বুখারী (র) প্রদত্ত অনুচ্ছেদ শিরোনাম আরাফা দিবসে রাসূল (সা)-এর সিয়াম প্রসংগ

আবদৃল্লাহ্ (বা) বলেন, (আজ) সিয়াম পালন করো না ৷ কেননা, আরাফায় দিন রাসুলুল্পাহ্
(না)-এর কাছে একটি পাত্র পাঠানো হল যাতে দুধ ছিল ৷ তিনি তা থেকে পান করলেন ৷
অতএব তুমি সিয়াম পালন করো না ৷ কেননা, লোকেরা তোমাদের অনুসরণ করবে ৷

আনুবংগিক বিভিন্ন প্ৰসংগ : বুখারী (র) বলেন, সুলায়মান ইবন হারব (র) ইবন আব্বাস
(বা) হতে ৷ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (না)-এর সংগে আরাফায় অবস্থান করছিলেন,
ইতোমধ্যে সে তার বাহন হতে পড়ে গেল ৷ উটনীটি তাকে ফেলে দেয়ার ফলে তীর ঘাড় মটকে
যাওয়ায় তার মৃত্যু হয় ৷ তখন নবী করীম (সা) বললেন, তাকে পানি ও বরই পাতা (মিশিয়ে)
দিয়ে গোসল দিবে ৷ তাকে (তার ইহরামের) দুই কাপড় কাফন পরাবে, তাকে সুগন্ধি লাপাবে
না ৷ র্তার মাথা আবৃত করবেনা এবং তাকে হানুত (কপুর ইত্যাদি) মাখাবে না ৷ কেননা,
আল্লাহ কিয়ামতের দিন র্তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুথিত করবেন ৷ মুসলিম (র) ও
এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আবুর রাবী আয যাহরানী (র) হতে, নাসাঈ (র) বলেন,
ইসহাক ইবন ইবরাহীম অর্থাৎ ইবন রাহওয়ায়াহ (র) , আবদুর রহমান ইবন ইয়ামুর আদ-দীলা
(বা) হতে তিনি বলেন, আমি আরাফায় রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখেছি ৷ তখন নাজদবাসী
একদল লোক তার কাছে এসে তাকে হজ্জ সম্পর্কে ত্তিজ্ঞেসাে করল ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন ন্

আরাফায় অবস্থান হজ্জ ৷ সুতরাং ঘুযদালিফার রাতের ফজর শুরু হওয়ার আগে হাড়ারা
আরাফায় রাত (এর অবস্থান) পেয়ে যাবে তাদের হজ্জ পুর্ণ হয়ে যাবে ৷ সুনান গ্রন্থসমুহের
অন্যান্য সংকলনবৃন্দ এ হাদীস সুফিয়ান ছাওরী (র)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তবে
নাসাঈ (র) শুৰা (র) হতেও অতিরিক্ত একটি রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন ৷

নাসাঈ (র) বলেন, কুতায়বা (র) ইয়াষীদ ইবন শায়বান (বা) হতে ৷ তিনি বলেন, আমরা
আরাফায় অবস্থান ক্ষেত্রের এক দুরবর্তী প্রান্তে অবস্থানরত ছিলাম ৷ তখন ইবন মারবা আল
আনসারী (বা) আমাদের সংবাদ দিলেন ৷ তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসুল
(না)-এর দুত ৷ তিনি তোমাদের বলছেন, তোমরা তোমাদের নিদর্শনাবলী ও স্মৃতিচিহ্নসমুহে
ন্থিতিবান থাকবে ৷ কেননা, তোমরা তোমাদের পুর্বপুরুষ ইব্রাহীম (আ)-এর উত্তরাধিকারী
প্রাপ্ত হয়েছে৷ ৷ আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবন মাজা (র) এ হাদীসখানা রিওয়ায়াত করেছেন
সুফিয়ান ইবন উয়ায়না থেকে ঐ সনদে ৷ তিরমিযী (র) মন্তব্য করেছেন এর সনদ (হাসান) ৷
আমর ইবন দীনার (র) হতে প্রাপ্ত সুফিয়ান (ৱ)-এর হাদীস ব্যতীত অন্য কােন সুত্রে এ
হাদীসের পরিচিতি আমরা পইি নি ৷ আর ইবন মারবা-এর নাম হল যায়দ ইবন মারবা আ ল
আনসারী (রা) ৷ তার সুত্রে মাত্র এই একটি হাদীসই পাওয়া যায় ৷ তিরমিযী (র) আরো বলেন,
এ প্রসংগে আলী, আইশা, জুবায়র ইবন ঘুতইম ও শারীদ ইবন সুওয়ায়দ (রা) হতেও
রিওয়ায়াত রয়েছে ৷

জাবির (বা) হতে মুসলিম (র)-এর এ রিওয়ায়াত আগেই উল্লিখিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ্
(সা) বলেছেন, এ) আঃ আমি এখানে উকুফ করেছি ৷ তবে গেঢাি

আরাফাতই অবস্থান উকুফস্থল ৷ মালিক (র) তার সৃআত্তায় অতিরিক্ত বলেছেন,
মোঃ তবে নিম্ম ভুমি হতে দুরে থাকবে ৷

অনুচ্ছেদ : আরাফা অবস্থান কালে নবী করীম (সা) এর দৃআসমুহ

নবী করীম (সা) আরাফার দিন রােযা অবস্থায় ছিলেন না, একথা পুর্বেই বিবৃত হয়েছে ৷
এতে বুঝা যায় যে, সেখানে সিয়াম পালনের চাইতে সিয়াম বিহীন অবস্থায় থাকাই উত্তম ৷
কেননা, তাতে দৃআ করার ব্যাপারে শক্তি সামর্থ পাওয়া যায়, যা ঐ দিনের এবং ঐ স্থানের
আসল লক্ষ্য ৷ এ কারণেই নবী কবীম (সা) বাহনারােহী হয়ে দুপুর হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান
করেছিলেন ৷ আবু দাউদ আত তায়ালিসী (র) এ প্ৰসংগে তার ঘুসনাদে রিওয়ায়াত করেছেন ৷
হাওশাব ইবন আর্কীল (র) হতে আবু হুরায়রা (বা) সুত্রে (তিনি) রাসুলুল্লাহ (না) হতে এ
মর্মে বর্ণনা করেন যে, তিনি আরাফাতে অবস্থান কালে আরাফার দিনের (যিলহভ্রুজ্জর নয়
তারিখের) সিয়াম পালন নিষেধ করেছেন ৷ ইমাম আহমাদ (র) বলেন, আবদুর রহমান ইবন
মাহদী (র) , ইবন আব্বাস (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা (বা) থেকে, তিনি বলেন,
আমি আবু হুরায়রা (রা)-এর বাড়িতে র্তার কাছে গেলাম এবং আরাফাতে অবস্থান কালে
আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম ৷ তিনি বললেন, আরাফাতে আরাফার দিনের
রােযা থাকতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিষেধ করেছেন ৷ অনুরুপ আহমদ (র) এ হাদীস ওয়াকী
হড়াওশাব (র) সনদেও উল্লেখ করেছেন ৷ আবু দাউদ (র) নাসায়ী ও ইবন মজাে বিভিন্ন সনদে
এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ হাফিজ বড়ায়হাকী (র) বলেন, আবু উসামা আল কালবী (র)
ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আরাফাতে অবস্থানকালে আরাফার দিনের
বোমা রাখতে নবী করীম (সা) নিষেধ করেছেন ৷ বায়হার্কী (র) মন্তব্য করেছেন যে, (আবু
উসামার শায়খ হাসান এর শায়খ) হারিছ ইবন উবায়দ এভাবে ইবন আব্বাস (বা) হতে
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ কিন্তু সংরক্ষিত সনদে রয়েছে ইকরিমা হতে ৷ তিনি আবু হুরায়রা (বা)
হতে ৷ আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবন হিব্বান আল বুসতী (র) তার সহীহ্-এ , আবদুল্লাহ ইবন
আমর (বা) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তাকে আরাফা দিনের সিয়াম পালন সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর সংগে হজ্জ করেছি ৷ তিনি ঐ
সিয়াম পালন করেন নি ৷ আবু বকর (রা)-এর সংগেও হজ্জ করেছি, তিনি ও ঐদিনের সিয়াম
পালন করেন নি, উমর (না)-এর সাথেও তিনি ঐ দিন রোযা রাখেন নি ৷ আর আমিও-
আমি সিয়াম পালন করি না এবং কাউকে তার হুকুমও দেই না, আবার কাউকে তা প্নিষেধও
করি না ৷

ণ্ দুআসমুহ : ইমাম মালিক (র) বলেন, যিয়াদ ইবন আবু যিয়াদ (র)-তালহা ইবন
উবায়দুল্লাহ্ ইবন কুরায়য (বা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন-

আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দৃআ এবং আমি ও আমার পুর্বেকার নবীগণের শ্রেষ্ঠ দুআ “লড়া-
ইলাহা ইল্পালাহ ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু , এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই ৷ যিনি
একক ও না শরীক ৷ বায়হড়াকী (র) বলেছেন এ হাদীসখানা যুরসাল ৷ ইমাম মালিক (র) হতে

পালনকারী গোলাম বলল, তিনি সালাত আদায়ের ইচ্ছা করছেন না ৷ তবে তিনি উল্লেখ করেছেন
যে, নবী করীম (সা) এখানে পৌছলে পেশার করতেন ৷ তাই তিনি (ইবন উমার)-ও এখানে তা
করা পসন্দ করেছেন ৷

বুখারী (র) বলেন, মুসা জুওয়ায়রিয়া (র) নাফি (র) হতেতিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন
উমর (রা) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রিত করে আদায় করতেন ৷ তবে তিনি সে গিরিপথ
দিয়ে চলতেন যে পথে নবী করীম (সা) চলেছিলেন এবং সেখানে প্রবেশ করে ইসতিনজা ও উবু
করতেন এবং মুযদালিফায় উপনীত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না ৷ এ সুত্রে বুখারী
(র) একাকী বর্ণনা করেছেন ৷ বুখারী (র) আরো বলেন, তিনি বলেন, আদম ইবন আবু যিব
(র)ইবন উমর (বা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী করীম (সা) মুযদালিফায়
মাগরিব ও ইশা একত্র করে আদায় করলেন, প্রতি সালাত স্বতন্ত্র ইকামতে; এ দুয়ের মাঝে
কিৎবা এর কোন সালাতের অব্যবহিত পরে তাসবীহ (নকল সালাত) আদায় করেন নি ৷ মুসলিম
(র)-ও অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইবন উমর (বা) হতে এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করলেন, পরবর্তী বর্ণনায় মুসলিম (র) বলেন,
হারমালা (র) ইবন উনার (রা) সনদে বর্ণিত রিওয়ায়াতে অতিরিক্ত বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা)
মাগরিব তিন রাকআত আদায় করলেন এবং ইশা আদায় করলেন দুই রাকআত ৷ তাই
আবদুল্লাহ্ (রা)-ও আজীবন মুযদালিফায় অনুরুপ পন্থায় সালাত আদায় করেছেন ৷ তারপর
মুসলিম (র) শুবা, সাঈদ ইবন জুবায়ের সুত্রে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ মুসলিম (র)-এর
পরবর্তী বণর্ন৷ আবু বকর ইবন আবু শায়বা (র) আবু ইসহাক (র) হতে তিনি বলেন, সাঈদ
ইবন জুবড়ায়র (র) বলেছেন, আমরা ইবন উমর (রা)-এর সংগে (ইফাযা: করে অর্থাৎ) আরাফাত
থেকে রওয়ানা করে মুযদালিফায় পৌছলাম ৷ তিনি আমাদের নিয়ে মাগরিব ও ইশা’ এক
ইমড়ামাতে আদায় করলেন ৷ এরপর ঘরে বসে বললেন রাসুলুল্লাহ (সা) এ স্থানে আমাদের নিয়ে
এ ভাবেই সালাত আদায় করেছেন ৷ বুখারী (র) ও নাসাঈ (র) জ্যিপ্ জ্যি সুত্রে অনুরুপ
রিওয়ায়াত করেছেন ৷

বুখারী (র)-এর পরবর্তী অনুচ্ছেদ উভয় সালাতের জ্যা স্বতন্ত্র আযান ইকামত প্রসঙ্গ

আমর ইবন খালিদ (র)আবু ইসহাক (র) সুত্রে (তিনি বলেন) আবদুর রহমান ইবন
ইয়াযীদ (র) কে আমি বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) হজ্জ পালন করলেন ৷ আমরা
আতামা (ইশা)-র আযানের সময় কিৎবা তার কাছাকাছি সময়ে মুযদালিফা-য় পৌছলাম ৷
আবদুল্লাহ (বা) এক ব্যক্তিকে হুকুম করলে সে আযান দিল ও ইকামত বলল ৷ তিনি মাগরিব
সালাত আদায় করলেন এবং তারপরে দুই রাকআত আদায় করলেন ৷ তারপর র্তারা রাতের
খাবার আনিয়ে তা খেলেন ৷ তারপর এক ব্যক্তিকে আদেশ করলে সে আযান দিল (ও ইকামত
বলল ৷ তারপর ইশার সালাত দুই রাকআত আদায় করলেন ৷ পরে ফজরের সময় হলে
(একেবারে প্রথম ওয়াক্তে ফজর সালাত আদায় করে) তিনি বললেন, এ দিনের এবং এ
স্থানের এই সালাত ব্যতীত এত আগ মুহুর্তে নবী করীম (সা) অন্য কোন সময় ফজরের সালাত
আদায় করতেন না ৷” আবদুল্লাহ (বা) বলেছেন, এ দুই সালাত এমন যা স্থানতরিত করা হয়ে
থাকেণ্শ্মাগরিব আদায় করা হয় লোকজন মুয্দালিফায় এসে সমবেত হলে, আর ফজর সালাত

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.