রাসূলুল্লাহ (না)-এর যৌবন প্রাপ্তি ও আল্লাহর আশ্রয়

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর যৌবন প্রাপ্তি ও আল্লাহর আশ্রয়

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যৌবনে পদার্পণ করলেন ৷ আল্লাহ তাআলা
তীর নিরাপত্তা দান করেন এবং জাহিলিয়াতের পংকিলতা থেকে র্তাকে রক্ষা করেন ৷ এভাবে
যখন তিনি ৰয়ঃপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি ব্যক্তিত্বে সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ, চরিত্রে সর্বাপেক্ষা সুন্দর
বংশ মর্যাদার সবচাইতে কুলীন, প্রতিবেশী হিসেবে সর্বোত্তম, সহনশীলতায় সর্বশ্রেষ্ঠ,
কথা-বার্তায় সর্বাধিক সত্যবাদী, বিশ্বস্ততায় সকলের সেরা এবং অশ্লীলত৷ ও মন্দ স্বভাব থেকে
সর্বাধিক পবিত্র ও মুক্ত ৷ সমাজের মানুষ এখন র্তাকে একমাত্র আল-আমীন’ বা বিশ্বাসভাজন
বলে সম্বোধন করে ৷

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, মহড়ানবী (সা) কে আল্লাহ তা আলা যে শৈশবে রক্ষণাবেক্ষণ
করেন এবং জাহিলিয়াতের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখেন, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন :
একদিন আমি কুরায়শ-এর কয়েকটি কিশোরের সঙ্গে অবস্থান করছিলাম ৷ খেলার ছলে আমরা
পাথর কুড়িয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিচ্ছিলাম ৷ আমরা প্রত্যেকে পরনের লুঙ্গি খুলে
তা’ ঘাড়ে রেখে এর ওপর পাথর বহন করছিলাম ৷ আমি ওদের সঙ্গে একবার সামনে যাচ্ছিলড়াম
আবার কখনো পেছনে পড়ছিলাম ৷ এমন সময় অদৃশ্য থেকে কে একজন আমাকে প্রচণ্ড একটি
ঘুষি মারলো এবং আমাকে বললো, লুঙ্গিটা পরে নাও ৷ সঙ্গে সঙ্গে আমি লুঙ্গিটি র্কাধ থেকে নিয়ে
পরে নিলাম ৷ তারপর পুনরায় খালি কাধে পাথর বহন করতে শুরু করলাম ৷ তখন আমার
সাথীদের মধ্যে একমাত্র আমিই ছিলাম লুঙ্গি পরিহিত ৷

এই ঘটনাটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত কাবা নির্মাণের সময়কার ঘটনার অনুরুপ ৷ সে সময়ে
তিনি এবং তার চাচা আব্বাস পাথর বহন করছিলেন ৷ ঘটনাটি যদি সে ঘটনা না হয়ে থাকে
তবে এটা ছিল তার পুর্বাভাস স্বরুপ ৷ আল্পাহই ভালো জানেন ৷

আব্দুর রাঘৃযাক বর্ণনা করেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বলেছেন, কাবা
নির্মাণের সময় রাসুলুল্পাহ (সা) পাথর বহ্নের কাজে যোগ দেন ৷ দেখে আব্বাস বললেন, লুঙ্গি
র্কাধে রেখে পাথর বহন কর ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তা-ই করলেন ৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে
পড়েন এবং তীর চক্ষুদ্বয় আকাশের দিকে নিবদ্ধ হয় ৷ কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে দাড়িয়ে বললেন ,
আমার লুঙ্গি ! তখন আব্বাস তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দেন ৷ এটি বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা ৷

বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, কুরায়শ যখন
বায়তৃল্লাহ নির্মাণ করে, তখন আব্বাস বায়তুল্লাহ্র দিকে পাথর বয়ে নিয়ে আসছিলেন ৷ ইবনে
আব্বাস বলেন, কুরায়শরা দু’জন দু’জন করে লোককে জুড়ি বেধে দেয় ৷ পুরুষরা পাথর

স্থানান্তর করতো আর মহিলারা মশলা বহন করতো ৷ আব্বাস বলেন, আমি এবং আমার
ভাতিজাও সেই কাজে শরীক ল্ডিংাম ৷ আমরা লুঙ্গি কাধে রেখে তার উপরে করে পাথর বহন
করতড়াম ৷ কোন লোক আসতে দেখলে লুঙ্গিট৷ পরে নিতাম ৷ এক পর্যায়ে আমি হ টছি আর
মুহাম্মদ আমার সম্মুখে ৷ হঠাৎ তিনি উপুড় হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ৷ আমি আমার
পাখরগুলো ফেলে দৌড়ে আসলাম ৷ দেখতে পেলাম, মুহাম্মদ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন ৷
আমি জিজ্ঞেস করলাম, তে তামার কী হয়েছে ? তিনি উঠে দাডালেন এবং লুঙ্গিটা হাতে নিয়ে
বললেন, আমাকে উলং গ চলতে নিষেধ করা হয়েছে ৷ ” আব্বাস বলেন, মানুষ র্তাকে পাগল
বলবে, এই ভয়ে আমি ঘটনড়াট৷ গোপন করে রাখতাম ৷

বায়হাকী বর্ণনা করেন যে, হযরত আলী (রা) বলেন, আমিএরাসুলুল্লড়াহ্ (না)-কে বলতে
শুনেছি, “জাহিলী যুগের মানুষ যে সব রীতি নীতি পালন করত আমার মনে কখনো তার
কো ৷নটি পালন করার ইচ্ছা জাগ্রত হয়নি ৷ তবে ইে রাতে তে মন কিছু করতে ণ্১চোয়ছিলাম; কিন্তু
আল্লাহ উভয় ঘটনায় আমাকে রক্ষা করেছেন ৷ এক রাতে আমি ছাগলের পালের সঙ্গে ছিলাম ৷
আমি আমার সঙ্গী যুবককে বললাম, তুমি আমার ছাগলগুলো দেখ, মক্কায় প্রবেশ করে আমি
অন্য যুবকদের মত গল্প-গুজবে অংশ্যাহং৷ করে আমি ৷ সঙ্গীটি বলল, ঠিক আছে, যাও ৷ নবীজি
(না) বলেন, আমি মক্কা প্রবেশ করে প্রথম বাড়িতে পৌছেই বাজনার শব্দ শুনতে পেলাম ৷
জিজ্ঞেস করলাম, এসব কী হচ্ছে ? লোকেরা বলল, অমুক অমুককে বিয়ে করেছে ৷ আমি বসে
দেখতে শুরু করলাম ৷ আল্লাহ আমাকে ল্ডিংায় অচেতন করে দিলেন ৷ আল্লাহর কসম রৌদ্রের
স্পর্শ ছাড়া অন্য কিছু আমাকে সজাপ করতে পারেনি ৷ জাগ্রত হয়ে আমি সঙ্গীর কাছে ফিরে
এলাম ৷ সঙ্গীটি জিজ্ঞেস করলো, কী করেছে৷ ? আমি বললাম, কিছুই করিনি ৷ তারপর তাকে
ঘটনার ইতিবৃত্ত শোনা লাম ৷

এরপর আরেক রাতে আমি সঙ্গীকে বললাম, তুমি আমার ছাগলগুলো দেখ, আমি একটু
গল্প করে আমি ৷ সঙ্গী তাতে সম্মত হলে আমি মক্কা প্রবেশ করে আগের রাতের ন্যায় এ রাতেও
অনুরুপ বাজনার আওয়াজ শুনতে পেলাম ৷ জিজ্ঞেস করলে বলা হলো যে, অমুক অমুককে বিয়ে
করেছে ৷ আমি বসে দেখতে শুরু করলাম ৷ কিন্তু আল্লাহ আমাকে গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন করে
দিলেন ৷ আল্লাহ্র কসম ! রােদ্রের স্পর্শ ছাড়া অন্য কিছু আমাকে জাগ্রত করতে পারেনি ৷ জাগ্রত
হয়ে আমি সঙ্গীর নিকট ফিরে গেলাম ৷ সঙ্গী বলল,কী করেছে৷ ? আমি বললড়াম , কিছুই নয় ৷
তারপর আমি তাকে ঘটনার ইতিবৃত্ত শোনালাম ৷ আল্লাহ্র কসম , এরপর আর কখনো আমি এ
ধরনের কাজের ইচ্ছে করিনি ৷ শেষে পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে নবুয়তের মর্যাদায় ভুষিত করেন ৷
হাদীসটি অভ্যস্ত গরীব পর্যায়ের ৷

হাফিজ বায়হাকী বর্ণনা করেন যে, হযরত যায়েদ ইবনে হারিছা (রা) বলেছেন, তামার
তৈরি একটি দেব মুর্তি ছিল ৷ নাম ছিল তার আসাফ ও নড়ায়েলা ৷ বড়ায়ভুল্লাহ্ তাওয়াফ করার
সময় মুশরিকরা তাকে স্পর্শ করত ৷ একদিন রাসুলুল্লাহ্ (না) বায়তৃল্লাহ্ তাওয়াফ করেন ৷
আমিও তার সঙ্গে তাওয়াফ করি ৷ উক্ত দেব মুর্তিটি অতিক্রমকালে আমি তাকে স্পর্শ করি ৷
দেখে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, “ওটা স্পর্শ করে৷ না ৷” যায়েদ ইবনে হারিছা বলেন ,তাওয়াফের

মধ্যেই আমি মনে মনে বলি, আবারও আমি মুর্তিটি স্পর্শ করব; দেখি কী হয় ৷ আমি পুনরায়
ওটা স্পর্শ করলে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, “তোমাকে নিষেধ করা হয়েছিল না ?” বায়হাকী
বলেন, অপর এক সুত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যায়েদ বলেছেন, যে সত্তা তাকে সম্মানিত করেছেন
এবং তীর ওপর কিতাব অবতারণ করেছেন, আমি তার শপথ করে বলছি, তিনি কখনো কোন
মুর্তি স্পর্শ করেননি ৷ এ অবস্থ্যয়ই মহান আল্লাহ তাকে তার মর্যাদার অভিষিক্ত করেন এবং তার
ওপর কিতাব নাযিল করেন ৷

তা ছাড়া উপরে বর্ণিত হয়েছে যে, বাহীরা যখন রাসুলুল্লাহ (সা)- কে লাভ ও উবৃযার নামে
শপথ করে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, “এদের দোহাই দিয়ে আমাকে কিছু
জিজ্ঞেস করবেন না ৷ আল্লাহর শপথ ! আমার নিকট এদের চাইতে ঘৃণার পাত্র দ্বিতীয়টি আর
৫নই

হাফিজ আবু বকর বায়হাকী অপর এক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত জাবির ইবনে
আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) মুশরিকদের সঙ্গে তাদের আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন ৷
একদিন তিনি শুনতে পেলেন যে, তার পিছনে দুই ফোরশতা ৷ তাদের একজন অপরজনকে
বলছেন, চল, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর পিছনে গিয়ে দীড়াই ৷ সঙ্গীটি বললেন, আমরা তার
পিছনে দীড়াই কী করে; তিনি যে মুর্তি চুম্বনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন ৷ রাবী জাবির বলেন, এরপর
কখনো নবীজী (সা) মুশরিকদের সঙ্গে তাদের আচার অনুষ্ঠানে যোগ দেননি ৷

বলা বাহুল্য যে, আলোচ্য হাদীসটি ৰিতবিতি ৷ উক্ত হাদীসের একজন রাবী উসমান ইবনে
আবু শায়বার ব্যাপারে একাধিক ইমাম আপত্তি উত্থাপন করেছেন ৷ এমনকি ইমাম আহমদ
বলেছেন, তীর ভইি এ হাদীসের একটি বর্ণও উচ্চারণ করতেন না ৷

ইমাম বায়হাকী কারো কারো থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এ হাদীসের মর্য হলো যারা দেব
মুর্তি চুম্বন করত, নবী করীম (না) তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ৷ আর এ ঘটনাটি
নবী করীম (না)-এর প্রতি ওহী অবতরণের পুর্বের ৷ আল্লাহই ভালো জানেন ৷ যায়েদ ইবনে
হারিছার হাদীসে তো বলা হয়েছে যে, নবুওতের মর্যাদার ভুষিত হওয়ার আগে কখনো নবীজী
(সা) মুশরিকহুদর আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দেননি ৷ এক হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্পাহ (না)
আরাফার রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করতেন না ৷ বরং লোকদের সঙ্গে আরাফাতেই অবস্থান
করতেন ৷ যেমন ইউনুস ইবনে বুকায়র বর্ণিত এক হাদীসে আছে, হযরত জুবায়র ইবনে মুতইম
(বা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা)-কে তার সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্য থেকে কেবল তাকেই
আরাফাতে উটের ওপর অবস্থানরত দেখেছি ৷ তিনি তখনো নিজ সম্প্রদায়ের দীনের অনুসারী
ছিলেন ৷ আল্লাহ র্তাকে তাওফীক দিয়েছিলেন বলেই এমনটি হয়েছে ৷

বায়হাকী বলেন, নিজ সম্প্রদায়ের দীন কথাটার অর্থ হলো ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আ ) এর
দীনের অবশিষ্টাৎশ ৷ অন্যথায় নবী কবীম (সা) জীবনে কখনো শিরক করেননি ৷

আমার মতে উপরের বর্ণনায় একথাও বোঝা যায় যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার প্রতি ওহী
অবতারণের পুর্বেও আরাফার অবস্থান করতেন ৷ আল্লাহ তাওফীক দিয়েছিলেন বলেই এমনটি

সম্ভব হয়েছে ৷ ইমাম আহমদ ও ইয়াকুব মহাম্মদ ইবনে ইসহাক সুত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা
করেছেন ৷ তার ভাষা হম্বো : আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে তার প্ৰতি ওহী অবতারণের পুর্বে
লোকদের সঙ্গে আরাফায় উটের পিঠে অবস্থানরত দেখেছি ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের সাথেই
ফিরতেন ৷ আল্লাহ র্তাকে এর তওফীক দিয়েছিলেন ৷

হযরত জুবায়র ইবনে মুতইম সুত্রে ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন,
একদিন আরাফায় আমার উট হারিয়ে ফেলি ৷ আমি তার খোজে বের হলাম ৷ হঠাৎ দেখি, নবী
করীম (সা) দাড়িয়ে আছেন ৷ মনে মনে বললাম, ইনি তো হুমস১ গোত্রের মানুষ ৷ এখানে কেন
ইনি ?

ফিজার যুদ্ধে ৰাসুলুল্লাহ (সা) এর উপস্থিতি

ইবনে ইসহড়াক বলেন, ফিজার যুদ্ধ যখন পুরোদমে চলছে, ন্ন্থড়াসৃলুল্লাহ (না) তখন কুড়ি
বছরের যুবক ৷ উল্লেখ্য যে, কিনানা এবং আয়লানের কায়স পরস্পর রক্ত সম্পর্কীয় এই দু’টি
গোত্র নিষিদ্ধ সময়ে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে এ যুদ্ধকে ফিজার যুদ্ধ বা সীমালংঘন যুদ্ধ
বলা হয় ৷ এ যুদ্ধে কুরায়শ ও কিনানার নেতৃত্বে ছিলেন হাবব ইবনে উমাইয়৷ ইবনে আবদে
শামস ৷ দিনের প্রথম ভাগে কায়স গোত্র কিনানার ওপর জয়লাভ করেছিল ৷ দিনের মাঝামাঝিতে
এসে বিজয় কিনানা গোত্রের হাতে চলে আসে ৷

ইবনে হিশাম বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) যখন চৌদ্দ কিংবা পনের বছর বয়সে উপনীত হন,
তখন সহযোগী কিনানাসহ কুরায়শ এবং আয়লানের কায়স-এর মধ্যে ফিজার যুদ্ধ শুরু হয় ৷

ঘটনার পটভুমি নিম্নরুপ : উরওয়া আর রিহাল (ইবন উতবা ইবন জাফর ইবন কিলাব ইবন
রবীয়া ইবন আমির ছাছাআ ইবন মুআবিয়া ইবন বকর ইবন হাওয়াযিন) নু’মান ইবনে
মুনযিরকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয় ৷ এ খবর শুনে বনু যামুরা (ইবন বকর ইবন আবদে
মানাত ইবন কিনানা) গোত্রের বারাষ ইবনে কায়স বলে , কিনানার স্বার্থ নষ্ট করে তুমি নুমানকে
ব্যবসা করার অনুমতি দিলে ? উরওয়া আর রিহাল বলল, ছুব্রুড়া, দিয়েছি সকলের স্বার্থে ব্যাঘাত
ঘটলেও ৷ এ কথার পর উরওয়া আর রিহাল চলে যায় ৷ বারাযও প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষেব্ল
স্যুযাগের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে ৷ মক্কার উচু অঞ্চলের যী-তিলাল নামক স্থানের দক্ষিণে পৌছে
উরওয়া অসতর্ক হয়ে পড়ে ৷ সুযোগ বুঝে বারাষ তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তাকে হত্যা
করে ফেলে ৷ ঘটনাটি ঘটে নিষিদ্ধ মাসে ৷ এ কারণে তা ফিজার নামে আখ্যায়িত হয় ৷ এ
ব্যাপারে গর্ব প্রকাশ করে বারাষ কবিতার কয়েকটি পংক্তিও আওড়ায় ৷ উরওয়ার এ হত্যাকাণ্ড
প্রসঙ্গে লবীদ ইবন রবীয়াও কয়েকটি পংক্তি রচনা করেন ৷

ইবনে হিশাম বলেন, এরপর জনৈক ব্যক্তি কুরায়শের নিকট এসে সংবাদ দিল যে, বারাষ
উরওয়াকে খুন করে ফেলেছে ৷ তা-ও আবার নিষিদ্ধ মাসে, উকায মেলার স্থানে ৷ অতএব
তোমরা হাওয়াযিন গোত্র যাতে টের না পায় সেভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাও ৷ কিভু এর

১ হুমস বলতে কুরায়শ ণেত্রে বোঝানো হতো হুমস মানে দুঢতা তারা র্দীনের ব্যাপারে অনঢ়-অবিচল থাকভৈতা বলে
তাদেরকে হুমস বলা হতে

মধ্যে হড়াওয়াযিন ঘটনাটি জেনে ফেলে ৷ তারা কুরায়শদের ধাওয়া করে ৷ কুরায়শরা হারামে
প্রবেশ করার পুর্বেই হাওয়াযিনরা তাদেরকে নাগালে পেয়ে যায় ৷ তখন সংঘর্ষ শুরু হয় ৷ সারা
দিন যুদ্ধশেষে রাতের বেলা কুরায়শরা হারামে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় ৷ ফলে হাওয়াযিনরা
নিবৃত্ত হয় ৷ পরদিন আবার সংঘর্ষ শুরু হয় ৷ এ সংঘর্ষ কয়েকদিন অব্যাহত থাকে ৷ প্রত্যেক
সম্প্রদায়ের লোক তাদের নেতাদের ওপর পুর্ণ নির্ভর করে ৷

কুরায়শ ও কিনানার সব কটি গোত্রের নেতৃত্ব একজনের হাতে ছিল ৷ আর কায়স-এর
সবগুলো ণ্গাত্রের নেতৃত্ব অপর একজনের হাতে ছিল ৷ বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এক
দিন এ যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ তার চড়াচারা তাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ৷ এ প্রসঙ্গে
রাসুলুল্লাহ (সা) নিজে বলেছেনং

আমি শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর কুড়িয়ে চাচাদের হাতে তুলে দিতামা

ইবনে হিশাম বলেন,ফিজারের যুদ্ধ দীর্ঘকাল পর্যন্ত চলেছিল তা’ আমার উল্লেখিত বর্ণনার
চইিতেও দীর্ঘতর ছিল ৷ সীরাত সম্পর্কিত আলোচনায় অপ্রাসঙ্গিক বলে এখানে তা উল্লেখ করা
হলে৷ না ৷

সুহায়লী বলেন, আরবে ফিজার সংঘটিত হয়েছিল চারটি ৷ মাসউদী এ যুদ্ধগুলাের কথা
উল্লেখ করেছেন ৷ এ যুদ্ধগুলোর সর্ব শেষটি হলো এই ফিজারুল বারায ৷ ফিজারুল বারাযের
যুদ্ধ হয়েছে চার দিন ৷ (তখনকার দিনের নাম অনুসারে) ১ শামতা ২ আবসা ৷ এ দৃ’দিনের
লড়াই হয়েছে উকায-এর নিকট ৷ ৩ আশৃ গুবব ৷ চারদিনের মধ্যে এ দিনের যুদ্ধই বেশি
গুরুত্বপুর্ণ ব্যি ৷ এ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা) উপস্থিত ছিলেন ৷ এ দিনে কুরায়শ ও বনু কিনানার দুই
নেতা হাবৃব ইবন উমাইয়াএবং তার ভাই সুফিয়ান নিজেরা নিজেদেরকে শিকন্সে আটকে রাখে,
যাতে বাহিনীর যােদ্ধারা পালিয়ে না যায় ৷ এই দিনে কায়স গোত্র পালিয়ে যায় ৷ তবে বনু নায্র
নিজেদের অবস্থায় অটল থাকে ৷ : হারীরা ৷ এই দিনের যুদ্ধ হয়েছিল নাখলার নিকট ৷ তারপর
বিবদমান উভয় পক্ষ আগামী বছর উকাযের নিকট যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ৷
নির্দিষ্ট সময়ে তারা অঙ্গীকার পালনে লিপ্ত হলে উতবা ইবনে রবীয়া উটে সওয়ার হয়ে ডাক
দিয়ে বলে, ওহে মুযার সম্প্রদায় ! কোন যুক্তিতে তোমরা লড়াই করছ ? জবাবে হাওয়াযিনরা
বলল, আপনি কী প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, বলুন ৷ উতবা বলল, আমি সন্ধি করতে চাই ৷ তারা
বলল, সন্ধি কি শর্তে হবে বলুন ৷ উতবা ইবনে রবীয়া বলল : আমাদের হাতে তোমাদের যে সব
লোক নিহত হয়েছে আমরা তোমাদেরকে তাদের রক্তপণ পরিশোধ করব ৷ তা আমার না হওয়া
পর্যন্ত আমাদের সম্পদ তোমাদের কাছে বন্ধক রাখব ৷ আর তোমাদের নিকট আমরা যে রক্তপণ
পাওনা আছি, তা মাফ করে দেব ৷ শুনে হাওয়াযিনরা বলল, এই চুক্তির দায়িত্ব কে নেবে ?
উতবা বলল, আমি ৷ হাওয়াযিনরা বলল, আপনি কে ? উতবা বলল , আমি উতবা ইবনে রবীয়া ৷
অবশেষে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী সন্ধি স্থাপিত হয় এবং যুদ্ধবত লোকদের নিকট চল্লিশ ব্যক্তিকে
প্রেরণ করা হয় ৷ হড়াকীম ইবনে হিযাম (রা) তাদের একজন ছিলেন ৷ যখন বনু আমির ইবনে
ছাছা’আ দেখল যে, বন্ধক তাদের হাতে এসে গেছে, তখন তারা তাদের রক্তপণের দাবি ত্যাগ
করে এবং এভাবে ফিজার যুদ্ধের অবসান ঘটে ৷ ঐতিহাসিক উমাবী ফিজার-এর যুদ্ধসমুহ এবং

তার দিন-ক্ষণ সম্পর্কে আছরাম সুত্রে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন ৷ আছরাম হলেন মুগীরা
ইবনে আলী ৷ মুপীরা আবু উবায়দা মা’মার ইবনে মুছান্নড়া থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অধ্যায়

হাফিজ বায়হাকী বর্ণনা করেন যে, জুবায়র ইবনে মুতইম (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)
বলেছেন, “আমি আমার চাচাদের সঙ্গে হিলফুল মুতারািবীনে’উপস্থিত ছিলাম ৷ এখন আমি তা’
ভঙ্গ করা পছন্দ করি না; বিনিময়ে বহমুল্য লাল উট দিলেও নয় ৷”

হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীসে আছে : রাসুলুল্লাহ (যা) বলেছেন, “হিলফুল
মুতামািবীন ছাড়া আমি কুরায়শদের কোন চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম না এখন বিনিময়ে আমাকে
লাল উট দেয়া হলেও আমি তা ভঙ্গ করা পছন্দ করি না ৷” আবু হুরায়রা (রা) বলেন,
মুতড়াব্যিবীন বলতে বোঝানো হয়েছে হাশিম, উমাইয়া, যুহ্রা ও মাখযুমকে ৷ বায়হাকী বলেন,
হাদীসের এই ব্যাখ্যাটি মুদরাজ বা রাৰীর বাড়তি বর্ণনা ৷ এ রাবীহ্ পরিচয়ও অজ্ঞাত ৷ কোন
কোন সীরাত বিশেষজ্ঞদের ধারণা এখানে হিলফুল মুতায়িব্রুবীন বলতে হিলফুল ফুযুল বোঝান
হয়েছে ৷ কেননা রাসুলুল্লাহ (যা) হিলফুল মুতায়িবীন এর সময়কাল পাননি ৷

আমার মতে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই ৷ তার কারণ কুরায়শরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিল
কুসাই-এর মৃত্যুর পর ৷ কুসাই কর্তৃক তার পুত্র আব্দুদ্দারকে সিকায়ড়া, রিফাদা , লিওয়া, নাদওয়া
ও হিজাবার দায়িতু প্ৰদানকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল ৷ এই সিদ্ধান্তে বনু ট্রুআব্দে মানাফের
আপত্তি ছিল ৷ কুরায়শের সকল গোত্র এ ব্যাপারে সোচ্চার হয় এবং নিজ নিজ পক্ষের
সহযোগিতা করার ব্যাপারে পরস্পর অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় ৷ এ খবর শুনে আবৃদে মানাফের গোত্রের
লোকরা একটি পাত্রে সুগন্ধি রেখে তাতে হাত রেখে তারাও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ৷ বৈঠক থেকে
উঠে তারা বায়তুল্পাহ্র খুঢিতে হাত মুছে ৷ এ কারণে তাদেরকে মুতড়াব্যিবীন’ বা সুপন্ধিওয়ালা
নাম দেয়া হয় ৷ এ ঘটনাটি প্রাচীন আমলের ৷ কাজেই প্রমাণিত হয় যে, আলোচ্য অঙ্গীকার দ্বারা
হিলফুল ফুযুল বোঝানো হয়েছে ৷ ইিলফুল ফুযুল সম্পাদিত হয়েছিল আব্দুল্লাহ ইবন জাদআনের
ঘরে ৷ যেমন হুমায়দী বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (যা) বলেছেন, “আমি আব্দুল্লাহ ইবনে
জাদআনের ঘরে একটি অঙ্গীকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম ৷ ইসলামের যুপেও যদি
আমাকে তেমন অঙ্গীকারের প্রতি আহ্বান করা হতো, আমি তাতে সাড়া দিতাম ৷” উপস্থিত
ব্যক্তিবর্গ তাতে নগরবড়াসীর ওপর অত্যাচার ও অন্যায়ের প্রতিরোধ করার শপথ নিয়েছিলেন ৷

ঐতিহাসিকগণ বলেন, হিলফুল ফুযুল সম্পাদিত হয়েছিল রাসুলুল্লাহ (না)-এর নবুয়ত
লাভের কুড়ি বছর আগে যুলকা’দা মাসে, ফিজার যুদ্ধের চার মাস পরে ৷ ফিজার সংঘটিত
হয়েছিল একই বছরের শাবান মাসে ৷

হিলফুল ফুযুল ছিল আরবের ইতিহাসে সবাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ শপথ ৷ এ ব্যাপারে সর্বপ্রথম যিনি
মুখ খুলেন এবং যিনি এর প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তিনি হলেন যুবায়র ইবনে আব্দুল ঘুত্তালিব ৷
যে পটভুমির ওপর ভিত্তি করে এই অঙ্গীকার সম্পাদিত হয়েছিল, তা হলো এই :

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৭৩-

য়াবীদ গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু ব্যবসা পণ্য নিয়ে মক্কা আসে ৷ আল ইবনে ওয়ায়িল তার
থেকে কিছু সওদা ক্রয় করে ৷ কিন্তু পরে সে তার মুল্য পরিশোধ করতে অস্বীকার করে ৷ অগতা৷
যাবীদী তার পাওনা আদায় করার জন্য আহলাফ তথা আব্দুদ্দার , মাখযুম জাম্হ, সাহ্ম ও আদী
ইবনে কা-ব-এর শরণাপন্ন হয় ৷ কিন্তু তারা আল ইবনে ওয়ায়িল–এর বিপক্ষে তাকেসাহাষ্য
করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় এবং তাকে শাসিয়ে দেয় ৷ অবস্থা বেগতিক দেখে যাবীদী
ভোরে আবু কুবায়স পর্বতে আরোহণ করে উচ্চ স্বরে কাব্যাকারে তার অতা৷চারিত হওয়ার কথা
প্রচার করে ৷ কুরায়শরা তখন কাব৷ চতুরে আলাপ-আলোচনায় রত ৷ যুবায়র ইবনে আব্দুল
মুত্তালিব বিষয়টি গুরুতৃসহকারে বিবেচনা করেন এবং বলেন, ঘটনাটিকে এভাবে উপেক্ষা করা
যায় না ৷ এর একটা সুরাহ৷ হওয়া দরকার ৷ এবার হাশিম যুহরড়া ও তাইম ইবনে যুর৷ আব্দুল্লাহ
ইবনে জাদ’আন এর বাড়িতে সমবেত হন ৷ আব্দুল্লাহ ইবনে জাদ’আন মেহমানদের আপ্যায়নের
ব্যবস্থা করেন ৷ এ বৈঠকে যুদ্ধ নিষিদ্ধ মাস যুলকা’দায় র্তারা ৷আল্লাহ্র নামে এই মর্মে
অঙ্গীকারাবদ্ধ হন যে, তারা অত্যাচারিতের পক্ষে অ৩ ৷৷চারীর৷ ৷বরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভা ৷বে কাজ
করবে, যাতে করে জালিম মজলুমের পাওনা আদায় করতে ৩বাধঢু হয় ৷ যতদিন পর্যন্ত সমুদ্রে
ঢেউ উথিত হবে, যতদিন পর্যন্ত হেব৷ ও ছাবীর পর্বতদ্বয় আপন স্থানে স্থির থাকবে, ততদিন
পর্যন্ত আমাদের এই অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে ৷ আর জীবন য়াত্রায় আমরা একে অপরের
সাহায্য করব ৷ কুরায়শরা এই অঙ্গীকা ৷রকে হিলফুল ফুযুল’ নামে নামকরণ করে এবং বলে, এরা
একটি মহত কাজে আত্মনিয়োগ করেছে ৷৩ তারপর এই যুবকরা আল ইবনে ওয়ায়িল এর নিকট
গিয়ে৩ তার থেকে যাবীদীর পণ্য উদ্ধার করে৩ তাকে ফেরত দেন ৷ যুবায়র ইবনে আব্দুল মুত্তালিব
এ ব্যাপারে বলেন :

কয়েক মহান ব্যক্তি এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে যে, মক্কার বুকে কোনো জ লিম পা
রাখতে পারবে না; নগরবাসী বিদেশী সকলেই এখানে নিরাপদে অবস্থান করবে ৷

একটি গরীব পর্যায়ের হাদীসে কাসিম ইবনে ছ৷ ৷ৰিত উল্লেখ করেন, কাছআম গোত্রের এক
ব্যক্তি হজ্জ কিৎব৷ উমরাহ্ উপলক্ষে মক্কায় আগমন করে ৷৩ তার একটি কন্যা তার সঙ্গে ছিল ৷
যেয়েটি ছিল অত্যন্ত রুপসী এবং তার নাম ছিল কা ভুল ৷ নাবীহ ইবন৷ হ ৷জ্জাজ যেয়েটিকে পিতার
নিকট হতে অপহরণ করে নিয়ে লুকিয়ে রাখে ৷ ফলে কাছ আমী লোকটি তার মেয়েকে উদ্ধারের
ফরিয়াদ জানায় ৷৩ তাকে তখন বলা হলো, তুমি হিলফুল ফুযুল’ যুবসৎরু ঘর শরণাপন্ন হও ৷
লােকটি কার বার নিকটে দাড়িয়ে ইাক দিল, হিলফুল ফুযুল এর সদস্যগণ কে কোথায় আছেন ?
সঙ্গে সঙ্গে হিলফুল ফুযুল এর কমীগণ কােষমুক্ত৩ তরবারি হাতে চতৃর্দিক হতে ছুটে আসেন এবং
বলেন, তোমার সাহায্যকারীরা হাজির, তোমার কী হয়েছে ? সােকটি বলল, নাবীহ আমার
কন্যার ব্যাপারে আমার প্রতি জুলুম করেছে ৷ আমার কন্যাকে সে জোর করে আমার থেকে
ছিনিয়ে নিয়েছে ৷ অভিযোগ শুনে তারা দোকটিকে নিয়ে নাবীহ-এর পৃহের দরজায় গিয়ে

উপস্থিত হন ৷ নাবীহ বেরিয়ে আসলে তারা বলেন, হতভাপা কোথাকার ! মেয়েটিকে নিয়ে আর ৷
তুই তাে জানিস্ আমরা কারা, কি কাজের শপথ নিয়েছি আমরা ৷ নাবীহ বলল, ঠিক আছে,
তাই করছি, তবে আমাকে একটি মাত্র রাতের অবকাশ দিন ৷ তারা বললেন, না, আল্লাহর
শপথ ! কিছুতেই তা হতে পারে না ৷ অগত্যা নাবীহ মেয়েটিকে তাদহ্বদর হাতে অর্পণ করে ৷ তখন
সে আক্ষেপের সহিত কয়েকটি পংক্তি উচ্চারণ করে ৷

জুরহুম গোত্র জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের সহায়তা দান ’ বিষয়ক একটি অঙ্গীকার
নিয়েছিল ৷ কেউ কেউ বলেন, আলোচ্য অঙ্গীকারও জুরহুমের সেই অঙ্গীকারের অনুরুপ বলে
একে হিলফুল ফুযুল নামে নামকরণ করা হয়েছে ৷ যে তিন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির উহুদ্যাপে
জুরহুমের সেই অঙ্গীকার সম্পাদিত হয়েছিল, তাদের প্রত্যেকেরই নাম ফায্ল ১ ফায্ল ইবনে
ফুযালা ২ ফায্ল ইবনে ওয়াদাআহ ৩ ফায্ল ইবনে হারিছ ৷ এটা ইবনে কুতায়বার বক্তব্য ৷
অন্যদের মতে তিনজনের নাম হলো, ১ ফাঘৃল ইবন শুরাআ ২ ফায্ল ইবনে বুযাআ
৩ ফাঘৃল ইবন কুযা’আ ৷ এটি সুহায়লীর বর্ণনা ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শের কয়েকটি গোত্র পরস্পর হলফ গ্রহণের আহ্বান
জানায় ৷ এ উদ্দেশ্যে তারা মক্কার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে জাদ ’আনের
ঘরে সমবেত হন ৷ সেদিনকার সেই বৈঠকে বনু হড়াশিম , বনু আব্দুল মুত্তালিব , বনু আসাদ ইবনে
আব্দুল উয্যা, ম্যুহ্রা ইবন কিলাব এবং তায়ম ইবন মুবরা পরস্পর এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন
যে, মক্কার বাসিন্দা হোক কিংবা তিন দেশের লোক হোক, যখনই কেউ অন্যের হাতে নির্যাতনের
শিকার হবে, তারা তার সর্বাত্মক সাহায্যে এগিয়ে আসবেন ৷ জুলুমের প্রতিকার না করা পর্যন্ত
তারা ক্ষাম্ভ হবেন না ৷ কুরায়শরা এই অঙ্গীকারকে হিলফুল ফুযুল নামে অভিহিত করে ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, তালহা ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইসহাক বলেন, তালহা ইবন
আব্দুল্লাহ ইবন আউফ যুহরী বর্ণনা করেন যে , রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

“আমি আব্দুল্লাহ ইবন জাদআনের ঘরে এক অঙ্গীকার সভায় উপস্থিত ছিলাম ৷ সেই

অঙ্গীকার ভঙ্গ করার বিনিময়ে যদি আমাকে লাল উটও দেয়া হয় তবু আমি তাতে সম্মত হব না ৷
আর ইসলামের আমলেও যদি তার প্রতি আহ্বান করা হতো আমি তাতে সাড়া দিতাম ৷ ”

ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম ইবন হারিছ’আত-তায়মী বর্ণনা করেন যে,
হুসায়ন ইবন আলী (রা) ও ওলীদ ইবনে উতবা ইবনে আবু সুফিয়ান-এর মধ্যে যুল-মারওয়ার
কিছু সম্পদ নিয়ে বিবাদ ছিল ৷ ওলীদ তখন মদীনায় গভর্নর ৷ তার চাচা মুআবিয়া ইবনে আবু
সুফিয়ান তাকে মদীনায় গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন ৷ ক্ষমতার বলে ওলীদ পাওনা আদায়ে
হুসায়ন (রা)-এর ওপর অবিচার করেন ৷ তখন হুসায়ন (রা) বললেন আমি আল্লাহর নামে
শপথ করে বলছি, আপনি হয় আমার প্রতি সুবিচার করবেন,অন্যথায় তরবারি হাতে নিয়ে আমি

রাসুলুল্লাহ (না)-এর মসজিদে দাড়িয়ে হিলফুল ফুযুল-এর কর্মীদের আহ্বান করব ৷ আব্দুল্লাহ
ইবন যুবায়র তখন ওলীদের নিকট উপস্থিত ছিলেন ৷ হুসায়ন (বা) এর কথা শুনে তিনি বললেন,
আমিও আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি ৷ হুসায়ন যদি এরুপ অক্রন্থ ন জানান তা’হলে আমিও
আমার তরবারি হাতে তার পাশে এসে দীড ৷ব ৷ হয়ত তিনি তার ন্যায্য অধিক ব ফিরে পাবেন,
অন্যথায় আমরা একত্রে জীবন দেব ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এ সংবাদ মিসওয়ার ইবনে মাখরামার নিকট পৌছলে তিনিও একই কথা
বলেন ৷ আব্দুর রহমান ইবন উছমান ইবন উবায়েদুল্লাহ আত্তায়মীও অভিন্ন উক্তি করেন ৷
ওলীদ ইবনে উতব৷ সব খবর পেয়ে অবশেষে হুসায়ন (রা)-কে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে
দেন ৷ তাতে হুসায়ন (রা) সভুষ্ট হয়ে যান ৷

নৰীব্জী (না)-এর সাথে থাদীজা বিনতে খুওয়ায়লিদের বিবাহ

ইবন ইসহাক বলেন, থাদীজা বিনত খুওয়ায়লিদ একজন স্ন্নান্ত ব্যবসায়ী মহিলা ছিলেন ৷
লাভে অং শীদারিবু তুর চুক্তিতে ৩পুরুষদেরকেত তিনি তার ব্যবসায় ৷নয়ােগ করতেন ৷ রাসুলুল্লাহ
(না)-এর সতাবাদিতা, বিশ্বস্তত৷ ও সচ্চরিত্রতার কথা জানতে পেরে তিনি তার নিকট প্রস্তাব
পাঠালেন, যেন তিনি ব্যবসায় পণ্য নিয়ে সিরিয়া সফর করেন ৷ বিনিময়ে তিনি তাকে অন্যদের
তুলনায় অধিক মুনাফা প্রদানের প্রস্তাব করেন ৷ সঙ্গে থাকবে খাদীজার গোলাম মায়সারা ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) থাদীজার এই প্রস্তাবে সম্মত হন এবং পণ্যসামগ্রী নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশে
রওয়ানা হন ৷ তার সঙ্গে থাদীজার গোলাম মায়সারাও রওয়ানা হন ৷ সিরিয়া পৌছে রাসুলুল্লাহ
(সা) জনৈক পাদ্রীর গির্জার নিকট একটি গাছের ছায়ায় অবস্থান গ্রহণ করেন ৷ পাদ্রী মায়সারাকে
ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, গাছের নিচে অবতরণকারী ব্যক্তিটি কে ? মায়সারা বললেন, ইনি
হারমবাসী কুরায়শী বংশের এক ব্যক্তি ৷ পাদ্রী বললেন, এ যাতে এই গাছের নিচে নবী ব্যতীত
কেউ অবতরণ করেনি ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ (সা) তার নিয়ে আসা ব্যবসা পণ্য বিক্রি করলেন
এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে তার পছন্দমত অন্য মাল ক্রয় করলেন ৷ এরপর মায়সারাকে নিয়ে
মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন ৷

ঐতিহাসিকদের ধারণা, মায়সারা লক্ষ্য করেন যে, সুর্যের তাপ প্রখর হওয়ার সাথে সাথে
দু’জন ফেরেশতা মুহাম্মদ (সা) কে ছায়া প্রদান করছেন ৷ তখন তিনি উটের পিঠে চড়ে এগিয়ে
চলছিলেন ৷ মক্কায় এসে থাদীজ কে তিনি তার পণ্য বুঝিয়ে দেন ৷ থাদীজা দ্বিগুণ বা প্রায় দ্বিগুণ
মুল্যে তা বিক্রি করেন ৷ মায়সারা থাদীজার নিকট পাদ্রীর মন্তব্যর কথা এবং নবীজী (সা) কে

দুই ফেরেশত ৷র ছায়াদানের কথা ব্যক্ত করেন ৷ আর থাদীজা ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, স্ল্লান্ত ও
বুদ্ধিমতী মহিলা ৷

মায়সারা ঘটনার ইতিবৃত্ত ওনালে থাদীজা (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) ফে ডেকে পাঠালেন ৷
ঐতিহাসিকদের ধারণা, হযরত থাদীজা (বা) রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলেন চাচাব্লু তা ভাই!
আপনার সুখ্যাতি, আপনার বিশ্বস্ততা, আপনার উত্তম চরিত্র, সত্যৰাদিতা এ সবের কারণে
আমি আপনার প্রতি আকৃষ্ট ৷ তারপর তিনি সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন ৷ উল্লেখ্য যে, থাদীজা

(বা) কুরায়শ মহিলাদের মধ্যে বংশগতভাবে অতিশয় সস্রান্ত, মর্যাদায় সকলের সেরা ও শ্রেষ্ঠ
বিত্তবতী মহিলা ছিলেন ৷ তার সম্প্রদায়ের প্রতেকেই সুযোগ সাপেক্ষে তার প্রতি লালায়িত
ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বিষয়টি তার চাচাদের গোচরে দেন ৷ শুনে চাচা হামযা (রা ) রাসুলুল্লাহ
(সড়া)-কে নিয়ে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ-এর নিকট গমন করেন ৷ খুওয়াইলিদ-এর সঙ্গে
আলাপ আলোচনার পর খাদীজার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সড়া)-এর বিবাহ সম্পাদন করেন ৷

ইবনে হিশাম বলেন ৪ মহর হিসাবে তাকে তিনি বিশটি উট প্রদান করেন ৷ এটিই ছিল
রাসুলুল্পাহ (সড়া)-এর প্রথম বিবাহ ৷ খাদীজা (রা)-এর মৃত্যু পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সড়া) আর কোন
বিবাহ করেন নি ৷

ইবনে ইসহাক বলেন : ইবরাহীম ব্যতীত রাসুলুল্লাহ (না)-এর সকল সন্তান খাদীজার

গর্ভেই জন্ম লাভ করেন ৷ তারা হলেন, ১ কাসিম ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর আবুল কাসিম

উপনামটি এই কাসিম-এর নামেই ছিল ৷ ২ তায়িব ৩ তাহির ৷-;৷ যায়নাব ৫ রুকাইয়া
৬ উম্মে কুলসুম ৭ ফাতিমা (রাযিয়া আল্লাহ তাআলা আনহুম আজমড়ায়ীন্ন্)

ইবনে হিশাম বলেন, রাসুলুল্লাহ (সড়া)-এর পুত্রদের মধ্যে কাসিম ছিলেন সকলের বড় ৷
তারপর তাব্যিব ৷ তারপর তাহির ৷ আর কন্যাদের মধ্যে বড় হলেন রুকাইয়া ৷ তারপর
যায়নাব, তারপর উষ্মে কুলসুম , তারপর ফাতিমা (বা) ৷

বায়হাকী বলেন, আমি আবু বকর ইবনে আবু খায়ছামার একটি লিপিতে পড়েছি; তাতে
উল্লেখ আছে যে, মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ যুবায়রী বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-এর জেক্তষ্ঠ পুত্রের
নাম কাসিম, তারপর যায়নাব, তারপর আব্দুল্লাহ, তারপর উষ্মে কুলসুম, তারপর আব্দুল্লাহ ৷
তারপর ফাতিমা ৷ তারপর রুকাইয়া ৷ আর তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইনতিকাল করেন কাসিম ৷
তারপর আব্দুল্লাহ ৷ আর খাদীজা (বা) আযু পেয়েছিলেন পয়ষট্টি বছর ৷ মতাম্ভরে পঞ্চাশ বছর ৷
এ অভিমতটিই বিশুদ্ধতর ৷ অন্যদের মতে কাসিম বাহনে আরোহণের উপযুক্ত এবং বুদ্ধিসম্পন্ন
হয়ে রাসুলুল্লাহ (না)-এর নবুওত লাভের পর মারা যান ৷ কেউ কেউ বলেন, কাসিম যখন মারা
যান তখন তিনি দৃগ্ধপোষ্য শিশু ৷ তার মৃত্যুর পর রাস্ফুবুল্লাহ (সা) বলেছিলেনঃ “ওর জন্য
জান্নাতে স্তন্যদাত্রী রাখা আছে ৷ সে তার দুধ পানের মেয়াদ পুর্ণ করবে ৷ ” তবে প্রসিদ্ধ মতে,
রাসুলুল্লাহ্ (সড়া)-এর এ উক্তিটি ছিল ইব্রাহীম সম্পর্কে ৷

ইউনুস ইবন বুকায়র ইবন আব্বাস (যা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন,
খাদীজার গর্ভে রাসুলুল্লাহ (না)-এর দুই পুত্র সন্তান এবং চার কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন ৷
১ কাসিম ২ আব্দুল্লাহ, ৩ ফাতিমা : উষ্মে কুলসুম ৫ যায়নাব ৬ রুকাইয়া ৷ যুবায়র ইবনে
বাক্কার বলেন, আব্দুল্লাহ তাব্যিব ও তাহিরও বলা হতো ৷ কারণ তিনি হযরতের নবুয়ত প্রাপ্তির
পর জন্মলাভ করেছিলেন ৷

যাহোক, নবী করীম (সড়া)-এর অন্য পুত্রগণ তীর নবুওত লাভের আগেই মারা যায় ৷ অবশ্য
কন্যাগণ নবুওতের যুগ লাভ করেন ৷ তারা ইসলাম কবুল করেন এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সঙ্গে
হিজরত করেন ৷ ইবনে হিশাম বলেন, ইব্রাহীম-এর জন্ম মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে ৷

আলেকজাদ্রিয়া-অধিপতি মুকাওকিস মারিয়াকে রাসুল (না)-এর থেদমতে উপহাররুপে
পাঠিয়েছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর সকল সহধর্মিনী ও সন্তানপণের ব্যাপারে আমরা
ইনশাআল্লাহ স্বতন্ত্রভারে সীরাত অধ্যায়ের শেষে আলোকপাত করব ৷

ইবনে হিশাম বলেন, রাসুলুল্লাহ (না) যখন খাদীজা (রা)-কে বিবাহ করেন, তখন তীর
বয়স ছিল পচিশ বছর ৷ একাধিক আলিম আমার নিকট এরুপ বর্ণনা দিয়েছেন ৷ তন্মধ্যে আবু
আমর আল মাদানী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷

ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান এক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আমর ইবন আসাদ যখন খাদীজাকে
রাসুলুল্পাহ (না)-এর নিকট বিবাহ দেন তখন রাসুলুল্লাহ (সা)-ত্ন্ধ্রার বয়স ছিল পচিশ বছর ৷
কুরায়শরা তখন কাবা নির্মাণ করছে ৷

অনুরুপডাবে বায়হাকী হাকিম থেকে বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (না) যখন খাদীজা
(রড়া)-কে বিবাহ করেন, তখন তীর বয়ষ ছিল পচিশ বছর ৷ আর খাদীজার বয়স তখন পয়ত্রিশ ,
মতাস্তরে পচিশ ৷

খাদীজাকে বিবাহ করার পুর্বে রাসুলুল্লাহ (সা ) এর পেশা
হযরত আবুছরায়রা (বা) বর্ণনা করেন, যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
“আল্লাহ এমন কোন নবী প্রেরণ করেন নি, যিনি ছাগল চরান নি ৷
এ কথা শুনে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া বাসুলাল্লাহ্! আপনিও ? নবী করীম (না)
বললেন : “হীড়া আমিও কয়েকটি মুদ্রা (কীরাত)-এৱ বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাপল চরিয়েছি ৷ ”

আর কারো কারো মতে এর অর্থ কারারীত’ নামক স্থানে বকরী চরিয়েছি ৷ ইমাম বুখারী
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম বায়হার্কী রবী ইবনে বদর, আবুয ঘুবায়র ও জাবির (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে,
তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, “একটি জােয়ান উটনীর বিনিময়ে দুইটি সফরে আমি
খাদীজার জন্য শ্রম দিয়েছি ৷ ”

ইমাম বায়হাকী (র) অপর এক সুত্রে ইবনে আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি
বলেছেন, খাদীজার পিতা খাদীজাকে রাসুলুল্পাহ (না)-এর নিকট বিবাহ দেওয়াকালে যতদুর
মনে হয় ণ্নশাগ্রস্ত ছিলেন ৷

ইমাম বায়হার্কী অপর এক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত আমার ইবনে ইয়াসির যখনই
লোকদেরকে রাসুল (না)-এর খাদীজাকে বিবাহ করা সংক্রান্ত আলোচনা করতে শুনতেন , তখন
বলতেন, রাসুল (না)-এর খাদীজাকে বিবাহ করার , বিষয়টি আমি সবচেয়ে ভালো জানি ৷ আমি
রাসুল (না)-এর সমবয়সী ও আঃরঙ্গ সঙ্গী; ইিশাম ৷ একদিন আমি তার সঙ্গে বের হই ৷
হাযওয়ারা নামক স্থানে পৌছে আমরা লোঃষ্ক পেলাম যে, খাদীজার এক বোন বসে চামড়া

বিক্রি করছেন ৷ দেখে তিনি আমাকে নিকটে ডাকেন ৷ আমি তার নিকটে ফিরে যাই আর
রাসুলুল্লাহ (না) সেখানে আমার অপেক্ষায় থাকেন ৷ থাদীজার বোনটি আমাকে বললেন, আচ্ছা
তোমার এই সঙ্গী কি খাদীজাকে বিবাহ করতে আগ্রহী নয়? আমার (বা) বলেন, একথার কোন
জবাব না দিয়ে আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট গিয়ে তাকে বিষয়টি অবহিত করি ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, অবশ্যই আগ্রহী ৷ থাদীজার বোনকে রাসুল (না)-এর এ কথাটি
জানালে তিনি বললেন, আগামীকাল সকালে আপনারা আমাদের বাড়িতে আসুন ৷ আমরা
পরদিন সকালে থাদীজার বাড়িতে গেলাম ৷ গিয়ে দেখতে পেলাম যে , তারা একটি গরু জবাই
করেছেন এবং থাদীজার পিতাকে উত্তম জামা-কাপড় পরিয়ে রেখেছেন ৷ তখন তার দাড়িতে
থেজাব মেখে রেখেছিলেন ৷ আমি থাদীজার ভাইয়ের সঙ্গে কথা-বললংম ৷ তিনি তার পিতার
সঙ্গে আলাপ করলেন ৷ থাদীজার পিতা তখন মদপান করে নেশাগ্রস্ত ছিলেন ৷ থাদীজার তাই
তাকে রাসুলুল্পাহ (না)-এর মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং খাদীজাকে তার নিকট বিবাহ
দেওয়ার কথা প্রস্তাব করেন ৷ তিনি তাতে সম্মতি দেন এবং তাকে বিবাহ দিয়ে দেন ৷ তারা
গরুর গোশত রান্না করে তাদের আপ্যায়নের আয়োজন করেন ৷ আমর খাওয়া-দাওয়া করি ৷

এর মধ্যে থাদীজার পিতা ঘুমিয়ে পড়েন ৷ কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এই বলে
চিৎকার করে ওঠেন যে, আমার পারে এ সব কিসের পোশাক? দাড়িতে এসব কিসের খেজাব?
এ খানাপিনা কিসের? জবাবে তার যে কন্যা আম্মারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তিনি বললেন,
আপনার জামাতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আপনাকে এই পোশাক পরিয়েছেন ৷ আর এই গাভীটি
আপনার জন্য হাদিয়া এসেছিল; থাদীজার বিয়ে উপলক্ষে একে আমরা যবাই করেছি ৷ কিন্তু
তিনি খড়াদীজাকে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ্র নিকট বিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন এবং
উচ্চকষ্ঠে চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে হিজরে ইসমাঈল তথা হাতীমে চলে আসেন ৷ হাশিম
গোত্রীয় লোকেরা রাসুলুল্লাহ (সা) কে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং থাদীজার পিতার সঙ্গে
কথা বলেন ৷ থাদীজার পিতা বললেন তোমাদের যে লােকটির নিকট আমি থাদীজাকে বিবাহ
দিয়েছি বলে তোমাদের ধারণা, সে কোথায় ? জবাবে রাসুল (সা) তার সামনে এসে উপস্থিত
হন ৷ থাদীজার আব্বা নবীজী (না)-কে এক নজর দেখে বললেন, আমি যদি এর নিকট
থাদীজাকে বিবাহ দিয়ে থাকি তাে ভালো, অন্যথায় এখন আমি খাদীজাকে এর নিকট বিবাহ
দিয়ে দিলাম ৷

সুহায়লী উল্লেখ করেছেন যে,ইমাম যুহরী তার সীরাত গ্রন্থে পুর্বোক্ত বর্ণনার মত থাদীজার
পিতা যখন তাকে রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট বিবাহ দেন, তখন তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে
বর্ণনা করেছেন ৷ ঘুআম্মিলী বলেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো, থাদীজার চাচা আমর ইবনে আসাদ
খাদীজাকে রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট বিবাহ দিয়েছিলেন ৷ সুহায়লী এই অভিমতকেই প্রাধান্য
দিয়েছেন ৷ ইবনে আব্বাস ও আয়েশা (বা) অনুরুপ অভিমত বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (রা)
বলেন, খুওয়াইলিদ ফিজাব যুদ্ধের আগেই ইনতিকাল করেছিলেন ৷ তুব্বা বাদশাহ যখন হাজরে
আসওয়াদকে ইয়ামানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তখন এই খুওয়াইলিদই তার বিরোধিতা
করেছিলেন ৷ খুওয়াইলিদ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে কুরায়শ-এব একদল লোকও

তার সঙ্গে যোগ দেয় ৷ তারপর একদিন তুব্বা একটি ভয়ংকর স্বপ্ন দেশে এই পরিকল্পনা ত্যাগ
করেন এবং হাজার আসওয়াদকে যথাস্থানে বহাল রাখেন ৷

ইবনে ইসহাক সীরাত গ্রন্থের পরিশিষ্টে লিখেছেন, খাদীজার ভাই আমর ইবনে
খুওয়ইিলিদ-ই খাদীজাকে রাসুলুল্পাহ (না)-এর নিকট বিবাহ দিয়েছিলেন ৷ আল্লাহ্ই ভালো
জানেন ৷

অধ্যায়

ইবনে ইসহাক বলেন, গোলাম মায়সারা খাদীজার নিকট পাদ্রীর যে উক্তির কথা উল্লেখ
করেছিল এবং সফরে দুই ফেরেশতা কর্তৃক নবীজী (না)-কে ছায়া প্রদান করতে দেখেছিল
খাদীজা (বা) তার চাচাত্যে ভাই ওয়ড়ারাকা ইবনে নওফল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল ওয্যা
ইবনে কুসাইকে সে সম্পর্কে অবহিত করেন ৷ শুনে ওয়ারাকা বললেন, খাদীজা ! ঘটনাটি যদি
সত্যি হয়ে থাকে, তা হলে এ কথা নিশ্চিত যে, মুহাম্মদ এই উষ্মত্তের নবী ৷ আর আমি নিজেও
জানি যে, এই উষ্মতের জন্য একজন নবীর আবির্ভাব হতে যাচ্ছে ৷ এটাই সেই যুগ ৷ এরপর
থেকে ওয়ারাকা বিষয়টি সপ্রমাণিত দেখার জন্য উংদ্বগ-উৎকষ্ঠা প্রকাশ করতে পুরু করেন এবং
নিম্নোক্ত পংক্তিগুলো আবৃত্তি করেন ৷

অর্থ৪ আমি অতি আগ্রহের সাথে এমন একটি জিনিসকে বারবার বলে আসছি, যা দীর্ঘদিন
যাবত অনেককে র্কাদিয়ে আসছে ৷ খাদীজার নিকট থেকেও নতুন করে সে বিষয়ে নানাবিধ
গুণের বিবরণ পাওয়া গেল ৷ শোন খাদীজা৷ আমার প্রভীক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়েছে ৷ আমার
প্রত্যাশা, মক্কার উচ্চভুমি ও নিম্নভুমির মধ্যখান থেকে যেন তোমার সে কথা বাস্তবায়িত হচ্ছে
বলে দেখতে পাই, যে কথা তুমি খৃন্টান ধর্মযাজকের সুত্রে জানালে ৷ বন্তুত ধর্মযাজকের কথায়

কোন (হরফের হোক, আমি তা চাই না ৷

সে প্ৰতীক্ষিত বিষয়টি এই যে, মুহাম্মদ অচিরেই সমাজের নেত৷ হবেন এবং নিজের
বিরুদ্ধবাদীদের তিনি পরাস্ত করবেন ৷ পৃথিবীর সর্বত্র তিনি এমন নুর ছড়াবেন, যা দ্বার বাতিনি
সমগ্র বিশ্বজগতকে উদ্ভাসিত করবেন ৷ যারা তার সঙ্গে যুদ্ধ করবেন,ত তারা পর্মুদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত
হবে ৷ আর যারা তার সঙ্গে শান্তি ও সষ্গ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয় ন্ন্দ্বার৷ হবে স্থিতিশীল ও
বিজয়ী ৷

হয়ে! যখন এ সব ঘটনা ঘটবে, তখন যদি আমি জীবিত থাকতে পারতাম, তা হলে
তোমাদের সকলের আগে আমিই৩ র্বী ৷র দলতুক্ত হতাম ৷ আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম যাকে
কুরায়শ অত্যন্ত অপসন্দ করবে ৷ যদিওত ৷রা তার বিরুদ্ধে চিৎকার করে মক্কাকে প্রকম্পিত করে
তৃলবে ৷ যাকে তারা সকলে অপসন্দ করবে, আমার প্রত্যাশা তিনি আরশের অধিপতির নিকট
পৌছে যাবেন, যদিও তারা অধচ্পতিত হবে ৷ উর্ধ্বলোকে আরোহণকারীকে যারা গ্রহণ করে,
তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া এই অবঃপতনের আর কোন কারণ নেই ৷

কুরায়শরা যদি বেচে থাকে আর আমিও যদি বেচে থাকি তবে সেদিন অস্বীকারকারীরা
চিৎকার করে তােলপাড় করবে ৷ আর আমি যদি মারা যাই তাহলে যুবকরা দুর্ভাগ্যের কবল
থেকে মুক্তির পথ প্রত্যক্ষ করবে ৷

ইবনে ইসহাক সুত্রে বর্ণিত ইউনুস ইবনে বুকায়র-এর বর্ণনা মতে ওয়ারাক৷ ইবনে নওফল
আরো বলেছেন-

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৭৪-

কী সকাল কী সন্ধ্যা, তোমার মনের ব্যথায় আমিও ব্যথিত ৩৷ আমি আরো ব্যথিত সেই
লোকদের বিরহে, যাদের বিরহ আমার কাম্য নয় ৷ তুমিও বোধ হয় দু দিন পর তাদের থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ৷ আমি আরো ব্যথিত সেই সত্য সংবাদের জন্য, যা মুহাম্মদ সম্পর্কে প্রকাশিত
হয়েছে ৷ তার অনুপন্থিত্যি৩ ই যে শুভকামনাকা রী তার সম্পর্কে স বাদ দিয়েছে ৷

ওহে নাজ্বদ ও গাওর এর শ্রেষ্ঠ রমণী ! ভারী মাল বোঝাই উটের আরোহী বণিক কাফেলার
সঙ্গে বুসরা বাজারে তুমি যে যুবককে প্রেরণ করেছিলে, এখন তিনি তোমার কাছে ফিরে
এসেছেন ৷ এখন তিনি আমাদেরকে সজ্ঞানে সংবাদ দিচ্ছে সার্বিক কল্যাণের ৷ সত্য প্রকাশের
অনেক দ্বার আছে, দ্বার খোলার জন্য আছে চড়াবি ৷ তিনি সংবাদ দিচ্ছেন যে, এই প্রত্যন্ত সরু
অঞ্চলের সকলের প্রতি আব্দুল্লাহর পুত্র আহমদ প্রেরিত হচ্ছেন ৷

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি হুদ, সালিহ, মুসা ও ইবরাহীম (আ) এর ন্যায় স৩ ত্যবাদীরুপে
আবির্ভুত হবেন অচিরেই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র ৷ দিকে দিকে দৃষ্টিগােচর হতে শুরু
করবে তার ঔজ্জ্বল্য ৷ আর তার অনুসরণ করবে, লুওয়াই ও পানির গোত্র আবাল বৃদ্ধ
সকলে ৷ তার আবির্ভাব পর্যন্ত যদি আমি বেচে থাকি, তবে৩ তাকে পেয়ে আমি বড়ই আনন্দিত
হব ৷ অন্যথায় জেনে রাখ হে খাদীজা৷ তোমার দেশ ত্যাগ করে আমি চলে যাব অন্য কোন
প্রশস্ত ভুখণ্ডে ৷

উমাবী এর সঙ্গে যোগ করে আরো উল্লেখ করেছেন :

৷ ,ব্লু
ফলে মানুষ অনুসরণ করবে সেই ব্যক্তির দীনের , যিনি সব কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু, যিনি সৃষ্টির
সেরা মানুষ ৷ যিনি মক্কায় নির্মাণ করেছেন সুদৃঢ় এক ইমারত ৷ সর্বত্র কুফরির ঘনঘটা সত্বেও

যে ঘরে জ্বলজ্বল জ্বলছে হেদায়াতের প্রদীপ ৷ যে গৃহ সকল গোত্রের কেন্দ্রবিন্দু, যে ঘরের প্রতি
চতুর্দিক থেকে যেয়ে আসে দুর্বল ও সরল উট ৷

আবুল কাসিম সুহায়লী কধৃকি তার আর রাউজুল উনুফ’ গ্রন্থে বর্ণিত ওয়ারাকা ইবনে
নওফলের আরো কয়েকটি পংক্তি নিম্নরুপ :

আমি অনেককে উপদেশ দিয়েছি যে, আমি সতর্ককারী ৷ অ৩ এর কেউ যেন তােমাদেরকে
প্রভাবিত করতে না পারে তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত অন্য কারো দাসতৃ করবে না ৷

যদি তারা তোমাদের আহ্বান করে, তবে বলে দিবে- তোমাদের ও আমাদের মাঝে প্রাচীর
রয়েছে ৷

আমরা পবিত্রতা জ্ঞাপন করি আরশের অধিপতির , পবিত্রতা র্যার অবিচ্ছেদ্য গুণ আমাদের
আগে জুদী পর্বত আর জড় পদার্থরাজিও তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করেছে ৷ সৃষ্টির সবকিছু তার
অনুগত ৷ তার রাজত্বের প্রতি হাত বাড়ানো কারো জন্য উচিত নয় ৷

আমরা যা কিছু দেখছি, তার কোনটিরই ঔজ্জ্বল্য অবশিষ্ট থাকবে না ৷ থাকবেন শুধু
ইলাহ সম্পদ-সন্তান সবই ধ্বংস হয়ে যাবে ৷ মহা শক্তিধর হরমুজ সম্রাটের ধন-ভাণ্ডার তার

কাজে আসেনি ৷ আদ জাতিও চিরদিন বেচে থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি ৷ বায়ু বহন করে
রেড়াত যে সুলায়মান (আ)-কে তিনিও থাকতে পারেননি ৷ মৃত্যুর পরোয়ানা পায়ে পায়ে ঘুরছে
জিন-মানব সকলের ৷ সেই প্রতাপশালী রাজা-বাদশাহরা এখন কোথায়, যাদের কাছে চতুর্দিক
থেকে দলে দলে মানুষ আগমন করতো?

মুভ্যু একটি কুপ ৷ এই কুপে সব মানুষকে একদিন না একদিন অবতরণ করতেই হবে
যেমন অবতরণ করেছে অতীতের লোকেরা ৷

সুহায়লী বলেন, আবুল ফারাজ এ পংক্তিগুলো ৷ওয়ারাকা র বলে উল্লেখ করেছেন এবং আরো
বলেছেন, এর মধ্যে কোন কো ন প০ ক্তি উমায়্যা ইবনে আবি সালতের বলে উল্লেখ করা হয় ৷
উমর (রা) মাঝেমধ্যে এ সব কবিতা ৷র পং ক্তি প্রমাণস্বরুপ আবৃত্তি করতেন বলে আমরা পুর্বেই
বলে এসেছি

রাসুলুল্লাহ (না)-এর নবুওত নাভের পাচ বছর পুর্বে
কুরায়শ কর্তৃক কা ৰার পুনর্নির্মাণ

বায়হাকীর মতে কাবা পুনর্বির্মাণের কাজ সম্পাদিত হয় রাসুলুল্লাহ (সা ) খাদীজাকে বিবাহ
করার পুর্বে ৷ তবে প্রসিদ্ধ মতে কুরায়শ কর্তৃক কাব৷ নির্মাণের ঘটনা ঘটে রাসুল (সা)
খাদীজাকে বিবাহ করার দশ বছর পরে ৷ ইমাম বায়হাকীর বর্ণনা মতে, পবিত্র কাবা সর্বপ্রথম
নির্মিত হয়েছিল হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর আমলে ৷ ইব্রাহীম (আ)-এর কাহিনীতে আমরা সে
সম্পর্কে আলোচনা করে এসেছি ৷ ইমাম ব্ায়বাকী সহীহ বুখারীতে এ বিষয়ে বর্ণিত ইবনে
আব্বাস (না)-এর একটি হাদীসও উল্লেখ করেছেন ৷ সাথে সাথে পবিত্র কা’বা হযরত আদম
(আ)-এর আমলে নির্মিত হওয়া সংক্রান্ত ইসরাঈলী ব্র্ণনাগুলােও উল্লেখ করেছেন ৷ সে সব
বর্ণনা বিশুদ্ধ নয় ৷ কেননা কুরআনের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ইব্রাহীম (আ)-ই
সর্বপ্রথম কাবা নির্মাণ করেন এবং তার ভিত্তি স্থাপন করেন ৷ বলা বাহুল্য, কাবার অবস্থান
স্থুলটি পুর্ব থেকেই কেদ্রীয় মর্যাদার অধিকারী সকল যুগে, সব সময় সম্মানিত ছিল ৷ যেমন
আল-কুরআনে আল্লাহ তাআল৷ বলেন :

“নিশ্চয়ই মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে৷ র্বাক্কায় (অর্থাৎ
মক্কায়) তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী ৷ তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন
মাকামে ইব্রাহীম ৷ আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ ৷ মানুষের মধ্যে যার
সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য ৷
(আলেষ্ইমরান : ৯৬-৯ ৭)

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু যর (রা) কর্তৃক বর্ণিত আছে যে, আবু যর (রা)
বলেন, আমি একদিন জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! কোনৃ মসজিদ সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন : আল-মাসজিদুল হড়ারাম’ ৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি
নবী করীম (সা) বললেন : আল মাসজিদুল আক্সা ৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই দু’য়ের
মাঝে সময়ের ব্যবধান ছিল কতটুকু ? তিনি বললেন : চল্লিশ বছর’ ৷

এ বিষয়ে পুর্বে আমরা আলোচনা করে এসেছি এবং একথাও উল্লেখ করেছি যে, মাসজিদুল
আকসার ভিত্তি স্থাপন করেন ইসমাঈল তথা হযরত ইয়াকুব (আ) ৷

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আছে যে, এই মক্কা নগরীকে আল্লাহ তা আলা আসমান যমীন
সৃষ্টি করার দিন থেকেই সম্মানিত করেছেন ৷ ফলে তা কিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিতই থাকবে ৷

ইমাম বায়হাকী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, পৃথিবী
সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগেও বায়তুল্লাহ বিদ্যমান ছিল ৷ পবিত্র কুরাআনের , (আর যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হলো) এর ব্যাথ্যা;র তিনি বলেন, এই
বায়তুল্পাহ্র নিচ থেকেই পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে ৷ মানসুরও মুজাহিদ থেকে অনুরুপ
অভিমত ব্যক্ত করেছেন ৷

আমার মতে, এই বর্ণনাটি অতিশয় গরীব পর্যায়ের ৷ সম্ভবত এটি সেই দুই থলের একটি
থেকে নেয়া, যা ইয়ারমুকের যুদ্ধের সময় আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা)-এর হস্তগত হয়েছিল ৷

এ দু’টি ইসরাঈলী বর্ণনায় তরপুর ছিল ৷ তাতে ঘুনকার ও গরীব বর্ণনাও ছিল অসংখ্য ৷

ইমাম বায়হাকী আরো বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বলেন যে,
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন ;; আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল (আ)-কে আদম ও হাওয়া (আ)-এর
নিকট প্রেরণ করেন ৷ জিবরাঈল (আ) তাদের বললেন, আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন, আমার
সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি ঘর নির্মাণ কর ৷ এই বলে জিবরাঈল (আ) তাদেরকে ঘরের চৌহদ্দি
চিহ্নিত করে দেন ৷ আদম (আ) মাটি খনন ও হাওয়া (আ) মাটি স্থানান্তরের কাজ শুরু করে
দেন ৷ এক পর্যায়ে নিচ থেকে পানি র্তাদেরকে বলে, হে আদম! যথেষ্ট হয়েছে ৷ আদম ও
হাওয়া (আ) গৃহ নির্মাণ কাজ শেষ করলে আল্লাহ তাআলা আদম (আ)-এর প্ৰতি ঘরটি
তাওয়াফ করতে প্রত্যাদেশ করেন এবং তাকে বলা হলো, তুমিই প্রথম মানুষ আর এটি প্রথম
ঘর ৷ এরপর কয়েক যুগ অতিক্রাম্ভ হওয়ার পর হয়রত নুহ (আ) সেই ঘরের হজ্জ করেন ৷
এরপর আবার কয়েক যুগ অতিক্রাম্ভ হলে পরে এক সময় হযরত ইবরাহীম (আ) গৃহটি
পুনর্নির্মাণ করেন ৷ বায়হড়াকী বলেন, ইবনে লাহীআ এমনি এককভাবে মারফু সুত্রে হড়াদীসটি
বর্ণনা করেন ৷ আমার মতে এ রাবী যয়ীফ এটা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর-এর উক্তি হওয়ার
অতিমতই অধিকতর শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ৷

রাবী বর্ণনা করেন যে, আদম (আ) বায়ভুল্লাহর হজ্জ করেন ৷ তখন একদল ফেরেশতা
তীর নিকট এসে বলেন যে, আপনার হজ্জ কবুল হয়েছে ৷ হে আদম ! আপনার পুর্বে আমরা দৃই
হাজার বছর ধরে হজ্জ করে আসছি ৷

ইউনুস ইবনে বুকায়র ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে ইসহাক বলেন,
মদীনায় নির্জাচেযাগ্য একদল আলিম আমার নিকট উরওয়া ইবনে যুবাযর থেকে বর্ণনা করেন
যে, উরওয়া বলেন, কোন নবীই এমন ছিলেন না যে, তিনি বায়তৃল্লাহর হজ্জ করেন নি তবে হুদ
ও সালিহ (আ) এর ব্যতিক্রম ৷ পুর্বে আমরা হুদ ও সালিহ (আ) বায়তুল্লাহর হজ্জ করেছেন বলে
উল্লেখ করেছি ৷ তার অর্থ পারিভাষিক হজ্জ নয় বরং কাবার অবস্থানন্থল প্রদক্ষিণ যদিও সে
সময় ওখানে কোন গৃহ ছিল না ৷

বাযহাকী বর্ণনা করেন যে, খালিদ ইবন আরআরা বলেন, এক ব্যক্তি হযরত আলী
(রা)-এর নিকট আল্লাহর বাণী০ ং

সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন যে, এটি কি পৃথিবীতে নির্মিত সর্বপ্রথম ঘর ? জবাবে তিনি
বললেন, না, বরং এটি সর্বপ্রথম সেই গৃহ, যাতে মানবজাতির জন্য বরকত, পথের দিশা ও
মাকামে ইব্রাহীম রক্ষিত হয়েছে ৷ আর এটি সর্বপ্রথম এমন ঘর, যাতে কেউ প্রবেশ করলে সে
নিরাপদ ৷ যদি তুমি বল, চাইলে আমি তোমাকে এই ঘর নির্মাণের ইতিবৃত্ত শোনাতে পারি ৷
শোন তার :

আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর প্রতি প্ৰত্যাদেশ করলেন যে, তুমি পৃথিবীতে
আমার উদ্দেশে একটি ঘর নির্মাণ কর ৷ প্ৰত্যাদেশ পাওয়ার পর হযরত ইব্রাহীম (আ)-এব
হৃদয় ভয়ে সংকুচিত হয়ে ওঠে ৷ আল্লাহ তাআলা সাকীনা পাঠান আর তা হলো মস্তকবিশিষ্ট
একটি প্রবল বায়ু প্রবাহ ৷ ঐ বায়ু প্রবাহটি হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে আরবে নিয়ে আসে ৷
তারপর তা বায়তৃল্লাহর স্থানে সাপের মত কুণ্ডলী পাকড়ায়! ইব্রাহীম (আ) সেই স্থানে কাবা
নির্মাণ করেন ৷ নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের সময় তিনি পুত্র
ইসমাঈলকে বললেন, আমাকে একটি পাথর খুজে এনে দাও ৷ পাথর খুজে শুন্য হাতে ফিরে
এসে ইসমাঈল (আ) দেখলেন, হাজরে আসওয়াদ’ যথাস্থানে স্থাপিত হয়ে আছে ৷ পিতাকে
জিজ্ঞেস করলেন, এটা আপনি কোথায় পেলেন ? জবাবে ইব্রাহীম (আ) বললেন, তোমার
ওপর ভরসা করতে পারেন না এমন এক সত্তা অর্থাৎ জিবরাঈল আকাশ থেকে এটি এনে
দিয়েছেন ৷ তখন ইব্রাহীম (আ) কাবার নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন ৷

হযরত আলী (রা) বলেন, এভাবে এক যুগ অতিক্রাম্ভ হওয়ার পর এক সময়ে কারাগৃহ
বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে ৷ তখন আমালিকা সম্প্রদা য় তা’ পুনর্নির্মাণ করে ৷ তারপর আবার বিধ্বস্ত হলে
জুরহুমরা পুনর্নির্মাণ করে ৷ আবার বিধ্বস্ত হলে এবার কুরায়শ সম্প্রদায়ত ত’৷ নির্মাণ করে ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) তখন পরিণত যুবক ৷ নির্মাণ কাজে সর্বশেষ হড়াজরে আসওয়াদ যথাস্থানে স্থাপন
করতে গিয়ে কুরায়শদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় ৷ শেষে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, সর্বপ্রথম যিনি
এখানে উপস্থিত হবেন, তিনি আমাদের মাঝে এই বিরোধের সমাধান দেবেন ৷ আমরা সকলে
তার সিদ্ধান্ত মেনে নেব ৷ দেখা গেল , তারপর সর্বপ্রথম যিনি তাদের কাছে উপস্থিত হলেন, তিনি

রাসুলুল্লাহ (সা) ৷ রাসুলুল্পাহ (সা) তাদের মধ্যে উদ্ভুত সমস্যার সমাধান এভাবে প্রদান করেন
যে, পাথরটিকে একটি চাদরে বসিয়ে তাদের সব কটি গোত্র প্রধান পাথরটিকে যথাস্থানে নিয়ে
যাবে ৷

আবু দাউদ তায়ালিসী আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (রা ) বলেন,
জুরহুমের পর যখন বায়তুল্লাহ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে তখন কুরায়শরা তা’ পুনর্নির্মাণ করে ৷ কিন্তু
হাজ্যর আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় ৷ অবশেষে তারা এই মর্মে
একমত হয় যে, অতঃপর যিনি সর্বপ্রথম এই দরজা দিয়ে কাবায় প্রবেশ করবেন, তিনি হাজরে
আসওয়াদ যথাস্থানে স্থাপন করবেন ৷ তারপর কাবার বনু শায়বা দরজা দিয়ে সর্বপ্রথম
রাসুলুল্লাহ (সা) প্রবেশ করেন ৷ কাবায় প্রবেশ করে রাসুলুল্লাহ (সা) একটি চাদর আনার
আদেশ দেন ৷ চাদর আনা হলে রাসুলুল্লাহ (সা) হড়াজরে আসওয়ড়াদটি তার মধ্যখানে রাখেন এবং
প্রত্যেক গোত্রপতিকে চাদরটি এক এক অংশ ধরবার আদেশ্ণ্ দেন ৷ রাসুলুল্লাহু (না)-এর
আদেশমত গোত্রপতিরা পাথরটি তুলে নিয়ে যায় ৷ শেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজ হাতে কাপড়
থেকে তুলে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করে দেন ৷

ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেন যে, ইবনে শিহাব বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) যখন
যৌবনে পদার্পণ করেন, তখন এক মহিলা কাবায় সুগন্ধির ধুনি দেয় ৷ তখন একটি জ্বলম্ভ অঙ্গার
কড়াবার গিলাফে গিয়ে পড়ে ৷ এতে আগুন ধরে যায় এবং কাবা ঘরটি পুড়ে যায় ৷ তখন তারা
তা ভেঙে ফেলে ৷ তারপর কুরায়শ পুড়ে যাওয়া ঘরটি মেরামত করে ৷ হাজরে আসওয়াদের
স্থান পর্যন্ত এসে তারা বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, কোন গোত্র তা যথাস্থানে স্থাপন করবে ৷ অবশেষে
তারা বলে যে, এসো সর্বপ্রথম যিনি এখানে এসে উপস্থিত হবেন, তার ওপর মীমাংসার তার
অর্পণ করি ৷ দেখা গেল,এরপর রাসুলুল্লাহ (সা) সর্বপ্রথম তাদের সামনে উপস্থিত হন ৷ পারে
তার পশমী চাদর ৷ কুরায়শ তার ওপর মীমাংসার তার অর্পণ করে ৷ তিনি পাথরটিকে একটি
কাপড়ে তুলে নেন ৷ তারপর প্রত্যেক গোত্রের সরদারপণ বেরিয়ে আসেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা)
তাদের প্রত্যেককে কাপড়ের এক একটি অংশ ধরিয়ে দেন ৷ তারা পাথরটিকে বহন করে নিয়ে
যায় আর রাসুলুল্লাহ (সা) নিজ হাতে পাথরটি কাপড় থেকে তুলে যথড়াস্থানে স্থাপন করে দেন ৷
সেই থেকে কুরায়শ তাকে আল-আমীন’ নামে অভিহিত করতে থাকে ৷ তখনো তার ওপর ওহী
অবতীর্ণ হয়নি ৷ এরপর থেকে মক্কার লোকেরা উট জবাই করার আগে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ
করতো ৷ বর্ণনাটি সুসামঞ্জস্যপুর্ণ এবং যুহ্রীর সীরাত থেকে নেয়া হলেও আলোচ্য বর্ণনাটি
কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী ৷ যেমন বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা) যখন যৌবনে পদাপণ
করলেন অথবা প্রসিদ্ধ মতে যখন এই ঘটনাটি ঘটে, তখন রাসুলুল্লাহ (সা) এর বয়স পয়ত্রিশ
বছর ৷ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার তা’ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন ৷ মুসা ইবনে
উকবা বলেন,কাবার পুনর্নির্মাণের ঘটনা সংঘটিত হয় নবুওতের পনের বছর আগে ৷ মুজাহিদ,
উরওয়া, মুহাম্মদ ইবনে জুবায়র ইবনে মুতইম প্রমুখের অভিমতও অনুরুপ ৷

মুসা ইবনে উকবার ভাষ্যমতে ফিজার ও কাবা নির্মাণের মাঝে সময়ের ব্যবধান ছিল
পনের বছর ৷

আমার মতে, ফিজার ও হিলফুল ফুযুলের ঘটনা সংঘটিত হয় একই বছরে ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ (না)-এর বয়স বিশ বছর ৷ এই উক্তিটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মতকে শক্তিশালী
করে ৷

মুসা ইবনে উকবা বলেন, কুরায়শের কাবা গৃহ পুনর্নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধ হওয়ার পটভুমি
এই যে, বিভিন্ন সময়ের প্লাবনের ফলে কাবার দেয়াল কিছুটা খসে পড়ে ৷ তাতে কুরায়শ
কাবার অভ্যন্তরে পানি ঢুকে পড়ার আশংকা বোধ করে ৷ অপরদিকে মালীহ নামক এক ব্যক্তি
কাবার সুগন্ধি চুরি করে নিয়ে যায় ৷ তাই কুরায়শ কা’বার ভিত্তি আরো শক্ত করার এবং সাধারণ
মানুষের প্রবেশ রোধ করার জন্য কাবার দরজা আরো উচু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ৷ এরজন্য
তারা অর্থ ও শ্রমিক সংগ্রহ করে ৷ এবার তারা কাবার গৃহ ভেঙে ৷:ফলার জন্য প্রস্তুতি নেয় এবং
এই বলে অন্যদের সতর্ক করে দেয় যেন কেউ এতে বাধা দিতে না আসে ৷ ওলীদ ইবনে মুগীরা
সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন এবং বাবার কিয়দংশ ভেঙে ফেলেন ৷ তার দেথাদেখি অন্যরাও তার
অনুসরণ করে ৷

এতে কুরায়শরা আনন্দিত হয় এবং এর জন্য শ্রমিক নিয়োগ করে ৷ কিন্তু একজন শ্রমিকও

এক পা সামনে অগ্রসর হতে পারছে না ৷ তারা যেন দেখছে যে, একটি সাপ কাবা ঘর জড়িয়ে
আছে ৷ সাপটির’লেজ আর মাথা একই জায়গায় ৷ এতে তারা ও তসস্ত্রস্ত হয়ে পড়ে ৷ তারা
আশংকা বোধ করে যে, কা’বা ঘর ভেঙে ফেলার চেষ্টায় ফলেই এমনটি হয়েছে ৷ অথচ কা’বাই
ছিল তাদের রক্ষাকবচ ও মর্যাদার হেতৃ ৷ কুরায়শরা এবার কিৎকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে ৷ এবার
মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মাখয়ুম এগিয়ে আসেন ৷ তিনি কুরায়শদের
যথােপযুক্ত উপদেশ প্রদান করেন এবং তাদের আদেশ দেন যেন তারা ঝগড়া-বিবাদ না করে
এবং বাবা নির্মাণে বিদ্বেষ পরিহার করে ৷ তারা যেন কা’বা নির্মাণের কাজকে চার ভাগে ভাগ
করে নেয় এবং এই মহান কাজে কোন হারাম সম্পদের মিশ্রণ না ঘটায় ৷ বর্ণনাকারী বলেন,
এবার কুরায়শরা মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ্র উপদেশ অনুযায়ী কাজ করার উদ্যোগ নিলে সাপটি
আকাশে চলে যায় এবং অদৃশ্য হয়ে যায় ৷ তাদের ধারণার তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছিল ৷
মুসা ইবনে উকবা বলেন, অনেকের ধারণা, একটি পাখি সাপটিকে ছে৷ মেরে ধরে নিয়ে
আজইয়াদের দিকে নিক্ষেপ করে ৷

মুহাম্মদ ইবনে ইসহড়াক বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) যখন পয়ত্রিশ বছরে উপনীত হন, তখন
কুরায়শরা কাবা নির্মাণের জন্য সম্মত হয় ৷ তাদের এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল
কাবার ছাদ স্থাপন করা ৷ আরেকটি কারণ, তারা কা,বা গৃহ ধসে যাওয়ার আশংকা করছিল ৷
উল্লেখ্য যে, সে সময় কা’বা ঘর উচ্চতায় একজন মানুষের উচ্চতার চেয়ে সামান্য বেশি উচু
ছিল ৷ তারা কা’বা গৃহকে আরো উচু এবং ছাদবিশিষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ৷ ঘটনার
পটভুমি নিম্নরুপ :
একদল লোক কাবার একটি মুল্যবান সম্পদ চুরি করে ৷ তা কাবার মধ্যস্থলে একটি গর্ভে
রক্ষিত ছিল ৷ পরবর্তীতে তা বনু মালীহ ইবনে আসর ইবনে খুযাআর দাৰীক নামক জনৈক
গোলামের নিকট পাওয়া যায় ৷ ফলে কুরায়শরা তার হাত কেটে দেয় ৷ কুয়ায়শদের ধারণা ছিল,
ওটি যারা চুরি করেছিল তারাই তা দাবীক এর নিকট বেখেছিল ৷

অপরদিকে রোম দেশীয় এক বণিকের একটি জাহাজ সমুদ্রে ভেসে ভেসে জেদ্দায় এসে
পৌছে এবং ভেঙে যায় ৷ কুরায়শরা তার কাঠগুলাে সংগ্রহ করে তা’ দিয়ে তারা কাবার ছাদ
দেওয়ার ব্যবস্থা করে ৷ উমুৰী বলেন, জাহড়াজটি ছিল রোম সম্রটি কায়সার-এর ৷ জাহাজটি
পাথর,কাঠ, লোহা ইত্যাদি নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে নিয়োজিত ছিল ৷ কায়সার বাকুম রুমীর
সঙ্গে জাহাজটি সেই গির্জা অভিমুখে রওয়ানা করিয়েছিলেন, যা পাবস্যবাসীরা আগুনে পুড়িয়ে
ফেলেছিল ৷ জাহাজটি জেদ্দায় ঠেকে যাওয়ার পর আল্লাহ তার উপর দিয়ে প্রবল বায়ু প্রেরণ
করেন ৷ সেই বায়ুর ঝাপটায় জাহাজটি ভেঙে যায় ৷

ইবন ইসহাক বলেন, মক্কায় একজন কিবতী ছুতার ছিল ৷ কাবা যেবামতের অনেক সরঞ্জাম
সে প্রস্তুত করে দেয় ৷ অপর দিকে একটি সাপ কাৰার কুপ থেকে বেরিয়ে এসে কিবতী তার
প্রতিদিন যে কাজ আঞ্জাম দিত, তা লমোঃ করে দিত ৷ ভ্য়ংকর সেই সাপটি কাবার দেয়ালে
উঠে উকি ঝুকি মারত ৷ কেউ তার নিকট অগ্রসর হলে সে মুখ হা-করে কণা তুলে তাকিয়ে
থাকত ৷ এতে মানুষ ভীতষ্সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত ৷ এমনিডাবে প্রতিদিনকার ন্যায় একদিন সাপটি
কাবার দেয়ালে উঠে উকি দিলে আল্লাহ একটি পাখি প্রেরণ করেন ৷ পাখিটি সাপটিকে ছো
মেরে নিয়ে যায় ৷ ফলে কুরায়শ বলে, আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ আমাদের পরিকল্পনায়
সত্তুষ্ট হয়েছেন ৷ আমাদের আছে দক্ষ কারিগর, আছে কাঠ ৷ আর সাপের সমস্যা থেকেও
আল্লাহ্ আমাদের মুক্তি দিলেন ৷

সুহায়লী রাযীন থেকে বর্ণনা করেন, জুরহমের আমলে এক চোর কাবার গুপ্ত ভান্ডার চুরি
করার উদ্দেশে কাবায় প্রবেশ করে ৷ চুরি করার জন্য লোকটি কুপে অবতরণ করলে কুপের
পাড় তার ওপর ভেঙে পড়ে ৷ সংবাদ পেয়ে কুরায়শরা তাকে বের করে আগে এবং চুরি করা
সম্পদ উদ্ধার করে ৷ এরপর থেকে সেই কুপে একটি সাপ বসবাস করতে শুরু করে ৷ সাপটির
মাথা ছিল একটা ছাগল ছানার মাথার মত ৷ পেট সাদা আর পিঠ কালো ৷ সাপটি এই কুপে দীর্ঘ
পড়াচ শ’ বছর অবস্থান করে ৷ এটাই ছিল সেই মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণিত সাপ ৷

ইবনে ইসহাক বলেন, কুরায়শ যখন কাবার পুরনো ভিত্তি ভেঙে নতুনভাবে ভিত্তি স্থাপনের
সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আবু ওহাব অড়ামর ইবনে আয়িদ ইবনে আবৃদ ইবনে ইমরান ইবনে মাখবুম
-ইবন হিশামের মতে আয়িদ ইবন ইমরান ইবন মাখবুম কাবার একটি পাথর খসিয়ে নেয় ৷
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পাথরটি তার হাত থেকে লাফ দিয়ে স্বস্থানে ফিরে যায় ৷ তা’ লক্ষ্য করে সে
বলে, হে কুৰায়শ সম্প্রদায়! কাবা নির্মাণে তোমরা তোমাদের উপান্তিতি পবিত্র সম্পদ ব্যতীত ন্
অন্য কিছু মিশিয়ো না ৷ এতে কোন গণিকার উপার্জন এবং সুদের এবং জুলুমের অর্থ যেন না

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৭৫-

ঢুকে ৷ অনেকের ধারণা, এই উক্তিটি ওলীদ ইবন মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন
মাখযুম এর ৷ কিভু ইবনে ইসহাক উক্তিটি আবু ওহাব ইবনে আমরের হওয়ার ম৩ টিকে প্রাধান্য

দিয়েছেন ৷ ইবনে ইসহাক বলেন, উক্ত আবু ওহাব ছিলেন রাসুলুল্লাহ ৷ সা)-এর পিতার মামা ৷
তিনি অত্যন্ত সল্লাভ ও প্রশং সাহ ব্যক্তি ছিলেন ৷

ইবনে ইসহাক বলেন তারপর কুরায়শর৷ কাবাকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে নেয় ৷
দরজার অং শ নির্মাণের দায়িতৃ নেয় বনু আবৃদ মানাফ ও যুহর৷ গোত্রদ্বয়; রুকন আসওয়াদ ও
রুকন ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানের দায়িতৃ পায় বনু মাথযুম ৷ আর কুরায়শের আরো কয়েকটি
গোত্র তাদের সঙ্গে মিলে কাজ করে ৷ কাবার পিছনের অংশ পায় বনু জামৃহ ও বনু সাহ্ম ৷

অপরদিকে বনু আব্দুদ্দার ইবনে কুসাই, বনু আসাদ ইবনে আবদুল উঘৃয৷ ও বনু আদী
ইবনে কাব হিজর তথা ৷হাত্তীম নির্মাণের দায়িতুপ্রাপ্ত হয় ৷

কিন্তু মানুষত ৷’ ভাঙার ব্যাপারে ভয় পাচ্ছিল এবং প্রতোৰ্কষ্টক্ট্র গা বাচিয়ে চলার চেষ্টা
করছিল ৷ তখন ওলীদ ইবনে মুগীরা বলেন, ঠিক আছে, আমি তােমাংদরকে কা বাগৃহ ভাঙার
কাজ শুরু করে দিচ্ছি ৷ এই বলে তিনি পাইতি নিয়ে কাবার সামনে গিয়ে র্দাড়ান এবং বলতে
শুরু করেন, হে আল্লাহ ! তুমি আমাদের মন থেকে ডীতি দুর করে দাও ৷ কল্যাণ ব্যতীত অন্য
কিছু৫ তা আমাদের অভীষ্ট নয় ৷ ” তারপর তিনি দৃই রুকনের কিছু অং শ ভেঙে ফেলেন ৷ সেই
রাতের মত এর ফল কি পাতায় তা দেখার জন্য লোকজন অপেক্ষা করে এবং বলে , আমরা
অপেক্ষা করছি ৷ ওলীদ ইবন মুগীরা যদি কোন বিপদে পতিত হন, তা হলে আমরা কাবার
একটুও ধ্বংস করতে যাবো না এবং যা ভাঙা হয়েছে, তাও পুর্বের মত করে দেব ৷ আর যদি
তাকে কোন বিপদ স্পর্শ না করে তা হলে বুঝে নেব, আমরা কাবা ভাঙার যে পরিকল্পনা
নিয়েছি, আল্লাহ তাতে সন্তুষ্ট আছেন ৷ পরদিন সকালে ওলীদ আবার কাবা গৃহ ভাঙার কাজ শুরু
করেন ৷ তার সঙ্গে অন্যরাও ভাঙতে শুরু করে ৷ অবশেষে ভাঙার কাজ যখন ইররাহীম (আ ) এর
ভিত্তি পর্যন্ত পৌছে, তখন তারা একটি সবুজ পাথর দেখতে পায় ৷ পাথরটি দস্তসারির ন্যায়,
যেন একটি অপর্ঢিকে জড়িয়ে আছে ৷ ইয়ায়ীদ ইবন রুমান থেকে বর্ণিত সহীহ বুখারীর এক
হাদীসে ,া১৷ ৷ য়ুদুহ্র বলা হয়েছে ৷ অর্থ ৎ পাথরটি দেখতে উটের কুজের মত৷ সুহায়লী
বলেন, আমার ধারণা সীরারু তর বর্ণনায় শব্দটি এা৷£ রুপে (জিহবার ন্যায়) ব্যবহার
রাবীর ভ্রম মাত্র ৷

ইবন ইসহাক বলেন, কা বাগৃহ ভাঙার কাজে অং শগ্রহণকারীদের একজন কা’বার দুইটি
পাথরের মাঝে শাবল ঢুকিয়ে চাপ দেয় ৷ তাতে একটি পাথর নড়ে উঠলে সাথে সাথে সমগ্র
মক্কানগরী কেপে ওঠে ৷ ফলে তারা ঐ অংশ ভাঙা থেকে বিরত থাকে ৷

মুসা ইবনে উকবা বলেন৪ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) এর ধারণা কুরায়শ এর
কতিপয় প্রবীণ ব্যক্তি বলরু তন যে, কুরায়শর৷ যখন কা বার কিছু পাথর ইবরাহীম ও ইসমাঈল
আে)-এর ভিত্তির নিকট সরিয়ে নিতে সমবেত হয়, তখন তাদের একজন প্রথম ভিত্তির একটি
পাথর সরাতে উদ্যত হয় ৷ অবশ্য তার কথা জানা ছিল না যে, এটি প্রথম ভিত্তির পাথর ৷

সরানোর উদ্দেশ্যে লোকটি পাথরটি তুলে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনতা পাথরের নিচে বিদ্যুতের
ঝলক দেখতে পায়, যেন তা লোকটির চোখ ঝলসে দেয়ার উপক্রম হয় এবং পাথরটি তার হাত
থেকে ছুটে গিয়ে যথাস্থানে বসে যায় ৷ তা’ দেখে সােকটি নিজে এবং নির্মাণ শ্রমিকরা ভীত হয়ে
পড়ে ৷ পাথরটি যখন তার নিচের বিদ্যুৎ ঝলকানি ঢেকে ফেলে, ত খন শ্রপ্লিকরা পুনরায় নির্ম ণ

কাজে আত্মনিয়োগ করে এবং বলাবলি করে কেউ এই পাথর এবং এই স্তরের অন্য কিছু
সরাবার চেষ্টা করো না ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, কুরায়শরা রুক্ন এ সুরিয়ানী
ভাষায় লিখিত একটি লিপি পেয়েছিল ৷ কিন্তু তারা৩ার মর্ম উদ্ধার করতে পারেনি ৷ পরে জনৈক
ইহুদী তাদেরকে লিপিটি পা ঠ করে শোনার ৷ তাতে লেখা ৷ংছিল ,

আমি মক্কার অধিপতি আল্লাহ্ ৷ এই মকাকে আমি সেদিন সৃষ্টি করেছি, যেদিন আকাশসমুহ

ও পৃথিবী সৃষ্টি করি এবং সুর্য ও চন্দ্রকে আকৃতি দান করি ৷ এবং তাকে আমি সা৩ টি রাজ্য দ্বারা

আচ্ছাদিত করি ৷ এর পাহাড় দু টি স্থানান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত এর কোন নড়চড় হবে না ৷ এর
অধিবাসীদের জন্য এটি পানি ও দৃধসমৃদ্ধ, বরকতময় ৷

ইবনে ইসহাক বলেন, আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, কুরায়শ রামাকামে ইবরাহীমে
একটি লিপি পায় ৷ তাতে লেখা ছিল : এটি আল্লাহর পবিত্র মক্কা ৷ এর তিন পথে এখানকার
অধীবাসীদের জীবিকা আসে ৷ এর অধিবাসীদের কেউ এর মর্যাদা ক্ষুগ্ন করতে পারবে না ৷

ইবনে ইসহাক বলেন, লাইছ ইবনে আবী সুলায়ম-এর ধারণা মতে, রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
আবির্ভাবের চল্লিশ বছর আগে কুরায়শরা কাবায় একটি লিপি পায় ৷ তাতে লেখা ছিল :

যে ব্যক্তি কল্যাণের বীজ বপন করবে, সে ঈর্ষণীয় ফসল তুলবে আর যে ব্যক্তি অকল্যাণের
বীজ বপন করবে, সে অনুতাপেব ফসল তুলবে ৷ মানুষ কাজ করে অসৎ আর প্রতিদান চায়
সৎকাজের ? এটা যেমন কাটাময় বৃক্ষ থেকে আব্দুর ফল লাভ করা আর কি?

সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-উমাবী বলেন, ঘুহরী সুত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছেন ব্রু মাকামে ইবরাহীমে তিনটি লিপি পাওয়া যায় ৷ এক পাতা য় লেখা ৷ছিল

আমি মক্কার অধিপতি আল্লাহ ৷ চন্দ্র সুর্য সৃষ্টি করার দিনই আমি তৈরি করেছি এবং সাত
রাজ্য দ্বারা তাকে আবৃত করেছি ও তার অধিবাসীদের জন্য গোশতে ও দৃধে বরকতদ দা
করেছি ৷

দ্বিতীয় লিপিতে ছিল :

আমি মক্কার অধিপতি আল্লাহ ৷ আমি রাহিম (আত্মীয়৩ তা) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম

থেকে তার নামকরণ করেছি ৷ অতএব, যে লোক তা বজায় রাখবে আমি তাকে কাছে টেনে
আনবো ৷ আর যে তা ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্নভিন্ন করব

তৃতীয় লিপিতে ছিল :
আমি মক্কার অধিপতি অ ৷ল্লাহ ৷ আমি কল্যাণ অকল্যাণ ও তার ভাগ্যলিপি মির্ধারণ করেছি ৷
সুতরাং সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য, যার দুই হাতে আমি কল্যাণ চালু করেছি আর ধ্বংস সেই
ব্যক্তির জন্য, যার দুই হাতে আমি চালু করেছি অকল্যাণ ৷

ইবন ইসহাক বলেন, তারপর কুরায়শ গোত্রগুলো কাব৷ নির্মাণের জন্য পাথর সংগ্রহ করে ৷
প্রত্যেক গোত্র স্বতন্ত্রভাবে পাথর সগ্রেহের কাজ সম্পন্ন করে ৷ তারপর তার৷ কাব৷ নির্মাণ করে ৷
নির্মাণ কাজ রুক্ন (হাজরে আসওয়াদ) এর স্থান পর্বত পৌছলে তারা বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে ৷
প্রবুত্যক গোত্রই চাইছিল যেন তারাই তাকে স্বস্থানে পুনঃস্থাপন করে , অন্য কেউ নয় ৷ তাদের
এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে ৷ তারা পরস্পর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত
হয় ৷ বনু আবদৃদ্দার রক্ত ভর্তি একটি পাত্র উপস্থিত করে ৷ তারপর তারা এবং বনু আদী ইবন
কাব ইবন লুআই মৃত্যুর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং পাত্রের রক্তে হাত ঢুকায় ৷ তাকে তারা
লাকাতুদ্দাম’ তথা রক্ত চুক্তি নামে আখ্যা দেয় ৷ কুরায়শরা এই অবস্থায় চার ফি পাচ দিন
অতিবাহিত করে ৷ তারপর তারা মসজিদে সমবেত হয়ে পরামর্শ করে ৷ কোন কোন রর্ণনাকারীর
ধারণা, সে সময়ের কুরায়শদের প্রবীণতম ব্যক্তি আবু উমাইয়া ইবন মুপীরা (ইবন আবদুল্লাহ
ইবন আমর ইবন মাখঃযুম) বললেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায় ৷ ণ্তামাদের বিবাদের যীমাৎসা তোমরা
এভাবে কর যে, মসজিদের এই দরজা দিয়ে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তার হাতে
তোমরা এর মীমাংসার তার অর্পণ করবে ৷ সে তোমাদের মাঝে এই বিবাদের মীমাংসা করবে ৷
এ প্রস্তাবে তারা সম্মত হয় ৷ দেখা গেল, যিনি সর্ব প্রথম মসজিদে প্রবেশ করলেন তিনি
রাসুলুল্পাহ্ (সা ) ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) কে দেখে তারা বলে উঠল, এই যে আমাদের আল-আমীন’
মুহাম্মদ এসেছেন, তার সিদ্ধান্তে আমরা রাজী ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তাদের নিকটে গেলে তারা
বিষয়টি তাকে জ ৷নায় ৷ রাসৃতল্লাহ্ (সা) বললেন : “আমাকে একটি কাপড় এনে দাও ৷ ’কাপড়
দেওয়া হলো ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) রুক্ন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ নিজ হাতে তুলে সেই কাপড়ের

ওপর রাখলেন ৷ তারপর বললেন : “প্রত্যেক গোত্র কাপড়ের এক একটি কোন ধর ৷ তারপর
সকলে মিলে তা তলে নিয়ে যাও ৷ তারা তা ই করল ৷ তা নিয়ে তারা যথাস্থানে পৌছলে তিনি
নিজ হাতে তা স্থাপন করে দেন ৷ উল্লেখ্য যে, কুরায়শরা রাসুলুল্পাহ্ (সা) কে ইতিপুর্বেই
আল-আমীন’ নামে ডাকতে৷ ৷

ইমাম আহমদ বলেন, সাইব ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, তিনি জাহেলী যুগে কাবা
নির্মাতাদের একজন ছিলেন ৷ তিনি বলেন, আমার একটি পাথর ছিল ৷ আল্লাহর স্থলে আমি তার
ইবাদত করতাম ৷ আমি গাঢ় দুধ নিয়ে আসতাম, যা ছিল আমার অতি প্রিয় ৷ সেই দুধ উক্ত
পাথরের গায়ে ছিটিয়ে দিতাম আর একটি কুকুর এসে তা চেটে যেত এবং এক পা উঠিয়ে তাতে
পেশার করে দিত ৷ কাব৷ নির্মাণের এক পর্যায়ে আমরা হাজরে আসওয়ার্ভদর স্থানে উপনীত
হলাম ৷ কিন্তু কেউ পাথরটি দেখতে পেলো না ৷ হঠাৎ দেখা গেল, পাথরটি আমার পাথরগুলাের
মধ্যখানে, দেখতে ঠিক মানুষের মাথার ন্যায়, যেন তা থেকে মানুষের মুখমগুল আত্মপ্রকাশ
করবে ৷ দেখে কুরায়শের একটি গোত্র বলল, এটা আমরা স্থাপন করব ; আরেক গোত্র বলল, না
আমরা স্থাপন করব ৷ লোকেরা বলল, এর সমাধানের জন্য তোমরা একজন সালিস নিযুক্ত কর ৷
অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো, বাহির থেকে সর্বপ্রথম যিনি এখানে আসবেন, তিনিই এ সমস্যার
সমাধান করবেন ৷ আসলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ৷ তাকে দেখে লোকেরা বলে উঠল , তোমাদের
মাঝে আল-আমীন এসে গেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-কে তারা বিষয়টি অবহিত করল ৷ তিনি
পাথরটি একটি কাপড়ে রাখলেন ৷ তারপর প্রত্যেক গোত্রকে ডাকলেন ৷ তারা কাপড়ের এক
একটি প্রান্ত ধরে পাথরটি তৃ£ল যথাস্থানে নিয়ে যান ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজ হাতে তা যথাস্থানে
স্থাপন করেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আমলে কাব৷ আঠার হাত লম্বা ছিল ৷ প্রথমে
কাবাকে মিসরীয় কা পড় দ্বারা ঢেকে রাখা হতো ৷ তারপর বারুর’ বস্ত্র দ্বারা ডাকা হয় ৷ সর্বপ্রথম
যিনি কা বায় রেশমী কাপড়ের গিলাফ পরান, তিনি হলেন হাজ্জ জ্জাজ ইবন ইউসুফ ৷

আমার মতে, কুরায়শরা কা যা থেকে হিজরকে বের করে ফেলে ৷ পরিমাণে তা উত্তর দিক
থেকে ছয় কি সাত হাত ৷ এর কারণ অর্থের অভাব ৷ কাবাকে হুবহু ইবরাহীমী ভিত্তির ওপর
নির্মাণ করার সামর্থ্য কুরায়শদের ছিল না ৷ তারা পুর্ব দিকে কাবার একটি মাত্র দরজা রাখে ৷
আর তা স্থাপন করে উচু করে ৷ যাতে ইচ্ছা করলেই যে কেউ তাতে প্রবেশ করতে না পারে,
যেন প্রবেশাধিকার তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে ৷

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তাকে বলেছিলেন ষ্ক

তুমি কি জানাে না যে, তোমার সম্প্রদায় অর্থ সংকঃট ছিল ? তোমার সম্প্রদা য় নওমুসলিম
না হলে আমি কা বাকে ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করত ৷ম ৷ তখন পুর্বমুখী একটি দরজা আর
পশ্চিম যুখী একটি দরজা রাখতাম ৷ আর হিজ্বর তথা হড়াতীমকে কা বার অন্তর্ভুক্ত করে নিতাম

এ কারণে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র ক্ষমতাসীন হয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) )-এর নির্দেশনা
মোতাবেক কা বাকে পুনঃর্নির্মাণ করেন ৷৩ তাতে কা বা পরিপুর্ণরুপে ইবরাহীম (আ) এর ভিত্তিতে
ফিরে আসে এবং যারপরনাই আকর্ষণীয় গৃহে পরিণত হয় ৷ তিনি মাটি সং লগ্ন করে দু’টি দরজা
তৈয়ার করেন ৷ একটি পুর্বযুখী আর অপরটি পশ্চিমমুখী ৷ একটি দিয়ে মানুষ প্রবেশ করতো,
অপরটি দিয়ে বের হতো ৷ তারপর হাজ্জা জ ইবন ইউসুফ ইবন যুবায়রকে হত্যা করে খলীফা
আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের নিকট পত্র লেখেন ৷৩ তাতে তিনি ইবন যুবায়র কর্তৃক কা বা
পুন ংনির্মাণের কথা উল্লেখ করেন ৷ তখন তাদের বিশ্বাস ছিল, ইবন যুবায়র ক জটি নিজের
মজ্যিাত করেছিলেন ৷ তাই খলীফ৷ আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান কা বাকে পুর্বের মত করে
নির্মাণ করার আদেশ দেন ৷ তখন উত্তর দিকের দেয়াল ভেঙে হিজ্বরকে বের করে ফেলা হয়
এবং তার পাথরগুলোকে কা’বার মাটিতে সযত্নে পুতে রাখা হয় ৷ দরজা দুটো উচু করা হয়
এবং পশ্চিম দিককে বন্ধ করে দিয়ে পুর্ব দিককে আগের মত রাখা হয় ৷ পরবর্তীতে খলীফা
মনসুর কাবাকে ইবন যুবায়রের ভিতের ওপর ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ইমাম মালিকের
মতামত চা ৷ইলে তিনি বলেন, রাজা-কাদশারা কা বাকে তামাশার পাত্রে পরিণত করুক আমি তা
পছন্দ করি না ৷ ফলে খলীফা মনসুর কা বাকে পুর্বাবস্থায় রেখে দেন ৷ এখনও তা সেই রুপেই
বিদ্যমান ৷

কাবার আশপাশ থেকে সর্বপ্রথম ঘরবাড়ি সরিয়ে দেন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা ) ৷
মালিকদের নিকট থেকে ক্রয় করে তিনি সেগুলো ভেঙে ফেলেন ৷ পরে হযরত উসমান (বা)
আরো কয়েকটি বাড়ি ক্রয় করে সেগুলোও ভেঙে ফেলেন ৷ তারপর ইবন যুবায়র (বা ) তার
শাসনামলে কা বার তিতকে আরও মজবুত করেন ৷ দেয়ালগুলোর সৌন্দর্য এবং দরজার সং খ্যা
বৃদ্ধি করেন ৷৩ তবে তিনি আর কিছু করতে পারেননি ৷৩ তারপর আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান
খলীফা হয়ে কাবার দেয়াল আরো উচু করেন এবং হাজ্জা জ ইবন ইউসুফের মাধ্যমে কা বাকে
রেশমী কাপড়ের গিলাফ দ্বারা আবৃত করেন ৷ সুরা বাকারার আয়াত :

এর তাফসীরে আমরা কা বা নির্মাণের কাহিনী এবং এতদসংক্রাম্ভ হাদীসসমুহ উল্লেখ
করেছি ৷ প্রয়োজনে সেখানে দেখে নেয়া যেতে পারে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, যখন তারা কা বার নির্মাণ কাজ তাদের ইচ্ছানুযায়ী শেষ করে তখন
যুবায়র ইবন আবদুল মুত্তালিব তাদেরকে সেই সাপটির কাহিনী ণ্শানান, যার ভয়ে কুরায়শরা
কাব৷ নির্মাণের কাজ করতে প ৷রছিল না ৷ ঘটনাটি তিনি ক ৷ব্যাক৷ রে বিবৃত করেন :

যে সাপটি কুরায়শের উদ্বেগের কারণ হয়ে র্দড়াড়িয়েছিল, একটি ঈগল পাখি কিরুপ
নির্ভুলভাবে তাকে ছে৷ মেরে নিয়ে গেল, তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি ৷ সাপটি কখনো কুণ্ডলী
পাকিয়ে কখনো কথা তুলে ছোবল মারার তঙ্গিতে থাকত ৷ যখনই আমরা কাবা সংস্কারের
উদ্যেড়াপ নিয়েহি, তখনই সে রুখে দাড়িয়েছে এবং তার স্বভাবসুলভ ভীতিপ্রদ ভঙ্গিতে ভয়
দেখিয়েছে ৷ আমরা যখন এই আপদের ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেলাম, তখন ঈগলটি এসে
আমাদেরকে রক্ষা করল এবং সংস্কারের কাজে আমাদের আর কোন বাধা থাকল না ৷

পরদিন আমরা সকলে বিবন্ত্র অবস্থায় সংস্কার কাজে লেগে পেলাম ৷ মহান আল্লাহ এ
কাজটি করার সুযোগ দিয়ে বনু লুওয়াইকে অর্থাৎ আমাদেরকে গৌরঘানিঃত করলেন ৷ তবে
তাদের পরে বনু আদী এবং বনু মুররাও এ কাজে এসে জড়ো হয়েছে ৷ বনু কিলাব ছিল এ কাজে
তাদের চেয়েও অগ্রণী ৷ আল্লাহ আমাদেরকে কাবার নিকট বসবাসের সুযোগ দিয়ে সম্মানিত
করেছেন ৷ আশা করা যায় , এ কাজের প্রতিদান আল্লাহর নিকট পাওয়া যাবে ৷ উল্লেখ্য যে, এর
আগে একটি অধ্যায়ে আমরা বলে এসেছি, আল্লাহ তাআলড়া রাসুলুল্লাহ (সা) কে জাহেলিয়াতের
পঙ্কিলতা থেকে সর্বতোভাবে নিরাপদ বেখেছিলেন ৷ যেমন কাবা নির্মক্রোর সময় তিনি এবং তার
চাচা আব্বাস (বা) পাথর স্থানান্তরের কাজ করতেন ৷ এক পর্যায়ে তিনি পরিধানের কাপড় খুলে
তা র্কাধের ওপর রেখে পাথর বহন করে নিয়ে যেতে শুরু করলেন ৷ সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ র্তাকে
কাপড় খুলতে ধারণ করে দেন ৷ ফলে তৎক্ষণাৎ তিনি কাপড় পরে নেন

অধ্যায়
ইবন ইসহাক বলেন, কুরায়শদেরকে হুমুস নামে অভিহিত করা হতো ৷ এর ধাতুগত অর্থ
দীনের ব্যাপারে চরম কঠোরতা ৷ তাদেরকে এই নামে নামকরণের কারণ হলো, তারা হারম
শরীফকে সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতো ৷ যে কারণে তারা আরাফার রাতে এখান
থেকে বের হতো না ৷ তারা বলত, আমরা হলাম হারমের সন্তান এবং এর অধিবাসী ৷ ফলে
তারা এ কথা আরাফার অবস্থান বর্জন করত ৷ এটা হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর অন্যতম স্মৃতি
একথা জানা থাকা সত্বেও তারা তা বর্জন করত ৷ মনপড়া কুসংস্কার থেকে তারা একটুও নড়চড়
করতো না ৷ ইহরাম অবস্থায় তারা দুধ থেকে ছানা ঘি চর্বি কিছুই সংগ্রহ করত না তারা
পশমের তৈরি র্তাবুতে প্রবেশ করত না এবং ছায়ায় বসার প্রয়োজন হলে চামড়ার ঘর ছাড়া অন্য
কোন ঘরের ছায়ায় বসত না ৷ হজ্জ ও উমরা পালনকারীদেরকে তারা তাদের সরবরাহকৃত
পোশাক ব্যতীত অন্য পােশাকে তাওয়াফ করতে এবং তাদের দেয়া খাবার ব্যতীত অন্য খাবার
খেতে বারণ করত ৷ হজ্জ উমরাহ পালনকারীদের কেউ যদি কুরায়শ, তাদের বংশধর কিৎবা
তাদের দলভুক্ত কিনানা ও থুযাআ কারোর নিকট থেকে কাপড় না (পত, তবে তাকে বিবস্ত্র
তাওয়াফ করতে হতো ৷ মহিলাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতো ৷ এ কারণে এমন পরিস্থিতিতে
মহিলারা যথাস্থানে হাত রেখে রায়তুল্লাহ তাওয়াফ করত আর বলত :

আজ আমার লজ্জাস্থানের অংশবিশেষ বা পুরোটা বিবস্ত্র হয়েছে ঠিক কিন্তু আজকের পর
আর এমনটি হতে দেব না ৷

যদি কেউ কোন হুমসীর কাপড় পাওয়া সত্বেও যে নিজের কাপড় পরে তাওয়াফ করত তবে
তাওয়াফ শেষে তাকে সেই কাপড় খুলে ফেলে দিতে হতো ৷ পরে সেই কাপড় আর সে ব্যবহার
করতে পারত না ৷ তার বা অন্য কারো জন্য সেই কাপড় স্পর্শ করার অনুমতি ছিল না ৷ আরব
সেই কাপড়ের নাম দিয়েছিল আল-লাকি’ ৷ ইবন ইসহাক বলেন, কুরায়শ এমনি কুসংস্কারে
নিমজ্জিত হ্নিন্ ৷ এই অবস্থায় আল্লাহ মুহাম্মদ (না)-কে প্রেরণ করেন এবং মুশরিকদের মনগড়া
কুসংস্ক৷ র ৷প্রতিরোধে তীর ওপর কুরআন নাযিল করেন ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন :

তারপর অন্যরা যেখান থেকে প্রত্যবের্ডন করে, ণ্,তামরাও সে’ন্ ন্ থেকে প্রত্যাবর্তন করবে

আর আল্লাহ্ৱ নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে ৷ বন্তুত আল্লাহ ক্ষমড়ালীল পরম দয়ালু ৷ (২ বাকারাং :
১ ৯৯ ২০ : )

অর্থাৎ আরবের সর্বসাধারণ যেভাবে আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তেমনি তােমরাও
আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন কর ৷

আমরা আগেও উল্লেখ করে এসেছি যে, ওহী নাযিলের পুর্ব থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা) আল্লাহ
প্রদত্ত তাওফীক অনুযায়ী আরাফায় অবস্থান করতেন ৷

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরায়শরা লোকদের ওপর যে পোশাক ও যে খাবার
হারাম করে নিয়েছিল, তা বা তিন ঘোষণা করে বলেন :

অর্থাৎ হে বনী আদম ! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে,
আহার করবে ও পান করবে; কিন্তু অপচয় করবে না ৷ নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ
করেন না ৷ বল, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি
করেছেন, তা কে হারাম করলো ? (আরাফ : ৩ ১-৩২)

যিয়াদ আল বুকায়ী ইবন ইসহড়াক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, কুরায়শের এসব কুসংস্কার
আবিষ্কারের ঘটনা হাতীর ঘটনার আগে ঘটেজ্জি, নাকি পরে তা’ আমার জানা নেই ৷

য়াসুলুস্নাহ (না)-এর নবুওত লাভ এবং
এতদ্সস্পার্কিত কঃরকটি পুরতািস

মুহষ্মেদ ইবন ইসহাক বলেন, অনেক ইহুদী পণ্ডিত, নাসারা গণক এবং আরবের অনেকে
আবির্ভাবের আগেই রাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে বলাবলি করতেন যে, তীর আগমনের সময় ঘনিয়ে
এসেছে ৷ ইহুদী ও নাসারা পণ্ডিতপণ তাদের কি৩ তাবসমুহে বর্ণিত রাসল (সা) এর গুণারলী ও
তার আগমন কালের বিবরণ এবং তাদের নযীদের প্রতিশ্রুতি থেকে রষয়টির ব্যাপারে অবহিত
হতে পেয়েছিলেন ৷ যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

অর্থাৎ যারা অনুসরণ করে বা৩ ড়াবাহক উন্নী নবীর, যার উল্লেখ তাওরাত ও ইনৃজীল যা
তাদ্যেষ্ক নিকট আছে তাতে লিপিবদ্ধ পায়; (৭ আ রাফং ১৫৭)

আল্লাহ তা আলা অন্যত্র বলেন :

স্মরণ কর, যখন ঈসা ইবন মরিয়ম বলল, হে বনী ইসরাঈল আমি তোমাদের প্ৰতি প্রেরিত
আল্লাহ্র রাসুল, আমার আগমন পুর্বের তাওরাতের সত্যায়নকারী রুপে এবং এমন এক রড়াসুলের
সুসংবাদ দানকারী রুপে যিনি আমার পরে আগমন করবেন, যার নাম হবে আহমদ ৷

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন

মুহাম্মদ আল্লাহ্র রাসুল ৷ তার সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে
পরস্পরের প্রতি সহড়ানুতুতিশীল; আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় প্প্খ্যাঃ

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>