in

মাওলানা তারিক জামিলের বাংলাদেশ সফরের একটি ঘটনা

মাওলানা তারিক জামিল একবার তার বয়ানে বাংলাদেশ সফরের একটি ঘটনা উল্লেখ কলেন।

তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে ফিরছিলাম। পথে আমার পাশে সিট পড়লো গৌর বর্ণের একটি ব্যাক্তির। ঘন্টা খানিক আমি কোন কথাই বলিনি। ভেবেছি ইংরেজি হয়ত আমি ভুলে গেছি। প্রায় পঁচিশ বছর হলো আমি ইংরেজি বলি না।

তারপর ভাবলাম, ‘একে দাওয়াত দেয়া দরকার। কিন্তু সাহস যুগাতে পারছিলাম না। এরই মধ্যে আমাদের সামনে খাবার পরিবেশিত হলো। এবার আর আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলাম না।

মনে মনে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চাইলাম – ‘হে আল্লাহ! জীবনে তো বহু ইংরেজি বলেছি। তুমি আমাকে সাহায্য কর।’ তারপর তার সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। আল্লাহ তায়ালা ধীরে ধীরে ইংরেজি বলাটা আমার জন্য সহজ করে দিলেন।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম – “আচ্ছা! এই যে তোমরা সারা জীবন নাচছো, গাইছো, ডিসকো গিয়ে জুয়া খেলছো এবং একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে তোমাদের জীবন। তোমার হৃদয়কে একবার জিজ্ঞেস করে দেখ তো এই বিশাল পৃথিবীটা কি এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে?”

আমি তাকে খুব সহজে বললাম, ‘কিছু লোক কোথাও একত্রিত হয়ে নাচবে, গাইবে, পরষ্পরে হাত বদল করবে, রাতভর শরাব পান করবে। তারপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকবে। সারা সপ্তাহের উপার্জন এক রাতে এনে ঢেলে দেবে। পরদিন সকাল বেলা উঠে গাঁধার মত আবার উপার্জন শুরু করবে। বলো, এটা কি কোন মানুষের জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ হতে পারে?’

সে আমার প্রশ্ন শুনে চুপ হয়ে গেল। বললোঃ ‘এমন প্রশ্নতো জীবনে আমাকে কেউ করেনি!’

আমি বললাম, ‘তুমি আমার প্রশ্নের জবাব দাও। বলো, এই পৃথিবীতে আমরা কি জন্যে এসেছি?’ এই তুচ্ছ কাজগুলোর জন্যেই কি আমরা পৃথিবীতে এসেছি?’

সে একটু ভেবেচিন্তে বললো, ‘না!’

আমি বললামঃ ‘এগুলোই যদি জীবনের টার্গেট হয় তাহলে আমরা তো জানি, টার্গেট অর্জনের পর মানুষের জীবনে একটা সুখ ও স্হিরতা আসে। মানুষ শান্তি ও নিবিড়তা অণুভব করে। তুমি তোমার অন্তরকে জিজ্ঞাসা করে দেখ তো। তুমি কি তোমার হৃদয়ে কখনও প্রশান্তি অণুভব করেছো?’

সে বললোঃ ‘না!’
আমি বললামঃ ‘তাহলে তোমার জীবনে কোথাও একটা শূণ্যতা আছে?’

আমি বললামঃ “আমরা এমন একটি ইসলাম গ্রহন করেছি যেখানে আমাদের জীবনের একটি পরিপূর্ণ চিত্র আছে। কিন্তু কি করবো? আমরা তো নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছি।”

একথা বলে আমি তাকে ইসলাম বুঝাতে শুরু করলাম। আমি তাকে বুঝালাম, “ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম। ইসলামের বেশ কিছু সুন্দর দিক তার সামনে তুলে ধরলাম। কথা প্রসঙ্গে আমার মুখ থেকে অলক্ষেই বেরিয়ে এলে ইসলামে মদ পান সম্পূর্ণ হারাম। কারণ, মদ মানুষকে পাগল বানিয়ে ফেলে।”

সে আশ্চর্য হয়ে বললোঃ “তোমাদের ধর্মে মদ হারাম?
আমি বলললামঃ “অবশ্যই।”
সে বললোঃ “আমিতো সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াই। এবং করাচীতে গিয়েই সবচাইতে ভালো মদ পাই”

এই কথা শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম, এখন তাকে কি বলতে পারি? আমার হৃদয়টা তখন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো। মনে হলো, মুসলমানরাই এখন কাফেরদের ইসলাম গ্রহণের পথে বড় বাঁধা।

তবুও আমি তাকে বললাম, “আমাদের দেখো না। আমাদের ধর্মের কিতাব পড়। বাস্তব জীবনে আমরা দুর্বল। আমাদের কিতাবের সব কথা আমরা মানতে পারি না। কিন্তু আমাদের ধর্মগ্রন্হ পূর্ণ সত্য তাতে কোন খাদ নেই।

এবার নিজেদের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করুন। আগে দাওয়াত কাদের জন্য জরুরী? মুসলিমদের জন্য? না অমুসলিমদের জন্য? মূর্খতার সাথে বড় গলায় বলে থাকি যে, ‘নবী ও সাহাবীরা অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত দিয়েছে। মুসলমানদের কাছে দাওয়াত কিসের?’

জবাবে বলি, ‘ভাই নবীর জামানায় ১০০% মুসলিম নামাজ পড়েছে। ১০০% মুসলিম পর্দা করেছে। আজকে কত পার্সেন্ট মুসলিম নামাজি? জুম্মার দিনে মসজিদে জায়গা নেই আর ফজরের সময় মসজিদ ফাঁকা কেন? আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুন। দাওয়াতের কাজে কবুল করুন ও সকল নামধারী মুসলিমকে প্রকৃত মুসলিম হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন।।

সূত্র: ইন্টারনেট

What do you think?

Written by Qawmi Admin

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

GIPHY App Key not set. Please check settings

আল আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি মন্দির নির্মাণের দাবি!

মুসলিম বিদ্বেষী শ্যামলী পরিবহনে মুসলিমদের অপমানের নমুনা