যিমাদ আল-আযদীর প্রতিনিধি রূপে আগমন

(এবং এ ভাবে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পবিত্র স্মৃতি সম্বলিত একটি ঐতিহাসিক দলীল বিলুপ্ত হয়ে
যায়) ৷

গ্রস্থকারের মন্তব্য : সাহীহ বৃখারীতে আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, আলী (রা)
ইয়ামড়ান থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে মাটি মেশানাে কিছু (অপরিশ্যেধিত) সোনা
পাঠিয়েছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সে সোনা উপস্থিত চার ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করে দিয়েছিলেন ৷
তারা হলেন যায়দ আল-খড়ায়ল, আলকামা ইবন উলাছা আকরা, ইবন হাৰিস ও উতবা ইবন
বদর (রা) ৷ আলী (রা) কে য়ড়ামানে কর্মভার দিয়ে পাঠানো প্রসংগে পরবর্তীতে আরো বিশদ
আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্ ৷

আদী ইবন হাতিম তাঈ (রা) এর কাহিনী

ইমাম বুখারী (র)-ভীর সাহীহ্ গ্রন্থে অনুচ্ছেদ সংযোগ করেছেন

তার প্রতিনিধি দল ও আদী ইবন হাতিম (রা) সম্পর্কিত হাদীস

মুসা ইবন ইসমাঈস (র)আদী ইবন হাতিম (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন,
আমরা উমড়ার ইবনৃল খভােব (রা) এর দরবারে একটি প্রতিনিধি দল রুপে উপস্থিত হলাম ৷
তিনি দলের এক এক জনকে নাম-ধামসহ ডাকতে লাগলেন, আমি বললাম, আষীরুল যুমিনীন
আমাকে কি আপনি চিনতে পারছেন না? তিনি বললেন, কেন নয় ? তুমি তো ইসলাম গ্রহণ
করেছো-যখন লোকজন কৃফরীতে লিপ্ত ছিল, এরা যখন পিছু হটছিল, তখন তুমি এগিয়ে
আসছিলে; এরা যখন চুক্তি তংপ করছিল, তুমি তখন চুক্তি রক্ষা করে চলছিলে, আর তুমি
সত্যের পরিচয় পেয়েছিলে এদের কাছে তা অজ্ঞাত থাকা কালেই ৷ আদী (রা) বললেন, তা
হলে আমার কোন দুঃখ নেই ৷ কোন পরোয়া নেই ৷

ইবন ইসহাক (র)-বলেছেন, আদী ইবন হাতিম (রা) এর নিজস্ব যে উক্তি আমার কাছে
পৌছেছে তা হল-তিনি বলতেন, আরবের কোন পুরুষ এমন নেই যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
কথা শুনে র্তাকে আমার চাইতে অধিক অপসন্দ করেছে ৷ তবে আমি স্বভাবে ছিলাম শরীফ
এবং ধর্মে ছিলাম খৃষ্টবাদের অনুসারী ৷ আমার কাজ ছিল চৌখ উত্তল করার জন্য গোত্র মাঝে
ঘুরে রেড়ানাে ৷ মনে মনে আমি ছিলাম একটা বিশেষ ধর্মের অনুসারী আর প্রকাশ্য আমার
সাথে আমার গোত্রের আচরণ বিচারে একজন রাজা ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর আবির্ভাবেৱ কথা
শুনে আমার গা জুলতে লাগল ৷ আমি আমার আরবী গোলামকে বললড়াম যে নাকি আমার
উটপালের রাখালীর কাজেও নিয়োজিত ছিল হে হতভাপা ৷ আমার উটপাল থেকে কতকগুলি
মোটা তাজা ৫পড়াষমান৷ উট বাছাই করে সেগুলিকে আমার কাছে কাছে ণ্রাখবি ৷ আর যখন
শুনতে পারি যে, মুহাম্মদের বাহিনী এ দেশের দিকে এগিয়ে আসছে, তখন অবিলম্বে আমাকে
সে সংবাদ জ্ঞাত করৰি ৷ গোলাম তাই করল ৷ কিছুদিন পরে এক সকালে সে এসে আমাকে
খবর দিল যে, হে আদী ! মুহাম্মদের অশ্বড়ারােহী বাহিনী তোমাকে ঘিরে ফেলতে এগিয়ে
আসছে ৷ তোমার যা করার তা এখনই করতে পড়ার ৷ কেননা, আমি দুর থেকে কতকপুলি ফুদ্ধ
পতাকা দেখতে (পরে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে লোকেরা আমাকে বলেছে যে র্লো
মুহাম্মদের বাহিনী ৷ আদী (রা) বলেন, আমি গোলড়ামকে বললাম, আমার যে ট্যাংক

