প্রায় ২৫ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে, দুই মেয়ে…

প্রশ্ন
প্রায় ২৫ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে, দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী রেখে ইন্তেকাল করেন। এত বছর পর্যন্ত তাদের স্থাবর সম্পত্তি (জমিজমা) ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা হয়নি। এখন সে সম্পত্তি শরীয়ত মোতাবেক বণ্টন করা হবে। অতীতে মরহুমের ছেলে ঐ স্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু টাকা খরচ করেছে (কারণ কিছু জমি নিয়ে মামলা মুকাদ্দমা সংক্রান্ত ঝামেলা ছিল, যা নিষ্পত্তি করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে ইত্যাদি) তবে মেয়েরাও মাঝেমধ্যে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে খরচে শরিক হয়েছিল। এখন সম্পত্তি বণ্টনে ছেলে দাবি করছে যে, যত টাকা সে অতীতে খরচ করেছে তার সমান ভাগ মেয়েদেরকে নিতে হবে এবং ঐ টাকার যে অংশ তাদের ভাগে পড়বে তারা এর দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হবে। সে এর কারণ দেখাচ্ছে যে, অতীতের চেয়ে বর্তমানে টাকার মূল্য কমে গেছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, ছেলের দাবি মোতাবেক মেয়েদেরকে তাদের অংশের চেয়ে বেশি আদায় করতে হবে কি? শরীয়ত মোতাবেক তারা এখন কত টাকা পরিশোধ করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ এজমালি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে যত টাকা খরচ হয়েছে অর্থাৎ ছেলে যা খরচ করেছে এবং মেয়েরা মাঝেমধ্যে যা দিয়েছে সবগুলো হিসাব করে প্রত্যেক ওয়ারিসের উপর তাদের হিস্যা অনুপাতে বর্তাবে। প্রশ্নোক্ত ওয়ারিসদের হিস্যা হল : স্ত্রী : ১২.৫%, ছেলে : ৪৩.৭৫% এবং প্রত্যেক মেয়ে : ২১.৮৭৫% করে। অতএব মরহুমের স্ত্রী তার হিস্যা অনুসারে উক্ত খরচের এক অষ্টমাংশ বহন করবে। অতপর অবশিষ্ট খরচের দুই চতুর্থাংশ ছেলে, একভাগ প্রথম মেয়ে এবং অপর ভাগ দ্বিতীয় মেয়ে বহন করবে। মেয়েরা পূর্বে যা খরচ করেছে তা বাদ দিয়ে তাদের অংশের বাকি টাকা তাদের ভাইকে পরিশোধ করবে। এজমালি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে ছেলে অন্যদের পক্ষ থেকে যা খরচ করেছে তা ঋণ হিসেবে ধর্তব্য হবে। তাই প্রত্যেক ওয়ারিসের হিস্যা অনুপাতে যত টাকা আসে তত টাকাই তার প্রাপ্য। এক্ষেত্রে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার অজুহাতে মেয়েদের থেকে তাদের হিস্যার অতিরিক্ত দাবি করা জায়েয হবে না। অবশ্য ছেলে সকলের পক্ষ থেকে নিজ টাকা দ্বারা কাজটি সমাধা করার জন্য সওয়াবের অধিকারী হবে। -আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬২; রাসাইলে ইবনে আবেদীন ২/৬২; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ১৩০৮; আলমাবসূত, সারাখসী ২৯/১৪৮; আসসিরাজী ফিলমিরাছ ১২

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.