রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

সপ্তম হিজরী সনের শুরুতে সংঘটিত খায়বর যু েদ্ধ

সপ্তম হিজরী সনের শুরুতে সংঘটিত খায়বর যু েদ্ধ

বললেন, তুমি তার দিকে এগিয়ে যাও ৷ত তারপর তিনি দু আ করলেন “হে আল্লাহ এ কাজে
তাকে সাহায্য কর ৷” তাদের একজন অপরজনের নিকটবর্তী হলে এক প্রকাণ্ড প্র৷ ৷চীন বৃক্ষ উভয়ের
মধ্যে অতরায় হয়ে দাড়ায় (যে প্রাচীন বৃক্ষ থেকে অনবরত আটা নিগর্ত হতো ৷ তাদের একজন
অপরজনের থেকে এ বৃক্ষের মাধ্যমে, আত্মরক্ষা করছিলেন ৷ আর অপরজন নিজ তরবারি দ্বারা
বৃক্ষের আড়াল করা অং শে আঘাত করছিলেন ৷ শেষ পর্যন্ত উভয়ে মুখোমুখি হলেন ৷ এভাবে
বৃক্ষটা৩ তাদের উভয়ের মধ্যে দণ্ডায়মান একজন লোকের মত হয়ে যায় ৷ তখন মারহাব মুহাম্মাদ
ইবন মাসলামার উপর তরবারি দ্বারা আঘাত হানে আর তিনি৷ ঢ ৷ল দ্বারা এ আঘাত ঠেকান ৷ তিনি
তাদের উপর থেকে তরবারি টেনে বের করে নিয়ে ত ৷র ৷উপর পাল্টা আঘাত হানেন এবং এভাবে
মারহাবকে হত্যা করেন ৷ ইমাম আহমদ (র) ইয়াকুব ইবন ইব্রাহীম সুত্রে তিনি তার পিতা
থেকে আর তিনি ইবন ইসহাক থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ ইবন ইসহাক (র) বলেন, কারো
কারো ধারণা, মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা মারহাবকে হত্যা করার সময় নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি
করেছিলেন ৷

খায়বর জানে যে, আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আর মিষ্ট , যখন আমার অভিপ্রায় হয় ৷ আবার আমি
হলাহলও ৷ অনুরুপ জাবির প্রমুখ থেকে ওয়াকিদী বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাই ছিল
মারহাবের হত্যাকারী ৷ ওয়াকিদী (র) আরো উল্লেখ করেন যে, মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা
মারহাবের পদদ্বয় কর্তন করলে সে বলে আমার জীবন লীলাই সাঙ্গ করে দাও ৷ তখন তিনি
বলেন, না (এভাবে সহজে তোমাকে মরতে দেওয়া হবে না, বরং) মাহমুদ ইবন মাসলামা
যেভাবে মৃত্যুর স্বাদ উপভোগ করেছে, তােমাকেও সেভাবে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে ৷
এরপর হযরত আলী (বা) তার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তিনি মারহাবের মস্তক কর্তন করেন ৷
তারপর তারা উভয়ে মারহাবের অস্ত্র-শস্ত্র সম্পর্কে বিবাদে প্রবৃত্ত হন ৷ তারা এ বিরোধ নিয়ে
রাসুল (সা) এর দরবারে উপস্থিত হলে রাসুল করীম (সা) মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাকে মারহাবের
তরবারি শিরস্ত্রাণ, বর্ম ও বশা দান করেন ৷ ওয়াকিদী (র) বলেন, তার তরবারির উপর এ কবিতাটি
লেখা ছিল০ ং

এটা হল মারহাবের তলােয়ার, যে ব্যক্তি এর স্বাদ গ্রহণ করবে, সে বিনাশ হবে ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, মারহাবের মৃত্যুর পর তার ভাই ইয়াসির বেরিয়ে এসে বলে :
আমার সাথে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে পারে এমন কে আছে ? হিশাম ইবন উরওয়৷ ধারণা করেন
যে, যুবায়র (রা)ত ৷র সম্মুখে উপস্থিত হলে তার মা অ ৷বদৃল মুত্তালিব-এর কন্যা সাফিয়্যা বললেন ং
ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ ! আমার সন্তান তো মারা পড়বে ৷ রাসুল করীম (সা) বললেন, না, বরং তোমার
পুত্র তাকে হত্যা করবে ইনশাআল্লাহ্৷ তারপর উভয়ে লড়াইয়ে প্রবৃত্ত হলে যুবায়র (রা) তাকে বধ
করেন ৷ ইবন ইসহাক (র) বলেন, এরপর যুবায়রকে যখন বলা হতো, আল্লাহ্র শপথ, সেদিন
তোমার তরবারি ছিল খুব ধারালো ৷ তখন তিনি বলতেন : আল্লাহ্র কসম , তা ধারালো ছিল না,
বরং তরবারির উব্রে চাপে আমি তাকে বধ করেছি ৷

রাসুল করীম (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফে সুত্রে ইবন ইসহাক এর বরাতে
ইউনুস বর্ণনা করেন যে, আবুরাফে বলেন :

“রাসুল করীম (সা) আলী (রা) কে তার পতাকা দিয়ে যখন খায়বরে প্রেরণ করেন তখন তার
সঙ্গে আমরাও ছিলাম ৷ তিনি দুর্গের নিকটবর্তী হলে দুর্গের বাসিন্দারা বেরিয়ে তার কাছে আসে ৷
তিনি একা তাদের সঙ্গে লড়াই করেন ৷ জনৈক য়াহ্রদী তার প্ৰতি আঘাত হানলে তিনি তার হাত
থেকে ঢাল ছুড়ে ফেলে দিয়ে দুর্গের দরজাকে ঢাল বানিয়ে নেন আর তা দ্বারা প্রতিরোধ করেন ৷
দুর্গ জয় করা পর্যন্ত এ দরজা তার হাতে ছিল ৷ দুর্গের দরজা হাতে নিয়ে লড়াই করতে করতে
আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন ৷ তারপর তিনি হাত থেকে দরজাটি ছুড়ে ফেলে দেন ৷ আবু
রাফে বলেন, আমরা ৮জন লোক মিলে (যাদের মধ্যে আমি ছিলাম ৮ম ব্যক্তি) দরজাটা এক স্থান
থেকে অন্য স্থানে নেয়ার চেষ্টা চালিয়েও সক্ষম হইনি ৷ অবশ্য এর সনদে একজন অজ্ঞাতনামা
রাবী রয়েছেন ৷ সনদটি বিচ্ছিন্নও বটে ৷

অবশ্য হাফিয রায়হাকী (র)ও হাকিম (র) মুত্তলিব ইবন যিয়াদ শ্জাবিয় সুত্রে বর্ণনা করেনঃ

জাবির (রা) বলেন : খায়বরের দিন আলী (রা), একটা দরজা উত্তোলন করেন এবং
মুসলমানগণ তার উপর আরোহণ করে খড়ায়বর জয় করেন ৷ পরবর্তীতে : : জন লোক অনেক
চেষ্টা করেও দরজাটি উত্তোলন করতে পারেননি ৷ এ বর্ণনাতেও দুর্বলতা আছে ৷ এ ছাড়া এক দুর্বল
বর্ণনায় হযরত জাবির থেকে বর্ণিত আছে যে, ৭০ জন লোক চেষ্টা করেও দরজাটি (যথাস্থানে)
পুনঃস্থাপন করতে ব্যর্থ হন ৷ ইমাম বুখারী (র) মাকী ইবন ইব্রাহীম ইবন আবুউবায়দ
সুত্রে বর্ণনা করেন :

যে তিনি বলেছেন, সালামার পায়ের গােছায় আঘাতের চিহ্ন দেখে আমি জিজ্ঞাসা করি; আবু
মুসলিম ! এটা কিসের চিহ্ন ? জবাবে তিনি বললেন : এটা খড়ায়বরের দিন আঘাতের চিহ্ন ৷
লোকেরা বলাবলি করে যে, সালামা বুঝি মারাই পেল ৷ তখন আমি নবী করীম (সা)-এর খিদমতে

উপস্থিত হলে তিনি (আঘাতের স্থানে) তিনবার কু দিলে অদ্যাবধি আমি আর যে স্থানে ব্যথা
অনুভব করিনি ৷ ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা সহল সুত্রে বর্ণনা করেন :

যে , কোন এক যুদ্ধে নবী করীম (সা) এবং মুশরিকরা সম্মুখ যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন ৷ উভয় পক্ষে
তুমুল যুদ্ধ হয় ৷ উভয় পক্ষ নিজ নিজ সেনাদলের দিকে ধাবিত হয় ৷ আর মুসলমানদের মধ্যে
এমন একজন লোক ছিল, যে কোন মুশরিককে একা পেলে পেছন থেকে তরবারী দ্বারা আঘাত না
করে ছাড়তে৷ না ৷ কোন একজন বললাে , ইয়া রাসুলাল্লাহ্! অমুক ব্যক্তি এমন কাজ করেছে যা
ইতিপুর্বে আমাদের মধ্যে আর কেউ করেনি? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : সে জাহান্নামী ৷ তখন
লোকেরা বললাে, সে যদি জাহান্নড়ামী হয় তবে আমাদের মধ্যে আর কে জান্নড়াতী হবে ? তখন
সকলের মধ্য থেকে একজন বললাে : আমি তার পেছনে লেগে থাকবাে; সে দ্রুত গমন করুক
আর ধীরে গতিতে, (সবাবস্থায়) আমি তার সঙ্গে থাকবাে ৷ আহত হয়ে লোকটি দ্রুত মৃত্যু কামনা
করল ৷ সে তরবারির হড়াতল মাটিতে স্থাপন করে এবং ধারালো অংশ বুকের সঙ্গে চেপে ধরে
সজােরে চাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে ৷ তখন পেছনে লেগে থাকা লোকটি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর

নিকট এসে বললাে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসুল! তিনি জিজ্ঞেস করলেন :

ব্যাপার কী ? লোকটি রাসুল কবীম (সা) কে সকল কথা খুলে বললে তিনি বললেন : একজন
লোক মানুষের দৃষ্টিতে বাহ্যত৪ জান্নাতী ব্যক্তির ন্যায় আমল করে; কিন্তু আসলে সে জাহান্নামী;
পক্ষম্ভেরে অপর ব্যক্তি বাহ্য দৃষ্টিতে জাহান্নামীর মতো আমল করে; কিন্তু পরিণামে সে হবে
জান্নাতী ৷ ইমাম বুখারী (র) কুতায়বা সহল সুত্রেও হাদীছটি অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম বুখারী
আবুল ইয়ামড়ান আবুহ্বায়রা সুত্রে বর্ণনা করেন বলে :

“খায়বর (যুদ্ধে) আমরা উপস্থিত ছিলাম ৷ রাসুল কবীম (সা) ইসলামের দাবীদার তার জনৈক
সফর সঙ্গী সম্পর্কে বললেন : এ ব্যক্তি জাহান্নড়ামী ৷ যুদ্ধ ক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে লোকটি প্রচণ্ড লড়াই
করে ৷ লোকটি অনেক আঘাত পেল ৷ (রাসুল কবীম (সা) এর উক্তি সম্পর্কে) অনেকের সন্দিহড়ান
হওয়ার উপক্রম হল ৷ লোকটি আঘাতের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলো ৷ সে তুণীরে হাত দিয়ে তা
থেকে কয়েকটি তীর বের করলো আর সেগুলোর দ্বারা নিজের জীবন নস্পে করলো ৷ ব্যাপারটা
অনেকের কাছে গুরুতর ঠেকলাে ৷ তারা রাসুল কবীম (সা) কে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আল্লাহ্
তাআলা আপনার কথা সত্যে পরিণত করেছেন ৷ সেতে৷ নিজেকে যবাই করে আত্মহত্যা করছে ৷
তখন রাসুল কবীম (সা) বললেন : হে অমুক ৷ উঠে দাড়াও এবং ঘোষণা দাও যে, ঘুমিন ব্যক্তি
ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না ৷ আর আল্লাহ তাআলা ফাসিক পাপাচারী ব্যক্তি
দ্বারাও দীনের সাহায্য করেন ৷ মুসা ইবন উকবা যুহ্রী সুত্রে জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ দাসের কাহিনী উল্লেখ
করেছেন ৷ যাকে আল্লাহ্ একই সঙ্গে ঈমান এবং শাহাদতের দৌলতে ধন্য করেছেন ৷ অনুরুপ-
ভাবে ইরনু লাহিআ আবুল আসওয়াদ ও উরওয়া সুত্রেও এ কাহিনীটি বর্ণনা করেন : তা নিম্নরুপ :

“খায়বরবাসীদের নিকট র্জ্যনক কাফ্রী ক্রীতদাস এলো, যে ছিল তার মালিকের ছাপপালের
রাখাল ৷ সে যখন দেখতে পেলো যে, খায়বরবাসীরা অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে, তখন সে তাদেরকে
জিজ্ঞাসা করে তোমরা কী চড়াও ? তারা বললো : আমরা এ ব্যক্তির সঙ্গে লড়াই করবো, যে
নিজেকে নবী বলে দাবী করছে ৷ এতে তার মনে নবীর কথা জাগলো ৷ তাই সে বকবী নিয়ে রাসুল
কবীম (সা) এর সমীপে হাযির হলো ৷ জিজ্ঞেস করলো, আপনি কিসের দিকে আহ্বান জানান ?
তিনি বললেন : আমি তোমাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাই ৷ আমি এজন্য আহ্বান জানাই
যে, তুমি সাক্ষ্য দেবে অল্লোহ্ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহ্র রাসুল ৷ আর
তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না ৷ রাবী বলেন, তখন গোলাম বললো, আমি যদি
একথার সাক্ষ্য দেই এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনি তাহলে আমি কি পাবো ? রাসুল কবীম (সা)
বললেন, একথার অৰিচল থেকে মৃত্যুবরণ করতে পারলে তুমি জড়ান্নাত লাভ করবে ৷ তখন
গোলামটি ঈমান এনে বললো : ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ৷ এসব বকরীতেড়া আমার নিকট আমানত ৷ তখন
রাসুল কবীম (সা) বললেন : এসব বকরীকে কংকর নিক্ষেপে আমাদের সৈন্যদলের আওতা
থেকে তাড়িয়ে দাও ৷ আল্লাহ্ তাআলড়া তোমার আমানত যথাস্থানে পৌছাবেন ৷ সে তাই করলো
আর বকরীগুলো তার মালিকের নিকট ফিরে পেল ৷ তখন য়াহ্রদী আচ করতে পারলো যে, তার
গোলামটি ইসলাম গ্রহণ করেছে ৷ তখন রাসুল কবীম (সা) দাড়িয়ে লোকদেরকে উপদেশ
দিলেন ৷ এরপর রাবী আলী (রা)-কে পতাকা দেন ৷ য়াহুদীদের দুর্গের নিকট হযরত আলী
(রা)-এর গমন এবং মারহাবকে হত্যড়া করার কথাও উল্লেখ করলেন ৷ সাথে সাথে আলীর সঙ্গে
মিলে সেই কৃষ্ণাঙ্গ দাসের লড়াই করা এবং তার মৃতদেহ মুসলিম সেনা ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া

এসবই তিনি উল্লেখ করলেন ৷ লোকজনের ধারণা, রাসুল করীম (সা) সেনা ছাউনিতে উপস্থিত হন
এবং সাহাবীগণকে সেখানে প্রত ত্যক্ষ করেন ৷ তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা আলা এ দাসকে
সম্মানিত করেছেন আর তাকে মঙ্গল ও কল্যাণের পথে পরিচালিত তকরেছেন ৷ সত্যিক৷ ৷র অর্থে
ইসলাম তার অন্তরে স্থান করে নিয়েছিল আর আমি তার শিয়রে দু’জন আয়তলোচনা হুর দেখতে
পেয়েছি ৷ হাফিয বায়হাকী (র) ইবন ওয়াহাব জাবির ইবন আবদুল্লাহ সুত্রে বর্ণনা করেন

যে, খায়বর যুদ্ধে আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম ৷ সৈন্যদের একটি ছোট দল রওয়ানা
হল ৷ তারা একজন লোককে পাকড়াও করলো, যার সঙ্গে বকরী ছিল ৷ লোকটি বকরীগুলাে
চরাচ্ছিল ৷ এভাবে কৃষ্ণাঙ্গ দাসের কাহিনীর মতে৷ কাহিনী উল্লেখ করে তাতে শেষে বললেন : সে
শহীদ হিসাবে মৃত্যু বরণ করে; অথচ সে আল্লাহকে একটা সিজদাও করেনি ৷

বায়হাকী (রা) মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ — আনাস (বা) থেকে বংনাি করেন : জনৈক ব্যক্তি
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করল : ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) ! আমি একজন
কৃষ্ণকায় কদাকার ব্যক্তি ৷ আমার কোন অর্থ-সম্পদ নেই ৷ আমি যদি এদের সঙ্গে লড়াই করতে
করতে মারা যাই তবে কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো ? রাসুলুল্ল৷ হ্ (সা) বললেন, হা, তুমি
জান্নাতে যাবে ৷ লোকটি এগিয়ে এসে লড়াই করতে করতে জীবন দিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার
লাশের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেনং আল্লাহ্৫৩ তোমার ঘুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন, তোমার আত্মাকে
পবিত্র করভ্রুন ৷ আ তোমার সম্পদ বর্ধিত করুন এবং বললেনং আমি তার দু জন আয়তলোচনা
হুর ত্রীকে তাকে নিয়ে বিবাদ করতে দেখেছি,৩ ৷ ৷রা তার দেহ আর জুব্বার মধ্যে কে আগে প্রবেশ

করবে এ ব্যাপারে ঝগড়া করছিল ৷ বায়হাকী (র) ইবন জুরায়জ — ইবনুল হাদ সুত্রে বর্ণনা
করেন :

জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে ঈমান আনলে৷ , আনুগত্য প্রকাশ
করলো ৷ সে বললো, আমি আপনার সঙ্গে হিজরত করবো ৷ তাই রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার ব্যাপারে
কোনও একজন সাহাবীকে ওসীয়ত করলেন ৷ খায়বর যুদ্ধ সংঘটিত হলে রাসুল করীম (সা)
গনীমতের মাল লাভ করেন এবং সে মাল বণ্টনকালে বণ্টনে তিনি তাকে অং শীদ৷ ৷র করলেন ৷
তাকে যে অংশ তিনি দিয়েছিলেন জনৈক সঙ্গী সাহাবীগণ ৷তা তার নিকট পৌছিয়ে দেয় ৷ লোকটি
বকরী চরাত ৷ লোকটি উপস্থিত হলে তার বন্ধু বা তাকে তার অংশ পৌছিয়ে দিল ৷ সে বললোং :
এটা কি? জবাবে তারা জান ৷,লাে র ৷সুলুল্লাহ্ (সা ) তোমাকে এ অংশ দান করেছেন ৷ তখন লোকটি
রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর নিকট উপস্থিত হয়েত ৷র গনীমতে অংশ লাভের কথা নিশ্চিত করে বললো০ ং
আমি এ মাসের জন্য আপনার আনুগত্য নিশ্চিত হয়ে করিনি; বরং আমিতে৷ আপনার আনুগত্য
স্বীকার করেছি এজন্য যে, আমি এ দিকে তীর নিক্ষেপ করবো একথা বলে সে তীর দ্বারা গলার
দিকে ইশারা করে আর এভাবে মৃত্যু বরণ করে আমি জান্নাতে প্রবেশ করবো ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা) বললেন, তোমার নিয়াতের যদি সত্য হয়ে থাকে তবে আল্লাহ তা পুরণ করবেন ৷ এরপর
দৃশমনের সঙ্গে লড়াই করার জন্য সকলেই রওয়ানা হলেন ৷ (লোকটিও তাদের সঙ্গে ছিল এবং
লড়াই এ জীবন দান করলো) ৷ লড়াই শেষে লোকটির মৃতদেহ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সমীপে
উপস্থিত করা হলো ৷ (দেখা গেল) সে যেখানে ইশার৷ করেছিল, সেখানেই ভীরের আঘাত

লেগেছে ৷ তখন নবী বত্মীম (সা) বললেন : এ যে ব্যক্তি ? লোকেরা বললো , ত্মী হা ৷ তখন নবী
করীম (সা) বললেন, যে আল্লাহর সঙ্গে সত্য অঙ্গীকার করেছিল, আল্লাহ তার অঙ্গীকারকে সত্যে
পরিণত করেছেন ৷ লোকটিকে নবী করীম (সা) তার নিজের জুব্বা দ্বারা কাফন পরান এবং তার
লাশ সম্মুখে রেখে জানযাের নামায পড়ান এবং (সালাত শেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর মুখ থেকে) এ
দুআ স্পষ্ট শোনা গেল :

হে আল্লাহ! লোকটি তোমারই রান্দা ৷ তোমার রাস্তায় হিজরত করে বের হয়েছে ৷ শহীদ
হিসাবে সে মৃত্যুবরণ করেছে, আমি এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি ৷

মুত্আ বিবাহ প্রভৃতি নিষিদ্ধ হওয়া

ইবন ইসহাক (র) বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার কাছে নিয়ে আসা গনীমতের মাল পর্যায়ক্রমে
গ্রহণ করতেন আর এক এক করে দুর্গ জয় করবেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সর্বপ্রথম তাদের যে দুর্পটি
জয় করেন তা ছিল ’নাএম’ দুর্গ ৷ এ দুর্গের নিকটেই হত্যা করা হয় মাহমুদ ইবন মাসলামাহকে ৷
তাকে হত্যা করা হয় উপর থেকে মাতা নিক্ষেপ করে ৷ এরপর জয় করা হয় কামুস দুর্গ এটি ছিল
বনু আবুল হুকায়ক-এর দুর্গ ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) খায়বরের য়াহুদীদের মধ্য থেকে অনেককে বন্দী
করেন ৷ এসব বন্দীদের মধ্যে সাফিয়্যা বিনৃত হুয়াই ইবন আখতাবও ছিলেন ৷ ইনি ছিলেন কিনানা
ইবন রবী ইবন আবুল হুকায়কের শ্রী ৷ সাফিয়্যার দু’জন চাচাতো বোনও ছিলেন বন্দীদের মধ্যে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত সাফিয়্যাকে নিজের জন্য পসন্দ করেন ৷ দিহ্ইয়া ইবন খলীফা আল-কালবী
(রা) হযরত সাফিয়্যার জন্য রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দরবারে আবেদন জানিয়ে ছিলেন ৷ তিনি (সা)
হযরত সাফিয়্যাকে নিজের জন্য পসন্দ করেন আর দিহ্ইয়াকে দেন সাফিয়্যার দুই চাচাতো বোন ৷
ইবন ইসহাক (র) বলেন, খায়বরের প্রচুর বন্দী মুসলমানদের হস্তগত হয় এবং লোকেরা সেদিন
গাধার গোশৃত ভক্ষণ করে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) পাধার গোশৃত ভক্ষণ করতে তাদেরকে নিষেধ করার
কথা ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম ৰুখারী (র) গাধার গোস্ত ভক্ষণ করা নিষেধ-এ
পর্যায়ের হাদীছগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং অতি উত্তম সনদে সংকলন করেন ৷ প্রাচীন
যুগের ও পরবর্তীকালের অধিকাংশ আলিমের মতে গড়াধার গোশত ভক্ষণ করা হারাম ৷ চার ইমাম
এরও এ মত ৷ তবে হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) প্রমুখ কিছু সংখ্যক আলিম পাধার
গোশত খাওয়া বৈধ বলেছেন ৷ যে সব হাদীছে গধোর গোশত হারাম বলা হয়েছে, তারা এর বিভিন্ন
জবাবও দিয়েছেন ৷ যথা ভারবহনের কাজে পাধা ব্যবহার করা হয়, তখন পর্যন্ত থুমুস তথা এক-
পঞ্চমাৎশ বের করা হয়নি, অথবা পাধা নাপাক বস্তু আহার করে ৷ বিশুদ্ধ কথা এই যে, পাধা
মুলতই হারাম ৷ বিশুদ্ধ হাদীছে বণিতি আছে যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর ঘোষক ঘোষণা করেন :

আল্লাহ্ এবং তার রাসুল (সা) তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন ৷ কারণ,

তা নাপাক ৷ তাই তোমরা গাধার গোশত ফেলে দাও, (আর এ নির্দেশ জারী করার সময় গাধার
গোশত) ডেকচীতে টগবগ করে ফুটছিল ৷ কিতাবুল আহকাম-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করা হয়েছে ৷ ইবন ইসহাক (ব) সালামা ইবন কারকারা জাবির ইবন আবদৃল্লাহ্ সুত্রে
বর্ণনা করেন, আর জাবির খায়বর যুদ্ধে শরীক ছিলেন না :

রাসুল করীম (সা) যখন সােকজনকে পাধার গোশত যেতে ধারণ করেন, যে সময় তিনি
তাদেরকে ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দান করেন ৷ বৃখারী ও মুসলিম শরীফে এ হাদীছটি

হাম্মাদ ইবন যায়দ জাবির (রা) সুত্রে বর্ণিত হাদীছে এর সমর্থন পাওয়া যায় ৷ বৃখারী
শরীফের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে :

খায়বরের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন ৷ তবে তিনি ঘোড়ার
গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ৷ ইবন ইসহাক (র) আবদুল্লাহ্ ইবন আবু নাজীহ মাকহ্রল সুত্রে
বর্ণনা করেন :

নবী করীম (সা) সেদিন (খায়বরের দিন) চারটি বিষয় নিষেধ করেছেন : (১) যুদ্ধবন্দী
অন্তঃসত্ত্ব৷ নারীর সঙ্গে সঙ্গম (২) গাধার গোশত খাওয়া (৩) নখর বিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত
খাওয়া এবং (৪) বন্টন করার আগে গনীমতের মাল বিক্রয় করা ৷
এ হাদীছটি মুরসাল পর্যায়ের ৷
ইবন ইসহাক (র) ইয়াযীদ ইবন আবুহাবীব হাসান সানআনী সুত্রে বর্ণনা করেন :
আমরা রুওয়াইফে ইবন ছাবিত আল-আনসারীর সঙ্গে মাগরিব দেশের এবল্টা জনপদে,

যাকে বলা হতো জিরবা’ লড়াই করি ৷ তিনি উক্ত জনপদ জয় করে সেখানে দাড়িয়ে ভাষণ দান
করেন ৷ ভাষণে তিনি বলেন :

লোক সকল ! আমি তোমাদের মধ্যে কেবল এমন কথা বলবো, যা আমি রাসুল করীম (সা)
কে বলতে শুনেছি ৷ খায়বরের দিন রাসুল করীম (সা) আমাদের মধ্যে দাড়িয়ে বলেন : আস্লাহ্
আর শেষ দিনে বিশ্বাস করে এমন কোন ব্যক্তির জন্য অপরের ক্ষেতে পানি সিঞ্চণ করা হালাল
নয় ৷ অর্থাৎ অন্তঃসত্ত্ব৷ বন্দী দাসীর সঙ্গে সঙ্গত হওয়া বৈধ নয় ! আল্লাহ এবং শেষ দিনে বিশ্বাস করে
এমন কোন লোকের জন্য হড়ালাল নয় ঋতুস্রড়াব থেকে পবিত্র হওয়ার পুর্বে কোন বন্দী দাসীর সঙ্গে

সঙ্গত হওয়া ৷ আর আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস করে এমন কোন ব্যক্তির জন্য বণ্টনের পুর্বে
গনীমতের মড়াল বিক্রি করা হালাল নয় ৷ আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করে এমন ব্যক্তির জন্য
মুসলমানদের গনীমতের পশুতে সওয়ার হয়ে তাকে দুর্বল করে ফেরত দেওয়া হালাল নয় ৷ এবং
আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে এমন কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয় যে, মুসলমানদের ধন ভাণ্ডার
থেকে বস্ত্র নিয়ে পরিধান করবে আর তা পুরাতন জীর্ণ-শীর্ণ করে ফেরত দিবে ৷ মুহাম্মাদ ইবন
ইসহাক (র) সুত্রে আবু দাউদ (র) এমনভাবেই হাদীছটি বর্ণনা করেরুছণ্ডুন ৷ তিরমিযী (র ) হাফ্স
ইবন উমর শায়রানী — রুয়াইফি ইব ন ছাবিত সুত্রে সংক্ষেপে হাদীছটি বর্ণনা করে এটি
হাসান পর্যায়ের বলে মন্তব্য করেছেন ৷ সহীহ্ ৰুখারীতে নাফি সুত্রে ইবন উমর (সা) থেকে বর্ণিত
আছে যে ,

খায়ররের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) গৃহপালিত গাধার পােশত খেতে নিষেধ করেছেন ৷ তিনি বসুন
থেতেও নিষেধ করেছেন ৷ ইবন হড়াযম আলী (বা) এবং শুরইিক ইবন হাম্বল (রা) এর মত উল্লেখ
করেছেন যে, তারা র্কাচা রসুন-পেয়াজ খাওয়া হারাম মনে করতেন ৷ আর তিরমিযী (র) এ দু’জন
মনীষী তা মাক্রুহ বলেছেন বলে উল্লেখ করেছেন ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন, বুখারী ও মুসলিম
শরীফে যুহ্রী আলী ইবন আবুতালির (বা) বর্ণিত হাদীছ–

অর্থাৎ রাসুল করীম (সা) খায়বর (বিজয়ের) এর দিন মুতআ বিবাহ এবং গৃহ পালিত গাধার
গােশত খেতে নিষেধ করেছেন ৷ এ হাদীছ সম্পর্কে হাদীছ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা অনেক কথাবার্তা
বলেছেন ? বুখারী ও মুসলিম শরীফে মালিক প্রমুখের বরাতে যুহ্রী সুত্রে বর্ণিত হাদীছ অনুযায়ী
মুতআ বিবাহ হারাম ঘোষিত হয়েছিল খায়বরের দািনই ৷ কিন্তু দুটি কারণে এ অর্থ গ্রহণ করা
মুশকিল ৷ (এক) খায়বরের দিন মুতআ বিবাহের আদৌ কোন প্রয়োজনই ছিল না ৷ কারণ,
ভোগের জন্য সেখানে তখন নারীর অভাব ছিল না ৷ (দুই) মুসলিম শরীফে রবী ইবন সাবুরা সুত্রে
মড়াবাদ তার পিতা থেকে বর্ণিত হাদীছে বলা হয়েছে-

রাসুল করীম (সা) মক্কা বিজয়ের দিন তাদেরকে মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন, এরপর
তা নিষিদ্ধ ঘোষণা না করা পর্যন্ত তিনি মক্কা ত্যাগ করেননি ৷ তারপর তিনি বলেন : আল্লাহ
তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত কালের জন্য মুতআ বিবাহ হারাম করে দিয়েছেন ৷ এতে দেখা যায় যে,
তিনি আগে নিষেধ করেছেন, পরে অনুমতি দিয়েছেন, তারপর হারাম করা হয়েছে ৷ এতে করে

দৃ’দফা বাতিল বা রহিতকরণ সাব্যস্ত হয়, যা সুদুর পরাহত ৷ উপরন্তু ইমাম শাফিঈ প্রমাণ পেশ
করেন যে, কোন একটা বিষয় একবার মুবাহ করা হয়, পরবভীন্থিত তা হারাম করে আবার

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.