বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ২১ (পুরুষ) ১৮ (মহিলা) শরীয়ত সম্মত নয়

মুফতী সাখাওয়াত হোছাইন রাজী

মানুষ সমাজে একে অন্যের সাহচর্য নিয়ে বসবাস করে থাকে। পরিবার ও সমাজ ছাড়া একাকী বসবাস কষ্টকর ও প্রায় অসম্ভব। ছোট থেকে যুব ও পরিণত বয়সে সুখ-দুঃখ, মায়া-মমতা, সেবা-শুশ্রূষাসহ সব কার্যক্রম পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের জন্য প্রয়োজন পবিত্র ও সুসভ্য সামাজিক ব্যবস্থা। যে ব্যবস্থার মধ্যে থাকা চাই পরিপূর্ণ ও সব পর্যায়ে মঙ্গলকর নির্দেশনা। আর এ নির্দেশনা পাওয়া যায় ইসলাম ধর্মে। কেননা ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।

ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে সুন্দর ও পবিত্র জীবনযাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনের উপর গুরুত্বারোপ করেছে।বলগাহীন স্বেচ্ছাচারী জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতা ও নোংরামি-পনার অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে স্বামী স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ জীবনের সন্ধান দিয়েছে।

হাদিসে বলা হয়েছে:
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
يا معشر الشباب ، من استطاع منكم الباءة فليتزوج فإنه أغض للبصر ، وأحصن للفرج

“হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করতে সক্ষম তারা যেন বিবাহ করে নেয়। কারন তা দৃষ্টি অবনত করতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে অধিক সাহায্যকারী।”
عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
إذا تزوج العبد فقد استكمل نصف دينه, فليتق الله في النصف الباقي
“মানুষ যখন বিবাহ করে তখন সে ঈমানের অর্ধাংশ হাসিল করে ফেলে। বাকি অর্ধেকের জন্য সে যেন তাকওয়া অবলম্বন করে”

সুতরাং বিবাহের মাধ্যমে মানুষ বৈধ ও উত্তম উপায়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ করে। অতঃপর গড়ে উঠে সুস্থ ও জবাবদিহিতা মূলক সুন্দর এক পারিবারিক ব্যবস্থা।

আর এ জৈবিক চাহিদা শুধু মাত্র বয়সের উপর নির্ভর করে হয় না। এখানে মানসিক ও শারীরিক বিষয়ও আছে। তাই আইন করে বিবাহের জন্য ২১(পুরুষ) ১৮(মহিলা) বৎসর বয়স নির্ধারণ করে দেয়া অনৈতিক ও হারাম কাজের দিকে যুব সমাজকে ঠেলে দিতে পারে। সন্তানের বিয়ে কখন দিলে ভাল হবে এটা তার পরিবার ভাল জানে, রাষ্ট্র কিংবা আইন নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ের ব্যাপারে কেবল নির্দেশনা প্রদান ও নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ وَأَنْ تَصْبِرُوا خَيْرٌ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“তোমরা তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান করো, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌন চর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।” (সূরা নিসা-২৫)

এ আয়াতে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে-

১) বিবাহের বিষয়টি অভিভাবকের হাতে ন্যস্ত।
২) মোহর প্রদানের মত আর্থিক স্বচ্ছলতা।
৩) অবাধ যৌন চর্চা রোধে বিয়ে।

সুতরাং ৫/৬ বছর বয়সের মেয়েদের দু’চারটি বিচ্ছিন্ন বিয়ের ঘটনার উদাহরণ সামনে টেনে বধির কোন আইন প্রণয়ন করে গোটা সমাজকে অস্থির করা ঠিক হবে না। এবং কোন ভাবেই অভিভাবকের অধিকার খর্ব করা যাবে না।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভিভাবকের বিশেষ অধিকার বহাল রেখে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স-
দেশ
পুরুষ
মহিলা
আফগানিস্তান
১৮
১৬
আন্ডোরা
১৪
১৪
এঙ্গোলা
১৬
১৫
আর্মেনিয়া
১৬
১৬
অস্ট্রেলিয়া
১৬
১৬
অস্ট্রিয়া
১৬
১৬
বাহরাইন
১৮
১৫
বেলারুস
১৬
১৪
বলিভিয়া
১৬
১৪
বসনিয়া
১৬
১৬
ব্রাসিল
১৬
১৬
ব্রুনাই
১৩
১৩
বুলগেরিয়া
১৬
১৬
ক্যামেরুন
১৮
১৫
কানাডা
১৬
১৬
চিলি
১৬
১৬
কলোম্বিয়া
১৪
১২
কস্টারিকা
১৫
১৫
কিউবা
১৬
১৪
সাইপ্রাস
১৬
১৬
চেকরিপাব্লিক
১৬
১৬
ডোমিনিকা
১৬
১৬
ডোমিনিকান রিপাবলিক
১৬
১৫
একয়াডর
১৪
১২
এস্টনিয়া
১৫
১৫
ফিজি
১৬
১৬
গাবন
১৮
১৫
জর্জিয়া
১৬
১৬
জার্মানি
১৬
১৬
গুয়াতামালা
১৬
১৪
গুয়ানা
১৬
১৬

যেসব দেশে মেয়েদের বিবাহের বয়সসীমা ১৬ এর নিচে;
আমেরিকা
১২
কেমেরুন
১৫
কিউবা
১৪
ইরান

কুয়েত
১৫
প্যারাগুয়ে
১৪
সুদান
১০
ডেমোক্রাটিক রিপাবলিক অফ কনগো
১৫
বলিভিয়া
১৪
কলম্বিয়া
১২
ডোমিনিকান রিপাবলিক
১৫
ইরাক
১৫
মেক্সিকো
১৪
রোমানিয়া
১৫
সিরিয়া
১৩
ভ্যানিজুয়েলা
১৪
ব্রুনেই
১৩
কোষ্টারিকা
১৫
গুয়াতেমালা
১৪
জর্ডান
১৫
পানামা
১৪
সাউথ আফ্রিকা
১৫
ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো
১২
ভ্যানিজুয়েলা
১৪

অল্প বয়সে বিবাহের ফলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে সেগুলো থেকে বাঁচার জন্যেই সাধারণত বাল্যবিবাহ আইন করা হয়। এ উদ্দেশ্যের যথার্থতা ও উপকারিতা নিঃসন্দেহে আপন স্থানে স্বীকৃত। তবে যে সমস্যাগুলো বাল্যবিবাহের ফলে সৃষ্টি হয়, বাল্যবিবাহকে নিষিদ্ধ করা সে সমস্যার সঠিক সমাধান নয়। কেননা, কখনো কখনো বিভিন্ন কারণে মানুষ তার অল্প বয়স্ক সন্তানকে বিবাহ দিতে বাধ্য হয়। এ সুবিধার কথা চিন্তা করে ইসলামী শরিয়ত বাল্যবিবাহের কথা নিষিদ্ধ করেনি, তবে উৎসাহিতও করেনি।

বাল্য বিবাহ বৈধ হওয়ার দলিলঃ
وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ
আর যে নারী ঋতুস্রাব থেকে নিরাশ হয়ে গেছে তাদের ইদ্দত তিনমাস। এমনিভাবে তাদেরও যাদের এখনো ঋতুস্রাব শুরু হয়নি।

এ আয়াতে এমন মেয়েদের ইদ্দতের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে যারা এখনো বালেগ হয়নি। অতএব বালেগ হওয়ার পূর্বে বিবাহ জায়েজ আছে বলেই শরিয়ত এর হুকুম বর্ণনা করেছে।

হাদিসে বাল্যবিবাহের ঘটনাঃ
১) স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা. হযরত আয়েশা রা. কে এমন সময় বিবাহ করেছেন যখন আয়েশা রা. এর বয়স কোন বর্ণনামতে ছয় বছর আর কোন বর্ণনামতে সাত বছর ছিল। এবং আট অথবা নয় বছর বয়সে তিনি নবীজির ঘরে এসেছিলেন।

২) হুজুর সা. সালামা রা. এর বিবাহ হযরত হামযা রা. এর মেয়ের সাথে করিয়েছিলেন। তখন এরা দুজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিল। এবং মিলিত হবার আগে বাল্যকালেই তাদের ইন্তেকাল হয়ে যায়।

ইজমায়ে উম্মত দ্বারাও বাল্যবিবাহের বৈধতা প্রমাণিত।

শরিয়তে বাল্যবিবাহের আনুমোদন থাকার কিছু হেকমতঃ

১) কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে দিনদিন নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুকে পড়ছে। পরিবার দেখলো যদি অতিসত্বর ছেলেকে বিবাহ না করানো হয় তাহলে সামলে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে ভাল একটি সম্বন্ধও জুটে গেল। এখন তাকে দ্রুত বিয়ে করানোটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই অবস্থায় তার পরিবারের উপর বাল্যবিবাহের আইন চাপিয়ে দেয়াটা পুরোপুরি অযৌক্তিক।

২) এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা নেই, বাবাও মৃত্যুপথযাত্রী। এবং বাবার মৃত্যুর পর মেয়ের দেখভাল করার মত কোন ওয়ারিশও নেই যার উপর সে ভরসা করতে পারে। এখন এই মেয়েকে ভাল কোন ছেলের হাতে তুলে দিতে পারলে বাবা চিন্তামুক্ত হয়ে দুনিয়া থেকে যেতে পারতেন। এহেন পরিস্থিতিতে আইন করে সেই বাবার হাত পা বেধে রাখাটা তার সাথে চরম অন্যায়ের শামিল।

৩) এক বিধবা মহিলা, যার নিজেরই দুবেলা খাবার জোটে না ঠিকমত। ছোট মেয়েটাকে সাথে রাখতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তবে আর বেশীদিন নিজের সাথে রাখলে বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করাটা হয়তো সেই মায়ের পক্ষে সম্ভব হবে না। এই মায়ের উপর কতটা জুলুম হবে যদি বাল্যবিবাহের আইন চাপিয়ে তার সেই মেয়েকে অনিরাপত্তার মুখে ফেলে দেয়া হয়?

৪) কোন গ্রাম্য দিনমজুরের ঘরে ছোট মেয়ে আছে। দুশ্চরিত্র গেরস্থ প্রতিনিয়তই গরিবদের অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের সম্ভ্রমহানি করছে। এই দিনমজুরকে আইনের হাতকড়া পরিয়ে তার অসহায় মেয়েকে গেরস্থের কামনার স্বীকার হতে দেয়া কতটা মানবতার পরিচয়!

৫) এ আইন সামনে এনে অনেক দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরে বিয়ে বাড়ির লোকদের লাঞ্চিত করার সুযোগ খুজবে। এ বাড়িতে “বাল্যবিবাহ” চলছে বলে আইনের লোক খবর দিয়ে বিয়ে বাড়িতে পাঠাবে। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানেই এক মহাবিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

৬) অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে বেশিরিভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের পরিবারগুলোতে বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে রয়েছে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা। অনেক সময় দেখা যায় বিবাহটি বাল্যবিবাহ না। কিন্তু অশিক্ষিত হওয়ার ফলে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট না দেখাতে পেরে তাদের বিবাহের বৈধতা প্রমাণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। এখন ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে অন্যকেউ ফাসিয়ে দিয়ে থাকলেও সেই অসহায় গরিব মানুষগুলো আইনগত জটিলতা এড়াতে পারবেনা।

এগুলো কোন ধরণাপ্রসূত ঘটনা নয়। যে দেশের জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ দারিদ্যসীমার নিচে বসবাস করে এবং অশিক্ষিতের হারও খুব কম নয় সে দেশে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠির জন্য এসব নিত্যদিনকার ঘটনা। আর যেহেতু তারা আমাদের সমাজেরই বাস্তবতা তাই আইন করার ক্ষেত্রে এসব সমস্যাগুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বাল্যবিবাহ সমস্যার যৌক্তিক সমাধানঃ
ইসলাম প্রয়োজনে বাল্যবিবাহের অনুমতি দিয়েছে। তবে অল্প বয়সে বিবাহের প্রতি ইসলাম কোথাও উৎসাহিত করেনি। কেননা এ থেকে কখনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

ছেলে মেয়ের মনমানসিকতা মিলবে কিনা, তাদের মধ্যে বনিবনা হবে কিনা, এ ব্যাপারগুলো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত খুব একটা বোঝার উপায় নেই। এ অবস্থায় সংসারে অশান্তির ভয় থাকে। তাছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের নিজের কোন উপার্জন থাকেনা। তাই অন্য আরেকজনের খরচ চালানোটা তার জন্য কষ্টের হয়ে পড়ে। এবং অনেকক্ষেত্রে সে স্ত্রীর মৌলিক অধিকারগুলো আদায় করতেও অক্ষম হয়ে পড়ে।

তাইতো ইসলাম অপ্রাপ্ত বয়স্কের বিবাহের ক্ষেত্রে “খিয়ারে বুলুগ” এর অধিকার প্রদানের মাধ্যমে এর একটি বাস্তবসম্মত ও সুন্দর সমাধান দিয়েছে । এর অর্থ হচ্ছে, ছেলে অথবা মেয়ে বালেগ হওয়ার পর যদি মনে করে যে এই বৈবাহিক সম্পর্কে সে সন্তুষ্ট না তাহলে সে তখন নিজেই ঘোষণা দিয়ে বিয়ে বাতিল করার অধিকার পাবে। ফিকহের কিতাবসমূহে এর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। অতএব বুঝা গেল ইসলাম এত সহজ সমাধান দেয়ার পরও অনেকে না জানার ফলে বিষয়গুলোকে কঠিন করে ফেলছে

এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, যদি কোন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে অথবা কোন অনিষ্টতা থেকে বাচানোর জন্য বাল্যবিবাহ করানো হয়ে থাকে তাহলে বিবাহ পরবর্তী যে সমস্যাগুলো সামনে আসে তা সেইসব ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের তুলনায় কিছুই না। এবং যেহেতু শরিয়ত অপ্রাপ্তবয়স্ককে বালেগ হওয়ার পর বিবাহ বাতিল করার স্বাধীনতা দিয়েছে তাই বাল্যবিবাহ যদি নৈতিক অবক্ষয় এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে তাহলে অনৈতিক কাজকর্মে না জড়িয়ে বাল্যকালে বিবাহ করে ফেলাটাই তুলনামূলক উত্তম সমাধান।

বাল্যবিবাহের বাস্তবতাঃ
কোন ধরণের সমস্যা ছাড়াই অনেকে অকারণে বাল্যবিবাহের প্রতি উৎসাহী হয়ে থাকে। এটা নিছকই মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা। সুতরাং শিক্ষার ব্যাপক প্রচার প্রসার ঘটানোই এর একমাত্র সমাধান। অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয়, শিক্ষার আলো যেখানে পৌঁছেছে সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাল্যবিবাহের হার এক শতাংশও নেই। আমাদের দেশের শহুরে শিক্ষিত সমাজ এর বাস্তব উদাহরণ। এদের ভেতর বাল্যবিবাহের প্রবণতা একেবারেই নেই। কারণ তারা জানে বিনা প্রয়োজনে অল্প বয়সে বিবাহ করিয়ে দেয়া নির্বুদ্ধিতার কাজ, যার পরিণাম অনেকক্ষেত্রেই সুখকর হয়না। তাই এর প্রতিকার করতে চাইলে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর কোন বিকল্প নেই। এবং বিশেষকরে বিবাহ ও পরিবারের ব্যাপারে ইসলামের সঠিক আহকামগুলো যদি ব্যাপকভাবে প্রচার করা যায় তাহলে এর অপ্রয়োজনে বাল্যবিবাহের প্রবণতাও অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হলো যে, ইসলামী শরিয়ত বিবাহের কোন বয়স নির্ধারণ করে দেয়াকে সমর্থন করে না। সেক্ষেত্রে ছেলে মেয়েদের বিয়ের নির্ধারিত বয়স যদি সর্বনিম্ন ২১-১৮ হয় যা বালেগ হওয়ার ৫/৬ বৎসর পর তা শুধু শরিয়ত সম্মত নয়, অযৌক্তিকও বটে। কেননা, ছেলে মেয়েরা ১৫ বৎসর বয়সের আগেই বালেগ হয়ে যায়। ১৫ বৎসর বয়সের পরের বিয়েকেও বাল্যবিবাহ বলা হাস্যকর।

সুতারং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ ইসলাম সম্মত নয় বিধায় বর্তমান সরকারকে এ ধরণের আইন চূড়ান্তকরণ ও তাঁর প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে আহবান জানাচ্ছি। আর উক্ত আইনের ১৯ ধারায় যে বিধান রাখা হয়েছে তা স্পষ্ট না হওয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.