আমার কাছে নিয়ে আর ৷ গোলাম সেগুলিকে কাছে নিয়ে আসলে আমি আমার পরিবার ও
সন্তানদের নিয়ে সেগুলির পিঠে চড়ে বসলার এবং গোলামকে বললাম শাম <’দা;শ
(তৎকালীন বৃহত্তর সিরিয়া তথা আরবের উত্তরাঞ্চল, আমার স্বধর্ষী খৃষ্টানদের কাছে
আমাদেরকে নিয়ে চল ৷ আমি ৰিজন (প্রাভরের) পথ ধরে চললার ৷ আর হাতিমের এক কন্যা
(আমার বোন)-কে ঐ জনপদেই রেখে গেলাম ৷ সিরিয়ার উপনীত হয়ে আমি সেখানে অবস্থান
করতে লাপলার ৷ আমার প্রস্থানের পর পরই রাসৃলুল্লাহ্ (সা) এর ঘোড়সওয়ার বাহিনী গোত্রের
উপর চড়াও হল এবং অন্যান্যদের মাঝে হাতির কন্যাও তাদের হাতে বন্দী হলো এবং তাঈ
গোত্রের বন্দীদের সাথে সেও রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দরবারে নীত হল ৷ আমার সিরিয়ার পালিয়ে
যাওয়ার সংবাদ রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে পৌছে গিয়েছিল ৷ বণ্নািকারী (আদী (রা)) বলেন,
হাতির কন্যাকেও মসজিদের দরজার কাছে বন্দীদের আটকে রাখার জন্য তৈরী রেষ্টনীর মভৈধ্য
রেখে দেয়া হল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে য়েতে লাগলে হাতির কন্যা তার উদ্দেশ্য
দাড়িয়ে বলল, যে ছিল স্থির প্রতিজ্ঞ ও অকুতােভয় এক নারী-হ্নে আল্লাহ রাসুল আমার পিতার
মৃত্যু হয়েছে, অনড়াথের ভরসা হারিয়ে গিয়েছে ৷ আমাকে অনুকম্পা করুন, আল্লাহ আপনাকে
অনৃকস্পা করবেন ৷ নবী কবীর (সা) বললেন, তোমার আমার পাত্র কে?
হাতির কন্যা বললো “আদী ইবন হাতির (আমার ভাই) ৷ তিনি বললেন,
আল্লাহ্ ও তার রড়াসুলের কাছ থেকে পালায়নকারী ৷ বন্দিনী বলেন, রাসুলুল্লাহ্
(না) আর কিছু না বলে চলে গেলেন ৷

পরের দিন আমার কাছ দিয়ে তিনি যেতে লাগলে আমি আগের দিনের কথার পুনরাবৃত্তি
করলাম; তিনিও আগের দিনের মত জবাব দিলেন ৷ বন্দিনী বলেন, তৃতীয় দিলে তিনি আমার
পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ তখন নিরালা আমাকে পেয়ে বলেছে ৷ কিন্তু তার পিছনের এক লোক
আমাকে ইংপিত করল, যেন আমি দাড়িয়ে তার সাথে কথা বলি ৷ হাতির কন্যা বলল, আমি
তখন তার উদ্দেশ্য ড়ান্া৷ড়িৰে৷ বললার, ইয়া রাসুলুল্লাহ্৷ বাপ মরে গিয়েছে, ভরসা হারিয়ে
গিয়েছে ৷ এখন আমাকে দ্যা৷ করুন অল্লোহ্ আপনাকে দয়া করবেন ৷ নবী কবীর (সা)

আমি তাই করলাম (তোমাকে মুক্তি দিলাম) ভরে চলে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ো না ;
তোমাকে তোমার দেশে পৌছিয়ে সেরে তোমার গোত্রের এমন নির্ভরয়েগ্যে লোক পাওয়া গেলে
আমাকে জানাভ্রুব ৷ আমি তখন নবী কবীর (সা)এর সাথে কথা বলার জন্য ইংগিত প্রদানকারী
ল্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম ৷ আমাকে বলা হল তিনি হচেছন আলী ইবন আবু তালিব
(রা) ৷ আমি সফরের প্রস্তুতি নিলাম ৷ তখন বন্বলী বা কুযাআ গোত্রের কিছু লোকের আগমন
ঘটল ৷ আমার ইচ্ছা ছিল সিরিয়ার আমার ভাইয়ের কাছে চলে যাবো ৷ আমি রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর কাছে গিয়ে বললার, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ৰু আমার গোত্রের একটি কাকেল৷ এসেছে,
যাদের উপরে ভরসা করে আমি আমার গম্ভব্যে পৌছতে পারি ৷ হাতির কন্যা বলেন, তিনি
আমাকে পোষাক, বাহন ও প্রয়োজনীয় পাথের দিলেন এবং আমি তাদের সাথে বের হয়ে

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.