buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

নবী করীম (সা) এর বরকতে খাদ্য বৃদ্ধি

তারপর যখন দৃপুরের উত্তাপ তীব্র হল তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) দৃশ্যমান হলেন ৷ তারা তখন
বলল, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! আমরা পিপাসার মরে গেলাম, আমাদের ঘাড়সমুহ অর্থাৎ ঘাড়ের
শিরাসমুহ ছিড়ে যাচ্ছে ৷ তখন তিনি বললেন, তোমরা মরবে না ৷ এরপর আবু কাতাদাকে ,
বললেন, হে আবু কাতদাে ! সেই উবুর পাত্রটি নিয়ে এসো ৷ আমি সেটা তার কাছে নিয়ে
আসলাম ৷ তিনি বললেন, আমার পেয়ালাটি খুলে নিয়ে এসো! তখন আমি তা খুলে তার কাছে
নিয়ে আসলাম ৷ তখন তিনি তাতে সেই (উবুর পাত্রের) পানি ঢালতে লাগলেন এবং
লোকদেরকে পান করাতে থাকলেন ৷ এ সময় লোকজন ভিড় করল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
হে লোকসকল৷ তোমরা পরস্পর সদাচারের সাথে ধীরস্থিরভাবে পান কর, কেননা, তোমাদের
প্রত্যেকেই তৃপ্তি ভরে পান করতে পারবে ৷ এভাবে লোকেরা সকলে পান করল ৷ শুধু মাত্র আমি
এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা) বাকি থা কলাম ৷ তখন তিনি পানি ঢেলে আমাকে বললেন, আবুকাতাদা !
তুমি পান করে নাও ৷ আবুকাতাদা বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি আগে পান
করুন তিনি বললেন, যে পান করায় তাকে সবশেষে পান করতে হয় ৷ তখন আমি পান করলাম
এবং তিনি আমার পর পান করলেন, আর যে পরিমাণ পানি ছিল তার সমপরিমাণ অবশিষ্ট রয়ে
গেল ৷ এ সময় সাহাবাদের সংখ্যা ছিল তিনশ’ ৷

আবদুল্লাহ বলেন, ইমরান ইবন হুসায়ন আমাকে জামে মসজিদে এই হাদীস বর্ণনা করতে
শুনে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পরিচয় বল ৷ আমি বললাম, আমি আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ আল
আনসারী ৷ তিনি বললেন, ঘরের খবর ঘরের ল্যেকই বেশি জানে, ভেবে-চিত্তে হাদীস
রিওয়ায়াত করবে, কেননা আমি ঐ রাত্রের সেই সাতজনের একজন ৷ আমি যখন হাদীস বর্ণনা

শেষ করলাম, তিনি বললেন, আমার ধারণা ছিল না যে, আমি ছাড়া অন্য কেউ এই হাদীস
সংরক্ষণ করেছে ৷
হাম্মাদ ইবন সালামা, হুমায়দ আত তবীল আবু কাতদাে আল-মাওসেল সুত্রে এরুপ
রিওয়ায়াত করেছেন এবং অতিরিক্ত একথা বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন সফরে রাত্রিকালে
যাত্রা বিরতি করে বিশ্রাম করতেন তখন তার ডান হাতকে বালিশ রুপে ব্যবহার করতেন, আর
প্রভাতকালে যাত্রা বিরর্তিকালে তার মাথা রাখতেন ডান হাতের তালুতে এবং কনুই পর্যন্ত হাত
খাড়া রাখতেন ৷ মুসলিম ও শায়বান ইবন ফাররুখ আ বু কাতদাে আলহারিছ ইবন রিরঈ
(রা) সুত্রে সম্পুর্ণ হড়াদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন এবং হাম্মাদ ইবন সালামার হাদীস সংগ্রহ
থেকে তার সর্বশেষ সনদেও তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷

হযরত আনাস থেকে বর্ণিত এরুপ একটি হাদীস

বায়হাকী আবু ইয়ালার হাদীস সংগ্রহ থেকে আনাস ইবন মালিকের বরাতে বর্ণনা
করেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুশরিকদের বিরুদ্ধে এক বাহিনী প্রস্তুত করলেন ৷ এদের
মাঝে আবু বকর (রা)ও ছিলেন ৷ তিনি র্তাদেরকে বললেন, তোমরা দ্রুত চলে যাও ৷ কেননা
তোমাদের ও মুশবিকদেরমড়াঝে একটি পানির উৎস রয়েছে ৷ মুশরিকরা যদি তোমাদের আগে
সেই পানির উৎসের দখল নিয়ে নেয় তাহলে তা সকলের জন্য কষ্টদায়ক হবে আর তোমরা
তোমাদের বাহনসমুহ ভীষণ পিপাসার শিকার হয়ে ৷ আনাস (রা) বলেন, আর রাসুলুল্লাহ্
(সা) আটজনকে নিয়ে পিছিয়ে রইলেন ৷ আমি ছিলাম তাদের নবম জন ৷ তিনি তার এ

সঙ্গীদেরকে বললেন, আমরা সামান্য নৈশ বিশ্রাম নিয়ে তারপর অন্যদের সাথে মিলিত হব,
তোমরা কী বল ? তারা বললেন, জী হী! ইয়া রাসুলাল্পাহ্ ! এরপর তারা বিশ্রাম করলেন,
সুর্যতড়াপ তাদেরকে স্পর্শ করার পুর্বে তারা আর জআেত হলেন না ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
জাগ্রত হলেন এবং তার সাহাবাগণও জাগ্রত হলেন ৷ তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা অগ্রসর
হয়ে তোমাদের প্রয়ােজনাদি পুরণ করে নাও ! তখন তারা তা’ করে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে
ফিরে আসলেন ৷ তখন তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের কারো সাথে কি পানি
আছে ? তখন তাদের একজন বললেন, ইয়া রাসুলাল্পাহ্! আমার কাছে একটি উয়ুর পাত্র
রয়েছে, তাতে সামান্য পানি আছে ৷ তিনি বললেন, তুমি তা নিয়ে এসো! তখন লোকটি তা
নিয়ে আসল এবং আল্লাহ্র নবী তা ধরলেন ৷ তারপর উভয় হাত দ্বারা তা মুছলেন, আর তাতে
বরকতের জন্য দৃআ করলেন ৷ তিনি তার সাহাবীগণকে বলতে লাগলেন, এসো, তোমরা উযু
করে নাও ৷ তখন তারা আসলেন আর আল্লাহ্র রাসুল তাদেরকে পানি ঢেলে দিতে থাকলেন ৷
এভাবে তারা সকলে উযু শেষ করলেন ৷ তখন তাদের একজন আযান ও ইকামত দিলেন এবং
রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন ৷ এরপর উয়ুর পাত্রধারী সাহাবীকে তিনি
বললেন, তোমার উয়ুর পাত্র সংরক্ষণ করে রাখ ৷ অচিরেই এর গুরুত্ব প্রকাশ পাবে ৷

একথা বলে তিনি সকলের আগে বাহনে আরোহণ করলেন এবং তার সাহাবীগণকে
বললেন, লোকেরা কি করেছে বলে তোমরা মনে কর ? তখন তারা বললেন, আল্পাহ্ ও তার
রাসুলই অধিক জানেন ৷ তিনি তাদেরকে বললেন, তাদের মাঝে আবু বকর, উমর আছেন ৷
সুতরাং লোকেরা সঠিক পথের দিশা পাবে ৷ এরপর যখন মুসলমানদের বাহিনী সেখানে আগমন
করে দেখতে পেল যে, তাদের পুর্বেই মুশরিকরা সেই পানির উৎসে পৌছে গেছে তখন বিষয়টি
, তাদের জন্য কঠিন হয়ে দেখা দিল, উপরন্তু তারা এবং তাদের বোঝাবহনকারী পশুরা ভীষণ
পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) এসে জিজ্ঞেস করলেন, সেই উয়ুর
পাত্রধারী লোকটি কোথায় ? লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! এইভাে সে এখানে ৷ তিনি
বললেন, তোমার পাত্রটি আমার কাছে নিয়ে এসো ৷ তখন সে তা নিয়ে আসল আর তাতে
সামান্য একটু পানি ছিল ৷ এরপর তিনি বললেন, এলো, তোমরা সকলে পান করে নাও ! আর
তিনি নিজে তাদেরকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন ৷ এভাবে সকলে পান করলেন এবং তাদের
আরোহণের পশু এবং ভারবাহী পশুপালকে পান করালেন এবং তাদের সাথের সকল মশক ও
পানির পাত্র পুর্ণ করে নিলেন ৷

এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও তার সাহাবাগণ মুশরিকদের দিকে অগ্রসর হলেন ৷ এ সময়
আল্লাহ বায়ু প্রবাহ দ্বারা মুশরিকদের আক্রান্ত করলেন এবং মু’মিনদের জন্য তার সাহায্য
অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মু’মিনদেরকে কর্তৃত্ব দান করলেন ৷ ফলে তারা
ৰিপুলসংখ্যক মুশরিককে হত্যা করলেন, বহুসংখ্যককে বন্দী করলেন এবং বহু গনীমত লাভ
করলেন ৷ আর অভিযান শেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাগণকে নিয়ে সহীহ সালামতে
(বিজয়ীরুপে) ফিরে আসলেন ৷

কিছুক্ষণ পুর্বে হযরত জাবির সুত্রে এরুপ একটি রিওয়ায়াত গত হয়েছে ৷ আর এটা
মুসলিম শরীফে বিদ্যমান ৷ আর তাবুক অভিযানের প্রসঙ্গে আমরা ঐ রিওয়ায়াত উল্লেখ করেছি,
যা মুসলিম, মালিক মুআয ইবন জাবাল (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি (সেখানে)

তাবুক অভিযানকালে দুই সালাত একত্র করা সম্পর্কিত হাদীস উল্লেখ করে বলেন, রাসুলুল্পাহ্
(সা) বললেন, আগামীকাল আল্লাহ্ চাইলে তোমরা তাবুকের জলাশয়ে উপনীত হবে ৷ পুর্বাহ্নের
পুর্বে তোমরা সেখানে পৌছতে পারবে না ৷ তোমাদের মধ্যে যেই সেখানে পৌছবে, সে যেন
আমার না আসা পর্যন্ত সেখানকার কোন পানি স্পর্শ না করে ৷ মুআয (রা) বলেন, এরপর
আমরা সেখানে এসে পৌছলাম, অবশ্য দৃই,ব্যক্তি আমাদের পুর্বেই সেখানে পৌছে গিয়েছিল,
আর পানির উত্সটি ছিল সবুজ মাসের গুচ্ছসদৃশ, যা অতি সামান্য সামান্য রুপানি উৎসারিত
করছিল ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (না) তাদের দু’জনকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি তার পানি স্পর্শ
করেছ ? তারা বলল, জী হী ৷ তখন তিনি তাদেরকে তিরস্কার করে বেশ কিছু কথা বললেন ৷
তারপর ণ্লাকেরা সেই পানির উৎস থেকে হাতের কোষ ভরে সামান্য সামান্য পানি নিল ৷
এমনকি তা একটি পাত্রে সংগৃহীত হল ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) সেই (সামান্য) পানি দ্বারা তার
উভয় হাত এবং মুখমণ্ডল বৌত করলেন, তারপর তা আবার সেই পানির উৎসে ঢেলে দিলেন ৷
তখন সেই উৎস থেকে প্রচুর পানি উৎসারিত হতে লাগল ৷ তখন লোকেরা তা থেকে পান
করল ৷
তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে মুআয! আল্লাহ্ যদি তোমাকে দীর্ঘকাল বীচিয়ে
রাখেন তাহলে হয়ত তুমি দেখবে, এখানকার সবকিছু বাগ-বাগিচায় পুর্ণ ৷ আর প্রতিনিধিদল
অধ্যায়ে’ আবদুর রহমান ইবন যিয়াদ ইবন আনউম সুত্রে যিয়াদ ইবন হারিছ আসসদাঈ থেকে
তার প্রতিনিধিরুপে আগমনের ঘটনা আমরা উল্লেখ করেছি ৷ সেখানে তিনি যে দীর্ঘ হাদীস
রিওয়ায়াত করােত্রছা তাতে রয়েছে : তারপর আমরা বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমাদের একটি
কুয়া রয়েছে, শীতকালে আমরা তাতে পর্যাপ্ত পানি পইি এবং সকলে একত্রে অবস্থান করি, আর
গ্রীষ্মকালে তার পানি কমে যায়; তখন আমরা আমাদের আশেপাশের পানির উৎস সমুহে
ছড়িয়ে পড়ি (আর একত্রে থাকা হয় না) ৷ আর ইতিপুর্বে আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি ৷
আমাদের প্রতিরেশীরা আমাদের শত্রু ৷ আপনি আমাদের কুয়ার জন্য দুআ করুন; যেন তার
পানি আমাদের জন্য (সবসময়) পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকে, যাতে আমরা একত্রে থাকতে পারি,
আমাদের আর বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রয়োজন না হয় ৷ তখন তিনি সাতটি কংকর আনালেন এবং তার
হাত দিয়ে সেগুলিকে মললেন এবং সেগুলির মাঝে দুআ পড়ে দিলেন ৷ তারপর বললেন, এই
কংকরগুলি নিয়ে যাও, তোমরা যখন কুয়ার পাড়ে পৌছবে তখন আল্লাহর নাম নিয়ে একটি
একটি করে সেগুলি কুয়ার নিক্ষেপ করবে ৷ আসসদাঈ বলেন, তখন তিনি আমাদেরকে যা
বললেন, আমরা তইি করলাম ৷ এরপর আর আমরা কখনও সেই কুয়ার তলদেশের দেখা
পাইনি ৷ এই হাদীসের মুল অংশ ইমাম আহমদের মুসনাদে এবং ইমাম আবু দাউদ, তিরমিষী
ও ইবন মাজার সুনড়ান সমুহে বিদ্যমান ৷ আর হাদীসখানির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে ইমাম
বায়হাকীর দালাইলুন নবুওয়াত’ গ্রন্থে ৷ নিম্নে ইমাম বায়হাকী প্রদত্ত শিরোনামে তা উল্লেখিত
হল

অধ্যায়
কুবায় অবস্থিত কুয়ায় তার যে বরকত প্রকাশ পেয়েছিল

আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন হুসায়ন আল আলাভী, আবু হামিদ ইবনুশৃ শারকী সুত্রে
ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ থেকে বর্ণনা ক্রেন যে, একবার হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) কুবায়
তাদের কাছে আগমন করলেন এবং তাদের কাছে সেখানকার একটি কুয়ার সন্ধান জানতে
চইিলেন ৷ তখন আমি তাকে তার সন্ধান দিলাম ৷ তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, এই
কুয়ার অবস্থাতো এমন ছিল, কোন ব্যক্তি যদি তার গাধার পিঠে (কয়েক মশক) পানি বহন
করে নিয়ে যেত তাহলেই তা শুকিয়ে যেত ৷ এরপর (একবার) রাসুলুল্লাহ্ (সা) আসলেন, এবং
একটি (বিশাল) বালতিতে সেখান থেকে পানি আমার নির্দোণ দিলেন ৷ এরপর হয় তিনি থেকে
উবু করলেন কিৎবা তাতে থুখু দিলেন ৷ তারপর তার নির্দেশে সেই পানি কুয়ায় ঢেলে দেয়া
হন ৷ রাবী বলেন, এরপর থেকে আর এই কুয়া কখনও ওকায়নি ৷ রাবী বলেন, এরপর আমি
তাকে পেশাব করে এসে উযু করতে এবং উভয়পার্শ্বমাসেহ করে নামায পড়তে দেখেছি ৷

আবু বকর আল বায্যার, আল ওলীদ ইবন আমর আনাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেছেন, একবার রাসুলুল্পাহ্ (সা) এসে আমাদের অতিথি হলেন, তখন আমরা
তাকে জাহিলিয়াতে অড়াননাবুর’ (স্বল্পপা-নির কুপ) নামে খ্যাত আমাদের কুয়ার পানি পান
করালাম ৷ তখন তিনি তাতে থুক দিলেন ৷ তখন থেকে সেই কুয়া আর শুকাত না ৷ তারপর
রাবী বলেন, এই সুত্র (ব্যতীত অন্য কোন সুত্রে হাদীসখানি বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা
নেই ৷

নবী করীম (না)-এর বরকতে খাদ্য বৃদ্ধি

একাধিক স্থানে নবী করীম (না)-এর বরকতে দুধ বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ ইমাম আহমদ
রাওহ মুজাহিদ সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রা) বলাতন, আল্লাহর কলম, ক্ষুধার
তাড়নায় আমি আমার যকৃৎ (বরাবর পেট) মাটিতে চেপে ধরতাম ৷ আর কখনও বা ক্ষুধার
তাড়নায় আমি পেটে পাথর বেধে নিতাম ৷ একদিন আমি ঐ পথের সামনে বসলাম যে পথ
দিয়ে সকলে বের হয় ৷ প্রথমে আবু বকর (রা) বের হলেন ৷ তখন আমি তাকে কিতাবুল্লাহর
একটি আয়াত জিজ্ঞেস করলাম, আমার উদ্দেশ্য ছিল এ কারণে তিনি আমাকে তার সাথে
যেতে বলবেন; কিন্তু তিনি তা করলেন না ৷ এরপর উমর (রা) বের হলেন ৷ তখন আমি
র্তড়ারুকও কিতাবুল্লাহ্র একটি আয়াত জ্যিজ্ঞস করলাম ৷ এবারও আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, হয়ত
তিনি আমাকে তার সাথে যেতে বলবেন ৷ কিন্ত না, তিনিও তা করলেন না ৷ এরপর আবুল
কাসিম (সা) বের হলেন ৷ তিনি আমার ঢেহারার আবেদন এবং মনের অবস্থা বুঝতে পেরে
বললেন, আবু হুরায়রা ! আমি তাকে রললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ্! (হে আল্লাহর রাসুল !
আমি হাযির) ৷ তখন তিনি বললেন, আমার সাথে এসো ৷ এরপর আমি ভিতরে প্রবেশের

অনুমতি প্রার্থনা করলাম, তখন তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন ৷ ভিতরে প্রবেশ করে একটি
পেয়ালায় দুধ দেখতে পেলাম ৷ এ সময় তিনি তার গৃহবাসীদের জিজ্ঞেস করলেন, এই দুধ
তোমরা কোথায় পেলে ? তখন তারা বললেন, অমুক ব্যক্তি (বা অমুক পরিবার রাবীর সংশয়)
আমাদের তা হাদিয়৷ দিয়েছে ৷ তিনি বললেন, হে আবু হুরায়রা ! আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া
রাসুলাল্লাহ্ ! তিনি বললেন তুমি যাও, (মসজিদে নববীর) সুফ্ফাবাসীদের ডেকে নিয়ে এসো !

আবু হুরায়রা বলেন, এই সুফ্ফাবাসীরা ছিলেন ইসলামের অতিথি, তারা কোন
স্বজন-পরিজন কিৎবা ধনসম্পদের আশ্রয় গ্রহণ করেননি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে যখন কোন
হাদিয়৷ আসত, তখন তিনি তার অং ×শ্৷ বিশেষ নিতেন এবং তাদের কাছেও তা থেকে
পাঠাতেন ৷ আর তার কাছে যখন কোন সাদৃক৷ আসত, তখন তার সবর্টুকুই তিনি তাদের কাছে
পাঠাতেন; নিজে কিছুই গ্রহণ করতেন না ৷ আবু হুরায়রা বলেন, তা (রাসুলের নির্দেশ) আমাকে
আশাহত করল; কেননা, আমি আশা করেজ্জিাম যে, ঐ দুধ থেকে যদি কিছুটা পান করতে
পারি তাহলে তা অবশিষ্ট দিন ও রাতের জন্য আমার দেহে শক্তি সঞ্চয় করতে পারব ৷ আর
আমি মনে মনে তাবলাম, আমি হলাম তাদের আহ্বানের দুত ৷ তারা যখন আসবে, তখন
আমাকেই তাদেরকে এই দুধ পান করাতে হবে ৷ আর তারপর আমার জন্য এই দুধের কীইবা
বাকি থাকবে ? কিন্তু আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য না করে তাে কোন উপায়ও নেই ৷
তখন আমি গিয়ে তাদেরকে ডাকলাম এবং৩ তারা এসে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা
করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অনুমতি দিলেন, খনত তারা ভিতরে প্রবেশ করে যার যার
ন্যায় বসলেন ৷ তারপর তিনি আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা, পেয়ালাটি নাও এবং এদেরকে
পান করাতে থাকে৷ ৷ তখন আমি পেয়ালাটি নিলাম এবং তাদেরকে পান করাতে লাগলাম ৷
একজন পেয়ালাটি ধরে তারপর পান করে তৃপ্ত হয়ে তা ফিরিয়ে দেয় ৷

