সরল কথাবার্তা ও নাস্তিকতার সূচনা

এখন প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তি সবসময় ছিল। কমবেশি ছিল। প্রযুক্তি কী? যু্ক্তিগ্রাহ্য বস্তুর প্রায়োগিক রূপই প্রযুক্তি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহোদর। বিজ্ঞানের ফসল প্রযুক্তি অথবা প্রযুক্তি বৈজ্ঞানিক বাস্তবায়ন।

যুগান্তরে তো প্রযুক্তি ছিলই। এটার ব্যবহার এখন অনেক বেড়েছে। বিজ্ঞান আগে এরকম ধরাছোঁয়ার আওতাধীন ছিল না। পণ্ডিত ও গবেষকরা আগে বিজ্ঞান বুঝত। এখন আমরা প্রায় সকলে বিজ্ঞানের আওতাভুক্ত। এই যে আমি লিখছি, কাগজে নয়, মোবাইলে লিখছি। কলমে নয়, বৃদ্ধাঙ্গুলির পেট আলতো ছুঁয়ে লিখছি। এটাই প্রাযুক্তিক যুগের নিদর্শন। আপনি বইতে পড়ছেন? না। স্মার্ট ডিভাইসে পড়ছেন। এরকম আমাদের প্রাত্যহিক ও প্রায়োগিক জীবন ডিভাইসময় হয়ে গেছে। এজন্য এটা প্রযুক্তির যুগ।

প্রযুক্তির উদ্ভাবনের মূলে আছে সহজকরণ ও ব্যবসায়। এদুটি বেশ ভালোভাবে হচ্ছে। আরেকটি অসুবিধাও তাতে যুক্ত হচ্ছে। তা হল, অকল্যাণ।

প্রযুক্তি আমাদের সুন্দর গুণাবলি ক্রমশ গিলে ফেলছে। আমরা ক্রমে খারাপ প্রবণতার দিকে ঝুঁকছি। প্রযুক্তির সুন্দর ও শোভন ব্যবহার হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ্‌। তবে তা নিতান্ত কম।

বিপরীতে প্রযুক্তির ছত্রছায়ায় অপরাধ ও অন্যায় বাড়ছে। পাপ ও শয়তানি বহুলাংশে বেড়েছে। আমাদের স্মার্ট মোবাইল ও আধুনিক ডিভাইসসমূহ খারাপি ও অকাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে আমাদের মননশক্তি, চরিত্রাবলি, মেধা ও সম্ভাবনা অপচয় হচ্ছে। কখনো সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন।

সে হরেক কথা। আজ প্রযুক্তির এক শাখা নিয়ে কথা লিখতে চাই।

আগেও নাস্তিকতা ছিল। আগেও ডকিন্স ছিল। আগেও ডারউইন ছিল। হুমায়ূন আজাদ অবিশ্বাস লিখেছেন দুই যুগ আগে। প্রবীর ঘোষ লৌকিক অলৌকিক লিখেছেন বহু আগে। তসলিমার অপবিশ্বাস আগে থেকে ছিল। ছিল না?

রাসেলের আমি কেন খ্রিষ্টান নই, পুরনো বই।

তখন প্রযুক্তি সহজলভ্য ছিল না। এসব বই নিষিদ্ধ ছিল। অথবা অসিদ্ধ ছিল। এসব বই পড়ার লোক ছিল, কম। কারণ? এসব বইপত্রের সরগরম উপস্থিতি ছিল না। এখন এসব বই, বইয়ের নির্লজ্জ বার্তা মানুষের মোবাইলে অযাচিত ঢুকে পড়ছে। সোশাল মিডিয়ায় অনায়াসে এসব সবার মুঠোয় প্রবিষ্ট হচ্ছে। মুঠো থেকে চোখ বেয়ে মগজে ঢুকে মগজ নষ্ট করছে।

আগে শুধু বই ছিল। নিরব বই। এখন সবাক অডিও ভিডিও আপনার আমার যোগাযোগ মাধ্যমে এসে গুঁতোগুঁতি করছে।

শয়তান আমাদের ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ বিষয় প্রলুব্ধক হয়ে আমাদের ঈমান আমল নষ্ট করছে। কৌতূহল স্বাভাবিক বিষয়। উৎসুক্য সহজাত। এসব শুনে পড়ে আমরা ক্রমান্বয়ে নিফাকে আটকে যাচ্ছি। অনেকে সংশয়ের ফাঁদে পড়েছি।

আল্লাহ না করুন, নাস্তাগফিরুল্লাহ অনেকে ঈমানের দৌলত হারাচ্ছে।

প্রযুক্তির স্মার্ট উন্নয়ন আমাদের প্রভূত কল্যাণ করছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌। প্রচুর ক্ষতি, ভয়ংকর ক্ষতিও ঢেকে এনেছে এ প্রযুক্তি।

দুইটি ভয়াল ক্ষতিকর বিষয় হল, পর্ণ ও নাস্তিকতার আস্ফালন। পর্ণ মানুষের মনুষ্যত্ব ধ্বংস করে। নাস্তিকতার পঠনপাঠন ও শ্রবণ ঈমানিয়াত দুর্বল করে ফেলে। আল্লাহ আমাদের এই রোগদ্বয় থেকে মাহফুজ রাখুন।

নাস্তিকতার আস্ফালন আমার শোনার দরকার কী? আমার বাবামাকে গালি দিলে, শোনা উচিত? তাছাড়া সাধারণ মুসলমানের জন্য নাস্তিকতার বয়ান শোনা ও দেখা জায়েজ?

আমি যদ্দুর জানি, জায়েজ হওয়ার সুযোগ নেই। হারাম হওয়া কাঙ্ক্ষিত।

নাস্তিক্য বলয়ে গিয়ে গালি ও নোংরা বক্তব্য শোনা ঈমানিয়াতের পরিপন্থী। তাদের, এসমস্ত জানোয়ারদের টোটাল অবজ্ঞা ও ব্লক করা উচিত নয় কি?

সেখানে খারাপ কমেন্ট করা কি জায়েজ? নাস্তিক জানোয়ারকে গালি দিলে, গালি অপমানিত হয় না?

একটু ভাবুন, প্লিজ!

নাস্তিকরা যেসমস্ত বিষয়আশয়ে হুক্কাহুয়া করে। সেসব আমি জানি?

আমি আলিম হলে, তার উত্থাপিত বিষয়াবলীর পূর্বাপর আমার জানা?

এ বিষয়ক সর্বোত্তম গবেষণা আমার আছে? সর্বশেষ গবেষণা আমার অধিত?

নাস্তিকের প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক সূত্র আমি জানি?

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বুনিয়াদি পড়াশোনা আমার আছে?

বৈশ্বিক আইন ও ইতিহাস আমি জানি?

বিতর্ক ও আলোচনার কৌশল আমার জানা?

প্রমিত ভাষায় কথাবার্তা বলার দক্ষতা আমার আছে?

পারঙ্গম ইংরেজি ও সমৃদ্ধ আরবি আমি জানি?

এসবের উত্তর হ্যাঁ হলে আপনি নাস্তিককে চ্যালেঞ্জ করুন। বিতর্ক করুন। সুস্বাগত।

নাহয় লেজেগোবরে ঝগড়া থেকে বিরত থাকুন।

আপনি আমি বিতর্কে হাস্যকর বিতর্ক করে ইসলামকে খেলনা বানানের অনুমতি ইসলাম দেয় না।

আপনার আবেগের কারণে গোনাহগার হচ্ছেন। ইসলামে ঢিলেমির মূল্য নেই।

ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা বাড়ান। প্রথিতযশা ইসলামি স্কলারসের বই গবেষণা পড়ুন।

মৌলিক তাফসির পড়ুন।

ইবনে কাসির পড়ুন।

মাআরিফুল কুরআন পড়ুন।

আল মুইআস্সির পড়ুন।

তাদাব্বুর পড়ুন।

রাসুলুল্লাহ আলাইহিসসালাম এর সীরাত পড়ুন। দারুণ দারুণ সীরাত আছে পড়ুন।

ইসলামি আইনি গবেষণা পড়ুন।

তুলনামূলক ইসলামি বইপত্র পড়ুন। গবেষণা করুন।

হুটহাট মন্তব্য করে হাসির খোরাক তৈরি করাতে ফজিলত নেই।

যারা যথেষ্ট চিন্তাশীল ও মননশীল ও প্রাজ্ঞ তাঁরা নাস্তিকতার আস্ফালন থামাবে। কেউ নেই? ভুল। আছেন।

আসবেন। হারুন ইয়াহিয়া আছেন না?

আমাদের আরিফ আজাদ আছে না? হাফেজ আব্দুল গফুর দামাত বারাকাতুহুম আছেন। আল্লাহর দীনকে আল্লাহ হেফাজত করবেন। নিটোলভাবে দীনকে বিজয়ী করবেন।

আপনি আমি যেন মোকাবেলা করতে গিয়ে কার্তুজ উল্টো না করি এই আশা করছি।

মিনতি করছি,

যেকোন একটা তাফসির, যেকোন একটা সীরাত পড়তে শুরু করুন। দয়া করে!

প্রশান্তি আপনাকে পুষ্পিত না করলে, আমাকে বলবেন!