Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

মসজিদ যিরার এর ঘটনা

মসজিদ যিরার এর ঘটনা

৪৮ আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া

ন৷ ৷” তাদের মাঝে আট জনের জন্য দৃবায়লা ই যথেষ্ট হয়ে, তা হল আগুনের শিখা, যা
তাদের স্কন্ধ সন্ধি দিয়ে ঢুকে বুক ফুড়ে (বর হয়ে ৷ ”

হাফিজ বায়হাকী (র) বলেন, হুযায়ফা (রা) থেকে আমরা এরুপ রিওয়ারাত ও পেয়েছি যে,
তারা ছিল চৌদ্দ জন কিৎব৷ পনের জন ৷ আর আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে,
তাদের মাঝে বার জন ইহকাল ও পরকালে আল্লাহ এবং তীর রাসুলের সাথে যুদ্ধ ঘোবণাকায়ী
সাব্যস্ত হয়ে ৷ অবশিষ্ট তিন জনের ওয়র কবুল করা হয়েছে ৷ কেননা,৩ তারা বলেছিলেন যে,
আমরা ঘোবকের ঘোষণা শুনতে পাইনি এবং নবী করীম (সা) এর ইচ্ছা সম্পর্কেও আমরা
জানতাম না ৷ ইমাম আহমাদ (র)৩ তার ঘুসনাদ গ্রন্থে এ হাদীলটি রিওরায়াত করেছেন ৷

ইয়াযীদ ইবন হারুন (র) আবৃ৩ তুফায়ল (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন,
রাস্ফুপুল্লাহ (সা) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন কালে একজন ঘোষককে হুকুম দিলে সে এরুপ
ঘোষণা দিল “র ৷ সুলুল্লাহ্ (সা) পাহাড়ী পথ ধরে চলবেন, সৃতরাৎ অন্য কেউ সে পথে যাবে
না ৷ পরে যখন হুযায়ফা (রা) সামনে থেকে রাসুলের বাহন টেনে নিচ্ছিলেন আর আত্মার (রা)
পিছন থেকে হাকিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন একদল মুখোশধাবী লোক দ্রুত গতিতে এগিয়ে এলে
অন্মোর (রা)শ্ কে ঘিরে ফেলল ৷ আত্মার (রা) ঘুরে দাড়িয়ে বাহনগুলোর মুখে আঘাত করতে
লাগলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) হুযায়ফা (রা)কে বললেন, হয়েছে, হয়েছে, চল এবং রাসুলুল্লাহ
(সা) উপত্যকা থেকে সমতলে অবতরণ করলেন ৷ ততক্ষণ আত্মার (রা) ফিরে এলে তিনি
বললেন, ও আত্মার! তুমি লোকগুলোকে চিনতে পেয়েছি কি ?’ তিনি বললেন, প্রায় সব কটি
বাহন আমি চিনেছি, কিন্তু আরােহীরা ছিল যুখেশোবৃত৷ ৷তিনি বললেন, ওদের উদ্দেশ্য কি ছিল,
তা কি তুমি জান ? তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসুলই সর্বাধিক অবগত ৩৷ তিনি বললেন,
তাদে র উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর রাসুলকে আক্রমণ করে তাকে ঠেলে ফেলে দেওয়া ৷ বচ্নািকারী
বলেন, এ বর্ণনা প্রসংগে একবার আত্মার (রা) নবী কয়ীম (সা) এর একজন সাহাবীর সাথে
কানাঘুব৷ করলেন ৷ লোকটিকে তিনি বললেন, আল্লাহর দোহ ই দিয়ে ওে তামাকে বলছিতু
জান, গিরিপথের ঘটনায় লোক সং থ্যা কত ছিল ? সে বলল, চৌদ্দ জন ৷ আত্মার (রা) বললেন,
তুমিও যদি তাদের একজন হয়ে থাক,৩ তাহলে তারা ছিল পরের জন ৷ তিনি বললেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) তাদের মাঝে তিন জনের ওমর গ্রহণ করেছিলেন ৷ কেননা, তারা বলেছিল যে,
আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) এর ঘোষকের ঘোষণা শুনতে পাইনি এবং ঐ দলটির উদ্দেশ্যও
আমলের জানা ছিল না ৷ আত্মার (রা) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবগ্রিষ্টি বার জন দুনিয়া
ও আখেরাতে আল্লাহ এবং তার রাসুলের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোবণক্যেরী রুপে সাবম্ভে হয়ে ৷

মসজিদে যিরার এর ঘটনা
আল্লাহ তাআল৷ ইরশাদ করেন

“এবং যারা মসজিদ নির্মাণ ”করেছে ক্ষতিসাবন, কুফরী ও যু মিনদের মাঝে বি ৬দ সৃষ্টির
উদ্দেশ্যে এবং ইতােপুভৈর্ব আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি যুদ্ধ করেছে, তার গোপন

ঘীটিস্বরুপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যই শপথ করলে, আরো সদুতদ্দাশ্যই তা করেছি ৷ ’
আল্লাহ সাক্ষী, তারা তো মিথ্যাবাদী ৷ তুমি তাতে কখনো (সালাংতর উদ্দেশ্যে) র্দাড়িয়ো না ৷
যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই স্থাপিত হয়েছে তাকওয়ার উপরে, তাই তোমার
সালাতের জন্য অধিকতর উপযোগী ৷ সেখানে এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন
ভালবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ পসন্দ করেন ৷

যে ব্যক্তি তার ঘরের ভিত্তি আল্লাহ ভীতি ও আল্লাহর সম্ভষ্টির উপর স্থাপন করে, সেই উত্তম,
না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে, তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করে এক থাদের ধ্বংসেড়াম্মুখ কিনারায়, ফলে যা
তাকেসহ জাহান্নামের আগুনে পতিত হয় ? আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রর্দশন করেন না ৷

তাদের সে ঘর যা তারা নিমর্সণ করেছে তা তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে-
যে পর্যন্ত না তাদের অন্তর ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়
এ আয়াতসমুহের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বিষয়ে আমার তাফসীর গ্রন্থে যথেষ্ট
আলোকপাত করেছি ৷

অনাচার প্রবল এ লোকদের এ মসজিদ নির্মাণ প্ৰসংগ এবং তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তনকালে
মদীনায় প্রবেশের পুর্বাহ্নে রাসুল (সা) কর্তৃক মসজিদটি মিসমার করে দেওয়ার নির্দেশ প্রসংগটি
ইবনু ইসহাক বিশদ৩াবে আলোচনা করেছেন ৷ সে আলোচনার সার কথা হল, মুনাফিকদের
একটি দল কুবা মসজিদের কাছে কাছে মসজিদের আকার-আকৃতি দিয়ে একটি ঘর তৈরী করল ৷
তাদের পরিকল্পনা ছিল যে, রাসুলুল্লাহ (না) তাতে উদ্বোধনী সালাত আদায় করে দিলে তাদের
দুরভিসন্ধি তথা শৃৎখলা ৩ৎগের এবং কুষত্রী ও হটকারীতার পথ সুগম হয়ে যাবে ৷ কিন্তু আল্লাহ
তার রাসুলকে সেখানে সালাত আদায় করা থেকে বিরত রেখে হিফাফ্তে করলেন ৷ আর তা হল
এভাবে, তিনি তখন তাবুক অভিযানে যাওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন ৷ সেখান থেকে ফেরার পথে
তিনি ষী আওয়ান’ মদীনা থেকে এক ঘন্টা দুরত্বের স্থানে অবস্থানকালে এ মসজিদ সম্পর্কে
পুর্বোক্ত ওহী নাযিল হয় ৷

দুরভিসন্ধিমুলক ও ক্ষতিকর৩৮; বলার যুক্তি হল-তাদের উদ্দেশ্য ছিল কুবা মসজিদের
প্রতিকুলে প্ৰতিযােপীতায় অবতীর্ণ হওয়া ৷ আর কুফরী ক্রিয়াকাণ্ড এ জন্য যে, আল্লাহর
প্ৰতি ঈমানের হলে এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ছিল তার প্রতি কুফরী ৷ আর ৷গ্রন্বণ্ বিভেদ সৃষ্টি করণে’ এ
কারণে যে, কুবা মসজিদের মুসল্লী জামড়াআতে বিভক্তি সৃষ্টির প্রয়াস ছিল ৷ ক্রো-শ্যা ইভােপুর্বেহ
আল্লাহ ও তীর রাসুলের বিপক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য ঘীটি ও আখড়াব্যক্তিটি হল রাহিব আবু
আমির ফাসিক আল্লাহ তাকে কুৎসিত করুন ৷ পুর্ববর্তী ঘটনা এরুপ আল্লাহর রাসুল (না) তাকে
ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলে যে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং মক্কায় গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের
উত্তেজিত করে তুলল ৷ ফলে সংঘটিত হল উহুদের যুদ্ধ ৷ যার বিবরণ ইতােপুর্বে পেশ করা হয়েছে ৷
এখানে তার চক্রাম্ভ সফল না হওয়ায় সে রাসুলের বিরুদ্ধে সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যে রোম সম্রাট
কায়সারের দরবারে উপনীত হল ৷ আবু আমির ছিল হিরাক্লিয়াসের ধর্মাবলম্বী অন্যতম আরব
খৃস্টান ৷ সেখানে থেকে সে রং বেরং-এর প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যতের রংগীন আশার আশ্বাস দিয়ে
মদীনায় তার সহযোপীদের কাছে চিঠি-পত্র পাঠাতাে ৷ শয়তান তো শুধুমাত্র প্রতারণামুলক
প্রআিচ্ছি দিয়ে থাকে ৷ এভাবে তার চিঠি পত্র ও দুতের ঘন ঘন গমনাগমন চলতে থাকত ৷ এক

পর্যায়ে তারা মসজিদরাপী এ ঘরটি তৈরী করল, যা মুলত ছিল যুদ্ধের আখড়া এবং আবু আমিব
রাহিবের নিকট থেকে আগত প্রতিনিধিবর্গ ও তাদের অনুগাঘী মুনাফিকদের নিরাপদ অন্তোনা এ
কারণেই আল্লাহ পাক তারাঘাষণায় বলেছেন “আল্লাহ এবং তার রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের
আখড়া তারপর ইরশাদ করেছেন, আেপ্রু অর্থাৎ ঐ ঘরের নির্মাতারা অবশ্যই কসম করে
বলবে অর্থাৎ এ নির্মাণে আমাদের উদ্দেশ্য একান্ত নির্ভেজাল ও মহৎা
জবাবে আল্লাহ্ পাকের ইরশাদ “আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চিতই
শুধু মিথ্যাবাদী ৷ তারপর আল্লাহ তার রাসুলকে উদ্দেশ্য করে বলেনা১-সেখানে আপনি

মুহুর্তের জন্যও অবস্থ ন করবেন না’ এ নিষেধাজ্ঞ জ্ঞার কারণ হল, যাতে তার অবস্থান ওদের
উদ্দেশ্যের সাার্থকতঅ আনয়নে সহায়ক না হয় ৷ বরৎঅ আ ল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়ে অনুপ্রাণিত করলেন
যে মসজিদে অবস্থা নের ব্যাপারে, সৃচনালগ্ন থােকইা যা র বুনিয়া দ রয়েছে তাকওয়া ও খােদা ভীতির
উপরো সেটি হল কুবা মসজিদ ৷ কেননা, আয়া তেব পুর্বাপর বর্ণনা সং যুক্তি এ দাৰী প্রমাণ করে
এবং কুফাবাসীদের তা রাহাত প্রীতির প্রশৎ সায় বর্ণিত হাদীসসমুহেও বিষয়টির প্ৰতি ইঙ্গিত মিলো
তবে মুসলিম শরীফে যে ত কাওয় র বুনিয়াদ সম্বলিত মসজিদ’ বলে মসজিদে নববী’ কে বুঝানো
হয়েছে, তা আমাদের বর্তমান বর্ণনার সাথে স ঘাত সৃষ্টি করবে না

কেননা, কুবা মসজিদ সম্পর্কে যদি সুচনা লগ্ন থেকে তাকওয়ার উপরে ভিত্তিকৃত’ বিশেষণ
কার্যকর হতে পারে, তাহলে নববী মসজিদ তো এ গুণের অধিকতর উপযোগী ও অধিকারীা বরৎ
তার মাহাত্ম্য তো আরো মযবুত ও সুদৃঢ়া তাফসীর গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷
আলহামদু লিল্লাহ ৷ মোট কথা রাসুলুল্লাহ (সা) ঘী আওযানে অবস্থান কালে মালিক ইবনৃদ দুখৃশুম
াআন ইবন আদী শ্অথবা তার ভাই আসিম ইবন আদী (রা)-কে ডেকে পাঠালেন এবং
অনাচরীিদের নির্মিত এ মসজিদের কাছে গিয়ে সেটি ভাীভুত করে ফেলার নির্দেশ দিলেনা তারা
দু’জন গিয়ে সেটিৰ্ক৩ ভুত করে দিলে লেখানে অবস্থা নকারীরা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলা

ইবনু ইসহাক বলেন, এ নিমার্ন্তণ অং শঃাহণকাবীরা ছিল বার জনা তারা হল৪ (১) খিযাম
ইবন খালিদ তার বসত বাড়ীর কাছেই কথিত মসজিদটি তৈরী করা হয়েছিল; (২) ছালারাঃ
ইবন হাতির; (৩) কার ইবন কুশায়র; (৪) আবু হাবীবা ইবনুল আযআর; (৫) সাহল ইবন
হুনায়ফ (বা) এর তাই আব্বাদ ইবন হুনায়ফ; (৬) জারিয়া ইবন আমির ও তার পুত্রদ্বয়;
(৭) মুজাম্মা; (৮) যায়দ; (৯) নাবতাল ইবনুল হারিছ; (১০) বাথুরাজ (ইযাখরুজ)ণ্ন্বনু
যাবীআর সাথে সম্পৃক্ত; (১১) বাজাদ ইবন উসমান-যাবীআ গোত্রের এবং (১২) বনু
উমাইয়ার ওদীআ ইবন ছাবিতা

আমার মতে এ তাবুক অভিযানেই রাসুলুল্লাহ (না) তার সাহাবী আবদুর রহমান ইবন
আওফ (রা)-এর যুকতাদী হয়ে ফজরের সালাত আদায় করেছিলেনা এ সালাতে তিনি
ইমামের সাথে শুধু দ্বিতীয় রাকআত পেয়েছিলেনা ঘটনাটি ছিল এরুপ যে, রাসুলুল্লাহ (সা) উযু
করতে গেলেনা তার সাথে ছিলেন আল মুগীরা ইবন শুবা (রা)া কিন্তু পৌছতে তার বিলম্ব
হয়ে গেলা তাই সালাতের জন্য ইকামাত বলা হলে আব্দুর রহমান ইবন আওফ ইমামের
ঘুসল্পায় দাড়ালেন ৷ তিনি সালাত সমাপনী সালাম করলে লোকেরা যটনাটিকে প্রবল রুপে
নিলা রাসুলুল্লাহ (সা) তা অনুভব করে লোকদের বললেন, “তোমরা চমৎকার

ও সঠিক কাজটিই করেছ ৷ ঘটনাটি বুখা ৷রী (র) (আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন) তাঃষ্য
রিওয়ায়াত করেছেন ৷

বুখারী (র) বলেন, আহমাদ ইবন মুহাম্মদ (র) আনাস ইবন মালিক (বা) থেকে বর্ণনা
করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, মদীনায় নিকটবর্তী হলে তিনি
বললেন,

“মদীনায় এমন এক দল লোক রয়েছে যে, এ অভিযা ৷ব্বন তোমরা যত পথ অতিক্রম করেছ
এবং যত উপত্যকা পাড়ি দিয়েছ, তা ড়ারা তোমাদের সষ্ ×গেই ছিল” ৷

সাহাৰীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ত ড়ারা মদীনায় অবস্থা ন করা সত্বেও ? তিনি বললেন,
মদীনায় অবস্থান করা সত্বেও, কেননা, ওমর তাদের
আটকে রেখেছিল” ৷ এ সুত্রে বর্ণনা টি একক ৷

বুখা ৷রী (র) আরও বলেন, খ ৷লিদ ইবন ইবন ম ৷খলাদ (র)আবু হুমায়দ (না) থেকে
বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) এর সংগে তাবুক থেকে ফিরছিলাম,
মদীনায় নিকটবর্তী হলেও তিনি বললেন, “এ হল তা ৷বাং পবিত্র নগরী, আর এ হল উহুদ পাহাড়
যে আমাদের ভালবাসে এ র × আমরাও যাকে তা ৷লরাসি ৷” মুসলিম (র) এ হাদীসখানি সৃলায়মান
ইবন বিলাল (র) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

বুখারী (র) আরো বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র)আস সাইব ইবন য়াষীদ (রা)
থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, এ কথা আমার স্মরণ আছে যে, তাবুক অভিযান থেকে
ফেরার সময় রাসুলুল্লাহ (না)-কে সর্শ্বধনা দেওয়ার জন্য আমি বালকদলের সাথে বের হয়ে
ছানিয়দ্রাতৃল ওবাদ পর্যন্ত গিয়েছিলাম ৷ আবু দাউদ ও তিরমিযী (র) এ রিওয়ায়াতটি উল্লিখিত
সনদে সুফিয়ান ইবন উয়ায়না (র) থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তিরমিযী এটিকে হাসান সহীহ্
বলে মন্তব্য করেছেন ৷

বায়হাকী (র) বলেছেন, আবু নাসর ইবন কাতদো (র) ইবনু আইশা (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (না) মদীনায় উপনীত হলে নারী ও বালক-বালিকার দল
গাইতে লাগল-

“পুর্ণ শ“শী উদয় হল, ছানিয়ব্রুাতুল ওয়াদা-এর কোলে; শুকর আদায় করা লাযিম, যাবৎ
ভাকেন থােদার দাঈ ৷ বায়হাকী (র) বলেন, যেহেতু আমাদের আলিমগণ এ পংক্তিমালা নবী
করীম (না) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তনকালে ছানিয়্যাতুল ওয়ড়াদা’ দিয়ে অতিক্রম করার সময়
গীত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন-তাই আমরা এখানেও তা উল্লেখ করলাম ৷ আল্লাহই
সৰ্বাধিক অবগত ৷

১ বুখারী (র) এর ৷উ১১ ভাষ্যযুক্ত রিওয়ায়াত অধিকতর মযবুত ও প্রামাণ্য

বুখরীি (র) বলেন“, কাৰ ইবন মালিক (বা)-এর হাদীস : ইয়াহরা ইবন বুকায়র (র)
আব্দুল্লাহ ইবন কাব ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেনকাব (রা) দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলার
পরে তার সম্ভন্যেদর মাঝে ইনিই পিতার সহচররপে দায়িত্ব পালন করতেন ৷ আমি কাব ইবন
মালিককে তাবুক অভিযান থেকে পিছিয়ে থাকার বিষয় বলতে শুনেছি ৷ তিনি বলেছেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) যে সব যুদ্ধ স্বয়ং পরিচালনা করেছিলেন, তাবুক অভিযান ব্যভিরেকে তার
কােনটিতেই আমি অনুপস্থিত ছিলাম না ৷ তবে হা, আমি বদর অভিযানেও অনুপ ত ছিলাম,
কিন্তু বদরে অনুপস্থিতিব জন্য কাউকেই অভিযুক্ত করা হয়নি ৷ কেননা, বদরে (মুলত যুদ্ধের
পরিকল্পনা ছিল না) রাসুলুল্লাহ (সা) কুরায়শদের বাণিজ্য কাংফলা অবরােধের উদ্দেশ্যে বের
হয়েছিলেন ৷ অবশেষে আল্লাহ পাক অনিধারিতভাবে তাদের ও শত্রুদের পরস্পর সম্মুখীন করে
দিলেন ৷ আমি তো (হিজরত পুর্বকালীন) আকাবার বায়আতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর
সযীপে উপস্থিত ছিলাম ৷ যেখানে আমরা ইসলামের বিষয় দৃঢ় অংগীকারাবদ্ধ হয়েছিলাম ৷

আর সে রাতের উপস্থিতির বিনিময়ে বদরে উপস্থিতি আমার কাছে অধিকতর পসন্দীয় নয় ৷
যদিও জন সমাজে বদর আকাবার তুলনায় অধিকতর আলোচিত ও প্রসিদ্ধ ৷ সে যাই হোক,
আমার ঘটনা হল এই যে, ঐ অভিযান থেকে পিছিয়ে থাকার সময় আমি যেমন সরল ও
সংগতিপুর্ণ ছিলাম, তেমন অন্য কোন সময় ছিলাম না ৷ আল্লাহর কসম ৷ এর আগে কখনো
আমার কাছে একত্রে দু’টি বাহন উট ছিল না ৷ অথচ ঐ অভিযানের সময় আমি দুটি বাহন
সংগ্রহ করে রেখেছিলাম ৷ এর আগে পর্যন্ত কোন অভিযানের পরিকল্পনা করলে রাসুলুল্লাহ (সা)
দ্ব্যর্থবােধক শব্দ প্রয়োগ করে উদ্দিষ্ট স্থান গোপন রাখতেন ৷ কিন্তু এ অভিযানে তিনি রওযানা
হলেন তিনি প্রচণ্ড গরমেব সময়, সফর ছিল দুব-দুরান্তের আর প্রতিপক্ষ ছিল সংখ্যা ও সরঞ্জামে
বিশাল ৷ তাই তিনি মুসলমানদের কাছে ব্যাপারটি থােলাসা করে দিলেন, যাতে তারা তাদের
অভিযানের যথাযোগ্য প্রস্তুতি নিতে পারে ৷ তিনি তাদেরকে তার অভীষ্ট স্থানের কথা পরিস্কার
জানিয়ে দিলেন ৷ এ অভিযানে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে মুসলমানরা ছিল অপণিত, যাদের
ৎখ্যা লিখিতভাবে সংরক্ষিত ছিল না ৷ কাব (রা) বলেন, তাই কেউ পালিয়ে বাচতে চাইলে
সে এ ধারণা করতে পারত যে, যতক্ষণ না তার ব্যাপারে ওহী নাযিল হচ্ছে, ততক্ষণ সে
আত্মগােপন করে থাকতে পারবে ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) এ অভিযানে গিয়েছিলেন যখন ফল (পাক
ধরার কারণে) এবং ছায়া (পরমের ম্ভীব্রেতার কারাণ) প্রিয় ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) এবং তার
সহগামী মুসলমানগণ সফর প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন ৷ আমি প্রতি সকালে তাদের সাথে রওয়ানা
করার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়তাম আর কোন কিছু সমাধা না করেই ফিরে
আসতড়াম ৷ আর মনে মনে বলতাম, আমি তো যে কোন মুহুণ্ডেইি বেরিয়ে পড়তে সক্ষম ৷
এভাবে আমার দ্বিধা দীর্যায়িত হল ৷ আর লোকদের প্রস্তুতি প্রচেষ্টা ভীব্রতর হল , ৷ রাসুলুল্লাহ
(সা) এবং র্তার সহপামী ঘুসলমানগণ রওয়ানা হয়ে গেলেন ৷ অথচ আমি তখনও আমার
প্রস্তুতির কিছুই সমাধা করে সারিনি ৷ মনকে প্রবােধ দিলাম, এক দুই দিনের মধ্যেই প্রস্তুতি
সম্পন্ন করে তাদের সাথে গিয়ে মিলিত হন ৷ তারা মদীনা ত্যাগ করার পরে আমি প্রস্তুতি
নেওয়ার জন্য বের হলাম ৷ কিন্তু কিছু সমাধা না করেই ফিরে এলাম ৷ আমার সকালে বের
হলাম এবং কিছু না করেই ফিরে এলাম ৷ আমার এ অবস্থা চলতে থাকল আর তারা দ্রুত পথ
অতিক্রম করে গেলেন এবং যুদ্ধের সময় ফুরিয়ে এল আর ৷ তখনও আমার ইচ্ছা হচ্ছিল যে,

অতি দ্রুত গিয়ে তাদের সাথে মিলিত হব ৷ শ্ষ্হায়, তেমনও যদি করতাম ৷ কিন্তু তা আমার
কপালের লিখন ছিল না ৷ এ দিকে বাসুলুল্লাহ (সা) রওয়ড়ানা করে যাওয়ার পর থেকে আমি
যখনই বাড়ি ছেড়ে বের হতাম এবং ঘুরে রেড়াতাম, তখন এ ব্যাপারটি আমাকে পীড়া দিত যে,
কট্টর মুনাফিক কিছুবা দৃর্বল-অসমর্থ হওয়ার কারণে আল্লাহ যাদের অপারগতড়া মনজুর করেছেন,
তেমন লোক ব্যতীত আর একটা পুরুষও দেখতে থেতাম না ৷

তাবুকে উপনীত হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (না) আমার কথা আলোচনা করলেন না ৷
তাবুকে পৌছে বাহিনীর দরবারে তিনি বললেন, কাব এর কি খবর ?’ বনু সালিমার এক ব্যক্তি
বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহা তার দু’প্রস্ত পোশাক ও নিজের পার্শ্বদ্বয়ের প্রতি দৃষ্টি তাকে আটকে
ণ্রখেছে ৷ মুআয ইবন জাবাল (রা) বললেন, তুমি অতি মন্দ কথা বলেছ ? আল্লাহর কসম ৷
ইয়া রাসুলাল্লাহা তার বিষয় আমরা কল্যাণ বৈ কিছু আমি না ৷ ’ রাসুলুল্লাহ (সা) তখন নীরব
রইলেন ৷

কাব ইবন মালিক (বা) বলেন, যখন আমি সংবাদ পেলাম যে, তিনি ফিরতি সফর শুরু
করেছেন, তখন যত সব চিন্তা আমাকে পেয়ে বসল ৷ আমি মনে মনে নানা ফন্দি-ফিকির
করতে লাগলাম এবং যে কথা বলে আগামী দিনে তার ক্রোধানল থেকে রেহইি পেতে পারব
তা আওড়াতে লাগলাম ৷ এবং এ ব্যাপারে আমার পরিবারের প্রত্যেক ধীমান ব্যক্তির সহায়তা
নেওয়ার প্রয়াস পেলাম ৷ যখন সংবাদ হল যে, রাসুলুল্লাহ (সা) এই এসে পড়লেন, তখন
আমার মিথ্যার জারিজুরি হারিয়ে গেল এবং স্বত৪সিদ্ধভাবে এ কথা বুঝতে পারলাম যে, যিথ্যার
লেশ মাত্র রয়েছে এমন কোন কথা বলে আমি রেহাই পাব না ৷ তাই তার সমীপে সত্য বলার
দৃঢ় সংকর করলাম ৷ রাসুলুল্পাহ (সা) পুর্বাহ্নে শুভাগমণ করলেন ৷ তার নিয়ম ছিল, সফর থেকে
ফিরে এলে প্রথমে মসজিদে গিয়ে দু রাকআত সালাত আদায় করে আগত লোকদের দিকে মুখ
করে বসতেন ৷ তা করার পর অভিযান থেকে পিছিয়ে থাকা লোকেরা এসে তার কাছে
নিজেদের ওযর-অপারগতা পেশ করতে লাগল এবং সত্যবাদীতা প্রমাণের জন্য হলফ করতে
লাগল ৷ এদের সংখ্যা ছিল আশির উপরে ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তাদের বাহ্যিক বক্তব্য মনজুর করে
তাদের (পুনঃ) বায়আত করে নিতে লাগলেন এবং তাদের জন্য ইসতিগফার করলেন ৷ আর
তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার সােপর্দ করলেন মহীয়ান-গরীয়ড়ান আল্লাহর হাতে ৷

আমিও তার কাছে এসে তাকে সালাম করলে তিনি কষ্ট ব্যক্তির হাসি হাসলেন এবং পরে
বললেন, “এদিকে এস ৷” আমি পায়ে পায়ে হেটে এসে তার সামনে বসলে তিনি বললেন,
“কোন বিষয় তোমাকে পিছিয়ে রাখল ? তুমি কি তোমার বাহন উট খরিদ করেছিলে না ?
আমি বললাম, জী হী, আল্লাহর কলম! আজ যদি আমি আপনি ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোন
মানুষের সকাশে উপবিষ্ট হতাম, তাহলে অবশ্যই ভাবতড়াম যে, কোন মিথ্যা ওযরের আশ্রয়
নিয়ে র্তার ক্রোধ থেকে রেহাই পাব ৷ আমার রয়েছে কথায় মার-প্যাচ খাটাবার প্রতিভা ৷ কিন্তু
আল্লাহর কসম! আমি ভাল করেই জানি, আজ যদি আমি আপনাকে এমন কোন মিথ্যা বলি,
যাতে আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, তাহলে অতি সতৃর এমন হবে যে, আল্লাহ
আপনাকে আমার উপর রাগাম্বিত করে দেবেন ৷ আর যদি আপনাকে সত্য কথা বলি, যাতে
আপনি আমার উপর রাগ করবেন, তাহলে তাতে আমি আল্লাহ্র ক্ষমার আশা রাখি ৷ না,

সাঃ কলম! আমার কোনই ওমর অসুবিধা ছিল না ৷ আবারও আল্লাহ্র কলম ৷ এবারের
পশ্চাদংর্তীতার সময়ের মত এত অধিকতর সৃস্থ-সবল ও সঙ্গতিসম্পন্ন আর কখনো ছিলাম না ৷
রাসুসৃস্লাহ্ (সা) বললেন, “হা ৷ এ তো সত্য
কথাই বলল ৷ আচ্ছা, যাও যাবৎ না আল্লাহ তোমার ব্যাপারে কোন ফায়সালা দেন ৷” আমি
উঠে পড়লাম ৷ (আমার গোত্র) বনু স৷ ৷লিমার একদল লোক দৌড়ে এসে আমাকে ভর্চুসনা
করতে লাগল ৷ তারা বলল, ইতােপুর্বে তুমি কো ন অপরাধে লিপ্ত হয়েছ বলে আমাদের জানা
নেই, তবুও তোমার সাধ্যে কুলাল না যে, অন্যান্য পশ্চ৷ ৷দবর্তীর৷ যেমন অপরাগত৷ পেশ করেছে
তেমন কোন ওমর তুমিও রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর খিদমতে নিবেদন করতে ৷ তোমার জন্য
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইসৃতিগফার তোমার গোনাহের কাফ্ফারারুপে যথেষ্ট হয়ে যেত! তারা
আমাকে এমন তীব্র ভাষায় ভহ্সন৷ করতে লাগল যে, অবশেষে আমারও ইচ্ছা হতে লাগল যে,
আমি ফিরে গিয়ে আমার পুর্ব ভাষ্য প্রত্যাহার করি ৷ এ পর্যায়ে আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম ৷
আমার মত এমন অবস্থা আর কারো হয়েছে কি ? তার৷ বলল, “হী, আরও দুজন লোক; তারা
তোমার মতই বক্তব্য পেশ করেছে এবং তোমাকে যা বলা হয়েছে, তাদেরকেও তাই বলা
হয়েছে ৷” আমি বাংলায়, সে দুজন কে কে? তার৷ বলল, মুরার৷ ইবনুর রাবী আল আমরী ও
হিলাল ইবন উমাইয়৷ আল ওয়াকিফী ৷ আমি দেখলাম, তারা দুজন ভাল মানুষের নাম উচ্চারণ
করল, যায়৷ ছিলেন বদরে অংশগ্রহণের মর্যাদার ভুষিত এবং যাদের মাঝে পাওয়া যেতে পারে
অনুসরণীয় আদর্শ ৷ এ দু’জনের নাম নেয়া হলে আমি আমার পুর্ব সংকল্পে অবিলে থাকার
সিদ্ধান্ত নিলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) পশ্চাদবর্তীদের মধ্য হতে শুধু আমাদের এ তিনজনের সাথে
সকল মুসলমানের বাক্যালাপ নিষিদ্ধ করে দিলেন ৷ লোকেরা আমাদের থেকে দুরত্বে অবস্থান
করতে লাগল এবং আমাদের প্রতি বিরুপভাব দেখাল, এমন কি দেশটি যেন আমার কাছে
অপরিচিত হয়ে গেলো ৷ এ যেন আমার পরিচিতি যে দেশ নয় ৷
এভাবে আমাদের দীর্ঘ পঞ্চাশটি দিন অতিবাহিত হল ৷ আমার ঐ দুই সাথী তারা আত্মসমর্পণ
করে যার যার ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে কেদে কেদে কটিালেন ৷ দলের মাঝে আমি ছিলাম তরুণ ও
সুঠাম সরল ৷ আমি ঘর থেকে বের হতাম ৷ মুসলমানদের সাথে জামাআতে সালড়াত আদায়
করতাম এবং হাটে-বাজারে ঘুরে বেড়াতাম, কিন্তু একটা লোকও আমার সাথে কথা বলত না ৷
আমি রাসুলুল্লা হ্ (সা) এর খিদমতেও হ যিব হতাম এবং সালাত পরবর্তী মজলিসে উপবেশনকালে
তাকে সালাম করে মনকে জিজ্ঞেস ক্যাতাম-

আমার সালামের জবাবে তা ৷র পবিত্র ঠোর্ট কি নড়ে উঠল, না কি উঠল না ? পরবর্তীতে তার
কাছাক৷ ৷ছি দাড়িয়ে সালড়াত আদায় করতাম এবং চে ৷র৷ দৃষ্টিতে ৩তার দিকে লক্ষ্য করতাম ৷ আমি
সালাতে মনযোগী হলে তিনি আমার দিকে তাকাতেন আর আমি তার দিকে দৃষ্টি ফেরড়ালে তিনি
মুখ ঘুরিয়ে নিতেন ৷ অবশেষে লোকদের কঠােরতা দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে গোলে একদিন আমি
ইটিতে ছুাটতে গিয়ে আবু কত ৷দ৷ আমার জ্ঞাতি ভাই এবং প্রিয়তম ব্যক্তির বাগানের দেয়াল
টপকালাম্ ৷ আমি তাকে সালাম করলাম ৷ আল্পাহ্র কসম ! সে আমার সালামের জবাব দিল
না ৷ আমি বললাম, আবু কাতাদা৷ তোমাকে আল্লাহর দোহাই লাগে ! তুমি তো জান যে, আল্লাহ
এবং তীর রাসুলকে আমি ভালবাসি ৷ কিন্তু হায় সে যে নিরব! আমি পুনরায় তাকে দােহাই

দিলাম ৷ কিন্তু সে যথারীতি নিরব! তৃতীয়বার তাকে দােহাই দিলে সে বলল “আল্লাহ এবং তার
রাসুলই সমধিক অবগত ৷” আমার দৃ’চোখ ভরে পানি এল ৷ আমি উল্টাপায় ফিরে দেয়াল
টপকালাম ৷

কাব (বা) বলেন, একদিনের ঘটনা আমি মদীনায় বাজারে ঘুরাঘৃৰি করছিলাম, শুনি কি
সিরিয়ার অধিবাসী জনৈক নড়াবাতী ব্যক্তি মদীনায় খাদ্যসামগ্রী বিক্রির উদ্দেশ্য আগত
ব্যবসায়ীদের একজন আওয়ড়ায দিচ্ছে কাব ইবন মালিকের সন্ধান আমাকে কি দিতে পার?
ণ্লাকেরা আমার দিকে ইঙ্গিত করে তাকে দেখাতে লাগল ৷ আেকটি আমার কাছে এসে (এক
টুকরা রেশমী কাপড়ে ঘোড়া) পাসৃসানী রাজার একটি চিঠি আমার হাতে তুলে দিল ৷ পড়ে
দেখি কি “পর সমাচার, আমি জানতে পেয়েছি যে, তোমার কর্তা তোমাকে নিপীড়ন করেছে ৷
তুমি তো মর্যাদাহীন ও ফালতু ব্যক্তি নও ৷ তুমি আমাদের এখানে এসে পড়াে, আমরা তোমার
প্ৰতি সহমর্মিতা দেখার ৷” পত্র পাঠে আমি মনে মনে বললাম, এটাও আর একটা পরীক্ষা, আমি
অবলীলায় চিঠিটি চুলায় নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে দিলাম ৷ দিন এভাবে গড়াতে থাকলাে ৷ পঞ্চাশ
দিনের মধ্যে চল্লিশ দিনের মাথায় আল্লাহ্র রাসুল (না)-এর দুত এসে আমাকে বলল, আল্লাহ্র
রাসুল তোমাকে তোমার শ্রী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার হুকুম করেছেন ৷ আমি বললাম, তাকে কি
তালাক’ দিয়ে দেব নাকি অন্য কিছু করব? দুত বলল, না, তার থেকে পৃথক থাকবে এবং তার
সাথে সহবাস করবে না ৷ আমার সাথীদের কাছেও অভিন্ন আদেশনামা পাঠান হল ৷ আমি
আমার স্তীকে বললাম, বাপের বাড়ি চলে যাও এবং এ ব্যাপারে আল্লাহ্ ফায়সালা না দেয়া
পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবে ৷

কাব (বা) বলেন, হিলাল ইবন উমইিয়ার শ্রী রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে এসে বলল, ইয়া
রাসুলুল্পাহ্! হিলাল ইবন উমাইয়া এক দুর্বল বৃদ্ধ; তার কোন খাদিম নেই; আমি তাকে সেবা
করা কি আপনি অপসন্দ করবেন? তিনি বললেন, তবে সে তোমার
সাথে সহবাস করতে পারবে না ৷ সে বলল, “আল্লাহ্র কলম! এ ব্যাপারে তার কােনই আগ্রহ
নেই ৷ আল্লাহ্র কসম! ঘটনার সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত কেদে কেদেই কাটিয়ে দিয়েছে ৷”
এমতাবস্থায় আমার (কাব-এর) পরিবারের কেউ কেউ আমাকে বলল, তুমি যদি তোমার শ্রীর
ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর অনুমতি নিয়ে নিতে যেমন হিলাল ইবন উমাইয়ার খিদমতের
জন্য তার শ্রী অনুমতি নিয়েছে ! আমি বললাম, আল্লাহ্র কলম! এ ব্যাপারে আমি রাসুলুল্লাহ্
(সা)এর অনুমতি চাইতে যাব না ৷ কেননা, জানি আমি এক সুঠাম যুবক, শ্রীর ব্যাপারে
অনুমতি চাইতে গেলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে কীনা কি বলেনঃ

কাব (রা) বলেন, এরপরে আমার প্রভীক্ষার আরও দশ দিন অতিক্রক্তে হল এবং রাসুলুল্লাহ্
(সা) আমাদের সাথে বক্যে-ৰিনিময় নিষিদ্ধ করার পর থেকে পঞ্চাশ দিন পুর্ণ হল ৷ পঞ্চাশতম রাত
গিয়ে ভোরে আমি আমাদের বাড়ির কোন এক ঘরের ছাদে ফজরের সালাত আদায় করছিলাম ৷
আমি সালাতড়াতে সেই বিবাদ ভারাক্রাম্ভ অবস্থায় বসা ছিলাম, যেমন মহান আল্লাহ্ বর্ণনা দিয়েছেন-
“আমার অস্তিত্ব আমার কাছে ভারী হয়ে গিয়েছে, আর পৃথিবী তার ব্যাপক বিন্তুতি সত্বেও আমার
কাছে সংর্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে ৷” শুনি কি মালা পাহাড়ের চুড়ড়ায় উঠে কোন চিংকারকারী তার পুর্ণ
শক্তিতে চিৎকার দিয়ে বলছে, হে কাব৷ তোমার জন্য শুভ সংবাদ ! শুনামাত্র আমি সিজদাবনত

হন্সাম ৷ আমি বুঝতে পারলাম যে, সংকট কেটে গিয়েছে, প্রশস্ততার দৃরার উন্মুক্ত হয়েছে ৷ ও দিকে
ঘটনা হয়েছিল এই যে, ফজরের সালাত আদায়ক৷ ৷লে ব ৷সুলুল্লা হ (না) আর ল্লাহ্র পক্ষ থেকে
আমাদের তাওবা কবুল হওয়ার ঘোষণা দিলেন ৷ লোকেরা আমাদেরকে সুসৎ বাদ দেয়া র উদ্দেশ্যে
বেরিয়ে পড়ল ৷ আম র সাথীদ্বয়ের কাছেও সুসৎ ৷দ ব ৷হকের৷ গেল ৷ আমার কাছে আল ৷র জন্য
এক ব্যক্তি ঘোড ৷দৌড়৷ ৷ল ৷ অ ৷সলাম গোত্রের এক ব্যক্তি পাহাড় ভুড়৷ য় উঠল ৷ আওয়ায তার
গতিতে যোড়াকে হার মানাল ৷ আমি যার আওয়ায শুনতে ৫পয়েছিলাম, সে লোকটি সশরীরে
আমার কাছে পৌছলে আনন্দে আ ৷মি আ ৷মার কাপড় জে ৷ড়া খুলে তার সুসৎব বাদ প্রদানের বিনিময়ে
তাকে পরিয়ে দিল৷ ৷ম ৷ অ ৷ল্লাহ্র কলম! তখন এ দৃ টি ছাড় আমার আর কোন কাপড় ছিল না ৷
তাই আ ৷মি দুখ৷ না কাপড় ধার করে পরলাম ৷ তারপর রাসুলুল্লা হ্ (সা)এর খিদমতে হ যিরা
দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম ৷ দলে দলে লোক আমাকে তাওবা কবুলের সুসৎবাদ দিয়ে
অভিনন্দন জানাতে লাগল ৷ তারা বলতে লাগল, আল্লাহ যে তাওবা কবুল করলেন তা তোমার জন্য
যুবাৱক হোক কাব (বা) বলেন, এভাবে আ ৷মি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
লোকজন পরিরেষ্টিত হয়ে উপবিষ্ট রয়েছেন ৷ ত ৷লহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ আমাকে দেখে ছুটণ্ডে ছুটতে
এসে আমার মা ৷থে মুসাফাহা করলেন এবং আমাকে মুব৷ ৷রকবাদ জানালেন ৷ আল্লাহর কলম!
যুহাজিরদের মাঝে ঐ একটি লোক ব্যতীত আর কেউ আমার জন্য র্দাড়াল না ৷ আ তালহ৷ (রা)-
এর এ সৌজন্যের কথা কোন দিন ভুলব না ৷

কাব (বা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে সালাম করলাম ৷ তখন তার পুত চেহারা
আনন্দে জ্বলজ্বল করছিল তিনি বললেন, তোমার ম৷ তোমাকে প্ৰসব করার পর অবধি তোমার
জন্য সর্বাধিক মঙ্গলময় দিনের সুসৎ বাদ নাও ৷ আ ৷ঘি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! এটা আপনার
পক্ষ থেকে না ৷কি আল্লাহর পক্ষ থেকে? তিনি বললেন, না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রকৃতি ছিল যে, তিনি আনন্দিত হলে তার চেহারা এমন উজ্জ্বল হয়ে যেত,
যেন তা চীদের টুকরা; আমরা তা সহজেই উপলব্ধি করতে পারতাম ৷

তীর সামনে বসে পড়ে আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমার তাওবার একাৎশ এটাও
হবে যে, আমি আমার সহায়-সম্পদ আল্লাহ্ এবং জর রাসুলের জন্য সাদাক৷ করে তা থেকে
বিঘুক্ত হব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,

“তোমার মালের কতকাৎশ নিজের জন্য রেখে দাও এটাই তোমার জন্য উত্তম হবে ৷” আমি
বললাম, তা হলে খায়বারে প্রাপ্ত আমার পনীমতের অংশ আ ৷মি রেখে দিচ্ছি? আমি আরও
বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লা হ আল্লাহ তো আমাকে সত্য কথনের বদৌলতেই৷ না ৷ত দিয়েছেন;
তাই এটাও আমার তাওবা যে, যদ্দিন বেচে থাকর, সত্য ব্যতিরেকে কোন কথা বলব না ৷”
আল্লাহ্র কসম! রাসুলুল্লাহ্ (সা)কে আমার এ কথা বলার পর থেকে আল্লাহ পাক সত্য ভাষণের
কারণে কোনও মুসলমানকে আমার চাইতে উত্তম প্রাচুর্যনমৃদ্ধ করেছেন, এমন কারো কথা আমার
জানা নেই ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে আমার এ কথা বলার পর থেকে আমার আজিকার এ দিন পর্যন্ত
আমি মিথ্যা একটি কথাও বলি নি৷ আর আমার আশা, আমার ভবিষ্যত জীবনেও আল্লাহ্
আমাকে হিফাজত করবেন ৷

আল-বিদায়া ওয়ান ৫৭

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ জর রাসুলের প্রতি আয়াত নাযিল করেলন fl

“আল্লাহ অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসড়ারদিগের প্ৰতি,
এবং (তোমরা) সত্যরাদীদিগের অন্তর্ভুক্ত হও” তাই আল্লাহর কসম করে
বলছি, আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের হিদায়াত প্রদানের নিয়ড়ামতের পরে রাসুলুল্লাহ (সা)-
এর কাছে সত্য বলার তাওফীক প্রদানই আমার দৃষ্টিতে তীর সবচাইতে বড় নিরামতরুপে
৷ কারণ তার ফলে এমন হয় নি যে, আমি কি ভীর কাছে মিথ্যা বলতাম, আর
মিথুকরা যেমন ধ্বংস হয়েছে আমিও তেমনি ধ্বংস হয়ে যেতাম ৷

কেননা, মিথ্যারাদীদের প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক যখন ওহী নাযিল করলেন, তখন কোন ব্যক্তির
জন্য কথিত চরম মন্দ কথাই তাদের প্রসঙ্গে বললেন ৷ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন-

“তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসলে তারা আল্লাহর শপথ করবে যাতে তোমরা তাদেরকে
উপেক্ষা কর ৷ আল্লাহ্ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি তুষ্ট হবেন না (৯ : ৯৫-৯৬) ৷

কাব (রা) বলেন, বিশেষ করে আমাদের তিনজনকে প্ৰভীক্ষা’ করতে বলা হয়েছিল ৷ মারা
এসে মিথ্যা শপথ করে রাসুলের বাহ্যিক মঞ্জুরী লাভ করছিল এবং তিনি তাদের পুন৪ রায়আত
করে নিয়ে তাদের জন্য ইসৃতিপফার করছিলেন ৷ তাদের থেকে পৃথক করে রাসুলুল্লাহ (সা)
আমাদের ব্যাপারটি স্থগিত রেখে দিলেন এবং আল্লাহর ফায়সালা হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ৰিলম্বিত
থাকে ৷ এ ৰিষয়েই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “এবং (তিনি ক্ষমা
করলেন) অপর তিনজনকেও যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত’ রাখা হয়েছিল (৯ : ১ ১৮) ৷

এ আয়াতে ৷ড্রুদ্বুা; শব্দ দিয়ে আল্লাহ আমাদের যুদ্ধ থেকে পশ্চাতবডীতিার কথা উল্লেখ
করেন নি, বরং এখানে শব্দটির অর্থ তিনি যে আমাদের প্ৰভীক্ষায় রেখেছিলেন এবং যারা
হলফসহ ওমর-অজুহাত পেশ করলে তা কবুল করা হয়েছিল তাদের থেকে আমাদের বিষয়টি
ৰিলন্বিত রাখা হয়েছিল তাই বুঝানো হয়েছে ৷

মুসলিম (র) যুহ্বী (র) এর সনদ মাধ্যমে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক
(র) ও যুহ্রী (র) থেকে বুখারী (র)-এর বর্ণনানুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আমার তাফসীর’
গ্রন্থে আমি ইমাম আহমদ (র)এর মুসনাদের ররাতে তা বর্ণনড়া করেছি ৷ এ বর্ণনায় কিছু
অতিরিক্ত কথাও রয়েছে ৷

পশ্চাদবতীদৈর প্রসঙ্গ
আলী ইরন তালহা আল ওরালিবী (র) আল্লাহ তাআলার রাণী-

এবং অপর কতক লোকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এক সৎকর্মের সাথে

মার অসৎকর্ম মিশ্রিত করেছে; আল্লাহ হয়ত তাদের ক্ষমা করবেন; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম

Leave a reply