সায়ফ ইবন যী -ইয়াযান এর বর্ণনা এবং নবী করীম (সা) সম্পর্কে তাঁর সুসংবাদ প্রদান

সায়ফ ইবন যী-ইয়াযান-এর বর্ণনা এবং
নবী করীম (সা) সম্পর্কে তার সুসংবাদ প্রদান

হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন সাহ্ল খারাইতি তার হড়াওয়াতিফুল জান’
নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আলী ইবন হারব আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা ) সুত্রে বর্ণনা
করেন, সায়ফ ইবন ষী-ইয়াযান এক সময় হাবশার (ইথিওপিয়া)-এর শাসন ক্ষমতা লাভ
করেন ৷ ইবন মুনযিরের মতে সায়ফ ইবন যী-ইয়াযানের নাম নুমান ইবন কায়স ৷ এটি ছিল
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর জন্মের দৃ’বছর পরের ঘটনা ৷

এ উপলক্ষে আরবের প্রতিনিধি ও কবিপণ র্তাকে অভিনন্দন জানাতে এবং তার
জনকল্যাণমুলক কর্যতৎপরতায় প্রশংসা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তার নিকট হাজির হন ৷ কুরায়শ
বংশীয় প্রতিনিধি দলে অন্যান্য নেতার মধ্যে আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিম, উমাইয়া ইবন আবদ
শামৃস আবু আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ্ ইবন জাদআন এবং খুওয়াইলিদ ইবন আসাদ প্রমুখও ছিলেন ৷
তারা সানৃআয় গিয়ে সায়ফ-এর সাথে সাক্ষাত করেন ৷ তখন তিনি পামাদান পর্বতের চুড়ায়
নির্মিত রাজপ্রাসাদে অবস্থান করছিলেন ৷ করি উমাইয়া ইবন আবী সালুত তার নিম্নোক্ত কবিতায়
পামাদান পর্বতের কথা উল্লেখ করেছেন :

আপনি তৃপ্তি সহকারে পান করুন, আপনার মাথায় আছে সুউচ্চ মুকুট ৷ আপানার অবস্থান
হলো পামাদান পর্বতের চুড়ায় অবস্থিত রাজপ্রাসাদে ৷”

রাজপ্রহরী রাজার নিকট গিয়ে আগন্তুকদের অবস্থান সম্পর্কে র্তাকে অবহিত করলো ৷ রাজা
তাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন ৷ তীর নিকটবর্তী হয়ে আব্দুল মুত্তালিব কথা বলার অনুমতি

চাইলেন ৷ রাজা বললেন, আপনি যদি আমার সম্মুখে দীড়িয়ে কথা বলার যোগ্যতা রাখেন তবে
আপনাকে অনুমতি দিলাম ৷ আপনি কথা বলুন ৷

আব্দুল মুত্তালিব বলতে শুরু করলেন, হে রাজন ৷ আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে এমন একটি
উচ্চ স্থানে বসিয়েছেন যা অর্জন যা সুরক্ষিত এবং সুমহান ৷ তিনি আপনাকে এমন
বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার উৎস পবিত্র, মুল সুমিষ্ট, শিকড় সুদৃঢ় এবং যার শাখ প্রশাখা
বিন্তুত হয়েছে সর্বাধিক মর্যাদাবান স্থানে ও মোঃ ৷

হে রাজন ! আপনি আরবের রাজা এবং তাদের বসন্ত কাল স্বরুপ যার দ্বারা জনপদগুলো
সবুজ-শ্যামল হয়েছে ৷ আপনি আরবদের শীর্ষতম ব্যক্তি, আপনার প্রতি মাথা নত করে আরবের
শহর-নপরগুলাে ৷ আপনি তাদের স্তম্ভ যার উপর তারা নির্ভর করে ৷ আপনি তাদের আশ্রয়স্থল
যেখানে এসে লোকজন আশ্রয় লাভ করে ৷ আপনার পুর্বপুরুষগণ ছিলেন অত্যন্ত স্ল্লাম্ভ ৷
আমাদের জন্যে আপনি৩াদের উত্তম উত্তরাধিকারী ৷ তারা যা র পর্বপুরুষ৩ তিনি কখনো নিম্পুভ
হতে পারেন না এবং আপনি যাদের উত্তর পুরুষ তারা কখনো ধ্বংস হতে পারেন না

মহারাজা আমরা মহান আল্লাহর হারাম শরীফের অধিবাসী এবং তার পবিত্র ঘরের
তত্ত্বাবধায়ক ৷ আপনার যে বিপদ আমাদের বেদনাহত করে রেখেছিল বিপদ থেকে মুক্তি লাভের
মহাউৎসবে আপনাকে অভিনন্দন জানানোর তাপিদে আমরা আপনার নিকট এসেছি ৷ আমরা
অভিবাদন জ্ঞাপনকারী দল ৷ দীর্ঘদিন অবস্থান করে আপনার বোঝা হয়ে থাকার দল নই ৷

রাজা বললেন, হে সুবক্তা ! আপনার পরিচয় কি ? তিনি বললেন, আমি হাশ্যিমর পুত্র আব্দুল
মুত্তালিব ৷ রাজ বললেন, আমাদের ভাগে ? ইা, তিনি উত্তর দিলেন ৷ রাজা বললেন “নিকটে
আসুন ৷ ” অতঃপর তিনি তাকে কাছে টেনে নিলেন ৷ তাকে এবং তার সাথীদেরকে সামনে নিয়ে
তিনি বললেন, “মারহাবা স্বাগতম” আপনারা এসেছেন মিত্রদেশে , এসেছেন প্রচুর দানশীল
রাজার নিকট, তিনি আপনাদেরকে প্রচুর পরিমাণে দান করবেন ৷

রাজা আপনাদের বক্তব্য শুনেছেন, আপনাদের আত্মীয়৩ ৷র পরিচয় পেয়েছেন ৷ তিনি
আপনাদের পবিত্র উসিলাও গ্রহণ করেছেন ৷ আপনাদের জন্যে সার্বক্ষগি ৷ক মেহমানদারীর ব্যবস্থা
রয়েছে ৷ যতদিন মন চায় আপনারা এখানে অবস্থান করুন! আপনাদের জন্যে আতিথ্য ও
সম্মানের সুব্যবস্থা রয়েছে ৷ বিদায়ক্ষগে আপনাদের জন্যে উপহারের ব্যবস্থা থাকবে ৷ এরপর
তারা যেহমানখান৷ ও সম্মানিত অতিথিদের বিশ্রামাপারে গমন করেন ৷ তারা একমাস সেখানে
অবস্থান করেন ৷

ইতিমধ্যে তারাও রাজার সাথে সাক্ষাত করেন নি আর রাজাও তাদের বিদায়ের অনুমতি
দেন নি ৷ একদিন তাদের কথা রাজার স্মরণ হলো ৷ লোক মারফত তিনি আব্দুল মুত্তালিবকে
ডেকে পাঠালেন ৷ অতঃপর একান্ত সান্নিধ্যে এসে তাকে বললেন, হে আব্দুল মুত্তালিবা
আমার জানা কিছু গোপন তত্ত্ব আমি আপনাকে আমার ৷ আপনার স্থানে অন্য কেউ হলে
কিন্তু তাকে আমি তা জানাতাম না৷ আমি আপনাকে দুরদর্শিত৷ ও বিচক্ষণ৩ ৷র খনিরুপে
দেখতে পাচ্ছি ৷ তাই আপনার নিকট তা ব্যক্ত করছি ৷ আল্লাহ্৩ ৷ আল৷ যতদিন এ সংবাদ
প্রকাশের অনুমতি ৩না ৷দিবেন ততদিন যেন এটি গোপন থাকে ৷ আল্লাহ্ তা আলা নিশ্চয়ই তার
ইচ্ছ ৷ চ্ছপুরণ করবেন ৷

আমি আমার নিজের পছন্দের গোপন কিতাব ও লুক্কায়িত অভিজ্ঞতার একটি গুরুতৃপুর্ণ
সংবাদ ও সুমহান বিষয় পেয়েছি যাতে সাধারণভাবে সকল মানুষের জন্যে এবং বিশেষভাবে
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়৷ (২য় খণ্ড) ৬৬

আপনার সম্প্রদায় ও আপনার নিজের জন্যে মর্যাদার জীবন ও পরিপুর্ণ সম্মানের পুর্বাভাস
রয়েছে ৷ আব্দুল ঘুত্তালিব বললেন, আপনার মত ল্যেকেরাই চিরসুখী ও পুণ্যময় জীবনের
অধিকারী হয়ে থাকেন ৷ পশু সম্পদের মালিক মরুবাসী দলে দলে আপনার জন্যে কােররানী
হউক ৷ বলুন তো ঐ বিষয়টি কি ? রাজা বললেন, তেহাম৷ অঞ্চলে একটি শিশুর জন্ম হবে ৷ তার
দু’ র্কাধের মধ্যবর্তী স্থানে মােহর অংকিত থাকবে ৷ সেতৃতৃ তারই হবে ৷ কিয়ামত পর্যন্ত তারই
বদৌলতে আপনাদের নেতৃতু প্রতিষ্ঠিত থাকবে ৷

আব্দুল মুত্তা ৷লির বললেন, আল্লাহ অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন একটি প্রতিনিধিদল যত অধিক
কল্যাণ নিয়ে দেশে ফিরে যায় তার চাইতে অধিক কল্যাণ নিয়ে আমরা স্বদেশে ফিরছি ৷
মহারাজের পক্ষ থেকে অভয় পেলে আমি আমার সুসংবাদ বিষয়ে এমন আরও কিছু বিষয়
জিজ্ঞেস করতাম যা দ্বারা আমার আনন্দ আরো বৃদ্ধি পেত ৷ ইবন যী-ইয়াযান বললেন, এটিই
তার আবির্তাবের সময় ৷ এমনও হতে পারে যে, ইতিমধ্যে তার জন হয়ে গেছে ৷ তার নাম
মুহাম্মদ ৷ তার পিতা-মাত৷ দুজনেরই মৃত্যু হবে ৷ দাদা ও চাচা ত;ব্র লালন-পালন করবেন ৷
আল্লাহ তাকে প্রকাশ্যে প্রেরণ করবেন ৷ আমাদের মধ্য থেকে তার সাহায্যকারী নির্ধারিত
করবেন ৷ এসব সাহায্যকারী দ্বারা তিনি তার বন্ধুদেরকে, বিজয় দিবেন এবং তার শত্রুদেরকে
লাঞ্ছিত করবেন ৷ তাদের দ্বারা মানুষের সস্তুম রক্ষা করবেন ৷ তাদের মাধ্যমে সেরা ভুখণ্ডগুলাে
জয় করাবেন, মুর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলবেন পুজা অর্চনার অগ্নিকুণ্ড নিভিয়ে দিবেন, দয়াময়
আল্লাহ্র ইবাদত চালু হবে এবং শয়তান বিতাড়িত হবে ৷ তার বক্তব্য হবে সুস্পষ্ট বিচার
মীমা০ সায় তিনি হবেন ন্যায়পরায়ণ ৷ তিনি সৎকাজের আদেশ দিবেন এবং নিজে তা আমল
করবেন ৷ অসৎকাজে বারণ করবেন এবং নিজে তা বর্জন করবেন ৷

আব্দুল মুত্তালিব বললেন, মহারাজা আপনি সৌভাগ্যবান হউন, আপনার উন্নতি হোক,
আপনার রাজতৃ দীর্ঘস্থায়ী হোক এবং আপনি দীর্ঘজীবী হউন ৷ আমি এট্রুকু বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি
যে, মহারাজ কি আমাকে গোপনে আরো একটু বিস্তারিত জানাবেন ? তিনি তো ইতিমধ্যে আমার
নিকট অনেকটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন ৷

তখন ইবন যী ইয়ায ন বললেন গিলাফ আচ্ছাদিত বায় তুল্লাহ্ শরীফের কসম কাধের
চিহ্ন দ্বারা এটা আমার কাছে নিশ্চিত যে, হে আব্দুল ঘুত্তালিব ৷ আপনিই তার পিতামহ ৷
তাতে এতটুকু মিথ্যা নেই ৷ একথা শুনে আব্দুল মুত্তালিব সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ৷ রাজা
বললেন, মাথা তুলুন ৷ আপনার হৃদয় প্রশাস্তি লাভ করুক ৷ আপনার মর্যাদা সুউচ্চ হোক ৷
আমি যা বলেছি তা থেকে আপনি কি কিছুটা অনুমান করতে পেয়েছেন ? আব্দুল মুত্তালিব
বললেন, মহারাজ ৷ আমার এক পুত্র ছিল ৷ সে ছিল আমার পরম স্নেহের ৷ নিজ বংশের ওহব
তনয়া আমিনা নামের এক স্ন্তুাম্ভ মহিলার সাথে আ ৷মি তার বিবাহ দিয়েছিলাম ৷ তা যে গর্ভে জন্ম
নেয় একপুত্র সন্তান ৷ আমি তার নাম রেখেছি মুহাম্মদ ৷ সে মাতৃগর্ভে থাকা ৷অবস্থায় তার পিতা
মারা যায় ৷ শৈশ্াবে সে তার মাকে হারায় ৷ আমি নিজে এবং তার চাচা দু দান তার

লালন-পালনের ভ ৷র নিয়েছি ৷

ইবন যী-ইয়াযান বললেন, আপনি যা বলেছেন তা যদি ঠিক হয়ে থাকে তবে আপনি
আপনার ওই পৌত্রের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন এবং ইহুদীদের পক্ষ থেকে যাতে তার অনিষ্ট
না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন ৷ কারণ ওরা তার শত্রু ৷ তবে তার কোন ক্ষতি করবে
এমন সুযোগ আল্লাহ তাদেরকে দেবেন না ৷ আমি আপনা:ক যা বলেছি আপনার সাথীদের
কাছ থেকে আপনি তা গোপন রাখবেন ৷ কারণ আমি নিশ্চিত নই যে , নেতৃত্বের আকাডাঃা
তাদের মধ্যে সৃষ্টি হবে না এবং নেতৃত্ব লাভের সােভৈভ তারা আপনার পৌত্রকে বিপদে
ফেলবে না ৷ কিৎরা তার বিরুদ্ধে ষড়যস্তের ফীদ তৈরি করবে না ৷ বন্তুত তারা বা তাদের
বংশধরেরা এরুপ করবেই ৷

তার নবুওত প্রাপ্তির পুর্বে আমার মৃত্যু হবে এটা যদি আমার জ্ঞাত না থাকতো আমি আমার
অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীসহ আমি তার নিকট যেতাম এবং তার রাজধানী ইয়াসরিবে
উপস্থিত হতাম ৷ পুর্বাভাস দানকারী গুপ্ত কিতাবে আমি পেয়েছি :য , ইয়াসরিবেই তার রাজতু
কায়েম হবে ৷ আরবের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তার অনুসরণ করবেন ৷ আবু পেলে র্তার
অনুসরণে আমি আরবের সকল স্থানে গমন করতাম ৷ কিন্তু আপনার সাথে ন্:দ্বৰুরা রয়েছেন
তাদের মধ্যে কোন অপরাধ না থাকা সত্বেও আমি এই দায়িতৃ শুধু আপনার উপরই অর্পণ

করছি ৷

অতঃপর তিনি প্রতিনিধিদলের সকলকে জনপ্ৰতি দশজন ক্রীতদাস, দশজন দাসী, একশ
উট, একজোড়া চাদর, পাচ রতল১ স্বর্ণ, দশ রতল রৌপ্য এবং পুর্ণ এক রতল করে কস্তুবী
উপহার প্রদানের নির্দেশ দিলেন ৷ আবদুল মুত্তালিবের জন্যে তার দশগুণ উপহার প্রদানের
নির্দেশ দিলেন ৷ তিনি আবদুল মুত্তালিবকে বললেন, “এক বছর পর আপনি আবার
আসবেন ৷” কিন্তু এক বছর পুর্ণ হওয়ার আগেই ইবন যী-ইয়াযানের মৃত্যু হয় ৷ আবদুল
মুত্তালিব প্রায়ই বলতেন, “রাজার দেয়া রাজকীয় উপহাবের কারণে তোমাদের কেউ
আমাকে হিংসা করো না ৷ কারণ তা একদিন শেষ হয়ে যাবে বরং তোমরা আমাকে ঈর্ষ৷ করতে
পার, তার সেই উপহাবের জন্যে যা অবশিষ্ট থাকবে আমার জন্যে এবং আমার বংশধরদের
জন্যে ৷ আর তাহলাে আমার বংশের সুনাম, মর্যাদা ও গৌরব ৷ তাকে যদি জািজ্ঞস করা হতো
কখন আসবে এ মর্যাদা ও সম্মান তখন তিনি বলতেন, অতি সতৃর জানতে পারবে ৷ কিছুটা
দেরিতে হলেও ৷

এ প্রসংগে করি উমাইয়া বলেন :

আমরা উপদেশ সংগ্রহ করেছি, পালে প্যাল উট ও উন্তী চালিয়ে দুর দেশে ভ্রমণ করে
এগুলো সংগহ করা হয়েছে ৷

১ রতল বা রিতল ৪০ তোলা ওজনের সমপরিমাণ ৷

উন্থীগুলোর চারণ ভুমি সজীব ঘাস লতায় পরিপুর্ণ ৷ সেগুলো দুর দুরাম্ভ থােক
সানআ

এগুলো আমাদেরকে নিয়ে গিয়েছে ইবন যী ইয়াযানের নিকট উদরস্থ পুষ্টিকর খাদ্য থেকে
পাওয়া শক্তিবলে তারা পথের সকল বাধা অতিক্রম করেছে ৷

ইবন যী-ইয়াযানের বদান্যতায় সেগুলো লেজ বেড়ে বেড়ে পরম আনন্দে বারুক
ঘাস খাচ্ছিল ৷ নিজেদের চোখ ধাধানো চমৎকারিতু ও চাকন্তিকোর সাথে আরো সৌন্দর্য
যোগ করছিল ৷

সানআ পৌছে সেগুলো রাজপ্ৰাসাদে ও পরম মর্যাদার স্থানে অবতরণ করল ৷
হাফিজ আবু নৃআয়ম আদ দালাইল গ্রন্থে এরুপ ঘটনাই বিশদভাবে উদ্ধৃত করেছেন ৷

আবু বকর খারাইতী খলীফ৷ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবন উছমান
ইবন রবীআ ইবন সাওআ ইবন খাছআম ইবন সাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার পিতা
আপনার নাম মুহাম্মদ’ রেখেছিলেন কেন ? উত্তরে তিনি বললেন, আপনি আমাকে যে প্রশ্ন
করেছেন আমি আমার পি৩ ৷কে সে প্রশ্ন করেছিলাম ৷ তখন আমার পিতা ৬ত্তরে বললেন বনী
তামীমের আমরা চারজন লোক এক সফরে বের হয়েছিলাম ৷ সেই চারজন হলাম আমি উছমান
ইবন রবীআ , সুফয়ান ইবন মুজাশ ইবন দারিম , উসাম৷ ইবন মালিক ইবন জুনদৃব ইবন আকীদ
এবং ইয়াযিদ ইবন রবীআ ইবন কিনান৷ ইবন হারদাস ইবন মাযিন ৷ আমরা যাচ্ছিলাম
গাসসানের রাজা ইবন জাফনার সাথে সাক্ষাত করা উদ্দেশ্যে ৷ সিরিয়ার পৌছে আমরা একটি
জলাশয়ের নিকট যাত্রা বিরতি করি ৷ জলাশয়টির আশেপাশে ছিল প্রচুর বৃক্ষরাজি, আমরা
সেখানে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছিলাম, জনৈক ধর্মযাজক আমাদের কথাবার্তা
শুনে ফেলেন ৷ তিনি আমাদের নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন, আপনাদের ভাষা তো এ
দেশের ভাষা নয় ৷ আমরা বললাম, হ্যা, আমরা মুদার গোত্রের লোক ৷ তিনি বললেন, কোন
মুদার গোত্রের লোক ? আমরা বললাম, খানদাফের মুদার গোত্রের লোক ৷ তখন তিনি
বললেন, অতিস হ্র প্রেরিত হবেন একজন নবী ৷ তিনি হলেন সর্বশেষ নবী ৷ আপনারা
তাড়াতাড়ি তার নিকট যাবেন এবং তার থেকে আপনাদের যে কল্যাণ হ সিল করবার তা
করবেন, তাহলে আপনারা সৎপথ পাবেন ৷ আমরা বললাম , তার নাম কি ? তিনি বললেন, তার
নাম মুহাম্মদ ৷ আমার পিতা বললেন, অতঃপর আমরা ইবন জাফনার সাথে সাক্ষাত শেষে

দেশে ফিরে আসি ৷ পরবর্তীতে আমাদের প্রস্তুত তাকের ঘরে একটি করে পুত্র সন্তান জন্ম
নেয় ৷ আমরা তাদের প্রত্যেকের নাম মুহাম্মদ রাখি ৷ এই আশায় যে, নিজ পুত্রঢিই যেন ঐ
সুসংবাদ প্রাপ্ত নবী হন ৷

হাফিজ আবু বকর খারাইতি জাবির ইবন জিদান সুত্রে বলেছেন, আওস ইবন হাবিছা
ইবন যখন মৃত্যুশয্যায় তখন তার পাসসান সম্প্রদায়ের লোকজন তার নিকট উপস্থিত হয় ৷
তারা তাকে বলেছিল, আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন যে, আল্লাহ্র ডাক আপনার প্রতি এসে
পড়েছে ৷ যৌবনে বিয়ে করার জন্যে আমরা আপনাকে বলেছিলাম আ ৷পনি৩ ৷ প্রত্যাখ্যান
করেছেন ৷ এই যে আপনার ভাই খাযরাজ তার পাচ পাচটি পুত্র সন্তান রয়েছে ৷ অথচ মালিক
নামের একটি পুত্র ব্যতীত আপনার কোন সন্তান নেই ৷ তিনি বললেন, মালিকের মত পুত্র যে
রেখে যাবে যে কখনো ধ্বংস হবে না ৷ যে মহান সত্তা ৷পাথবভ্র,₹র সন্খে চকমকির ঘর্ষণ থেকে
আগুন বের করেন তিনি আমার পুত্র মালিককে রং শ ধর ও সাহসী ৷১ত্তরাধিকা রী প্রদানে সক্ষম
সর৷ ৷ইকেই তো মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে ৷

এরপর তিনি তার পুত্র মালিককে ডেকে বললেন হে বৎস৷ অপমান অপেক্ষা মৃত্যুই গ্রেয়

তিরস্কৃত হওয়ার চাইতে শা ৷স্তি পাওয়াই উত্তম ৷ অস্থিরত৷ অপেক্ষা দৃঢ়তা উত্তম , দারিদ্র৷ অপেক্ষা
কবর উত্তম ৷ যারা সংখ্যায় কম হয় তারা লাঞ্ছিত হয় ৷ যে বার বার আক্রমণ করে শেষ পর্যন্ত
যে পালিয়ে যায় ৷ যে ব্যক্তি মর্যাদাবান মানুষকে সম্মান দেয় যে নিজের পরিজনকে রক্ষা করে ৷
কালের দুটো রুপ, কখনো তোমার পক্ষে থাকবে আর কখনো থাকবে তোমার বিপক্ষে ৷ যখন
তোমার পক্ষে থাকবে তখন তুমি পর্ব করে৷ ন৷ ৷ যখন (ও মেয়ে বিপক্ষে যাবে তখন ?ধর্যধারণ
করবে ৷ দুটো ৷ই অচিরে শেষ হয়ে যাবে ৷ এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাবে না কোন প্রতাপশালী মুকুট
পরিহিত সম্রাট আর না কোন নিম্ন স্তরের নির্বে৷ ৷ধ মুর্থ ৷ তোমার কল্যাণকর সময়ের জান্য
আল্লাহ তোমাকে নিরাপদ রাখুন তােমা র প্রতিপালক তামাকে দীর্ঘজীৰী করুন ৷ তারপর তিনি
আবৃত্তি করেন তার স্বরচিত কবিতা ৷

মুহরিক রৎশের যুদ্ধের দিলে আমি যুদ্ধবন্দীদেরকে দেখেছি ৷ আর হিজর অঞ্চলে
(সেখানকার অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করার জন্যে) আল্লাহর প্রেরিত বজ্রনিনাদ আমি শুনেছি ৷
আমি রাজা-বাদশাহ ও মুর্থ-গবেট সবাইকে দেখেছি যে, তারা সুনিশ্চিতভারে মৃত্যু ও
কবরের দিকে অগ্রসরমান ৷

যে মহান প্রভু ছামুদ ও জুরহুম গোত্র ধ্বংস করেছেন অবিলম্বে তিনি আমাকে এমন বংশধর
দান করবেন যারা শেষ যুগ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আ গ্া৷মন করবে ৷

তাদেরকে দেখে আমার পিতকুল আমর ইবন আমির বং শের লোকদের নয়ন জুড়াবে ৷
এমন এক আহ্বানকারীর নিকট তারা থাকবে যে প্রতিশোধ গ্রহণের আহ্বান জানাবে ৷

হার ! কালের আবর্তন যদি আমার শক্তিকে জীর্ণশীর্ণ করে না দিত আর আমার
মাথাকে সাদা রংয়ে রঙিন করে না দিত ৷ অবশ্য বাস্তবতা তো এই যে, বয়সের কারণে চুল

সাদা হয় ৷
নিশ্চয়ই আমাদের একজন প্রভু রয়েছেন ৷ তিনি আরশের উপর সমাসীনণু ভাল-মন্দ কি
ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি সম্পুর্ণ ওয়াকিফহাল ৷
আমাদের সম্প্রদায়ের নিকট এ সং বাদ কি আসেনি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক

আহ্বান ও দাওয়াত রয়েছে ৷ ঐ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভাগ্যবান ও পুণ্যবান ব্যক্তিরা
সফলকাম হবে ৷

যখন মক্কার অধিবাসী গালিৰ বং শ থেকে রাসুল প্রেরিত হবেন মক্কা ও হিজরের
মধ্যবর্তী স্থানে ৷
সেখানে তোমাদের শহরে তোমরা তাকে সাহায্য করবেৰু হে আমার পিতৃ পুরুষ আমিরের
বংশধ্রগণ ! স্মরণ রেখো , তাকে সাহায্য করার মধ্যেই ণ্তামাদের কল্যাণ নিহিত ৷
এর অব্যবহিত পরেই তিনি ইন্তেকাল করেন ৷

জিনদের অদৃশ্য আহ্বান

ইতিপুর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, ভবিষ্যত বক্তা শিক্ ও সাতীহ নবী করীম (না)-এর
আগমনের সুসংবাদ দিয়ে ইয়ামানের রাজা রাবীঅ৷ ইবন নাসরকে বলেছিলেন : “তিনি পুতঃ
পবিত্র রাসুল, উর্ধ্বজগত থেকে তার নিকট ওহী আসবে ৷ ” রাসুলুল্লাহ (না)-এর জন্ম বৃত্তান্ত
বিষয়ক অধ্যায়ে আবদুল মসীহকে লক্ষ্য করে প্রদত্ত সাতীহ-এর নিম্নের বক্তব্য আসবে “যখন
তিলাওয়াতে র প্রাচুর্য ঘটবে সাওয়াহ্রদ শুকিয়ে যাবে এবং মহা মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তির

আবির্ভাব ঘটবে ৷” এ কথার দ্বারা তিনি রাসুলুল্পাহ্ (সা) কে বুঝিয়েছেন ৷ এ সম্পর্কে বিস্তারিত
বিবরণ পরে আসছে ৷ বুখারী আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি
হযরত উমর (রা)কে যত বিষয়ে এ কথা বলতে শুনেছি “এযিষয়ে আমার ধারণা এই” তা সব
ক ’টাই তার ধারণা মুতাবিবইি হয়েছে ৷

একদিনের ঘটনা ৷ হযরত উমর (বা) এক জায়গায় বসা ছিলেন ৷ তার পাশ দিয়ে একজন
সুদর্শন লোক হেটে গেল ৷ তিনি বললেন, “হয়ত আমার ধারণা ভুল হবে, নতুবা এটা নিশ্চিত
যে, এলোক তার জাহিলী যুগের ধর্ম অনুসরণ করে চলছে অথবা কোন এক সময় লোকটি গণক
ছিল ৷ লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে এস ৷” তখন লোকটিকে ডাক হলো ৷ হযরত উমর (বা)
তার ধারণার কথা লোকটির নিকট ব্যক্ত করলেন ৷ উত্তরে লোকটি বলল, “আজ আমাকে যে
পরিস্থিতির সম্মুখীন করা হলো কোন মুসলমানকে ইতিপুর্বে এরুপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে
আমি দেখিনি ৷” হযরত উমর (রা) বললেন, “ তোমার বৃত্তান্ত না বলা পর্যন্ত আমি তোমাকে
ছাড়ছি না ৷” ৫স বলল, “জাহিলী যুগে আমি গণক ছিলাম ৷ হযরত উমর (রা) বললেন
“তোমার জিন তোমার নিকট যত সংবাদ এসেছে তার মধ্যে সর্বাধিক আশ্চর্যজনক সংবাদ
কোনটি ? সে বলল, একদিন আমি বাজারের মধ্যে ছিলাম ৷ তখন দেখলাম, অত্যন্ত অস্থির ও
অশাম্ভভাবে সে আমার নিকট উপস্থিত হলো এবং বলল :

আপনি কি দেখেছেন জিন জাতিকে এবং তাদের নৈরাশ্যকেত্ব এবং উপুড় হয়ে পড়ে
যাওয়ার পর তাদের হতাশাকে ? আরও কি দেখেছেন সফরের জন্যে তাদের জ্জী প্রস্তুত করা?

হযরত উমর (রা) বললেন, যে ঠিকই বলেছে ৷ একদিন আমি ওদের দেবতাদের পাশে
ঘুমিয়েছিলাম ৷ স্বপ্নে দেখি, এক আগভুক একটি বাছুর নিয়ে উপস্থিত ৷ সে বাছুরটি জবাই
করে দিল ৷ তখন এক অদৃশ্য চিৎকারকারী এমন বিকট শব্দে চিৎকার করে উঠল যা আমি
আগে কখনো শুনিনি ৷ চিৎকার দিয়ে সে বলল, হে বীর ও সাহসী ব্যক্তি! সফলতার পথ
এস্যেছ ৷ প্রাঞ্জল, র্ভাষী এক ব্যক্তি এসেছেন, তিনি বলছেন “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-আল্লাহ
ব্যতীত কোন ইলড়াহ নেই ৷” তার অহ্বানে সাড়া দিয়ে লোকজন দলে দলে তার দিকে
অগ্রসর হচ্ছে ৷ তখন আমি বললড়াম, “এরুপ স্বপ্নের মধ্যে কী রহস্য আছে তা না জানা পর্যন্ত
আমি ক্ষাম্ভ হব না ৷ এরপর পুনরায় উক্ত ঘোযক ঘোষণা দিল, হে বীর ও সাহসী ব্যক্তি !
সফলতার পথ এসে গেছে ৷ প্রাঞ্জল ভাষী লোকটি এসে গেছেন ৷ তিনি বলছেন, “লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহ-ষ্ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলড়াহ নেই ৷” তখন আমি উঠে দাড়ালড়াম ৷ অল্পক্ষণের মধ্যেই
আমাকে বলে দেয়া হলো যে, ইনি নবী ৷ হাদীসটি ইমাম বুখারী (র) এককভারে তার গ্রন্থে
উল্লেখ করেছেন ৷

হযরত উমর (বা) যে লোকটিকে ডেকে এনেছিলেন তার নাম সাওয়াদ ইবন কারিব আল
আযদী ৷ কেউ কেউ বলেন তিনি বালক পর্বতের পাহাড়ী উপত্যকার অধিবাসী ও সাদুস বংশীয়
লোক ছিলেন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর সঙ্গ পেয়েছেন এবং ৩;এ ৷;প্ৰরিত প্রতিনিধিদলের
অন্তর্ভুক্ত হয়ে ছিলেন ৷ আবু হাতিম এবং ইবন মানদ৷ বলেন, সাঈদ ইবন জুবায়র ও আবু জাফর
মুহাম্মদ ইবন আলী প্রমুখ তার বরাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম বুখারী (র ) বলেছেন, উক্ত
ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা) এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷ আহমদ ইবন রাওহ আল বারযাঈ দারা
কুতনী প্রমুখ সাহাবীর নামের তালিকায় তার নাম উল্লেখ করেছেন ৷ হাফি জ আবদুল স্ব ৷ণী ইবন
সাঈদ আল মিসরী বলেছেন, উক্ত ব্যক্তির নাম ওয়াও বর্ণে তাশদীদ বিহীন সাওয়াদ ইবন
কারিব ৷ মুহাম্মদ ইবন ক ৷ব আল কুরাযী সুত্রে উছমান আল ওয়ক্টবহুকাসী বলেছেন, উক্ত ব্যক্তি
ইয়ামানের সঘ্রাম্ভ লোকদের একজন ছিলেন ৷ আবু নুআয়ম আদ দালাইল গ্রন্থে বর্ণনা
করেছেন ৷ উপরোক্ত হাদীস অন্যান্য সনদে ইমাম বুখারীর বর্ণনা অপেক্ষা দীর্ঘতরও
বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন, হযরত উমর (রা) একদিন
মসজিদে নবৰীতে লোকজনের সমাবেশে উপবিষ্ট ছিলেন ৷ তখন ণ্ণকজন আরব হযরত উমর
(রা) এর খোজে মসজিদে প্রবেশ করে ৷ লোকটির দিকে তাকিয়ে উমর (রা) বললেন এই
লোকটি হয়তো মাত্র কিছুদিন আগে শিরক্ তাগ করেছে নতুবা জাহেলী যুগে সে গণক ছিল ৷
লোকটি তাকে সালাম দিল এবং সেখানে বসে পড়ল ৷ উমর (রা)ত তাকে বললেন “আপনি কি
ইসলাম গ্রহণ করেছেন ? হে আমীরুল মুমিনীন! হ্যা, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি , ঐ ব্যক্তি
উত্তর দিলেন ৷ তিনি বললেন, আপনি কী জাহেলী যুগে গণক ছিলেন? লোকটি বলল,
সুবহানাল্পাহ! হে আমীরুল মুযিনীন ! আপনি আমার ব্যাপারে এমন একটি ধারণা পোষণ
করেছেন এবং আমাকে এমন একটি প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন আমার মনে হয় শাসনভার গ্রহণ
করার পর কোন ণ্লাককেই আপনি এমন প্রশ্ন করেন নি ৷

হযরত উমর (রা) বললেন, হে আল্লাহ ! ক্ষমা করুন, আমরা তো জাহেলী যুগে এর চেয়ে
অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত ছিলাম ৷ আমরা মুর্তিপুজা করতাম এবং প্রতিমার সাথে কােলাকুলি
করতাম ৷ অবশ্যেষ আল্লাহ তাআলা র্তার রাসুল ও ইসলাম দ্বারা আমাদেরকে সম্মানিত
করেছেন ৷ ঐ ব্যক্তিটি বললেন, ইা৷, আমীরুল মুমিনীন! জাহেলী যুগে আমি গণক ছিলাম ৷
হযরত উমর (রা) বললেন, তা হলে বলুন দেখি আপনার সাথীশ ৷য়৩ তান আপনাকে কি সং বাদ

দিয়েছে ? তিনি বললেন, ইসলামের আ ৷বির্ভাবের মাসখা ৷নেক কিত্বা তারও কম সময় পুর্বে আমার
সাথীশ্ ৷য়তান আমার নিকট এসে বলল,

আপনি জিন জাতিকে এবং তাদের সৈয়শোকে দেখেছেন কী ? এবং আপনি কি দেখেছেন

তাদের উপুড় হয়ে পড়ে যাওয়ার পরদীনশ্লো তাদের হতাশা ? এও কি দেখেছেন যে, তারা
উষ্টীর নিকট গিয়ে উশ্ৰীকে সফরের জন্যে প্রদুত করছে?

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫২৯

ইবন ইসহাক বলেন, উপরোক্ত বক্তব্য ছন্দোবদ্ধ গদ্য বটে , কবিতা নয়, তখন হযরত উমার
(রা) সােকজনকে উদ্দেশ করে বললেন, আল্লাহ্র কসম, আমি জ্যা;হলী যুগে একদিন কুরায়শ
বংশীয় কতক লোকের সাথে এক প্ৰতিমার নিকট ছিলাম ৷ জনৈক আরব ওই প্রতিমার উদ্দেশে
একটি বাছুর জবইি করল ৷ আমরা অপেক্ষায় ছিলাম যে, সেটির গেণ্যেতর একটা অশে
আমাদেরকে দেয়া হবে ৷ হঠাৎ ওই বাছুরের গেট থেকে আমি একটা বিকট চিৎকার শুনতে
পাই, তেমন বিকট চিৎকার আমি ইতিপুর্বে কােনদিন শুনিনি ৷ এটি ইসলামের আবির্ডাবের মাস
খানেক কিৎবা তারও কম সময়ের পুর্বের ঘটনা ৷ ঐ শব্দ ছিল, “ ;হ বীর ও সাহসী ব্যক্তি ৷
সফলতার পথ এসে গেছে ৷ প্রাঞ্জলতাষী লোক ডেকে ডেকে বলছেন, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্
আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলড়াহ নেই ৷ ইবন হিশামের বর্ণনায় এসেছে “আবির্ভুত হয়েছেন
একজন লোক যিনি প্রাঞ্জল ভাষায় উচ্চ স্বরে ডেকে ডেকে বলণ্:ছন-শু লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ৷
ইবন হিশাম বলেন, কেউ কেউ আমার নিকট কবিতা আকারে এভাধে পাঠ করেছেন :

জিনদেরকে দেখে, তাদের হতাশা দেখে এবং সফরের উদ্দেশ্যে উদ্রীর পিঠে আসন প্রস্তুত
দেখে আমি অবাক হয়েছি ৷

তারা মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করছে হেদায়াতের অম্বেষণে ঈমানদার জিনগণ তাদের নাপাক
বেঈমানদারদের মত নয় ৷

হাফিজ আবু ইয়ালা মুসিলী মুহাম্মদ ইবন কাব আল-কুরাযী সুত্রে বর্ণনা করেন যে,
একদিন উমর ইবন খাত্তাব (রা) বসা ছিলেন, তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এক লোক ৷ একজন
বলল, হে আমীরুল মুমিনীন৷ আপনি কি এ লোকটিকে চেনেন ? তিনি বললেন, ঐ লোক কে ?
লোকজন বলল, সে তো সাওয়াদ ইবন কারিব ৷ তার জিন সহচর তার নিকট রাসুলুল্লাহ
(না)-এর আবির্ডাবের সংবাদ নিয়ে এসেছিল ৷ উমর (না) তাকে ডেকে পাঠালেন ৷ আর তিনি
বললেন, আপনি কি সাওয়াদ ইবন কারিব ? তিনি বললেন, হ্যা ৷ হযরত উমর (রা) বললেন
আপনি কি এখনও আপনার গণক পেশায় নিয়োজিত আছেন ? এতে ঐ ব্যক্তি রেগে যান এবং
বলেন, “হে আমীরুল মুমিনীন! আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত কেউ আমাকে এরুপ
অপমানজনক কথা বলেনি ৷ হযরত উমর (রা) বললেন, সুবহানাল্লাহ্৷ তাতে কি ; আমাদের
শিরকবাদী জীবনে আমরা আপনার গণক পেশার চেয়ে অধিক মন্দ কাজে লিপ্ত ছিলাম ৷ যা হোক
রাসুলুল্লাহ (না)-এর অবির্তাব সম্পর্কে আপনার জিন সহচর আপনাকে কি বলেছিল তা
আমাদেরকে একটু বলুন ৷

তিনি বললেন, “আমীরুল মুমিনীন! একরড়াতে আমি কিছুটা নিদা ও কিছুটা সজাগ এমন
অবস্থায় ছিলাম ৷ আমাকে পদাঘাত করে তখন আমার জিন সহচর বলল, সাওয়াদ ইবন কারিব ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৬৭-

ওঠ ওঠ আমি যা বলি তা গোন এবং বিবেক থাকলে তা বুঝে নাও ৷ লুওয়াই ইবন গালিবের
বংশধর থেকে একজন রাসুল প্রেরিত হয়েছেন ৷ তিনি মানুষকে আল্লাহ্র প্ৰতি এবং আল্লাহ্র
ইৰাদভ্রুত র প্রতি ডাকছেন ৷৩ তারপর সে এই কবিতা পাঠ করে০ ং

জিনদেরকে দেশে ও তাদের অম্বেষণ প্রক্রিয়া দেখে এবং উষ্টীর পিঠে আসন লাগিয়ে তাদের
সফর প্রস্তুতি দেখে আমি অবাক হয়েছি ৷

তারা যাত্রা করছে মক্কার উদ্দেশে হেদায়ত অম্বেষণে সত্য প্রাণ জিন তাদের মধ্যকার
মিথুকেদের ন্যায় নয় ৷

অতএব, তুমি বনী হাশিম গোত্রের ঐ বিশিষ্ট পুত পবিত্র মানুষঢির ৷নকট যাও ৷ জিনদের
অগ্রবর্তী দল তাদের পশ্চাৎবর্তীদলের মত নয় ৷ তখন আমি বললাম, রেখে দা ও তোমার ওসব ,
আমাকে একটু ঘুমােতে দাও ! সন্ধ্যড়া থেকেই আমার ঘুম পেয়েছে ৷ অতঃপর দ্বিতীয় রাতেও সে
আমার নিকট আসে এবং আমাকে পদাঘাত করে পুর্বোল্লিখিত কথাগুলো বলে এবং ঐ কবিতার
পংক্তিগুলো আবৃত্তি করে পদাঘাত করে ৷

আমি বললাম, ছাড় ছাড় আমাকে ঘুমােতে দাও ৷ সন্ধ্য৷ থেকেই আমার ঘুম পেয়েছে ৷

তৃতীয় রাতে ও সে আমার নিকট আসে এবং আমাকে পদাঘাত করে পুর্বের কথাগুলো ও
কবিতার পুনরাবৃত্তি করে ৷

লোকটি বলল, এবার আমি উঠে দীড়ালাম এবং বললাম , আল্লাহ তাআলা আমাকে
পরীক্ষা করছেন ৷

আমি আমার উদ্রীতে সওয়ার হয়ে শহরে অর্থাং মক্কায় এলাম ৷ সেখানে পৌছে
রাসুলুল্লাহ (সা) ও তার সড়াহ্ড়াবীদেরকে দেখলাম ৷ আমি তার নিকটবর্তী হলাম এবং বললাম
ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা) ! আমার কথা শুনুন ৷ তিনি বললেন, বল ! তখন আমি এই কবিতা
পাঠ করলাম০ ং

বিশ্রাম গ্রহণ ও শয়নের পর আমার গোপন সহচর উপস্থিত হয়েছে আমার নিকট ৷ আমি যা
বলছি তা মোটেই মিথ্যা নয়

সে এসেছে একে একে তিন রাত ৷ প্রতিরড়াতে তার বক্তব্য ছিল লুওয়াই ইবন গালিবের বংশ
থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসুল এসেছেন ৷

অতঃপর আমি আমার লুঙ্গি গুটিয়ে ফেলে সফর শুরু করি ৷ আমার প্রচণ্ড শক্তির অধিকারী
উদ্রী আমাকে নিয়ে বিন্তুত বিশাল বালুময় প্ৰম্ভের অতিক্রম করে ৷

এখন আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই ৷ আমি আরো সাক্ষ্য

দিচ্ছি যে, সকল বিজয়ী বীরের মােকাবিলায় আপনি সর্বদা নিরাপদ থাকবেন ৷
আল্লাহ্র সাথে মিলনের ক্ষেত্রে আপনি আল্লাহ্র নিকটতম ণ্রসুল হে পবিত্র ও সম্মানিত
বংশের বংশধর ৷

হে পৃথিবীতে পদচারণকারী ও পদ,র্পণকারী সকল সােকের মধ্যে উত্কৃষ্টতম ব্যক্তি!
আপনার নিকট যা এসেছে আমাদেরকে তা পালনের নির্দেশ দিন ৷ যদিও তার মধ্যে থাকে চুল
পাকিয়ে দেয়ার মত কঠিন বিষয়সমুহ ৷

আপনি সেদিন আমার জন্যে সুপারিশকারী হবেন যেদিন এ সাওয়াদ ইবন কারিবকে রক্ষা
করার মত কোন সুপারিশকারী থাকবে না ৷

আমার কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (না) ও তার সাহাবীগণ খুবই আনন্দিত হলেন ৷ র্তাদের
মুখমণ্ডলে খুশির চিহ্ন ফুঠে ওঠে ৷

বর্ণনাকারী বলেন, সাওয়াদ ইবন কারিবের বক্তব্য শুনে হযরত উমর (রা) লাফিয়ে উঠে
র্তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আপনার মুখ থেকে এ বর্ণনা শোনার জন্যে আমি অনেক
দিন থেকে আকাত্তক্ষা করে আসছিলাম ৷ আচ্ছা, আপনার ঐ জিন সহচর এখনও কি আপনার
নিকট আসে ৷ জবাবে সাওয়াদ বললেন, না ৷ আমি যখন থেকে কুরআন মজীদ পাঠ করতে
শুরু করেছি তখন থেকে সে আমার নিকট আর আসে না ৷ ঐ জিনের স্থলে আল্লাহ্র
কিতাব কতই না উত্তম ৷

এরপর হযরত উমর (রা) বললেন, একদিন আমি কুরায়শের আলে যরীহ্ নামক এক
গোত্রের মধ্যে ছিলাম ৷ তারা একটি বাছুর জবাই করেছিল ৷ কসাই সেটিকে কাটাকুটা করছিল ৷
হঠাৎ বাছুরটির পেট থেকে আমরা এক শব্দ শুনতে পেলাম ৷ কিত্তু চোখে কিছু দেখলাম না ৷ ঐ
শব্দমালা ছিল : হে যরীহ্ বংশের লোকজন! সফলতার পথ এসে গেছে ৷ একজন ঘোষক প্রাঞ্জল

ভাষায় ঘোষণা দিচ্ছেন এবং সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই ৷ এই সনদে
হাদীসটির সনদে বিচ্ছিন্নত৷ রয়েছে ৷ তবে ইমাম বুখারী (র) এর বর্ণনায় এর সমর্থ্য৷ মিলে ৷ এ

ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ একমত যে, বাছুরের পেট থেকে শব্দ শ্রবণকারী ছিলেন হযরত উমর ইবন
খাত্তাব (রা ) ৷

হাফিজ খ ইবাভী তার হাওয়াতিফুল জান পুস্তকে উল্লেখ করোছন যে, আবু মুসা ৷ইমরড়ান
ইবন মুসা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলী সুত্রে বলেন, স ৷ওয়াদ ইবন কারিব মাদুসী
হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) এর সাথে সাক্ষাত করলেন ৷ উমর ইবন্৷ খাত্তাব (র৷ ) বললেন,
হে সাওয়াদ ইবন কা ৷রিব ! আ ৷মি আল্লাহ্র দো ৷হাই দিয়ে বলছি, বলুন ৷তা , আপনি কি আপনার
গণক পেশায় এখনও বহাল আছেনঃ সাওয়াদ বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন ৷ সুবহানাল্লাহ্ ,
আপনি আমাকে যে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন আপনার কোন সাথীকে আপনি কখনো এমন
প্রশ্নের সম্মুখীন করেন নি ৷ হযরত উমর (রা) বললেন, সুবহানাল্লাহ্ হে সাওয়াদ! আমাদের
শিরকবাদী জীবনে আমরা যা করেছি তা আপনার গণক পেশা অপেক্ষা জঘন্য৩ তর ছিল ৷
আল্লাহর কলম, হে সাওয়াদ! আপনার একটি ঘটনার বর্ণনা আমার নিকট পৌছেছে যা খুবই
চমৎকার ৷ সাওয়াদ বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! হী৷ সেটি খুবই আশ্চর্যজনক বটে ৷ হযরত
উমর (রা) বললেন, ঠিক আছে ঐ ঘটনাটি আমাকে গােনান ৷

সাওয়াদ বললেন, জাহেলী যুগে আমি গণক পেশায় নিয়োজিত ছিলাম ৷ তারপর তিনি
জিনের পরপর তিনরাত আগমন ও কবিতা আবৃত্তির কথা বিশদতা ৷বে তার নিকট বর্ণনা করেন ৷
তারপর তার ইসলাম গ্রহণ ও কবিতা আবৃত্তির কথাও তাকে শোনান ৷ তারপর হযরত উমরের
সাথে তার কথোপকথনের কথাও উল্লেখিত হয়েছে ৷ অতঃপর পুর্বোল্লিখিত ৩ঘটনার ন্যায় বর্ণনা
করে যখন তিনি কবিতার শেষের পংক্তিটিতে বললেন ং

এবং আপনি আমার জন্যে সুপারিশকারী হবেন সেদিন, যেদিন আপনি ব্যতীত সাওয়াদ
ইবন কারিবকে রক্ষা করা র কো ন নিকট৷ ত্মীয় থা ৷কবে না

তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের
মাঝে এ কবিতাটি আবৃত্তি কর ৷

হাফিজ ইবন আসাকিরও সাঈদ ইবন জুবায়র (র) সুত্রে উক্ত ঘটনাটি আনুপৃর্বিক বর্ণনা
করেছেন ৷ তবে৩ তিনি এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কবিতার শেষ চরণ আবৃত্তি করার
পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) এমনভাবে হেসে উঠলেন যে, তার মাড়ির র্দাত গুলো দেখা গেল ৷ তিনি
বললেন, হে সাওয়াদ তুমি সফলকাম হয়েছ ৷

আবু নুআয়ম তার দালাইল গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর আব্দুল্লাহ আল
ওমানী থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে মাযিন ইবন আয়ুব নামে এক
লোক ছিল ৷ সে একটি মুর্ডিং সেবায়েত ছিল ৷ মুর্তিটি অবস্থিত ছিল ওমানের সুমায়৷ নামক
গ্রামে ৷ বানু সামিত, বানুহ্ ’ তামা ও মুহর৷ গোত্রগুলো ঐ মুর্ডিং৷ পুজা করত ৷৩ তারা মাযিনের

মাতুল গোত্র ৷ তার মায়ের নাম যায়নাব বিনত আন্দুল্লাহ্ ইবন রবী’আ ইবন খুওয়াইস ৷
খুওয়াইস হলো বানু নারানের অন্তর্ভুক্ত ৷

মাযিন বলেন, একদিনের ঘটনা ৷ আমরা বলি ও মুর্তিব উদ্দেশে আমরা একটি পশু বলি

, দেই ৷ তখন মুর্ডিং৷ ভেতর থেকে আমি একটি শব্দ শুনতে পাই ৷ সে বলছিল, হে মাযিন! আমি

যা বলি তা শোন তাহলে তুমি খুশিই হতে ৷ কল্যাণ এসে গেছে ৷ অকল্যাণ বিলুপ্ত হয়েছে ;

মুদার গোত্র হতে একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন মহান আল্লাহর দীন নিয়ে ৷ সুতরাং তুমি
পাথরের তৈরি মুর্তি পরিত্যাগ কর ৷ তাহলে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে ৷

মাযিন বললেন, এতে আ ৷মি ভীষণ বিচলিত ৩হয়ে পড়ি ৷ কয়েক দিন পর আমরা ওই ঘুর্তিব্
উদ্দেশে আরেকটি পশু বলি দেই ৷ তখন পুনরায় আমি ওই মুর্তিটিকে বলতে শুনি, সে
বলছিল তুমি আমার নিকট আস, আমার নিকট আস, আমি যা বলি তা শোন অগ্রাহ্য করো
না ৷ ইনি প্রেরিত নবী ও রাসুল ৷ আসমানী সত্য নিয়ে তিনি ন্হা৷বিভুত হয়েছেন ৷ তুমি তার প্রতি
ঈমান আন,৩ তাহলে লেলিহান শিরাময় আগুন থেকে রক্ষা প্যা,<৷ ৷ ওই আগুনের জ্বালানি হবে
বড় বড় পাথর ৷

মাযিন বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম , এটি তো নিশ্চয়ই আশ্চর্যজনক ব্যাপার ৷ এটি
তাে আমার জন্যে কল্যাণকর ৷ এ সময়ে আরব অঞ্চল থেকে একজন লোক আমাদের নিকট
আসে ৷ আমি বললাম, ওখানকার সংবাদ কী? সে বলল, সেখানে আহমদ নামে একজন লোক
আবির্ভুত তহয়েছেন ৷ যারা তার নিকট আসে তিনি তাদেরকে বলেন, “তোমরা আল্লাহর প্ৰতি
আহবানকারীর ডাকে সাড়া দাও ৷ অমি বললাম,এঢি তো আমি যা গুনেছি তার বাস্তব রুপ ৷
অতঃপর আমি মুর্তিঢির উপর বাপিয়ে পড়ি এবং সেটি ভেঙে চুরমার করে ফেলি ৷ এরপর আমি
সওয়ারীতে আরোহণ করি এবং সরাসরি রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট গিয়ে উপস্থিত হই ৷ আল্লাহ
তাআলা আমার বক্ষকে ইসলাম গ্রহণের জন্যে প্রশস্ত করে দেন ৷ আমি ইসলাম গ্রহণ করি ৷
তখন আমি বলি :


আমি বাজির মুর্তিকে ভেঙে খান খান করে ফেলেছি ৷ অথচ এক সময় সেটি আমাদের
উপাস্য ছিল ৷ আমরা চরম গোমরাহী ও ভ্রান্তিহেতু সেটির চারদিকে তাওয়াফ করতাম ৷

হাশেম বংশীয় লোক মুহাম্মদ (সা) আমাদেরকে গোমরাহী থেকে বের করে এনে ৫হদায়ত
দিয়েছেন তার দীন ধর্ম আ র তা কখনও আমার কল্পনায়ও ছিল না ৷

হে আরােহী পথিক আমরও তার সম্প্রদা য়কে জানিয়ে দাও, যে ব্যক্তি বলবে আমার প্রভু
বাজির মুর্তি, আমি তার শত্রু ৷

এখানে তিনি আমার দ্ব রা সামিতকে এবং তার গোত্রের দ্বারা হুতামা পােত্রকে বুঝিয়েছেন ৷
মাযিন বলেন, অতপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে বললাম, ইয়া রাসুল ল্লাহ্! আমিণ্ডে একজন
আনন্দপিয়াসী এবং নারীসঙ্গ ও সুরাপানে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপকারী মানুষ ৷ সময়ের
বিবর্তন আমাকে পর্বুদস্ত করেছে এবং তা আমাদের ধ্নসষ্পদ বিনষ্ট করে দিয়েছে ৷ আমার
ক্রীতদাসীদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে ৷ আমার কোন সন্তান-সন্ততি নেই ৷ ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) !
আপনি আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, আমার সমস্যাগুলো তিনি যেন দুর করে দেন, আমাকে
যেন বদ্দাবােধ দান করেন এবং আমাকে একটি সন্তান প্রদান করেন ৷ তখন রাসুলুক্সাহ্ (সা)
বললেন, হে আল্লাহ্৷ তাকে আনন্দ পিরড়াসের পরিবর্তে কুরআন পাঠের আগ্রহ, হড়ারামের
পরিবর্তে হাসান, পাপচােরিতা ও ব্যডিচান্নের পাৰিবর্তে পবিত্রতা দান করুন আপনি তাকে
লক্ষাবােধ এবং সন্তান দান করুন ৷

মাযিন বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঅড়ানা আমার বিপদগুঙ্গো দুর করে দিলেন ৷ ওমান
অঞ্চল উর্বর ও টংপাপনশীন হয়ে ওঠে ৷ আমি ৪জন মহিদাকে বিয়ে করি ৷ কুরআন মর্জীদের
অর্থাংশ মুখস্থু করে ফেলি এবং আল্লাহ্ তাআদা আমারে একটি পুত্র সমান দান করেন ৷ তার
নাম রাখি হাইয়নে ইবন মাযিন ৷ অতপর মাযিন এই কবিতাটি আবৃত্তি ক্ষারন :

হে আল্লাহ্র রাসুল আমার সওয়া ড়ারী আপনার নিকটস্থ এসেছে ৷ বহু মরু যিয়াবান অতিক্রম
করে ওমান থেকে সে আরজে এসেছে ৷

হে পৃথিবী পৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিতু , যেন আপনি আমার জন্যে সুপারিশ করেন ৷
ফলশ্রুতিতে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমাকরে দেন এবং আমি সফলকাম হয়ে ফিরে যাই ৷

আমি ফিরে যাব এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্যে আমি যাদের
ধর্মের বিরোধিতা করছি ৷ সুতরাং তাদের মতবাদ আমার মতবাদ নয় এবং তাদের অবস্থান
আমার অবস্থানের মত নয় ৷

আমার যৌবনকড়ালে আমি সুরা ও নারী সন্তোপে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলাম ৷ এক সময় আমার
শরীর দৃর্বলতা ও শক্তিহীনতার জানান দেয় ৷

অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা আমাকে মদ্য পানের পরিবর্তে খােদাভীতি দান করলেন ৷ আর

ব্যভিচারের পরিবর্তে দিলেন পবিত্রতা ৷ অনত্তর তিনি আমার মৌনাংগকে অবৈধ ব্যবহার থেকে
পবিত্র রাখলেন ৷

অতঃপর আমার মন-মানসিকত৷ ও ইচ্ছা অনুভুতি জিহাদমুখী হয়ে পড়ে ৷ সুতরাং আমার
রোযা ও হজ্জ একমাত্র আল্লাহ্র উদ্দেশেই নিবেদিত ৷

মাযিন বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে তারা আমাকে দুরে তাড়িয়ে
একঘরে করে দিল এবং আমাকে গালমন্দ করল ৷ তারা তাদের জনৈক কবিকে আমার প্রতি
নিন্দাবাদ বর্ষণের জন্যে বলল ৷ সে আমার নিন্দাবাদ করল ৷ আমি বললাম, আমি যদি তার
জবাব দিতে যাই তবে তা হবে নিজেরই নিন্দাবাদ ৷ অতঃপর আমি ওদেরকে ছেড়ে চলে আসি ৷
তাদের মধ্য থেকে বহু লোকের একটি দল আমার সাথে সাক্ষাত করে ৷ ইতিপুর্বে আমি তাদের
দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধান করতাম ৷ তারা বলল, চাচাত ভাই! আমরা আপনার প্রতি অন্যায়
আচরণ করেছি ৷ এখন সেজন্যে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ৷ আপনি যদি আপনার নতুন
ধর্মত্যাগে অস্বীকৃতি জানান তবে তা আপনার ব্যাপর ৷ এখন আপনি আমাদের সাথে ফিরে চলুন
এবং আমাদেরকে দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধানের কাজ করুন ৷ আপনার ব্যাপার আপনার নিজেরই
এখতিয়ারে থাকবে ৷ তখন আ ৷মি তাদের সাথে ফিরে যাই এবং বলি :

আমাদের প্রতি তোমাদের বিদ্বেষকে আমরা তিক্ত জ্ঞান করি ৷ আর তোমাদের প্রতি
আমাদের বিদ্বেষকে হে আমার সম্প্রদায় তোমরা দুধ সম জ্ঞান কর ৷

আমি যখন তোমাদের দোষ বর্ণনা করি তখন আমি চালাক ও কুশলী বলে বিবেচিত হই না
কিন্তু তোমরা যখন আমাদের দো ষ বর্ণনা কর তখন তা’ চাতুর্য বলে বিবেচিত হয় ৷

তোমাদের নিন্দাবাদে আমাদের করি থাকে নীরব আর তোমাদের করি আমাদেরকে
গালাট্রুা৷ল দিয়ে ঘ৷ ড় বীকা করে দিতে সিদ্ধহস্ত ৷ আমাদেরকে গালমন্দ করতে সে বাকপটু ৷

মনে রেখো, আমাদের অস্তরে তোমাদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ নেই ৷ অথচ তোমাদের
মন্থন্ রয়েছে ব্যিদ্বষ ও গোপন শত্রুত৷ ৷

মাযিন বলেন, অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা তাদের সকলকে হেদায়ত দান করেন এবং তাদের
সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে ৷

হাফিজ আবু লুআয়ম হযরত জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন,
রাসুলুল্লাহ (না)-এর আবির্ভাবের সং বাদ সর্বপ্রথম মদীনায় পৌছে এভাবে যে , মদীনায় জনৈকা
মহিলার অনুগত একটি জিন ছিল ৷ একদিন সাদা পাখির আকৃতি নিয়ে সে মহিলার নিকট আসে
এবং একটি দেয়ালের ওপর বসে থাকে ৷ মহিলা বলে, তুমি নেমে আমাদের নিকটে আসছ না

কেন? আস, আমরা পরস্পরে কথার্বতো বলি এবং সংবাদ আদান-প্রদান করি ৷ জবাবে জিনটি
বলল, “মক্কায় একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন ৷ তিনি ব্যভিচার নিষিদ্ধ করেছেন এবং আমাদের
মনের শান্তি কেড়ে নিয়েছেন ৷

ওয়াকিদী বলেন আলী ইবন হুসায়ন সুত্রে বলেন, রাস্ফুল্লোহ (সা) সম্পর্কে মদীনায়
প্রথম সংবাদ আসে এভাবে যে, সেখানে ফাতিমা নাম্বী এক মহিলা ছিল ৷ তার ছিল একটি
অনুগত জিন ৷ একদিন জিনটি তার নিকট এল এবং দেয়ালের ওপর দাড়িয়ে রইল ৷ সে বলল,
তুমি নেমে আসছ না কেনঃ জিনটি বলল, না, নামবাে না ৷ কারণ একজন রাসুল প্রেরিত
হয়েছেন, তিনি ব্যভিচার হারাম করে দিয়েছেন ৷

অন্য এক তাবেঈ মুরসালভাবে এ হাদীসটি বংনাি করেছেন এবং বলেছেন যে, ওই জিনটির
নাম ছিল ইবন লড়াওযান ৷ তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘদিন যাবত জিনটি মহিলার নিকট
অনুপস্থিত ছিল ৷ পরে যখন জিনটি আসে তখন সে জিনঢিকে গড়ালমন্দ করে ৷ তখন জিনটি
বলল, আমি ওই প্রেরিত রাসুলের নিকট গিয়েছিলাম ৷ আমি তাকে ব্যতিচার হারাম ঘোষণা
করতে শুনেছি ৷ সুতরাং তোমার প্রতি সালাম ৷ তোমার নিকট থেকে ঘান্নিক্তয় বিদায় ৷

ওয়াকিদী বলেন, মুহাম্মদ ইবন সালিহ উসমান ইবন আফ্ফান (রা) সুত্রে বলেছেন,
একসময় একটি ব্যবসায়ী কাফেলার সদস্যরুপে আমরা সিরিয়া যাত্রা করি ৷ এটি রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর আবির্ভাবের পুর্বের ঘটনা ৷ আমরা যখন সিরিয়ার প্ৰবেশদ্বারে পৌছি, তখন সেখানকার
জনৈক গণক মহিলা আমাদের নিকট এলো ৷ সে বলল, আমার জিন সাথী আমার নিকট এসে
দেয়ালের ওপর অবস্থান নিল ৷ আমি বললাম ভেতরে আসছ না কেনা সে বলল, এখন আমার
জন্যে সে পথ খোলা নেই ৷ আহমদ নামের একজন নবী আবির্ভুত হয়েছেন ৷ তিনি এমন একটি
বিষয় নিয়ে এসেছেন যার বিরোধিতা করার ক্ষমতা আমাদের নেই ৷ হযরত উসমান (রা ) বলেন ,
এরপর আমি মক্কায় ফিরে আসি ৷ সেখানে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে পেলাম যে, তিনি রাসুলরুপে
আবির্ভুত হয়েছেন এবং মানুষকে আল্লাহর প্রতি ডাকছেন ৷

ওয়াকিদী বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ যুহরী বলেছেন, পুর্বযুগে ওহী বিষয়ক আলোচনা
শোনা যেত ৷ জিনরা তা শুনতে পেত ৷ ইসলামের যখন আগমন ঘটল তখন জিনদেবকে ওহী
শোনার পথ রুদ্ধ করে দেয়া হলো ৷ রানু আসাদ গোত্রে সাঈরা নামে এক মহিলার একটি
অনুগত জিন ছিল ৷ যখন দেখা গেল যে, ওহী শোনা আর সম্ভব হচ্ছে না তখন জিনটি মহিলার
নিকট উপস্থিত হয় এবং তার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে ৷ এরপর সে একটি চিৎকার দেয় যে, ওই
মহিলা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে ৷ তার বুকের মধ্য থেকে জিনটি বলতে শুরু করে কঠােরত৷ কার্যকর
করা হয়েছে, দলে দলে জিনদের উর্ধ্বাকাশে গমন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৷ সাধ্যাতীত নির্দেশ

জারি করা হয়েছে ৷ আর আহমদ (সা) ব্যভিচার হারাম ঘোষণা করেছেন ৷

হাফিজ আবু বকর খারইিডী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ বালডী মিরদাস ইবন
কায়স সাদুসী সুত্রে বর্ণনা করেন-আমি একসময় রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট হাজির হই ৷
তখন র্তার সম্মুখে গণক পেশা সম্পর্কে এবং তীর আবির্তাবের ফলে কীভাবে ওই গণক পেশা

পর্বুদস্ত হয়ে পড়ে সে সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল ৷ আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ (সা)৷ এ
বিষয়ে আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে ৷ আমি তা আপনার সম্মুখে ব্যক্ত করছি ৷ আমাদের একজন
ক্রীতদাসী ছিল , তার নাম খালাসাহ্ ৷ তার সম্পর্কে, ভাল ছাড়া খারাপ ধারণা আমরা কােনদিন
পোষণ করিনি ৷ একদিনের ঘটনা, ,সে আমাদের নিকট এসে রলে, ,,াহ দাওস সম্প্রদায় ৷ আশ্চর্য,
আমার ওপর যা ঘটে গেল তা ভীয়ণ আশ্চর্যের ব,া৷পাব ৷ আপনারা কি আমার ব্যাপারে ভাল
ছাড়া অন্য কোন ধারণা পোষণ করেনঃ আমরা বললাম, ব্যা পর কী? ;স বলল, আমি আমার
বকরী গানের মধ্যে ছিলাম ৷ হঠাৎ একটি অন্ধকার এসে আমাকে ঢেকে ফেলে, এরই মধ্যে
আমি না ৷রী পুরুষের যৌন সঙ্গম অনুভব করি ৷ এখন তাে আমি আশংকা করছি যে হয়ত আমি
গর্ভবভী হয়ে পড়েছি ৷ মুলত৩ তাই হলো ৷ তার প্ৰসবকালীন সময় ঘনিয়ে এলো ৷ সে একটি
চ্যাপ্টা ও ঝুলন্ত কান বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে ৷৩ তার কান দুব্রট৷ ছিল কুকুরের কানের মতো৷
যে আমাদের মধ্যে কিছুদিন থাকার পরই অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা শুরু করে ৷ হঠাৎ সে
লাফিয়ে উঠে এবং নিজের পরিধেয় বস্ত্র খুলে ফেলে উচ্চস্বরে ৷টুচৎকার করে বলতে থাকে, হায়
দৃর্ডোগ! হায় দুর্ভোগ! হায় ক্রন্দন! হায় ক্রন্দন! গানাম গোত্রের দ ন্পুা৷ দুর্ডোগ ৷ ফাহ্ম গোত্রের
জন্যে দুর্ভোগ ৷ খায়ল ভুমিতে আগুন প্রজ্বলনকারীর জন্যে দৃভােগ ৷ আকাবার অধিবাসীদের
সাথে আল্লাহ আছেন ৷ , ওদের মধ্যে কতক সৃদর্শন সাহসী উত্তম যুবক রয়েছে ৷

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা সওক্রীরীতে আরোহণ করলাম এবং অস্ত্রশত্রে সজ্জিত
হলাম ৷ এরপর আমরা বললাম, ধুত্তরি, এখন তুমি কী করতে বল? সে বলে , কোন ঋতুমতি
মহিলা সংগ্রহ করা যাবো আমরা বললাম, আমাদের মধ্য থেকে কে তার দায়িত্ব শেষে? যে
বলল, আমাদের মধ্য থেকে একজন বৃদ্ধ লোক তার দ যিহু নেবে ৷ তবে আল্লাহর কলম, ওই
মহিলা আমার নিকট একজন সতী সাধবী মা বটে ৷ আমরা বললাম, ঠিক আছে ওকে তাড়াতাড়ি
নিয়ে এসো ৷ মহিলাটিকে নিয়ে আসা হলো ৷ ওই শিশু একটি পাহাড়ে ট্টঠল ৷ মহিলাটিকে সে
বলল, আপনার জামা-কাপড় খুলে ফেলে দিন এবং আপনি ওদের সম্মুখে বের হন ৷ উপস্থিত
সোকজনকে সে বলল, তোমরা তার পেছনে পেছনে যাও ৷ আমাদের মধ্যে এক লোকের নাম
ছিল আহমদ ইবন হাবিস ৷ সে বলল, হে আহমদ ইবন হাবিস৷ আপনি বিপক্ষদলের প্রথম
অশ্বারোহীকে ঠেকাবেন ৷ আহমদ আক্রমণ করলেন ৷ ওদের প্রথম অশ্বারােহীকে তিনি বর্শাঘাত
করলেন ৷ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ৷ অন্য সবাই পালিয়ে গেল ৷ আমরা ওদের ফেলে যাওয়া
মালামাল লুটে নিলাম ৷ সেখানে আমরা একটি গৃহ নির্মাণ করি ৷ সেটির নাম দেই যুল
খালাসাহ্ ৷ ওই শিশুটি আমাদেরকে যা যা বলত , বাস্তবে তা-ই ঘটত ৷ ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ (সা) !
অবশেষে যখন আপনার অবির্তাবের সময় হলো তখন একদিন সে আমাদেরকে বলল, হে দাওস
সম্প্রদায় বা নু হাবিছ ইবন কাব হামলা করেছে ৷ তখন আমরা সওয়াৰীতে আরোহণ করলাম
সে আমাদেরকে বলল, আপনারা ৷থুব দ্রুত ঘোড়া ছোটাবেন ৷৩ তাদের চোখে মুখে মাটি নিক্ষেপ
করবেন ৷ সকাল বেলা ওদেরকে দেশান্তর করবেন ৷ সন্ধ্যাবেলা আপনারা মদপান করবেন ৷ তার
নির্দেশমত আমরা ওদের মুখোমুখি হলাম ৷ কিন্তু তারা আমাদেরকে পরাজিত করে এবং

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৬৮-

আমাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে ৷ এরপর আমরা তার নিকট ফিরে এসে বলি , তোমার কী
অবস্থা ? যে আমাদের দিকে তাকাল ৷ চোখ দুটো তার রক্তিম ৷ কান দুটো ফোল৷ ফোলা ৷
রাগে সে যেন ফেটে পডবে ৷ সে উঠে দাড়ায় ৷ আমরা সওয়ারীতে উঠে বসি ৷ কিছু সময় আমরা
তার নিকট থেকে দুরে সরে থাকি ৷ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাব্লু পর যে আমাদেরকে ডাকে এবং
বলে, আপনারা কি এমন কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণে ৷আগ্রহী আছেন যে যুদ্ধ আপনাদের জন্যে
সম্মান, গৌরব, শক্তিশালী রাজ্য এবং আপনাদের হাতে ধন সম্পদ এনে দেবে? আমরা বললড়াম,

তা তো আমাদের খুবই প্রয়োজন ৷ সে বলল, আপনারা সওয়ারীতে আরোহণ করুন আমরা
সওয়াক্লীতে উঠলাম ৷ এবার কী নির্দেশ? আমরা বললড়াম ৷ সে বলল, বানৃ হারিছ ইবন
মাসলামাহ্ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চলুন ৷ এরপর বলল, একটু ণ্থামুন ৷ আমরা থামলাম ৷
সে বলল, বরং ফাহম গোত্রের বিরুদ্ধে যুর্দ্ধ করতে এগিয়ে যান ৷ এরপর বলল, না, ওদেরকে
তো আপনারা ধ্বংস করতে পারবেন না ৷ আপনারা বরং মুদার রুপুপাত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রসর
হউন ৷ ওদের প্রচুর পশু ও ধন সম্পদ রয়েছে ৷ এরপর বলল, না, ওদািক নয় বরং দুরায়দ ইবন
সুষ্মা-এৱ গোত্রের দিকে অগ্রসর হউন ৷ ওরা সংখ্যায়ও কম, শক্তিতােন্ দুর্বল ৷ এরপর সে বলল,
না, আপনারা বরং কা ব ইবন রর্বীআ গোত্রের বিরুদ্ধে অগ্রসর হউন ৷ আমির ইবন
সা’সাআ-এর স্বামী পরিত্যক্তা ত্রীরা ওদেরকে বসবাস করার স্থান দিয়েছে ৷ সুতরাং যুদ্ধ তাদের
বিরুদ্ধে হোক ৷ তার নির্দেশনায় আমরা কা’ব ইৰ্ন রৰীআ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করি ৷
কিন্তু ওরা আমাদেরকে পরাজিত করে এবং পর্বুদস্ত ও লাঞ্ছিত করে ছেড়ে দেয় ৷ আমরা ফিরে
আসি ৷ আমরা তাকে বললড়াম, দুর্ভো গ তোমার ৷ আমাদেরকে নিয়ে ভুমি কী কাণ্ড শুরু করে
দিয়েছ? সে বলল, আমি নিজেই তো এর রহস্য খুজে পাচ্ছি না ৷ আমার গোপন সহচর ইতিপুর্বে
আমার সাথে সত্য কথা বলত ৷ এখন দেখি সে মিথ্যা বলছে ৷ আপনারা এক কাজ করুন ৷
একা ধারে তিনদিন আপনারা আমাকে আমার ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখুন ৷ এরপর আপনারা
আমার নিকট আসবেন ৷ তার কথামত আমরা তাকে বন্দী করে রাখি ৷ তিনদিন পর দরজা খুলে
আমরা তার নিকট যাই ৷ তখন তাকে দেখাচ্ছিল সে যেন একটি জ্বলন্ত পাথর ৷ সে বলল, হে
দাওস সম্প্রদায় ! আকাশকে স০ রক্ষিত করে রাখা হয়েছে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী আগমন করেছেন ৷
আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় ? সে বলল, মক্কায় ৷ আরো শুনে নিন, অচিরেই আমার মৃত্যু
হবে ৷ আপনারা তখন আমাকে পাহাড়ের চুড়ায় দাফন করবেন ৷ কারণ অবিলম্বে আমি আগুন
রুপে জ্বলে উঠব ৷ আপনারা যদি আমাকে রেখে দেন তবে আমি আপনাদের লাঞ্চুনার কারণ
হবে৷ ৷ আপনারা যখন লক্ষ্য করবেন যে, আমি জ্বলে উঠেছি এবং শিখাময় হয়ে গিয়েছি তখন
আমার প্রতি তিনটি পাথর নিক্ষেপ করবেন ৷

প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় বলবেন, হে আল্পাহ্৷ আপনার নাম নিয়ে এ পাথর নিক্ষেপ
করছি ৷ তাহলে আমি প্ৰশমিত হবে৷ ও নির্বাপিত হবো ৷ যথাসময়ে তার মৃত্যু হয় এবং সে
শিখাময় আগুনে পরিণত হয় ৷ তার নির্দেশ মোতাবেক আমরা সব কিছুর ব্যবস্থা করি ৷ “হে
আল্লাহ্ ! আপনার নাম নিয়ে নিক্ষেপ করছি বলে আমরা তিনটি পাথর নিক্ষেপ করি ৷ ফলে সে
প্রশমিত হয় ও নিতে যায় ৷ এরপর আমরা কিছুদিন অপেক্ষা করি ৷ অতঃপর আমাদের এলাকার

হভ্রুজ্জ গমনকারী লোকেরা হজ্জ থেকে ফিরে আসে ৷ ইয়৷ রাসুলাল্পাহ্! তারা এসে আমাদেরকে
আপনার আবির্ডাবের সংবাদ দেয় ৷ উল্লেখ্য যে, হাদীস শাস্ত্রবিশারদদের মতে এটি নিতাম্ভই
গরীব পর্যায়ের হাদীস ৷

আল ওয়াকিদী নাদর ইবন সুফয়ান হুযালী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি
বলেছেন, আমাদের এক ব্যবসায়ী কাফেল৷ নিয়ে একবার আমরা সিরিয়া যাত্রা করি ৷ যারকা ও
মা’আন নামক স্থানের মাঝে যাত্রা বিরতি করে আমরা রাত্রি যাপন করছিলাম ৷, হঠাৎ আমরা
দেখতে পাই এক অশ্বারােহীকে ৷ আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে দাড়িয়ে সে বলছে, “হে নিঃদ্রামপ্ন
ব্যক্তিপণ৷ জেগে ওঠ, অেপে ওঠ ৷ এখন ঘুমড়ানাের সময় নয় ৷ নবী আহমদ (সা) আবির্ভুত
হয়েছেন ৷ ফলে জিনদেরকে চুড়াতডাবে বিতাড়িত করা হয়েছে ৷ একথা শুনে আমরা বিচলিত
হয়ে পড়ি ৷ আমরা সবাই ছিলাম তরুণ সহযাত্রী, আমরা সকলেই ওই ঘোষণা শুনেছি ৷ এ
অবস্থায় আমরা নিজ নিজ পরিবারপরিজনের নিকট ফিরে আসি ৷ আমরা এসে শুনতে পাই যে,
আমাদের দেশে কুরড়ায়শ বংশীয় লোকদের মতো পার্থকে,াহু৷ কথা আলোচনা হচ্ছে যে, বানু
আবদাি৷ মুত্তালিব গোত্র থেকে আবির্ভুত এক নবী নিয়ে কুরায়াগ মতডেদ করছিল ৷ ওই নবীর
নাম আহমদ ৷ এ বর্ণনাটি আবু নুআয়মের ৷ খারাইতী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ বনডী
ইয়াহ্য়৷ ইবন উরওয়া তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওয়ারাক৷ ইবন নাওফল, যায়দ
ইবন আমর ইবন নুফায়ল , আব্দুল্লাহ ইবন জাহ্শ এবং উছমান ইবন হুওয়াইরিছ প্রমুখ ব্যক্তিসহ
একদল কুরায়শী লোক একদিন তাদের একটি প্রতিমার নিকট ছিলো ৷ প্রতি বছর ওই দিনটিকে
তারা উৎসবের দিনরুপে নির্ধারিত করেছিল ৷ তারা ওই প্রতিমাঢি শ্রদ্ধা করত এবং সেটির
উদ্দেশ্যে পশু বলি দিত ৷ তারপর ধুমধামের সাথে খাওয়া-দাওয়৷ ও মদপান করত ৷ ত রা৷ সেটির
নিকট অবস্থান এবং৩ তা প্রদক্ষিণ করতো, ওইদিন তারা রাত্রি বেলা প্রতিমার নিকট যায় ৷ তারা
সেটিকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখে ৷ তাতে তারা ব্যথিত হয় ৷ তারা মুর্তিটিকে যথাস্থানে
পুন৪ন্থাপন করে ৷ সেটি অবিলম্বে দু৪খজনকভাবে উস্টে পড়ে যায় ৷ তারা আবার সেটিকে
য়থান্থানে স্থাপন করে ৷ সেটি আবার পড়ে যায় ৷ এ অবস্থা দেখে তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে
এবং এটিকে একটি গুরুতর বিষয়রুপে গণ্য করে ৷ উছমান ইবন হুওয়৷ ৷ইরিছ বললেন, মুর্তিটির
হলো কি ? বারবার পড়ে যাচ্ছে, নিশ্চয়ই কোন গুরুতর ঘটনা ঘটেছে ৷ মুলত এ ঘটনা ঘটেছিল
রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর জন্মগ্নহণের রাতে ৷ অতঃপর উছমান আবৃত্তি করেন :

হে উৎসব পালনের মুর্তি ! য র চতুর্দিকে উপস্থিত হয়েছে কাছের ও দুরের প্রতিনিধি
দলের নেতৃবর্গ ৷

তুমি তাে উপুড় হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে পিয়েছ ৷ আমাদেরকে তুমি বলে দাও, কোন নিবাে ধ
ব্যক্তিণ্ডু তোমাকে কষ্ট দিয়েছে কি ? না তুমি রাগান্বিত হয়ে পড়ে রয়েছ ৷

যদি আমরা কোন অপরাধ করে থাকি তবে আমরা সেই অপরাধ স্বীকার করব এবং ওই
অপরা ধ থেকে ফিরে আসর ৷

আর তুমি যদি পরাজিত হয়ে থাক এবং লাঞ্ছিত ও অপমানিত ৩হয়ে মুখ থুরড়ে পড়ে গিয়ে
থাক তবে তো নিশ্চতভ্যবে তুমি প্রতিমাগুলাের নেতা ও গ্রেষ্ঠতম নও ৷

এরপর তারা মুর্তিটিকে ধরে যথা স্থানে পুনঃস্থাপন করে দেয় ৷ যথাযথভাবে স্থাপিত
হওয়ার পর সেটির ভেতর থেকে এক অদৃশ্য ঘোষকশ্ চিৎকার করে তাদের উদ্দেশে বলতে
শুরু করে :

সে তো ধ্বংস হয়েছে এক নব জাতকের কারণে ৷ যার জোাতাি ত পুর্বে পশ্চিমে সমগ্র বিশ্ব
আলোকিত হয়ে উঠেছে ৷

তার আবির্তাবে মুগ্ধ হয়ে সকল প্রতিমা মাথা ৷নত করেছে ৷ আর তার তার বিশ্বের সকল
রাজা-বাদশাহর অন্তর কেপে উঠেছে ৷

অগ্নিপুজক সকল পারস্যবাসীর আগুন নিতে গিয়েছে এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে ৷
পারস্যের প্রতাপশ ৷লী সম্রাট প্রচণ্ড অস্বস্তির মধ্যে রাত্রি যাপন করেছে ৷

গণকদের জিনগুলাে তাদের নিকট অদৃশ্যের সংবাদ আনয়নে বাধাগ্রস্ত হয়েছে ৷ সৃতরাৎ
তাদের নিকট সতা-মিথ্যা কোন প্রকার সং বাদ আনয়নের কেউ থাকল ন৷ ৷

সুতরাং হে কুসাই বংশভুক্ত লোকজন ৷ তোমরা তোমাদের গােমরাহী থেকে ফিরে আস ৷
আর ইসলাম ও বিশাল প্রাঙ্গণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও ৷

এ শব্দ শুনে তারা নির্জান গিয়ে পরামর্শ করে পরস্পরে বলাবলি করল ৷ আসুন আমরা
সবাই একমত হই যে, এ বিষয়টি আমরা সম্পুর্ণরুপে গোপন রেখে দেই ৷ কাউকেই জানতে
দেব না ৷ সবাই একথায় রাজী হলো ৷ তবে ওয়ারাকা ইবন নওফল বললেন, আল্লাহর কসম ৷
তোমরা তো জান যে, তোমাদের সম্প্রদায় প্রকৃতপক্ষে কোন ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত নয় ৷ তারা
সঠিক ও যুক্তিসম্মত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে ৷ এবং ইব্রাহীম (আ) এর দীন ছেড়ে দিয়েছে ৷
তোমরা পাথরের তৈরি যে মুর্তির৩ তাওয়াফ করছ সেটি তো কিছুই শুনতে পায় না ৷ কিছুই
দেখতে পায় না ৷ কোন কল্যাণও করতে পারে না, অকল্যাণও নয় ৷ হে আমার সম্প্রদায়!

তোমরা নিজেদের জন্যে সঠিক ধর্ম খুজে নাও ৷ একথা শুনে তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং
ইব্রাহীম (আ)-এর হানীফ ও সত্য ধর্ম খুজতে থাকে ৷ বস্তুত ওয়ারাকা ইবন নওফল খৃষ্ট ধর্মে
দীক্ষিত হন এবং কিতাবাদি অধ্যয়ন করে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন ৷

উছমান ইবন হুওয়াইরিছ রোমান সম্রাটের দরবারে উপস্থিত হয়ে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং
সম্রাটের দরবারে মর্যাদা লাভ করেন ৷ যায়দ ইবন আমর ইবন ণ্নুফায়ল বের হতে চেয়েছিলেন,
কিন্তু তিনি বন্দী হয়ে পড়েন ৷ পরবর্তীতে তিনি বের হয়ে জাকিরা অঞ্চলের রিক্কা নামক স্থানে
গিয়ে উপস্থিত হন ৷ সেখানে একজন অভিজ্ঞ ধর্মযাজকের সাথে তার সাক্ষাত হয় ৷ নিজের
অভিপ্রায়ের কথা যাজকের নিকট প্রকাশ করেন ৷ যাজক বললেন, আপনি তো এমন এক
দীন ধর্মের সন্ধান করেছেন, আপনাকে কেউই দেখতে পারবে না ৷ তার শুনুন-এমন এক
সময় ঘনিয়ে এসেছে যে সময়ে আপনার নিজ শহর থেকে একজন নবী আত্মপ্রকাশ
করবেন ৷ তিনি দীন-ই হানীফ তথা সঠিক দীন সহকারে প্রেরিত হবেন ৷ একথা শুনে তিনি
মক্কার উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করেন ৷ পথিমধ্যে লাখম গোত্রীয় ডাকাতেরা তার উপর হামলা
চালায় এবং তাকে হত্যা করে ৷

আন্দুল্লাহ্ ইবন জাহ্শ মক্কাতেই থেকে যান ৷ এক সময় রমুেলুল্লাহ্ (না)-এর আবির্ভাব
ঘটে ৷ হাবশায় হিজরতকারী দলের সাথে আব্দুল্লাহ ইবন জাহ্শও হাবশা গমন করেন ৷ সেখানে
গিয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খৃক্ট ধর্ম গ্রহণ করেন ৷ শেষ পর্যন্ত খৃক্ট ধর্মের উপর তার
মৃত্যু হয় ৷ যায়দ ইবন আমর ইবন ৰুফায়লের জীবনী প্রসঙ্গে এ বর্ণনার সমর্থক একটি বংনিা
ইতিপুর্বে বর্ণিত হয়েছে ৷ ’

খারাইত্তী বলেন, আহমদ ইবন ইসহাক আব্বাস ইবন মিরদাস সুত্রে বর্ণনা করেন,
একদিন দুপুর বেলা তিনি তার দৃগ্ধবতী উন্থীগুলাের পরিচর্যা করছিলেন ৷ হঠাৎ তিনি একটি সাদা
উটপাখি দেখতে পান ৷ পাখিটির পিঠে ছিল একজন দৃগ্ধধবল পোশাক পরিহিত আরোহী ৷ সে
বলল, হে আব্বাস ইবন মিরদাস৷ তুমি কি দেখনি যে, আকাশ তার প্রহরীদের দ্বারা নিজেকে
রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে, যুদ্ধ কয়েকবার তার পানীয় পান করেছে এবং অশ্বদলের পিঠের
আসন খুলে রাখা হয়েছে? মনে রেখ যিনি সততা ও থােদাভীতি সহকারে সােমবারের দিনে
মঙ্গলবারের রাতে আগমন করলেন তিনি ,কুসওয়া উষ্টীর মালিক ৷ একথা শুনে শংকিত সন্ত্রস্ত
হয়ে আমি ফিরে আসি ৷ যা আমি দেখলাম এবং যা আমি শুনলাম তাতে আমি ভয় পেয়ে
গেলাম ৷ অতঃপর আমি আমাদের নিজস্ব একটি প্রতিমার নিকট উপস্থিত হই ৷ প্রতিমাটির নাম
যামাদ ৷ আমরা সেটির উপাসনা করতাম এবং সেটির মধ্যে অবস্থানকারী জ্যিনর সাথে কথা
বলতাম ৷ আমি তার চারপাশ ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করলাম, তারপর সেটির দেহে হাত বুলিয়ে
দিয়ে সেটিকে চুমু খেলাম তখন শুনতে পেলাম যে, তার মধ্যে অবস্থানকারী জিনটি বলছে :

সমগ্র সুলায়ম গোত্রে বলে দাও যে, যামাদ প্রতিমা ধ্বংস হয়েছে এবং মসজিদওয়ড়ালা
লোকেরা সফলকাম হয়েছে

যামাদ প্রতিমা ধ্বংস হয়েছে ! নবী মুহাম্মদ (না)-এর সাথে নামায আদায়ের নিয়ম চালু
হওয়ার পুর্বে এক সময় তার পুজা করা হতো বটে ৷

মরিয়ম তনয় ঈসা (আ) এরপর কুরায়শ বংশীয় যিনি নবুয়ত ও হেদায়তের ক্ষেত্রে তার
স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নিশ্চয় তিনি প্রকৃত সত্য পথের দিশা পেয়েছেন ৷

মুর্ডিং নিকট থেকে এ বক্তব্য শুনে আতংকগ্রস্ত হয়ে আমি আমার সম্প্রদায়ের নিকট আমি
এবং তাদেরকে সকল ঘটনা খুলে বলি ৷ এরপর আমার গোত্র বানু হারিছা গোত্রের প্রায় তিনশ
লোক সহকারে আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরবারে উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি ৷ তিনি
তখন মদীনায় অবস্থান করছিলেন ৷ আমরা মদীনায় মসজিদে প্রবেশ করলাম ৷ আমাকে দেখে
তিনি বললেন, হে আব্বাস ! তুমি কােন্ প্রেক্ষাপটে ইসলাম গ্রহণের জন্যে এসেছ তা বল
দেখি ৷ আমি ইতিপুর্বে সংঘটিত ঘটনা তার নিকট বর্ণনা করলাম ৷ বিস্তারিত শুনে তিনি খুশি
হলেন ৷ তখন আমি নিজে এবং আমার সম্প্রদায় সকলে ইসলাম গ্রহণ করি ৷ হাফিজ আবু
নুআয়ম আদদালাইল’ গ্রন্থে আবু বকর ইবন আবী আসিম সুত্রে আমর ইবনে উছমান থেকে
এ বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ এরপর তিনি আসমাঈ আব্বাস ইবন মিরদাস সুলামী থেকে
বর্ণনা করেছেন, আব্বাস বলেছেন আমার ইসলাম গ্রহণের প্রাথমিক প্রেক্ষাপট এই ছিল যে,
আমার পিতা মিরদাস যখন মৃত্যুপথ যাত্রী ৷ তখন তিনি আমাকে ওসীয়ত করেন আমি যেন
তার প্রিয় প্রতিমা যামাদ’-এর সেবাযতু করি ৷ তার ওসীয়ত অনুযায়ী আমি মুর্তিটিকে একটি
ঘরে স্থাপন করি ৷ দৈনিক একবার করে আমি তার নিকট যেতাম ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর
আবির্ভাবের পর একদা মধ্য রাতে আমি একটি শব্দ শুনতে পাই ৷ শব্দটি আমাকে আতংকিত
করে তোলে ৷ কালবিলম্ব না করে সাহায্যের আশায় আমি যামাদ প্রতিমার নিকট উপস্থিত হই ৷
তখন সেটির ভেতর থেকে শোনা যাচ্ছিল : সে পুর্বোল্লিখিত পংক্তিগুলো ঈষৎ শাব্দিক
পরিবর্তনসহ আবৃত্তি করছিল ৷

এঘটনা আমি লোকজনের নিকট থেকে গোপন রাখি ৷ লোকজন উৎসব থেকে ফিরে আসার
পর একদিন আমি যাতু ইরক অঞ্চলের আকীক নামক স্থানে আমার উট বহরের মধ্যে
শুয়েছিলাম ৷ তখন হঠাৎ আমি একটি শব্দ শুনি ৷ তাকিয়ে দেখি একটি উটপাখির ডানাতে
অবস্থানরত এক লোক বলছে, সেই জোাতির কথা বলছি যেটি সোমবার দিবাগত রাতে বাবু
আনৃকা গোত্রের দেশে আল-আদ্বা উদ্রীর মালিকের উপর নাযিল হয়েছে ৷ এরপর তার উত্তর
দিক থেকে ঘোষণা দানকারী এক ঘোষক প্রত্যুত্তরে বলল :

হতাশাপ্রস্ত জিন জাতিকে জানিয়ে দাও যে, বাহন উট তার পৃষ্ঠে আসন স্থাপন করেছে ৷

এবং আকাশ তার

এ সব দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আমি লাফিয়ে উঠি ৷ আমি উপলব্ধি করি , নিশ্চয়ই মুহাম্মদ
(সা) প্রেরিত হয়েছেন ৷ আমি তখন আমার অম্বে আরোহণ করি এবং দ্রুত রাসুলুল্লাহ (সা) এর
নিকট উপস্থিত হই ৷ আমি তার হাতে বাইআত করি ৷ এরপর আমি যামাদ’ মুর্কিং নিকট ফিরে
গিয়ে সেটিকে আগুনে পুড়িয়া ফেলি ৷ তারপর পুনরায় রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর নিকট ফিরে আসি ৷
তখন আমি নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করি :

আপনার জীবনের কসম, যে সময়ে আমি যামাদ মুর্তিকে আল্লাহ্ রাববুল আলামীনের
সমকক্ষ নির্ধারণ করতাম সে সময়ে আমি নিশ্চয় সুর্য ও অজ্ঞ ছিলাম ৷
রাসুলুল্লাহ (না)-কে আমি যে বর্জন করেছিলাম এবং তার চারদিকে থাকা আওস
সম্প্রদায়কে ওরা তো রাসুলুল্লাহ (না)-এর সাহায্যকারী আনসারপণ ৷

আমার ওই বর্জ্য৷ হলো যে ব্যক্তির ন্যায় যে আপদকনীিন সময়ে সমতল ও নম্রভুমি বর্জন
করে কঠিন ও বন্ধুর পথের খোজ করে ৷

আমি ওই আল্লাহর প্রতি ঈমান এসেছি আমি মার বান্দা এবং আমি বিরোধিতা করেছি সেই
ব্যক্তির, যে ধ্বংসের পথ কামনায় দিন গুজরান করে ৷

আমি আমার মুখ ফিরিয়ে মক্কা অভিমুথী হয়েছি শ্রেষ্ঠতম ও বরকতময় নবীর হাতে
বাইয়াত করার উদ্দেশ্যে ৷

ঈসা (আ)এর পর এই নবী আমাদের নিকট আগমন করেছেন এমন এক আসমড়ানী গ্রন্থ
নিয়ে যেটি সত্য বর্ণনা করে এবং যার মধ্যে রয়েছে সুশ্যৰুফয়সালা ৷

এই নবী কুরআন মজীদের আমানতদার ৷ তিনি সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম তিনি
পুনরুজ্জিত হবেন ৷ তিনি ফেরেশতাদের ডাকে সাড়া দেন ৷

ইসলামের হাতলগুলাে ভেঙে যাওয়ার পর তিনি সেগুলোকে জোড়া লাগিয়েছেন

এবং মজবুত ও শক্তিশালীব্লচরেহেন ৷ , শেষ পর্যন্ত তিনি পরিপুর্ণন্ ণ্ইৰাদঃ ড়ুর নিয়ম পদ্ধতি
,প্রত্বিষ্ঠা করবুলন ৷

হে সমগ্র জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিফ্লে ! আমি ইতিপুর্বে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি ৷ উভয় জগতে
আপনি সর্বোত্তম এবং মর্যাদার অধিকারী ৷

আপনি কুরড়ায়শ বংশের স্বচ্ছ ও পুতঃপবিত্র মানুষ ৷ যুগযুগ ধরে তার! বরকতময় থাকবে
যদি তারা আপনার পথের পথিক হয় ৷

যখন কা ব গেত্রে ও মালিক গোত্রের বং ×শ পরিটয় বণ্র্দশ্ করা হয় তখন আমরা
আপনাকে র্খাঢি ও নির্ভেজাল অভিজাত বংশোদ্ভুত পাই আর ওই গােত্রগুলোর মহিলাদেরকে
পাই পুতঃপবিত্র ৷ ন্

খারাইভী বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ বলভী প্ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক সুত্রে
বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন মাসলামাহ্-এর বং ×শীয় আবদৃল্লাহ্ ইবন মাহমুদ নামের একজন আনসার
শড়ায়খ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন যে, আমার নিকট স বাদ পৌছেছে
খাছ আগে বা ×শের কয়েকজন লোক এ কথা বলত যে, নিম্নে ক্তে ঘটনা আমাদেরকে ইসলামের
প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে ৷ আমরা মুর্তিপুজা করতাম ৷ একদিন আমরা আমাদের এক প্রতিমার
নিকট ছিলাম; তখন একদল লোক ওই প্ৰতিমার নিকট এসেছিল ফরিয়াদ করার জন্যে, তাদের
মধ্যেকার কোন এক বিরোধ্ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে ৷ তখন তাদের উদ্দেশে এক অদৃশ্য
ঘোষক ঘোষণা দিলং :

হে বিশালকায় লোক সকল ! ছেলে ৰুড়াে সবাই,
আর কতকাল তোমরা স্বপ্নে বিভেয়িহিঃয় থাকবাে আর সকল বিধি-বিধান প্ৰতিমাদের বলে
মেনে চলবে !
তোমাদের সকলেই কি অস্থিরতায় ভুগছ এবং নিদ্রচ্ছেম্ন হয়ে আংছা আমার সম্মুখে কি
আছে তার ক্লিছুই কি তোমরা দেখছো না ?

আমার ষ্অ্যাংৱন্নেক্ট্রছ আলোক খণ্ড ৷ সেটি অন্ধকারের কালিমাকে দুবীভুত করে ড়াদচ্ছে ৷
দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট তিনি দৃশ্যমান ৷ তিনি এসেছেন তিহামা অঞ্চল থেকে ৷

তিনি নবী, তিনিা মানবকুল শ্রেষ্ঠ ৷ কুফৰী যুগের পর তিনি ইসলাম নিয়ে এসেছেন ৷

আল্লাহ্ তা আলা তাকে ইমামতি ও (নতৃতৃ দিয়ে এবং সত ব্যেদী রাসুলরুপে প্রেরণ করে
সম্মানিত করেছেন ৷

তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক ৷ তিনি নামায-রােযার নির্দেশ দিয়ে থাকেন ৷
সদাচরণ করতে এবং আত্মীয়তা অক্ষুদ্বু রাখতে তিনি নির্দেশ ত্বদন ৷ পাপাচারিতা ও অন্যায়
আচরণ থেকে যা নুযকে তিনি সতর্ক করেন ৷

তিনি লোকদেরকে নিবৃত্ত করেন অপবিত্রতা থেকে, মুর্তিপুজা থেকে এবং হারাম কর্ম
থেকে ৷ তিনি এসেছেন সবাধিক মর্যাদাসষ্পন্ন হাশোমী বং শ থেকে ৷

সম্মানিত শহর মক্কাশরীফে তিনি তার বাণী প্রচার করছেন ৷ আমরা শুনে সেখান থেকে
চলে নবী করীম (সা )-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করি ৷

থারাইতি বলেন, আবদুল্লাহ বলভী সাঈদ ইবন জুবায়র (র) সুত্রে বর্ণনা করেন তামীম
গোত্রের রাফি ইবন উমায়র নামক এক ব্যক্তি পথঘ ট যার সবচেয়ে বেশি চেনাজানা
ছিল-পােত্রের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক রাত্রি ভ্রমণকারী ছিলেন ৷ বিপদা পদের মোকাবেলায় তিনি
ছিলেন সকলের অগ্রণী ৷ পথঘাট সম্পর্কে অবগতি ও রাত্রি ভ্রমণের দুঃসাহসের কারণে আরবগণ
র্তাকে আরবের দামুস’ নামে অভিহিত করত১ ৷ তিনিতার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করে
বলেন ং একরাতে আমি এক বালুকাময় অঞ্চল অতিক্রম করছিলাম ৷ এক সময় আমার প্রচণ্ড ঘুম
পায় ৷ সওয়ারী থেকে নেমে সেটিকে বসিয়ে দিয়ে তার সম্মুখের দৃ’ পায়ে মাথা রেখে আমি শুয়ে
পড়ি এবং গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি ৷ ঘুমানাের পুর্বে আত্মরক্ষার জন্যে আমি নিম্নোক্ত বাক্য
উচ্চারণ করি৪ “এই উপত্যকার নেতত্বে আসীন জিনের নিকট আমি সকল প্রকারের অত্যাচার
ও দুঃখকষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি ৷ ” তখন আমিাপ্নে দেখি এক যুবা পুরুষ ৷ সে আমরে
উষ্টীর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে ৷ তার হাতে একটি বর্শা ৷ বর্শার আঘাতে সে আমার উদ্রীর
বক্ষ চিরে ফেলতে উদ্যত ৷ এাপ্ন দেখে আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠি ৷

১ (গ্রা দামুস এক প্রকার জলজ প্রাণী ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৬৯

ডানে-বীয়ে তাকিয়ে দেখি কোথাও কেউ নেই ৷ মনে মনে বললাম, এটি শয়তানের কুমন্ত্রণ৷ ৷
পুনরায় আমি ঘুমিয়ে পড়ি ৷ এবারও একই স্বপ্ন দেখে আমি জেগে উঠি এবং উদ্রীর চারদিকে

ঘুরেফিরে ঘোজাখুজি করি কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না ৷ তবে এ৩াহৃকু দেখলাম যে, উষ্টীটি
ভয়ে থরথর করে র্কাপছে ৷ আমি আবার ঘুমিয়ে পড়ি ৷ আবারও সেই একই স্বপ্ন দেখিা
এবারও আমি জেগে উঠি ৷ তখন আমার উষ্টীটি দন্তুর মত ছটফট করছে ৷ এমন সময় হঠাৎ
আমার দৃষ্টিগােচর হয় এক যুব৷ পুরুষ ৷ স্বপ্নে যেমনটি দেখেছি ঠিক তেমন ৷ তার হাতে একটি
বর্শ৷ ৷ সেখানে একজন বৃদ্ধ লোক ৷ তিনি ঘুবকের বর্শাটিকে আমার উদ্রী ৷ থকে ফিরিয়ে৷ দিচ্ছেন ৷
বৃদ্ধ লে৷ ৷কটি ওই যুবককে লক্ষ্য করে বলছেন

হে মালিক ইবন মুহালিহিল ইবন দিছার ৷ থাম, থাম, আমার ফিতা পাজামা সবকিছু
তোমার জন্যে উৎসর্গ হোকা
ওই মানব সন্তানের উষ্টীর ওপর আক্রমণ করা থেকে তুমি বিরত থাক ৷ সেটির
ওপর হামলা করো না, সেটির পরিবর্তে আমার র্ষাড়গুলাে থেকে যা তোমার পছন্দ হয়
নিয়ে যাও ৷
তোমার নিকট থেকে আমি এমন আচরণ পেয়েছি যা আমি কখনও কল্পনা কবিনি ৷

তুমি তো আমার আত্মীয়তার মর্যাদা দাওনি এবং আমার যত র্টুকু সন্তুম রক্ষা করা তোমার
কর্তব্য ছিল তাও করনি ৷
আশ্চর্য ! বিষমিশ্রিত বর্শ৷ তুমি তাব্ল প্রতি উত্তোলন করেছ ৷ ধিক তোমার অপকর্য ! হে
আবৃলগ্ গিফা ৷র ৷

চক্ষুলজ্জা যদি না থাকত আর তোমার পরিবারবর্প যদি আমার প্রতিবেশী ন৷ হতো তবে
তুমি অবশ্য দেখতে পেতে আমার কী পরিমাণ ক্ষো ভের তুমি সঞ্চা র করে দিয়েছ ৷

উত্তরে যুব৷ পুরুষটি বলল :

হে আবুল ঈযার৷ তুমি কি নিজে সম্মান লাভের চেষ্টা করছ ? আর আমাদের কোন
দােষ-ত্রুটি ব্যতীত আমাদের সুনাম সুখ্যাতি কমিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছ ?

অতীত যুগে ওদের মধ্যে তো কো ৷ন (নতৃন্থানীয় ব্যক্তি জন্মায় ৷দি ন ৷ ডাল মানুষরা তো ভাল

মানৃষেবৃই সন্তান হয়ে থাকে ৷

হে বন্য পশু ৷ তুমি ওে আসার পথে যাও ৷ মুলত যুহালহিল ইবন ৷দছারই এতদঞ্চলের
আশ্রয়দাত৷ ৷ছিল ৷

ওরা দু’জন কথা কাটাকাটি করছিল ৷ হঠাৎ তিনটি বন্য র্ষাড় বেরিয়ে এলো ৷ যুবককে লক্ষ্য
করে বৃদ্ধ বললেন, ভাতিজা ! আমার আশ্রয় প্রার্থী লোকটির উন্তীর পরিবর্তে এই তিনটি র্ষাড়ের
মধ্যে যেটি৫ তামার পছন্দ হয় সেটি তুমি নিয়ে য়াও৷ একটি ষা৷ছু৷ নিয়ে যুবকটি চলে গেল ৷
অতঃপর বৃদ্ধ লোকটি আমাকে বলল, হে মানব সন্তান ! কোন মট্টদ্রুপ্া৷ন্ন্তরুর অবতরণ করলে
এবং সেখানকার ভয়-ভীতিতে শংকিত হলে এভাবে আশ্রয় কামনা করবে, “হে আল্লাহ! মুহাম্মদ
(না)-এর প্রতিপালক! এই প্রান্তরের ক্ষয়ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা
করছি ৷” খবরদার ৷ কোন জিনের আশ্রয় প্রার্থনা করো না ৷ ওদের কাজকম ও প্রভাবন্
প্রতিপত্তি এখন বাতিল ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে ৷ আমি তাকে বললড়াম, কে সেই মুহাম্মদ ?
বৃদ্ধ বললেন,৩ তিনি একজন আরবী নবী ৷ এককভাবে পুর্বেরও নন, পশ্চিমের ও নন ৷ সোমবার
তিনি দুনিয়াতে এসেছেন ৷ তার বাসস্থান কোথায় ? আমি জিজ্ঞেস করলাম ৷ তিনি বললেন,
খেজুর বাপানসমৃদ্ধ ইয়াসরিব নগরীতে তিনি বসবাস করেন ৷ ভোরের আলো প্রস্ফুটিত হওয়ার
পর আমি আমার সওয়ারীতে আরোহণ করি এবং দ্রুত অগ্রসর হয়ে মদীনায় গিয়ে পৌছি ৷
রাসুলুল্লাহ (না) আমার দেখেন ৷ আমি কিছু বলার পুর্বেই তিনি আমাকে উপলক্ষ করে ঘটে
যাওয়া সকল ঘটনা বলে দিলেন ৷ তিনি আমাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন ৷ আমি ইসলাম
গ্রহণ করলাম ৷ সাঈদ ইবন জুবায়র (বা) বলেন আমরা এই অভিমত পেশ করি যে

কত মানুষ কতক জিনের আশ্রয় কামনা করত ফলে ওরা জিনদের আত্মম্ভরিত৷ বা ৷ড়িয়ে দিত
আয়াতটি আল্লাহ তাআলা এই ব্যক্তি সম্পর্কে নাযিল করেছেন ৷
খারাইতি-হযরত আলী (রা)-এর বরাতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন যদি তুমি কোন
পার্বত্য উপতাকায় যাও এবং হিংস্র জীবজভুর আশংকা কর তবে এই দোয়া পাঠ করবে ;;
আমি দানিয়াল ও৩ তার শরণ নিচ্ছি সিংহের
আক্রমণের বিপদ থেকে ৷
বড়ালাভী ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে জিনদের সাথে হযরত আলী (রা) এর লড়াইয়ের ঘটনা

বর্ণনা ৷করেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হযরত ৩আলী (রা ) কে পানি আনয়নের জন্যে পাঠিয়েছিলেন
জিনরা তাকে বাধা দেয় এবং তার বালতির রশি কেটে ফেলে ৷ তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে

লড়াই করেন ৷ এ ঘটনাটি ঘটেছিল জুহফা অঞ্চলে যাতুল আলম নামীয় কুপের নিকট ৷ এটি
একটি দীর্ঘ বর্ণনা এবং বর্ণনাটি অপ্রহণযেগ্যেও বটে ৷

খারাইতি বলেন, আবুল হারিছ শা’বী (র) সুত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে বংনাি করেছেন ৷
তিনি বলেন, আমি একদিন উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম ৷ একদল
সাহাবী তখন তার নিকট বসা অবস্থায় ছিলেন ৷ র্তারা কুরআন মজীদের ফযীলত সম্পর্কে
আলোচনা করছিলেন ৷ একজন বললেন, সুরা নাহ্লের শেষ দিকের আয়াতগুলাে অধিক
ফযীলতময় ৷ কেউ বললেন, সুরা ইয়ড়াসীন ৷ হযরত আলী (রা) বল ট্টলন , আয়াভুল কুরসী-এর
ফযীলত সম্পর্কে আপনারা কতটুকু জানেন ? বন্তুত আয়তুল কুবসীতে ৭০টি শব্দ রয়েছে এবং
প্রত্যেক শব্দের বরকত রয়েছে ৷

বর্ণনাকারী বলেন, ওই মজলিসে আমর ইবন মা’দীকারাবমও ছিলেন ৷ তিনি কোন মন্তব্য
করছিলেন না ৷ এবার তিনি বললেন, হায় ! বিসমিল্লাহির রাহমানির র“হীমষ্টুএর ফযীলত সম্পর্কে
আপনারা কেউ কিছু বলছেন না যে, তাকে লক্ষ্য করে হযরত উমর (রা ) বললেন, এ বিষয়ে
আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন ৷

আমর ইবন মাদীকারাব বলতে শুরু করলেন : জাহেলিয়াতের যুগে সংঘটিত আমার এক
ঘটনার কথা বলছি ৷ একদিন আমার প্রচণ্ড ক্ষিধে পায় ৷ খাদ্যের খোজে আমি আমার ঘোড়া
নিয়ে এক বনের মধ্যে ঢুকে পড়ি ৷ অনেক র্থোজাখুজির পর উটপাখির কয়েকটি ডিম ছাড়া আর
কিছু পাওয়া গেল না ৷ তা নিয়েই আমি ফিরছিলাম ৷ হঠাৎ দেখি এক আরবী বৃদ্ধ লোক তার
র্তাবুতে বসে রয়েছেন ৷ তার পাশে একটি বালিকা ৷ বালিকাটি উদীয়মান সুর্যের ন্যায় ফুটফুটে
সুন্দরী ৷ বৃদ্ধের অল্প কয়েকটি ছাগল ছিল ৷ আমি তাকে বললাম , তোমার মা ধ্বংস হোক , তুমি
আমার হাতে বন্দী ৷ সে মাথা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, যুবক ! তুমি যদি আমার
আতিথ্য পেতে চাও তবে সওয়ারী থেকে নেমে আমার এখানে আস ৷ আর যদি আমার পক্ষ
থেকে কোন সাহায্য চাও, তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করবো ৷ আমি বললাম , না তুমি
আমার হাতে বন্দী ৷ এবার সে বলল,

আমাদের পক্ষ থেকে সম্মানজনকভাবে আমরা তোমাকে আতিথ্যের প্রস্তাব দিলাম ৷
অভদ্রদের ন্যায় অজ্ঞতা হেতু তুমি তা প্রত্যাখ্যান করলে ৷
তুমি বরং অপবাদ ও মিথ্যা নিয়ে এসেছ ৷ ওই ডিম দ্বারা তুমি যা কামনা করছ তার
পরিণামে তোমার গর্দান কাটা যাবে ৷

অতঃপর সে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বলে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে ৷ তার
বিশাল দেহের তলায় আমি যেন পিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলাম ৷ সে বলল, “আমি কি তোমাকে মোর
ফেলব ? না কি ছেড়ে দেব ? আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে দাও ! সে আমাকে ছেড়ে দিল ৷

আমার প্রবৃত্তি আমাকে পুনরায়৩ তার বিরুদ্ধে বুঝতে ৩প্রয়ােচিত করে ৷ আ ৷মি বললাম তোমার মা
সন্তান হারা হোক ৷ তুমি আমার হাতে বন্দী ৷ সে বলল :

দয়াময় আল্লাহর নামে আমি তখন সফল হয়েছি ৷ পরম করুণাময় আল্লাহর নামে আমি
তাকে পরাস্ত করেছি ৷

যদি আমরা কোন দিন যুদ্ধের জন্যে বের হই তবে কোন রক্ষাকর্তার শক্তিমত্তা ৷আমাদের
হাত থেকে কাউকে রক্ষা করতে পারবে না ৷ অতঃপর সে আমার উপর বাপিয়ে পড়ে ৷ আমি
যেন তার শরীরের নিচে মাটিতে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলাম ৷ সে বলল, এখন তোমাকে মেরে ফেলব,
না ছেড়ে দেব ? আমি বললাম, বরং ছেড়ে দাও ৷ সে আমাকে ছেড়ে দেয় ৷ মুক্তি পেয়ে আমি
কিছুদুর চলে যাই ৷ এরপর আমি নিজেকে নিজে বলি, (হ আসর! ওই বৃদ্ধ লোকটি তোমাকে
হারিয়ে দিল ? তোমার বজন্যে এখন রাচার চাইতে মর৷ ৷ই ভাল ৷ আমি ণ্কুা ণ্ারায় তার নিকট ফিবুসর
আসি ৷ আমি তাকে বলিং : তুমি আমার হাতে বন্দী ৷ তোমার মা সম্ভানহারা হোক
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে পুনরায় আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ৷ তার দেহের নিচে
আমি যেন পিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলাম ৷ সে বলল, এবার তোমাকে মেরে ফেলব, না ছেড়ে দেবঃ আমি
বললাম, ছেড়ে দাও ৷ সে বলল, না ,না, আর নয়,তোমার মুক্তি সুদুর পরাহত ৷ এই মেয়ে , ছুরিটা
নিয়ে এসো ৷ মেয়েটি ছুরি নিয়ে আসলো ৷ বৃদ্ধ লোকটি আমার কপালের উপরের দিকের চুল
কেটে দিল ৷ আরবের প্রথা ছিল কারো উপর বিজয় লাভ করলে তার মাথার সম্মুখ ভাগের চুল
কেটে দিয়ে তাকে ক্রীত দাস বানিয়ে নিত ৷ এরপর অনেকদিন ক্রী৩ দাস রুপে আমি তার সেরা
করেছি ৷ একদিন সে বলল, হে আসর! আমি চ ই তুমি আমার সাথে সওয়ারীতে বসবে এবং
প্রান্তরে প্র৷ স্তরে ঘুরে (রড়াবে ৷ তোমার পক্ষ থেকে আমি কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা করি না ৷
কারণ আমি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম-এর বরকতে পরম বিশ্বাসী ৷

আমরা যাত্রা করলাম ৷ যেতে যেতে বহুদু রে এক ভয়ংকর জিন ভুত ভর্তি জঙ্গলে এসে
পৌছি ৷ উচ্চস্বরে সে বলে ওঠে : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ৷ ফলে সেখানকার সকল পাখি
নিজ নিজ বাসা ছেড়ে উড়ে যায় ৷ সে পুনরায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে ওঠে ৷ এবার
সকল হিংস্র জীবজন্তু নিজ নিজ বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায় ৷ সে পুনরায় এর পুনরাবৃত্তি করে ৷
এবার আমি দেখতে পেলাম যে আমাদের সম্মুখে এক হাবশি লোক ৷ ওই জঙ্গল থেকে সে
বেরিয়ে আসছে ৷ তাকে একটি দীর্ঘকায় খেজুর গাছের মতে ৷ দেখাচ্ছিল ৷ আমার সাথী বৃদ্ধ
লোকটি আমাকে বলল, হে আমর! তুমি যখন দেখবে যে, আমরা প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি তখন্
তুমি বলবে, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”-এর বরকতে আমার সাথী ওর বিরুদ্ধে জয়ী
হোক ৷ আমি যখন দেখলাম, তারা দুজনেই যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েছে তখন আমি বললাম “লাভ
ও উঘৃয৷ মুর্তির আশীর্বাদে আমার সাথী তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ী হো ক ৷ দেখা গেল আমার
বৃদ্ধ সাথী তার প্রতিপক্ষকে মোটেই জব্দ করতে পারছে না ৷ আমার নিকট ফিরে এসে সে বলল,

আমি বুঝেছিতু মি আমার নিদ্যেশর বিপরীত কথা ৷বলেছ ৷ আমি দোষ স্বীকার করে বলি হ্যা

তা করেছি বটে, আর ওরুপ করব না ৷ সে বলল, ঠিক আছে এবার যখন আমাদেরকে দ্বরুন্দু
লিপ্ত দেখবে তখন তুমি বলবে, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” এর বরকতে তআমার সাথী জয়ী
হোক ৷ আমি সম্মতিসুচক উত্তরে বলি, হ্যা, ৩া-ই হবে ৷

আমি যখন দেখলাম, তারা দুজনে প্রচণ্ড সং বর্ষে লিপ্ত হয়েছে ৰুষ্ খন বললাম, বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহীমের বরকতে আমার সাথী জয়ী হোক ৷ এবার আমার বৃদ্ধ সাথী তার
প্রতিপক্ষকে চেপে ধরল এবং ছুবিকাঘাতে তার পেট চিরে ফেলল ৷ তখন তার দেহ থেকে
চিমনীর কালো কালির ন্যায় একটি বস্তু বের হলো ৷ আমার সাথী বললে হে আমর ! এটি হলো
তার হিংসা ও বিদ্বেষ ৷

ওই বালিক টিকে তুমি চেন কি? আমি উত্তর দিলাম না, চিনি না ৷ সে বলল, বালিকাটি
হলো সম্ভাম্ভ জিন সালীল জুরহুনীর কন্যা ফা ৷বিআ ৷ ওরা হলো তার বা শের লোক ৷ তার
জ্ঞাতি ভাই ৷ প্রতিবছর তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হহু বিন্সমিল্লাহির রাহমানির
রাহীম-এর বরকতে একজন লোক সব সময় আমাকে ওদের বিরুণ্দ্ব সাহায্য করে ৷ এরপর
সে বলল, এ কালো লোকটির প্রতি আমি কী আচরণ ৷করেছি দেখেছ তো ? এখন আমার
ভীষণ ৷ক্ষুধা পেয়েছে ৷ তুমি আমাকে কিছু একটা এনে দাও, আমি খেয়ে নিই; খাদ্য সংগ্রহের
জন্যে ঘোড়া ছুটিয়ে আমি বনের ভেতর ঢুকে পড়ি ৷ খুজে পাই উট পাখির কয়েকটি ডিম ৷ আমি
তা নিয়ে আসি ৷ তখন বৃদ্ধ নিদ্রামগ্ন ৷৩ তার মাথার নিচে আমি কাঠের ন্যায় কি একটা লক্ষ্য
করলাম, আমি চুপিসারে সেটি টেনে নিলাম ৷ দেখলাম যেটি একটি তরবাবি ৷ ভৈদর্যো সাত
বিঘত ,আর প্রন্থে এক বিঘত ৷ তরবাবি দ্বারা আমি তার পায়ের নলায় আঘাত করি৷ তার
নলাসহ পা দুটো আলাদা হয়ে যায় ৷ পিঠে ভর দিয়ে সে সোজা হয়ে ওঠে এবং বলে ওঠে
আল্লাহ তােকে ধ্বংস করুন ৷

হে বিশ্বাসঘাত ক কেমনতর বিশ্বাস ঘাতকতা ৷করলিতু

হযরত উমর (রা) বললেন, তারপর তুমি কী করলে ? আমি বললাম, অতঃপর আমি
তাকে একের পর এক আঘাত করতে থাকি এবং তাকে খণ্ড বিখণ্ড করে ফেলি ৷ তখন রাগে
ারগর করতে করতে যে এ কবিতাটি আবৃত্তি করে ং

বিশ্বাসঘাতকতা করে মি একজন মুসলমানকে কাবু করলে! পুর্ববর্তী যুগের আরবদের
কেউ এমনটি করেছে বলে আমি কখনো শুনিনি ৷

সদাচরণের বিনিময়ে মি যা করলে অনাবর লোকেরা তার নিন্দা ৷করে ৷ একজন জ্ঞানবান
নেতার ব্যাপারে তুমি যা করেছত তার জন্যে তুমি ধ্বংস হও ৷

তোমাকে হত্যা করতে পারলে আমি খুশি হতাম ৷ অন্যথায় যে পাপের তুমি প্রতিবিধান
করােনি তার প্রতিফল কী হবে?

তিনি একজন নেতৃস্থানীয় স্ন্তুাম্ভ ব্যক্তি ৷ তিনি বারবার তােশোক ক্ষমা করেছেন ৷ অথচ
তােমা র কার ৷বণে তার হা৩ ৷ত ঝুলরুছ দেহের সাথে ৷ তিনি এখন মৃতু ত্যুপথযাত্রী ৷

জাহেলী যুগে শিরকপহী ও খৃক্টবাদীর৷ যা করত ইসলাম প্রহত্তদ্ার পর আমি যদি
তা করতাম,

আক্রান্ত ৩ব্যক্তির জন্যে দুঃখ ও ধ্বংসই ডেকে আসে ৷

হযরত উমর (রা) জিজ্ঞেস করলেন, বালিকাটির কি হলো ? আমি বললাম, এরপর আমি
বালিকাটির নিকট যাই ৷

আমাকে দেখে সে বলল, বৃদ্ধটির কী হলো ? আমি বাংলায়,

হাবশি ল্যেকটি তাকে খুন করেছে ৷ সে বলল, এটিহ্র আমার মিথ্যাচার ,বরং তুমিই
ৰিশ্বাসঘ৷ তকতা করে তাকে খুন করেছ ৷ এরপর যে এ কবিত ৷টি আবৃত্তি করল :

হে নয়ন আমার অশ্রু রর্ষণ কর ওই সাহসী অশ্বারোহী যোদ্ধার গােকে ৷ অঝোর অশ্ড
প্রবাহে তুমি পুনরায় ক্রন্দন কর ৷

করেছে তখন আর কান্না বন্ধ করো না
এমন একজন মানুষ সম্পর্কে যিনি ছিলেন পরহেজগার, স ষ্যমী ব্যক্তিতুসম্পন্ন ,

বুদ্ধিমান, ন্যায়পরড়ায়ণ এবং গৌরব প্রকাশের প্রতিযোগিতায় প্রকৃত গৌরব প্রদর্শনের
যোগ্য ব্যক্তি ৷

হায় আমার আক্ষেপ হে আমর৷ তোমার বেচে থাকার জন্যে আবু তোমাকে নিরাপদ
রেখেছে তোমার ভাগ্যের লিখন ভোগ করার জন্যে ৷

আমার জীবনের কসম , যদি বিশ্বাসঘাতকতা ব্যতীত স্বাভাবিকভাবে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত
হতে তবে তুমি সম্মুখীন হতে এক দুঃসাহসী সিংহের যে ধারাল তরবারিব মত কেটে টুকরো
টুকরো করে দেয় ৷
আমর বলেন, তার কথায় আমি রেগে যাই ৷ আমি আমার তরবারি কােষমুক্ত করি এবং
তাকে খুন করার জন্যে র্তাবুতে ঢুকে পড়ি ৷ কিভু র্তাবুতে কাউকেই খুজে পেলাম না ৷ অতঃপর
সেখানকার পশুণ্ডলাে নিয়ে আমি আমার বাড়ি ফিরে আসি ৷

এটি একটি বিস্ময়কর বর্ণনা বটে ৷ স্পষ্টত বোঝা যায় যে, ওই বৃদ্ধ ল্যেকটি একজন জিন
ছিলেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি কুরআন শিক্ষা করেছিলেন ৷ বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহীম’ তার জানা ছিল ৷ এই কলেমার দ্বারা তিনি বিপদ থেকে আশ্রয় কামনা
করতেন ৷ খারাইতি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ বলভী আসমা বিনতে আবু বকর (রা ) সুত্রে
বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল এবং ওয়ারাকা ইবন
নাওফল সম্পর্কে কথিত আছে যে, তারা দুজনে বাদশাহ্ নাজার্শী-এ্যা দরবারে গিয়েছিলেন ৷
এটি হলো আবরাহা রড়াদশাহের মক্কা ত্যাগের পরের ঘটনা ৷ র্তারা বলেন, আমরা তীর নিকট
উপস্থিত হওয়ার পর তিনি বললেন, হে কুরায়শদ্বয় ! আপনারা সত্যি করে বলুন তাে
আপনাদের মধ্যে এমন কোন শিশুর জন্ম হয়েছি কি না যায় পিতা তাকে জবইি করতে
চেয়েছিলেন ? জবাই করার জন্যে নিশ্চয়তা লাভের উদ্দেশ্যে লটারি দেওয়া হলে ওই শিশুটি
বেচে যায় এবং তার পরিবর্তে প্রচুর উট কুরবানী দেওয়া হয় ৷ আমরা বললড়াম , হ্যা ৷ তিনি
বললেন, শেষ পর্যন্ত ওই লােকটির কি হলো? আমরা বললাম , সে আমিনা বিনৃত ওহাব নামের
এক মহিলাকে বিয়ে করেছে এবং তাকে অন্তঃসত্ত্ব৷ রেখে সফরে রেরিয়েছে ৷ তিনি বললেন, ওর
কোন ছেলেমেয়ে জন্মেছে কিনা ?

ওয়ারাকা ইবন নাওফাল বললেন, জাহাপনা ! সে সম্পর্কে আমি আপনাকে বলছি শুনুন ৷
একরাতে আমি আমাদের এক মুর্ডিং৷ পাশে রাত কাটাই ৷ আমরা ওই মুর্তির তাওয়ড়াফ ও
উপাসনা করতাম ৷ হঠাৎ আমি তার উদর থেকে শুনতে পাই, সে বলছে :

নবী জন্মগ্রহণ করেছেন, রাজা-বাদশাহগণ লাঞ্ছিত হয়েছে ৷ পােমরাহী বিদুরিত হয়েছে এবং
শিরক পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়েছে ৷ এতটুকু বলে মুর্তিটি মুখ থুবড়ে পড়ে যায় ৷

এবার যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল বললেন, জড়াহাপনা ! এ বিষয়ে আমারও কিছুটা
জানা আছে ৷ নাজাশী বললেন, বলুন যায়দ ইবন আমর বলতে লাগলেন : উনি যে রাতের
ঘটনা বলেছেন ওই রাতেই আমি আমার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম ৷ আমার পরিবারের
লোকেরা তখন আমিনার গর্ভের সন্তান সম্পর্কে আলোচনা করছিল ৷ আমি আবু কুরায়স পাহাড়ে
এসে উঠি ৷ উদ্দেশ্য ছিল যে বিষয়টি নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম সে বিষয়ে নির্জনে চিন্তা-ভাবনা

করব ৷ হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম, একজন লোক আকাশ থেকে কুবায়স পাহাড়ের ওপর
অবতরণ করল, তার দুটো সবুজ পাখ৷ ৷ সে মক্কা নগরীর দিকে৩ ৷কিয়ে ৷,বলল শয়তান লাঞ্ছিত
হয়েছে, মুর্তি প্রতিমা বাতিল ও অকার্যকর হয়েছে এবং বিশ্বাসভা জন আল-আমীন জন্মগ্রহণ
করেছেন ৷ এরপর তার সাথে থাকা একটি কাপড় সে পুর্ব দিগস্তে ও পশ্চিম দিপস্তে ছড়িয়ে
দিল ৷ আমি দেখলাম ওই কাপড়ে আকাশের নিচের সব কিছু ঢেকে গিয়েছে এবং এমন একটি
জোাতি বিচ্ছুরিত হয়েছে যে, আমার দৃষ্টি শক্তি যেন ছিনিয়ে নেবে ৷ এ দৃশ্য দেখে আমি ভয়
পেয়ে যা ৷ই ৷ এই আগ ত্তুক ডানা মেলে উড়ে গিয়ে কাব৷ গৃরু হর উপর নামে আর তার দেহ থেকে
এমন আলো ছড়িয়ে পড়ে যে, সমগ্রওে হতোম৷ অঞ্চল আলোকিত হয়ে যায় ৷ সে বলল, এবার ভুমি
পবিত্র হলো এবং তার বসন্তকাল শুরু হলো ৷ কা বা গৃহে অবস্থিত মৃটুর্তওলাের প্ৰতি সে ইঙ্গিত
করল আর সাথে সাথে সবগুলো মুর্তি মুখ খুবড়ে পড়ে গেল ৷

নাজাশী বললেন, হায় ! আপনারা এবার এ বিষয়ে আমি য পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি
তা শুনুন ৷ আপনারা যে রাতের কথা বলেছেন যে রাতে আ৷ংৰু৷ আমার নির্জন প্রকােষ্ঠে
ঘুমিয়েছিলাম ৷ হঠাৎ দেখি মাটি র্ফাক করে একটি মতে ও মাথা বেরিয়ে এলো ৷ সে বলছিল ,
হস্তী বাহিনীর ওপর ধ্বংস কার্যকর হয়েছে ৷ বাকে বাকে আবাবীল ওদের প্রতি পাথরের কংকর
নিক্ষেপ করেছে ৷ হড়ারড়াম শরীফের ইজ্জত বিনষ্টকারী ও দন্তু প্রদর্শনকারী অস্পেরাম১ নিহত
হয়েছে ৷ মক্কা ও হারাম শরীফের অধিবাসী উঘী নবী জন্মগ্রহণ করেছেন ৷ তার আহ্বানে যে
সাড়া দেবে সে ভাগ্যবান হবে, আর যে প্রত্যাখ্যান করবে সে ধ্বংস হবে ৷ এতটুকু বলে
ওই মাথা ৷টি জমীনের নিচে অদৃশ্য হয়ে যায় ৷ এদৃশ্য দেখে আমি ভয়ে চিৎকার করছিলাম কিন্তু
আমি কোন কথা উচ্চারণ করতে পারছিলাম না ৷ আমি দাড়াত্তে ঢেয়েছিলাম কিন্তু র্দাড়াতে
পারিনি ৷ এবার আমি স্বহস্তে আমার নির্জন প্রকোষ্ঠের পর্দা গুলো ছিড়ে ফেলি ৷ আমার পরিবারের
লোকেরা তা শুনতে পায় এবং আমার নিকট আসে ৷ আমার দৃষ্টিসীমা থেকে হাবশী লে৷ কদেরকে
সরিয়ে দেয়ার জন্যে আমি নির্দেশ দেই ৷৩ তারা ওদেরকে সরিয়ে দেয়; এরপর আমার মুখ ও পা
জড়তা যুক্ত হয় ৷

পারস্য সম্রাট কিসরার রাজপ্রাসাদের ১৪টি চুড়া নিচে পড়ে যাওয়া, তাদের পুজার অন্নিকুণ্ড
নিতে যাওয়া তাদের দু’জন বিজ্ঞ ব্যক্তির স্বপ্ন এবং সাভীহ এর বক্তব্য “আবদুল মসীহ এর
হাতে এর ব্যাখ্যা ইত্যাদি বিষয় রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর জন্মগ্রহণ বিষয়ক অধ্যায়ে উল্লেখ করা
হবে ইনশাআ আল্পাহ্ ৷

ইবন আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে হারিছ ইবন হানী এর জন্ম বৃত্তাম্ভে য়মল ইবন আমর
আল-আদাবীর বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন, বানু আযরা গোত্রের একটি প্রতিমা
ছিল ৷ সেটির নাম ছিল সাম্মাম ৷ তারা এর ভক্ত ছিল ৷ সেটি অবস্থিত ছিল বানু হিন্দ ইবন
হারাম ইবন দৃব্ব৷ ইবন আরদ ইবন কাহীর ইবন আযরা ৷গোত্রের এলাকায় ৷ তারিক নামের
এক লোক তার সেবার ছিল ৷৩ তারা ওই প্রতিমার নিকট পশু বলি দিত ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) যখন

১ আবরাহার পুর্ণ নাম আবরাহাতৃল আশরাম বা ঠোট কটি৷ আবরাহ৷ ছিল ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৭০–

আবির্ভুত হলেন তখন আমরা একটি শব্দ শুনলাম ৷ ওই মুর্তি বলছে, হে বানু হিন্দ ইবন
হারাম গোত্র ! সত্য প্রকাশিত হয়েছে, হাম্মাম মুর্তি ধ্বংস হয়েছে ৷ ইসলাম ধর্ম এসে শিরক
বিদুরিত করে দিয়েছে ৷

বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে আমরা সবাই বিচলিত হয়ে পড়ি ; আমরা ভয় পেয়ে যাই ৷
এ অবস্থায় কয়েক দিন অতিবাহিত হয় ৷ এরপর আমরা পুনরায় শুনতে পইি ওই মুর্তিটি বলছে :
হে তারিক ! হে তারিক৷ সতাবাদী নবী প্রেরিত হয়েছেন বক্তব্য সম্বলিত ওহী সহকারে, তিহামা
অঞ্চলে এক ঘোষক ঘোষণা দিয়েছেন যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাহায্যকারিগণের জন্যে রয়েছে
শান্তি ও নিরাপত্তা আর তার প্ৰতি অবাধ যারা তাদের জন্যে রয়েছে অপমান ও অনুশোচনা ৷
এখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের নিকট থেকে আমার বিদায় ৷

যমল বলেন, অতঃপর মুর্তিটি মুখ থুবড়ে পড়ে যায় ৷ এরপর আমি একটি সওয়ারী ক্রয়
করি এবং সেটির পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করি ৷ অবশেষে আমার সম্প্রদায়ের কতগুলো লোক নিয়ে
রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট উপস্থিত হই ৷ তখন তার উদ্দেশে আমি এই কবিতা আবৃত্তি করি :

হে আল্লাহ্র রাসুল ! আমার এই উষ্টীকে আমি আপনার নিকট দ্রুত চালিয়ে এনেছি এবং
পাখুরে শৃক্তভুমি ও নিচু বালুকাময় প্রাম্ভর অতিক্রম করে তাকে আসতে বাধ্য করেছি ৷

এ উদ্দেশ্যে যে, আমি গ্রেষ্ঠতম মানুষটিকে দৃঢ়তার সাথে সাহায্য করব এবং আপনার
রশিগুলাের সাথে আমার রশ্যিক গ্রথিত করে দেবো ৷

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, যতদিন আমি
বেচে থাকর ততদিন আমি এই দীন অনুসরণ করব ৷

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করি এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে
বাইআত করি ৷ আমি ইতিপুর্বে প্ৰতিমাটির মুখ থেকে যা শুনেছিলাম তা তাকে জানাই ৷ তিনি
বললেন, এটি জিনের উক্তি ৷ এরপর তিনি বললেন, হে আরব সম্প্রদায় ! আমি তোমাদের প্রতি
এবং সমগ্র সৃষ্টি জগতের প্ৰতি আল্লাহ্র রাসুলরুপে প্রেরিত হয়েছি ৷ আমি সকলকে আল্লাহর
আনুগত্য ও তার ,একতৃবাদের প্রতি আহ্বান করছি ৷ আমি তার বান্দা ও রাসুল ৷ তোমরা
আল্লাহর ঘরে হজ্জ করবে, বার মাসের মধ্যে এক মাস তথা রমযান মাসের রােযা রাখবে ৷ যে
ব্যক্তি আমার ডাকে সাড়া দেবে তার আতিথ্যের জন্যে থাকবে জান্নাত আর যে ব্যক্তি আমার
অবাধ্য হবে, তার আবাসস্থল রুপে থাকবে জাহান্নাম ৷

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা সবাই ইসলাম গ্রহণ করি এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা)
আমাদের জন্যে একটি পতাকা বেধে দেন ৷ তিনি আমাদের পক্ষে একটি সনদপত্র লিখে দেন ৷

তাতে লেখা ছিল০ ং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এটি অ ল্লোহ্র রাসুল মুহাম্মদ (সা) এর পক্ষ
থেকে যুসল ইবন আমর ও আর সাথে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে৩ তাদের প্ৰতি প্রদত্ত ৷ আমি
তাকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি যেত ৷রুপে প্রেরণ করলাম ৷ যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ কররেৰু সে

আল্লাহ্ ও তার রাসুলের দলভুক্ত হবে আর যে ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানারে তার জন্যে মাত্র
দু’মাস মেয়াদের নিরাপত্তা থাকবে ৷ এ বর্ণনার সাক্ষী থাকেন হযরত আলী ইবন আবু তালির
(রা) ও মুহাম্মদ ইবন মাসলাম৷ আনসারী ৷ ইবন আসাকির এটিকে গরীব তথা অত্যন্ত বিরল
বর্ণনা বলে মন্তব্য করেছেন ৷

সাঈদ ইবন ইয়াহ্য়া ইবন সাঈদ উমাডী তার মাগাযী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,র্তার চাচা
মুহাম্মদ ইবন সাঈদ ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, একটি জিন
আবু কুবায়স পাহাড়ের উপর থেকে চিৎকার দিয়ে বলেছিল :
হে ফিহ্রের বৎশধরগণ আল্লাহ তোমাদের অভিমত তকে শ্রীইা৷ করে দিন ৷ তোমাদের
বিবেক-বিবেচনা কতই না ক্ষীণা
যখন তোমরা অবাধ্য হচ্ছেত্ত্ব সেই ব্যক্তির, যে এতদঞ্চলে তার সম্মানিত ও মর্ষাদাবান পুর্ব
পুরুষদের ধর্মকে দোষারোপ ও সমালোচনা করেছে ৷

সে তো তোমাদের বিরুদ্ধে জিনদের সাথেও ভৈমত্রী চুক্তি করেছে ওরা ছিল বুসরা অঞ্চলের
জিন ৷ সে থেজুর বাগান সমৃদ্ধ এবং পাথরের তৈ বি দুর্গের অধিবাসীদের সাথেও মৈত্রী বন্ধন
স্থাপন করেছিল ৷

অবিলম্বে অশ্বদল ক্ষিপ্র গতিতে এতদঞ্চলে প্রবেশ করবে এবং হারাম শরীফ এলাকায় নিজ
সম্প্রদায়ের লোকদেরকে নির্বিচারে হত্যা করবে ৷

তোমাদের মধ্যে এমন কোন সন্তুাম্ভ ব্যক্তি আছে কি, যার মধ্যে স্বাধীন মানুষের আত্মা ও
মন-মানসিকতা আছে, যার পিতৃকুল-মড়াতৃকুল সল্লান্তা

তোমাদের মধ্যে প্রচণ্ড আঘাত হানার ও আক্রমণ করার ৫কান লোক আছে কি ? যার
আক্রমণ হবে ওদের জন্যে উপযুক্ত শাস্তি ? যার আঘাত এ সম্প্রদায়কে সকল দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিম্ভা
থেকে মুক্তি দেবে ?

ইবন আব্বাস (রা) বলেন, অতঃপর এই কবি৩ ৷টি মক্কাবাসীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হতে
থাকে ৷ তারা এটি আবৃত্তি করতে থাকে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন “এ হলো এক শয়তান
মানুষকে মুর্তিপুজ৷ র দিকে ডাকছে ৷৩ তার নাম মিস আর ৷ আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত কররেনই ৷
অবস্থায়৩ তিনদিন অতিবাহিত হয় ৷ তখন শোনা গেল যে, জনৈক অদৃশ্য কুঘাযণাকারী ঐ পাহাড়ে
দাড়িয়ে চিৎকার করে বলছেশু ং

তিন দিনের মধ্যেই আমরা মিসআরকে খুন করে ফেলেছি ৷ যখন সে জিন জাতিকে মুর্থ
বলে সাব্যস্ত করেছে এবং একটি মন্দ পথের সুচনা করেছে ৷

একটি র্তীক্ষ্ণধা ৷র নাঙ্গা ৷তরবারি দ্বারা আমি তা ৷র ঘাড়ে আঘাত করেছি ৷ কারণ সে আমাদের
পুত-পবিত্র নবীকে পালি দিয়েছে ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এটি হলো এক শক্তিশালী জিন ৷ তার নান নামাজ ৷ সে আমার
প্রতি ঈমান এসেছে, আমি তার নাম রেখেছি আবদুল্লাহ ৷ ইতিপুর্বে সে জানিংয়ছিল যে তিনদিন
যাবত যে ঐ দুষ্ট জিনটিকে খুজছিল ৷ তখন হযরত আলী (বা) বললেন, ইয়৷ রাসৃলাল্লাহ্!
আল্লাহ্ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিফল দান করুন ৷

হাফিজ আবু নুআয়ম আদ-দালাইল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ
হযরত সাদ ইবন উবাদ৷ (বা) সুত্রে বলেছেন, হিজরতের পুর্বে কোন এক সময়ে একটি
কাজে রাসুলুল্পাহ্ (সা) আমাকে হাদ্রামাওতে’ পাঠিয়েছিলেন ৷ পথে রাত হয়ে যায় ৷ রাতের কিছু
ত্শ অতিবাহিত হওয়ার পর আমি এক অদৃশ্য ঘোষকেব ঘোষণা শুনতে পা ৷ই ৷ সে বলছিল ও

হে আবু আমব ! নিদ্রাহীন৩ ৷র বিপদ তো আমাকে পেয়ে বসেছে ৷ আমার নিদ্র৷ পালিয়েছে
এবং আমার ঘুম হ বাম হয়ে ন্ য়েছে ৰু
আমি স্মরণ করছি যে সকল লোকের কথা, যারা ইতিপুর্বে ছিল এবং ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ৷
যে কেউ তাদেরকে খাটো করবে, সে নিশ্চিত ধ্বংস হবে ৷

মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করে তারা চলে গিয়েছেন ৷৩ তারা গিয়েছেন এমন কুয়ােতে সেখানে
অবতরণ করা পানি পানের জন্যে নয় ৷

তারা তাদের পথে চলে গিয়েছেন আর আমি একা পেছনে পড়ে রয়েছি ৷ কেউই এখন
আমাকে সাহায্য-সহায়তা করছে না ৷

আমি এখন বেকার ৷ (ক ন কিছুরই প্রতিবিধান করার ক্ষমত ! আমার সেই ৷ অথচ ছোট
ছোট শিশু-কিশোররা পর্যন্ত সব পরিস্থিতি সাম৷ ল দিয়ে যাচ্ছে ৷

মানব সমাজে আমি যতদিন বেচে থাকব৩ তদিন আমার জীবন দুর্বিষহ ও সংকটময়
থাকবে ৷ সামুদ গোত্র তো তাদের ধ্বং ×সস্থলে রাত্রিযাপন করেছিল ৷

তেমনিভ৷ ৷বে ধ্বংস হয়েছে আদ সম্প্রদায় এবং গিরিপথে বসবাসক৷ ৷রী কতক জনপদ ৷ ওবা
সব৷ ৷ই ক্ষত-বিক্ষত ও বিধ্বস্ত ইরান সম্প্রদা ৷য়ের পর্যায়ভুক্ত ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর অন্য একজন চিৎকার করে বলতে ওর করে ৷ হে সুদর্শন
পুরুষ! তোমার চমৎকারিতু ও সৌন্দর্যের দিন ফুরিয়ে গিয়েছে ৷ সকল সৌন্দর্য ও চমৎকাবিত ৩,
এখন যাহব৷ ও ইয়াসরিবের মধ্যবর্তী স্থানে ৷ অপরজন বলল, হে দুর্বল ব্যক্তি ! সেটি কি ?
উত্তরে সে বলল শান্তির নবী কল্যাণকব বাণী নিয়ে সমগ্র জগতের প্ৰতি প্রেরিত হয়েছেন
অতঃপর র্তাকে হারাম শরীফ থেকে বের করে খর্জুর বীথি ও পাথর-নির্মিত গৃহাঞ্চলের দিকে
ঠেলে দেয়৷ হয়েছে ৷ অন্যজন বলল, ওই নাযিলকৃত কিতাব প্রেরিত নবী এবং মর্যাদারান উঘী
নবীর পরিচয় কি ? উত্তরে সে বলল, তিনি হলেন লুওয়াই ইবন পালিব ফিহ্ব ইবন মালিক ইবন
নাদর ইবন কিনানা এর বংশধর ৷

সে বলল, দুরে অনেক দুরেত বতুলনায় আমি (৩ তা অনেক বুড়িয়ে গিয়েছি ৷ তার যুগের
তুলনায় আমার যুগ অভীত হয়ে গিয়েছে ৷ আমি৫’ তা দেখেছি যে, আমি আর নাদর ইবন কিনানা
দুজনে এবইি লক্ষ্যবন্তুতে তীর নিক্ষেপ করেছি ৷ আমরা এরই সাথে ঠাণ্ডা দুধ পান করেছি ৷
একদিন রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে এক প্রক৷ ও বৃক্ষের নিকট থেকে আমি আর সে এক সাথে বের হই ৷
সুর্যোদয়ের সময় সে বেরিয়ে পড়ে এবং সুর্যাস্তেব সময় ঘরে ফিরে যায় ৷ এ সময়ে যে যা যা
শুনেছে তার সবই বার্ণন ৷করেছে এবং যা কিছু দেখেছে তার সবই স্মরণ রেখেছে ৷ আলোচ্য
ব্যক্তি যদি নাদর ইবন কিনানা এর বংশধর হন, তবেত তরবাবি এখন কােষমুক্ত হয়ে, ভয়ভীতি
দুরীভুত হয়ে, ব্যভিচার নির্মুল হবে এবং সুদ মুলোৎপাটিত হবে ৷ সে বলল, ঠিক আছে
পরবর্তীতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন! উত্তরে সে বলল, দুর্দশা,দুর্তিক্ষ এবং
দুঃসাহসিকত৷ বিদুবিত হবে তবে খুযা’আ গোত্রে তার কিছুটা অবশিষ্ট থাকবে ৷ দুঃখ-কষ্ট এবং
মিথ্যাচার বিলীন হয়ে যাবে ৷ তবে খাযরাজ ও আওস গোত্রে তার কিছুটা অবশিষ্ট থাকবে ৷

অহ× কার, দ ৷ন্তিকতা, পরনিন্দা ও বিশ্বাসঘাতকতা নির্মুল হবে ৷ তবে বানু বাকর তথা হাওয়াযিন
গোত্রে তা ৷ব কিছুটা অবশিষ্ট থাকবে ৷ লজ্জাকর কর্যগুলাে এবং পাপাচাবমুলক কা জসমুহ অপসৃত
হবে ৷ তবে খাছ আম গোত্রে কিছুটা তার অবশিষ্ট থাকবে ৷ সে বললং অতঃপর কি ঘটবে সে
সম্পর্কে কিছু বলুন! উত্তরে সে বলল, জ×লী লোকেরা যখন বিজয় লাভ করবে আর হাররা
অঞ্চল যখন নিস্তেজ হয়ে যাবে তখন তুমি হিজরত নগরী মদীনা থেকে বেরিয়ে যাবে ৷ আর

সালাম বিনিময় প্রথা যখন রহিত হবে এবং আত্মীয়তা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তখন মক্কা
শরীফ থেকে বেরিয়ে যাবে ৷

সে বলল, আরো কিছু বলুন ৷ উত্তরে সে বলল, কান যদি না শুনত আর চোখ যদি ঝলমল
করে না উঠত তবে আমি তোমাকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিতাম যা শুনে তুমি অস্থির ও
বিচলিত হয়ে পড়তে ৷ এরপর সে বলল :

হে ইবন গাওত৷ শান্তির ঘুম তুমি আর ঘুমাতে পারবে না ৷ সুপ্ৰভাত আর কােনদিন
আমাদের নিকট আসবে না ৷
বর্ণনাকড়ারী বলেন, এরপর যে এমন প্রচণ্ড আর্তচিৎকার করল, সেটি যেন পর্ভরতী মহিলার
প্রসবকালীন আর্তচিংকার ৷ ক্রমান্বয়ে ভোর হলো ৷ আমি গিয়ে দোণ্ণ্ৰু৷ একটি মৃত গুইসাপ ও

একটি মৃত সাপ ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এ থেকেই আমি আচ করতে পারি যে রাসুলুল্লাহ্ (সা )
ইতিমধ্যেই মদীনা শরীফ হিজরত করেছেন ৷

মুহাম্মাদ ইবন জাফর সাদ ইবন উবাদাহ্ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আকাবার শপথের
রাতে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে বায়আত করার পর আমি বিশেষ প্রয়েজ্যোন হাদ্রামাওত
অঞ্চলের দিকে রওয়ানা করি ৷ যথারীতি প্রয়োজন সেরে আমি বাড়ি ফিরছিলাম ৷ পথেই আমার
ঘুম পড়ায় ! গভীর রাতে এক বিকট চিৎকারে আমি ভড়কে যাই ৷ আমি শুনতে পাই এক
চিৎকারকারী চিৎকার করে বলছে :

হে আবু আমরা আমাকে নিদ্রাহীনতার বিপদ পেয়ে বসেছে ৷ আমার নিদ্রা পালিয়েছে এবং
শয়ন হারাম হয়ে গেছে ৷ এরপর সে উপরোল্লিখিত দীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করে ৷
আবু নুআয়ম বলেন, মুহাম্মাদ ইবন জাফর তামীম আদ্দারী (রা ) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন নবৃওত লাভ করেন, তখন আমি সিরিয়াতে অবস্থান করছিলাম ৷
এক জরুরী কাজে আমি পথে বের হই ৷ এ অবস্থায় রাত হয়ে যায় ৷ প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী
আমি বলি, এ রাতে শ্এ প্রাম্ভরের নেতৃস্থানীয় জিনের আশ্রয়ে আমি নিজেকে সােপর্দ করলাম ৷
অতঃপর আমি যখন নিদ্রড়ামগ্ন হই তখন স্বপ্নে দেখি এক ঘোষককে ৷ ইতিপুর্বে কখনো আমি
তাকে দেখিনি ৷ সে বলছে, “তুমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর ৷ কারণ আল্লাহ্র হুকুমের
বিরুদ্ধে কোন জিন কাউকে আশ্রয় দিতে পারবে না ৷ ” আমি বললাম, “হায় ! আল্লাহর কসম,
ণ্ আপনি এ কী বলছেন ? সে বলল, আল-আমীন আল্লাহর রসুলরুপে আবির্ভুত হয়েছেন ৷ হাজুন
অঞ্চলে আমরা তার পেছনে নামায পড়েছি ৷ অতঃপর আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি ৷ আমরা
তার আনুগত্যের শপথ নিয়েছি ৷ জিনদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে এবং তাদের প্রতি
উল্কাপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়েছে ৷ তুমি এখনি বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার রাসুল মুহাম্মদ
(না)-এর নিকট যাও এবং ইসলাম গ্রহণ কর ৷

বর্ণনক্যেরী তামীম আদদারী (রা) বলেন, সকাল বেলা আমি দীরুই আইয়ুব নামক
উপাসনালয়ে জনৈক ইহুদী ধর্যযাজকের সাথে সাক্ষাত করি এনৎ৩ তাকে উক্ত ঘটনা অবহিত
করি ৷ তিনি বললেন, ওরা তোমাকে যথাথই বলেছে ৷ ওই নবী আবির্ভুত হওয়ার কথা মক্কার
হারম শরীফে ৷ তার হিজরত স্থল মদীনারড়া হা রম শরীফ ৷ তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ৷ সুতরাং তুমি অতি
শীঘ্র তার নিকট উপস্থিত হও ৷৩ তামীম (রা) বলেন, অতঃপর আমি এ শহর থেকে রাসুলুল্লাহ
(না)-এর উদ্দেশে রওয়ানা করি এবং৩ তার নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করি ৷

হাতিম ইবন ইসমাঈল সাইদা হুযালী সুত্রে বংনাি করেন যে, তিনি বলেছেন , একদিন
আমরা আমাদের প্রতিমা সুওয়া-এর নিকট ছিলাম ৷ আমাদের রোপাক্রান্ত দৃশটি বকরী আমরা
তখন তার নিকট বরকত লাভের জন্যে উপস্থিত করি ৷ উদ্দেশ্য ছিল সেগুলোর বোগযুক্তি ৷
তখন আমি শুনতে পাই যে, এক ঘোষক ওই মুর্তির গেট থেকে বলছে, জিনদের সকল ষড়যন্ত্র
ব্যর্থ হয়েছে, আমাদের প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হচ্ছে ৷ এসব “হচ্ছে একজন নবীর কারণে ৷
তার নাম মুহাম্মদ (সা) ৷ তখন আমি বললড়াম, আল্লাহর কলম, আমি তো ভুল ন্থানে এসে
পড়েছি ৷ অতঃপর আমি বকরীর পাল নিয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ির দিকে যাত্রা করি ৷ পথে এক
ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাত হয় ৷ সে আমাকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আৰির্তাবের কথা আমার ৷
আবু নুআয়ম বর্ণনাটি এভাবেই সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন ৷

এরপর আবু নুআয়ম বলেন : উমর ইবন মুহাম্মাদ রড়াহ্বশদ ইবন আবদ রাব্বিহী সুত্রে
বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, সুওয়া নামের মুর্তিটি অবস্থিত ছিল মুআল্লাত নামক স্থানে ৷ হুযায়ল
ও বানু যফর ইবনে সুলায়ম গোত্রের লোকজন এটির পুজা করত ৷ একদিন সুলায়ম গোত্রের
পক্ষ থেকে কিছু উপটোকন দিয়ে বানু যফর গোত্রের লোকেরা রাশেদ ইবন আবৃদ রাব্বিহীকে
সুওয়া প্রতিমার নিকট প্রেরণ করে ৷ রাশেদ বলেন, সুওয়৷ প্রতিমার নিকট পৌছার পুর্বে
পথিমধ্যে ভোরবেলা আমি অন্য এক প্রতিমার নিকট পৌছি ৷ হঠাৎ আমি শুনতে পাই, এই
প্রতিমার গেট থেকে একজন যেন চিৎকার করে বলছে, অবাক কাণ্ড ৷ অবাক কান্ড৷ আবদুল
মুত্তালিবের বংশ থেকে এক নবী আবির্ভুত হয়েছেন! তিনি ব্যভিচার, সুদ এবং মুর্তির উদ্দেশ্যে
বলিদান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন ৷ তার আগমনে আকাশকে সংরক্ষিত করে দেয়া হয়েছে এবং
আমাদের প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হচ্ছে ৷ হায়রে আশ্চর্য ব্যাপার ! ভীষণ আশ্চর্য ব্যাপার !
এরপর অন্য একটি প্রতিমার পেট থেকে একজন চিৎকার করে বলতে শুরু করল, “দাম্মার
প্রতিমা পরিত্যক্ত হয়েছে, সেটির তো উপাসনা করা হতো ৷ নবী আহ্মদ (সা ) আবির্ভুত
হয়েছেন ৷ তিনি নামায পড়েন, যাকাত দান ও রােযা পালনের নির্দেশ দেন এবং পুণ্যকাজ ও
আত্মীয়ত ড়ার বন্ধন রক্ষা করে চলার নির্দেশ দেন ৷ এরপর অপর একটি প্রতিমার পেট থেকে অন্য
একজন চিৎকার দিয়ে বললশু ং

মারয়াম পুত্র ঈসা (আ)-এর পর কুরায়শ ন্ত্তন্ র যিনি নবৃওত ও হেদায়ত করার দায়িতু
পেয়েছেন নিশ্চয়ই তিনি সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছেন ৷
সেই নবী আগমন করেছেন , অতীতে ঘটে যা ওয়া এবং ভবিষ্যতে ঘটিতব্য সকল বিষয়ের
যথার্থ সংবাদ নিয়ে ৷

রাশেদ বলেন, ভোরদুবলা আমি সুওয়া’ ৷প্রতিমার নিকট যাই ৷ সেখানে দেখতে পাই যে,
দুটো শেয়াল তার চারদিকে জিভ দিয়ে চাটদুছ, তার উদ্দেশে নিবেদিত নৈদুবদ্যগুলাে খেয়ে
ফেলদুছ এবং ওই প্রতিমার গায়ে পেশার করে তার ওপর দুহলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে ৷ এ
অবস্থা য় রাশেদ বললেন ং

হয়ে! এটি কেমন দেবতা যার মাথায় দু দুটো শেয়াল পেশার করছে ? যার গায়ে শেয়াল
পেশার করে তার জন্য সে তো নিশ্চিতভ৷ ৷দুব লাঞ্ছিত ৷

এ ঘটনা ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মদীনায় হিজরত কালে ৷ লোকজন তখন তার
আগমন সম্পর্কে পরস্পর আলাপ আলোচনা করছিল ৷ রাশেদ তখন রাসুলুল্লাহ (সা ) এর সাথে
সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং মদীনায় এসে তার সাথে সাক্ষাত করেন ৷৩ তার সাথে কিন্তু
তার পােষা কুকুরটিও ছিল ৷ তখন রাশেদের নাম ছিল যালিম আর কুকুদুরর নাম ছিল রাশেদ
রাসুলুল্লাহ্ (সা) র্তাদুক তার নাম জিজ্ঞেস করেন ৷ তিনি বললেন, তার নাম যালিম ৷ এবার তিনি
তার কুকুরের নাম জানতে চাইলেন ৷ তিনি বললেন, কুকুরের নাম রাশেদ ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, না, বরং তোমার নাম রাশেদ আর কুকুদুরর নাম যালিম ৷ এ বলে তিনি মুচকি
হাসলেন ৷ এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে বায়আত হন এবং তার সাথে কিছুদিন
মক্কায় অবস্থান করেন ৷ পরবর্তীতে ওয়াহাত অঞ্চলের একখণ্ড জমি তার নামে বরাদ্দ দেয়ার
জন্যে তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আবেদন করেন ৷ সংশ্লিষ্ট জমির বর্ণনাও তিনি রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট পেশ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওয়াহত ভুখণ্ডের উচু অংশ তার নামে বরাদ্দ
দেন ৷ বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ হলো পরপর তিনবার পাথর নিদুক্ষদুপর শেষ সীমানা পর্যন্ত ৷
তিনি তাকে একটি পানি ভর্তি পাত্র দান করলেন ৷ তাতে তিনি কু দিয়ে দেন এবং র্তাদুক বলেন
যে, এ ৩পানি জমির উপরিভাগে ঢেলে দিয়ে আর অতিরিক্ত পানি নিতে লোকজনদুক বাধা দেবে
না ৷দি নিতাই করলেন ৷ ওই পানি সদা প্রবহমান ঝর্ণায় পরিণত হয় ৷ আজও সেটি প্রবহমান
রয়েছে ৷ তিনি ওই জমিতে ৩দুখজুর বাগান করেছিলেন ৷ কথিত আছে যে, ওই পানি থেকে সমগ্র
অঞ্চলে পানি সরবরাহ করা হতো ৷ লোকজন ওই অঞ্চলকে “রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পানির
এলাকা” নামে আখ্যায়িত করতো ৷ ওয়াহাতের অধিবাসীরা ওখানে গিয়ে গোসল করতো ৷
রাশেদের নিক্ষিপ্ত পাথর রাকাব অঞ্চলে গিয়ে পৌছে ৷ ওই অঞ্চল “রাকাব আল হাজার” নামে
পরিচিত ৷ পরবর্তীতে রাশেদ উক্ত সুওয়৷ প্রতিমার নিকট যান এবং সেটিকে ভেঙে ফেলেন ৷

আবু নুআয়ম বলেন, সুলায়মান ইবন আহমদ আমর ইবন মুররা আল জুহানী ( বা ) সুত্রে
বনাি করেন ৷ তিনি বলেন জা ৷দুহলী যুগের ঘটনা ৷ আমার সম্প্রদায়ের কতক লোক নিদুয়৷ আমি
হজ্জ করতে য ই ৷ একরাতে আমি একটি স্বপ্ন দুদথি ৷ তখন আমি মক্কায় অবস্থান করছিলাম ৷

আমি দেখি একটি উজ্জ্বল ৫জ্যাতি ৷ কাবা গৃহ থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে এবং সুদুর ইয়াসরিবের
পাহাড়গুলো ও জুহায়না গোত্রেরজদ্ল পর্যন্ত আলোকিত করে তুলছে ৷ ওই জ্যোতির মধ্যে
আমি শুনতে পেলাম যে, সে বলছে , অন্ধকার কেটে গিয়েছে আলো ছড়িয়ে পড়ছে, শেষ নবী
প্রেরিত হয়েছেন ৷ এরপর পুনরায় জোাতি ছড়িয়ে পড়লো ৷ ওই জোাতিতে আমি হীরা নগরীর
রাজ-প্রাসাদসমুহ এবং মাদাইন নগরীর শুভ্রতা স্পষ্ট দেখতে পাই ৷ ওই জোাতির মধ্যে আমি
শুনতে পাই কে যেন বলছে, ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে, মুর্তি প্রতিমা ভেঙে গিয়েছে, আত্মীয়তার
বন্ধন রক্ষিত হয়েছে ৷ এস্বপ্ন দেখে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সজা গ হয়ে যাই ৷ আমার
সম্প্রদায়ের লোকদেরকে ডেকে বলি যে, আল্লাহর কসম এ কুরায়শ ণ্গাত্রে নিশ্চয়ই গুরুত্বপুর্ণ
কোন ঘটনা ঘটবে ৷ আমি যা দেখেছি তাদের নিকট তা প্রক৷ ৷শ করি ৷

আমরা যখন আমাদের দেশে ফিরে আসি তখন একজন লেন্ক আমাদের নিকট আসেন
এবং আমাদেরকে বলেন যে,আহমদ নামে এক ব্যক্তি রাসুলরুপে আবির্ভুত হয়েছেন ৷ তখন
আমি তার নিকট গিয়ে আমার স্বপ্নের কথা র্তাকে বলি ৷ তিনি বললেন হে আমর ইবন মুররা !
আমিই রাসুলরুপে প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবকুলের প্রতি ৷ আমি তাদেরকে ইসলামের প্রতি
আহ্বান করি ৷ পরস্পর খুনোখুনি ও রক্তপাত বন্ধ করা, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা, আল্লাহর
ইবাদত করা, মুর্তিপুজা বর্জন করা, বায়তুল্লাহ্ শরীফের হজ্জ করা এবং বার মাসের মধ্যে এক
মাস অর্থাৎ রমযান মাসে রোযা রাখার নির্দেশ দেই ৷ আমার আহ্বানে যে সাড়া দিয়ে সে জান্নাত
পাবে ৷ যে আমার অবাধ্য হবে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নাম ৷ হে আমর ইবন মুররা ৷ তুমি
ঈমান আনয়ন কর, আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন ৷

তখন আমি বললাম আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং আপনিই
আল্লাহর রাসুল ৷ আপনি হালাল হারাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন আমি তার সবই সত্য বলে
বিশ্বাস করলাম যদিও তাতে বহু মানুষ অসস্তুষ্ট হয় ৷ এরপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সম্মুখে কবিতার কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করি ৷ এগুলো আমি তখনই রচনা করেছিলাম যখন আমি
রাসুলুল্লাহ (না)-এর আবির্ভাবের সংবাদ শুনেছিলাম ৷ আমাদের একটি প্রতিমা ছিল ৷ আমার
পিতা ছিলেন সেটির সেরায়েত ৷ আমি তখন প্ৰতিমাটির দিকে এগিয়ে যাই এবং সেটি ভেঙে
ফেলি ৷ তারপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দরবারে উপস্থিত হই ৷ আমি এ কবিতা তার সম্মুখে
আবৃত্তি করি :

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা আলা সত্য এবং পাথরের তৈরি উপাস্যগুলোকে
আমিই প্রথম বর্জ্যাকারী ৷

আপনার প্রতি হিজরত করার মানসে আমি আমার লুঙ্গি পায়ের গোছার ওপর গুটিয়ে
ফেলি ৷ আমার দ্রুতপামী ঘোড়া কে আমি ধুলা উড়িয়ে ছুটিয়ে আপনার নিকট নিয়ে আসি ৷

আমি রওয়ান৷ করেছি যিনি ব্যক্তিগত ও বং শগতভাবে গ্রেষ্ঠতম মানুষ তার স ৷ন্নিধ্য লাভের
উদ্দেশে ৷৷ ৷ উর্ধ্ব জগতে আসীন মানব জাতির মালিক মহান আল্লাহর তিনি রাসুল ৷

তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “মারহাবা হে আমর ইবন ঘুররা৷ তোমার প্ৰতি সাদর
অভিনন্দন ! আমি বললড়াম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমার পিতামাত৷ আপনার জানা কুরবান হোক !
আপনি আমাকে দায়িত্ব দিয়ে আমার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করুন ৷ হতে পারে, আল্লাহ
তাআল৷ আমার মাধ্যমে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন যেমন আপনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ
আমার প্ৰতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) সত্যি সত্যি আম:ক ওদের প্রতি পাঠালেন ৷
আমাকে উপদেশ দিয়ে তিনি বললেন, অবশ্যই সদা সত্য ও সঠিক কথা বলবে ৷ রুক্ষ,
অহংকারী এবং হিংসাপোষণকারী হবে না ৷ আমার সম্প্রদায়ের নিকট আমি গমন করি ৷ আমি
তাদেরকে ডেকে বলি, হে বনী রিফাআ সম্প্রদায় ! হে বনী জুহায়না সম্প্রদায় ! আমি রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরুপে তোমাদের কাছে এসেছি ৷ আমি তােমাদেরকে জান্নাতের
দিকে আহ্বান করছি এবং জ্যহান্নামের ব্যাপারে সতর্ক করছি ৷ আমি তােমাদেরকে রক্তপাত বন্ধ
করা, আত্মীয়তা ৷র বন্ধন অঢুট রাখা, আল্লাহর ইবাদত করা, মুর্তিপুজ৷ ৷পরিত্যাগ করা ,বায়তৃল্লাহ
শরীফে হজ্জ করা এবং বার মাসের মধ্যে এক মাস অর্থাৎ রমযান মাসে রােয৷ রাখার নির্দেশ
দিচ্ছি ৷ যে ব্যক্তি আমার ডাকে সাড়া দিবে সে জান্নাত পাবে আর যে ব্যক্তি তা অমান্য করবে
তার জন্যে রয়েছে জাহান্নাম ৷ হে জুহায়ন৷ সম্প্রদায় ৷ সকল প্রশংসা আল্লাহর ৷ তোমরা যে
বংশের অস্তভুক্তি , সে বংশের মধ্যে তিনি তােমাদেরকে শ্রেষ্ঠ গোত্রের মর্যাদা দিয়েছেন ৷ জাহেলী
যুগে অন্যদের নিকট যে সকল পাপাচাবিতা ৷ও অশ্লীল৩ ৷ প্রিয় ছিল, তিনি সেগুলো তোমাদের
নিকট অপ্রিয় সা ব্যস্ত করে দিয়েছেন ৷ অন্যরা ণ্৩ ৷ দৃ’বােনকে একত্রে বিয়ে করত, পুত্রকে তার
গিতাবন্তীর মালিকানা দিত এবং সম্মানিত মাসে পাপাচার করত, সুতরাং হে জুহায়ন৷ সম্প্রদায় !
তোমরা লুওয়াই ইবন গালিবের বংশভুক্ত রাসুলরুপে আবির্ভুত এই নবীর ডাকে সাড়া দাও,
তাহলে তোমরা দুনিয়ার সমান ও আখিরাতের মর্যাদা লাভ করতে পারবে ৷ দ্রুত অতি দ্রুত
তোমরা এ, কাজে এগিম্নেয়াও, তাহলে আল্লাহর নিকট তোমরা সম্মান লাভ করবে ৷ একজন
ব্যতীত সকলেই তার আহ্বানে সাড়া দিল ৷ ওই একজন লোক দাড়িয়ে বলল, হে আমর ইবন
য়্ররা৷ আল্লাহ তোমার জীবনকে তিক্ত ও বিস্বাদ করে দিন ৷ তুমি কি আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছ
যে, আমরা আমাদের উপলোঃলােকে পরিত্যাগ করি এবং আমাদের পুর্বপুরুষদের ধ্র্য বর্জন
করে তিহামাবাসী ওই কুরায়শ বংশীয় সােকটির আহবানে সাড়া দিয়ে আমাদের ঐরুক্য ফ টল

সৃষ্টি করি ? না, না, তা কোন প্ৰজোষোগ্য কাজ নয় ৷৩ তাতে কোন মর্যাদা নেই ৷ এরপর সে
নিশ্নো ক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করল :

ইবন মুররা এমন বক্তব্য নিয়ে এসেছে যা কল্যাণকাযী কোন লোকের বক্তব্য হতে
পারে না ৷
খুস্বে

আমি মনে করি, তার কথা ও কাজ বাতাসের ন্যায় শেকড়হীন ও অস্থায়ী ৷
াছু১াষ্
তুমি কি অতীত হয়ে যাওয়া মুরববী ও বৃদ্ধদেরকে মুর্থ ঠাওরাচ্ছ, ? যে ব্যক্তি এরুপ করে সে
কখনো সফলতার মুখ দেখবে না ৷ উত্তরে আমর ইবন মুররা বলেন, আমার এবং তোমার মধ্যে
যে মিথ্যাবাদী আল্লাহ্ তার জীবনকে বিস্বাদ কয়ে দিন, তার বাকশক্তি রহিত করে বোবা বানিয়ে
দিন এবৎ তাকে দৃষ্টিহীন অন্ধ বানিয়ে দিন ৷ আমর ইবন মুরর বলেন, অবশেষে যে এ অবস্থায়

মৃত্যুবরণ করেছে যে, তার মুখ অকেজাে হয়ে পড়েছিল, কোন খাদ্যের স্বাদ সে পেত না এবং
সে অন্ধ ও বোবা হয়ে গিয়েছিল ৷

অড়ামর ইবন মুররা ও তার সাথে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা সকলে নবী কৰীম
(না)-এর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ তিনি তাদেরকে সাদর বরণ করে নিয়েছিলেন ৷ তিনি
তাদেরকে কিছু উপহার এবং তাদের জন্যে একটি ফরমান লিখে দিয়েছিলেন ৷ ঐ ফরমানটি ছিল
এরুপ বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহীম ৷ এটি রাসুলুল্লাহ (না)-এর ভাষায় মহান আল্লাহ্র পক্ষ
থেকে প্রেরিত ফরমান ৷ এটি সত্য বাণী ও সত্য প্রকাশক ৷ এটি প্রেরণ করা হলো আমর ইবন
মুররা জুহানী-এর মাধ্যমে যুহায়না ইবন যায়দ গোত্রের নিকট ৷ এ ভুখণ্ডের নিস্নাঞ্চল ও সমতল
ভুমি , গভীর ও উচু ভুমি তোমাদের জন্যে বরাদ্দ দেয়া হলো ৷ তোমরা এর ভুমিতে পশু চরাবে
এবং এর পা ৷নি পান করবে ৷ উৎপাদিত পণ্যের é ৫অংশ দিতে বা ধ্য থাকবে ৷ পড়াচ ওয়াক্ত নামায
আদায় করবে ৷ একই সাথে তবীয়া ও মাবিমা৫ (এক বছরের বড়াছুর আর দুধ ছেড়েছে অমন
বাছুর) এর জন্যে একত্রে থাকলে দুটো বকরী আর আলাদা আলাদাভাবে হলে একটি করে বকরী
প্রদান করতে হবে ৷ কৃষি কাজে ব্যবহৃত পশুর ওপর যাকাত ফরয নয় ৷ ফুল জাতীয় বস্তুর
ওপরও যাকাত ফরয নয় ৷ আমাদের সাথে যে সকল মুসলমান উপস্থিত ছিলেন তারা
কায়স ইবন শাম্মাসের লিখিত এ লিপিটির সাক্ষীরুপে থাকেন ৷ ওইৰু সময়ে আমর ইবন মুররা
আবৃত্তি করছিলেন :

তুমি দেখছ না যে আল্লাহ্ তা“ আ র্তা৷র দীনকে বিজয়ী করে দিয়েছেন এবং অনুসন্ধিৎসু
ব্যক্তির জন্যে কুরআনাের দলীলগুলাে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ৷

এটি দয়াময় আল্পাহ্র কিতাব আমাদের সকলের জন্যে এবৎ আমাদের মিত্রদের জন্যে
শহরে-পল্লীতে সর্বত্রই এটি নুর ৷

এটি নাযিল হয়েছে সে ব্যক্তির ওপর যিনি পৃথিবীতে পদচারণাকারী সকলের শ্রেষ্ঠ এবং
বংশগতভাবেও যিনি সর্বোত্তম ৷

আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) এর অনুসরণ করেছি তখনও যখন শক্রভুমি বিপদসং ফুল ও
ভীতিকর জনপদে পরিণত হয়েছে ৷
আমরা এমন এক জাতি যে, আমাদের চারদিকে মর্যাদা ও সম্মানের প্রাচীর নির্মিত ৷ আমরা
তখনও মর্যাদাবান, যুদ্ধে যখন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের খুলি উড়িয়ে দেয়া হয় ৷

আমরা যোদ্ধা জাতি, দীর্ঘহাতে আমরা যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হই ৷ প্রচণ্ড যোদ্ধার হাতে তখন
উজ্জ্বল তরবারি ঝলমলিয়ে ওঠে ৷

তুমি দেখতে পারে তার চারপাশে আনসারদেরকে ৷ তারা তাদের সেনাপতিকে প্ৰহর৷ দিচ্ছে
উর্চু উর্চু বর্শা ও শানিত তরবারি দ্বারা ৷

বড় বড় ঘটনায় যুদ্ধ যখন চলতে থাকে আর দু ংসাহসী হিস্র সিৎহদেরকে উপলক্ষ করে
যখন যুদ্ধের চাকা ঘুরতে থাকে
তখন তার চেহারার জোাতির উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়, যেমন নক্ষত্ররাজির মধ্যে পুর্ণিমার র্চাদের
আলো ৷ আবু উসমান সাঈদ ইবন ইয়াহয়৷ উমাভী তার মাগাষী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,
আবদুল্লাহ জুহায়ন৷ গোত্রের জনৈক বৃদ্ধের বরাতে বলেছেন, একদা আমাদের মধ্যে এক
ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয় ৷ তখন তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয় ৷ আমরা তার জন্যে কবর
খনন করে ফেলি এবং তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করি ৷ দীর্ঘক্ষণ অচেতন থাকার পর হঠাৎ
সে চোখ খুললো এবং তার ভুশ ফিরে এলো ৷ তখন সে বলল, তোমরা কি আমার জন্যে কবর
খুড়েছ? ওরা বলল, হ্যা ৷ সে বলল, ফুসাল কেমন আছেঃ ফুসাল ছিল তার চাচাভাে ভাই ৷
আমরা বললাম, যে ভাল আছে ৷ একটু আগে যে তোমার কুশল জিজ্ঞেস করে গেল ৷ সে বলল,
বন্তুত তাকেই এ কবরে কবরস্থ করা হবে ৷ আমি যখন অচে৩ ভন ছিলাম তখন আমার নিকট এক
ব্যক্তি এসে বলেছে, তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে , তুমি দেখছ না যে তোমার কবর খোড়া
হচ্ছে? তোমার না তো তোমার শোকে মৃত্যু পথযাত্রী হয়েছে ৷ আচ্ছা বল দেখি আমরা যদি এই

কবর থেকে তোমাকে রক্ষা করি তারপর বড় বড় পাথর দিয়ে সেটি ভরে দিই এবং তারপর
সেটিতে ফুসালকে নিক্ষেপ করি, যে ফুসাল তোমাকে এ অবস্থায় দেখে নিরুদ্বেপে চলে গেল
এবং যে ধারণা করল যে, তার এমন পরিণতি হবে না তাহলে তুমি কি তে ড়ামার প্রতিপালকের
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে এবং তুমি কি র্বশরক ও পথভ্রষ্টতা

ত্যাগ করবেঃ আমি বললাম, হ্যা, আমি তাই করব ৷ ওই আগন্তুক বলল ,ঠিক আছে, তুমি এখন
উঠে দাড়াও , তোমার রোগ সেরে গিয়েছে ৷ এবার লােকটি সুস্থ হয়ে গেল আর ফুসাল মারা
গেল এবং তাকে ওই কবরে কবরস্থু করা হলো ৷ জুহায়নী বলেন, এরপর আমি আমার জুহায়না
গোত্রের ওই লোকটিকে দেখেছি যে নামায পড়ত, প্রতিমার নিন্দাবাদ করত ৷

উমাভী বলেন, আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা উমর ইবন খাত্তাব( (রা) এর সাথে একটি
মজলিসে ছিলাম ৷ সেখ্যনেত ড়ারা জিন সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন ৷ খুবায়ম ইবন ফাতিক
আসাদী বললেন, আমি কিভা ৷বে ইসলাম গ্রহণ করলাম তা আপনাত্ত ত্ব১ বলবো কি ০ হযরত উমর
(রা) বললেন, ঠিক আছে, বলুন ৷ তিনি বলতে শুরু করলেন একঢিণ্ণ্৷ আমি আমার হারিয়ে
যাওয়া উটের পালের খোজে বের হই ৷ আমি সেগুলোর পদচিহৃণ্ অনুসরণ করে অগ্রসর
হচ্ছিলাম ৷ উটের পাল উপরের দিকে উঠেছে আমি তেমন চিহ্ন দেখতে পাই ; যেতে যেতে
আমি ইরাকের আবরাক নামক স্থানে পৌছি ৷ সেখানে আমি আমার বাহন থামিয়ে যাত্রা বিরতি
করি ৷ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আমি বললাম, “এ শহরের প্রধান জিন এবং এ প্রান্তরের সর্দারের
আশ্রয় প্রার্থনা করছি ৷ তখন আমি শুনতে পাই যে, আমার উদ্দেশে অদৃশ্য থেকে কে একজন
বলছে

ওহে তুমি মর্যাদাময় আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা তিনি সম্মানের অধিকারী এব০
মাহস্ফো ও শ্রেষ্ঠ্যতুর মা ৷লিক ৷

এরপর সুরা আনফালের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত কর এবং আল্লাহর একতৃ ঘোষণা

কর ৷ কোন পরোয়া নেই ৷ খুবায়ম আসাদী বলেন, এতে আমি খুব ভড়কে যাই ৷ অল্পক্ষাণর
মধ্যেই আমি সম্বিৎ ফিরে পাই এবং বলি :

হে নেপথ্যচারী ঘোষক ! আপনি কি বলছেন ? আপনার নিকট কি সত্যপথের দিকনির্দেশনা
আছে ? না কি পথভ্রষ্টতা ?

আল্লাহ আপনাকে সংপথ প্রদর্শন করুন, সত্যপথ কোনটি স্পষ্টভাবে বলে দিন ৷
জবাবে সে বলল-

ইনি অল্লোহ্র রাসুল, সকল কল্যাণের আমার ৷ তিনি অবস্থান করছেন ইয়াসরিব নগরীতে
ড ৷কছেন জান্নাত ও মুক্তির দিকে ৷

তিনি সৎকর্ম ও নামায আদায়ের নির্দেশ দেন ৷ মানব জাতিকে বিপদ পদ থেকে
রক্ষ ক্ষা করেন ৷

তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম, ওই রাসুলের নিকট গিয়ে তীর প্রতি ঈমান না আনা
পর্যম্ভ আমি ক্ষান্ত হব না ৷ অতঃপর আমি আমার বাহনে আরোহণ করলাম এবং রাসুলুল্লাহ
(না)-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম ৷ আমি বললাম

আমাকে ওই রাসুলের নিকট পৌছার পথ দেখিয়ে দিন ৷ আপনি সৎপথ পেয়েছেন ৷ যতদিন
আপনি বেচে থাকবেন অতুক্ত ও বিবস্ত্র হবেন না ৷

খুট্রু

আজীবন আপনি নেত ৷ ও তত্ত্বড়াবধায়ক থাকুন সকল জিনের ওপর ৷ যে কল্যাণ আপনি
অর্জন করেছেন তার ওপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেবেন না ৷ এবার সে বলল-

আল্লাহ তাআলা তোমাদের সাথে থাকবেন এবং তোমার সওয়ারী গম্ভব্যন্থলে পৌছিয়ে
দেবেন ৷ তিনি তোমাকে মহান প্রতিদান প্রদান করবেন এবং তোমাকে বিপদাপদ থেকে
রক্ষা করবেন ৷

তুমি তার প্রতি ঈমান আনয়ন কর ৷ আমার প্রতিপালক তোমার পাওন৷ পরিপুর্ণভাবে প্রদান
করবেন ৷ তুমি প্রবল ও দৃঢ়ভাবে র্তাকে সাহায্য কর তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন ৷

আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে নিরাপদ রাখুন, আপনি কে? আমি রাসুলুল্লাহ (সা ) এর
নিকট পৌছলে আপনার কথা বলব ৷ তখন উত্তর এলো আমি জিনদের রাজপুত্র নসীবায়নের
জিনদের জন্য রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিয়োপকৃত নেতা ৷ তোমার উটগুলোর জন্যে আমি যথেষ্ট ৷
আমি ওগুলো ইনৃশাআল্পাহ্ তোমার বাড়িতে পৌছিয়ে দেব ৷

বর্ণনড়াকারী বলেন, আমি মদীনা অভিমুখে যাত্রা করে জুমাবারে সেখানে গিয়ে পৌছি ৷
লোকজন তখন মসজিদের দিকে আসছে ৷ নবী করীম (সা) মিম্বরে দাড়িয়ে মুসল্লীদের উদ্দেশে
থুতবা দিচ্ছিন্সেন ৷ র্তাকে পুর্ণিমার চাদের মত দেখাচ্ছিল ৷ আমি স্থির করলাম যে, রাসুলুল্লাহ

(না)-এর নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি মসজিদের দরজায় দাড়িয়ে থাকর ৷ এরপর তীর
কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করব এবং আমার ইসলাম গ্রহণের উপরোক্ত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে
তাকে জানাবাে ৷

মসজিদের দরজায় আমার বড়াহনটি দাড় করানোর পর হযরত আবু বকর (রা) বেরিয়ে
এলেন এবং আমাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, আপনার ইসলাম গ্রহণের কথা আমরা পুরেই
জেনেছি ৷ আপনি মসজিদে ঢুকে পড়ুন এবং নামায আদায় করে নিন ৷ আমি তাই করলামা
এরপর আমি রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট গেলাম ৷ তিনি আমাকে আমার ইসলাম গ্রহণের
প্রেক্ষাপট নিজেই জানিয়ে দিলেন ৷ আল্লাহ্র৩ তা আলার প্রতি ওকৃ অজ্ঞতা জানিয়ে আমি বললাম,
আলহামদুলিল্লাহ্ সকল প্রশংসা আল্লাহর ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলণে , তোমার সাথী যে জিন সে
তোমাকে দেয়া তার অঙ্গীকার পালন করেছে ৷ বন্তুত ওই প্রকারের কাজ করার যোগ্যতা সে
রাখে বটে ৷ তোমার হারানো উটগুলাে সে তোমার বাড়ি পৌছিন্থ:য় দিয়েছে ৷

তড়াবারানী (র) তার “মুজাম আলকবীর” গ্রন্থে খুরায়ম ইবন ফাতািকর জীবনী প্রসন্সে
লিখেছেন যে, হুসায়ন ইবন ইসহাক হযরত আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন খুরায়ম
ইবন ফাতিক (রা) হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা)-কে বলেছিলেন, হে আমীরুল যুমিনীন!
আমার ইসলাম গ্রহণের সুচনালগ্ন সম্পর্কে আমি কি আপনাকে জানাবঃ হযরত উমর (রা )
বললেন, হ্যা জানান ৷ তারপর তিনি পুর্বোক্ত বর্ণনার অনুরুপ ঘটনা বর্ণনা করলেন ; তবে এ
বর্ণনায় কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় ৷ এতে আছে “আমার নিকট এসেছিলেন হযরত আবু বকর
(রা) ৷ তিনি আমাকে বললেন, “মসজিদে প্রবেশ করুন, আপনার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ
আমরা পেয়েছি ৷ আমি বললাম, আমি তাে ভালভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে জানি না ৷ তিনি
আমাকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম শিখিয়ে দিলেন ৷ এরপর আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম ৷
আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখলাম যে, তিনি যেন পুর্ণিমড়ার চীদ ৷ তিনি বলছিলেন,

যে মুসলিম ব্যক্তি সুন্দরভারে ওযু করে এবং যথাযথভাবে ও পরিপুণ মনোযোগের সাথে যে
নামায আদায় করে সে নিশ্চয় জ ন্নাতে প্রবেশ করবে ৷ হযরত উমর (র ) আমাকে বললেন
আপনার বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করুন নতু বা আমি আপনাকে শাস্তি দেব ৷ তথ্যা

কুরায়শী শায়খ হযরত উসমান ইবন আফ্ফড়ান (বা) আমার সমর্থনে সাক্ষ্য দিলেন ৷ হযরত
উমর (রা) র্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন ৷

মুহাম্মদ ইবন উসমান সুত্রে বর্ণিত আছে যে, উমর ইবন থাত্তাব (রা) খুরায়ম ইবন ফাতিক
(রা)-কে বলেছিলেন আমাকে এমন একটি ঘটনা শুনিয়ে দিন যা আমাকে তাক লাগিয়ে দেয়
তখন তিনি পুর্ববর্তী বর্ণনাটির অনুরুপ ঘটনা বর্ণনা করেন ৷

আবু নুআয়ম বলেন সুলায়যান আবদুল্লাহ ইবন দায়লামী থেকে বর্ণিত ৷ এক লোক হযরত
ইবন আব্বাস (বা) এর নিকট এসে বলল, আমরা শুনেছি যে, আপনি সাতীহ সম্পর্কে আলোচনা
করেন, এমনকি আপনি বলে থাকেন যে, আল্লাহ তাআলা তাকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন
যে, অন্য কোন মানুষকে সেরুপ সৃষ্টি করেননি ৷ ইবন আব্বাস (রা) বললেন, হ্যা আল্লাহ
তাআলা সাতীহ গাসৃসানীকে সৃষ্টি করেছেন গোলাকার কাঠের উপর ন্তুপীকৃত গোশতের ন্যায় ৷
তার শরীরে হড়াড়ও ছিল না রগও ছিল না ৷ ছিল শুধু মাথায় খুলি আর হাতের দৃ’টো তালু ৷ তার
পা দৃটোকে সে গলার সাথে ভীজ করে রাখত যেমন কাপড় ভীজ করে রাখা হয় ৷ জিহ্বা ব্যতীত
তার দেহে এমন কোন অঙ্গ ছিল না যা নড়াচড়া করতে পারত ৷ মক্কা যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের
পর তার দেহকে কাঠের ওপর উঠানাে হয় এবং এভাবে সে মক্কা :পাছে ৷ কুরায়শ বংশের
নেতৃস্থানীয় চার ব্যক্তি অর্থাৎ আবদ শামস ইবন আবদ মানাফ , হাশিম ইবন আবদ মানড়াফ ইবন
কুসাই, আহওয়াশ ইবন ফিহ্র এবং আকীল ইবন আবী ওয়াক্কম্পো তার নিকট উপস্থিত হন ৷
তারা নিজেদের বংশপরিচয় গোপন করে বলেন, আমরা জুমাহ্ গোব্ত্রর লোক আপনার আগমন
সংবাদ পেয়ে আপনার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি ৷ আমরা মনে করি আপনার সম্মানার্থে
আপনার সাথে দেখা করা আমাদের কর্তব্য ৷ আকীল তার জন্যে উপহার স্বরুপ একটি ভারতীয়
তরবারি এবং একটি রাদীনী বর্শা নিয়ে যান ৷ সাতীহ সেগুলো দেখতে পায় কিনা তা যাচাই
করার জন্যে তারা সেগুলো রাখেন কাবা গৃহের দরজার ওপর ৷ সাতীহ বলল, হে আকীল ৷
তোমার হাতখান৷ আমাকে দেখাও তো, সে তার হাত দেখাল ৷ তখন সাতীহ বলল, হে আকীল ৷
গোপন বিষয়ে জ্ঞাত সত্তার কসম, পাপ মােচনকারী এবং পরিপুর্ণ দায়িতু গ্রহণকারী সত্তার
কসম, এই কাবাগৃহের কসম , তুমি তো কিছু উপহার নিয়ে এসেছ আর তা হলো ভারতীয়
তরবারি ও রাদীনী বর্শা ৷ তারা বললেন, সাতীহ! আপনি ঠিকই বলেছেন ৷

এবার সে বলল, আনন্দ দানকারীর কসম, রঙধনুর কসম , অন্যান্য আনন্দ সামগ্রীর কসম ,
আরবী ঘোড়ার কসম, খেজুর গাছ, তাজা ও কাচা খেজুরের কসম, কাক যেখানেই যায়
ধরা পড়ে যায় ৷ এখন তোমাদের বলে দিচ্ছি তোমরা তো জুমাহ্ গোত্রের লোক নও ৷
তোমরা আরববাসী কুরায়শ গোত্রের লোক ৷ তারা বলল, হা, হে সাতীহ! আমরা কাবা
শরীফ এলাকার অধিবাসী ৷ আপনার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্বন্ধে আমরা যা শুনেছি তার প্রেক্ষিতে
আমরা আপনার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি ৷ এখন আপনি আমাদের বলুন, আমাদের যুগে
কি কি ঘটবে তারপরে কি কি ঘটবে ! এ বিষয়ে নিশ্চয় আপনার অবগতি আছে ৷ সে বলল,
তোমরা ঠিকই বলেছ ৷ আমার কথা আমার প্ৰতি মহান আল্লাহর ইলহাম তথা গোপন
ৎবাদের কথা শোন ৷

হে আরব বংশীয় প্রতিনিধি দল ! এখন তোমরা তোমাদের বার্ধক্যে পৌছে গেছ ৷ তোমাদের
আর অনারবদের দুরদৃষ্টি এখন সমান সমান ৷ এখন তোমাদের কোন জ্ঞানও নেই প্রজ্ঞাও নেই ৷
তোমাদের বংশধর থেকে অনেক পরম জ্ঞানী লোকের আবির্ভাব ঘটবে ৷ নানা প্রকারের জ্ঞান
তারা অর্জন করবে ৷ তারা মুর্তিগুলাে ভেঙে ফেলবে ৷ তারা দুর-দুরাম্ভ পর্যন্ত গিয়ে পৌছবে ৷
অনারবদের হত্যা করবে ৷ বকরীর পাল খুজে নেবে ৷

হে সাতীহ! প্রতিনিধি দলের ওরা কারা ? সাভীহ বলল, রুকন বিশিষ্ট নিরাপদ ও
বসবাসকারী সমৃদ্ধ গৃহের কসম, তােমাদেরই বংশধর থেকে কতগুলো সন্তান জন্ম নেবে
যারা প্রতিমাগুলাে ভাৎচুর করবে, শয়তানের উপাসনা প্রত্যাখ্যান করবে, দয়াময় আল্লাহর
একতু ঘোষণা করবে, সকল দীনের শ্রেষ্ঠ দীন প্রচার করবে ৷ তারা উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে
এবং যুব সমাজকে দলে টেনে নিয়ে ৷ তারা বলল, হে সার্তীহ্৷ কার বং শে ওরা জন্ম
নেবে? বলল, সর্বাধিক মর্যাদাশীল সত্তার কসম, মর্যাদার স্তরে উন্নীত কারীর কসম ,
মরুভুমির বালুরাশি ন্থানাম্ভরকারীর কসম এবং দ্বিগুণ চতুগুণে বর্ধিতকারীর কসমৰু ওরা
হাজার হাজার লোক জন্ম নিবে আবদ শামস ও আবদ মানাফের বংশে ৷ বংশ পরম্পরায় তারা
এভাবে জন্ম নিবে ৷

তারা বলল, হায়রে দুঃখ ! হে সাতীহ ৷ আপনি আমাদেরকে যা জানালেন তা তো আমাদের
জন্যে অকল্যাণকর বটে ৷ আচ্ছা বলুন তো ওরা কোন শহর থেকে বের হবো সাতীহ বলল,
চিরঞ্জীব সত্তার কসম, অনাদি অনন্ত সত্তার কসম, নিশ্চয় এই শহর ;থা,বৰু বের হবে এক যুবক,
যে সৎপথের দিক নির্দেশনা দেবে ৷ ইয়াপুছ ও ফানড়াদ প্রতিমা বর্জন করবে ৷

আল্লাহ্র শরীকরুপে কল্পিত সকল উপাস্যের উপাসনা থেকে মুক্ত থাকবে ৷ একক
প্রতিপালকের ইবাদত করবে ৷ অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাকে সুনাম অর্জনকারী ও

ৎসিতরুপে জীবন অবসান করবেন ৷ পৃথিবী থেকে তিনি বিদায় নিবেন ৷ উর্ধ্ব জগতে থাকবে
তার সাক্ষ্যগণ ৷ এরপর তার কর্মতার গ্রহণ করবেন সিদ্দীক (রা ) ৷ তিনি যখন বিচার করবেন,
ন্যায় বিচার করবেন ৷ মানুষের অধিকার ও পাওনা পরিশোধে তীর কোন ভয়ভীতি ও
দায়িত্হীনতা থাকবে না ৷ এরপর ওই শাসনভার গ্রহণ করবেন সঠিক দীনের অনুসারী একজন
শ্রদ্ধাভাজন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি ৷ অসত্য কথাবার্তা তিনি কঠোরতার সাথে দমন করবেন ৷
সৎলােকদের তিনি আপ্যায়ন করাঘেন ৷ সঠিক ধর্মমতকে তিনি সুদৃঢ় করবেন ৷ এরপর একজন
অভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে তার দায়িতৃ ন্যস্ত করবেন ৷ এ ব্যক্তি একই সাথে জনমত এবং রাসুলুল্লাহ
(না)-এর আত্মীয়তা দুটোরই অধিকারী হবেন ৷ ফলে শত্রুগণ শত্রুতা ও বিদ্বেষবশত তাকে
হত্যা করবে ৷ এরপর একজন মান্যগণ্য ব্যক্তিকে ওই দাযিতৃ দেয়া হবে ৷ এক সময় র্তাকেও
হত্যা করা হবে ৷ তার হত্যার বিরুদ্ধে কতক লোক প্রতিবাদমুখর হবে ৷

এরপর একজন সাহায্যকারী ওই দায়িতৃ নেবে ৷ তীর অভিমত দুষ্টলোকের অভিমতের সাথে
মিলে যাবে ৷ তখন পৃথিবীতে সেনাতন্ত্র চালু হবে ৷ এরপর তার পুত্র ওই দায়িতৃ গ্রহণ করবে ৷
সে ধনসম্পদ সংগ্রহে মনোনিবেশ করবে ৷ লোকমুখে তার প্রশংসা হ্রাস পাবে ৷ ধনসম্পদ
আত্মসাত করবে এবং সে একাই সেগুলো ভোগ করবে ৷ তারপর তার বংশধররা প্রচুর
ধনসম্পদের মালিক হবে ৷ এরপর একাধিক রাজা ওই পদে আসীন হবে ৷ এতে কোন সন্দেহ
নেই যে, তাদের মধ্যে খুনােখুনি ও রক্তপাত হবে ৷

আল-বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৭২-

এরপর একজন খােদাভীরু দরবেশ লোক ওই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ৷ তিনি ওদেরকে
কাপড়ের ন্যায় ভীজ করে গুঢিয়ে ফেলবেন ৷ এরপর দায়িত্ব নিবে একজন পাপাচারী লোক ৷ সে
সতাকে দুরে সরিয়ে দেবে এবং ক্ষতিকর কাজগুলো কাছে টেনে নেবে ৷ অন্যায়ভাবে রাজ্যগুলো
জয় করবে ৷ এরপর একজন খর্বকায় লোক ওই দায়িত্ব নেবে ৷ তার পৃষ্ঠদেশে একটি চিহ্ন
থাকবে বটে ৷ শান্তির সাথে তার মৃত্যু হবে ৷ এরপর অল্পদিনের জন্যে একজন অল্প বয়স্ক বালক
ওই দায়িত্ব নেবে ৷ সে রাজত্ব ত্যাগ করার পর তার শাসন রীতি বহাল রেখে তার ভাই প্রকাশ্যে
ওই দায়িত্ব নেবে ৷ ধনসম্পদ ও সিংহাসনের প্রতি তার চরম আকর্ষণ থাকবে ৷ এরপর দায়িত্ব
নেবে একজন কর্মচঞ্চল ব্যক্তি ৷ সে হবে দুনিয়াদার ও ভোগবিলাসী ৷ তার বন্ধু বান্ধবপণ হবে
তার উপদেষ্টা ৷ এক সময় তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে এবং তাকে পরিত্যাগ করবে ৷
পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে রাজত্ব দখল করে নেবে ৷ এরপর ক্ষমতা নেবে একজন অথর্ব
অকর্মণ্য লোক ৷ দেশটিকে সে বরবাদ করে ছাড়বে ৷ তার রাজত্ব ত র ছেলেরা সব ঘৃণাহ
হবে ৷ তারপর সকল নগ্নদেহী তথা নিকৃষ্ট লোকেরা রাষ্ট্র ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা করবে এবং
আক্ষেপকারী ব্যক্তি ক্ষমতা লাভ করবে ৷ সে কাহতান বংশের শুনযার গোত্রের প্রতি সত্তুষ্ট
থাকবে ৷ লেবানন ও বিনয়ানের মধ্যবর্তীন্থান দামেস্কে যখন দু’দল মুখোমুখি হবে তখন সে
ইয়মােনকে দু’ভাগে ভাগ করবে ৷ একদল হবে পরামর্শভিত্তিক শাসক, অপর দল হবে লাঞ্ছিত ও
অপমানিত ৷ তখন তুমি অশ্বারোহী ও তরবারির মাঝখানে শুধু হাত-পা বীধা শিকল পরা
বন্দীদের দেখতে পাবে ৷ তখন ঘর-দোর ও জনপদশুলো ধ্বংস হয়ে ৷ বিধ্বাদের ধনসম্পদ
লুষ্ঠিত হবে ৷ গর্ভব্তীদের গর্ভপাত ঘটবে ৷ ভুমিকম্প শুরু হবে ৷ দেশ তখন একজন আশ্রয়দাতা
খুজবে ৷ তখন নেযার গোত্র বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে ৷ তারা ক্রীতদাস ও মন্দ লোকদেরকে কাছে
টানবে ৷ ভাল ও উত্তম লোকদেরকে দুরে ঠেলে দিবে ৷ সফর মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য
সামগ্রীর মুল্য বেড়ে যাবে ৷ দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে ৷ তারপর তারা পরিখা বিশিষ্ট স্থানের দিকে
যাত্রা করবে ৷ ওই স্থানটি হবে বৃক্ষরাজি বিশিষ্ট ৷ নদনদী গতিরোধকরবে ৷ দিবসের প্রথম ভাগে
সে শত্রুদেরকে পরাজিত করবে ৷ তখন ভাল মানুষগুলো বেরিয়ে আসবে ৷ কিন্তু নিদ্রা ও বিশ্রাম
তাদের কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না ৷ অবশেষে সে এক শহরে প্রবেশ করবে ৷ সেখানে তার
ইনতিকাল হবে ৷ তারপর পদাতিক তীরন্দাজ বাহিনী আসবে সাহসী লোকদেরকে হত্যা করতে
এবং প্রহরীদেরকে বন্দী করতে ৷ পথভ্রষ্টগণ তখন ধ্বংস হয়ে এবং তার মৃত্যু হবে উপকুল
অঞ্চলে ৷

এরপর দীন ধর্ম বিনষ্ট হবে ৷ কাজকর্ম উন্টে যাবে ৷ অড়াসমানী গ্নহু প্রত্যাখ্যান করা হবে ৷
পুল ভেঙে ফেলা হবে ৷ দ্বীপাঞ্চলে যারা থাকবে তারা ব্যতীত অন্য কেউ মাসের শেষ দিবস
পর্যন্ত জীবিত থাকবে না ৷ এরপর খাদ্যশস্য ধ্বংস হতে থাকবে ৷ বেদুইন গ্রাম লোকেরা ক্ষমতা
দখল করবে ৷ সেই দুর্তোগের যুগে তাদের মধ্যে এমন কোন লোক থাকবে না যে
পাপাচড়ারীদেরকে এবং বিধর্মীদেরকে দেশেত্রুঢি ধরিয়ে দেবে ৷ তখন যারা জীবিত থাকবে তারা
মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবে না ৷

প্রতিনিধি দল বলল, হে সাভীহ! এরপর কী হবো সে বলল, এরপর লম্বা রশির ন্যায়
দীর্ঘকায় একজন ইয়ামানী লোক বেরিয়ে আসবে ৷ তার দ্বারা আল্লাহ তাঅড়ালা সকল
ফিতনা-ফাসাদ নির্মুল করে দেবেন ৷

উপরোক্ত বর্ণনা একটি বিস্ময়কর ও বিরল বর্ণনা বটে ৷ এটির মধ্যে ফিতনা-ফাসাদ এবং

শেষ যুগের বিপর্যয় সম্পর্কিত আলোচনা থাকার কারণে এবং এটির অসাধারণত্বের কারণে
আমরা এটি উল্লেখ করেছি ৷

ইয়ামানের রাজা রাবীআ ইবন নাসরের সাথে শিক ও সাভীহের সাক্ষাত ও আলোচনা এবং
রাসুলুল্লাহ (সা) সম্পর্কে তাদের সুসংবাদ দানের বিষয় ইতিপুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৰু
অনুরুপভাবে আপন ভাগ্নে আবদুল মাসীহের সাথে সাভীহের সংঘটিত ঘটনা যখন বড়ানু সাসান
বংশীয় পারস্য সম্রাট তাকে পাঠিয়েছিল রাজপ্রাসাদের চুড়া ধ্বৎস ণ্নবং উপাসনার অগ্নিকুণ্ড নিভে
যাওয়ার ঘটনা জানার জন্য, তাও ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ৷

পারস্যের বিচারক ও আইন শাস্ত্রবিদের দেখা স্বপ্নের কথাও আলোচিত হয়েছে ৷ এসব
ঘটনা ঘটেছিল প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (না)-এর জন্মগ্নহণের রাতে ৷ তার শরীয়ত ও ধর্ম তো
অন্য সকল দীন ধর্মকে রহিত করে দিয়েছে ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর যৌবন প্রাপ্তি ও আল্লাহর আশ্রয়

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যৌবনে পদার্পণ করলেন ৷ আল্লাহ তাআলা
তীর নিরাপত্তা দান করেন এবং জাহিলিয়াতের পংকিলতা থেকে র্তাকে রক্ষা করেন ৷ এভাবে
যখন তিনি ৰয়ঃপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি ব্যক্তিত্বে সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ, চরিত্রে সর্বাপেক্ষা সুন্দর
বংশ মর্যাদার সবচাইতে কুলীন, প্রতিবেশী হিসেবে সর্বোত্তম, সহনশীলতায় সর্বশ্রেষ্ঠ,
কথা-বার্তায় সর্বাধিক সত্যবাদী, বিশ্বস্ততায় সকলের সেরা এবং অশ্লীলত৷ ও মন্দ স্বভাব থেকে
সর্বাধিক পবিত্র ও মুক্ত ৷ সমাজের মানুষ এখন র্তাকে একমাত্র আল-আমীন’ বা বিশ্বাসভাজন
বলে সম্বোধন করে ৷

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, মহড়ানবী (সা) কে আল্লাহ তা আলা যে শৈশবে রক্ষণাবেক্ষণ
করেন এবং জাহিলিয়াতের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখেন, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন :
একদিন আমি কুরায়শ-এর কয়েকটি কিশোরের সঙ্গে অবস্থান করছিলাম ৷ খেলার ছলে আমরা
পাথর কুড়িয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিচ্ছিলাম ৷ আমরা প্রত্যেকে পরনের লুঙ্গি খুলে
তা’ ঘাড়ে রেখে এর ওপর পাথর বহন করছিলাম ৷ আমি ওদের সঙ্গে একবার সামনে যাচ্ছিলড়াম
আবার কখনো পেছনে পড়ছিলাম ৷ এমন সময় অদৃশ্য থেকে কে একজন আমাকে প্রচণ্ড একটি
ঘুষি মারলো এবং আমাকে বললো, লুঙ্গিটা পরে নাও ৷ সঙ্গে সঙ্গে আমি লুঙ্গিটি র্কাধ থেকে নিয়ে
পরে নিলাম ৷ তারপর পুনরায় খালি কাধে পাথর বহন করতে শুরু করলাম ৷ তখন আমার
সাথীদের মধ্যে একমাত্র আমিই ছিলাম লুঙ্গি পরিহিত ৷

এই ঘটনাটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত কাবা নির্মাণের সময়কার ঘটনার অনুরুপ ৷ সে সময়ে
তিনি এবং তার চাচা আব্বাস পাথর বহন করছিলেন ৷ ঘটনাটি যদি সে ঘটনা না হয়ে থাকে
তবে এটা ছিল তার পুর্বাভাস স্বরুপ ৷ আল্পাহই ভালো জানেন ৷

আব্দুর রাঘৃযাক বর্ণনা করেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বলেছেন, কাবা
নির্মাণের সময় রাসুলুল্পাহ (সা) পাথর বহ্নের কাজে যোগ দেন ৷ দেখে আব্বাস বললেন, লুঙ্গি
র্কাধে রেখে পাথর বহন কর ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তা-ই করলেন ৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে
পড়েন এবং তীর চক্ষুদ্বয় আকাশের দিকে নিবদ্ধ হয় ৷ কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে দাড়িয়ে বললেন ,
আমার লুঙ্গি ! তখন আব্বাস তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দেন ৷ এটি বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা ৷

বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, কুরায়শ যখন
বায়তৃল্লাহ নির্মাণ করে, তখন আব্বাস বায়তুল্লাহ্র দিকে পাথর বয়ে নিয়ে আসছিলেন ৷ ইবনে
আব্বাস বলেন, কুরায়শরা দু’জন দু’জন করে লোককে জুড়ি বেধে দেয় ৷ পুরুষরা পাথর

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>