মাওলানা সাআদ কান্ধলবি দামাত বারাকাতাহুম: কিছু কথা, কিছু ব্যথা

সাআদ। বেশ মিষ্টি একটা নাম। শুনতে ভালো লাগে। শ্রুতিমধুর। অর্থও সুন্দর। সৌভাগ্যবান। আগে ভাবতাম আসআদ আরো অর্থময় নাম। যেহেতু বর্ণ বেশি। পরে বুঝলাম, সাআদ বেশি অর্থবান। কারণ, সাআদ সীগাতুল মুবালাগা। আসআদ সিগাতুত্তাফজিল। আমার জানা সব সাআদই কমবেশি কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত।

মাওলানা সাআদ দামাত বারাকাতুহুম নিয়ে কিছু বলা আগুনে জ্বলার মতো হয়ে গেছে। আমার জন্য আরো কঠিন। আমি এসব মূল্যায়ন করার যোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা রাখি না। তবু বলছি। গ্যালারি থেকে পর্যবেক্ষণ করে বলা।

এসব কোন রেফারি বা কমিটির মন্তব্য নয়। নেহাত দর্শক বা ভাবুকের ভাবনা। আর আমি গোমরাহিতে ভস্মিত হয়ে কাঠকয়লা হয়ে আছি। নতুন কোন বিড়ম্বনা আমাকে কী আর করবে!!

মাওলানা সাআদ দামাত বারাকাতুহুম বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন অনেক দিন যাবত। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান এক পরিবারের উত্তর প্রজন্ম। এবং তিনি যথেষ্ট বয়োজ্যেষ্ঠ একজন মুরুব্বি।

তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শরীয়তী প্রয়োজনে অনুমোদিত। তবে, তা যেন শরীয়তের সীমানায় হয়। এটা জরুরি।

তাঁর সাথে হক্কানি, রব্বানি আলিমগণের মতানৈক্য কে? কেন? জানার চেষ্টা করেছি।

তাতে যেটি পরিষ্কার, তা হল, তাঁর আক্বিদা ও দাওয়াতে ইসলামের সুস্পষ্ট বিপরীত মত প্রকাশ পাচ্ছে।

তিনি নিজের আবেগ বা দর্শনকে ইসলাম বলে প্রচার করছেন। তার মতের বাইরের সব মতান্তরকে নাকচ করছেন। ভিন্নমতকে গোমরাহির ফতোয়া বয়ান করছেন।

এবং নতুন এক ইসলাম ও নব্য তাবলীগ প্রতিষ্ঠা করছেন। সচেতন বা অবচেতনে।

তাতে ইসলাম, তাবলীগ ও দাওয়াত বিষয়ক প্রচুর ভুল বুঝাবুঝি ও ভুলের প্রসার ঘটছে।

তিনি যেহেতু একজন যথেষ্ট মান্য ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘকাল তাবলীগের দায়িত্বশীল। তাঁর প্রচুর দেশেবিদেশে অন্ধ অনুরক্ত আছে। তাঁরা তাঁর কাজকারবার ও চেতনাকে বিনা প্রশ্নে দিব্যলোক মনে করছে। এবং তাঁর সার্বজনীন প্রয়োগ করার কুশেশ করছে। এতে, বিপুলকায় ফিতনার পথ সৃষ্টি হয়েছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তবু, অস্বীকার করলে, আপনি বধির আশিকে হক।

দারুল উলুম উম্মাহর যেকোনো প্রয়োজনে ফতোয়া দেয়। করণীয় থাকলে, বরণীয়ভাবে তা সম্পদান করে আসছে। ইনশাআল্লাহ দেওবন্দ এ অভিযাত্রায় অটল থাকবে।

মাওলানা সাআদ সাহেব বিষয়ক ফতোয়া দারুল উলুম দিয়েছে। কোন বৈষয়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থে নয় এ ফতোয়া। এ ফতোয়া দীন ও উম্মাহর সার্বজাতিক কল্যাণ ও ইসলাহের স্বার্থে।

দারুল উলুমের ফতোয়া সাআদ সাহেব মানবেন কিনা এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। উনার নিজস্ব যশস্বী ইজতেহাদ বা পক্ষাবলম্বী যুক্তি থাকতে পারে।

তাবলীগ দারুল উলুমের রায় পুনর্বিবেচনার প্রয়াস করতে পারে। অথবা পাল্টা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তখন, উম্মাহ ও সাধারণ মুসলমান ফতোয়ার আলোকপাতে করণীয় ঠিক করবেন। অথবা মাওলানা সাআদকে মুখস্থ অনুসরণও করতে পারেন। এরকম অসংখ্য অপশনের অবকাশ ছিল।

তাবলীগ। মাওলানা ইলিয়াস আলাইহির রহমতের বিশুদ্ধ পথে চিরকাল থাকবে কিনা, এটা আমাদের ইখলাসের বিষয়। তাবলীগ আত্মশুদ্ধির এক সমুজ্জ্বল কাফেলা। সেটার গায়ে এতোকাল ক্ষত লাগলেও ভয়ংকর দাগ পড়ে নি। এখন সেটি পড়ল।

মাওলানা সাআদ সাহেব বাংলাদেশে আসতে পারবেন না কেন? আমি পরিষ্কার বুঝি না। দারুল উলুম এরকম নিষেধারোপ করেছে? কী ছিল ফতোয়ার দলায়েল? ভুল বুঝবেন না। আমি উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।

যে দেশে তারকা নামের নষ্টা মেয়ে আসলে, আমরা আন্দোলন করি না। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের আগমনে আমরা এতো ক্ষিপ্ত কেন?

মাওলানা সাআদ সাহেবের বাংলাদেশে আসতেই হবে কেন?

এতো রিরংসা, এমন জিঘাংসা মাথায় নিয়ে একজন বৃদ্ধ মানুষ কনকনে শীতে বেইজ্জত হবেন কেন?

আত্মসম্মান ও কৌশল বলে একটা বিষয় আছে। দাওয়াতের জন্য আত্মসম্মান জরুরি। কৌশল ত সবসময় জরুরি। এই ভীতিকর পন্থায়, বিশ্রী চালাকির বাংলাদেশ আগমনকে দাওয়াতি সফর বলতে, আমার অস্বস্তি লাগছে। সাআদ সাহেবের স্বস্তি লাগলে, আমি বা তিনি অসুস্থ।

মাওলানা সাআদ সাহেবের জেদ বা তাঁর অটুট একগুঁয়ে ইজতিহাদ ও তাঁর বিরোধীদের তাঁকে বাতিল বলার মাঝে উম্মাহর কোন কল্যাণ নেই। লাভ কাদের হচ্ছে, জানুন। আফসোস করার সামর্থ্যও হারাবেন।

মাওলানা সাআদ সাহেবকে যে ভাষায় ও যেভাবে আক্রোশি আক্রমণ করা হচ্ছে, তা শরীয়ত সমর্থন করে?

তিনি যতো অন্যায় ও খারাপ আক্বিদা লালন করুন, তাঁকে অসম্মানিত ও অপদস্থ করা জায়েজ? তাঁর সাথে সাথে মুসলিম মিল্লাত ধূলোয় মিলিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সম্পর্কে এমনসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে, যেন তিনি পকেটমার বা তস্কর। নাস্তাগফিরুল্লাহ। তিনি একজন দায়ী ইলাল্লাহ। তাঁর ভুল শুধরাতে কতক্ষণ? এরকম ন্যক্কারজনক ভাষা ও ভাবনা আমাদের সার্বিক অবক্ষয়কে পরিষ্কার করে।

আপনি মাওলানা সাআদকে পছন্দ করেন। যেকোনো কারণে তাঁকে সঠিকতর মানছেন। এটা দোষের নয়। হতে পারে। আল্লাহ আপনার আত্মার প্রকৃতি দেখে পাপপুণ্য দিবেন।

তবে,

আপনি যে ভাষণ ও পিষণ করছেন আলিমদেরকে। এটা আপনার গোমরাহির জন্য যথেষ্ট নয় কি?

যেভাবে অশালীন ভঙ্গি ও অশুভভাবে আলিমকে সমালোচনা করছেন, এটা দাওয়াত দূরের কথা, মানুষের ভাষাই হতে পারে না।

ইলাহি,

কোন আলো নেই, অন্ধকারের তেলেসমাতি বেড়েছে ভীষণ /

এখন তো অন্ধ ও বধিরদের চলছে কঠিন দুঃশাসন।

মাওলা,

মাওলানা সাআদকে জিদ থেকে সিরাতুল মুস্তাকিমে নিয়ে আসুন! আমাদের উগ্র সাআদ বিরোধিতাকে ওয়াসতিয়্যাত আতা করুন।

রুকন রাসনান লুবান

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.