মোকছুদুল মুমিনীন ও বেহেশতের কুঞ্জি এই কিতাবের চতুর্থ অধ্যায়ে আছে,…

প্রশ্ন

মোকছুদুল মুমিনীন ও বেহেশতের কুঞ্জি এই কিতাবের চতুর্থ অধ্যায়ে আছে, ‘‘ওমরি কাযা নামায আদায়ের বিবরণ :

রুকনে দ্বীন কিতাবে বর্নিত আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন, যদি কোনো লোকের বহু দিনের নামায কাযা হইয়া থাকে এবং উহার সংখ্যা তাহার স্মরণ নাই, তাহা হইলে ঐ লোকটি শুক্রবার দিন জুময়ার নামাযের পূর্বে নিম্ন নিয়মে এক সালামে চার রাকায়াত নামায পড়িবে। ইহার প্রতি রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পরে ৭ বার আয়াতুল কুরসী এবং ১৫ বার সূরা কাওছার পাঠ করিবে। এই নামায কেহ আদায় করিলে তাহার ও তাহার পিতামাতার জীবনের কাযা নামায আল্লাহ তায়ালা মাফ করিয়া দিবেন।’’

আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কথাটি আমি কখনো কোথাও শুনিনি। যদি বাস্তবেই তা সঠিক হয়ে থাকে এবং আপনি যদি জানাতেন তাহলে খুবই উপকার হতো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি হাদীস নয়। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা। এটি শরীয়তের অনেক স্বতসিদ্ধ মৌলনীতির পরিপন্থী। মুহাদ্দীসগণ এসব বর্ণনাকে স্পষ্টভাষায় বাতিল ও জাল বলেছেন। (রদয়ুল ইখওয়ান আন মুহদাসাতি আখেরী জুমআতি রমাযান, আবদুল হাই লক্ষ্ণৌবী, পৃ. ৪০-৪৪)

তাছাড়া জীবনের ছুটে যাওয়া নামায কাযা করার শক্তি সামর্থ্য থাকলে কাযাই করতে হবে।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত দলিল প্রমাণ জানতে চাইলে মাসিক আলকাউসার ফেব্রুয়ারি ’০৫ সংখ্যাটি দেখুন। সেখানে এ বিষয়ে পৃথক একটি প্রবন্ধ লেখা হয়েছে।

আর কাযা নামাযের সংখ্যা স্মরণ না থাকলে প্রবল ধারণা অনুযায়ী একটা সংখ্যা নির্ধারণ করে এর কাযা আদায় করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, রুকনে দ্বীন, মোকছুদুল মুমিনীন ও নেয়ামুল কুরআন জাতীয় কিতাবাদি নির্ভরযোগ্য নয়। এগুলোতে অসংখ্য জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা আছে এবং তাতে প্রচুর ভুল মাসআলা-মাসায়েল রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অলিক ও ভিত্তিহীন কাহিনীও সেগুলোতে স্থান পেয়েছে’’। তাই এসব কিতাব পড়া ঠিক নয়। সঠিক মাসআলার জন্য বেহেশতী জেওর, মাসনূন দুআর জন্য ‘হিসনে হাসীন’ (ইমাম জাযারী রাহ. কৃত) ও বিভিন্ন বিষয়ের সুন্নত আমলের জন্য ডাক্তার আবদুল হাই আরেফী রাহ.কৃত ‘উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ পড়া যেতে পারে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.