এভাবে আমি সর্বশেষ জনকে পর্যন্ত পান করালাম এব× পেয়ালাটি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
কাছে ফিরিয়ে দিলাম ৷ তিনি তখন পেয়ালাটি নিয়ে তার হাতে রাখলেন ৷ এ সময় পাত্রটিতে
সামান্য দুধ অবশিষ্ট ছিল ৷ এরপর তিনি মাথা তুলে মৃদু হেসে আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা !,
আমি তখন বললাম, লাব্বাইক ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! তিনি বললেন, এখন শুধু আমি আর তুমি
বাকি ৷ আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ !আপনি সত্য বলেছেন ৷ তিনি বললেন, এখন তুমি বস,
পান কর ৷ আবু হুরায়রা বলেন, তখন আমি বসে পান করলাম ৷ তারপর তিনি বললেন, আরো
পান কর, তখন আমি আবার পান করলাম ৷ এভাবে তিনি আমাকে পান কর’ বলতে থাকলেন,
আরা আমিও বারবার পান করতে থাকলাম ৷ অবশেষে আমি বললাম, না ! শ্াপখ ঐ সভার,
যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, আর পান করার কোন উপায় দেখছি না ৷ তিনি বললেন
তাহলে এবার পেয়ালাটি আমাকে দাও ৷ তখন আমি পেয়ালাটি তার কাছে ফিরিয়ে দিলাম ৷
তিনি তখন অবশিষ্ট দুধ (থেকে) পান করলেন ৷ বুখারী আবু নুআয়ম এবং মুহাম্মাদ মুকাতিল
আবদুল্লাহ ইবন মুবারক সুত্রে হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আর তিরমিযী আবৃবাদইবন
ইউনুস ইবন বুকায়র সুত্রে ৷ আর ইমাম তিরমিযী মন্তব্য করেন, হাদীসখানি সহীহ্ ৷
ইমাম আহমদ, আবু বক্র ইবন আয়্যাশ আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ সুত্রে বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেছেন, আমি উক্বা ইবন আবু মুআইতের যেষপাল চরাতাম ৷ তখন (একবার)
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এবং আবু বক্র আমাকে অতিক্রম করলেন ৷ তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ্) আমাকে

বললেন, হে বালক, তোমার কাছে কি দুধ আছে ? ইবন মাসউদ বলেন, আমি বললাম, জী
ই৷ ৷ তবে আমি তে ৷ তার রক্ষক ৷ তিনি বললেন, এমন কোন মাদী মেষ আছে কি যা এখনও
নরের সংস্পর্শে আসেনি ? (তার একথা বলার পর) আমি তার কাছে (তেমন) একটি মাদী
যেষ নিয়ে আসলাম ৷ তখন তিনি তার ওলানে হাত বুলালেন, ফলে তাতে দুধ নামল ৷ তখন
তিনি একটি পাত্রে তা দােহন করলেন ৷ এরপর তিনি নিজে পান করলেন এবং আবু বক্র
(রা) কে পান করালেন ৷ তারপর তিনি ওলান লক্ষ্য করে বললেন, সংকুচিত হও, তখন তা
সংকুচিত হয়ে পুর্বাবন্থায় ফিরে থে ল ৷ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, এরপর আমি তার কাছে এসে

বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! আমাকে আপনি এই কথা থেকে শিখিয়ে দিন ৷ তিনি বলেন, তখন
তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, হে বালক, আল্লাহ তোমাকে রহম করুন! তুমি তো
বেশ সুবােধ ও শিক্ষাপ্রাপ্ত ৷

এছাড়া ইমাম বায়হাকী আবু আওয়ানার হাদীস সংগ্রহ থেকে আবদুল্লাহ্ ইবন
মাসউদের বরাতে তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷ সে রিওয়ায়াতে ইবন মাসউদ বলেন : তখন আমি
তার কাছে অল্প বয়স্ক একটি মাদী যেষ নিয়ে আসলাম ৷ তিনি তার পা তার পায়ের গোছা ও
রানের মাঝে রেখে চেপে ধরে ওলানে হাত বুলাতে লাগলেন এবং দুআ করতে লাগলেন ৷ আবু
বক্র (রা) তখন একটি পাত্র নিয়ে আসলেন আর তিনি তাতে দুধ দোহন করলেন ৷ প্রথমে
আবু বকরকে পান করালেন ৷ তারপর নিজে পান করলেন ৷ তারপর ওলান লক্ষ্য করে বললেন,

ৎকুচিত হয়ে যাও! তখন তা সং কুচিত হয়ে গেল ৷ তখন আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্!

আমাকে এই কথা থেকে শিক্ষা দিন ৷ তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তুমি
তাে বেশ সুবােধ ও সুশিক্ষিত বালক ৷ এরপর আমি তার থেকে সত্তরটি সুরা শ্যিখছি, কোন
মানুষ এ নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করেনি ৷

ইতিপুর্বে হিজরতের আলোচনায় উষ্মে মাবাদের হাদীস এবং নবী করীম (সা) কর্তৃক তার
মেষ দােহনের কথা বিগত হয়েছে ৷ আর তার এই ৫মষটি ছিল শীর্ণকায় ৷ তার ওলানে কোনও
দুধ ছিল না ৷ কিভু তার দুধ দোহন করে তিনি ও তার সাথীগণ তা পান করলেন এবং তার
কাছে দুধের একটি বিশাল পাত্র রেখে গেলেন এবং৩ তার স্বামী এসে তা দেখতে পেলেন ৷

এছাড়া নবী করীম (সা) এর আযাদকৃত দাসগণ ছাড়া যারা তার খিদমত করতেন, তাদের
মধ্যে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ এর আলোচনায় বিগত হয়েছে যে, তিনি যখন রাসুলুল্পাহ্
(সা) এর জন্য আসা দুধ পান করলেন ৷ তারপর রাত্রিকা ৷লে৩ তার নিজের একটি বকরী জবাই
করতে গেলেন তখন তিনি তার ওলানে প্রচুর দুধ দেখতে পেলেন ৷ তারপর তা দােহন করে
অনেক বড় একটি পাত্র পুর্ণ করলেন (হাদীস) ৷

আবু দাউদ তয়ালিসী, যুহায়র ইবনাতু হবার সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (একবার)
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে একটি বকরী নিয়ে আসলেন, তখন তিনি তাকে দােহন করলেন ৷
তখন তিনি বললেন, আমার কাছে তোমাদের সবচে বড় পাত্রটি নিয়ে আস ৷ তখন আমরা
তাকে আট৷ খামীর করার বড় একটি পাত্র এনে দিলাম ৷ তখন তিনি দােহন করে তা পুর্ণ করে
ফেললেন ৷ তারপর বললেন, তোমরা এবং তোমাদের প্রতিবেশীরা পান কর ৷

বায়হাকী, আবুল হুসায়ন ইবন বুশরান (সাহাবী) নাফি (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে,
তিনি বলেছেন, কোন এক সফরে আমরা রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর সাথে ছিলাম, আমাদের সংখ্যা

ছিল চারশ’র মত ৷ পথে আমরা পানিশুন্য এক প্রাম্ভরে যাত্রা বিরতি করলাম ৷ তখন তার
সাহাবীগণেৱ জন্য তা কষ্টকর হল, কিন্তু তারা বললেন, আল্পাহ্র রাসুলই অধিক জানেন ৷
সাহাবী নাফি বলেন, এ সময় দু’শিৎওয়ালা ছেটি একটি বকরী এসে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সামনে র্দাড়াল ৷ তখন তিনি এটাকে দোহন করলেন ৷ তারপর নিজে সেই দুধ পান করে তৃপ্ত
হলেন এবং তার সাহাবাগণাকও পান করিয়ে পরিতৃপ্ত করলেন ৷ তারপর বললেন, হে নাফি ৷
তুমি তাকে আজ রাতে হাতছাড়া করো না, অবশ্য আমার মনে হয় না তুমি তা পারবে ৷ তিনি
বলেন, এরপর আমি এটাকে ধরলাম এবং একটি খুটি পুতে তার সাথে দড়ি দিয়ে (ভালভাবে)
বেধে রাখলাম ৷ তারপর আমি রাতের একাৎশে উঠে দেখলাম বকরীটি নেই, আর আমি
দড়িটিকে পড়ে থাকতে দেখলাম ৷ তখন আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে আসলাম এবং তিনি
আমাকে প্রশ্ন করার পুর্কেহ আমি তাকে বিষয়টি অবহিত করলাম ৷ তখন তিনি বললেন, হে
নাফি! যিনি ওটাকে নিয়ে এসেছিলেন, তিনিই ওটা নিয়ে গেছেন ৷ বায়হাকী বলেন, মুহাম্মাদ
ইবন সাদ খালফ ইবন ওলীদ আবান সুত্রে হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আর
বর্ণনাসুত্র এবং পাঠ উভয়টির দিক থেকেই হাদীসটি অত্যন্ত গরীব’ ৷ তারপর বায়হাকী আবু
সাঈদ আল-মালীনী আবু বকর (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম সা’দ সুত্রে বর্ণনা করেন

যে, তিনি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আমার জন্য বকরীটি দোহন কর ৷ তিনি
বলেন, আর আমার জানা মতে যে স্থানে কোন বকরী ছিল না ৷ তিনি বলেন, এরপর আমি
এসে (দেখলাম বকরীটি দৃধে পুর্ণ) সাদ বলেন, তখন আমি দুধ দোহন করে বকরীটিকে
দেখেশুনে রাখলাম এবং এটাকে দেখে রাখতে ণ্লাকজনকে বললাম ৷ রাবী বলেন, এরপর
আমরা সফরের প্রন্তুতিতে ব্যস্ত হওয়ায় তা হারিয়ে গেল ৷ তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্!
ৰ্জ্জীটি উধাও হয়ে গেছে ৷ তিনি বললেন, তার একজন মালিক রয়েছেন ৷ এটাও বর্ণনাসুত্র ও
পাঠের বিবেচনায় অত্যন্ত পরীব’ হাদীস ৷ এর সনদে অজ্ঞাত পরিচয় রাবী বিদ্যমান ৷ আর প্রাণী
ম্পের্কিত মুজিযা বর্ণনায় হরিণীর ঘটনা সম্বলিত হাদীস অচিরেই আসছে ৷

নবী (সা) কর্তৃক উম্মু সুলায়মের ঘি বর্ধন

হাফিয আবু ইয়ালা, শায়বান আনাস (রা) সুত্রে তার আম্মা সম্পর্কে বর্ণনা করেন ৷
তিনি (আনাস) বলেন যে, তার (মায়ের) একটি বকরী ছিল ৷ তিনি তার দুধের ঘি একটি
মাটির বয়ামে সংগ্রহ করলেন ৷ বয়ামটি পুর্ণ করার পর তিনি তার রাবীবাকে১ দিয়ে (রাসুলুল্লাহ্
সাএর কাছে) পাঠালেন ৷ তিনি তাকে বললেন, হে রাবীবা, এই ঘিয়ের বয়ামটি রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর কাছে পৌছে দিয়ে দাও ৷ তিনি তা ব্যঞ্জনরুপে ব্যবহার করতে পারবেন ৷ তখন
রাবীবা গিয়ে তার কাছে এসে বলল, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! ঘিয়ের এই বয়ামটি উন্মু সুলায়ম
আপনার কাছে পাঠিয়েছেন ৷ তিনি তখন তার ঘরের লোকদেরকে বললেন, তোমরা তার
বয়ামটি খালি করে দাও ৷ তখন বয়ামটি খালি করে তাকে দিয়ে দেয়া হল ৷ এরপর সে তা
নিয়ে ফিরে আসল ৷ উম্মু সুলায়ম তখন তার ঘরে ছিলেন না ৷ তখন সে বয়ামটি একটি পেরেকে
ঝুলিয়ে রাখল ৷ এরপর উম্মু সুলায়ম ঘরে ফিরে দেখলেন বয়ামটি পুর্ণ, তা থেকে টপাটপ করে

১ ৰ্াৰীৰা শব্দটি দাই এবং সতীন কন্যা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে ৷ এখানে ঠিক কোন অর্থে শব্দটি
ব্যবহৃত তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল ৷ এখানে রাবীৰা নামও হতে পারে ৷ — জদ্যোলাবাদী (সম্পাদক)

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest