শায়েখ নাসিরুদ্দিন আলবানী ও তাঁর মতাদর্শ সম্পর্কে কিছু আলোচনা

শায়েখ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ মুলত তাঁর হাদীস চর্চার জন্য খ্যাতি লাভ করেন। যদিও তার শিক্ষা জীবনে তিনি কোন উস্তাদের তত্ত্বাবধায়নে থেকে হাদীস চর্চা করেছেন বলে কোন প্রমাণ আমরা এখনো পাই নি। এমতাবস্থায়ও তিনি মোটামুটি প্রসিদ্ধ বেশ কিছু কিতাবের উপর তার নিজস্ব গবেষনা ফলাফল সম্বলিত কিতাব রচনা করেন, যেখানে তিনি হাদীসগুলো সম্পর্কে নিজস্ব যাচাই বাছাই ও মতামত সংযুক্ত করেছেন। আপাত: দৃষ্টি বিষয়টি খুবই অসাধারণ মনে হলেও হাদীস শাস্ত্রের নীতি অনুযায়ি বিষয়টি কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ প্রথমত হাদীস শাস্ত্রের নিয়মানুযায়ী যখন কোন হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোন একজন সম্পর্কে সন্দেহ থাকে অথবা তার পরিচয় অস্বচ্ছ থাকে অথবা তার উস্তাদ সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকে তখন সেই হাদীসটি দূর্বল বা পরিত্যাক্ত বিবেচিত হয়। আবার, তিনি একাই তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, রিয়াদুস সালেহিন-এর নিজস্ব তাহক্বিকাত সহ ১৪ খন্ডের ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিয যয়ীফা’(যয়ীফ হাদীস সংকলন) ও ১১ খন্ডের ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহিহা’
(সহীহ হাদীসের সংকলন) রচনা করেন, যা মোটামুটি আশ্চর্যজনক। এমনকি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মাত্র ১৪৮ বছর পরের মানুষ হয়েও, বুখারী (রহ.) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মাত্র ১৮০ বছর পরের মানুষ হয়েও এত বেশি সংখ্যক হাদীস সম্পর্কে তাহক্বীক করে লিপিবদ্ধ করে যেতে পারেন নি। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) দীর্ঘ ২৫ বছর কঠোর পরিশ্রমের পরে বুখারী শরীফের তাহক্বীক ও ব্যাখ্যা গ্রন্থ ”ফাতহুল বারী ফি শারহী সাহীহুল বুখারী” নামে ১৮ খন্ডের একটি কিতাব রচনা করতে পেরেছেন। ইমামুল মুহাদ্দিস মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.), যার অসাধারণ মেধা শক্তির কথা প্রবাদের মতো পুরো পৃথিবীতে পরিচিত, তার সারাজীবনের পরিশ্রমের ফল বুখারী শরীফের অসাধারণ ব্যাখ্যা গ্রন্থ ”ফাতহুল বারী”র ব্যাখ্যা গ্রন্থ “আনওয়ারুল বারী” নামে ৪ খন্ডে রচনা করেন। সে তুলনায়, শায়েখ আলবানী তার ৪০ বছরের লেখালেখি জীবনে সিহাহ সিত্তার ৪টি গ্রন্থের তাহকীক্ব, পাশাপাশি সহীহ ও যঈফ হাদীসের উপর অনুন্য ১০ খন্ডের পৃথক পৃথক রচনা করেছেন, এতে আমাদের আশ্চর্য না হয়ে কোন উপায় থাকে না। বর্তমান সময়ে যারা ইলমে হাদীসের দারস নিচ্ছেন, দিচ্ছেন এবং যারা হাদীস শাস্ত্রের খেদমতে নিয়োজিত ও যারা হাদীস বিষয়ে কিছু মাত্র অধ্যয়ন করেছেন তারা অবশ্যই জানেন শুধুমাত্র একটি হাদীস সম্পর্কেই নিজস্ব মতামত প্রদান করা কতটা পরিশ্রম ও কষ্টের কাজ। সংশ্লিষ্ট হাদীস ও কাছাকাছি মতনের সবগুলো হাদীসের প্রচলিত সবগুলো রেওয়ায়েত সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, আসমাউল রিজাল নখদর্পনে থাকা, আছারে সাহাবা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ইলম থাকা, নাসিখ-মানসুখ এর পর্যাপ্ত ধারনা, পূববর্তী আকাবির ও মুহাদ্দীসগনের সংশ্লিষ্ট হাদীস সম্পর্কে মতামতের জ্ঞান থাকা সর্বোপরি আরবী ভাষার উপর ব্যাপক বুৎপত্তি থাকলেই হাদীসের তাহক্বীকাত করা যেতে পারে। এবার একটু ভেবে দেখুন তো ১০০ হাদীস সম্পর্কে প্রকৃত তাহক্বীক করতে কি পরিমান সময় প্রয়োজন!।

যাই হোক, এই বিষয়টি আমাদের আলোচনায় মূখ্য নয় বরং গৌণ একটি বিষয়। আমরা উসূলে হাদীসের দৃষ্টিকোণ থেকেই শায়েখ আলবানী সাহেবের তাহক্বীকাতের পর্যালোচনা করবো।

প্রচলিত নিয়মানুযায়ী কোন হাদীসের উস্তাদের নিকট হাদীস অধ্যয়ন না করার ফলে শায়েখ আলবানীর প্রদত্ত হাদীস বিশ্লেষণে প্রচুর পরিমানে উসূলে হাদীসের লঙ্ঘন, বিখ্যাত মুহাদ্দিসে কিরামগণের স্বীকৃত বিশ্লেষণের প্রতি অবজ্ঞা ও পরস্পর বিপরীত মতামত লক্ষ্য করা গেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে নিজের মতামতের কাছে তিনি জগৎ প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসে কিরামের সম্মিলিত মতামতকে অবহেলার সাথে এড়িয়ে গিয়ে নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি অনেক সহীহ হাদিসকে যয়ীফ ও যয়ীফ হাদীসকে সহীহ বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রথমে আমরা দেখব নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব কিভাবে সহীহ হাদিসকে যঈফ সাব্যস্ত করার প্রচেষ্টা করেছেন। উদাহরন স্বরূপ:

আবু হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত রাসুল (সাঃ) বলেন-“ যখন তোমাদের কেহ রাত্রিতে নামাযের জন্য দাঁড়ায়, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত ভাবে দুই রাকাতের মাধ্যেমে আপন নামাযকে শুরু করে।”

হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয়গ্রন্থ সহীহ মুসলিম (খ: ১, পৃ: ৫৩২) পৃষ্টায় উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও আল ইহসান ফি তাকরিবে সহীহ ইবনে হিববান-(খ:৬, পৃ:৩৪০) আল মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-(৯/১২৯) শরহুস সুন্নাহ লিল ইমাম বাগবাীতে (খ:৪, পৃ:১৭) উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদীসটিকে যুগ শ্রেষ্ট হাদীস গবেষকগন গবেষনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তম্মেধ্যে উল্লেখ যোগ্য-

আল্লামা শুয়াইব আরনাউত (রহঃ) মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ(খ:১৫, পৃ:৯৮), ইমাম বাগাবী (রহঃ) স্বীয় কিতাব শরহুস সুন্নাতে (খ:৪, পৃ:১৭), হামজা আহমাদ যাইন (রহঃ) মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদে (খ: ৯, পৃ:১২৯) বিশুদ্ধ হাদীস বলে ঘোষনা করেছেন।

উল্লেখিত হাদীসটিকে আলবানী সাহেব স্বীয় কিতাব ‘‘যইফুজ জামে ও যিয়াদাহ’’ নামক গ্রন্থে (খ: ১, পৃ:২১৩-) উল্লেখ করে বলেন, হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ) এবং ইমাম আহমাদ (রহঃ) আবু হুরাইরা (রাঃ) এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি মর্যাদার দিক দিয়ে দুর্বল (যঈফ)। তথাপি তিনি হাদীসটি যঈফ কেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু লেখেন নি। উসূলে হাদীসের নিয়মানুসারে কোন হাদীস সম্পর্কে মন্তব্য করতে হলে তার প্রত্যক্ষ্য, অবশ্যই প্রত্যক্ষ কোন কারণ বর্ণনা করতে হবে; যা তিনি করেন নি।

এবার আমরা দেখব নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব কিভাবে যয়ীফ হাদিসকে সহীহ বলেছেন, তার উদাহরন :

হযরত উমায়ের ইবনে সাইদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস তিনি বলেন ‘তোমরা মোয়াবিয়া (রাঃ) কে ভাল ভাবেই স্মরণ কর, কেন না আমি রাসুল (সাঃ) থেকে শুনেছি রাসুল (সাঃ) বলেছেন ”হে আল্লাহ তুমি মোয়াবিয়াকে হেদায়েত দাও। (সুনানে তিরমিজি-খ: ৫, পৃ:৬৪৫)

হাদীসটিকে আলবানী সাহেব সহীহ সাব্যস্ত করে স্বীয় কিতাব সহীহ সুনানে তিরমিজি (খ: ৩, পৃ:২৩২) তে উল্লেখ করেছেন। অথচ হাদীসটির সূত্রের উপর গবেষনার দ্বারা দেখা যায় হাদীসটি মানগত ভাবে অত্যন্ত দুর্বল।

সূত্রের একজন রাবী-আমর ইবনে ওকেদ। তার ব্যাপারে উলামাদের বক্তব্য,

১। হাফেজ ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন (মাতরুক) ইনি পরিত্যাজ্য। (তাকরিব আত তাহজীব-৪২৮পৃঃ)

২। ইমাম বুখারি ও তিরমিজি (রহঃ) বলেন ইনি এমন রাবী যাদের হাদীস গ্রহন করা হয় না (মুনকারুল হাদীস) ।

৩। আল্লামা মারওয়ান (রহঃ) বলেন মিথ্যাবাদী (কাজ্জাব) ।

৪। ইমাম নাসায়ী, দারাকুতনী এবং ইমাম বুবকানী (রহঃ) এই রাবীর ব্যাপারে একমত হয়ে বলেন ইনি এমন রাবী যাদের হাদীস পরিত্যাজ্য (মাতরুকুল হাদীস)। (তাহজীবুত তাহজীব (৮/৯৮)

সূত্রের রাবী আমর ইবনে ওকেদ সম্পর্কে উল্লেখিত ইমামদের বক্তব্যের দ্বারা একথা সুস্পষ্ট হল হাদীসটি কোন অর্থেই সহীহ হতে পারে না।

এমন কি আলবানী সাহেব এই রাবীকে দুর্বল সাব্যস্ত করে ওনার কিতাব ‘‘সিলসিলাতুল আহাদীস আয যইফাতু মওযুযা” তে (খ: ২, পৃ: ৩৪১) উল্লেখ করেছেন। স্বয়ং তিরমিজি (রহঃ) উল্লেখিত হাদীসটি দুর্বল (যঈফ) হিসেবে ইংগীত করে স্বীয় কিতাব সুনানে তিরমিজিতে (খ: ৫, পৃ:৬৪৫) বর্ণনার শেষে বলেন, আমর ইবনে ওকেদ দুর্বল রাবীদের অর্ন্তভুক্ত।

আলবানী সাহেব একই রাবীকে কোন এক স্থানে সহীহ, অপর এক স্থানে যঈফ বলেছেন। উদাহরণ স্বরূপ:

আবু উমামা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন তোমরা মুমিন ব্যক্তির অর্ন্তদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাক, কেননা সে আল্লাহ তা’লার নূরের দ্বারা দৃষ্টি করে থাকেন। (মুজামুল আওসাত-৩/৪৪৫)

উল্লেখিত হাদীসটির সূত্রের এক জন রাবী হলেন আবু সালেহ আব্দুল্লহ ইবনে- সালেহ । হাদীসটি আলবানী সাহেবের মতাদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারনে তিনি উক্ত হাদীসের একজন রাবী আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহকে দুর্বল আখ্যায়িত করে হাদীসটি অগ্রহনযোগ্য হিসাবে স্বীয় কিতাব ‘‘সিলসিলাতুল আহাদীস আয যইফাতু মওযুযা” (খ: ৪, পৃ:২৯৯) তে উল্লেখ করেছেন।

অথচ আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ-এই একই রাবীর মাধ্যমে ইমাম তিরমিজি (রহঃ) স্বীয় কিতাব সুনানে তিরমিজিতে ইবনে মুররা (রাঃ) এর সূত্রে হাদীস উল্লেখ করেছেন রাসুল (সাঃ) বলেন ”হুসাইন আমার থেকে আর আমি হুসাইনের থেকে- যে ব্যক্তি হুসাইনকে ভালবাসে সে আল্লাহ তা’লাকে ভালবাসে। হুসাইন আমার পরবর্তী বংশধর। (সূনানে তিরমিজি, খ:৫, পৃ: ৬১৮)

হাদীসটিকে আলবানী সাহেব সহীহ হিসাবে স্বীয় কিতাব সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহীহা (খ: ৩, পৃ: ২২৯) তে উল্লেখ করেন। এবং বলেন হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট মানের আবু আব্দুল্লা ইবনে সালেহ এর ব্যপারে দূর্বলতার যেই কথা রয়েছে তাহা কোন ক্ষতিকারক নয়।

এমনই অনেক পরস্পর বিরোধী মতামত তার রচিত কিতাব সমূহে রয়েছে। যা অনেক উলামায় কিরামের মতে, একটি পক্ষপাত মূলক আচরণ ভিন্ন আর কিছুই নয়।

মাযহাব, বিশেষত হানাফী মাযহাব সম্পর্কে আলবানী সাহেবের মনে এক প্রকারের বিদ্বেষ বিদ্যমান ছিলো, যার তার লেখা ও বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় (মূলত এই বিদ্বেষ মূলক মনোভাবে কারণেই তার পিতার সাথে তার দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে তার পিতা তাকে ঘর থেকে বের করে দেন) । আল্লামা মুনযীরি (রহ,) -এর লেখা মুখতাসারু সহিহীল মুসলিম এর এক স্থানে টিকায় তিনি লেখেন তিনি লিখেছেন-

“এ থেকে স্পষ্ট যে, হযরত ঈসা (আঃ) আমাদের শরীয়ত অনুযায়ী ফয়সালা দিবেন এবং কিতাব ও সুন্নাহের মাধ্যমে বিচার করবেন। তিনি ইঞ্জিল, হানাফী ফিকহ কিংবা এজাতীয় অন্য কিছু দ্বারা বিচার করবেন না” (আল্লামা মুনযীরি (রহঃ) কৃত “মুখতাসারু সহিহীল মুসলিম” এর উপর শায়েখ আলবানীর টিকা সংযোজন, পৃষ্ঠা-৫৪৮)

এখানে তিনি সহজেই হানাফী ফিকাহকে ইঞ্জিলের সাথে তুলনা করেছেন। আপাত: দৃষ্টিতে বিচার করলে বোঝা যায়, বর্তমানে ইঞ্জিল একটি রহিতকৃত (মানসূখ) বিধান, সুতরাং পরিত্যাজ্য। অতএব ইঞ্জিলের সাথে তুলনার মাধ্যমে হানাফী ফিকহকেও বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া হলো। অন্যথায়, ঈসা (আঃ) সম্পর্কে আলোচনা কালে হানাফী ফিকহের আলোচনার কি আবশ্যকতা ছিলো এখানে?

পূববর্তী ও সমকালিন প্রসিদ্ধ উলামায়ে কিরামের প্রতিও শায়েখ আলবানীর আক্রমনাত্মক ও শ্রদ্ধাহীন মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি ইমাম বুখারী (রহ.) সম্পর্কে শায়েখ আলবানী যে শব্দ উচ্চারণ করেছেন, আমাদের মতে তা কোন সুস্থ্য জ্ঞান সম্পন্ন মুসলমান আলেম উচ্চারণ করতে পারে না।

ইমাম বোখারী (রহঃ) বুখারী শরীফের কিতাবুত তাফসীরে সূরা কাসাসের ৮৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,

كُلُّ شَىْءٍ هَالِكٌ إِلاَّ وَجْهَهُ إلا ملكه, ويقال: إلا ما أُريد به وجه الله

“আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে”

এখানে তিনি “ওয়াজ্হুন” শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন “মুলকুন” তথা আল্লাহর রাজত্ব। তখন অর্থ হবে, সবকিছু ধ্বংস হবে, তাঁর রাজত্ব ব্যতীত। অথবা “ওয়াজহুন” দ্বারা যা উদ্দেশ্য হবে, তা ব্যতীত সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইমাম বোখারী (রহঃ) যে ব্যাখ্যা করেছেন, সে সম্পর্কে নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) লিখেছেন,

ان هذا التأويل لا يقول به مؤمن مسلم وقال إن هذه التأويل هو عين التعطيل.

“এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন-মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ “তা’তীলের” অন্তর্ভূক্ত”। অর্থাৎ তিনি আপেক্ষিক ভাবে বুঝিয়ে দিলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা দানকারী ইমাম বুখারী ”তা’তীলী” মতবাদানুসারী কাফের। [ফাতাওয়াশ শায়েখ আলবানী, পৃষ্ঠা-৫২৩, মাকতাবাতুত তুরাছিল ইসলামী, প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪ইং]

এই হলো হাদীস শাস্ত্রের জগতের মুকুটহীন সম্রাট ইমাম বুখারী (রহ.) সম্পর্কে শায়েখ আলবানীর মন্তব্য। বিষয়টা হয়তো এখানেই থেমে গেলে হতো, আমরা ধরে নিতাম, ইমাম বুখারী (রহ.)-সম্পর্কে শায়েখ আলবানীর ধারনা ভালো নয়, আর দু’এক জনের ব্যাপারে এমনটি হতেই পারে। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এই তালিকা যখন বৃদ্ধি পেতে থাকলো, আর তাতে অর্ন্তভূক্ত হতে থাকলো একের পর এক প্রতিথযশা মুহাদ্দিসিনে কিরামগন, আমরা আসলেই বর্ণনার ভাষা হারিয়ে ফেললাম।

আলবানী সাহেবের ভ্রান্তিসমূহের খন্ডনে নির্ভরযোগ্য আলেমগণের কিছু কিতাব :

এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে আলবানী সাহেবের সব ভুলভ্রান্তি তুলে ধরা সম্ভব নয়। কারণ, তাঁর পরিমাণ এত বেশি যে এগুলোর সংকলনে বিজ্ঞ আলেমগণ হাজার হাজার পৃষ্ঠার স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে নিম্নোক্ত কিতাবগুলো পড়া যেতে পারে।


الابانى شذوذه وأخطائ

মুহাদ্দিস হাবীবুর রহমান আযমী।


تصحيح صلاة التراويح عشرين ركعة والرد على الألبانى فى تضعيفه

শায়খ ইসমাঈল আনসারী (রহ.) সাবেক গবেষক, দারুল ইফতা, সৌদি আরব।


إباحة التحلى بالذهب المعلق للنساء والرد فى تحريمه على الألبانى

শায়খ ইসমাঈল আনসারী (রহ.)


الصارم المشهور على أهل التبرج والسفور وفيه الرد على كتاب الحجاب للألبانى

শায়খ হামুদ তুযাইজারী, সৌদি আরব।


النقد البناء لحديث أسماء فى كشف الوجه والكفين للنساء

আবু মুয়াজ তারিক বিন আউযুল্লাহ, বিশেষ ছাত্র, শায়খ আলবানী।


ويلك آمن

আহমাদ আব্দুল গফুর


وصول التهانى بإثبات سنية السبعة والرد على الأبانى

মাহমুদ সাঈদ মামদূহ, মিসর।


تنبيه المسلم إلى تعدى الأبانى على صحيح مسلم

মাহমুদ সাঈদ মামদূহ, মিসর।


التعريف بأوهام من قسم السنن إلى صحيح وضعيف

মাহমুদ সাঈদ মামদূহ, মিসর।

১০
القول المقنع فى الرد على الأبانى المبتدع

শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আল গুমারী (রহ.)।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন আমিন।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>