পর্দা লঙ্গনকারী শিক্ষক ইমামের পিছনে নামাযের বিধান৷ এবং ইমাম কেমন হওয়া উচিত?

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদের ইমাম আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদেরকে পড়ান। প্রায় মেয়েরা-ই চেহারা খোলা রেখে বেপর্দায় ক্লাসে বসে৷ জানার বিষয়
হল, এভাবে পর্দার বিধান লঙ্ঘনকারী ইমামের পিছনে নামায পড়ার বিধান কী? বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানতে চাই।
উত্তর
সহশিক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি শরীয়ত পরিপন্থী। পর্দার বয়স হয়ে যাওয়ার পর গায়রে মাহরাম মেয়েদেরকে বেপর্দায় সরাসরি পড়ানো নাজায়েয। এতে পর্দার ফরজ হুকুম লঙ্ঘন করার কারণে কবিরাহ গুনাহ হয়৷ এ ছাড়াও আরো অনেক গুনাহর আশঙ্কা রয়েছে। নিয়মিত এমন গুনাহর কাজে লিপ্ত ব্যক্তি ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়। অতএব উক্ত ব্যক্তি ঐ সহশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়। এ ধরনের ব্যক্তির ইমামতি মাকরূহে তাহরীমী। তবে এমন ব্যক্তির পিছনে নামায আদায় করলেও তা মাকরুহ এর সহিত আদায় হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে ইমামতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট মাসআলা- মাসাইল জানেন এবং সুন্নতের অনুসারী পরহেযগার ব্যক্তিই এ পদের যোগ্য।
অতএব, মসজিদ কমিটির কর্তব্য হল, যথাসম্ভব উপযুক্ত ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নির্বাচন করা,প্রকাশ্যে গুনায় লিপ্ত কিংবা শরীয়তের বিধানের প্রতি উদাসীন ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ না দেওয়া।
-রদ্দুল মুহতার ১/৫৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯২; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৫৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.