খাযাফ’
আকৃতির কংকর দিয়ে জামরায় রমী’ করবে ৷ ”

আবু দাউদ (র) আহ্মদ ইবন হন্তোল (র) হতে “অন্য লোকেরা তাদের আশ-পাশে
অবস্থান নিবে” পর্যন্ত অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইমাম আহ্মদ (র) আবু দাউদ (র) ও
ইবন মজাে বিভিন্ন সনদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন যে আমরা মিনার অবস্থান কালে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ভাষণ দিলেন ৷ আমাদের কানগুলাে খোলা থাকল যেন এখনও আমরা তা
শুনতে পাচ্ছি ৷

১ এ পার বার (এবং পরবর্তী) তারীখে তিনটি জামরার রামী উদ্দেশ্য ৷ অনুবড়াদক
২ উটের বক্ষতলে রক্তবাহী নালী সমুহের সম্মিলন ক্ষেত্রে ছুরি ঢুকিয়ে জবাই করার পন্থাকে নাহ্ড়ার বলা
হয় ৷ অনুবাদক

জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা) উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) তার হাদী-তে আলী
ইবন আবু তড়ালিব (রা)-কে শরীক করেছিলেন এবং আলী (রড়া)-র ইয়ামান থেকে নিয়ে আসা ও
রাসুলুল্লাহ (না)-এর (মদীনা ও পথ হতে) নিয়া আসা কুরবানীর উটের সমষ্টি ছিল একশ’ ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) তীর নিজ ঘুবারক হাতে তেষট্টিটি উট নাহ্র করেছিলেন ৷ এ প্রসংগে ইবন
হিব্বান (র) বলেছেন, নবী করীম (না)-এর জীবন কালের ঐ সংখ্যাটিই সাদৃশ্যপুর্ণ কেননা, তা
ছিল (তষট্টি বছর ৷ ইমাম আহমদ (র) আরো বলেছেন, ইয়াহ্য়া ইবন আদম (র) আব্বাস
(বা) হতে, তিনি বলেন, হল্গুজ্জর সময় রাসুলুল্লাহ (সা) একশ’ উট নাহ্র করেছিলেন ৷ তার
মাঝে যাটটি করেছিলেন নিজের হাতে এবং অবগ্রিষ্টি গুলি সম্পর্কে (কাউকে) হুকুম দিলে তা
নাহ্র করা হল ৷ প্রতিটি উট হতে এক একটুকরা নিয়ে তা একটি হীড়িতে একত্রিত করা
হল তা থেকে তিনি আহার করলেন এবং তার ঝোল পান করলেন ৷ বর্ণনাকাবী বলেন, এবং
হুদায়বিয়া সন্ধি কালে সত্তুরঢি উট নাহ্র করেছিলেন, যে গুলির মাঝে (বদর যুদ্ধে গনীমত লব্ধ)
আবু জাহ্লের উন্থী ছিল ৷ বায়তুল্লাহ পৌছতে বাধা প্রাপ্ত হলে সেটি সন্তানের প্রতি প্রকাশিত
মায়া ও অনুরাগের ন্যায় অনুরাগে প্রকাশ করতে লাগল ৷ ইবন মাজা (র) আবু বকর ইবন আবু
শায়রা আলী ইবন মুহাম্মদ (র) সুত্রে হাদীসটি আংশিক রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইমাম আহমদ
(র) আরো বলেন, ইয়াকুব (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, “বিদায়
হরুজ্জ রাসুলুল্লাহ (সা) একশ’ উটের কাফেলা পাঠালেন ৷ যার ত্রিশ (?) টি নিজের হাতে নাহ্র
করলেন এবং বাকীগুলির জন্য আলী (না)-কে হুকুম করলে তিনি সেগুলি নাহ্র করলেন ৷ তিনি
“এগুলির গোশৃত, চামড়ার জিন-গদী গুলি জনতার ম্যাঝে বন্টন করে দাও , কসাইদের কিন্তু
এ থেকে কিছুই দেবে না; এবং প্রতিটি উট হতে আমাদের জন্য এক এক টুকরা নিয়ে সে
গুলি একটি ডেগচীতে রেখে পাকাবে আমরা তার পােশৃত খাব এবং তার ঝোল খাবো ৷
আলী (রা) তাই করলেন ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে মুজাহিদ (র) আলী (রা)-র হাদীসে সাবস্তে
হয়েছে যে, আলী (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে তার উট পালের ব্যবস্থাপনা করার,
যে গুলির গোশৃত-চামড়া গদীসমুহ সাদাকা করে দেয়ার এবং তা থেকে কসাইকে কিছুই না
দেয়ার হুকুম করলেন ৷ তিনি বললেন, “আমরা কসাইকে নিজেদের
থেকে দিয়ে দিব ৷ ”

আবু দাউদ (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন হাতিম (র) আরাফা ইবনৃল হারিছ আল-কিনদী (রা)
সুত্রে বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে দেখেছি যখন তার কাছে (কুরবানীর) উটগুলি নিয়ে ,
আসা হল ৷ তিনি বললেন, “আবু হাসান (আলী)-কে আমার কাছে ডেকে আন ৷ ” তখন আলী
(র)-৫ক তার কাছে ডেকে আনা হলে তিনি বললেন, ন্-৩১এ ঞাএ এ-ষ্ “তুমি বল্লমের
নিম্নভাগ ধরে রাখ ৷” রাসুলুল্লাহ (সা) নিজে বল্লমের উপরের দিকটা ধরলেন ৷ পরে দুজনে তা
দিয়ে উটগুলি জখম (জবাই) করলেন ৷

এ কাজ সমাধা করে তিনি নিজের খচ্চরে’ আরোহণ করলেন এবং আলী (রা) কে সহ-
আরােহী করলেন ৷ এ হাদীস একাকী আবু দাউদ (র) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ ও পাঠে
বিরলতা’ রয়েছে ৷ আল্লাহ্ সমধিক অবগত ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আহ্মদ ইবনুল হাজ্জাজ (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে, তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) জামরাতুল আকাবায় কংকর মারার পরে কুরবানী করলেন এবং তারপর
মাথা কামালেন ৷

ওদিকে ইবন হাযম (র) দাবী করেছেন যে, নবী করীম (সা) তার বিবিগণের পক্ষে একটি
গরু কুরবানী করেছিলেন মিনায় তিনি একটি গরু কুরবানী জন্য নিয়ে এসেছিলেন ৷ আর তিনি
নিজে দুটি সৃশ্ৰী ও হৃষ্টপৃষ্ট দুম্বা কুরবানী করেছিলেন ৷

নবী কধীম (সা) এর সুবারক মাথা মুণ্ডনের বিবরণ

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুর রাযযাক (র) ইবন উমর (বা) হতে এ মর্মে যে, বর্ণনা
করেন রাসুলুল্পাহ (সা) তার হরুজ্জ মাথা মুণ্ডন করেন ৷ নাসাঈ (র)-ও এ হাদীস রিওয়ায়াত
করেছেন ৷ বুখারী (র) বলেন, আবুল য়ামান (র) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) বলতেন, রাসুলুল্লাহ
(সা) তার হভ্রুজ্জর সময় মাথা মুণ্ডন করেছিলেন ৷” মুসলিম (র)-এ হাদীসটি রিওয়ায়াত
করেছেন ৷ বুখাবী (র) আরো বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আসমা (র) নাফি (র) হতে
এ মর্মে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এবং তার সাহাবীগণের একটি
দল মাথা ঘুণ্ডালেন এবং অন্য কতকে চুল ছাটিয়ে ফেললেন ৷ মুসলিম (র)-ও এ হাদীসটি
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এতে তিনি অধিক বলেছেন, আবদুল্লাহ (বা) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা)
বললেন, “আল্লাহ (মাথা) মুণ্ডনকারীদের রহম করুন ৷ (একবার কিৎবা
দুবার) ভীরা (সাহাবীগণ) বললেন, ইয়া রড়াসুলুল্পাহ! “আর চুল যারা ছাটাই করেন তাদেরও ? ৷
তিনি বললেন ৷ “আর চুল যারা ছটিাই করে তাদেরও (রহম করুন) ! “মুসলিম (র)
আরো বলেন, আবু বকর ইবন আবু শায়বা (র) ওর্কী ও আবু দাউদ তায়ালিসী)ইয়াহয়া
ইবনুল হুসায়ন (র)-এর দাসী সুত্রে বনর্না করেছেন, বিদায় হরুজ্জ রাসুলুল্লাহ (না)-কে মাথা
মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার এবং চুল ছাটাই কারীদের জন্য এক বার দুআ করতে শুনেছেন ৷
তবে রাবী ওকী (র) বিদায় হব্লুজ্জ’ শব্দটি বলেন নি ৷ অনুরুপ, মুসলিম (র) এ হাদীসটি মালিক
ও আবদুল্লাহ (উবায়দুল্লাহ) (র) সুত্রে ইবন উমর হতে; ভিন্ন সনদে আবু হুরায়রা (বা) হতে
রিওয়ায়াত করেছেন

মুসলিম (র) বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়হ্ইয়া (র) আবাস (বা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেন
যে, রাসুলুল্লাহ (সা) মিনায় আগমন করে জামরড়ার কাছে পৌছলেন এবং ৎকর মারার পরে
মিনার অবস্থান ক্ষেত্রে ফিরে এলেন এবং কুরবানী করলেন ৷ তারপর ফৌরকারকে কামাও
“বলে মাথার ডান দিকে ইংগিত করলেন, তারপর বাম দিকে ইংগিত করলেন ৷ তারপর কর্তিত
চুল লোকদের দিয়ে দিতে লাগলেন ৷ একটি রিওয়ায়াত রয়েছে যে, তিনি তার মাথার ডান
দিক কামিয়ে তার কেশ এক পাছি দুপাছি করে লোকদের মাঝে বন্টন করে দিলেন এবং বাম
দিকের চুল আবু তালহা (রা) কে দিয়ে দিলেন ৷ তার অন্য একটি রিওয়ায়াত রয়েছে যে, নবী
করীম (সা) ডান দিকের অংশ আবু তালহা (বা) কে দিয়েছিলেন, এবং বাম দিকের অংশও
তাকে দিয়ে তা জনতার মাঝে বিতরণ করে দিতে বললেন ৷ ইমাম আহ্মদ (র) আরো বলেন,
সুলায়মড়ান ইবন হড়ারব (র) আনন্দে (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.