রাসূলুল্লাহ্ (সা)- এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের তর্ক-বিতর্ক

করতেন ৷ এরকম আরো অনেক প্রকারে তারা মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালাত ৷ এ সম্পর্কে
ইবন ইসহাক ও অন্যান্যদের দ্বারা বর্ণিত হাদীছগুলাে আমরা ইতোপুর্বে উল্লেখ করেছি ৷ এ
সকল অত্যাচার নির্যা৩ নের প্রেক্ষাপটে মুসলমানগণ রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট অনুরোধ

জানিয়েছিলেন তিনি যেন মুশারিকদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্র নিকট বদ দু আ করেন ৷ অথবা এ দু আ
করেন যে, আল্লাহ্ যেন মুসলমানদের বিজয় দান করেন ৷ তিনি এ দৃআ করবেন বলে
মুসলমানদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি দৃআ করেননি বরং
পুর্ববর্তী ঈমানদারদের ইতিহাস ও ঘটনা উল্লেখ করেছেন যে, তারা আরো কঠোর ও
কঠিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৷ কিন্তু তবুত তারা দীন থেকে বিচ্যুত হননি ৷ প্রসঙ্গক্রমে
তিনি মুসলমানদেরকে ঐ সুসং বাদ দেন যে, দীন ই ইসলামকে আল্লাহ তা আলা অতিসতৃর
পুংতিা দা ন করবেন ৷ এটিকে রিশ্বময় প্রচারিত ও প্রসারিত করবেন এবং দেশে দেশে এ ধর্মকে
এবং ঐ ধর্মের অনুসারীদেরকে সাহায্য করবেন ৷ অবশেষে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হবে যে,
সওয়ারী ও মুসাফির ব্যক্তি সান আ থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত দীর্ঘপথ পাড়ি দিবে একমাত্র

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ভয় তার অম্ভরে থাকবে না ৷ এমনকি তার বকরীপালের উপর
বাঘের আক্রমণেরও আশংকা থাকবে না ৷ তবে তিনি তাদেরকে বলেছেন যে, তোমরা তাড়াহুড়া
কবছ ৷ এ প্রেক্ষাপটে বর্ণনাকারী বলেছেন যে, আমাদের মুখে ও হাতে প্রচণ্ড তাপ লাগার কথা
অভিযোগ আকারে আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট পেশ করি ৷ তিনি আমাদের
অভিযোগ নিরসনে তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেননি ৷ অর্থাৎ ওই কঠিন সময়ে আমাদের জন্যে
দৃআাকরেননি !

এ হাদীছের আলোকে যারা একথা বলেন যে, যুহরের নামায আদায়কালে সুর্যতাপে
শীতলতা আমার মত বিলন্ব করা সমীচীন নয় এবং যারা একথা বলেন যে, নামাষের মধ্যে
সিজদার সময় মাটিতে হাত রাখা ওয়াজিব, তাদের বক্তব্য সংশয়মুক্ত নয় ৷ এটি ইমাম শাফিঈ
(র)-এর দুটো অভিমতের একটি ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের তর্ক-বিতর্ক

তাদের প্রত্যুত্তরে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর য়থোপযুক্ত প্রমাণ পেশ এবং পোড়ামি, হিংসা,
সত্যদ্রোহিতা ও প্রত্যাথ্যানমুলক মানসিকতার তাড়নায় প্রকাশ্যে তারা সত্য আীকার করলেও
মনে মনে তাদের সত্য উপলব্ধি ও সাত তারাীকৃতি প্রদা ন সংক্রান্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো ৷

ইসহাক ইবন রাহ্ওয়ায়হ বলেন, আবদুর রায্যাক (বা) হযরত ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে

ন্ব্ করেন ৷ তিনি বলেন, একদা ওয়ালীদ ইবন মুগীরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট উপস্থিত
নিা; তাকে কুরআন পাঠ করে শো নান ৷ তাতে সে কুরআনের প্রতি কিছুটা আকৃষ্ট ও বিন্মা

হয়ে পড়ে এ সংবাদ আবু জা হ্লের নিকট পৌছে যায় ৷ সে ওয়ালীদের নিকট এসে বলে, চাচা
আপনার গোত্রের লোকেরা আপনার জন্যে কিছু মালামাল সংগ্রহ করতে চাচ্ছে ৷ ওয়ালীদ বলল,
কেন কী হয়েছে ? সে বলল, আপনাকে দেখার জন্যে ৷ কারণ, আপনি র্মুহাষ্মদের নিকট
গিয়েছেন আপনার পুর্ব ধর্মমত পরিত্যাগ করার জন্যে ৷ ওয়ালীদ বলল, কুরায়শের লোকজন
তো জানে যে, আমি তাদের অন্যতম ধনাঢব্র ব্যক্তি ৷ তাহলে ধন-সম্পদের আমার প্রয়োজন কী

আবুজাহ্ল বলল, তাহলে আপনার গোত্রের উদ্দেশ্যে আপনি এমন একটি জোরালো বক্তব্য
পেশ করুন যাতে তারা বুঝতে পারে যে, আপনি মুহাম্মদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন ৷ ওয়ালীদ
বলল, আমি কী বলব ? আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে কেউই গীতিকাব্য, ছন্দ, কাসীদা এবং
জিনদের কবিতা সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অবগত নয়, আল্লাহ কসম, মুহাম্মদ যা বলছে তা
তো ওগুলাের কো ৷নটির সাথেই মিলছে না ৷ আল্লাহ্র কসম , সে যা বলছে তার মধ্যে এক বিশেষ
মাধুর্য রয়েছে, তাতে রয়েছে আকর্ষণ ৷৩ তার উপরের অং শ ফলবান অ র নীচের অং শ পানিসিক্ত ৷
সে অবশ্যই বিজয়ী হতে থাকবে, বিজিত হবে না ৷৩ তার বিপরীতে যা আছে ত যে সব কিছুকে যে
ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে ৷

আবু জাহ্ল বলল, আপনি তার সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য না করা পর্যন্ত আপনার গোত্রের
লোকেরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না ৷ ওয়ালীদ বলল, ঠিক আছে, অপেক্ষা কর, আমি একটু
ভেবে নিই ৷ তােব-চিস্তে সে বলল, এটি অন্য করো নিকট থেকে প্রাপ্ত জাদৃ ব্যতীত কিছু নয় ৷
এ প্রেক্ষিতে ন যিল হয়০ : অ আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি অসাধারণ করে ৷ আমি
তাকে দিয়েছি বিপুল ধন সম্পদ এবং নিত্যসং গী পুত্রগণ (৭৪ : ১ ১-১৩) ৷ বায়হাকী (র)
হাকিম ইসহাক সুত্রে এরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

হাম্মাদ ইবন যায়দ আইয়ুব সুত্রে ইকরিমা থেকে মুরসাল পদ্ধতিতে হাদীছটি বর্ণনা
করেছেন ৷ উক্ত বর্ণনায় আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওয়ালীদের নিকট এ আয়াত পাঠ
করেছিলেন :

আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ
করেন অশ্লীলত ৷, অসৎ কার্য ও সীমালং ঘন ৷ তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা
শিক্ষা গ্রহণ কর (১৬০ : ৯০) ৷

বায়হাকী (র) হাকিম ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, একদা ওয়ালীদ
ইবন মুপীরা এবং কুরায়শের কতক নেতৃস্থানীয় লোক একন্থানে মিলিত হয় ৷ উপস্থিত লোকদের
মধ্যে যে ছিল বয়ােবৃদ্ধ ৷ তখন হব্লুজ্জর মওসুম নিকটবর্তী ছিল ৷ যে প্রস্তাব করল যে, আরবের
বিভিন্ন প্রতিনিধিদল এ সময়ে তোমাদের নিকট আসবে ৷ তোমাদের প্রতিপক্ষ মুহাম্মদের কথা
তো তারা জেনেছে ৷ সুতরাং তার ব্যাপারে তোমরা একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর ৷ তার
সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে সকলে একই কথা বলবে ৷ একেক জন একেক কথা বলবে না
যাতে করে একজনের কথায় আরেকজন মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হও এবং একজনের কথা
অপরজনের কথাকে বাতিল করে দেয় ৷

তারা বলল, হে আবু আবৃদ শামস ! আপনিই একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে দিন ৷ আমরা সবাই তাই
ফ্লোন নেবে৷ ৷ সে বলল, না, তােমরাই বরং প্রস্তাব পেশ কর, আমি শুনি ৷ তারা বলল, আমরা

তাকে গণক বলব ৷ সে বলল না, সেভাে গণক নয় ৷ আমি গণকদেরকে দেখেছি ৷ তার পেশ
করা বাণী গণকদের মত্রের ধ্বনির মত নয় ৷ তারা বলল, আমরা তাকে জিনগ্রস্ত বলব ৷ সে
বলল, আমি জিনগ্রস্ত ব্যক্তিদেরকে দেখেছি এবং সে সম্পর্কে আমার প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে ৷
তার কথা ৷কিন্তু জিনগ্রস্ত লোকের প্রলাপও নয় তালমন্দের মিশ্রণও নয় ৷ তারা বলল, তাহলে
আমরা তাকে কবি বলব ৷ সে বলল, সেতে তা কবি নয় ৷ প্রশং সাগীতি, নিন্দাগীতি , ছোট কবিতা ও
বড় কবিতাসহ সকল প্রকারের কবিতা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ৷রয়ােছ ৷ তার বক্তব্য তো
কবিতা নয় ৷ তারা বলল, তাহলে আমরা তাকে জাদুকর বলব ৷ সে বলল, সে তো জাদুকর
নয় ৷ আমি জাদুকরদেরকেও দেখেছি, তাদের জাদুও দেখেছি ৷ তার বাণী জাদুমন্ত্র নয় ৷
জাদৃকরের পিট দেয়াও নয় ৷
তারা বলল, হে আবু আবৃদ শামস্৷ তাহলে আমরা তাকে কী বলব ? সে বলল , আল্লাহর
কসম, তার কথায় একটি বিশেষ মাধুর্য রয়েছে ৷ সেটির গোড়ার দিক হল রসসিক্ত ৷ আর শাখা
প্রশাখা হল ফল সমৃদ্ধ ৷ তার সম্পর্কে তোমরা উপরোক্ত মউব্যগুলাের যেটিই বল তাতে সবাই
বুঝে নিয়ে যে, তোমাদের কথা মিথ্যা ৷ তবে তাকে জাদুকর বলাটাই অধিকতর যুক্তিসৎগত ৷
সুতরাং তোমরা সকলে তাকে এমন জাদুকর বলবে যে মানুষকে ধর্ম, তার পিতৃপুরুষ, তার শ্রী
তার ভাই ওত তার জ্ঞাতিগােষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয় ৷ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তারা
ওয়া ৷লীদের কাছ থেকে বিদায় নেয় ৷ পরবর্তীতে তারা ণ্লাকজনের অপেক্ষায় থাকে ৷

অবশেষে হজ্জ মওসুম উপস্থিত হয় ৷ তাদের পাশ দিয়ে যারাই যেত তারা ওদেরকে মুহাম্মদ
(সা) সম্পর্কে সতর্ক করে দিত এবং তার সম্পর্কে অসত্য কথা শুনাত ৷ এ প্রেক্ষিতে ওয়ালীদ
সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআল৷ এ আয়াত নাযিল করেন : খুারু আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে য়াকে আমি সষ্টি কর্বুরছি
অসাধারণ করে ৷ আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন সম্পদ এবং নিত্যসৎপী পুত্রগণ ( ৭৪ :
১ ১ ১৩) ৷

ওয়ালীদের আসবে উপস্থিত ওই সকল লোক যারা ৷কুরআন সম্পর্কে জা দু কবিতা ইত্যাদি
কট্রুক্তি করেছে৩ তাদের সম্পর্কে নাযিল হল সুতরাং শপথ আপনার প্রতিপা ৷লকের, আমি ওদের সকলকে প্রশ্ন করবই সে বিষয়ে৷ যা
ওরাকরে (১৫ং ৯২) ৷

আমি বলি, ওদের অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতামুলক মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করে আল্লাহ তাআলা
বলেন :
তারা এও বলে, এটি অলীক কল্পনা হয়ত সে উদ্ভাবন করেছে, না হয় সে একজন কবি ৷
অতএব, সে আনয়ন করুক আমাদের নিকট এক নিদর্শন যেরুপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিল

পুর্ববর্তিগণ (২১ং : ৫) ৷ বস্তুত রাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে তারা কি বক্তব্য দিয়ে সে বিষয়ে তারা
অস্থির৩ ৷য় ভুগছিল ৷৩ তারা যা ই বলতে চেয়েছে,৩ তা-ই মিথ্যা ও অসতরুপে চিহ্নিত হয়েছে ৷
কারণ, সত্য পথ যে ত্যাগ করে, তার সকল কথা ৷ই ভুল হয় ৷ আল্লাহ্ তাআল৷ বলেন :

দেখুন, ওরা আপনার কী উপমা দেয়! ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং ওরা পথ পাবে
না (১ ৭ : ৪৮) ৷

আরদ ইবন হুমায়দ৩ তার মুসনাদ গ্রন্থে আবু বকর ইবন আবু শায়বা জাবির ইবন
আবদুল্লাহ (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, কুরা য়শ বংশের লোকেরা একদিন এক
পরামর্শ সভায় মিলিত হয় ৷ তারা বলল, জাদুবিদ্যা, ৰুজব্বতিষশাস্ত্র এবং কবিতা সম্পর্কে
আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সব ধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তাকে খুজে বের কর ৷ সে যেন ওই লোকের
নিকট যায় , যে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিশৃগ্রলা সৃষ্ট করে
দিয়েছে এবং আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছে ৷ আমাদের অভিজ্ঞ লোকটি যেন তার সাথে কথা
বলে এবং সে কি উত্তর দেয়৩ তা লক্ষ্য করে ৷ তারা বলল, এ বিষয়ে উতব৷ ইবন রাবীআ ব্যতীত
অন্য কা ৷উকে আমরা উপযুক্ত মনে করছি না ৷ উতবার উদ্দেশ্যে তারা বলল হে আবু ওয়ালীদ
আপনিই এই দায়িত্ব পালন করুন ৷ তখন উতব৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট আসে ৷ সে বলে
হে মুহা ম্মদ৷ তুমি উত্তম, নাকি তোমার পিতা আবদুল্লাহ ? তিনি কিছু না বলে চুপ করে রইলেন ৷
সে এবার বলল, তুমি উত্তম, নাকি আবদুল মুত্তালিব ? তিনি চুপ করে রইলেন ৷ উতব৷ এবার
বলল, তুমি যদি মনে কর যে, তারা তোমার চেয়ে উত্তম ছিলেন, তবে তারা তো সে সব
উপাস্যের উপাসনা করে গিয়েছেন তুমি যেগুলোর নিন্দা করছ ৷ আর তুমি যদি মনে কর যে,
তুমি তাদের তুলনায় উত্তম তবে তুমি তোমার নিজের কথা বল আমরা তা শুনি ৷

আল্লাহ্র কসম নিজ সম্প্রদায়ের জন্যে তুমি যত ক্ষতিকর ও অলক্ষুণেত ততোধিক ক্ষতিকর
ও অলক্ষুণে কাউকে আমরা দেখি না ৷ তুমি আমাদের ঐক্যে ফ টল ধবিয়েছ ৷ আমাদের
সমাজের শৃগ্রল৷ নষ্ট করে দিয়েছ এবং আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছ ৷ সমগ্র আরব দেশে এ
কথা ছড়িয়ে পড়েছে যে, কুরায়শ পােত্রে একজন জাদুকরের আবির্ভাব ঘটেছে ৷ একজন গণকের
আগমন ঘটেছে ৷ আল্লাহর কসম, আমরা এখন গর্ভবতী মহিলার প্রাণফাট৷ চীৎকারের ন্যায়
একটি চীৎকারের আশংকায় অস্থির রয়েছি যে চীৎকার শুনে আমাদের একদল অপরদলের উপর
তরবারি হাতে বাপিয়ে পড়বে ৷ ফলে আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাব ৷ ওহে, তোমার যদি কোন
অভাব-অনটন থাকে, তাহলে আমরা তোমাকে প্রচুর ধন-সম্পদ স ংগ্রহ করে দিব, যাতে তুমি
কুরায়শ বং শের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হতে পার ৷ তোমার যদি বিয়ে শাদী করার ইচ্ছা ৷থাকে
তবে কুরায়শ বংশের যে মহিলাকে তোমার পসন্দ হয় তার কথা বল, সে রকম দশ জন মহিলা
আমরা তোমার নিকট বিয়ে দিয়ে দিব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আপনার কথা কি শেষ
হয়েছে ? সে বলল, হী৷ ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

“দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ্র নামে” হা-মীম ৷ এটি দয়াময়, পরম দয়ালুর নিকট হতে
অবতীর্ণ ৷ এটি এক কিতাব বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে এর আয়াতসমুহ আরবী ভাষায়
কুরআনরুপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে ৷ সুসংবাদদাত৷ ও সতর্ককারীরুপে ৷ কিন্তু ওদের
অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে ৷ সুতরাং তারা শুনরে না ৷ ওরা বলে, তুমি যার প্রতি আমাদেরকে
আহ্বান করছ সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণ-আচ্ছাদিত , কর্ণে আছে বধিরতা এবং তোমার
ও আমাদের মধ্যে আছে অন্তরাল ৷ সুতরাং তুমি তোমার কাজ কর এবং আমরা আমাদের কাজ
করি ৷ বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের
ইলাহ্ একমাত্র ইলাহ্ ৷
অতএব র্তারই পথ দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং তারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ৷ দুর্তোগ

অংশীবাদীদের জন্যে ৷ যারা যাকাত প্রদান করে না এবং ওরা আখিরাতে ও অবিশ্বাসী ৷ যারা
ঈম৷ ৷ন আসে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার ৷

বলুন, তোমরা কি তাকে অস্বীকার করবেই, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং
তোমরা তার সমকক্ষ দাড় করাতে চাচ্ছ ? তিনি তো জগতসমুহের প্রতিপালক ৷ তিনি স্থাপন
করেছেন অটল পর্বত মালা ভু পৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার দিনের মধ্যে তার
ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের সমভাবে যাঞ্চাকারীদের জন্যে ৷ এরপর তিনি আকাশের দিকে
মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধুম্রপুঞ্জ বিশেষ ৷ অনম্ভর তিনি সেটিকে এবং পৃথিবীকে বললেন,
তোমরা উভয়ে আস, ইচ্ছার অথবা অনিচ্ছায় ওরা বলল, আমরা এলাম অনুগত হয়ে ৷ এরপর
তিনি আকাশ জগত কে দু দিনে সপ্তাকা শে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে সেটির বিধান
ব্যক্ত করলেন এবং আমি নিকটবর্তী আকাশ্ কে সুশোভিত করলাম প্রদীপমাল৷ দ্বারা এবং
করলাম সুরক্ষিত ৷ এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ্র ব্যবস্থাপনা ৷ তবু তারা যদি মুখ ফিরিয়ে
নেয়, তবে বলুন, আমি তো তোমাদেরকে সতর্ক করছি এবং ধ্বংসকর শান্তির আদ ও ছামুদের
শাস্তির অনুরুপ (৪ ১ : ১ ১৩) ৷

এবার উ৩ বা বলল, যথেষ্ট হয়েছে ৷ এ ছাড় ৷অন্য কিছু কি তোমার নিকট নেই ? তিনি
বললেন, না ৷ উতবা এবার কুরায়শী নে৩ তৃবৃন্দের নিকট ফিরে গেল ৷৩ তারা বলল, ওদিককার
খবর কী ? সে বলল, তোমরা যা না বলতে, আমার ধারণা তার সবই আমি তাকে বলেছি ৷
তারা বলল, যে কি কে ন উত্তর দিয়েছে ? সে বলল, হ্যা ৷ এরপর সে বলল, যিনি কা বাগৃহ
নির্মাণ করেছেন সেই পবিত্র সত্তার শপথ করে আমি বলছি, সে যা বলেছে আমি তার কিছুই
বৃঝিনি ৷ শুধু এতটুকু বুঝেছি যে, আদ ও ছামুদ সম্প্রদায়ের উপর আগত একটি বিকট চিৎকারের
আগমন সম্পর্কে যে তোমাদেরকে সতর্ক করেছে ৷ তারা বলল, হায় ! এটি কেমন কথা ! একজন
লোক আরবী ভাষায় আপনার সাথে কথা বলল, অথচ আপনি তা বুঝতে পারলেন না সে

বলল, না, না, আল্লাহর কসম, বিকট চীৎকারের কথা ব্যতীত আর কিছুই আমার বোধগম্য
হয়নি ৷

বায়হাকী (র) প্রমুখ হাকিম আজলাহ্ সুত্রে এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷৩ তবে ওই

বর্ণনা সন্দেহমুক্ত নয় ৷ ওই বর্ণনায়এ তটুকু অতিরিক্ত আছে যে, তুমি যদি নেতৃতৃ চাও, তবে

আমাদের নেতৃত্বের পতাকা আমরা তোমার হাতে তুলে দেব ৷ যতদিন তুমি জীবিত থাকবে
ত তদিন তুমি নেতা হিসেবে যা ৷কবে ৷ ওই বর্ণনায় একথাও আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন —

(তবুও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলুন, আমি তো তােমাদেরকে সতর্ক করছি এক
ধ্বংসকর শাস্তির আদ ও ছামুদের ধ্বংসের অনুরুপ) পাঠ করলেন, তখন উতবা রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর মুখ চেপে ধরল এবং রক্ত সম্পর্কের দোহাই দিয়ে আর কিছু না বলতে অনুরোধ
করল ৷

এরপর কিছুকাল উত বা তার ঘনিষ্ঠজনদের সাথে দেখা করেনি, বরং৩ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন
হয়ে দিন কাটায় ৷ তখন আবু জাহ্ল বলে, হে কুরায়শ সম্প্রদায়, আল্লাহ্র কসম, আমার মনে
হয় পিতৃধর্ম ত্যাগ করে উতবা মুহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং মুহাম্মদের আপ্যায়নে সে খুশী
হয়েছে ৷ এটা নিশ্চয়ই তার অভাব ৷ব-অনটনের কারণে হয়েছে ৷ চল, আমরা সবাই তার নিকট
যাই ৷ উতবার সাথে দেখা করে আবু জাহ্ল বলল, হে উতবা আমরা৫ তামার নিকট এ জন্যে
এসেছি যে, তুমি তো মুহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করেছ এবং তার ধর্ম তোমার ভাল লেগেছে ৷ মুলত
তুমি যদি কো ন অতাব ৷ব-অনটনে থাক, তবে আমাদেরকে বল, আমরা তোমাকে ধন সম্পদ সংগ্রহ
করে দিই যাতে করে তুমি আর মুহাম্মদের আপ্যায়ন্সের মুখাপেক্ষী থাকবে না ৷ এ কথা শুনে
উতবা রেগে যায় এবং আল্লাহ্র নামে কসম করে বলে যে, কখনও সে মুহাম্মদ (সা) এর সাথে
কথা বলবে না ৷ যে এও বলে যে, তোমরা তো জ ন আমি কুরায়শ বংশের অন্যতম ধনাঢা
ব্যক্তি, তবে আমি তার নিকট পিয়েছিলাম ৷ এরপর সে রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে যা যা বলেছিল তা
তাদেরকে জানাল ৷ এরপর সে বলল, মুহাম্মদ এমন ভাষায় আমাকে উত্তর দিল যে, আল্লাহর
কসম, তা কো ন জা দুও নয়, কবিতাও নয়, গণকের মন্ত্রও নয় ৷ সে আমার নিকট এগুলো পাঠ
করল ঝু ৷ থেকে শুরু করে ও

পর্যন্ত ৷ তখন আমি আর মুখ চেপে ধরি এবং রক্ত সম্পর্কের দােহাই দিয়ে তাকে থামতে
বলি ৷ তোমাদের তো ৩ ল৩াবেই জানা আছে যে, মুহাম্মদ কিছু বললে তা মিথ্যা হয় না ৷
তাইব্ব আমাদের উপর আমার নাযিল হওয়ার ভয়ে আমিশ ত ছিলাম ৷

এরপর বায়হাকী (র) বলেন“, হাকিম মুহাম্মদ ইবন কাআর থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, কুরায়শের ধৈর্যশীল নেতা উতবা ইবন রাবীআ একদিন
বলেছিল তখন সে ছিল কুরায়শী লোকদের সমাবেশে বসা আর রাসুলুল্লাহ্ (সা) ছিলেন
একাকী মসজিদে বসা ৷ রস্তুত সে বলেছিল, হে কুরায়শ সম্প্রদায় ৷ আমি কি ওই লোকের কাছে

গিয়ে কতগুলো প্রস্তাব পেশ করব ? এমনও হতে পারে যে কোন একটি প্রস্তাব সে গ্রহণ করবে
এবং আমাদেরকে জ্বালাতন করা থেকে বিরত থাকবে ৷ উপস্থিত লোকজন বলল, হে আবু
ওয়ালীদ, আপনি তাই করুন ৷ উতবা উঠে গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট বসে ৷ এরপর
উতবা ধন-সম্পদ ও রাজতু সম্পর্কে যে সব প্রস্তাব দিয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা) যা উত্তর
দিয়েছেন তার বিবরণ দেয় ৷

যিয়াদ ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে উতরা বলেছিল , হে কুরায়শ সম্প্রদায় ! আমি কি
মুহাম্মদের নিকট যাব এবং তার সাথে আলড়াপ-আন্থলাচনা করে তার নিকট কতক প্রস্তাব পেশ
করব ? এমনও হতে পারে যে, সে কোন একটি প্রস্তাব পেশ করবে এবং আমরা প্রস্তাব অনুযায়ী
তার চাহিদা পুরণ করব এবং ফলশ্রুতিতে সে আমাদেরকে জ্বালাতন করা থেকে বিরত থাকবে ৷
এ ঘটনা সংঘটিত হয় তখন, যখন হযরত হামযা (বা) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তারা দেখতে
পায় যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথীদেব সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে ৷

তখন উপস্থিত লোকজন বলল, হ্যা, হে আবু ওয়ালীদ! আপনি তার নিকট যান এবং তার
সাথে কথা বলুন ৷ উতবা উঠে দাড়ায় এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট গিয়ে বসে ৷ সে বলে,
ভাতিজা আমাদের মধ্যে এবং আমাদের গোত্রের মধ্যে তোমার মর্যাদা এবং আভিজাত্যের কথা
তো তোমার জানা আছে ৷ তবে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট তুমি এমন একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে
এসেছ যা দ্বারা তুমি তাদের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছ, তাদের গুণীজনদেরকে মুর্থরুগে
আখ্যায়িত করেছ, তাদের উপাস্যগুলাে ও ধ্র্মমতের নিন্দাবাদ করেছ এবং তাদের পরলােকগত
পুর্ব পুরুষদেরকে কাফির বলে আখ্যায়িত করেছ ৷ তুমি আমার কথা গােন, আমি তোমার নিকট
কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করছি ৷ তুমি সেগুলো ভালভাবে বিবেচনা করে দেখবে ৷ এমনও হতে
পারে যে, তার মধ্যে কোন একটি প্রস্তাব তুমি গ্রহণ করবে ৷

রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, আবুল ওয়ালীদ! বলুন, আমি শুনছি ৷ সে বলল, ভাতিজা! তুমি
যা নিয়ে এসেছ তার মাধ্যমে ধন-সম্পদ অর্জন করা যদি তোমার উদ্দিষ্ট হয়, তবে আমাদের
প্রত্যেকের ধন-সম্পদের একটা অংশ আমরা তোমাকে দিয়ে দেব ফলে তুমি আমাদের সবার
চেয়ে বড় সম্পদশালী হয়ে যাবে ৷ তুমি যদি মর্যাদা অত্তনি করতে চাও, তবে আমরা তোমাকে
চিরদিনের জন্যে নেতা রুপে বরণ করে নেবাে ৷ তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে নেতৃতু দেব না ৷
তুমি যদি রাজতৃ চাও আমরা তোমাকে আমাদের রাজা রুপে বরণ করবো ৷ তোমার নিকট যে
অদৃশ্য আগন্তুক আসে যে যদি জিন হয়ে থাকে এবং তার হাত থেকে আত্মরক্ষায় তুমি যদি
অক্ষয় হয়ে থাক, তবে আমরা ভাক্তার-কবিরাজ ডেকে এনে অর্থব্যয় তোমাকে সুস্থ করে তুলব ৷
কারণ, মাঝে মাঝে অনুষঙ্গী তার মুল ব্যক্তির উপর প্রাধান্য লাভ করে, যার জন্যে চিকিৎসার
প্রয়োজন দেখা দেয় ৷ উতবা হুবহু একথা অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু বলেছিল ৷ উতবার বক্তব্য
শেষ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে আবুল ওয়ালীদ, আপনার কথা শেষ হয়েছে ? সে
বলল, হীা, শেষ হয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এবার আমার বক্তব্য শুনুন ৷ সে বলল, ঠিক
আছে, বলে যাও ! ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) পড়তে শুরু করলেন :

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা) রীতিমত পড়ে যেতে লাগলেন ৷

তিলাওয়াত শুনে উতবা চুপ হয়ে গেল এবং দুহাত পেছনে ঠেকিয়ে মনোযোগ সহকারে
শুনতে লাগল ৷ সুরা পাঠ করতে করতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সিজদা ৷র আয়াত পর্যন্ত পৌছলেন এবং
আয়াত পাঠান্তে সিজদা করলেন ৷৩ তারপর বললেন, আপনি তো শুনলেন হে আবুল ওয়ালীদা
উতবা বলল ইা, শুনেছি ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এবার আপনার ক জ আপনি করুন ৷ উতবা
উঠে তার সাথীদের নিকট গিয়ে উপস্থিত হল ৷ ওরা বলাবলি করছিল যে, আল্লাহর নামে কসম
করে বলতে পারি আবুল ওয়ালীদ যেমন চেহারা নিয়ে মুহাম্মদ (না)-এর নিকট গিয়েছিল৩ ৷ র
ভিন্ন চেহারা নিয়ে সে ফিরে এসেছে ৷ তাদের নিকট এসে বসার পর তারা বলল, আবুল
ওয়ালীদ৷ কী সংবাদ এসেছেন ? সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি এমন এক বাণী শুনেছি যা
ইতোপুর্বে কখনো শুনিনি ৷ আল্লাহর কসম , সেটি কবিতাও নয়, গণকের মন্ত্রও নয় ৷ হে কুরায়শী
সম্প্রদায়! তোমরা তার আনুগত্য কর এবং আমাকে তার আনুগত্য করার সুযোগ দাও ৷ ওই
লোক যা করতে চায় তাকে তা করতে দাও ৷ আল্লাহর কসম, আমি তার যে বক্তব্য শুনেছিত
একদিন ঘটবেই ৷ আরবের অন্যান্য লোকেরা যদি তাকে ক বু করতে পারে, তবে অন্যের
মাধ্যমে তোমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়ে (গল ৷ আর সে যদি সমগ্র আরব জাতির উপর বিজয়ী হয়,
তবে তার রাজত্ব মুলত তোমাদেরই রাজতৃ এবং তার সম্মান তোমাদেরই সম্মান ৷ তার মাধ্যমে
তোমরা হয়ে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান সম্প্রদায় ৷৩ তারা বলল, হে আবু ওয়ালীদ আল্লাহর কসম
তার বাকচাতুর্য তোমাকে জাদুগ্রস্ত করেছে ৷ সে বলল, তোমাদের সম্মুখে এটিই আমার
অভিমত ৷ তারপর তোমরা যা ভাল মনে কর, করতে পার ৷

এরপর ইসহাক সুত্রে ইউনুস আবু৩ তালিবের কতক কবিতা উদ্ধৃত করেছেন ৷ সেগুলােতে
তিনি উতবার প্ৰশ০ যা করেছেন ৷

বায়হাকী (র) বলেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইস্পাহানী ইবন উমর
(রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) উতবা ইবন রাবীআর নিকট ন্
ব্লুটু ৷ পাঠ করার পর সে তার সাথীদের নিকট উপ ত হয় ৷ সে
তাদেরকে বলে, হে আমার সম্প্রদায় এ বিষয়ে আজকের মত তোমরা আমার কথা মেনে নাও ৷
এরপর না হয় আমার অবাধ্য হবে ৷ আল্লাহর কসম, ওর নিকট থেকে আমি এমন বাণী শুনেছি
যা আমার কান দু’টি কোন দিন শুনেনি ৷ আমি তার কী উত্তর দিব, তা ও আমি বুঝে উঠতে
পারিনি ৷ এ সনদে এটি খুবই অপরিচিত বর্ণনা ৷
এরপর বায়হাকী (র) হাকিম যুহরী সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, আমার
নিকট এ মর্মে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আবু জাহল, আবু সুফিয়ান এবং আখনাস ইবন শুরায়ক
প্রমুখ এক রাতে রাসুলুল্লাহ (না)-এর কুরআন পাঠ শোনার জন্যে বের হয় ৷ তিনি তখন নিজ
গৃহে নামায আদায় করছিলেন ৷ তারা প্রত্যেকেই গোপনে এক একটি স্থানে বসে পড়ে ৷ তাদের

একে অন্যের আগমন সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল না ৷ সারারাত তারা কুরআন তিলাওয়াত গােনে ৷
ভোরে তারা আপন আপন গৃহ অভিমুখে যাত্রা করে ৷ পথিমধ্যে তাদের দেখা হয়ে যায় ৷ তখন
তারা এ কাজের জন্যে একে অন্যকে ভর্ধসনা করে এবং একে অন্যকে বলে, খবরদার, আর
কখনো এখানে আসবে না ৷

তোমাদের কোন মুর্থজন যদি দেখে, তবে তার মনে নিশ্চয়ই সন্দেহ সৃষ্টি হবে ৷ এরপর
তারা নিজ নিজ গম্ভব্যপথে চলে যায় ৷ দ্বিতীয় রাতেও তাদের প্রত্যেকে গোপনে এসে নিজ নিজ
স্থানে বলে এবং কুরআন তিলাওয়াত শুনে রাত কাটিয়ে দেয় ৷ প্রত্যুষে প্রত্যেকে নিজ নিজ পথে
ফিরে যেতে থাকে ৷ কেউ পথিমধ্যে আবার পরস্পরে সাক্ষাত হয়ে যায় ৷

পুনরায় না আসার জন্যে গতরাতে একে অন্যকে যে ভাবে বুঝিয়েছিল এ রাতেও
একে অন্যকে যে ভাবে বুঝাল ৷ তারপর তারা যে স্থান ত্যাগ করল ৷ কিন্তু তৃতীয় রাতেও
তাদের প্রত্যেকে গোপনে নিজ নিজ স্থানে এসে বসে পড়ে এবং তিলাওয়াত শুনে রাত কাটিয়ে
দেয় ৷ প্রভ্যুষে প্রত্যেকে স্ব-স্ব গৃহ অভিমুখে যাত্রা করে ৷ কিন্তু পথে আবার তাদের দেখা হয়ে
যায় ৷ এবার তারা বলে, “না, আর চলতে দেয়া যায় না ৷ আসুন, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ
হই যে, আমরা আর এখানে আসর না ৷ ’ এরপর তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় এবং নিজ নিজ পথে চলে
যায় ৷

প্রত্যুষে আখনাস ইবন শুরায়ক লাঠি হাতে ঘর থেকে বের হয় এবং আবু সুফিয়ানের বাড়ি
এসে তার সাথে দেখা করে ৷ সে বলে, “হে আবু হানযালা ৷ (আবু সুফিয়ানের উপনাম)
মুহাম্মদের মুখ থেকে আপনি যা শুনেছেন সে সম্পর্কে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন তো হ্ আবু
সুফিয়ান বলল, হে আবু ছা’লাবা ! আল্লাহ্র কসম, আমি এমন কিছু শুনেছি যা আমি ভালভাবে
জ্ঞাত আছি এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তাও আমি জানি ৷ তখন আখনাস বলল,
আপনি যার কসম করেছেন আমিও তার কসম করে বলছি, আমার অভিমতও তাই ৷

এরপর সে ওখান থেকে বের হয়ে আবুজাহ্লের বাড়ি যায় এবং বলে, হে আবুল হাকামা
মুহাম্মাদ থেকে আপনি যা শুনেছেন সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী ? সে বলল, আমি যা
শুনেছি, তা হল আমরা এবং আবৃদ মানাফ গোত্র মর্যাদা ও সম্মান অর্জনে প্রতিযোগিতারত ৷
তারা লোকজনকে আপ্যায়ন করেছে আমরাও তা করেছি ৷ তারা লোকজনকে সওয়ার হবার
জন্যে বাহন দিয়েছে আমরাও বাহন দিয়েছি ৷ তারা দান-দক্ষিণা করেছে আমরাও দান-দক্ষিণা
করেছি ৷ অবশেষে আমরা যখন সওয়ারীতে আরোহণ করে অসাধারণ দ্রুতগতিতে অগ্রসর
হচ্ছিলাম আর আমরা ছিলাম প্রতিযোগিতায় রত দুটো অশ্ব, তখন তারা বলে উঠল, আমাদের
মধ্যে একজন নবী আছেন, আসমান থেকে যার নিকট ওহী আসে ৷ হায় আমরা ওই মর্যাদা
কোথায় পাব ? আল্পাহ্র কলম, আমি ওই বাণী আর কোন দিন শুনবও না আর সেটি সত্য
বলেও মেনে দেব না ৷ এরপর আখনাস ইবন শুরায়ক সেখান থেকে চলে যায় ৷

এরপর বায়হাকী (র) বলেন, আবু আবদুল্লাহ্ আল-হাকিম মুগীরাইবন শুবা (বা)
সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি প্রথম যেদিন রাসুলুল্লাহ্ (সা ) কে চিনতে পাই, সেদিনের

ঘটনা এই : আমি এবং আবু জাহ্ল মক্কার এবচু পলি দিয়ে হেটে যাচ্ছিলড়াম ৷ হঠাৎ রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর সাথে আমাদের দেখা হয়ে যায় ৷ আবু জাহ্লকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, হে
আবুল হাকাম! আপনি আল্লাহর প্রতি এবং তীর রাসুলের প্রতি এগিয়ে আসুন, আমি আপনাকে
আল্লাহ্র প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি ৷ আবু জাহ্ল বলল, হে মুহাম্মাদ, আমাদের উপাস্যগুলাের
সমালোচনা ও ওগুলােকে গালমন্দ করা থেকে তুমি কি বিরত থাকবে ? তুমি কি এটাই চাও যে,
আমি এই সাক্ষ্য দিই যে, তুমি তোমার রিসালাংতর দায়িত্ব ণ্:পীছে দিয়েছ ? আমরা কি কখনো
তোমার দায়িত্ব পালনের সাক্ষ্য দিব ?

আল্লাহর কলম, আমি যদি জানতাম যে, তুমি যা বলছ তা সত্য, তবে আমি নিশ্চয়ই
তোমার অনুসরণ করতড়াম ৷ এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আপন পথে চলে গেলেন ৷ আর আবু
জাহ্ল আমার দিকে ফিরে বলল, আল্লাহর কলম, আমি নি ত জানি যে, সে যা বলছে তা
সত্য ৷ তবে কিছু ব্যাপার আছে যেগুলো আমাকে তার অনুসরণে বাধা দিচ্ছে ৷ গৌরব ও মর্যাদা
বর্ণনার প্রতিযোগিতায় কুসাইর বংশধরগণ বলল, আমাদের আছে কাবাগৃহ তত্ত্বড়াবধানের
দায়িত্ব, তখন আমরা বললাম, হী৷ , ঠিক আছে ৷ তারা বলুল , আমাদের আছে হড়াজীদেরকে পানি
পান করানোর মর্যাদাপুর্ণ দায়িত্ব ৷ আমরা বললাম, হী৷ তাও ঠিক আছে ৷ তারা বলল, আমাদের
আছে পরামর্শ সভার দায়িত্ব ৷ আমরা বললাম, হী৷ তাও ঠিক আছে ৷ তারা বলল, আমাদের
পতাকা বহনের দায়িত্ব আছে, আমরা বললাম, ছুব্রুা, তাও আছে বৈ কি৷ এরপর তারা
লোকজনকে আখ্যায়িত করে এবং আমরা লোকজনকে আখ্যায়িত করি ৷

অবশেষে প্রতিযোগী দুই সওয়াবী যখন সমান সমান হয়ে গেল, তখন তারা, বলল,
আমাদের মধ্যে একজন নবী আছেন ৷” সুতরাং আল্লাহর কলম, আমি কখনো তার অনুসরণ
করব না ৷

বায়হাকী (র) বলেন, আবু আবদুল্লাহ হাকিম আবু ইসহাক সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, আবু জাহ্ল ও আবু সুফিয়ান এক জায়গায় বসা ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না) তাদের পাশ
দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন ৷ আবু জাহ্ল বলল, এটি তোমাদের নবী, হে আব্দ শামসৃ গোত্র! আবু
সুফিয়ান বলল, আমাদের পােত্রে নবী আবির্ভুত হবে এতে কি তুমি অবাক হচ্ছে৷ ? তাহলে কি
যারা আমাদের চেয়ে সংখ্যায় কম এবং মর্যাদায় নীচ , তাদের মধ্য থেকে নবী হবে ? আবু জাহ্ল
বলল, আমার অবাক সাথে এ জন্যে যে, প্রবীণ লোকদেরকে বাদ দিয়ে অল্পবয়স্ক বালক কেমন
করে নবী হয় ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের কথাবার্তা শুনছিলেন ৷ তিনি তাদের নিকট এসে
বললেন, হে আবু সুফিয়ান৷ আপনি তো আল্লাহ্ এবং তার রাসুলের জন্যে ক্রুদ্ধ হননি আপনি
বরং ক্রুদ্ধ হয়েছেন নিজের বংশ মর্যাদার জন্যে ৷ আর হে আবুল হাকাম ! আল্লাহর কলম, আপনি
অবশ্যই প্রচুর র্কাদবেন এবং কম হাসবেন ৷ তখন আবু জাহ্ল বলল, তাতিজা! তোমার
নবুওয়াতী দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি আমাকে কত মন্দ সতর্কবাণীই না শুনালে৷ এ সুত্রে হড়াদীছটি
-মুরসাল ঘটে এবং এটির মধ্যে কোন এক স্থানে বর্ণনাকারীর সংখ্যা মাত্র একজনে নেমে
এসেছে

আবু জা হলের উপরোক্ত বক্তব্য উল্লেখ করে৩ তার নিজের ও তার সঙ্গীদের অবস্থান সম্পর্কে
অ আল্লাহ তা আলা বলেন০ :

ওরা যখন আপনাকে দেখে, তখন ওরা আপনাকে কেবল ঠাট্টাংচ্ৰদ্র্যপের পাত্ররুপে গণ্য করে
এবং বলে, এই কি সে, যাকে আল্লাহ্ রাসুলরুপে পাঠিয়েছেনঃ সে তো আমাদেরকে আমাদের

দেবতাগণ থেকে দুরে সরিয়ে দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগকৃত্যদৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতামা
যখন ওরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন ওরা জানবে কে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট (২৫ : ৪ ১ ৪ ২)

ইমাম আহমদ (র) বলেন, হুশায়ম হযরত ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বণনা করেন ৷
তিনি বলেন সালাতোর উচ্চ করবেন না এবং
অতিশয় ক্ষীণও করবেন না এ দৃয়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন (১ ৭০ ং ১১০) আয়াতটি যখন
নাযিল হয় ৷ তখন র ৷সুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় আত্মগােপন করে থাকতেন ৷ এ প্রসংগে হযরত ইবন
আব্বাস (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে নামায পডতেন, তখন
উইচ্চওারে কুরআন পাঠ করতে ন ৷ মুশরিকগণ কুরআনের শব্দ শুনে কুরআনকে, যিনি কুরআন

নাযিল করেছেন তাকে এবং যিনি কুরআন এনেছেন৩ তাকে গালমন্দ করত ৷ এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্

তা আলা তার নবী মুহাম্মাদ (না)-কে উদ্দেশ্য করে বললেনং : অর্থাৎ
উভৈচ্চ৪ারে কুরআন পাঠ করবেন না ৷ উভৈচ্চ৪ারে কুরআন পাঠ করলে মুশরিকগণ ৷তা শুনে
কুরআ নকে পালমন্দ করবে ৷ অর্থাৎ আপনার সাহাবীগণ ৷শুনতে না পান এমন ক্ষীণ
ারেও পাঠ করবেন না ৷ ক্ষীণ ৷ারে পাঠ করলে তারা আপনার নিকট থেকে তা গ্রহণ করতে
পারবেন না ৷

ইমাম বুখারী ও মুসলিম এ হাদীছ আবু বিশর জাফর ইবন আবী হাইয়৷ থেকে উক্ত সনদে
বর্ণনা করেছেন ৷

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন, দাউদ ইবন হুসড়ায়ন ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নামায পড়ার সময় যখন উভৈচ্চ৪াবে কুরআন৩ তিলাওয়াত
করতেন, তখন মুশরিকরা সেখান থেকে দুরে সরে যেত এবং তার কণ্ঠে তা শুনতে অনীহা
প্রকাশ করতে৷ ৷ কোন লোক যদিােচ্ছায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নামায আদায়কালীন কুরআন
তিলাওয়াত শুনতে চাইত, তবে৩ তাদের থেকে পৃথক হয়ে একাকী সংগােপনে সে৩ তা শুনত ৷ যদি
সে দেখত যে, তার কুরআন শ্রবণ ৷সম্পর্কে ওরা জেনে ফেলেছে, তার ওদের নির্যাতনের ভয়ে
সে ওখান থেকে চলে যেত, তার আর শোনা হত না ৷

অন্যদিকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) যদি নিম্নস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তাহলে যারা
মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত শুনতে চাইতেন, তারা তা শুনতে পেতেন না ৷ এই প্রেক্ষিতে
পাঠ করবেন না যায় ফলে ওরা সবইি আপনার নিকট থেকে দুরে সরে যায় ৷ ৷ঠু ;ষ্১!ট্রু
এবং অতিশয় ক্ষীণস্বরেও পাঠ করবেন না ৷ তা হলে তো গোপনে শ্ররণকারীরা তা শুনছুত পাবে
না ৷ এমনও হতে পারে যে, সে যা শুনবে তাতে তার অম্ভরে থােদাভীতি সৃষ্টি হবে এবং সে
উপকৃত হবে ৷ ররং এ দুয়ের মধ্যপস্থা অবলম্বন করুন!

পরিছেদ : সাহাবায়ে কিরাম (রা)-এর আবিসিনিয়ায় হিজৱত

মুসলমানদের মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন , তাদের প্রতি মুশরিকদের
অত্যাচার-নির্যাতন, নির্দয় প্রহার এবং অপমান, লাঞ্চুনার কথা ইভােপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷
আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবী (সা) থেকে ওদেরকে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং চাচা আবু তালিবের
মাধ্যমে তাকে কাফিরদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ৷ এ বিষয়ে ইতোপুর্বে উল্লেখ করা
হয়েছে ৷ সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহ্র জন্যে ৷

ঐতিহাসিক ওয়াকিদী বলেন, তারা নবুওয়াতের পঞ্চম বছর রজব মাসে আবিসিনিয়ায়
উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ৷ সর্বপ্রথম ১ ১জন পুরুষ এবং : জন মহিলা সেখানে হিজৱত করেন ৷
পদব্রজে এবং সওয়ারীতে আরোহণ করে তারা সাগর তীরে গিয়ে পৌছেন ৷ এরপর অ র্ধ
দীনারের বিনিময়ে আবিসিনিয়া পর্যন্ত একটি নৌকা ভাড়া করেন ৷ তারা হলেন উছমান ইবন
আফ্ফান, তার সহধর্মিণী রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কন্যা রুকাইয়া , আবু হুযায়ফা ইবন উতবা , তার
শ্রী সাহ্লা বিনত সুহায়ল, যুবায়র ইবন আওঅ্যাম , মুসআব ইবন উমায়র , আবদুর রহমান ইবন
আওফ , আবু সালামা ইবন আবদুল আসাদ, তার শ্রী উন্মু সালামা বিনত আবু উমাইয়া, উছমান
ইবন মাযউন, আমির ইবন রাবীআ আল-আনাসী, তার শ্রী লায়লা বিনত আবু হাছামড়াহ্, আবু
সাবুরা ইবন আবু রুহাম মতান্তরে আবু হাতির ইবন আমর, সুহায়ল ইবন বায়দা, আবদুল্লাহ
ইবন মাসউদ বাযিয়াল্লাহু আনহুম কৃআজমাঈন ৷

ইবন জারীর (র) প্রমুখ বলেন, মহিলা ও শিশু ব্যতীত শুধু পুরুষ ছিলেন ৮২ জন ৷ আমার
ইবন ইয়াসির (বা) তাদের সাথে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে ৷ তিনি যদি
তাদের সাথে থাকেন, তবে তাদের সংখ্যা হবে ৮৩ ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) তার সড়াহাবীদের উপর আপতিত
মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতন দেখলেন এবং এও দেখলেন যে, আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে
এবং আবু তালিবের মাধ্যমে তাকে ওদের জুলুম থেকে রক্ষা করছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কিভু
নিজে তার সাহাবীদেরকে বিপদাপদ ও জুলুম-নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারছেন না ৷ তখন
তিনি সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা যদি আবিসিনিয়া চলে যেতে, তাহলে ভাল
হত ৷ কারণ, সেখানে একজন রাজা আছেন যিনি কারো প্রতি জুলুম করেন না ৷ এবং সেটি
একটি ভাল রাজ্য ৷ ওখানে গেলে আল্লাহ তাআলা তােমাদেরকে এই জুলুম-নির্যাতন থেকে
মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন ৷ এ প্রেক্ষিতে জুলুম-অত্যাচার থেকে মুক্তি এবং দীন-ধর্ম রক্ষার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest