বদর কুয়ায় কাফির সর্দারদের লাশ নিক্ষেপ

“ঐটা ছিল একটি বিশেষ ফযীলত ৷ বিক্ষু বর্তমানে এর সাথে তুলনা করা যায় এমন দু’টি
পেয়ালার সাথে যায় একটিতে আছে শুভ্র দুধ এবং অপরটিতে পানি ৷ কিন্তু পরিবর্তীতে উভয়টিই
প্রস্রাবে পরিণত হয়ে যায় ৷”

অনুরুপ আরেকটি ঘটনা

ইমাম বায়হাকী বলেন : আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয রাফি’ ইবন মালিক থেকে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে এক পর্যায়ে উবাই ইবন খাল্ফের চারপাশে লোকজনের জটলড়া দেখতে
পাই ৷ আমি অগ্রসর হয়ে সেখানে গেলাম ৷ দেখলাম, তার পরিহিত বর্ম বগলের নীচ থেকে
কাটা ৷ সেই র্কাক দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে আমি তাকে আঘাত করলাম ৰু এ সময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে
একটি তীর এসে আমার চোখ কুড়ে যায় ৷ রাসুল (সা) আমার চোখে একটু থুথু দিলেন ও দৃআ
করলেন ৷ এতে আমার চোখে আর কোন কষ্ট অনুভব হল না ৷ হড়াদীছটি বর্ণিত সুত্রে খুবই
অপরিচিত, যদিও এর সনদ উত্তম ৷ সিহাহ্ সিত্তাহ্র মুহাদ্দিছগণ এ হাদীছটি বর্ণনা করেননি ;
অবশ্য তাবারানী এটা ইবরাহীম ইবন মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ বদর যুদ্ধে হযরত আবু
বকর সিদ্দীক তার পুত্র আবদুর রহমানকে ডেকে বললেন, হে দৃরাচড়ারা আমার ধন-সম্পদ
কোথায় ? আবদুর রহমান তখনও মুসলমান হননি এবং ঘুশরিকদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করতে
এসেছিলেন ৷ তিনি কবিতার মাধ্যমে জবাবে বললেন : (কবিতার অর্থ৪) ঘোড়া, যুদ্ধাস্ত্র ও
পথভ্রষ্ট বৃদ্ধদের হত্যা করার তরবারি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ৷ উমাবীর মাগড়াযী গ্রন্থ সুত্রে
আমরা বর্ণনা করেছি যে, বদর যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও আবু বকর সিদ্দীক নিহত শত্রুদের
লাশের মধ্য দিয়ে ইাটছিলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : আমরা এদের শিরগুলাে
কাটবাে ৷ আবু বকর সিদ্দীক (রা) বললেন : যারা আমাদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন
চালিয়েছিল এবং অহংকার প্রদর্শন করত এগুলো হচ্ছে তাদেরই শির ৷

বদর কুয়ায় কাফির সর্দারদের লাশ নিক্ষেপ

ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াযিদ ইবন রুমান উরওয়া সুত্রে আইশা (রা) থেকে আমার নিকট
বর্ণনা করেন ৷ বদর যুদ্ধে নিহত কাফিরদেব লাশ বদর কুয়ায় নিক্ষেপ করতে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
নির্দেশ দেন ৷ নির্দেশ মত লাশগুলাে তাতে নিক্ষেপ করা হয় ৷ কিন্তু উমাইয়া ইবন খালফেব লাশ
নিক্ষেপ করা হল না ৷ কেননা, তার লাশ ফুলে-কেপে পরিহিত বর্মের সাথে আটকে গিয়েছিল ৷
সাহাবীগণ বর্মের ভিতর থেকে লাশ টেনে বের করার চেষ্টা করলে মাংস ছিড়ে যেতে থাকে ৷
তখন ঐ অবস্থায় রেখেই তাকে মাটিচাপা দেয়া হয় ৷ লাশ নিক্ষেপ শেষ হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
কুপের পাশে দাড়িয়ে তাদের উদ্দেশ করে বলেন : হে কুপের অধিবাসীরা ৷ তোমাদের
প্রতিপালক তোমাদের সাথে যে ওয়দাে করেছিলেন, তা কি তোমরা যথাযথভাবে পেয়েছ ?
আমার প্রতিপালক আমার সাথে যে ওয়দাে করেছিলেন, তা তো আমি যথাযথভাবে পেয়েছি ৷
হযরত আইশা (রা) বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি মৃত লোকদের
সাথে কথা বলছেন ? জবাবে রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তারা এখন ভালভাবে জোন গিয়েছে যে,
তাদের প্রতিপালক তাদের সাথে যে ওয়দাে করেছিলেন তা সঠিক ৷ হযরত আইশা (রা) বলেন :

লোকজন বলাবলি করে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, আমি তাদেরকে যা বলছি তারা তা
শুনতে পাচ্ছে’ ৷ প্রকৃত পক্ষে তিনি বলেছিলেন, তারা জানতে পারছে’ ৷

ইবন ইসহাক আনাস ইবন মালিক (বা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ্
(না)-এর সাহাবীগণ একদা মধ্যরাতে শুনতে পান তিনি আহ্বান করছেন : হে কুপের
অধিবাসীরা, হে উতবা ইবন রাবীআ, হে শায়বা ইবন রাবীআ, হে উমাইয়া ইবন খাল্ফ, হে
আবু জাহ্ল ইবন হিশাম ৷ এভাবে কুপের মধ্যে নিক্ষিপ্ত প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে বলেন :
তোমরা কি তা সত্যরুপে পেয়েছ, যার ওয়াদা তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে করেছিলেন ?
আমার প্রভু আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমি তো তা সত্যরুপে পেয়েছি ৷ সাহাবীগণ তখন
বললেন, ইয়া বাসুলাল্পাহ্! আপনি কি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলছেন, যারা মরে পচে
পলে ণ্যেছ ? জবাবে তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তোমরা ওদের থেকে বেশী শুনছ না ৷
অবশ্য তারা আমার কথার উত্তর দিতে পারছে না ৷

ইমাম আহমদ (র) ইবন আবু আদী সুত্রে আনাস (রা) থেকে অনুরুপ ঘটনা বর্ণনা করেছেন
এবং তা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্ ৷ ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে কতিপয়
বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, বাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন হে কুপের বাসিন্দারা৷ তোমরা ছিলে
তোমাদের নবীর নিকৃষ্টতম আত্মীয়-স্বজন ৷ তোমরা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছ ৷ অন্যরা
আমাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে ৷ তোমরা আমাকে স্বদেশ থেকে বের করে দিয়েছ ৷ অন্যরা
আমাকে আশ্রয় দিয়েছে ৷ তোমরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছ ৷ আর অন্য লোকেরা
আমাকে সাহায্য করেছে ৷ এখন কি তোমরা সেই প্রতিদান যথার্থ পেয়েছ, যে সম্পর্কে তোমাদের
রব তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ? কেননা, আমি সেই প্রতিফল যথার্থভাবে পেয়ে গেছি, যা
দেয়ার প্রতিশ্রুতি আমার বব আমাকে দিয়েছিলেন ৷

ইবন কাহীর বলেন : হযরত আইশা (রা) যদি কুরআনের কোন আঘাতের সাথে বিশেষ
কোন হাদীছের বাহ্যিক দৃষ্টিতে সংঘর্ষ হচ্ছে বলে মনে করেন, তখন তিনি সেই হাদীছের তাবীল
(ব্যাখ্যা) করে থাকেন ৷ এটা যে ধরনের ৷ হযরত আইশার মতে, আলোচ্য হাদীছটি :

আয়াতের সাথে সংঘষিকি ৷ যার অর্থ হচ্ছে, “তুমি তাদেরকে শুনাতে সমর্থ হবে না, যারা কবরে
রয়েছে’ (৩৫ : ২২) ৷ প্রকৃতপক্ষে হাদীছের সাথে এ আঘাতের কোন সংঘর্ষ নেই ৷ সাহড়াবায়ে
কিরাম ও পরবর্তীকালের অধিকাত্শ বিজ্ঞ আলিম এ হাদীছের শাব্দিক অর্থই গ্রহণ করেছেন যা
হযরত আইশার মতের বিপরীত এবং এটাই সঠিক ৷ ইমাম বুখারী বলেন : উবায়দ ইবন
ইসমাঈল উরওয়া থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, হযরত আইশার নিকট আলোচনা করা হল,
ইবন উমর রাসুলুল্লাহ্র বরাত দিয়ে বলছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটি করার
কারণে কবরে শাস্তি দেয়া হয় ৷ আইশা (রা) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্
(না) তো একথা বলেছিলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার অপরাধ ও গোনাহের কারণে শাস্তি দেয়া
হচ্ছে ৷ অথচ তার পরিবারের লোকজন এখন তার জন্যে কান্নাকাটি করছে ৷ হযরত আইশা (বা
বলেন, ইবন উমরের এ কথাটি তার ঐ কথারই অনুরুপ, যা রাসুলুল্লাহ্ (না) ঐ কুপের পাশে
দাড়িয়ে বলেছিলেন, যে কুপে বদর যুদ্ধে নিহত ঘুশরিকদের লাশ নিক্ষেপ করা হয়েছিল ৷ তিনি
তাদেরকে যা বলার তা বললেন ৷ ইবন উমর বলছেন যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন আমি যা
বলছি৩ বা তা সবই শুনতে পাচ্ছে ৷ আসলে তিনি বলেছিলেন এখন তারা ভালই বুঝতে
পারছে যে আমি তাদেরকে যা কিছু বলেছিলামত ৷ছিল যথার্থ ৷ তারপর হযরত আইশা এ
আয়াতাৎশ দুটো তিলাওয়াত করলেনং :

(তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না (৩০০ : ৫২) এবং তুষ্মে ত্যাদরকে শুনাতে সমর্থ হবে
না, যারা কবরে রয়েছে (৩৫ : ২২“) ৷ আইশা (রা) বলেন, এর অর্থ , হল যখন তারা জাহড়ান্নামে
যাবে ৷ ইমাম মুসলিম এ হাদীছ আবু কুরায়ব সুত্রে আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ মৃত
ব্যক্তিকে করবে দাফন করার পর সে বাইরের কথা শুনতে পায় এ সম্পর্কে একাধিক হাদীছে
সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে ৷ জানাযা অধ্যায়ে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব
ইনশা আল্লাহ ৷ এরপর ইমাম বুখারী বলেন ; উছমান ইবন উমর সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷

এ হাদীছটি ইমাম মুসলিম আবু কুরায়ব সুত্রে আবু উসামা থেকে এবং আবু বকর ইবন আবু
শায়বা ও ওয়াকী’ সুত্রে হিশাম ইবন উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম বুখারী বলেন,
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আবু তালহা থেকে বর্ণিত ৷ বদর যুদ্ধের দিন নবী করীম (না)-এর
নির্দেশে চব্বিশজন কুরায়শ সর্দারের লাশ বদর প্রাতরের একটি কুপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ৷
কুপটি ছিল ভীষণ নােৎরা ও কদর্য ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর নীতি ছিল কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে
বিজয় লাভ করলে যুদ্ধের ময়দানে তিন দিন অবস্থান করতেন ৷ সে মতে বদর প্রান্তরে
অবন্থানের৩ তৃতীয় দিলে তিনি তার বাহন প্রস্তুত করার আদেশ দেন ৷ বাহনের উপরে যীন তুলে
বেধে দেয়া হল ৷ এরপর তিনি পায়ে হেটে এগিয়ে গেলেন এবং সড়াহাবীগণ তাকে অনুসরণ করে
পিছনে পিছনে গেলেন ৷ তারা বলেন আমরা মনে করছিলাম, হয়ত কোন প্রয়োজনে তিনি
কোথাও যাচ্ছেন ৷ অবশেষে তিনি ঐ কুপের কিনারে গিয়ে র্দাড়ালেন এবং কুপে নিক্ষিপ্ত নিহত
ব্যক্তিদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে ডেকে বললেন হে অমুকের পুত্র অমুক হে অমুকের
পুত্র অমক ! এখন তো বুঝতে পারছ আল্লাহ্ও ও তার রাসুলের আনুগত্য করা তোমাদের জন্যে
আনন্দকর ছিল কিনা ? আমাদের প্ৰতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তাে
তা সত্য পেয়েছি ৷ তোমাদের প্রতিপালক তােমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরা কি ত
সত্য পেয়েছ ? একথা শুনে হযরত উমর (রা ) বললেন ইযা রাসুলাল্লাহ্ ৷ আপনি অড়াত্মড়াহীন
দেহের সাথে কী কথা বলছেন? রাসুলুল্লড়াহ্ (সা) বললেন, সেই মহান সত্তার কলম ! যার হাতে
মুহাম্মদের জীবন, আমি যা বলছি তা ওদের তুলনায় তোমরা বেশী শুনছ না ৷ কাতড়াদা বলেন
আল্লাহ তার রাসুলের কথা শুনাবার জন্যে তাদের দেহে সাময়িকভাবে প্রাণ সঞ্চার করে
দিয়েছিলেন তাদেরকে ভর্চুসনাস্বরুপ এবং লাঞ্চুনা, কষ্ট , অনুশোচনা ও লজ্জা দেয়ার জন্যে ৷ এ
হাদীছ ইবন মাজাহ্ ব্যতীত অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ সাঈদ ইবন আবু আরুবা থেকে বিভিন্ন সুত্রে

বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমদ ইউনুস, শায়বান, কা৩াদা সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ কাতাদা
আনাস ইবন মালিক থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি আবু তালহার উল্লেখ করেননি ৷ এ
সনদটি সহীহ্ ৷ কিন্তু প্রথমটি অধিকতর সহীহ্ ও প্রসিদ্ধ ৷

ইমাম আহমদ আফ্ফান সুত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ বদর যুদ্ধে নিহত
শত্রুদের লাশ ব সুলুল্লাহ (সা) তিন দিন পর্যন্ত রেখে দেন ৷ অবশেষে লাশে পচন ধরে ৷ তখন
তিনি তাদের কাছে গিয়ে বলেন০ : হে উম৷ ইয়া ইবন খালফ, হে আবু জাহ্ল ইবন হিশাম, হে
উতবা ইবন রাবীআ, হে শায়ব৷ ইবন রাবীআ! ওোমাদের প্রতিপালক তােমাদেরকে যা দেয়ার
ওয়াদা করেছিলেন তা কি তোমরা যথার্থভাবে পেয়েছ ? আমার প্ৰতিপা ৷লক আমাকে যা দেয়ার
ওয়াদ৷ করেছিলেন আমি ওে ৷ তা যথার্থভাবে পেয়েছি ৷

হযরত আনাস বলেন, উমর (রা) রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কথা শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়া
রাসুলা ল্লাহ্! মৃত্যুর তিন দিন পর আপনি তাদেরকে আহ্বান করছেন ? তারা কি আপনার কথা
শুনতে পাচ্ছে ? আল্লাহ্ তো বলেছেন :
ছু৷ এট্রুা
“তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না ৷” তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন সেই সত্তার কসম,
যার হাতে আমার প্রাণ, আমি যা যা বলছি তা তাদের তুলনায় তোমরা অধিক শুনছ না ৷ কিন্তু
তারা উত্তর দিত পারছে না ৷ ইমাম মুসলিম এ হাদীছটি হুদবা ইবন খালিদ সুত্রে হ ম্মাদ ইবন
সালাম৷ থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, হাসসান ইবন ছাবিত এ প্রসঙ্গে নিম্নের
কবিতাটি আবৃত্তি করেন :

“আমি বালুর টিলার উপরে অবস্থিত যয়নাবের বসতব্াটি চিনলাম, যেমনটি চেনা যায়
পুরাতন কাগহ্রজ্যা উপরে (অস্পষ্ট) হস্তাক্ষর ৷ বাতাস প্রবাহিত হয়ে সে বস৩ তবাটিকে দে ৷ল৷ দেয়
এবং প্রতিটি কাল যেঘ৩ তার উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করে ৷ ফলে তার চিহ্ন পুরাতন হয়ে গেছে
এবং তা সে পড়েছে ৷ অথচ এক কালে এখানেই আমার প্রেমিকা বসবাস করত ৷ (ওহে করি!)
প্রতিনিয়ত সেই স্মৃতি স্মরণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখ এবং হৃদয়ের জ্বালা-যন্ত্রণ৷ নিবারণ
কর ৷ মিথ্যা কল্পকাহিনী বলা বাদ দিয়ে সেইসব সত্য ঘটনা বল, যার মধ্যে সন্দেহের কোন
অবকাশ নেই ৷ বদর যুদ্ধে মুশরিকদের মুকাবিলায় মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে যে সৌভাগ্যদান
করেছিলেন, সে কথা বর্ণনা করা সেদিন প্রাত কোলে তাদের কাহিনীকে হিরা পর্বতের ন্যায় (দৃঢ়)
মনে হচ্ছিল ৷ কিন্তু অপরাংহ্র তার গোড়া পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে পড়ল ৷ আমরা আমাদের মধ্য হতে
এমন এক বাহিনী নিয়ে তাদের ঘুক৷ ৷বিল৷ করেছি, যে বাহিনীর যুবক ও বৃদ্ধ সব৷ ৷ই ছিল বনের
সিংহের ন্যায় ৷ তারা যুদ্ধে অগ্নিশিখার মধ্যে মুহাম্মদ (সা) এর সম্মুখে থেকে তাকে হিফাযত
করেছে ৷ তাদের হাতে ছিল হাতলযুক্ত৩ রতবারি এবং যোট৷ গ্রন্থিবিশিষ্ট বর্শ৷ ৷৷ সত্য দীনের
খাতিরে বনু আওসের নেতৃবৃন্দকে বনু নাজ্জ্ব ৷রের লোকজন সাহায্য-সহযোগিতা করেছে ৷ আমরা
আবু জাহ্লকে ধ্রাশায়ী করেছি এবং উতবাকে য়মীনের উপর ছুড়ে মেরেছি ৷ আর শায়বাকে

এমন সব লোকদের মধ্যে নিক্ষেপ করেছি যদি তাদের বৎশ পরিচয় দেয়৷ হয়, তবে তারা
সল্লাত বংশ হিসেবে গণ্য হবে ৷ আমরা যখন তাদের দলবলকে কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করলাম
তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন ৪৫ তোমরা কি এখন আমার কথা
সত্যরুপে পাওনি ? আল্লাহর নির্দেশ অম্ভরকে প্রভাবিত করে ৷ কিন্তু তারা কোন জবাব দিল না ৷
যদি তার! কথা বলতে সমর্থ হত, তবে অবশ্যই বলত যে, আপনি সত্য কথা বলেছিলেন এবং
আপনি ছিলেন সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী ৷ ”

ইবন ইসহাক বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মুশরিকদের লাশ কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করার
নির্দেশ দেন, তখন উত্বা ইবন রবীআর লাশ টেনে-হেচড়ে কুপের নিকট আনা হল ৷ এ সময়
রাসুলুল্লাহ্ (সা) উতৃবার (মুসলমান) ছেলে আবু হুযায়ফার চেহারার দিকে তাকালেন ৷ দেখলেন
যে, সে মর্মড়াহত এবং তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেছে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : হুযায়ফা !
তােমা ৷র পিতার অবস্থা দেখে সম্ভবত তোমার মনে কিছু তা ৷বের সৃষ্টি হয়েছে! হুযায়ফা বললেন
আল্লাহর কসম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! তা নয় ৷ আমি আমার পিতার কুফরী ও হত্যার ব্যাপারে কোন
প্রকারে দ্বিধাগ্রস্ত নই ৷ তবে আমি আমার পিতাকে যথেষ্ট জ্ঞানী প্রজ্ঞাশীল ও উত্তম গুণের
অধিকারী বলে জানতাম ৷ সে জন্যে আশা করেছিলাম যে, এসব গুণ তাকে ইসলামের দিকে
আকৃষ্ট করবে ৷ বিক্ষ্ম যখন দেখলাম যে, তিনি কুফরী অবস্থায়ই মারা গে লেন, তখন আমার যে
আশা পুর্ণ না হওয়ায় আমি মর্মাহত হয়েছি ৷ একথা শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার কল্যাণের জন্যে
দু’আ করলেন ও তার প্রশংসা করলেন ৷ ইমাম বুখারী বলেন : হুমায়দী ইবন আব্বাস সুত্রে
বর্ণনা করেন, তিনি ৷টুদ্বুদ্বু ণ্এ৷ ! মোঃ ৷টুপুর্দুাট্রু ;,;fl (য রা আল্লাহ্র অনুগ্রহের বদলে অকৃজ্ঞতা
প্রকাশ করে) আয়াতাৎত্ত শর ব্যাথ্যায় বলেছেন, আল্লাহর কসম, এরা হল কুরায়শদের মধ্যকার
কাফিররা ৷ আমর বলেন, এরা হল কুরায়শ সম্প্রদায় এবং মুহাম্মদ (সা) )হচ্ছেন আল্লাহর
নিআমত ৷ এবং (নিজেদের সম্প্রদ৷ য়কে তারা ধ্বংসের ঘরে পৌছে
দিয়েছে) আয়াতা ৷ ,এ ৷ ১ অর্থ ,১ ( দোযখ) ৷ এখানে বদরের যুদ্ধের দিনে দোযখে
নিক্ষেপের কথা বুঝান হয়েছে ৷ ইবন ইসহাক বলেন : এ প্রসঙ্গে হ স্নান ইবন ছাবিত তার
কবিতায় বলেন : ,
“আমার কওম যারা তাদের নবীকে আশ্রয় দিয়েছিল এবং গোটা বিশ্ববাসী যখন কুফরীতে
নিমজ্জিত ছিল, তখন তারা তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছিল ৷ এরা ছিল পুর্ব-পুরুষের
উত্তম বৈশিষ্ট্যাবলীর সঠিক উত্তরসুরী ৷ এরা পুণ্যবান আনসারদের সহযোগী ৷ আল্লাহর বণ্টনে
তারা সন্তুষ্ট ৷ বংশীয় মর্যাদায় সম্মানিত শ্রেষ্ঠ নবী যখন তাদের মাঝে আগমন করেন, তখন মধুর
স্বাগত সম্ভাষগে তারা তাকে বরণ করে নেন এবং তারা বলেন, আপনি এখানে নিরাপদে ও
স্বাচ্ছন্দোর সাথে অবস্থান করুন! আপনি শ্রেষ্ঠ নবী, উত্তম প্রতিবেশী ৷ আমরা বড়ই
সৌভ গ্যব ন ৷ তারা তাকে থাক ব ব্যবস্থা করলেন এমন ঘরে, যেখানে কোন ভয়৩ ভীতি ছিল
না ৷ যে এদের প্রতিবেশী হবে এ রকম ঘরই তার থাকবে ৷ ঘুহাজিরপণ যখন হিজরত করে

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫১৫

এখানে আগমন করলেন, তখন এরা নিজেদের ধন সম্পদ তাদেরকে ভাগ করে দিলেন ৷ আর
অংাহ্যকারী ক ফিবদেব তাগে রয়েছে জাহান্নাম ৷ আমরা বদর প্রান্তরের দিকে এগিয়ে গেলাম,
তারাও মৃত্যুর জন্যে সেদিকে এগিয়ে আসল ৷ যদি তারা নিশ্চিততাতবে তাদের পবিণামের কথা
জানত, তবে কিছুওে ই সেদিকে অগ্রসর হত না ৷ ইবলীস তাদেরকে ঘোকাদিয়ে পথ দেখিয়ে
এগিয়ে ৩া নল ৷ তারপর তাদেরকে একাকী ছেড়ে চলে গেল ৷ শয়তান যাকে বন্ধু বানায় তার
সাথে চরম ঘোকাবাজীই করে থাকে ৷ সে বলেছিল, আমি তোমাদের পাশেই থাকর ৷ পরে
তাদেরকে এক নিকৃষ্ট হাটিতে এনে ফেলল, যাতে কেবল লাঞ্চুনা ও অপমানই ছিল ৷ এরপর
যখন আমরা পরস্পরের মুখোমুখি হলাম, তখন শয়তান ণ্াতার সাহায্যকারী দলবল নিয়ে
নেতাদের থেকে কেটে পড়ল ৷ আর একদল দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে ছুটে পালাল ৷

ইমাম আহমদ বলেন : ইয়াহয়া ইবন আবু বকর ও আবদুর রায্যাক ইবন আব্বাস (রা)
থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, বদর যুদ্ধ ) ৷
“হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট কর তাদের হৃদয়ে মোহর করে দাও,
তার! তে! মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ ন! কর! পর্যন্ত বিশ্বাস করবে ন!” ৷ (১০ : ৮৮) ৷ তোমরা এখন
রিক্তহস্ত ৷ সুতরাং মুক্তিপণ গ্রহণ কিংবা হত্যা কর! ছাড়! গত্যন্তর নেই ৷ আবদুল্লাহ বললেন, ইয়!
র!সুলাল্লাহ্! সুহ!য়ল ইবন বায়যাকে এর থেকে বাদ রাখুন কেননা, আমি তাকে ইসলাম গ্রহণের
কথা আলোচনা করতে শুনেছি ৷ এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ্ (স!) নীরব থাকলেন ৷ আবদুল্লাহ্
বলেন, তখন আমি এতে! ভীত হয়ে পড়লাম যে, এমনটি আর কোন দিন হইনি ৷ মনে হচ্ছিল,
আকাশ থেকে আমার উপর বুঝি পাথর বর্ষিত হবে ! কিছুক্ষণ পর র!সুলুল্লাহ্ (স!) বললেন,
সুহ!য়ল ইবন বায়যা ব্যতীত ৷ তখন আমার ভয় কেটে গেল ! আল্লাহ এ সময় আয়াত নাযিল
করলেন :

“দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভুত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর পক্ষে সংগত
নয়” (৮ : ৬ ৭-৬৮ ) ৷ তিরমিযী ও হাকিম আবু যুআবিয়া থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন
মারদুবিয়াহ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ও আবু হুরায়রা থেকে প্রায় এ রকমই বর্ণনা করেছেন ৷ আবু
আইয়ুব আনসারী (রা) থেকেও এরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷ ইবন মারদুবিয়াহ ও হাকিম তার
মুসতাদরাকে উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুসা সুত্রে ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, বদর
যুদ্ধে অন্যান্য বন্দীদের সাথে (রাসুল (না)-এর চাচা) আব্বাসও বন্দী হন ৷ জনৈক আনসার
তাকে বন্দী করেন ৷ আনসাররা তাকে হত্যা করার হুমকি দেন ৷ একথা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
কানে আসে ৷ সকালে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আমার চাচা আব্বাসের চিন্তায় রাত্রে আমার ঘুম
হয়নি ৷ আনসাররা নাকি তাকে হত্যা করতে চায় ৷ হযরত উমর বললেন আমি কি আনসারদের
কাছে যাব ? রাসুলুল্লাহ বললেন, হ্যা যাও ৷ হযরত উমর আনসারদের কাছে গিয়ে বললেন,
আব্বাসকে ছেড়ে দাও ! আনসাররা বলল, আল্পাহ্র কসম , আমরা আব্বাসকে ছাড়বাে না ৷ উমর
বললেন, যদি রাসুলুল্লাহ্র এতে সম্মতি থাকে ? তারা বললেন, রসুলুল্লাহ্র যদি সম্মতি থাকে,
তাহলে ওকে নিয়ে যাও ! হযরত উমর তাকে নিয়ে আসলেন ৷ আব্বাসকে উমর আয়ত্তে নিয়ে
বললেন, ওহে আব্বাস! ইসলাম কবুল কর! আল্লাহর কসম , আমার পিতা খাত্তাবের ইসলাম
গ্রহণের চইিতে তোমার ইসলাম গ্রহণ করা আমার নিকট অধিকতর প্রিয় ৷ কারণ, আমি জানি,
তুমি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসুলুল্লড়াহ্ (সা) অধিক খুশী হবেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বন্দীদের
সম্পর্কে আবু বকর ও উমর (রা)-এর সাথে পরামর্শ করেন ও এ ব্যাপারে আয়াত নাযিলের
বর্ণনা রয়েছে ৷ হাদীছটি বর্ণনা করার পর হাকিম এর সনদকে বিশুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন ৷
বিভু বুখারী ও মুসলিম এ হাদীছ বর্ণনা করেননি ৷ তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ্ সুফিয়ান
ছাওরী সুত্রে আলী (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ) রাসুলুল্লাহ্
(সা)এর নিকট এসে বললেন : বন্দীদের ব্যাপারে আপনার সাহাবীদেরকে ইখতিয়ার দেয়া
হয়েছে তারা ইচ্ছে করলে মুক্তিপণ নিতে পারে কিৎব৷ ইচ্ছে করলে আগামী বছর (যুদ্ধে)
নিজেদের সম-সংখ্যক নিহত হওয়ার শর্তে তাদেরকে হভ্যাও করতে পারে ৷ সাহাবীগণ বললেন,
মুক্তিপণ কিংবা আমাদের থেকে নিহত হওয়া এ হাদীছটি খুবই অপরিচিত ৷ কেউ কেউ একে
মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন উবায়দা থেকে ৷ ইবন ইসহাক ইবন আবু নাজীহ্ সুত্রে ইবন
আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন :

“আল্লাহ্র পুর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্যে তোমাদের উপর
মহাশাস্তি আপতিত হত” (৮ : ৬৮) ৷ এ আঘাতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন ও পুর্ব থেকে বাধা না
দিয়ে আমি কোন অন্যায়ের কারণে কাউকে শাস্তি চ্ছি না এ বিধান যদি আগের থেকে না
থাকত, তবে তোমরা যা গ্রহণ করেছ, তার জন্যে আমি শাস্তি প্রদান করতাম ৷ ইবন আবুনাজীহ
মুজাহিদ থেকেও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন ইসহাক প্রমুখ এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন ৷

আমাশ বলেন, পুর্বে যে বিধান ছিল তা হল এই যে, বদর যুদ্ধে যায়৷ অংশগ্রহণ করেছিল
তাদের কাউকে শাস্তি দেয়া হবে না ৷ সাআদ ইবন আবু ওয়াক্কাস, সাঈদ ইবন জুবায়র ও

আতা ইবন আবু রাবাহ থেকে অনুরুপ বর্ণনা রয়েছে ৷ মুজাহিদ ও ছাওরী বলেন : আল্লাহর
পুর্ব-বিধান হলো বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষমা করে দেয়৷ ৷ ওয়ালিব৷ (র) ইবন আব্বাস
সুত্রে বর্ণনা করেন, পুর্বের কিভাবে লেখা ছিল গনীমত ও মৃক্তিপণ তোমাদের জন্য হালাল ৷ এ
কারণে উক্ত আঘাতের ৫ন্াষে বলা হয়েছে :
াটুাহ্রঠুৰু

“যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ৩ তা বৈধ ও উত্তম বলে ভো ৷গ কর” (৮০ ৬৯) ৷ হযরত আবু
হুরায়রা, ইবন মাসউদ, সাঈদ ইবন জুবায়র , আত৷ , হাসান, কা তাদ৷ ও আমাশ থেকে অনুরুপ
বর্ণিত হয়েছে ৷ ইবন জারীর এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন এবং বুখারী ও মৃসলিমে জাবির ইবন
আবদুল্লাহ বর্ণিত নিম্নের হাদীছ দ্বারা সমর্থন রক্তে করেছেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছেন : আমাকে এমন পাচটি জিনিস দেয়৷ হয়েছে যা অন্য কোন নবীকে দেয়৷ হয়নি ৷ (১)
এক মাসের দুরত্ব পর্যন্ত অবন্থানকারীদের মনে আমার প্রভাব-প্ৰতিপত্তি ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে
সাহায্য করা হয়েছে, (২) ভু-পৃষ্ঠকে আমার জন্যে সিজদার স্থান ও পবিত্র করা হয়েছে ৷ (৩ )
আমার জন্যে গনীমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, যা আমার পুর্বের কোন নবীর জন্যে হালাল
করা হয়নি, (৪) আমাকে শাফাআত করার অধিকার দেয়৷ হয়েছে, (৫) অন্যান্য নবীগণ আপন
আপন সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হয়েছেন ৷ আর আমাকে সমগ্র মানব জাতির জন্যে প্রেরণ করা
হয়েছে ৷

আমাশ আবু সালিহ্র মাধ্যমে আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ নবী করীম (সা)
বলেছেন : আমাদের ব্যতীত অন্য কোন উম্মতের জন্যে গনীমত হালাল করা হয়নি ৷ এজন্যেই
আল্লাহ বলেছেন : “যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ তা বৈধ ও পাক বলে ভোগ কর ৷ ” এভাবে
গনীমত ও মুক্তিপণ ভোগ করার জন্যে আল্লাহ অনুমতি দান করেন ৷ আবু দাউদ আবদুর রহমান
সুত্রে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন : বদর যুদ্ধের বন্দীদের মুক্তিপণের সর্বনিম্ন পরিমাণ
ছিল জনপ্ৰতি চারশ’ দিরহাম এবং সর্বোচ্চ চার হাযার দিরহাম ৷ এরপর ও আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দেন
যে, যদি কোন বন্দী ঈমান আসে ও ইসলাম কবুল করে, তবে তার নিকট থেকে আদায়কৃত
মুক্তিপণের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে দুনিয়ার ও আখিরাতে অধিক কল্যাণ দান করবেন ৷ আল্লাহর
বাণী

হে নবী ৫৩ ৷মাদের করায়ত্ত যুদ্ধবন্দীদেরকে বল, আল্লাহ যদি ৫৩ তামাদের হৃদয়ে ভাল কিছু
দেখেন, তবে তোমাদের নিকট হতে যা নেয়া হয়েছে তার চাতই৫ উত্তম কিছু তিনি
তোমাদেরকে দান করবেন ও তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন ৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৮০ :
৭০) ৷ ওয়ালিবী বলেন, ইবন আব্বাস বলেছেনষ্ক এ আয়াত টি আমার পিতা আব্বাস প্রসঙ্গে

অবতীর্ণ হয়েছে ৷ তিনি চল্লিশ উকিয়া১ স্বর্ণ নিজের মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করেন ৷ এরা সকলেই
তার ব্যবসায়ে সহযোগিতা করতো ৷ আব্বাস বলেন, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি তার
থেকে ক্ষমা পাওয়ার আশা পোষণ করি ৷ ইবন ইসহাক বলেন : আব্বাস ইবন আবদৃল্লাহ্
ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের পর যুদ্ধবন্দীদেরকে রাত্রে রশি দিয়ে
বেধে রাখা হয় ৷ ঐ রাতের প্রথম অংশে রাসুলুল্লাহ্র আর ঘুম হল না ৷ সড়াহাবীগণ জিজ্ঞেস
করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি ঘুমুচ্ছেন না কেন ? তিনি বললেন, আমার চাচা আব্বাসকে
করে রাখার কারণে তার কান্নার শব্দ শুনে আমার ঘুম আসছে না ৷ একথা শুনার পর সাহাবীগণ
গিয়ে আব্বাসের বীধন খুলে দিলেন ৷ তখন আব্বাস কান্না বন্ধ করলেন এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা)
ঘুমিয়ে পড়লেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন : আব্বাস ছিলেন সম্পদশালী ব্যক্তি ৷ তাই তিনি নিজের
মুক্তিপণ হিসেবে একশ’ উকিয়া প্রদান করেন ৷ আমার মতে, এই একশ’ উকিয়া ছিল তার
নিজের, তার দুই চাচড়াত ভাই আকীল ও নাওফিলের এবং তার মিত্র বনী হারিছ ইবন ফাহ্রের
পুত্র উত্বড়া ইবন আমরের পক্ষ থেকে ৷ যেমন বর্ণিত আছে যে, আব্বাস যখন দাবী করেছিলেন,
আমি পুর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, অদ্যেরা আপনার বাহ্যিক দিকটা
দেখব, আর আপনার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি আল্লাহই ভাল জানেন এবং তিনি আপনাকে এর
বিনিময় দেবেন ৷ অতএব, আপনার মুক্তিপণ দিতে হবে ৷ আব্বাস বললেন, আমার নিকট কোন
সম্পদ নেই ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তবে সেই মাল কোথায় যা আপনি ও উম্মুল ফযল মাটির
নীচে রেখে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি যদি এ যুদ্ধে মারা যাই, তাহলে এ মাল ফযল
আবদুল্লাহ্ ও কুছামের সন্তানরদেরকে দিও ? আব্বাস বললেন, আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিত
হয়েছি যে, আপনি আল্পাহ্র রাসুল! কেননা, এই লুক্কায়িত সম্পদের কথা আমি ও উম্মুল ফযল
ব্যতীত আর কেউই জানে না ৷ এ ঘটনাটি ইবন ইসহাক ইবন আবু নাজীহ্ সুত্রে ইবন আব্বাস
থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ সহীহ্ বুখড়ারীতে মুসা ইবন উক্বা সুত্রে আনাস ইবন মালিক থেকে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, কতিপয় আনসার সাহাবী রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা
করেন ৷ তারা বললেন, আমাদেরকে আমাদের ভাগিনা আব্বাসের মুক্তিপণ মাফ করে দেয়ার
অনুমতি দিন ! তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম, তোমরা তার মুক্তিপণের একটি দিবহ্রড়া,মও মাফ
করবে না ৷ বুখাবী বলেন : ইবরাহীম ইবন তাহ্মান সুত্রে আনাস থেকে বর্ণিত ৷ নবী করীম
(না)-এর নিকট বাহ্রায়ন থেকে বিপুল পরিমাণ (সাদাকার) মাল আসে ৷ তিনি বললেন, এসব
মাল মসজিদে রেখে দাও ৷ তখন আব্বাস এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আমি আমার নিজের
ও আকীলের মুক্তিপণ আদায় করেছি, আমাকে কিছু মাল দিন! রাসুলুল্লাহ্ বললেন, লওা
আব্বাস তার কাপড়ের মধ্যে মাল ভর্তি করে নেয়ার জন্যে উঠাতে উদ্যত হলেন, কিন্তু বেশী
করে ভর্তি করার কারণে তিনি তা উঠাতে সক্ষম পাহলেন না ৷ তখন তিনি রাসুলুল্লাহ্কে বললেন,
এটি আমাকে উঠিয়ে দেয়ার জন্যে কাউদুক্ আদেশ করুন ৷ তিনি বললেন, না ৷ আব্বাস
বললেন, তাহলে আপনিই আমাকে উঠিয়ে দিন ! তিনি বললেন, না ৷ তারপর কাপড় থেকে কিছু
মাল ফেলে দিয়ে উঠাতে চাইলে কিন্তু এবারও উঠাতে সমর্থ হলেন না ৷ আবার তিনি
রাসুলুল্লাহ্কে বললেন, আপনার সাহাবীদের কাউকে একটু উঠিয়ে দিতে বলুন ৷ তিনি বললেন,

১ উকিয়া ৪০ দিরহাম বা সড়াড়েদশ তোলা ৷

না ৷ আব্বাস বললেন, তা হলে আপনিই আমাকে উঠিয়ে দিন, তিনি বললেন, না ৷ এরপর
আব্বাস কাপড় থেকে আরও কিছু মাল নামিয়ে র্কাধেয় উপর উঠিয়ে চলে গেলেন ৷ তার এ
অত্যধিক (লাভের কারণে বিস্মিত হয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন যতক্ষণ না
তিনি দৃষ্টির আড়াল হলেন ৷ সাদাকাব সমুদয় মাল তিনি দান করে দিলেন ৷ এমনকি একটা
দিরহাম অবশিষ্ট থাকতে ও তিনি স্থ৷ ন ত্যাগ করলেন না ৷

বায়হা ৷কী বলেন হাকিম আবদৃর রহমান সুদ্দী থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেছেন, আব্বাস ও

তার দুই৩৷ ৷তিজ৷ আকীল ইবন আবু৩ তালিব এবংন নাওফিল ইন্বৃন হারিছ ইবন আবদুল মুত্তালিব

প্রত্যেকের মুক্তিপণ ছিল চারশ’ দীনার করে ৷ এরপর আল্লাহ শেষোক্ত দু’জনের ব্যাপারে সতর্ক
করে দেন ৷ মহান আল্লাহর বাণী :

তারা তোমার সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করতে চাইলে, তার তো ইতোপুর্বে আল্লাহর সাথেও
বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে ৷ এরপর তিনি তোমাদেরকে তাদের উপর শক্তিশালী করেছেন ৷ আল্লাহ
সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময (৮ : ৭১) ৷

অনুচ্ছেদ

প্রসিদ্ধ মত ৩বদব যুদ্ধে মুশবিক দলের সত্তরজন নিহত হয় এবং সত্তরজন বন্দী হয় ৷ এ
সম্পর্কে পুর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরেও আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্ ৷ সহীহ্
বুখারীতে হযরত বাবা ইবন আযিরের হাদীছেও বর্ণিত হয়েছে যে, বদর যুদ্ধে মুশবিক বাহিনীর
সত্তরজন নিহত হয় এবং সতরজন বন্দী হয় ৷ মুসা ইবন উক্বা বলেন : বদর যুদ্ধে যে কয়জন
মুসলিম সৈন্য শহীদ হন, তাদের মধ্যে ছয়জন কুরায়শ (মৃহাজির ) এবং আটজন আনসার ৷ আর
ঘুশবিক বাহিনীর মধ্য হতে নপঞ্চাশজন নিহত হয় এবং উনচল্লিশজন বন্দী হয় ৷ মুসা ইবন
উক্বা থেকে বায়হাকীও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ বায়হাকী তারপরে বলেছেন, মুসলমান
শহীদদের সংখ্যা ও মুশবিক নিহতদের সংখ্যা সম্পর্কে ইবন লাহ্য়া আসওয়াদের মাধ্যমে
উরওয়া থেকে এরুপই বর্ণনা করেছেন ৷ তারপর বায়হাকী বলেনং : হাকিম সুত্রে মুহাম্মদ
ইবন ইসহাক থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন বদর যুদ্ধে মুসলমানদের এগারজন শহীদ হন ৷
চারজন কুরায়শ (মুহাজির) ও সাত জন আনসার ৷ অপরদিকে মুশরিকদের পক্ষ থেকে
একুশ জনের কিছু বেশী লোক নিহত হয় ৷ তিনি অন্য এক বর্ণনায় বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
চল্লিশজন সহযোদ্ধা বন্দী হন আর তাদের নিহতদের সংখ্যাও ছিল অনুরুপ ৷ এরপর বায়হাকী
আবু সালিহ্ সুত্রে যুহরী থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, মুসলিম বাহিনীতে সর্বপ্রথম শহীদ
হন হযরত উমরের আযাদকৃত দাস মাহজা’ (ব্লুস্পাৰু) জনৈক আনসারী ৷ আর মুশরিকদের মধ্য
হতে সত্তরজনের অধিক নিহত হয় এবং সমস ×খ্যক বন্দী হয় ৷ ইবন ওহাব সুত্রে উরওয়া
ইবন যুবায়ব থেকেও অনুরুপ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে ৷ বায়হাকী বলেন, এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত
বিওয়ায়াত গুলোর মধ্যে এ বর্ণনা টিই বিশুদ্ধতর ৷৩ তারপর বায়হাকী এ মতের সমর্থনে উপরোক্ত
হাদীছ৷ ছ৷ ড়াও সহীহ্ বুখারীতে আবু ইসহাক সুত্রে বারা ইবন আযিব বর্ণিত হাদীছের উল্লেখ

করেন ৷ বারা’ ইবন আযিব বলেন, উহুদ যুদ্ধে নবী করীম (সা) আবদুল্লাহ ইবন যুবড়ায়রকে
তীরান্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেন ৷ শত্রুরা আমাদের সত্তরজনকে শহীদ করে দেয় ৷
বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ্ ও তার সাহাবীগণ মুশরিকদের একশ’ চল্লিশজনকে নিহত ও গ্রেফতার
করেন ৷ তন্মদ্ধে সত্তরজন বন্দী হয় এবং সত্তরজন নিহত হয় ৷ ইবন কান্থীর বলেন, বিশুদ্ধ মতে
বদর যুদ্ধে মুশরিকদের সংখ্যা ছিল নয়শ’ থেকে হাযারের মাঝখানে ক্ষ্ কাতাদা স্পষ্টভাবে এ

ৎখ্যা নয় শ’ পঞ্চাশজন বলে উল্লেখ করেছেন ৷ ইতোপুর্বে উল্লিখিত হযরত উমর (রা)-এর
হাদীছ থেকে জানা গেছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল হাযারের উভ্রুর্ধ্ব ৷ কিন্তু প্রথম সংখ্যাই সঠিক ৷
কারণ, রাসুল (সা) বলেছেন : শত্রুপক্ষের সৈন্যসংখ্যা নয়শ’ ও হড়াযারের মাঝামাঝি ৷ বদর যুদ্ধে
সাহাবাগণের সংখ্যা ছিল তিনশ দশজনের কিছু বেশী ৷ পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আসছে ৷
ইতোপুর্বে মিক্সাম সুত্রে ইবন আব্বাস থেকে হাকাম বর্ণিত হাদীছে উল্লিখিত হয়েছে যে, ১ ৭ই
রমাযান শুইবনরে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ৷ এ কথা আরও বলেছেন, উবওয়া ইবন যুরায়র,
কাতড়াদা, ইসমাঈল, সুদ্দী আল-কবীর ও আবু জাফর আল-বাকির ৷

বায়হাকী কুতায়বা সুত্রে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বদর যুদ্ধ লায়লাতৃল কদরে
হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন : রমাযানের এগার দিন অবশিষ্ট থাকতে তোমরা
কদরের রাত তালাশ কর ৷ কেননা, ঐ তারিখের সকাল হল বদর যুদ্ধের দিন ৷ বায়হাকী ষায়দ
ইবন আরকাম সুত্রে বলেন, তাকে কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
রমাযান মাসের উনিশ তারিখের রাত হচ্ছে কদরের রাত এতে কোন সন্দেহ নেই ৷ তিনি
বলেছেন, মীমাংসার দিন হলো দু’দলের পরস্পরের সম্মুখীন হওয়ার দিন ৷ বায়হাকী বলেন,
মাগাযী বিশেষজ্ঞদের প্রসিদ্ধ মতে রমাযান মাসের সতের তারিখে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷
এরপর বায়হাকী বলেন : আবুল হুসাইন ইবন বুশরান সুত্রে মুসা ইবন তালহা থেকে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন, আবু আইয়ুব আনসারীর নিকট বদর যুদ্ধের তারিখ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে
তিনি বলেন, (রমযান মাসের) সতের অথবা তেব তারিখে কিৎবা (রমাযানের) এগার দিন অথবা
সতের দিন অবশিষ্ট থাকতে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ এ হাদীছটি অত্যন্ত গরীব পর্যায়ের ৷

হাফিয ইবন আসাকির কুবাছ ইবন আশয়াম আল-লায়হীর জীবন প্রসঙ্গে ওয়াকিদী
প্রমুখের বরাতে লিখেছেন যে, বদর যুদ্ধে কুবাছ মুশরিকদের পক্ষে যুদ্ধ করতে আসে ৷ এ যুদ্ধে
মুসলমানদের সংখ্যা কম হওয়া সত্বেও মুশরিকদের পরাজয়ের বর্ণনা তিনি দিয়েছেন ৷ কুবাছ
বলেন, মুশরিকদের পরাজয়ের সময় আমি মনে মনে ভাবছিলাম এমন অবস্থা তো আর কখনও
দেখিনি ৷ মহিলারা ব্যতীত সকল পুরুষ যোদ্ধা রণাংগন ছেড়ে পলায়ন করল ৷ আল্লাহর কসম, এ
যুদ্ধে যদি কেবল কুরায়শ মহিলারা এসে অস্ত্র ধারণ করত, তাহলে তারা মুহাম্মদ ও তার
সঙ্গীদেরকে প্রতিহত করতে পারত ৷ এরপর খন্দকের যুদ্ধ হয়ে গেলে আমি তাবলাম, যদি
মদীনায় যেতে পারতড়াম, তাহলে মুহাম্মদ (সা) কী বলেন, তা বুঝার সুযোগ পেতাম ৷ এ সময়ে
আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল ৷ কুবাছ বলেন, কিছু দিন পর আমি
মদীনায় গেলাম এবং ণ্লাকজনের কাছে মুহাম্মদ (সা)এর অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম ৷
তারা জানান যে, তিনি ঐ মসজিদে সাথী-সঙ্গীদের নিয়ে বসে আছেন ৷ এরপর আমি তথায়

উপস্থিত হলাম; কিন্তু সঙ্গীদের ভীড়ের মধ্যে র্তাকে চিনতে না পেরে সালাম জানড়ালাম ৷ তখন
মুহাম্মদ (সা) বললেন, ওহে কুবাছ ইবন আশৃয়াম৷ বদরের যুদ্ধে তুমিই তো বলেছিলে-
আজকের ন্যায় আমি আর কখনও দেখিনি ৷ রণাংগন থেকে মহিলারা ব্যতীত পুরুষরা পলায়ন
করেছে ৷ তখন আমি বললাম, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র রাসুল ৷ কেননা,
এ কথাটি আমি কখনও কারও নিকট ব্যক্ত করিনি ৷ আর ঐ যুদ্ধের সময় এ কথা আমি মুখে
বলিনি ৷ তা কেবল আমার মনের মধ্যেই উদয় হয়েছিল ৷ সুতরাং আপনি নবী না হলে এ বিষয়ে
অবগত হতে পারতেন না ৷ আসুন, আমি আপনার নিকট ইসল্যামর উপর বায়আত গ্রহণ করি ৷
এভাবে আমি ইসলামে দীক্ষিত হই ৷

অনুচ্ছেদ

বদর যুদ্ধে প্রাপ্ত মাংল গনীমত কাদের প্রাপ্য, এ প্রশ্নে সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে মতবিরোধ
সৃষ্টি হয় ৷ মতবিরােধের কারণ হচ্ছে, মুশরিকরা যখন পরাজিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে , তখন
সাহাবীগণ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন ৷ র্তাদের এক ভাগ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে ঘিরে রাখেন ৷
মুশরিকরা পুনরায় ঘুরে এসে তার উপর আক্রমণ , করতে পারে এ আশংকায় র্তারা র্তাকে
পাহারা দিচ্ছিলেন ৷ আর এক অংশ মুশরিকদের পিছু ধাওয়া করে তাদেরকে হত্যা ও বন্দী
করতে থাকেন ৷ তৃতীয় দল বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা গনীমতের মাল সৎ হ করেন ৷ প্ৰতেদ্রক
দলই নিজ নিজ কাজের গুরুতু বিবেচনা করে অন্যদের তুলনায় গনীমতের অধিক হকদার
বলে দাবী জানায় ৷

ইবন ইসহাক বলেন : আবদুর রহমান ইবন হারিছ আবু উমামা বাহিলী সুত্রে বর্ণনা
করেন তিনি বলেন, আমি উবাদা ইবন সামিতের নিকট সুরা আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি ৷
তিনি বললেন : আমরা যারা বদরের যুদ্ধে অংশ্যাহণ করি, যুদ্ধের পর গনীমতের মান নিয়ে
আমাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় এরং আমাদের আচরণ অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে পৌছে
যায় ৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে সুরা অড়ানফাল অবতীর্ণ হয় ৷ আল্লাহ গনীমতের কর্তৃত্ব আমাদের হাত
থােক তুলে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে প্রদান করেন ৷ তিনি মুসলমানদের মধ্যে তা সমভাবে
বণ্টন করে দেন ৷ ইমাম আহমদও মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷
সমহারে বণ্টন করার অর্থ হচ্ছে, বিশেষ কোন একটি অংশকে নয় বরং যারা গনীমত সংগ্রহ
করেছিল, যারা শত্রুর পিছনে ধাওয়া করেছিল এবং যারা ময়দানে টিকে থেকে পতাকা সযুন্নত
রেখেছিল-এদের সকলের মধ্যেই তিনি গনীমত বণ্টন করেন ৷ এভাবে বন্টনের দ্বারা একথা
বুঝায় না যে, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ পৃথক করা হয়নি এবং পৃথক করে তা যথাস্থানে ব্যয়
করা হয়নি, যেমন আবু উবায়দা প্রমুখ এরুপ সন্দেহ করেছেন ৷ বরং রাসুল (না)-এর যুলফিকার
নামক তরবারি বদর যুদ্ধের গনীমত থেকে অতিরিক্ত হিসেবে নিয়েছিলেন ৷ ইবন জারীর বলেন :
বদর যুদ্ধে আবু জাহ্লের উটের নাকে রুপার হার পরান ছিল ৷ গনীমতের সাল থেকে
এক-পঞ্চমাংশ বের করার পুর্বেই রাসুলুল্লাহ (সা) এ উটটি নিজের জন্যে রেখে দেন ৷ ইমাম
ন্ আহমদ বলেন : মুআবিয়া ইবন আমর উবাদা ইবন সামিত সুত্রে বর্ণনা বলেন, তিনি করেন ৷
আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে মদীনা থেকে বের হয়ে বদরে উপস্থিত হই ৷ সেখানে শত্রুর

সাথে মুকাবিলা হয় এবং আল্লাহ দুশমনদেরকে পরা ৷জিত করেন ৷ মুসলমানদের মধ্য হতে একটি
দল শত্রুদের পিছনে ছুটে এবং তাদেরকে হত্যা করে ৷ আর একটি দল গনীমতের মাল সংগ্রহে
ব্যস্ত থাকে ৷ অপর একটি দল রাসুলুল্লাহ্ (সা )কে ঘিরে রাখে , যাতে এলােমেলো থাকার সুযোগ
নিয়ে শত্রুরা তার কাছে আসতে না পারে ৷ রাত্রিক৷ ৷লে সৈন্য একে অপরের সঙ্গে যখন মিলিত
হল, তখন গনীমত সৎ হক বীব৷ বললঃ ৩া৷মব ই তে তা পনীমত সংগ্রহ করেছি, এতে অন্য কারও
কোন ভাগ নেই ৷ শত্রুর পিছনে ধাওয়াকারীর৷ বললঃ এ ব্যাপারে তোমাদের দাবী আমাদের
থেকে বড় নয় ৷ কারণ আমব ই গনীমত থেকে শত্রুদেরকে হটিয়ে দিয়েছি এবং তাদেরকে
পরাজিত করেছি ৷ যারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পাশে ছিলেন তারা বললেন০ আমাদের আশংকা
ছিল যে, এরুপ র্ফাক৷ অবস্থা দেখে শ্াত্রুর৷ ভিন্ন পথে রাসুলুল্লাহ্ (সা ৷ এর উপর আক্রমণ না
করে বসে, ই আমরা তাকে ঘিরে অবস্থান করেছি ৷ এই পরিস্থিতিতে অ ৷ল্লাহ্ আয়াত নাযিল
করলেন :

“লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে ৷ বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং

রাসুলের ৷ সুতরাৎঅ ৷ল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর এবং আল্লাহ ও
৷ ৩ার রাসুলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মু মিন হও (৮০ : ১ ) ৷

তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসলমানদের মধ্যে সেসব বন্টন করে দেন ৷ রাসৃলুল্লাহ্ (সা) কোন
শত্রু এলাকা আক্রমণ করলে এক-চতৃর্থাংশ যোদ্ধাদের দিয়ে দিতেন এবং প্রত্যাবর্তনকালে
এক তৃতীয়াৎশ বন্টন করতেন ৷৩ তবে তিনি অতিরিক্ত কিছু দেয়৷ অপসন্দ করতেন ৷ তিরমিযী ও
ইবন মাজা ছ৷ ৷ওরী সুত্রে আবদুর রহমান ইবন হারিছ থেকে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং
তিরমিযী একে হাসান বলে মন্তব্য করেছেন ৷ ইবন হিব্বান তার সহীহ্’ গ্রন্থে এবং হাকিম র্তার
মুসতাদরাক গ্রন্থে আবদুর রহমান থেকে এ হাদীছ বর্ণনা করেন এবং হাকিম একে মুসলিমের
শর্ত মতে সহীহ্ বলে অভিহিত করেছেন ৷ অবশ্য মুসলিম এ হাদীছটি বর্ণনা করেননি ৷ আবু
দাউদ, নাসাঈ, ইবন হিব্বান ও হাকিম একাধিক সুত্রে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে
বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঘোষণা করলেন, যারা এই এই কাজ করতে পারবে তাদেরকে এই
এই (পুরস্কার) দেয়৷ হবে ৷ ঘোষণা শুনে যুবকর৷ দ্রুত সে কাজে অগ্রসর হল এবং বৃদ্ধরা
পতাকার কাছে থেকে গেলেন ৷ যখন গনীমত বণ্টনের সময় হল তখন যুবকর৷ এসে তাদের
প্রতিশ্রুত পুরস্কার দ বী করল ৷ বৃদ্ধর৷ বললেন, আমাদের উপরে তে তামর৷ নিজেদেরকে প্রাধান্য
দেবে না ৷ কেননা আমরা ছিলাম তে ৷মাদের জন্যে প্রাচীন স্বরুপ ৷ যদি তে তামরা ফিরে আসতে ,
তাহলে আমাদের কাছে এসে জড়ো হতে ৷ এভাবে তারা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হলে আল্লাহ
আয়াত নাযিল করলেন :

লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে এ আয়াত নাযিল হওয়ার উপলক্ষ
হিসেবে অন্য একটি বর্ণনা আমরা উল্লেখ করেছি ৷ এখানে তার বিশ্াদ আলোচনার অবকাশ

মানুষের ইহক ল ও পরকালের কল্যাণ বিবেচনায় রেখে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন ৷
এ জন্যেই আল্লাহ্ বলেছেন : (বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ্
এবং রাসুলের ৷ সুতরাং আল্লাহ্কে তয় কর এবংনিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর এবং আল্লাহ
ও তার রাসুলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মু’মিন হও ৷) এরপর বদর যুদ্ধ প্রসঙ্গে বিভিন্ন
ঘটনা উল্লেখ করার পর আল্লাহ তা আলা বলেন০

আরও জেনে রেথো যে, যুদ্ধে যা তোমরা লাভ কর তার এক পঞ্চমা০ শ আল্লাহর, রাসুলের,
স্বজনদের, ইয়াভীমদের, দরিদ্রদের এবং পথচারীদের (৮০ : ৪১) ৷ এখানে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে
পুর্বের আয়াতে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের যে ফায়সালা আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেণাধীন রাখা
হয়েছিল এ আয়াতে ঐ নির্দেশেরই ব্যাখ্যা দেয়৷ হয়েছে ৷ সুতরাং আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন যে
নির্দেশই এখানে প্রদান করা হয়েছে ৷ এ পর্যন্ত না বলা হল, তা আবু যায়দের বক্তব্য ৷ আবু
উবায়দ কাসিম ইবন সাল্লাম বলেন : বদর যুদ্ধে প্রাপ্ত সমুদয় গনীমত রাসুলুল্লাহ্ (সা) যোদ্ধাদের
মধ্যে সমানভাবে বন্টন করে দেন ৷ এক-পৃঞ্চমাৎশ সংরক্ষিত রাখেননি ৷ পরবর্তী সময়ে খুমুস বা
পঞ্চমাংশের বিধান নাযিল হয় এবং পুর্বের গনীমত বণ্টনের সকল নিয়ম বহিত হয়ে যায় ৷
ওয়ালিবী ইবন আব্বাস থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন ৷ মুজাহিদ ইকরিম৷ ও সুদ্দী এ মতই
পোষণ করেন ৷ কিন্তু তা তর্কাভীত নয় ৷ কেননা খুমুসের ( পঞ্চমা শের) আয়াতের পুর্বের ও
পরের সবগুলো আয়াতই বদর যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ৷ আয়াত গুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এটাই দা ৷বী করে
যে, এগুলো এক সাথে একই সময়ে ন যিল হয়েছিল ৷ সময়ের ব্যবধানে পৃথক পৃথকভাবে নাযিল
হয়নি, যাতে রহিতকরণের প্রশ্ন উঠে ৷ এছাড়া বুখারী ও ঘৃসলিমে হযরত আলী বর্ণিত হাদীছে,
যাতে তার সেই দুই উটের বর্ণনা আছে, যার কুজ হযরত হামযা (রা) কেটে ফেলেছিলেন
সেখানে পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর একটি উট ছিল বদর যুদ্ধের গনীমতের
এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) থেকে প্রাপ্ত ৷ আবু উবায়দ যে বলেছেন, বদর যুদ্ধের গনীমত থেকে খুমুস
বের করা হয়নি, এ হাদীছ তার সাথে সাংঘর্ষিক ৷ বরং এটাই সঠিক যে, বদরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ
পাচ ভাগ করে এক ভাগ আল্লাহ্ ও তার রাসুলের জন্যে আলাদা করে রাখা হয়েছিল ৷ ইমাম
বুখারী, ইবন জারীর ও অন্যান্য আলিমগণ এই মত পোষণ করেন এবং এটাই বিশুদ্ধ ও
গ্রহণযোগ্য অভিমত ৷

অনুচ্ছেদ
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বদর থেকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন

পুর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বদর যুদ্ধ ২য় হিজরীর ১ ৭ই রমাযান শুক্ররারে সংঘটিত
হয় ৷ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে যে, কোন সম্প্রদায়ের উপর জয়ী হলে রাসুলুল্লাহ
তথায় তিন দিন অবস্থান করতেন ৷ সে মতে, বদর রণাংগনে তিনি তিন দিন অতিবাহিত
করেন ৷ সোমবার রাত্রে সেখান থেকে রওনা হন ৷ তিনি উটে অ্যারাহণ করে বদরের কুয়ােয়
নিক্ষিপ্ত লাশদের সম্বোধন করেন এবং সেখান থেকে গনীমতের অচেল মালামাল ও যুদ্ধবন্দীদের
সাথে নিয়ে মদীনা অভিমুখে যাত্রা করেন ৷ মুশরিক কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় ও সাহায্যের
সুসংবাদ জানানোর জন্যে তিনি পুর্বেই দু’জনকে মদীনায় রওনা করে ;দন ৷ র্তাদের একজন
হলেন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা ৷ র্তাকে মদীনায় উচু এলাকায় পাঠান ৷ দ্বিতীয় জন যায়দ ইবন
হারিছা ৷ তাকে পাঠান নিচু এলাকায় ৷ উসামা ইবন যায়দ বলেন, আমরা বিজয়ের সুসংবাদ
তখন পেলাম যখন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কন্যা রুকাইয়ার দাফন কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছি ৷
রুকাইয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার স্বামী হযরত উছমান ইবন আফ্ফান রাসৃলুল্লড়াহ্
(না)-এর নির্দেশক্রমে যুদ্ধে না যেয়ে মদীনায় থেকে যান ৷ অবশ্য রাসুলুল্লাহ্ (সা) র্তাকে
গনীমতের ভাগ দেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার ছওয়াব লাভের সুসংবাদও দেন ৷ উসামা
বলেন, আমার পিতা যায়দ ইবন হারিছার আগমন সংবাদ পেয়ে আমি তার নিকট গেলাম ৷
দেখলাম, তিনি সালাত আদায় করে বসে আছেন এবং লোকজন র্তাকে ঘিরে ধরেছে ৷ আর
তিনি বলছিলেন : উত্বা ইবন রাবীআ , শায়বা ইবন রাবীআ , আবু জাহ্ল ইবন হিশাম , যাযআ
ইবন আসওয়াদ, আবুল বুখতারী আস ইবন হিশাম, উমাইয়া ইবন খালফ ও হাজ্জাজের দুই
পুত্র নাবীহ্ ও মুনাব্বিহ্ এরা সবাই নিহত হয়েছে ৷ আমি বললাম, আব্বা! ঘটনা কি সত্য ?
তিনি বললেন, ইড়া বেটা, আল্লাহর কসম ৷

বড়ায়হড়াকী হস্ফোদ ইবন সালামা সুত্রে “ উসামা ইবন যায়দ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী
করীম (সা) হযরত উছমান ও উসামা ইবন যায়দকে তার রোগাক্রাম্ভ কন্যার সেবা-শুশ্রুষার
জন্যে মদীনায় রেখে যান ৷ যুদ্ধ শেষে বিজয়ের সৃসংবাদ নিয়ে যায়দ ইবন হারিছা রাসুলুল্লাহ্র
উট আয্বার উপরে চড়ে আগমন করেন ৷ উসামা বলেন, আমি এক আশ্চর্যজনক শব্দ শুনে
বাইরে এসে দেখি, যায়দ বিজয়ের সৃসংরাদ দিচ্ছেন ৷ আল্লাহ্র কসম, যুদ্ধবন্দীদেরকে স্বচক্ষে না
দেখা পর্যন্ত এ সংবাদ আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) উছমানকে
গনীমতের অংশ দিয়েছিলেন ৷ ওয়াকিদী বলেন, বদর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
আহীল নামক স্থানে এসে আসরের নামায আদায় করেন ৷ এক রাকআত আদায়ের পর তিনি
মুচকি হাসেন ৷ হাসির কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন , আমি যীকাঈলকে দেখতে
পেলাম, র্তার ডানায় ধুলাবালি লেগে রয়েছে এবং আমার দিকে লক্ষ্য করে মুচকি হেসে বলছেন,
আমি এতক্ষণ যাবত শত্রুদের পিছু ধাওয়া করেছি ৷ এছাড়া বদরের যুদ্ধ শেষে হযরত জিবরাঈল
(আ) একটি মাদী ঘোড়ায় চড়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আসেন ৷ ঘোড়াটির কপালের চুল
ছিল বীধা এবং তার মুখ ধুলাবালি থেকে ছিল রক্ষিত ৷ জিবরাঈল বললেন, হে মুহাম্মদ ! আল্লাহ্

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>