সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরল অভিমতসমূহ

বলেন, হুশায়ম (র) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, নবী করীম (সা)কে তুলে
নেয়া হল-যখন তার বয়স পয়ষট্টি বছর ৷ এ হাদীসও আহমদ (র) একাকী বর্ণনা করেছেন ৷
তিরমিষী (র) কিতাবুশৃ শামাইল-এ এবং আবু ইয়ালা আল; মাওসিলী (র)-ও বায়হাকী (র)
কাতাদা (র) সুত্রেনসব ও বংশধারা বিশারদ দড়াগৃফাল ইবন হানৃযালা (না) থেকে বর্ণনা
করেন যে, নবী করীম (না)-কে তুলে নেয়া হয়েছে যখন তিনি পয়ষট্টি বছরের ৷ পরে তিরমিযী
(র) মন্তব্য করেছেন ৷ নবী করীম (না) থেকে দাপফাল (রা)-এর হাদীস শ্রবণ’ পরিচিত নয়,
তবে তিনি নবী করীম (সা)-এর সময়ে পুর্ণ বয়স্ক পুরুষ ছিলেন ৷ বায়হাকী (র) বলেছেন, এ
বর্ণনা ইবন আব্বাস (রা) থেকে অড়াহরিত আশার (বা) ও তার অনুগামী বর্ণনা কারীদের
অনুকুল ৷ তবে ইবন আব্বাস (রা) থেকে তেষট্টি বছর সম্পর্কিত জ্যমাআতের (ছয় ইমামের)
রিওয়ায়াত অধিকতর বিশুদ্ধ এবং তারা অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও সংখ্যাবিচারে অধিক ৷ তাহীড়া
তাদের রিওয়ায়াত আইশা (বা) হতে উরওয়া (র)-এর রিওয়ায়াত আনড়াস (রা)-এর একটি
রিওয়ায়াত এবং মুআবিয়া (বা) হতে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ রিওয়ায়াতের অনৃকুলে ৷ সাঈদ ইবনুল
মুসায়িবে, আমের নারী ও আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলী (রা) এর অভিমতও অনুরুপ ৷

গ্রস্থকারের মত : আবদুল্লাহ ইবন উকবা, কাসিম ইবন আবদুর রহমান, হাসান বিসবী,
আলী ইবনৃল হুসায়ন এবং অন্য অনেকে অনুরুপ অভিমত পোষণ করেছেন ৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরল অভিমতসমুহ

এক : খলীফা ইবন খায়্যাত (র) কাতাদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইনতিকাল করেছেন তার বাষট্টি বছর বয়সে ৷ ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান (র)-ও
কাতাদা (র) হতে বিষয়টি অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ যায়দ আল আন্সী (র)-ও আনাস
(রা) সনদে এরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷

দুই : মুহাম্মদ ইবন আবিদ (র) মড়াকহুল (র) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) যখন ষ্ ইনতিকাল করেন তখন র্তার বয়স ছিল বাষট্টি বছর কয়েক মাস ৷
ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান (র) ও আবদুল হাযীদ ইব ন বাককার (র) মাকহুল (র) সনদে এরুপ
রিওয়ায়াত করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা) যখন ইনতিকাল করলেন তখন তার বয়স বাযট্টি বছর
সাড়ে ছয় মাস ৷

তিন : উল্লিখিত বর্ণনাসমুহের তুলনায় অধিকতর নিকটবর্তী অর্থাৎ কম বয়স যুক্ত বিবরণ
ইমাম আহমদ (র)-এর রিওয়ায়াত, রাওহ (র) (কাতাদা) হাসান (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-এর উপরে কুরআন নাযিল হয়েছিল মক্কায় আট বছর এবং হিজরত
করার পরে দশ বছর ৷ এ ক্ষেত্রে নৰুয়ত প্রাপ্তির ব্যাপারে যদি হাসান (রা) সংখ্যা গরিষ্ঠের ন্যায়
চল্লিশ বছরের অভিমত পােষণকাবী হন তবে তার বর্ণনা অনুসারে এ কথাই সাব্যস্ত হবে যে,
তিনি ওফাত কালে নবী করীম (না)-এর বয়স আটান্ন বছর হওয়ার অভিমত পোষণ করতেন ৷
এ বর্ণনাটি অভিনয় বিরল ধরনের এবং মুসাদ্দাদ (র) সুত্রে এ হাসান (বা) হতেই আমরা
রিওয়ায়াত করেছি যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেছেন ষাট বছর বয়সে ৷

তার : খালীফা ইবন খায়্যাত (র) বলেন, আবু আসিম (র)হড়াসান (রা) হতে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নবুয়তপ্রাপ্ত হলেন পয়তাল্লিশ বছর বয়সে ৷ পরে মক্কায়

দশ এবং মদীনায় আট বছর অবস্থান করলেন এবং ইনতিকাল করলেন যখন তার বয়স (তষট্টি
বছর ৷ কিন্তু এরুপ বিবরগে বর্ণনাটি অতিশয় বিরল প্রকৃতির ৷ ষ্আল্লাহ্ই সমাধিক অবগত ৷

নবী করীম (সা) কে গোসল দানের বিবরণ

পুর্বেই বিবৃত হয়েছে যে, সাহারা-ই কিরাম (রা) সােমবারের অবশিষ্ট সময় এবং
মংগলবারের কতকাংশ আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর হাতে বায়আত সম্পাদনে অতিবাহিত
করেছিলেন ৷ বায়আতের বিষয়টি সুস্থির হলে এবং যথাযথরুগে সম্পাদিত হলে তারা
রাসুলুল্লাহ (না)-এর কাফন-দাফনের কাজের সুচনা করলেন এবং তারা আগত যে কোন
সমস্যার আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর সিদ্ধান্ত মেনে চলছিলেন ৷ ইবন ইসহাক (র)-এর বিবরণ
আবু বকর (রা)-এর বড়ায়’আত সম্পন্ন হলে মংগলরারে লোকেরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাফন-
দাফান মনযোগী হলেন ৷ ইবন ইসহাক (র) আইশা (রা) সনদের এ হাদীস পুর্বেই উল্লিখিত
হয়েছে যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) সোমবারে ইনতিকাল করেছিলেন এবং বধবার (পুর্ব) রাতে তাকে
দাফন করা হয় ৷

আবু বকর ইবন আবু শায়বা (র) বলেন, আবু যুআবিয়া (র) সুলায়মান (র)-এর পিতা
বুরায়দা (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, র্তারা যখন রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে গোসল দিতে শুরু
করলেন তখন অন্দর থেকে একজন অদৃশ্য ঘোষণাকারী বলে উঠলেনশ্ “রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
জামা খুলো না যেন! ইবন সাজা (র) হাদীসটি আবু ঘুআবিয়া (র) হতে রিওয়ায়াত করেছেন ৷
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, ইয়াহ্য়া ইবন আব্বাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (র)
আইশা (রা) থেকেতিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-কে গোসল দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে
উপস্থিত লোকজন বলাবলি করতে লড়াণলেন, আমরা তাে বুঝতে পারছি না যে আমাদের
অন্যান্য মৃত ব্যক্তিদের যেমন কাপড় খুলে ফেলে থাকি রাসুলুল্লাহ (না)-কে তেমন কাপড় মুক্ত
করব নাকি তার কাপড় তার গায়ে রেখেই গোসল দেবে ? তীরা এ ব্যাপারে মতানৈক্যের
শিকার হলে আল্লাহ তাদের উপরে নিদ্রা চাপিয়ে দিলেন ৷ এমন কি তাদের প্রত্যেকের চিবুক
বুকের সংগে লেগে যেতে লাগল ৷ তারপর জনৈক অদৃশ্য বক্তা ঘরের কোণ হতে তাদের সাথে
কথা বললেন ৷ তারা র্তাকে চিনতে পারছিলেন না ৷ ঘোষক বললেন, তোমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-
কে কাপড় পরিহিত অবস্থায় গোসল দাও ! তখন র্তারা রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকটে গেলেন
এবং তার কাযীস র্তার গায়ে রেখেই তাকে গোসল দিলেন ৷ কামীসের উপর হতেই পানি ঢেলে
হাত না লাগিয়ে তারা জামাসহ বদন সৃরারক রপড়ে দিচ্ছিলেন ৷ এ প্রসংগে অইিশা (বা)
বলতেন, পরে যা আমি দেখতে পেলাম আগেই তার উপলব্ধি হলে রাসুলুল্লাহ (না)-এর ঘরের
নারীকুলই র্তাকে গোসল দেয়ার দায়িতু আঞ্জাম দিত ৷ আবু দাউদ (র) ইবন ইসহাক (র) হতে
হাদীসটি বিওয়ায়াত করেছেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, ইয়াকুব (র)ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, লোকেরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে গোসল দেয়ার জন্য সমবেত হল ৷ ঘরে তখন ছিলো শুধু
তার পরিবারের লোকেরাই, তার চাচা আব্বাস ইবন আবদুল ঘুত্তালিব, আলী ইবন আবু
তালিব, ফঢুযল ইবন আব্বাস, কুছাম ইবনুল আব্বাস, উসাম৷ ইবন যায়দ ইবন হারিছা এবং

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest