“বিশ্ব ইজতেমার” উদ্দেশ্য কি?

দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করা বা মোনাজাত করাই কি আসল উদ্দেশ্য?

প্রতি বছর বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতিটি মুসলিম দেশে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়, এমনকি এখন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় “আঞ্চলিক ইজতেমা” হচ্ছে। সারা বিশ্বের সকল স্থানের ইজতেমার আসল উদ্দেশ্য হলো যেন বেশি বেশি জামাআত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়। বিশ্বের সকল মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করার জন্য আল্লাহর দেওয়া জান,মাল,সময় নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া।

সারা বিশ্বের থেকে এক দল লোক মেহনত করতে করতে ময়দানে আসবে, আরেক দল লোক ময়দান থেকে জামাআতবদ্ধ হয়ে আবার সারা বিশ্বে আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাত প্রচার-প্রসারের জন্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। যেন মানুষ নিজে ঈমান ,আমল শেখার পাশাপাশি মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে এক আল্লাহর দিকে আহবান করার জন্য আজীবন এই মেহনতের সহিত লেগে থাকতে পারেন। মানুষের মাঝে যেন পরিপূর্ণ দ্বীন এসে যায়, সেই জন্যই দাওয়াত ও তাবলিগের এই মেহনত।

প্রতিটি মানুষ যেন দুনিয়ার লোভ – লালসা ত্যাগ করে নিজে আল্লাহর হুকুম – আহকাম পালন এবং রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাত মত জীবন পরিচালনা করে আখিরাতের আসল জীবনের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে এবং পাশাপাশি নিজের পরিবারে,সমাজে,রাষ্ট্রে এবং বিশ্বের সকল মুসলিম-অমুসলিমকে আল্লাহর দিকে আহবান করে সেই উদ্দেশ্যে রাসূল (সাঃ) ও সাহাবাদের অনুসরণ, অনুকরণ করে কুরবানী, কষ্ট করে মেহনত করার চেষ্টা করা মৃত্যু পর্যন্ত।

সারা বিশ্বে ৬০০ কোটির উপরে অমুসলিম ভাই এখনো আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে জানেনা। তাদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দেওয়া এবং আল্লাহর দিকে আহবান করার জন্য প্রতিদিন কোটি কোটি মুসলমান এর

প্রয়োজন।সকল মুসলমানদের উপর তাদের কাছে কালিমার দাওয়াত নিয়ে যাওয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও রাসূল (সাঃ) এর নির্দেশ এবং সকল মুসলমান ভাইদের জিম্মাদারী।

কিন্তু বর্তমানে ১৬০ কোটি মুসলমান এর ঈমান, আমল,আখলাকের বেহাল দশা। বেশির ভাগ মুসলমান ভাই-বোন আজকে কাজে কলমে মুসলমান! বাস্তবে আমরা অমুসলিমদের অনুসরণ করে নিজেদের পরিচয় ভুলে যাচ্ছি ! তাই সব মানুষ যেন আল্লাহওয়ালা হয়ে যায় সেই জন্যই এই মেহনত। আল্লাহর খাস রহমত এই উম্মতের মধ্যে দাওয়াত ও তাবলিগ এর নামে একটি “চলমান মাদ্রাসার” ব্যাবস্থা করেছেন। আল-হামদু লিল্লাহ। আলেম -ওলামায়ে কেরাম হলেন এই মাদ্রাসার শিক্ষক। আর সব শ্রেণী-পেশা,সব বয়সী মাদ্রাসার সবাই এই মাদ্রাসার ছাত্র।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

“তোমাদের মধ্যে হতে একটি জামাত এমন হওয়া জরূরি; যারা (মানুষকে) মঙ্গলের দিকে আহবান করবে, সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে -তারাই পূর্ণ সফলকাম হবে।”

[সূরা আল ইমরান, আয়াত-১০৪]

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অন্য আয়াতে বলেন:

“ঐ ব্যক্তির কথা হতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নিজে নেক আমল করে, এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের মধ্য হতে একজন।”

[সূরা হা-মিম সিজদাহ, আয়াত-৩৩]

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

“আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও প্রচার কর”

[সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪]।

আল্লাহ সবাইকে দ্বীনের দাঈ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.