buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

বিভিন্ন সূত্রে এই হাদীসের উপস্থাপন এবং এ সম্পর্কে পুস্তক রচনা প্রসঙ্গে

আসরের নামায পড়তে পারেন? তখন জবাবে তিনি বললেন, যে একথা বলেছে, সে মিথ্যা
বলেছে ৷ ইব্রাহীম ইবন ইয়াকুব আরো বলেন, আমি ইয়ালা ইবন উবায়দ আৎ তনাফিসীকে
প্রশ্ন করলাম, আমাদের কাছের কতিপয় লোকজন বলে, হযরত আলী হলেন রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর ওসী, তার খাতিরে অস্ত যাওয়ার পর সুর্যকে পুনরায় উদিত করা হয়েছে, তখন তিনি
বললেন, এর সবই মিথ্যা ৷

বিভিন্ন সুত্রে এই হাদীসের উপস্থাপন এবং
এ সম্পর্কে পুস্তক রচনা প্রসঙ্গে

আবুল কাসিম উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আহমদ আল-হাসকানী এ প্রসঙ্গে
শিরোনামে বলেন, এই হাদীসখানি
আসমা বিনৃত উমায়স, আলী ইবন আবু তালিব, আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ খুদরী সুত্রে
বর্ণিত আছে ৷ এরপর তা বর্ণিত হয়েছে আহমদ ইবন সালিহ আল মিসরী, আহমদ ইবন
ওয়ালীদ আল আনত ড়াকী এবং হাসান ইবন দাউদ আসমা বিনৃত উমায়স সুত্রে যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) খায়বা ৷র ভুমির আসৃ সাহ্বাতে যুহরের নামায পড়লেন, এরপর হযরত আলীকে
কোন প্রয়োজনে পাঠালেন, এরপর আলী যখন ফিরে আসলেন-আর রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইতিমধ্যে
আসরের নামায পড়ে নিয়েছিলেন-তখন তিনি তার পবিত্র মস্তক হযরত আলীর কোলে রাখলেন
এবং সুর্যাস্তের পুর্বে তা আর নড়া দেন না এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে আল্লাহ আপনার
বান্দা আলী তার নবীর জন্য নিজেকে আবদ্ধ রেখেছিল, সুতরাং আপনি তার জন্য দিনের আলো
ফিরিয়ে দিন ৷ আসমা বলেন, এরপর সুয উদিত হল এমনকি তা পাহাড়ের চুড়ায় দৃশ্যমান হল,
তখন হযরত আলী উঠে গিয়ে উয়ু করলেন এবং আসরের নামায পড়লেন-তারপর আবার সুর্য
অস্ত গেল ৷ এই হাদীসের সনদে অজ্ঞাত অবস্থার রাবী রয়েছেন ৷ কেননা, এই সনদে রাবী
আগুন ও তার মা সম্পর্কে এমন বিশ্বস্ততা ও স্মরণশক্তির কথা জানা নেই, যার কারণে এর
চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কোন বিষয়েও এদের বর্ণিত হাদীস গ্রহণন্থযাগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে ৷
সুতরাং তাদের বর্ণিত খবর বা তথ্য দ্বারা কিভাবে এরুপ গুরুতর একটি বিষয় সাব্যস্ত হতে
পারে, অথচ সিহাহ্ সিত্তার নির্ভরযোগ্য কোন সংকলকই তা রিওয়ায়াত করেননি ৷ আল্লাহ্ই
অধিকতর জ্ঞাত ৷ আর আমরা জানি না যে, আগুনের যা তার পিতামহী আসমা বিনৃত উমায়স
থেকে তা শুনেছেন কিনা ! তারপর এই মিসরীয় রাবী তা হুসায়ন ইবন হাসান আল আমাকরের
বরাতে উল্লেখ করেছেন ৷ আর সে হল কট্টর শিয়া, একাধিক হাদীসবেত্তা তাকে যয়ীফ’ আখ্যা
দিয়েছেন ৷ সে হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছে ফুযায়ল ইবন মারয়ুক আসমা বিনৎ উমায়স
সুত্রে ৷ এছাড়া ফুযায়ল ইবন মারয়ুক থেকে একাধিক ব্যক্তি তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এদের
অন্যতম হলেন উবায়দৃল্লাহ্ ইবন মুসা ৷ এরপর তিনি তা রিওয়ায়াত করেছেন আবু জাফর আত্
তহােবী সুত্রে ৷ ইতিপুর্বে আমরা উবায়দৃল্লাহ্ ইবন মুসা আল আবসীর সাঈদ ইবন মাসউদ
এবং আবু উমায়্যার হাদীস সংগ্রহ থেকে আমাদের রিওয়ায়াত উল্লেখ করেছি ৷ আর উবায়দৃল্পাহ্
আল আবসী শিয়া ৷ তারপর এই মিশরীয় রাবী তা রিওয়ায়াত করেছেন আবু জাফর আল
উকায়লী আহমদ ইবন দাউদ ফুযায়ল ইবন মারয়ুক সুত্রে এবং আল আপার আর
রক্কাশী থােক ৷ তাকে আর রুয়াসীও বলা হয়ে থাকে ৷ আবু আবদুর রহমান আল কুফী তিনি

বানু আনযার মাওলা বা আযাদকৃত দাস ৷ সুফিযান ছাওরী এবং ইবন উয়ায়না তাকে
নিঙ্ঘযােগ্য বলেছেন ৷ আর ইমাম আহমদ বলেন, তার ব্যাপারে আমি ভাল ব্যতীত মন্দ কিছু
জানিনা ৷ ইবন মায়ীন বলেন, ইনি নির্জ্যযোগ্য ৷ মুবৃরা বলেন, এ ব্যক্তি সৎ তবে কট্টর শিয়া ৷
মুবৃর৷ আরো বলেন, তার রিওয়ায়াত গ্রহণে কোন অসুবিধা নেই ৷ আবু হাতিম বলেন, যে
সত্যবাদী তার হাদীস চলনসই তবে সে প্রচুর ভ্রান্তির শিকার হয়, তার হাদীস লিপিবদ্ধ করা
হয় কিন্তু তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হয় না ৷ উছমান ইবন সাঈদ আদ্ দারিশী বলেন, তার
সম্পর্কে বলা হয় সে যয়ীফ ৷ ইমাম নাসাঈও তাকে যয়ীফ বলেছেন ৷ ইবন আদী বলেন,
আমার প্রত্যাশা, তার বজ্জি হাদীস গ্রহণে কোন অসুবিধা নেই ৷ ইবন হিবৃ বনিঃ বলেন, তার
হাদীস একান্তই অগ্নহণযােগ্য ৷ সে নিভরযােগ্য রাবীদের বরাতে ভুল রিওয়ায়াত করত এবং
আতিয়্যার বরাতে জাল হাদীস রিওয়ায়াত করত ৷ মুসলিম এবং সুনান চতৃষ্টয়ের সৎকলকগণ
তার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এসব বর্ণনা থেকে তার সম্পর্কে কথা বলা যায় ,যে তাকে
মিথ্যা বর্ণনার অপবাদ দেওয়া যায় না ৷ তবে সে কখনও কখনও শিথিলতা করেছে, বিশেষত ঐ
সকল ক্ষেত্রে যা তার মাযহাবের সাথে সাদৃশ্যপুর্ণ ৷ ফলে সে অপরিচিত জন থেকে কিৎব৷ যার
প্রতি সে সৃধারণা পোষণ করত তার থেকে হাদীস রিওয়ায়াত করেছে ৷ তারপর তাদলীসের
আশ্রয় নিয়ে উক্ত রাবীকে অনুক্ত রেখে যে রাবীর শায়খেয় বরাত দিয়েছে ৷ এ কারণেই সে এই
হাদীস যেখানে মিথ্যা থেকে আত্মরক্ষা অপরিহার্য, সেখানে তাদলীসের শব্দ (:;, ) উল্লেখ
করেছে, সরাসরি হাদীস বর্ণনার জন্য প্রচলিত কোন শব্দ ব্যবহার করেনি ৷ সম্ভবত এ রাবী
দু’ জনের মাঝে এমন কেউ রয়েছে, যার পরিচয় অজ্ঞাত ৷
উপরন্তু তার এই শায়খ ইবরাহীম ইবন হাসান ইবন আলী ইবন আবু৩ তালিবও তেমন
প্রসিদ্ধ কোন হাদীসবেত্তা নন ৷ কোন নির্ভরযোগ্য হাদীসপ্রন্থের সৎকলবইি তার কোন হাদীস
রিওয়ায়াত করেননি ৷ আর এই ফুযাযল ইবন মারয়ুক এবং ইয়া ইেয়৷ ইবন মুতাওয়াক্কি ব্যতীত
অন্য কেউ তার থেকে রিওয়ায়াত করেননি ৷ এ বক্তব্য আবু হাতিম রাযী এবং আবু যুরআ
রাবীর ৷ আর তারা এই হাদীসের সনদ সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কােনরুপ মন্তব্য
করেননি ৷ আর (এই সনদের রাবী) ফাতিমা বিন্ত হুসায়ন ইবন আলী যিনি যায়নুল
আবিদীনের ভগ্নি তার হাদীসখানি মাশহ্রর সুনান চতুষ্টয়ের স ৎকলকগণ তার হাদীস বিওয়ায়াত
করেছেন ৷ তার পিতার শাহাদতের পর তিনি আহল বায়তের অন্যান্য সদস্যদের সাথে
দিমাশকে পদার্পণ করেন ৷ তার নির্ভবযােগ্যতার ব্যাপারে কোন সৎ পর নেই কিন্তু এ বিষয়টি
অজ্ঞাত যে তিনি আসম৷ বিন্ত উমায়স (রা) থেকে সরাসরি হাদীসখানি শুনেছেন কিনা ৷ প্রকৃত
বিষয় আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ তারপর প্রন্থকার হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন আবু হাফ্স
আল কিনানীর হাদীস সৎ প্রহ থেকে ৷ তিনি মুহাম্মদ ইবন উমর হ্যরত আসম৷ সুত্রে
রিওয়ায়াত করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত আলীর জন্য দু আ করেছিলেন, ফলে সুর্য একবার
অস্ত যাওয়ার পর পুনরায় উদিত হয়েছিল ৷ সনদটি অতি গরীব’ বা অপরিচিত ৷ আর আবদুর
রাঘৃযাক ও তার শায়খ ছ ওরীর হাদীস, হাদীস বিশারদগণের নিকট সুরক্ষিত, তার কোন
গুরুত্বপুর্ণ অংশই পবিতাজ্য নয় ৷ সুতরাং এই গুরুত্বপুর্ণ হাদীস আবদুর রায্যাক সুত্রে কিভাবে
শুধুত্থাল্ফ ইবন সালিম বর্ণনা করলেন? এছাড়া সনদে তার পুর্বে এমন সকল রাবী রয়েছেন
স্মরণশক্তি ও বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে যাদের অবস্থা অজ্ঞাত ৷ অতপর উম্মু আশআছও অজ্ঞাত পরিচয় ৷

আল্লাহ্ই অধিক জানেন ৷ এরপর এই মিসরীয় রাবী তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷ মুহাম্মদ ইবন
মারয়ুকের বরাতে আলী ইবন হাশিম থেকে-যার সম্পর্কে ইবন হিবৃবান বলেন, এ ব্যক্তি কট্টর
শিয়া সে প্রসিদ্ধ রাবীদের বরাত ব্যবহার করে মুনকার হাদীস সমুহ বর্ণনা করে ৷ আলী ইবন
হাশিম আবদুর রহমান ইবন আবদৃল্লাহ্রুট্রুবৃন দীনার থেকে তিনি আলী ইবন হুসায়ন ইবন
হাসান থেকে তিনি ফাতিমা ৰিনৃত আলী থেকে তিনি আসমা ৰিনৃত উমায়স থেকে এ হাদীসটি
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এ সনদটি প্রামাণ্য নয় ৷ এরপর তিনিআব’দুর রহমান ইবন শুরায়ক
আসমা বিনৃত উমায়স সুত্রেত তা রিওয়ায়াত করেছেন এবং হাদীসখানি তেমনভাবে উল্লেখ
করেছেন, যেমনভাবে আমরা ইবন উকদা আবদুল্লাহ ইবন নাখয়ী সুত্রে উপস্থাপন করেছি ৷
বুখারী তার কিতাবুল আদবে’ এর বরাতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এছাড়া হাদীস শাত্রের
একদল ইমাম তার বরাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ আবু হাতিম রাযী তার ব্যাপারে বলেন, যে
ছিল দুর্বল হাদীসের অধিকারী ৷ ইবন হিবৃবান তার আছ-ফ্লিশ্ত’ গ্রন্থে তার উল্লেখ করে বলেন,
কখনও কখনও সে ভ্রান্তির শিকার হয়েছে ৷ আর ইবন উবাদা ২২৭ হিজরীতে তার ওফাতের
কথা উল্লেখ করেছেন ৷ ন্

ইতিপুর্বে আমরা উল্লেখ করেছি, শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেছেন, আবুল
আব্বাস ইবন উকদাবেইি এই হাদীস জাল করার ব্যাপারে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৷ তারপর তিনি
তার ব্যাপারে হাদীস শাত্রীয় ইমামগণের অভিযোগ ও অনাস্থার কথা উল্লেখ করেছেন এবং এ
কথাও যে এই ব্যক্তি মাশায়েখদের নামে নুসখা (হাদীসের অনুলিপি) প্রস্তুত করে তাদের নামে
তা চালিয়ে দিত ৷ সঠিক বিষয় আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ আমি বলি, সনদে হযরত আসমার
বরাতে বর্ণিত হয়েছে যে, সুর্য পুনরায় উদিত হয়ে মসজিদের (নববীর) মধ্য বরাবর পৌছেছিল,
আর পুর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, এ ঘটনা ঘটেছিল খায়বার ভুমির আস সাহ্বা অঞ্চলে ৷ সুতরাং এ
দুয়ের মাঝে পরস্পর বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে ৷ আর এ অবস্থা অপরিহার্যভাবে হাদীসের দুর্বল ও
সমালোচনা যােগ্যও প্রমাণিত করেছে ৷ তারপর তিনি মুহাম্মদ ইবন আল কাযীর হাদীস সংগ্রহ
থেকে আসমা বিনৃত উমায়সের বরাতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, গনীমত বন্টনে
হযরত আলীর ব্যস্ত থাকার কারণে সুর্য অস্ত গেল না অস্ত যাওয়ার উপক্রম হল ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তুমি কি নামায পড়নি? তখন আলী বললেন, জী না ৷ তখন তিনি
আল্লাহর কাছে দৃআ করলেন, ফলে সুর্য উপরের দিকে উঠে আকাশের মাঝ বরাবর চলে
আসল, তখন আলী (রা) নামায পডলেন ৷ এরপর যখন সুর্য অস্ত গেল তখন তা থেকে করতে
দিয়ে লোহা কাটার মত শব্দ শোনা গেল ৷
একাধিক কারণে এটিও পুর্ববর্তী রিওয়ায়াত সমুহের পরিপন্থী ৷ উপবত্তু এর সনদটি
একান্তই অস্পষ্ট ৷ কেননা, এ সনদের রাবী সাব্বাহ অজ্ঞাত পরিচয় ৷ এছাড়া নিহত হুসায়ন ইবন
আলী কিভাবে (শহীদ অবস্থায়) একজন একজন থেকে আসমা বিনৃত উমায়সের বরাতে হাদীস
রিওয়ায়াত করলেন? হাদীসের বর্ণনা সুত্র ও পাঠ উভয়দিক থেকেই এটি বিভ্রাস্তিকর ৷ কেননা,
এতে রয়েছে শুধু গনীমত বন্টনে ব্যস্ত ছিলেন ৷ আর এটা অন্য কেউ বলেননি, এবং এ কারণে
নামায তরকের বৈধতার পক্ষেও কেউ সমর্থন দেননি ৷ যদিও যুদ্ধের কারণে কোন কোন ইমাম
নামায বিলম্বিত করাকে বৈধ বলেছেন ৷ যেমন ইমাম বুখারী তা বর্ণনা করেছেন মাকহ্রল,
আওযায়ী এবং আনাস ইবন মালিকের বরাতে ৷ বুখারী খন্দকের যুদ্ধের দিন নামায বিলন্বিত
— ১ ৭

করা এবং নবী করীম (সা)-এর নির্দেশ-বনী কুরায়যায় না পৌছে কেউ যেন নামায পড়ে-দ্বারা
তাদের পক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন ৷ অবশ্য একদল ইমামের মত হল, এটা সালাতৃল খাওফ’ বা
যুদ্ধকালীন নামায দ্বারা রহিত করে দেয়া হয়েছে ৷ এখানে উদ্দেশ্য হল এই যে ইমামদের কেউ
এই মত পোষণ করেননি যে, গনীমত বন্টনের ওযহুব্ল নামায বিলম্বিত করা বৈধ, যার ফলে
এটাকে হযরত আলী (বা)-এর সাথে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে ৷ অথচ“ আল-কুরআনে বর্ণিত
, অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ “মধ্যবর্তী সালাত যে আসরের নামায” তিনিই রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রযুখাৎ
রিওয়ড়ায়াত করেছেন ৷ এই দলের বর্ণনা সত্বেও যদি এই পরবর্তী বর্গনাটি সাব্যস্ত হয় এবং
গনীমত বন্টনের কারণে আলী (বা) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায বিলম্বিত করে থাকেন এবং শরীয়ত
প্রবর্তক তাকে তাতে বহাল রেখে থাকেন, তা এককভ্যবেই এর বৈধতার প্রমাণ হবে এবং
বুখারীর উল্লেখিত রিওয়ায়াতের তুলনায় অধিকতর অকাট্য প্রমাণরুপে বিবেচিত হবে ৷ কেননা,
এটা নিশ্চিতভাবে যুদ্ধকালীন সালাতেৱ বিধান আমার পরবর্তী ঘটনা ৷ কেননা, তিনি খায়বারে
ছিলেন সপ্তম হিজরীতে আর যুদ্ধকালীন সালাতেৱ বিধান তার পুর্বেই দেয়া হয়েছে ৷ আর আলী
(রা) যদি ভুলে গিয়ে সুর্ষাস্ত পর্যন্ত নামায তরক করে থাকেন, তাহলে তিনি মাবুব, সে ক্ষেত্রে
তার জন্য সুর্যকে ফিরানাের কোন প্রয়োজন নেই, বরং এ রুপ ক্ষেত্রে যে নামাষের সময়ই হল
মাগরিবের পর ৷ ব্যাপারটি ছিল তইি যা হাদীসে এসেছে ৷ আল্লাহ্ই সৰ্বাধিক জ্ঞাত ৷

এসবই উক্ত হাদীসের দৃর্বলতা প্রমাণ করে ৷ আর তাকে যদি আমরা অন্য কোন ঘটনা
ধ্রি, যা পুর্বে বিগত হয়নি তাহলে বলতে হয় একাধিকবার সুর্যের ফিরে আসার ঘটনা ঘটেছে,
অথচ হাদীস শাত্রের ইমামগণের কেউ প্রসিদ্ধ হাদীস সংকলকগণ তা রিওয়ায়াত করেননি ৷ এই
বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এমন সকল রাবী যাদের কারো সনইে অজ্ঞাত-অগহণঃযাগ্য এবং
অভিযুক্ত রাবী মুক্ত নয় ৷ আল্লাহ্ই সর্বাধিক জ্ঞাত ৷ এরপর দুই মিশরীয় রাবী আবুল আব্বাস
ইবন উকদার আমর ইবন ছাবিত সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি আবদৃল্লাহ্
ইবন হাসান ইবন হুসায়ন ইবন আবু তালিবকে হযরত আলীর জন্য সুর্যকে ফিরিয়ে আনার
হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করে বললাম, এটা কী আপনার কাছে প্রামাণ্য? তখন তিনি আমাকে
বললেন, আল্লাহ তাআলা তার মহাগ্রন্থে সুর্য ফিরানাের চেয়ে বড় কোন নিদর্শনের উল্লেখ
করেননি ৷ আমি বললাম, আপনি সত্য বলেছেন? আল্লাহ আপনার জন্য আমাকে কুরবান
করুন ৷ কিন্তু আমি তা আপনার মুখে শুনতে চাই ৷ তখন তিনি তার পিতা হাসান ইবন হুসায়ন
ইর্বৃন আলী সুত্রে আসমা থেকে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, এরপর হযরত আলী
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে আসরের নামায পড়ার উদ্দেশ্যে তার কাছে আসলেন ৷ কিন্তু
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইতিমধ্যেই আসরের নামায পড়ে নিয়েছিলেন ৷ আর এ সময় তার কাছে ওহী
নাযিল হল তখন তিনি ভীকে তার বুকের সাথে লাগিয়ে নিলেন, এভাবে বেশ কিছুক্ষণ থাকার
পর রাসুলুল্লাহ্ (না) সম্বিৎ ফিরে পেলেন ৷ তখন তিনি বললেন, হে আলী, তৃমি কি আসরের
নামায পড়েছ? জবাবে আলী বললেন, আমি এসে দেখলাম আপনার উপর ওহী নাযিল হচ্ছে,
তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমি আপনাকে বুকের সাথে লাগিয়ে ব্লেখেছি ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)
কিবলানুখী হলেন ইতিমধ্যে অবশ্য সুর্য অস্ত গিয়েছে এবং বললেন, হে আল্লাহ ! আলী
আপনার আনুগতে মশগুল ছিল ৷ সুতরাং আপনি তার জন্য সুর্য ফিরিয়ে দিন, আসমা (রা)
বলেন, তখন সুর্য যীতার ন্যায় ঘরঘবৃ শব্দ করে পুনরায় উদিত হল এবং আসরের সময়ে যে

স্থানে ছিল সেই স্থানে অবস্থান নিল ৷ তখন হযরত আলী ধীরস্থির ভাবে নামায আদায় করতে
লাগলেন ৷ তিনি যখন নামায শেষ করেন, তখন পুনরায় র্যাতার ন্যায় ঘৱঘর্ শব্দ করে সুর্য তার
পুর্বাবস্থানে ফিরে গেল ৷ এরপর সুর্য যখন অদৃশ্য হল, তখন অন্ধকার ঘনীভুত হল এবং
তারকারাজি প্রকাশ পেল ৷
এই বর্ণনাটিও সনদ ও পাঠ উভয় দিক থেকে মুনকার’ বা প্রত্যাখ্যানযােগ্য ৷ আর এটা
তার পুর্বের হাদীস সমুহের বর্ণনা প্রসঙ্গের পরিপন্থী ৷ আর এ সনদের রাবী আমর ইবনছাবিতই
হল হাদীস জাল করার ব্যাপারে কিহুবা অন্য রাবীর সংগ্রহ থেকে চুরি করার অভিযোগে
অভিযুক্ত ৷ তার পুর্ণ পরিচয় হল, আমর ইবন ছাবিত ইবন হুরমুয আল বাক্রী আল কুফী সে
ছিল বাক্র ইবন ওয়ইিল গোত্রের মাওলা ৷ সে আমর ইবন মিকদাম হাদ্দাদ (কর্মকার) নামেও
পরিচিত ৷ একাধিক তাবেয়ীব বরাতে সে হাদীস বর্ণনা করেছে এবং তার বরাতেও অনেকে
হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ এদের মধ্যে সাঈদ ইবন মানসুর, আবুদাউদ, আবুল ওলীদ আত্
তয়লড়াসান অন্যতম ৷ আবদুল্লাহ “ইবন মুবারক তাকে বত্তনীিয় আখ্যা দিয়ে বলেছেন তোমরা তার
থেকে হাদীস রিওয়ায়াত করো না, কেননা, যে আমাদের পুর্বসুরী মনীষীগণের প্রতি কটুক্তি
করে ৷ এই ব্যক্তির জানাযা যখন তাকে অতিক্রম করছিল তখন তিনি তা থেকে পা র্বাচিয়ে
সরে যান ৷ অনুরুপ আবদুর রহমান ইবন মাহ্দীও তাকে বর্জন করেছেন ৷ আর আবু মাঈন ও
নাসাঈ তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন, যে নির্ভরষেগ্যে কিংবা নিরাপদ নয়, আর তার হাদীস
লিখিত হয় না৷ নাসাঈ ও আবু যুরআ বলেন, যে দুর্বল ৷ আর আবুহাতিম এও বলেন, যে ছিল
নিকৃষ্ট মতের অধিকারী কট্টর শিয়া, তার হাদীস লিখিত হতো না ৷ বুখারী বলেন, মুহাদ্দিসদের
নিকট সে সবল রাবী নয় ৷ আবু দউিদ বলেন, যে ছিল অত্যন্ত মন্দলোক কট্টর শিয়া এবং
অত্যন্ত বদলােক ৷ এখানে তিনি তার প্রসঙ্গে বলেন, যে মৃত্যুবরণ করলে আমি তার জানাষায়
যোগ দেইনি ৷ কেননা সে বলত যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা)এব ইনতিকাল হলে পাচজন ব্যতীত
সকল মুসলমান কাফির হয়ে গিয়েছিলেন ৷ এ মন্তব্য করে আবু দউিদ তার নিন্দাবাদ করতে
লাগলেন ৷ ইবন হিব্বান বলেন, যে জাল হাদীস বর্ণনা করত (বিশ্বস্ত ৱাবীগণের বরাত দিয়ে) ৷
ইবন আদী বলেন, তার বর্ণিত হাদীসে দুর্বলতা প্রকট ৷ ঐতিহাসিকগণ একশ সাতাশ (১২৭)
হিজরীতে তার ওফাত উল্লেখ করেছেন ৷ এ কারণে আমাদের শায়খ আবুল আব্বাস ইবন
তারর্মিয়্যা বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন হাসান ও তার পিতা এ জাতীয় হাদীস বর্ণনার উধের্ব ৷ আর
এ গ্রন্থের গ্রন্থকার বলেন, হযরত আবু হুরায়রার হাদীসখানি বর্ণিত হয়েছে আকীল ইবন হাসান
আসকারীর উমরা ইবন বুরদ সুত্রে ৷ গ্রন্থকার বলেন, একদীর্ঘ হাদীস থেকে আমি তা
সংক্ষিপ্ত করেছি ৷ এর সনদ বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন ৷ আর এর রাবী ইয়াহ্ইয়া ইবন ইয়াযীদ তার ,
পিতা এবং তার শায়খ দউিদ ইবন ফারাহীজ সবইি দুর্বল ৷ এদিকে ইঙ্গিত করে ইবনুল জাওযী
বলেছেন, ইবন আরদা ওয়ায়হ তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷ দউিদ ইবন ফারাহীজ হযরত আবু
হুরায়রা সুত্রে ৷ আর এই দাউদাক ইমাম শুবা, নাসাঈ প্রমুখ ইমামগণ দুর্বল গণ্য করেছেন ৷
অবন্থাদৃষ্টে যা মনে হয় তা হল এটা কোন রাবীর কারসাজি ৷ অথবা কোন রাবীর অজ্ঞাতসারে
সে (সনদে) তার পুর্বে অনুপ্রবেশ করেছে ৷ সঠিক বিষয় আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ আল বিদায়ার
গ্রন্থকার বলেন, আবু সাঈদেৱ হাদীসখানির বর্ণনা সুত্র হল মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল
জুরপানী হুসায়ন ইবন আলীর সুত্রে ৷ তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরীকে বলতে

শুনেছি, একবার আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সাক্ষাতে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম তার পবিত্র
মস্তক হযরত আলীর কোলে রয়েছে ৷ ইতিমধ্যে সুর্য অস্তমিত হল ৷ তখন নবী করীম (সা)
বললেন, হে আলী ! তুমি কি আসরের নামায পড়েছ? তিনি বললেন, জী না, আমি নামায
পড়িনি ৷ আপনার ব্যথা পীড়িত অবস্থায় আমি আমার কোল থেকে আপনার মাথা নামিয়ে রাখা
পছন্দ করিনি ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে আলী ! দৃআ কর আল্পাহ্ যেন তোমার জন্য
সুর্যকে ফিরিয়ে দেন ৷ তখন আলী বললেন, ইয়া রাসুলাল্পড়াহ্! আপনিই বরং দৃআ করন্স আর
আমি আমীন বলি ৷ তখন তিনি এই বলে দৃআ করলেন, হে আমার প্রতিপালক ! আলী আপনার
ও আপনার নবীর আনুগত্যে মশগুল ছিল, আপনি তার জন্য সুর্যকে ফিরিয়ে দিন ৷ রাৰী আবু
সাঈদ বলেন, আল্লাহ কলম, আমি যখন সুর্য থেকে চরকির ন্যায় ঘরঘবৃ শব্দ শুনলাম এমনকি
তা শুভ্র ও নির্মল হয়ে পুনরায় উদিত হল ৷ এটাও অস্পষ্ট সনদ এবং তার পাঠও মুনকার’ বা
অ্যাহণযােগ্য এবং পুর্বে বিগত বর্ণনাধারাসমুহের পরিপন্থী ৷ এ সকল আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত
হয় যে, এ বিষয়টি সম্পুর্ণ জাল বানােয়াট ও ভিত্তিহীন যা এই শিয়া রাফিয়ীপণ একে অন্য
থেকে রিওয়ায়াত করেছে ৷ আবু সাঈদের রিওয়ায়াত থেকে যদি এর প্রকৃত কোন উৎস বা ভিত্তি
থাকত, তাহলে তার বিশিষ্ট শিষ্যগণ অবশ্যই তার বরাতে তা আহরণ করতেন ৷ যেমন ইমাম
ন্ বুখারী ও মুসলিম তাদের প্রন্থদ্বরে তার সুত্রে থাৰ্রজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং মিখদাজের কাহিনী
ও হযরত আলীর ফযীলত সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় বর্ণনা করেস্ফো ৷

হযরত আলীর (রা) হাদীসখানির সনদ হল, আবুল আব্বাস আল ফারগানী,
জুওয়ায়রিয়া বিনৃত শাহ্র সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমি হযরত আলীর
সাথে বের হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ণ্,হ জুওয়ায়রিয়া! কখনও কখনও আমার
কোলে মাথা রাখা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ওহী নাযিল হত এরপর তিনি হাদীসখানি
উল্লেখ করেন ৷ এই সনদটিও অন্ধকারাচ্ছন্ন-এর অধিকাংশ রাবী যে অজ্ঞাত পরিচয় তা বলইি
বাহুল্য ৷ প্রকৃত বিষয় আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ এটা রাফিযীদের স্বকপােল কল্পিত সম্পুর্ণ বানােয়টি
বর্ণনা ৷ আল্লাহ তাদেরকে অপছন্দ করুন, আর যারা আল্লাহ্র রাসুলের নামে মিথ্যা রটনা
করেছে তাদেরকে লানত করস্প এবং শরীয়ত প্রবর্তক যে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন
তাদের জন্য তা ত্বরান্বিত করুন, তিনি বলেছেন-আর তার চেয়ে সত্যবাদী কে আছে “যে
ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামেমিথ্যা রটনা করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নেয়” ৷
হযরত আলী এই হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে তার বিরাট ফযীলত এবং
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সুস্পষ্ট মুজিযার প্রমাণ রয়েছে, অথচ তার বরাতে এই অম্পষ্ট ও অজ্ঞাত
পরিচয় রাবীদের সনদের মাধ্যমেই বর্ণিত রিওয়ায়াত হবে-এ কথা কী করে কোন আলিমের
বুদ্ধিগ্রাহ্য হতে পারে? বাস্তবে এ সকল রাবীর কোন অস্তিত্ব ছিল কি? বাহ্যিক দৃষ্টিতে এর
উত্তর, না ৷ তবে প্রকৃত বিষয় আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ উপরন্তু তাও আবার বর্ণিত হয়েছে অজ্ঞাত
পরিচয় এক শ্ৰীলােকের বরাতে ৷ হযরত আলীর যেমন উবায়দা আস্ সালমানী, কাযী শুরায়হ,
আমির শাবা প্রমুখের মত নির্ভরযোগ্য শিষ্যগণ কোথায়?

উপরন্তু হাদীস শান্নের সকল ইমাম বিশেষত সিহাহ্ সিত্তা, মুসনাদ, সুনান প্রভৃতির
সংকলকগণ কর্তৃক এই হাদীসের রিওয়ায়াত না করা এবং তা তাদের প্রন্থসমুহে অন্তর্ভুক্ত না
করাই এ কথার সবচইিতে বড় প্রমাণ যে এই হাদীসের প্রকৃত কোন উৎস নেই ৷ এটা

পরবর্তীকালে রটনাকৃত ও বানােয়াট ৷ ইমাম আবু আবদুর রহমান নাসাঈ হযরত আলীর
ফযীলত বৈশিষ্ট্য সম্বলিত স্বতন্ত্র একটি কিতাব (অধ্যায়) রচনা করেছেন, অথচ তিনি এই
হাদীসখানি উল্লেখ করেননি ৷ তদ্র্যপ হাকিমও তার মুসৃতাদরাকে এর উল্লেখ করেননি ৷ অথচ
এরা উভয়েই কিছুটা শিয়াপন্থী বলে অনেকের ধারণা ৷ নির্ভরাযাগ্য বলে বিবেচিত র্যারাই তা
রিওয়ায়াত করেছেন তারা তা করোছা বিস্ময়ের সাথে ৷ দিনের আলোতে প্রকাশ্যে তা সংঘটিত
হল, আর তা বর্ণনার কার্যকারণও পর্যাপ্ত অথচ অগ্রহণযােপ্য ও দুর্বল, কিছু সুত্রেই তা বর্ণিত হল
যার অধিকাৎশ্ইি জাল ও বানােয়াট ৷ এর মাঝে সর্বোৎকৃষ্ট সনদ হল, আহমদ ইবন সালিহ আল
মিসৃরীব দাউদ রিওয়ায়াত খানি, যা তিনি বর্ণনা করেছেন ইবন আবু ফুদায়ক প্ আসমা
বিনৃত উমায়স সুত্রে ৷ আর এতেও বেশ খুত ও দুর্বলতা বিদ্যমান যার প্ৰতি ইতিপুর্বেইি আমরা
ইঙ্গিত করে এসেছি ৷ আসলে আহমদ ইবন সালিহ এ রিওয়ায়াতে বিভ্রাস্তির শিকার হয়েছেন
এবং তিনি এর যথার্থতার অনৃকুলে মত পোষণ করে এর সাব্যস্তকরণবেইি প্রাধান্য দিয়েছেন ৷
ইমাম তাহাবী তার গ্রন্থ মুশকিলুল হাদীসে’ আলী ইবন আবদুর রহমান সুত্রে আহমদ ইবন
সালিহ আল-মিসরী থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি জ্ঞানের পথ অম্বেষী তার
জন্য সুর্যকে ফিরড়ানাে বিষয়ক আসমা (রা)-এর হাদীস মুখস্থ করা থেকে পিছিয়ে থাকা উচিত
নয় ৷ কেননা, এটা নবুওয়াতের নিদর্শন ৷ একইভাবে যেমন বলা হয় ইমাম তাহাবীও এর প্রতি
আকৃষ্ট হয়েছেন ৷ আবুল কাসিম আল হাসকানী মুতাজিলী কালাম শাস্ত্রবিদ আবু আবদুল্লাহ আল
বাসরী থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, সুর্যাস্তের পর পুনরায় সুর্যের উদিত হওয়ার ঘটনা
বর্ণিত হওয়ার অধিক উপযুওশ্টু, কেননা, যদিও তা আযীরুল মু’মিনীন আলী (রা)-এর ফযীলত
কিন্তু আসলে তা নবুওয়ার্তের অন্যতম নিদর্শন, আর ফযীলতের ক্ষেত্রে তা নবুওয়াতের বহু
অন্যান্য নিদর্শনের সমকক্ষ, এ কথার সারমর্ম হলো এ হাদীসখানি বহু সংখ্যক ও নিভরিযােগ্য
রাবীদের সুত্রে মুতাওয়াতিৱ রুপে’ বর্ণিত হওয়া উচিত ছিল ৷ আর হাদীসখানি প্রকৃতই সহীহ্
হলে এ কথইি যথার্থ হত ৷ কিন্তু তা এভাবে রিওয়ায়াত করা হয়নি ৷ সুতরাং এ থেকেই বোঝা
যায় যে হাদীসখানিসহীহ্ নয় ৷ সঠিক বিষয় আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

আমি (গ্রন্থকার) বলি, সর্বযুগে হাদীস শাত্রের ইমামগণ এ হাদীসের বিশুদ্ধতার কথা
অস্বীকার করে তা প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন এবং এর রাবীদের গ্রহণষেগ্যেতাৱ ব্যাপারে আপত্তি
করে এসেছেন, যেমন আমরা ইতিপুর্বে একাধিক হাফিয-হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছি ৷ এদের
মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ, ইয়ালা ইবন উবায়দ, দামিশকের খতিব ইব্রাহীম ইবন ইয়াকুব, আবু
বকর মুহাম্মদ ইবন হাতিম আল বুখারী, যিনি ইবন যাওজাওয়ায়হ্ নামে খ্যাত, হাফিয আবুল
কাসিম ইবন আসাকির, শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী প্রমুখ প্রাচীন ও পরবর্তীকালের
হাদীসবেত্তাগণ ৷ আর এ হাদীসখানিকে যারা স্পষ্টভাবে জাল ও বানােয়াট আখ্যা দিয়েছেন
এদের অন্যতম হলেন, আমাদের শায়খ হাফিয আবুল হাজ্জাজ মিয্যী, আল্লামা আবুল আব্বাস
ইবন তায়মিয়্যা ৷

পড়াচটি ডিত্তিহীন হাদীস

হাকিম আবু আবদুল্লাহ্ নিশাপুরী, মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল হাশিমীর সুত্রে আবদুল্লাহ্
ইবন আলী (ইবন) আল মাদীনী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতাকে
বলতে শুনেছি, রাবীদের বর্ণিত পড়াচটি হাদীসের কোন ভিত্তি নেই ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে
কোন সম্পর্ক নেই ৷
প্রথম হাদীস

প্রার্থী যদি সত্য বলে , তাহলে তাকে রে ফিরিয়ে দেয় যে সফলকাম হবে না ৷

দ্বিতীয় হাদীস

চোখের ব্যথা ছাড়া কোন ব্যথা নেই এবং ঋণের দুশ্চিন্তা ছাড়া কোন দৃশ্চিস্তা নেই ৷

তৃতীয় হাদীস

হযরত আলীর জন্য অস্ত যাওয়ার পর সুর্যকে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল ৷

চতুর্থ হাদীস

আমাকে আল্লাহ্ দুশবছর মাটির নিচে রাখবেন-এর চাইতে আল্লাহ্র কাছে আমি
অধিকতর সম্মানিত ৷ (অর্থাৎ আমার মর্যাদার কারণে দুই শতাধিক বছর পর্যন্ত আল্লাহ্ আমাকে
মাটির নীচে ফেলে রাখতে পারেন না ৷)
পঞ্চম হাদীস

শিঙ্গা যে লাপায় এবং মাঝে লাগানো হয় তাদের উভয়ের ণ্রাযা ভেঙ্গে যায় ৷ তাদের
একজন অপরজনকে (রোজা ভঙ্গের জন্য) উদ্বুদ্ধ করে ৷

ইমাম তাহাৰী (র) যদিও তার নিজের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট মনে হয়েছে,৩ তবে তিনি
ইমাম আবু হানীফা (র) কর্তৃক এই হাদীসখানি প্রত্যাখ্যান করার এবং তার রাবীদের বিরুদ্ধে
তার সমালোচনার উল্লেখ করেছেন ৷ আবুল আব্বাস ইবন উকদা, জাফর ইবন মুহাম্মদ সুত্রে
সুলায়মান ইবন আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি বাশৃশার ইবন
দাবৃরাকে বলতে শুনেছি যে , তিনি বলেছেন, একবার মুহাম্মদ ইবন নুমান ইমাম আবু হানীফার
(র)এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন তিনি তাকে বললেন, আপনি সুর্য ফিরানাের হাদীসখানি
কার থেকে রিওয়ায়াত করেছেন? জবাবে তিনি বললেন, আপনি বার বরাতে

হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন তিনি ব্যতীত অন্য রা বী থেকে ৷ দেখা যাচ্ছে ইমাম আবু হানীফা
যিনি সর্বমান্য ইমামদের অন্যতম, এবং কুফার অধিবাসী আলী (রা)-এর প্ৰতি ভালবাসা এবং

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest