রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ কি ভুল? তাতে শিরক আছে?

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ কি ভুল? তাতে শিরক আছে?
প্রশ্ন
হুজুর এক আহলে হাদীসের সাথে কথা বলতেছিলাম এক পর্যায়ে সে বলল আমরা যে কালিমা পড়ি ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” এই কালিমাটি নাকি ভুল ৷ এভাবে বললে নাকি শিরক হবে ৷ কোন হাদীসে নাকি এভাবে নেই৷ বরং ওয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এভাবে নাকি সহীহ ৷ এ বিষয়ে আপনার নিকট সঠিক সমাধান জানতে চাই ৷
উত্তর
উম্মতের ইজমা ও হাজার বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন আমলী সূত্র পরম্পরায় কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ হিসেবে স্বীকৃত বিষয়ে ভুল ধরে তাকে শিরক বলে দেয়া কত বড় দৃষ্ঠতা প্রদর্শন আন্দাজ করুন৷ নিজেদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার কারনে “লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ এর স্বপক্ষে কোন হাদীস না পেয়ে কালিমাটিকেই অস্বিকার করে শিরক বলে দিল। ইহা উম্মতের মুসলিমাহ এর উপর অপবাদ লাগানো বৈকিছু হতে পারে না ৷
নিম্নে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ” কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ এর স্বপক্ষে সংক্ষিপ্ত আকারে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলোঃ
ﻋﻦ ﻳﻮﺳﻒ ﺑﻦ ﺻﻬﻴﺐ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ، ﻋﻦ
ﺃﺑﻴﻪ، ﻗﺎﻝ : ﺍﻧﻄﻠﻖ ﺃﺑﻮ ﺫﺭ ﻭﻧﻌﻴﻢ ﺍﺑﻦ ﻋﻢ ﺃﺑﻲ ﺫﺭ، ﻭﺃﻧﺎ
ﻣﻌﻬﻢ ﻳﻄﻠﺐ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ
ﻭﻫﻮ ﻣﺴﺘﺘﺮ ﺑﺎﻟﺠﺒﻞ، ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺃﺑﻮ ﺫﺭ : ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ،
ﺃﺗﻴﻨﺎﻙ ﻟﻨﺴﻤﻊ ﻣﺎ ﺗﻘﻮﻝ، ﻗﺎﻝ : ﺃﻗﻮﻝ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪ، ﻓﺂﻣﻦ ﺑﻪ ﺃﺑﻮ ﺫﺭ ﻭﺻﺎﺣﺒﻪ .
বুরাইদা (রা.) বলেন, আবুজর ও নুআইম তারা দুজন রাসূল (সা.)-এর খুঁজে বের হন। আমি তাঁদের সাথে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন এক পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। তখন আবুজর তাঁকে বলেন, হে মুহাম্মদ আপনি কি বলেন আমরা শুনতে এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি বলি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
আল ইসাবা ইবনে হাজর ৬/৩৬৫, হাদীস নং
৮৮০৯৷
এই হাদীসের সনদ সহীহ, এবং সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺩَﺧَﻠْﺖُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﺮَﺃﻳْﺖُ ﻓِﻲ ﻋﺎﺭِﺿَﺘِﻲ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ
ﻣَﻜْﺘُﻮﺑﺎً ﺛﻼﺛﺔ ﺃﺳﻄﺮ ﺑﺎﻟﺬﻫﺐ : ﺍﻟﺴﻄﺮ ﺍﻷﻭﻝ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤَّﺪٌ ﺭَﺳﻮُﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺴَّﻄﺮُ ﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻲ ﻣﺎ ﻗﺪﻣﻨﺎ
ﻭَﺟَﺪْﻧﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺃﻛَﻠْﻨﺎ ﺭَﺑِﺤْﻨﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠَّﻔْﻨﺎ ﺧَﺴِﺮْﻧﺎ ﻭﺍﻟﺴَّﻄْﺮُ
ﺍﻟﺜَّﺎﻟِﺚُ ﺃُﻣَّﺔٌ ﻣُﺬْﻧِﺒَﺔٌ ﻭَﺭَﺏٌّ ﻏَﻔُﻮﺭٌ
“হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মেরাজকালে আমি বেহেশতে প্রবেশের সময় এর দু’পাশে দেখি তিনটি লাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা :
প্রথম লাইন. লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
দ্বিতীয় লাইন. আমরা যে ভালো কর্ম পেশ করেছি, তা পেয়েছি। যা খেয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি। যা ছেড়ে এসেছি, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
তৃতীয় লাইন, উম্মত হলো গোনাহগার, আর রব হলো ক্ষমাশীল।
জামেউস সগীর সুয়ূতী ১/৮৭১ হাদীস নং ৪১৮৬, ইমাম সুয়ূতী রঃ হাদীসটি সহীহ বলেছেন ৷
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺭَﺍﻳَﺔُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ
ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺳَﻮْﺩَﺍﺀَ ﻭَﻟِﻮَﺍﺅُﻩُ ﺃَﺑْﻴَﺾُ، ﻣَﻜْﺘُﻮﺏٌ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ : ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ »
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঝান্ডাটি ছিল কালো এবং পতাকাটি ছিল সাদা রঙের। এই পতাকায় লেখা ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
আল মু’জামুল আওসাত তাবরানী ১/১২৫ হাদীস নং ২২১৷
এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসে রাসূল (সা.) তখনকার কাফের ও সত্যিকারের মুসলমানদের অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে নিম্নে বর্ণিত আয়াতের আলোকে বলেন-
ﺇِﺫْ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻓِﻲ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢُ ﺍﻟْﺤَﻤِﻴَّﺔَ ﺣَﻤِﻴَّﺔَ
ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﻓَﺄَﻧْﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳَﻜِﻴﻨَﺘَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻭَﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺃَﻟْﺰَﻣَﻬُﻢْ ﻛَﻠِﻤَﺔَ ﺍﻟﺘَّﻘْﻮَﻯ ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺃَﺣَﻖَّ ﺑِﻬَﺎ
ﻭَﺃَﻫْﻠَﻬَﺎ ﻭﻫﻰ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ”
কাফেররা মুসলমানদের সাথে সেই অজ্ঞ যুগের বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের একত্মবাদের ফলে রাসূল (সা.) ও মুমিনদের ওপর স্বীয় প্রশান্তি অবতরণ করেন। আর তাদের জন্য তাকওয়ার কালিমা আবশ্যক করে দেন। যার সত্যিকার ধারক তারাই৷ এই তাকওয়ার কালিমাটি হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
বায়হাকী পৃ. ১৩১ কিতাবুল আসমা ওয়াসসিফাত৷
এই হাদীসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, হাদীসটি সহীহ৷
তাছাড়া উম্মতের ইজমা ও নিরবচ্ছিন্ন আমলী সূত্র পরম্পরায়ও তা কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ হিসেবে স্বীকৃত ৷
এর পরও যারা এই কালিমাটি হাদীসে নেই বলে ৷ উক্ত কালিমায় শিরকের গন্ধ পায় ৷ বুঝতে হবে তারা নিজেরা ই শিরকে ডুবন্ত ৷ তারা উম্মতে মুহাম্মদীর দুশমন ৷ ইসলামের শত্রু ৷ ইসলামকে ধ্বংশকারী ৷ এ যুগ সেরা ফেতনাবাজ ৷
আল্লাহ সকলকে সহীহ বুঝে আমল করে উভয় জগতে ধন্য হওয়ার তৌফীক দান করুন ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.