হযরত ঈসা (আ) এর জন্ম ও ওহীৱ সূচনা

হযরত ঈসড়া (আ)-এব জন্ম ও ওহীর সুচনা

পুর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত ঈসা (আ) বায়তৃল মুকদ্দোসের সন্নিকটে বায়তে
লাহমে’ জন্মগ্রহণ করেন ৷ কিন্তু ওহাব ইবন মুনাববিহ্ (র)-এর ধারণা, হযরত ঈসা (আ) এর
জন্ম হয় মিসরে এবং মারয়াম ও ইউসুফ ইবন ইয়াকুব আল-নাজ্জার একই পাধার পিঠে
আরোহণ করে ভ্রমণ করেন এবং পাবার পিঠের গদি ব্যতীত তাদের মধ্যে অন্য কোন আড়াল
ছিল না ৷ কিন্তু এ বর্ণনা সঠিক নয় ৷ কেননা, ইতিপুর্বে উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে
যে, ঈসা (আ) এর জন্মস্থান হচ্ছে বায়তে লাহাম ৷ সুতরাং এ হাদীসেরমুকাবিলায় অন্য যে
কোন বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য ৷

ওহাব ইবন মুনাববিহ উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ঈসা (আ) যখন ভুষিষ্ঠ হন তখন পুর্ব ও
পশ্চিমের সমস্ত মুর্তি ভেঙ্গে পড়ে যায় ৷ ফলে শয়তানরা অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে ৷ এর কোন
কারণ তারা খুজে পাচ্ছিল না ৷ অবশেষে বড় ইবলীস তাদেরকে জানা নাল যে, ঈসা (আ ) এর জন্ম
, হয়েছে ৷ শয়তানরা শিশু ঈসাকে তার মায়ের কোলে আর চারদিকে ফেরেশ৩ ৷গণ দাড়িয়ে
তাকে ঘিরে রেখেছেন দেখতে পেল ৷ তারা আকাশে উদিত একটি বিরাট নক্ষত্রও দেখতে পেল ৷
পারস্য সম্রাট এই নক্ষত্র দেখে শংকিত হয়ে পড়েন এবং জোাতিষীদের নিকট এর উদিত
হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন ৷ জোড়াতিষীরা জানলে, পৃথিবীতে এক মহান ব্যক্তির জন্ম হয়েছে ৷
এজন্য এই নক্ষত্র উদিত হয়েছে৷ তখন পারস্য সম্রাট উপচৌকন হিসেবে স্বর্ণ, চান্দি ও কিছু
লুবান দিয়ে নবজ্যতকের সন্ধানে কতিপয় দুত প্রেরণ করেন ৷ দুতগণ সিরিয়ার এসে পৌছে ৷
সিরিয়ার বাদশাহ তাদের আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন ৷ তারা উক্ত নক্ষত্র ও
জ্যেত্ত্বতিষীদের মন্তব্যের কথা তাকে জানায় ৷ বাদশাহ দুতদের নিকট নক্ষত্রটির উদয়কাল
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন ৷ উত্তর শুনে তিনি বুঝলেন, ঐ শিশুটি বায়তৃল মুকাদ্দাসে জন্ম গ্রহণকারী
মারয়াম পুত্র ঈসা ৷ ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রচার হয়ে গিয়েছিল যে, নবজাত শিশুটি দে লনায
থেকেই মানুষের সাথে কথা বলেছেন ৷ এরপর বাদশাহ দুতদেরকে৩ তাদের সাথে আনীত
উপচৌকনসহ শিশু ঈসা ৷র নিকট পাঠিয়ে দেন এবং এদেরকে চিনিয়ে দেয়ার জন্যে সাথে একজন
ল্যেকও দেন ৷ বাদশাহ্র উদ্দেশ্য ছিল, দুতগণ যখন উপচৌকন প্রদান করে চলে আসবে, তখন
এ লোক ঈসাকে হত্যা করে ফেলবে ৷ পারস্যের দুতগণ মড়ারয়ামের নিকট গিয়ে উপচৌকনগুলো
প্রদান করে চলে আসার সময় বলে আসলো যে, সিরিয়ার বাদশাহ আপনার নবজাত শিশুকে
হত্যা করার জন্যে চর পাঠিয়েছে ৷ এ সংবাদ শুনে মারয়াম শিশুপুত্র ঈসাকে নিয়ে মিসরে চলে
আসেন এবং একটানা বার বছর সেখানে অবস্থান করেন ৷ এ সময়ের মধ্যে ঈসা (আ)-এর
বিভিন্ন রকম কারামত ও মুজিযা প্রকাশ হতে থাকে ৷ ওহাব ইবন মুনাবৃবিহ কতিপয় মুজিযার
কথা উল্লেখ করেছেন ৷ যথা :

(এক) বিবি মারয়াম মিসরের যে সর্দারের বাড়িতে অবস্থান করেন, একদা ঐ বাড়ি থেকে
একটি বস্তু হারিয়ে যায় ৷ ভিক্ষুক, দরিদ্র ও অসহায় লোকজন সে বাড়িতে বসবাস করত ৷ কে
বা কারা বন্তুটি চুরি করেছে, তা অনুসন্ধান করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া গেল না ৷ বিষয়টি

মারয়ামকে ভীষণ চিন্তায় ফেলে দিল ৷ বাড়ির মালিক ও অন্যান্য লো ৷কজনও বিব্রত অবস্থায় পড়ে
গেল ৷ অবশেষে শিশু ঈস৷ সেখানে অবস্থানকারী এক অন্ধ ও এক পঙ্গু ব্যক্তির নিকট ৫ভুালেন
অন্ধকে বললেন, ভুমি এ পঙ্গুকে ধরে উঠাও এবংত তাকে সাথে নিয়ে চুরি করা বর্ন্ত৷ নিয়ে এস ৷
অন্ধ বলল, আমি তো তাকে উঠাতে সক্ষম নই ৷ ঈস৷ বললেন, কেন, তোমরা উভয়ে যেভাবে
ঘরের জানালা দিয়ে বন্তুটি নিয়ে এসেছিলে, সেভ৷ ৷বেইগ্ গিয়ে নিয়ে এস ৷ এ কথা শোনার পর

তারা এর সত্যতা স্বীকার করল এবং চুরি করা বন্তুটি নিয়ে আস্লো ৷ এ ঘটনার পর ঈসার
মর্যাদা মানুষের নিকট অত্যধিক বেড়ে যায় ৷ যদিও তিনি তখন শিশু মাএ ৷

(দুই) উক্ত সর্দারের পুত্র আপন সন্তানদের পবিত্রতা অর্জনের উৎসবের দিনে এক ভোজ
সভার আয়োজন করে ৷ লোকজন সমবেত হল ৷ খাওয়া-দাওয় শেষ হল ৷ সে যুগের
নিয়মানুযায়ী এখন মদ পরিবেশনের পালা ৷ কিন্তু মদ ঢালতে গিয়ে ;দখা গেল কোন কলসীতেই
মদ নেই ৷ সর্দার পুত্র ভীষণ লজ্জায় পড়ে, গেল ৷ হযরত ঈস৷ (আ) এ অবস্থা দেখে প্রতিটি
কলসীর মুখে হাত ঘুরিয়ে আসলেন ৷ ফলে সেগুলো সাথে সাথে উৎকৃষ্ট মদে পুর্ণ হয়ে গেল ৷
লোকজন এ ঘটনা দেখে বিস্মিত হলো ৷ ফলে, তাদের নিকট আরও মর্যাদা বৃদ্ধি পেল ৷ মানুষ
বিজ্যি রকম উপটোকন এনে ঈসা ও তার মার কাছে পেশ করলো কিত্তু তারা এর কিছুই গ্রহণ
করলেন না ৷ তারপর তারা বায়ভুল ঘুক ৷দ্দাসের উদ্দেশ্যে রওয়ড়ান৷ হয়ে পড়লেন ৷

ইসহ্াক ইবন বিশৃর আবু হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ হযরত ঈসা ইবন
মারয়ামই প্রথম মানুষ, যিনি শিশুকালে কথা বলেছেন ৷ আল্লাহ্ তার রসন৷ খুলে দেন এবং তিনি
আল্লাহ্র প্রশংসায় এমন অনেক কথা বলেন, যা ইতিপুর্বে কোন কান কখনও শোনেনি ৷ এ
ৎসায় তিনি র্চাদ, সুরুজ, পর্বত, নদী, ঝর্ণা কোন কিছুকেই উল্লেখ করতে বাদ দেননি ৷

তিনি বলেন : হে আল্লাহ! সু-উচ্চ মর্যাদার থেকেও আপনি বান্দার নিকটবর্তী ৷ বান্দার
নিকটবর্তী থেকেও আপনি সু-মহড়ান মর্যাদা ৷য় অধিষ্ঠিত ৷ সমস্ত সৃষ্টিকুলের উপরে আ পনা র শক্তি
ও ক্ষমতা ৷ আপনি এমন ক্ষমতাবান সত্তা, যিনি আপন বাণী দ্বারা মহাশুনাে সাত টি স্তরে
আকাশকে সৃষ্টি ও বিন্যস্ত করেছেন ৷ এগুলো প্রথম দিকে ধোয়ার আকারে ছিল ৷ পরে আপনার
নির্দেশ মতে ওগুলো আপনার অনুগত হয় ৷ এসব আকাশে ফিরিশতাকুল আপনার মহিমা
বর্ণনায় তাসবীহ পাঠে রত ৷ এগুলোতে আপনি রাতের অন্ধকারে আলোর ব্যবস্থা করেছেন এবং
সুর্যের আলো দ্বারা দিনকে আলোকিত করেছেন ৷ আকাশে বজ্র ধ্বনিকে আপনার ত্তুতি পাঠে
নিয়োজিত রেখেছেন ৷ আপনার সক্সমের সম্মানে সেগুলোর অন্ধকার বিদুরিত হয়ে আলোয়
উদ্ভাসিত হয়ে উঠে ৷ আসমান রাজিতে আপনার স্থাপিত নক্ষত্রপ্নঞ্জরুপী প্রদীপমালার সাহায্যে
দিশাহারা পথিকগণ পথের দিশা পড়ায় ৷ অতএব হে আল্লাহ, আসমান বাজিকে বিন্যস্ত করে এবং
য়মীনকে বিন্তুত করে আপনি মহা কল্যাণ সাধন করেছেন ৷ য়মীনকে আপনি পানির উপরে
বিছিয়েছেন ৷ তারপর পানির বিশাল ঢেউয়ের উপরে উচু করে রেখেছেন এবং ঢেউণ্ডলােকে

নমনীয় হওয়ার আদেশ দিয়েছেন ৷ আপনার আদেশ পালনার্থে ঢেউগুলে৷ অবনত মস্তকে নমনীয়
হয় ৷ এরপর আপনি প্রথমে সমুদ্র ও সমুদ্র থেকে নদী সৃষ্টি করেছেন ৷ তারপর ছোট ছোট নালা
ও ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন ৷ এরপর আপনি এ থেকে সৃষ্টি করেছেন খাল, বিল, গাছপালা ও ফল-
ফলাদি ৷ তারপর যমীনের উপরে স্থাপন করেছেন পাহাড়, পাহাড়গুলো পানির উপরে পেরেকের
ন্যায় যমীনকে স্থির করে রেখেছে ৷ এসব কাজে পর্বতমালা ও পাথরসমুহ আপনার পুর্ণ আনুগত্য
করে ৷ অতএব, হে আল্লাহ ৷ আপনি অত্যন্ত ববকতময় ৷ এমন কে আছে, যে আপনার মত করে
আপনার প্রশংসা করতে পারো কে আছে এমন, যে আপনার মত করে আপনার গুণাবলী বর্ণনা
করতে সক্ষম? আপনি যেঘপুঞ্জকে ছড়িয়ে দেন ৷ বাধা-বন্ধনকে মুক্ত করেন, সঠিক ফয়সালা
করেন, এবং আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী ৷ আপনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই ৷ আপনি
মহা পবিত্র ৷ আপনি আমাদেকে যাবতীয় পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করার হুকুম করেছেন ৷
আপনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই ৷ আপনি মহা পবিত্র ৷ আকাশ ৷৷মওলীকে আপনি মানুষের ধরা
ছোয়৷ থেকে দুরে রেখে দিয়েছেন ৷ আপনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই ৷ আপনি মহা পবিত্র ৷
জ্ঞানী লােকই কেবল আপনাকে উপলব্ধি করতে পারে ৷ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আমাদের
নিজেদের উদ্ভাবিত উপাস্য নন ৷ আপনি এমন পালনকর্ত৷ নন, যার আলোচনা শেষ হতে পারে ৷
আপনার কোন অ শীদার নেই যে, আপনাকে ডাকার সাথে তাদেবকেও আমরা ডাকবাে ৷
আমাদের সৃষ্টি কাজে আপনাকে কেউ সাহায্য করেনি যে, আপনার ব্যাপারে আমাদের কোন
সন্দেহ হতে পারে ৷ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি — আপনি একক, মুখাপেক্ষীহীন, আপনি কাউকে জন্ম
দেননি, আপনাকেও কেউ জন্ম দেয়নি, কোন দিক দিয়েই আপনার সমকক্ষ কেউ নেই ৷

ইসহাক ইবন বিশ্ব ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ ঈস৷ ইবন মারয়াম
(আ) শিশু অবস্থায় একবার কথা বলেন ৷ এরপর তার কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় ৷ অন্যান্য শিশুরা
যখন স্বাভাবিক বয়সে কথা বলে থাকে, তিনিও সে বয়সে পুনরায় কথা বলতে শুরু করেন ৷
আল্লাহ তখন তাকে যুক্তিপুর্ণ কথা ও বা ৷গিাতা শিক্ষা ৷দেন ৷ ইয়াহুদীরা ঈস৷ (আ) ও তার মা
সম্পর্কে জঘন্য উক্তি করে ৷ তাকে তারা জারজ সন্তান বলত ৷ অ ল্লা৷হ্র বাণী৪

এবং তারা লা নতগ্নস্ত হয়েছিল ৩াদের কুফরীর জন্যে ও মারয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর
অপবাদের জন্যে ৷ (৪ নিসাঃ ১৫৬) ৷ ঈস৷ (আ) এর বয়স যখন সাত বছর, তখন তারা তাকে
লেখাপড়া শিখাবড়ার জন্যে বিদ্যালয়ে পাঠান ৷ কিন্তু ঘটনা এমন হল যে, শিক্ষক তীকে যে
বিষয়টিই শিখাতে চাইতের্ন, তিনি আগেই সে বিষয় সম্পর্কে বলে দিতেন ৷ এমতাবস্থায় এক
শিক্ষক তাকে আবু জাদ’ শিখালেন ৷ ঈস৷ জিয়ুজ্জস করলেন, আবু জাদ’ কি? শিক্ষক বললেন,
আবু জাদ কি তা আমি বলতে পারি না ৷ ঈস৷ বললেন, যে বিষয়ে আপনি জ৷ নেন না সে বিষয়ে
আমাকে কেমন করে শিখাবেনঃ শিক্ষক বললেন, তা হলে তুমিই আমাকে শিখাও ৷ ঈসা
বললেন, তবে আপনি ঐ আসন থেকে নেমে আসুন! শিক্ষক নেমে আসলেন ৷ তারপর ঈসা
(আ) সে আসলে গিয়ে বললেন এবং বললেন, আমার নিকট জিৰুজ্ঞস করুন! শিক্ষক জিজ্ঞেস
করলেন, আবু জাদ কি? উত্তরে ঈস৷ বললেন, এ ৷ দ্বারা ধ্া৷ ৷ ১৷ ৷ (আল্লাহর নিয়ামতরাশি) ৷া

দ্বারা (আল্লাহর অনুপম
সৌন্দর্য) ৷

এ উত্তর শুনে শিক্ষক বিস্মিত হয়ে গেলেন ৷ হযরত ঈসা-ই সর্ব প্রথম আবু জাদ
শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেন ৷

অতঃপর ইসহাক ইবন বিশর এক দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন যে, হযরত উছমান
রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (না) তার প্রতিটি শব্দের
উত্তর দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু এ হাদীস মাওযু জান ৷ অনুরুপ ইবন আদীও আবু সাঈদ থেকে
এক ম ৷রকু’ হাদীসের মাধ্যমে ঈসার মকতবে প্রবেশ, শিক্ষক কর্তৃক আবু জাদ এর অক্ষর
সমুহের অর্থ শিক্ষা দান ইত্যাদির উল্লেখ করেছেন ৷ কিছু এ হাদীসও গ্রহণযোগ্য নয় ৷ ইবন
আদী বলেছেন, এ হাদীস মিথ্যা ৷ ইসমাঈল ব্যতীত আর কেউ এ হাদীস বর্ণনা ৷করেন নি ৷ ইবন
লুহায়অ৷ আব্দুল্লাহ ইবন হুবায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে , আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা ) বলেছেনঃ
ঈস৷ ইবন মারয়াম (আ) কিশোর বয়সে অন্যান্য বালকদের সাথে মাঠে খেলাধুলা করতেন ৷
মাঝে মধ্যে তিনি তাদের কাউকে ডেকে বলতেন তুমি কি চশ্ও যে, তোমার মা কি কি খাদ্য
তোমাকে না দিয়ে গোপন করে রেখেছে, আমি তা বলে দেইঃ সে বলত, বলে দিন ৷ ঈসা
বলতেন, অমুক অমুক জিনিস গোপন করে রেথোছ ৷ বালকটি তৎক্ষণাৎ দৌড়ে গিয়ে মাকে
বলত, আপনি যে সব খাদ্য আমাকে না দিয়ে গোপন করে রেখে দিয়েছেন, তা আমাকে খেতে
দিন ৷ মা বলরু ত,ন কি জিনিস আমি গোপন করে রেখেছি? বালক বলত, অমুক অমুক জিনিস ৷
মা বলতেন, এ কথা তোমাকে কে বলেছে? ছেলে বলত , ঈসা ৷ইবন মারয়াম বলেছে ৷ এ কথা
জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর লোকজন পরামর্শ করল, আমরা যদি ছেলেদেরকে ঈসার সাথে এ
ভাবে মেলামেশার সুযোগ দিই তাহলে ঈস৷ তাদেরকে নষ্ট করে ছাড়বে ৷ সুতরাং সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী পরদিন তারা সকল ছেলেদেরকে একটা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখল ৷ ঈসা
বালকদেরকে সন্ধান করে ফিরলেন; কিন্তু কাউকেও খুজে পেলেন না ৷ অবশেষে একটি ঘর
থেকে তাদের কান্নাজড়িত চিৎকার শুনতে পেয়ে সোকজনের নিকট জিজ্ঞেস করলেন, ঐ
ঘরটির ভিতর শব্দ কিসের? তারা ঈসাকে জামাল, ঘরের ওগুলো হচ্ছে বড়ানর ও শুকর ৷ তখন
ঈস৷ বললেন, হে আল্লাহ ঐ রকমই করে দিন ৷ ফলে বালকগুলাে বানর ও শুকরে পরিণত হয়ে
গেল ৷ (ইবন আসাকির)

ইসহাক ইবন বিশৃর ইবন আব্বাস (যা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ হযরত ঈস৷ আল্লাহর
ইঙ্গিত (ইলহাম) অনুযায়ী ব ৷ল্যকালে বিস্ময়কর কাজকর্ম দেখাতেন ৷ ইয়াহুদীদের মধ্যে এ কথা
ছড়িয়ে পড়ে ৷ ঈসা (আ ) বয়ােবৃদ্ধি লাভ করেন ৷ বনী ইসরাঈলরাত তার প্রতি শত্রুতা পোষণ
করতে থাকে ৷ তার মা এ জন্যে শংকিত হয়ে পড়েন ৷ তখন আল্লাহ তাকে ওহীর মাধ্যমে
ছেলেসহ মিসরে চলে যাওয়ার নির্দেশ ৷দেন ৷ কুরআন পাকে আল্লাহ বলেন ং

-এবং আমি মারয়াম তনয় ও তার মাকে করেছিলাম এক নিদর্শন, তাদেরকে আশ্রয়
দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্ৰস্রবণ ৷বিশিষ্ট উচ্চ ভুমিতে ৷ (২৩ মু’মিনুনং ৫০)

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়৷ (২য় খণ্ড) ২০
ণোণোণো(হ্রা৷ব্রা৷৪গাে০ওোড়া

আয়াতে উল্লেখিত নিরাপদ ও প্রস্রবণ বিশিষ্ট উচ্চ ভুমি দ্বারা কেন্ন্থানঃকে বুঝানো হয়েছে,
ত নির্ণয়ে প্রথম যুগের উলাম ও মুফা সৃসিরগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে ৷ কেননা এ ধরনের
ভৈবশিষ্ট্যময় স্থান খুবই বিরল ৷ যেহেতু সম৩ ল থেকে উচ্চ ভুমি, য র উপবিভা গ হবে প্রশস্ত ও
সমতল এবং যেখানে রয়েছে পানির প্রস্রবণ ৷ টু,ন্ প্রুট্রুৰু বলা হয় এমন ঝর্ণাকে, যার পানি যমীনের
উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে ৷ উচ্চ ভুমিতে এ ধরনের প্রস্রবণ সাধারণত হয় না ৷ এজন্যে এর অর্থ
নির্ণয়ে বিভিন্ন মতামতের সৃষ্টি হয়েছে যথা ং ৰু

(১) সেই স্থু ন যেখানে মসীহ্ জন্মঃহণ করেছিলেন অর্থ ৎ বয়তুল মুকদ্দাসের নিকটবর্তী
একটি খেজুর বাগান ৷ আল্লাহর বণী৪

ফেরেশতী তার নিম্নপার্শ্ব হতে আহবান করে তাকে বলল, ন্মি দৃংখ কর না তোমার
পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করেছেন ৷ (১৯ মরয়ম৪ ২৪) ৷ অধিকাৎশ
প্রাচীন আলিমদের মতে এটি একটি ছোট নহর ইবন আব্বাস (রা) থেকে বিশুদ্ধ সুত্রে বর্ণিত
-নহর দ্বারা এখানে দা শিমকের একাধিক নহরকে বুঝানো হয়েছে ৷ সম্ভবত তিনি দা মিশকের
নহর সমুহের সাথে ঐ স্থানের সদৃশ্যের কথা ব্যক্ত করেছেন ৷

(২) কারও কারও মতে উচ্চ ভুমি দ্বারা মিসরকে বুঝানো হয়েছে ৷ যেমন আহলে
কিতবদেব একটি অংশ এবং তাদের অনুসারীগণ ধারণা পোষণ করেন ৷

(৩) কেউ বলেছেন উচ্চ ভুমি অর্থ এখানে রসুল্লাকে বুঝানো হয়েছে

ইসহক ইবন বিশ্ব ওহব ইবন মুনাবৃবিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত ঈসার
বয়স যখন তেব বছর, তখন আল্লাহ তাকে মিসর ত্যাগ করে ঈলিয়া যাওয়ার নির্দেশ দেন ৷
তখন ঈসার মায়ের মমত ভাই ইউসুফ এসে ঈসা ও মারয়ামকে একটি গাধার পিঠে উঠিয়ে
ঈলিয়া নিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন ৷ আল্লাহ এখানেই তার উপর ইনজীল
অবতীর্ণ করেন, তওরাত শিক্ষা দেন, মৃতকে জীবিত করা, রোগীকে আরোগ্য করা, বাড়িতে
প্ৰস্ততকৃত খাদ্য সম্পর্কে না দেখেই জানিয়ে দেওয়ার জ্ঞান দান করেন ৷ ঈলিয়ার লোকদের
মধ্যে তার আগমন বার্তা পৌছে যায় ৷৩ তার দ্বারা বিস্ময়কর ঘটনাবলী প্রকাশিত হতে দেখে
তরা থাংড়িয়ে যায় এবংঅ আশ্চর্যবোধ করতে থাকে ৷ ঈসা (আ) তাদেরকে আল্লাহর দিকে
আহবান জানান ৷ এভাবে তীর নবুওতী প্রচার কার্য জনগণের মধ্যে বিকাশ লাভ করে ৷

প্রসিদ্ধ চারখানা আসমানী কিতাব নাযিলের সময়কাল

আবু যুরআ দমেশকী (র) বর্ণনা করেন যে, তওরাত কিতাব হযরত মুসা (আ)-এর উপর
৬ রমযানে অবতীর্ণ হয় ৷ এর চার শ’ বিরাশি বছর পর হযরত দাউদ (অ)-এর উপর যাবুর
নাযিল হয় ১২ রমযানে এর এক হাজার পঞ্চাশ বছর পর ১৮ রমযানে হযরত ঈসা (আ) এর
উপর ইনজীল অবতীর্ণ হয় এবং ২৪ রমযানে হযরত মুহাম্মদ (সা ) এর উপর কুরআন মজিদ
নাযিল হয় ৷

রমযান মাস, এতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (২ বাকারা : ১৮৫) এ আঘাতের অধীনে আমরা
তাফসীর গ্রন্থে এতদ সম্পর্কীয় হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি ৷ সেখানে এ কথাও বলা হয়েছে যে,
ঈসা (আ)-এর উপরে ইনজীল ১৮ রমযানে অবতীর্ণ হয় ৷

ইবন জারীর (র) তীর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন যে, ত্রিশ বছর বয়সকালে হযরত ঈসা
(আ)-এর প্ৰতি ইনজীল অবতীর্ণ হয় এবং ৫তত্রিশ বছর বয়সের সময় র্তাকে আসমান উঠিয়ে
নেয়া হয় ৷ ইসহাক ইবন বিশৃর আবু হুরড়ায়রা (বা) থেকে বর্ণিত ৷ আল্লাহ তড়াআলা হযরত
ঈসা ইবন মারয়ামের নিকট নিম্নলিখিত ওহী প্রেরণ করেন :

হে ঈসা! আমার নির্দেশ পালনে কঠােরভাবে চেষ্টা কর, হীনবল হয়াে না ৷ আমার বাণী
শ্রবণ কর ও আনুগত্য কর ৷ হে ঈসা ! তুমি এক পবিত্র সতী কুমারী ও তাপসী নারীর সন্তান ৷
পিতা বিহীন তোমার জন্ম ৷ বিশ্ববাসীর নিদর্শন স্বরুপ আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি ৷ সুতরাং
আমারই দাসতৃ কর, আমার উপরই ভরসা রাখ ৷ সর্বশক্তি দিয়ে আমার কিতাবের অনুসরণ কর ৷
সুরিয়ানী ভাষা-ভাষীদের নিকট কিতাবের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে শোনা ও ৷ তোমার সম্মুখে যারা
আছে তাদের কাছে আমার বাণীগুলো পৌছিয়ে দাও ৷ আমিই মহড়াসত্য , চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী ও
অক্ষয় ৷ সােকজনের কাছে প্রচার করবে যে, আরবের উঘী নবীকে সত্য বলে জানবে ৷ তিনি
হচ্ছে উষ্ট্ররেড়াহী, পাগডীধারী, বর্মধারী, জুতা পরিধানকারী এবং লাঠি ব্যবহারে অভ্যস্ত ৷ তিনি
বলেন আয়তণ্লাচন, প্রশস্ত কপাল উজ্জ্বল চেহারা কেচ্কড়ান চুল , ঘন দীড়ি , জোড়া তুরু , উচু
নাক বিশিষ্ট ৷ তার সামনের র্দাতগুলােতে সামান্য র্ফাক থাকবে; থুতনীর উপরের ও ঠোট সংলগ্ন
ছোট দীড়ি হবে দৃশ্যমান ৷ তীর ঘাড় হবে রৌপ্য পাত্রের মত উজ্জ্বল ৷ তীর হীসুলীর হীড় দু’টি
হবে যেন প্রবহমান স্বর্ণ ৷ তার বুক থেকে নাভি পর্যন্ত কাল পশমের রেখা থাকবে ৷ এই রেখা
ব্যতীত পেটে বা বুকের অন্য কোথাও চুল থাকবে না ৷ তীর হাতের তালু ও পায়ের তলা হবে
মাংসল ৷ কোন দিকে তাকালে পুর্ণ দৃষ্টিতে তাকাবেন ৷ ইাটার সময় মনে হবে সম্মুখে ঝুকে
যেন নিম্ন দিকে নেমে আসছেন ৷ ঘযাক্ত অবস্থায় দেখলে মনে হবে যেন ঢেহারার উপরে মুক্তার
দানা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং মিশকের ঘ্রড়াণ চারিদিকে ছড়াচ্ছে ৷ তীর পুর্বেও কাউকে এমন
দেখা যায়নি এবং পরেও কেউ এমন আসবে না ৷ তার দৈহিক গঠন ও অবয়ব হবে অত্যন্ত
সৃশ্ৰী ৷ তিনি অধিকবিবাহকারী, র্তার সন্তান সংখ্যা হবে কম এবং তীর বংশধারা চলবে এক
বরকতময় মহিলা থেকে ৷ জান্নাতে তার জন্যে থাকবে নির্ধারিত প্ৰক্যেষ্ঠ ৷ প্রক্যেষ্ঠটি একটি
প্রকাণ্ড ফীপা মুক্তোয় নির্মিত ৷ সেখানে থাকবে না কোন ক্লান্তি, থাকবে না কোন চিৎকার ধ্বনি ৷
হে ঈসা ! তুমি শেষ যামানার যিম্মাদার হবে, যেমন ষাকারিয়া ছিল তোমার মায়ের যিম্মাদার,
জান্নড়াতে তার জন্যে থাকবে সাক্ষ্য দানকারী দ ট্রুটি পাথীর ছানা ৷ আমার নিকট তার যে মর্যাদা,
তা অন্য কোন মানুষের নেই ৷ তার কিতাবের নাম হবে কুরআন, ধর্মের নাম হবে ইসলাম ৷
আমার এক নাম সালাম ৷ ধন্য সেই, যে তীর সময়কাল পাবে, তার কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করবে ও
তীর কথা শ্রবণ করবে ৷

টীকা : শামাইলে তিরমিযীর ১ম অধ্যায়ের দ্বিতীয় হাদীসের বর্ণনা মতে তার চুল না ছিল অত্যধিক কুঞ্চিত, না ছিল
একেবারে সোজা ৷

তুব৷ বৃক্ষের বর্ণনা
নবী ঈস৷ (আ) একদা আল্লাহর নিকট নিবেদন করলেন, হে আমার প্ৰতিপালক ! তুবা কী?
আল্লাহ জানালেন, তৃব৷ একটি বৃক্ষের নাম ৷ আমি নিজ হা৷ত তা রােপণ করেছি ৷ এটা

প্রত্যেকটা জ ন্নাবু তর জন্যই ৷ এর শ্মিকড় রিয্ওয়ানে এবং তার পানির উৎস তাসনীম ৷ এর
শিশির কর্মুরের মত, এর স্বাদ আমার এবৎঘ্র ঘ্রাণ মিশকের মত ৷ যে ব্যক্তি এর থেকে একবার
পান করবে সে কখনও পিপাসাবােধ করবে না ৷ ঈস৷ (আ) বললেন আমাকে একবার সে পানি
পান করার সুযোগ দিন ৷ আল্লাহ বললেন, সেই নবী পান করার পুর্বে অন্য নবীদের জন্যে এটা
পান করা নিষিদ্ধ এবং সেই নবীর উম্মতরা পান করার পুর্বে অন্য নৰীদের উম্মতদের জন্যে এর
স্বাদ গ্রহণ নিষিদ্ধ ৷ আল্লাহ বললেন, হে ঈসা আমি৫ তামাকে আমার নিকট উঠিয়ে আনব ৷ ঈসা
বললেন, প্ৰভাে কেন আমাকে উঠিয়ে নিবেনঃ আল্লাহ বললেন, আমি প্রথমে তোমাকে উঠিয়ে
আনব ৷ তারপর শেষ ন্ যামানায় আবার পৃথিবীতে পাঠাব ৷ এতে তুমি সেই নবীর উম্মতের
বিস্ময়কর অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে পারবে এবং অভিশপ্ত দাজ্জালকে হত্যা করার ব্যাপারে
তাদেরকে সাহায্য করতে পারবে ৷ কোন এক নামাযের সময় তোমাকে পৃথিবীতে নামাব ৷ কিন্তু
তু তাদের নামাযে ইমামতি ৩করবে না ৷ কেননড়া তারা হচ্ছে রহমতপ্রাপ্ত উম্মত ৷ তাদের যিনি
নবী,৩৷ তারপর আর কোন নবী নেই ৷

হিশাম ইবন আমার যায়দ থেকে বর্ণিত ৷ ঈসা বলেছিলেন, প্রভাে আমাকে এই
রহমত প্রাপ্ত উম্মত সম্পর্কে কিছু জানান ৷ আল্লাহ বললেন, তারা আহমদ নবীর উম্মত ৷ ত যা
হবে নবীতুল্য আলিম ও প্রজ্ঞাবান ৷ আমার অল্প অনুগ্নহে তারা সন্তুষ্ট থাকবে ৷ শুধু লা ৷-ইলাহা
ইল্লাল্লাহুর বদৌলতেই তাদেরকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাবাে ৷ তারাই হবে জান্নাতের
অধিকাংশ অধিবাসী ৷ কেননা, লা-ইলাহ৷ ইল্লড়াল্লাহুর যিকির দ্বারা তাদের জিহব৷ যে পরিমাণ
সিক্ত হয়েছে, যে পরিমাণ সিক্ত অন্য কোন জাতির হয়নি এবং সিজদা করাতে তাদের গর্দান
যতবার তু-লুষ্ঠিত হয়েছে, ততবার অন্য কোন জাতির গর্দান ভুলুষ্ঠিত হয়নি ৷ (ইবন আসাকির)

ইবন আসাকির আব্দুল্লাহ ইবন আওসাজা থেকে বর্ণনা করেন ৷ আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে ঈসা
ইবন মারয়ামকে বলেন, তোমার চিন্তা ভ৷ ৷বনায় আমাকেও নিত্য সা ৷থী করে বা যে এবং তোমার
আখিরাতে র জন্যে আমাকে সম্বলরুপে রাখ ৷ নফল ইবাদতের দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন কর,
তাহলে আমি তোমাকে প্রিয় জানবাে ৷ আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে তে তামার বন্ধু বানিয়াে
ন৷ ৷ এরুপ করলে তুমি লাঞ্ছিত হবে ৷ বিপদে ধৈয ধারণ কর এবং তাকদীবের প্রতি সভুষ্ট থাক ৷
তোমার মধ্যে আমার সভুষ্টিকে জাগ্রত রাখ ৷ কেননা তে তামার সত্তুষ্টি আমার আনুগরু তা নি৩
অবাধ্যতায় নয় ৷ আমার নৈকট্য লাভের চেষ্টাক কর আমাকে সর্বদা স্মরণ রাখ ৷ তোমার অম্ভবে
যেন আমার ভ ৷৷লবস সাবিরাজ করে ৷ অবসর সময়ে সদা সচেতন থাক ৷ সুক্ষ্ম প্রজ্ঞাকে সুদৃঢ়
কর ৷ আমার প্রতি আগ্রহ ও ভীতি পোষণ কর ৷ আমার ডীতি দ্বারা অম্ভরকে সমাহিত কর ৷
আমার সত্তুষ্টি অর্জনের জন্যে রাতের সদ্ব্যবহার করবে ৷ এবং দিনের বেলা থাকবে তষ্ণা,র্থ যাতে
করে আমার নিকট পুর্ণ পরিতৃপ্তির দিল লাভ করতে পার ৷ কল্যাণকর কাজে তোমার
চেষ্টা-সাধন৷ নিয়োজিত রাখ ৷ যেখানেই থাক, কল্যাণকর কাজের সহায়ক থাক ৷ মানুষের

নিকট আমার উপদেশ পৌছিয়ে দাও ৷ আমার ন্যায়পরায়ণতার সাথে আমার বান্দাদের মধ্যে
ফয়সালা কর ৷ তোমার নিকট আমি এমন উপদেশ নাযিল করেছি, যা মনের সন্দেহ-সংশয় ও
ৰিস্মৃতি রোগের নিরাময় স্বরুপ ৷ তা চোখের আবরণ দুর করে ও দৃষ্টিকে প্রখর করে ৷ তুমি
কোথাও মৃতবৎ স্থবির হয়ে থেকো না, যতক্ষণ তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস চলে ৷ হে ঈসা ইবন
মারয়াম! আমার প্রতি যে লোকই ঈমান আসে, যে আমাকে ভয় করে ৷ আর যে আমাকে ভয়
করে, সে আমার থেকে পুরষ্কারেরও আশা রাখে ৷ অতএব, তুমি সড়াক্ষী থেক্যে, ঐ ব্যক্তি আমার
শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবে যাবৎ না সে আমার নীতি পরিবর্তাব্ করে ৷ হে কুমারী তাপসী
মারয়ামের পুত্র ঈসা! জীবনভর র্কাদতে থাক, যেভাবে কেদে থাকে পরিবার-পরিজনকে বিদায়
দান কালে কোন লোক এবং প্দুনিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, দুনিয়ার স্বাদ বর্জন করে এবং আপন
প্ৰভুর নিকট পুরস্কারের আকাক্ষোয় থাকে ৷ লোকের সাথে কোমল ব্যবহার করবে ৷ সালামের
প্রসার ঘটাবে ৷ মানুষ যখন নিদ্রায় বিভাের থাকে তখন তুমি কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা ও
বিভীষিকাময় কঠিন ভু-কম্পনের ভয়ে জাগ্রত থাকবে ৷

সেদিন আপন পরিবার ও ধন-সস্পদ কোনই কাজে আসবে না ৷ নির্বোধরা যখন হাসি-
ঠাট্টারত থাকে, তখন ভুমি ন্চক্ষুদ্বয়কে চিন্তার বিষড়াদের সুর্মা মেখে রাখ এবং এ ব্যাপারে ধৈর্য
ধারণ কর এবং একে তোমার পুণ্যপ্রাপ্তির হেভু কর ৷ ধৈর্য অবলম্বককারীদের জন্যে আমি যে
পুরস্কারের ওয়াদা করেছি, তা যদি তুমি পেয়ে যাও, তবে তোমার জীবন ধন্য ৷ দুনিয়ার মােহ
ছিন্ন করে ক্রমান্বয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হতে থাক ৷ যে নিয়ামত তোমার আয়ত্বে এসেছে
তা থেকে সামান্য স্বাদ গ্রহণ কর ৷ যে নিয়ামত তোমার আয়ত্বে আসেনি তার লোড করো না ৷
দুনিয়ার অল্পতেই সন্তুষ্ট থাক ৷ জীবন ধারণের জন্যে একটি শুকনা থেজুরই তোমার জন্যে
যথেষ্ট মনে করবে ৷ দুনিয়া কোন পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে তা তুমি প্রত্যক্ষ করছ ৷
পরকালের হিসাবের কথা স্মরণ রেখে আমল করতে থাক ৷ কেননা সেখানে তোমাকে জবাবদিহি
করতে হবে ৷ আমি আমার মনোনীত নেককার লোকদের জন্যে সেখানে যেসব পুরস্কারের
ব্যবস্থা রেখেছি, তা যদি তুমি দেখতে তাহলে তোমার অন্তর বিগলিত হয়ে যেত এবং সহ্য
করতে না পেরে তুমি মারাই যেতে ৷

আবু দাউদ তার কিভাবে তাকদীর অধ্যায়ে লিখেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্য়া তউিস
থেকে বর্ণিত ৷ একদা ঈসা ইবন মারয়ামের সাথে ইবলীসের সাক্ষাত হয় ৷ ঈসা ইবলীসকে
বললেন, তুমি তো জান, তোমার তাকদীরে যা লেখা হয়েছে তার ব্যতিক্রম কিছুতেই হবে না ৷
ইবলীস বলল, তা হলে আপনি এই পাহাড়ের চুড়ায় উঠুন এবং সেখান থেকে লাফ দিয়ে নীচে
পড়ে দেখুন জীবিত থাকেন কিনা ৷ ঈসা (আ) বললেন, তুমি জান না, আল্লাহ বলেছেন, বান্দা
আমাকে পরীক্ষা করতে পারে না, আমি যা’ চাই তাই করে থাকি ? যুহ্রী বলেছেন, মানুষ কোন
বিষয়ে আল্লাহকে পরীক্ষা করতে পারে না, বরং আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন ৷ আবু
দাউদ বলেন, আহমদ তাউসের ররাতে বলেন ৷ একবার শয়তান হযরত ঈসার নিকটে এসে
বলল, আপনি তো নিজেকে সতঙ্কুবাদী বলে মনে করেন, তা হলে আপনি উধের্ব উঠে নীচে
লাফিয়ে পড়ুন দেখি ৷ ঈসা বললেন, তোমার অমঙ্গল হোক, আল্লাহ কি এ কথা বলেন নি যে,

হে আদম সন্তান ! তোমরা আমার নিকট মৃত্যু কামনা করবে না? কেননা আমি যা চাই তা-ই
করে থাকি ৷ আবু তাওয়া আর রবী’ খালিদ ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত ৷ শয়তান দশ বছর
কিৎবা দট্রু বছর যাবত ঈসা’ (আ)-এব সাথে ইবাদত বন্দেগী করতে থাকে ৷ একদিন তারা এক
পাহাড়ের উপরে অবস্থান করছিলেন ৷ তখন শয়তান ঈসা (আ)-কে বলল, আমি যদি এখান
থেকে লাফ দিয়ে নীচে পড়ি, তাহলে আমার তাকদীরে যা লেখা আছে তার কি কোন ব্যক্তিক্রম
ঘটবেঃ ঈসা (আ) বললেন, আমি আল্লাহ্কে পরীক্ষা করার ক্ষমতা রাখি না , বরং আল্লাহর যখন
ইচ্ছা আমাকে পরীক্ষা করে থাকেন ৷ ঈসা (আ) এতক্ষাণ চিনতে পারলেন যে, এ শয়তান ছাড়া
আর কিছু নয় ৷ সুতরাং তিনি তাকে তাড়িয়ে দিলেন ৷ আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া আবু
উছমান (র) থেকে বর্ণিত ৷ একদা হযরত ঈসা (আ) এক পাহাড়ের উপরে সালাত আদায়
করছিলেন ৷ এমন সময় তার নিকট ইবলীস এসে বলল, আপনি কি এই দাবী করে থাকেন যে,
প্রতিটি বিষয়ই তার পুর্ব নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী সংঘটিত হয়? ঈসা (আ) বললেন, হ্যা ৷
ইবলীস বলল, তাহলে আপনি এ পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে নীচে পড়ুন এবং বলুন যে, এটাই
আমার তাকদীরে ছিল ৷ ঈসা (আ) বললেন, ওহে অন্ডিশপ্ত শয়তান! আল্লাহ তার বান্দাকে
পরীক্ষা করতে পারেন, কিন্তু বান্দারা কখনও আল্লাহকে পরীক্ষা করতে পারে না ৷
আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া সুফিয়ান ইবন উয়ায়না (র) থেকে বর্ণনা করেন যে,
একদা হযরত ঈসড়ার সাথে ইবলীসের সাক্ষাত হয় ৷ ইবলীস বলল, হে ঈসা ইবন মারয়াম !
আপনি দােলনায় শিশু অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলেছেন, এটা আপনার প্রভুত্বের বড়
নিদর্শন ৷ আপনার পুর্বে আর কোন মানব সন্তান ঐ অবস্থায় কথা বলেনি ৷ ঈসা (আ) বললেন,
না প্রভুতু তো ঐ আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত, যিনি আমাকে শিশু অবস্থায় কথা বলার শক্তি
দিয়েছেন, এরপরে এক সময় আমাকে মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় জীবিত করবেন ৷ ইবলীস
বলল, আপনি মৃতকে জীবিত করে থাকেন, এটা আপনার প্রভু হওয়ার বড় প্রমাণ ৷ ঈসা (আ)
বললেন, তা হয় কিভাবে, প্রভু তো একমাত্র তিনি, যিনি জীবিত করার প্রকৃত মালিক ৷ এবং
আমি যাকে জীবিত করি, তিনি তাকে মৃত্যু দেন এবং পুনরায় তাকে জীবিত করেন ৷ ইবলীস
বলল, আল্লাহর কলম, আপনি আকান্থশরও প্রভু এবং দুনিয়ারও প্রভু ৷ এ কথা বলার সাথে সাথে
ফিরিশ্তা জিবরীল (আ) তাকে আপন ডানা দ্বারা এক ঝাপটা মেরে সুর্যের কিনারায় পৌছিয়ে
দেন ৷ তারপরে আর এক ঝাপটা মেরে সপ্তম সমুদ্রের তলদেশে পৌছিয়ে দেন ৷ এমনকি ইবলীস
সমুদ্রের নীচে কাদার সংগে লেগে যায় ৷ সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ঈসা ইবন মারয়ামকে
বলে, আমি আপনার থেকে যে শিক্ষা পেলাম, এমন শিক্ষা কেউ কারও থেকে পায় না ৷ এ
জাতীয় ঘটনা আরও বিশদভাবে ভিন্ন সুত্রে বর্ণিত হয়েছে ৷
হাফিজ আবু বকর আল খাতীব আৰু সালমা সুয়ড়ায়দ থেকে বর্ণিত ৷ হযরত ঈসা (আ)
একদা রায়তৃল মুকাদ্দাসে সালাত আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন ৷ একটি গিরিপথ দিয়ে যাওয়ার
সময় ইবলীস তার সম্মুখে এসে পথরোধ করে দাড়ায় ৷ ঈসা (আ) ঘুরে গেলে সে আবার সম্মুখে
এসে দীড়ায় এবং বলতে থাকে আপনার জন্যে অন্য কারও দাসতু করা শোভা পায় না ৷ এ
কথাটি সে বারবার ঈসা (আ)-কে বলতে থাকে ৷ ঈসা (আ) তার হাত থেকে ছুটে আমার জন্যে

আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন, কিত্তু পারছিলেন না ৷ ইবলীস বারবার এ কথাই বলছিল যে, হে ঈস৷ !
কারও দাস হওয়া আপনাকে মানায় না ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা
করেন ৷ তখন হযরত জিবরীল ও মিকাঈল ফিরিশ৩ তাদ্বয় সেখানে হাজির হলেন ৷ ইবলীস
তাদেরকে দেখা মাত্র থেমে গেল ৷ কিছুক্ষণ পর ঐ গিরিপথেই ইবলীস ঈসা( ৷( আ)-এর সম্মুখে
উপস্থিত হল ৷ তখন ফিরিশতাদ্বয় ঈস৷ (আ) এর সাহায্যে অগ্রসর হলেন ৷ হযরত জিবরীল তার
ডানা দ্বারা ঝাপটা মেরে ইবলীসকে৷ বা তনে ওয়াদীতে নিক্ষেপ করে দেন ৷ ইবলীস সেখান থেকে
উঠে পুনরায় ঈস৷ (আ)-এর নিকট আসল ৷ যে ধারণা করল, যে ফেরেশতাদ্বয়কে যাহ হুকুম করা
হয়েছিল তা পালন করে তারা চলে গিয়েছেন, আর আসবেন না ৷ সুতরাং সে ঈস৷ (আ)-কে
পুনরায় বলল, আমি আপনাকে ইতিপুর্বেই বলেছি, দাস হওয়া আপনার জন্যে শোভনীয় নয় ৷
আপনার ক্রোধ কোন দাসের ক্রোধ নয় ৷ আপনার সাথে সাক্ষাতকালে প্রকাশিত ক্রোধ্ থেকে
আমি এ কথা বৃঝেছি ৷ আমি আপনাকে এমন এক বিষয়ের প্রতি আহবান জানাচ্ছি যা আপনার
জন্যে লাভজনক ৷ আমি শয়তানদেরকে হুকু ম দিব, তারা আপনাকে প্রভু মানবে ৷ মানুষ যখন
দেখবে জিনরা আপনাকে প্রভু মানছে তখন তারাও আপনাকে প্রভু বলে মানবে এবং আপনার
ইবাদত করবে ৷ আমি এ কথা বলছি না যে, আপনিই একমাত্র মাবুদ আর কোন মাবুদ নেই ৷
আমার কথা হচ্ছে, আল্লাহ থাকবেন আসমানের মাবুদ আর আপনি হবেন দুনিয়ার মাবুদ ৷

ইবলীসের মুখে এ কথা শুনার পর ঈস৷ (আ) আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং
উচু আওয়াজ করেন ৷ তখন হযরত ৩ইসরাফীল (আ) উপর থেকে নীচে নেমে আসেন ৷ জিবরীল
ও মীক৷ ঈল ফিরিশাদ্বয় তার দিকে লক্ষ্য করেন ৷ ইবলীস থেমে যায় ৷ অত০পর ইসরাফীল তার
ডানা দ্বারা ইবলীসকে আঘাত করেন এবং আয়নুশ শামসে’ নিক্ষেপ করেন ৷ কিছুক্ষণ পর
দ্বিতীয়বার আঘাত করেন ৷ এরপর ইবলীস সেখান থেকে অবতরণ করে ঈস৷ (আ)-কে একই
স্থানে দেখতে পায় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, হে ঈস৷ ! আজ আমি আপনার জন্যেই দারুণ
কষ্ট ভোগ করেছি ৷ তারপর তাকে আয়নুশ শামসে নিক্ষেপ করা হয় ৷ সেখানে আয়নুল
হামিয়াতে সাত রাজাকে দেখতে পায়, তারা তাকে তাতে ডুবিয়ে দেয় ৷ যখনই সে চিৎকার
করেছে তখনই তারা তাকে সেই কর্দমে ডুবিয়ে দেয় ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ইবলীস
কখনও ঈস৷ (আ) এর নিকট আসেনি ৷ ইসমাঈল আক্তার আবু হুযায়ফা (রা) থেকে
বর্ণনা করেন যে, অতঃপর ইবলীসের নিকট তা ৷র দলবল শয়তানরা জমায়েত হয় এবং বলে, হে
আমাদের সর্দার আজ যে আপনাকে খুবই ক্লান্ত শ্রাস্ত মনে হচ্ছে! ইবলীস হয়রত ৩ঈসার প্রতি
ইংগিত করে বললঃত তিনি হচ্ছেন আল্লাহর নিষ্পাপ বান্দা ৷৩ তার উপর প্রভাব বিস্তার করার মধ্যে
আমার সেই ৷ তবে তাকে কেন্দ্র করে আমি বিপুল সংখ্যক লোককে বিপদপামী করব ৷ বিভিন্ন
প্রকার কামনা-বাসনা তাদের মধ্যে জাগিয়ে ৰুষ্লব ৷ তাদেরকে নানা দলেউপদলে বিভক্ত করব ৷
তার৷ তাকে ও তার মাকে আল্লাহর আসনে বসাবে ৷ কুরআন মজীদে আল্লাহ হযরত ঈসাকে
ইবললীসের ঘে৷ ৷ক৷ থেকে হেফা জত করাকে তবে অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেনঃ

হে মারয়াম তনয় ঈসা তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর ৷
পবিত্র আত্মা অর্থাৎ জিবরীল ফিবিশতা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করেছিলাম ৷ হিকমত,
তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দিয়েছিলাম; তুমি কর্দম দ্বারা আমার অনুমতিক্রমে পাখি সদৃশ
আকৃতি গঠন করতে এবং তাতে কুৎকার দিতে, ফলে আমার অনুমতিক্রমে তা পাখি হয়ে যেত ;
জন্মড়ান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্নস্তকে তুমি আমার অনুমতিক্রমে নিরাময় করতে এবং আমার অনুমতি
ক্রমে তুমি মৃতকে জীবিত করতে; আমি তােমা হতে বনী ইসরাঈলকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম ; তুমি
যখন তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন এনেছিলে তখন তাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা
বলেছিল, এ তো স্পষ্ট য়াদৃ ৷ (৫ মায়িসাঃ ১১০) ৷

আমি গরীব ও মিসকীন লোকদেরকে তোমার একান্ত ভক্ত ও সাথী বানিয়েছি যাদের
উপরে তুমি সভুষ্ট; এমন সব শিষ্য ও সাহায্যকারী তোমাকে দিয়েছি, যারা তোমাকে জান্নড়াতের
পথ প্রদর্শনকারী রুপে পেয়ে সভুষ্ট ৷ জেনে রেখো, উক্ত গুণ দপুটি বন্দোর জনেব্লু প্রধান গুণ ৷ যারা
এ গুণ দু’টি নিয়ে আমার কাছে আসবে, তারা আমার নিকট সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও মনোনীত বান্দা
হিসেবে গণ্য হবে ৷ বনী ইসরাঈলরা তোমাকে বলবে, আমরা রোজা রেখেছি কিভু তা কবুল
হয়নি, নামায পড়েছি কিভু তা গৃহীত হয়নি, দান-সড়াদকা করেছি কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি, উটের
কান্নার ন্যায় করুণ সুরে কেদেছি কিভু আমাদের কান্নার প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হয়নি ৷ এ সব
অভিযোগের জবাব তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর , এমনটা কেন হল? কোন জিনিসটি আমাকে এসব
কবুল করা থেকে বাধা দিয়েছে? আসমান ও যমীনের সমস্ত ধন ভাণ্ডার কি আমার হাতে নেই?
আমি আমার ধন ভাণ্ডার থেকে যেরুপ ইচ্ছা খরচ করে থাকি ৷ কৃপণতা আমাকে স্পর্শ করে না ৷
আমি কি প্রার্থনা শ্রবণের ক্ষেত্রে সর্বেড়াত্তম এবং দান করার ব্যাপারে সবচেয়ে উদার সত্তা নই? না
আমার দান অনুগ্রহ সংকুচিত হয়ে গিয়েছে? দুনিয়ার কেউ কারও প্রতি অনুগ্রহশীল হলে সে
তো আমারই দয়ার কারণে তা করে থাকে ৷

হে ঈসা ইবন মারয়াম! ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের অস্তরে আমি যে সব সদগুণ প্রদান
করেছিলাম তারা যদি সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগতে তা হলে আখিরাতের জীবনের
উপরে দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিত না এবং বুঝতে পারত যে, কোথা থেকে তাদেরকে দান
করা হয়েছে, আর তারা এটাও বিশ্বাস করত যে, মনের কামনা বাসনাই তাদের বড় দৃশমন ৷
তাদের রোজা আমি কিভাবে কবুল করি ৷ যখন হারাম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে তারা শক্তি
সঞ্চয় করেছে? তাদের নামায আমি কিভাবে কবুল করি , যখন তাদের অম্ভর ঐ সব লোকদের
প্রতি আকৃষ্ট যারা আমার বিরোধিতা করে এবং আমার নিষিদ্ধ বন্তুকে হালাল জানে? কি করে
তাদের দান-সাদকা আমি মঞ্জুর করি, যখন তারা মানুষের উপর জুলুম করে অবৈধ পস্থায়
তাদের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেয় ৷ হে ঈসা! আমি ঐ সব লোকদেরকে যথাযথ প্রতিদান দিব ৷ হে
ঈসা! তাদের কান্নায় আমি দয়া দেখার কিভাবে, যখন তাদের হাত নবীদের রক্তে রঞ্জিত৷ এ
কারণে তাদের প্রতি আমার ক্রোধ অতি মাত্রায় বেশী ৷ হে ঈসা ! যে দিন আমি আকাশ ও পৃথিবী
সৃষ্টি করেছি সে দিন-ই আমি এ বিষয়টি চুড়ান্ত করে রেখেছি যে, যে ব্যক্তি আমার দাসৎ কবুল
করবে এবং তোমার ও তোমার মা সম্পর্কে আমার বাণীকে সঠিক বলে মেনে নিবে, তাকে আমি
তোমার ঘরের প্রতিবেশী বানাব, সফরের সাথী করব এবং অলৌকিক ঘটনা প্রকাশে তোমার

শরীক করব ৷ যে দিন আমি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছি, যে দিন এ বিষয়ে চুড়ান্ত ফয়সড়ালা করে
রেখেছি যে, যে সব লোক তোমাকে ও তোমার মাকে আল্লাহর সাথে শরীফ করে প্রভু বানাবে,
তাদেরকে আমি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে স্থান দিব ৷ যে দিন আমি আসমান ও যমীন সৃষ্টি
করেছি, যে দিন এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে রেখেছি যে, আমি আমার প্রিয় বান্দা মুহাম্মদের হাতে
এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করব ৷ তার উপরেই নবুওত ও রিসালাতেব পরিসমাপ্তি টানব ৷ তার জন্ম
হবে মক্কায়, ইিজরতস্থুল (মদীনা) তায়িবাে ৷ শ্যাম দেশ তার করতলগত হবে ৷ সে কর্কশ তাষী
ও কঠোর হৃদয় হবে না, বাজারে চিৎকার করে ফিরবে না, অশ্লীল অশ্রাব্য কথাবার্তা বলবে না ৷
প্রতিটি বিষয়ে উত্তম পন্থা অবলম্বনের জন্যে আমি তাকে তাওফীক দিব ৷ সৎ চরিত্রের যাবতীয়
গুণাবলী তাকে প্রদান করব ৷ তার অন্তর থাকবে তড়াক্ওয়ড়ায় পরিপুর্ণ ৷ জ্ঞান হবে প্রজ্ঞায়
সমৃদ্ধ ৷ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা তার স্বভাব, ন্যায় বিচার তার চরিত্র, সত্য তার শরীআত , ইসলাম
তার আদর্শ, নাম হবে তার আহমদ ৷

আমি তার সাহায্যে মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে সঠিক পথ দেখার, অজ্ঞতা থেকে ফিরিয়ে
জ্ঞানের দিকে আসর, নিঃস্ব অবস্থা থেকে স্বচ্ছলতার দিকে আনব, বিপর্যন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার
করে উন্নতির সােপানে উঠার ৷ তার দ্বারা সঠিক পথ প্রদর্শন করবো ৷ তার সাহায্যে বধির
ব্যক্তিকে শ্রবণ শক্তি দান করব , আচ্ছাদিত হৃদয় সমুহকে উন্মুক্ত করে দিব , বিভিন্ন
কামনা-বাসনাকে সংযত করব ৷ তার উম্মতকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উম্মতের মর্যাদা দান করব ৷ মানব
জাতির কল্যাণ সাধনের জন্যে তাদের অভ্যুদয় ঘটবে ৷ তারা মানুষকে ভাল কাজে আহবান
জানাবে ও গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ করবে ৷ আমার নামে তারা নিঃষ্ঠাবান থাকবে ৷ রাসুলের
আনীত আদর্শকে তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে ৷ তারা তাদের মসজিদে, সভা সমিতিতে বাড়ি
ঘরে ও চলতে ফিরতে সর্বাবস্থায় আমার তাসবীহ পাঠ করবে, পবিত্রতা ঘোষণা করবে ও লা-
ইলাহা ইল্লালাহ্ কলেমা পড়বে ৷ তারা দীড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় রুকু’ সিজদার মাধ্যমে
আমার জন্যে সালাত আদায় করবে ৷ আমার পথে তারা সারিবদ্ধ হয়ে দৃশমনের বিরুদ্ধে লড়াই
করবে ৷ আল্লাহর পথে রক্ত দান হচ্ছে তাদের নিকট পুণ্যকর্ম ৷ সুসংবাদের আশায় তাদের অন্তর
ভরপুর, তাদের পুন্যক্াজসমুহপ্ৰদর্শনীমুক্ত ৷ রাতের বেলায় তারা আল্লাহর ধ্যানে মশত্নওল
তাপস আর দিনের বেলায় যুদ্ধের ময়দানে সাক্ষাত সিংহ এ সবই আমার অনুগ্রহ ৷ যাকে ইচ্ছা
তাকে দিই ৷ আমি মহা অনুগ্নহশীল ৷

উপরে যা কিছু আলোচনা হল, এর সপক্ষে প্রমাণাদি আমরা সুরা মায়িদা ও সুরা সাফ্ এর
প্রসঙ্গে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব ইনশা আল্লাহ ৷ আবু হযায়ফা ইসহাক ইবন বিশ্ব বিভিন্ন
সুত্রে কাব আল-আহবার, ওহাব ইবন মুনাব্বিহ, ইবন আব্বাস (রা) ও সালমান ফারসী (বা )
থেকে বর্ণনা করেন ৷ বর্ণনায় তাদের একজনের বক্তব্য অন্যজনের বক্তব্যের সাথে মিশে গেছে ৷
তারা বলেন যে, হযরত ঈসা ইবন মারয়াম যখন বনী ইসরাঈলের নিকট প্রেরিত হলেন এবং
তাদের সম্মুখে সুস্পষ্ট নিদর্শনাদি তুলে ধরলেন তখন বনী ইসরাঈলের মুনাফিক ও কাফির
শ্রেণীর লোকেরা তার সাথে উপহাস করতো ৷ তারা জিজ্ঞেস করত, বলুন তো, অমুক গতকাল
কী খাবার থেয়েছে এবং বাড়িতে যে কী রেখে এসেছেঃ হযরত ঈসা (আ) তাদেরকে সঠিক
জবাব দিয়ে দিতেন ৷ এতে মুমিনদের ঈমান এবং কাফির ও মুনাফিকদের সন্দেহ ও অবিশ্বাস
আরও বেড়ে যেত, এতদসত্বে ও হযরত ঈসার মাথা পৌজায় মত কোন ঘর বাড়ী ছিল না ৷
খোলা আকাশের নীচে মাটির উপর তিনি সালাত ও তাসবীহ আদায় করতেন ৷ তার কোন

আল-বিদায়া ওয়ান নি ড়ায়৷ য় খণ্ড ১-

স্থায়ী আবাসস্থল বা ঠিকানা ছিল না ৷ সর্বপ্রথম তিনি যে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেন যে
ঘটনাটি ছিল এরুপ :

একদা তিনি কোন এক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ ঐ কবরের নিকটে এক মহিলা বসে
কাদছিল ৷ ঈস৷ যহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন তে ৷মার কী হয়েছেঃ মহিলা টি বলল, আমার একটি
মাত্র কন্যা ৷ছল ৷ সে ছাড়া আমার আর কোন সন্তান নেই ৷ আমা র সে কন্যাঢি মারা গিয়েছে ৷
আমি আল্লাহর সাথে প্রতিজ্ঞা করেছি যে , হয় তিনি আমার কন্যাকে জীবিত করে দিবেন, না হয়
আমিও তার মত মারা যাব, এ জায়গা তা৷গ করব না ৷ আপনি এর দিকে একটু লক্ষ্য করুন ৷
ঈস৷ (আ) বললেন, আমি যদি লক্ষ্য করি তবে কি তুমি এখান থেকে ফিরে যাবে? যহিলাটি
বলল, হ্যা তা ই করব ৷ ৷রপর হযরত ঈস৷ (আ) দৃ’ রাকআ ৷ত সলাত আদায় করে কবরের
পাশে এসে বললেন এবং বললেনঃ ওহে অমুক, তুমি অ ল্লাহ্র হুকুমে উঠে দাড়৷ ও, এবং বের
হয়ে এস ৷ তখন কবরটি সামান্য কেপে উঠল ৷ ঈস৷ (আ) দ্বিতীয়বার আহবান করলেন ৷
এবার কবরটি ফেটে গে ৷ল ৷ তৃভীয়বা ৷র আহবান করলে কবরবাসিনী বেরিয়ে আসল এবং মাথার
চুল থেকে ধুলাবালি ঝেড়ে ফেলতে লাগল ৷ ঈস৷ (আ ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, বের হতে
তোমার দেরী হল কেন? যেয়েটি বলল প্রথম আওয়াজ শোনার পর আল্লাহ আমার নিকট
একজন ফিরিশত ৷ পাঠান ৷ তিনি আমার দেহের অংগ প্রতাংগগুলি জোড়া লাপান৷ দ্বিচীয
আওয়াজের পর রুহ আমার দেহের ভিতর প্রবেশ করে ৷ তট্রুভীয় আ য়াজ যখন হল আর
আমার ধারণা হল, এটা কিয়াযতের আওয়াজ ৷ আমি ভীত-শংকিত হয়ে পড়লাম ৷ কিয়ামতের
ভয়ে আমার মাথার চুল ও চোখের ভ্রু সব সাদা হয়ে গিয়েছে ৷ তারপর মেয়েঢি তার মায়ের
কাছে গিয়ে বলল , মা ৷ আপনি আমাকে মৃত্যুর তিক্ত স্বাদ দুইবার গ্রহণ করালেন কেন? না ৷ ধৈর্য
ধরুন, পুণ্যের আশা করুন ৷ দুনিয়ার উপরে থাকার কোন আগ্রহ আমার সেই ৷ হে রুহুল্লাহ ! হে
কলেমাতুল্লাহ! আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, যেন আমাকে তিনি আখিরাতের জীবন
ফিরিয়ে দেন এবং মৃত্যুর কষ্ট কমিয়ে দেন ৷ ঈস৷ (আ) আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন ৷ ফলে
মেয়েটির দ্বিতীয়বার মৃত্যু হল এবং তাকে কবরন্থ করা হল ৷ এ সংবাদ ইয়াহুদীদের নিকট
পৌছলে তারা ঈস৷ (আ) এর প্ৰতি পুর্বের চা ৷ইতে অধিক বিদ্বেষ পরায়ণ হয়ে উঠে ৷

ইতিপুর্বে হযরত নুহ (আ) এর ঘটনা বর্ণনা করার পরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত
নুহের পুত্র সায কে জ বি করে দেয়ার জন্যে বনী ইসরাঈলরা ৷হযরত ঈসার নিকট দাবী
জানায় ৷ তিনি সালাত আদায় করে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন ৷ ফলে আল্লাহত তাকে জীবিত
করে দেন ৷ সান জীবিত হয়ে বনী ইসরাঈলদেরকে নুহ (আ)এর নৌকা সম্বন্ধে অবহিত করেন,
ঈস৷ (আ) পুনরায় দোয়া করলে তিনি আবার মাটির সাথে মিশে যান ৷

সুদ্দী ইবন আব্বাস (রা) এর বরাত একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন ৷ ঘটনাটি হল,
বনী ইসরাঈলের কোন এক বাদশাহ্র মৃত্যু হয় ৷ কবরস্থু করার জন্যে তাকে খাটের উপর রাখা
হয় ৷ এ সময় হযরত ঈস৷ (আ) সেখানে উপস্থিত হন ৷ তিনি আল্লাহর নিকট দোয়া করেন ৷
ফলে বাদশাহ জীবিত হয়ে যায় ৷ মানুষ অবাক দৃষ্টিতে এ আশ্চর্য ও অভুত ৩পুর্ব ঘটনা প্রত্যক্ষ
করে ৷ আল্লাহর বাণী :

আল্লাহ বলবেন, হে মারয়াম তন্য় ঈস৷ তোমার প্রতিও তোমার মায়ের প্রতি আমার
অনুগ্রহ স্মরণ কর ও পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শাক্তিশালী করেছিলাম এবং তুমি
দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলতে; তোমাকে কিতাব
হিক্মত, তাওরাত ও ইনৃজীল শিক্ষা দিয়েছিলাম; তুমি কাদা দ্বারা আমার অনুমতিক্রমে পাখী
সদৃশ আকৃতি ৩গঠন করতে এবং তাতে কুৎকা র দিতে, ফলে আমার অনুমতিক্রমে তা পাখী হয়ে
যেত; জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে তুমি আমার অনুমতিক্রমে নিরাময় করতে এবং আমার
অনুমতিক্রমে তুমি মৃত তকে জীবিত করতে; আমি তোমা হতে বনী ইসরাঈলকে নিবৃত্ত
রেখেছিলাম; তুমি যখন তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন এনেছিলে তখন তাদের মধ্যে যারা কুফরী
করেছিল তারা বলেছিল, এতে ৷ স্পষ্ট যাদু ৷ আরও স্মরণ কর, আমি যখন হাওয়ারীদেরকে এই
আদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসুলের প্রতি ঈমান আন, তারা
বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং তুমি সাক্ষী থাক যে , আমরা তো মুসলিম ৷ (৫ মায়িদা :

এখানে আল্লাহ তা আলা হযরত ঈসার প্রতি প্রদত্ত অনুগ্রহসমুহ ও পি ৷ ব্যতীত মায়ের
থেকে সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন ৷৩ তাকে তিনি৷ মা নব জাতির জন্যে নিদর্শন বানিয়েছেন ৷ বলা
বাহুলা, এটা আল্লাহর অসীম ক্ষমত তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ ৷ এ সরের পরেও তাকে রাসুল বানিয়ে
নিজ অনুগ্রহ পুর্ণ করেন ৷ “( তামার মায়ের প্রতি আমার অনুগ্রহ” অর্থাৎ প্রথমত এই বিশাল
নিয়াময়ুত র অধিকারী মহান নবীর মা হওয়ার জন্যে তার প্রতি যে কুৎসা রটনা করেছিলত
থেকে মুক্ত করার জন্যে প্রমাণ উপস্থাপন ৷ “পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তে তামাকে শক্তিশালী
করেছিলাম ৷ পবিত্র আত্মা অর্থ জিবরাঈল ফিরিশত ৷ ৷ জিবরাঈলের দ্বারা শক্তিশালী করেছিলেন
এভাবে যে,৩ তিনি তার রুহ্কে তার মায়ের আমার হাতার মধ্যে কুৎকার দিয়ে প্রবেশ করিয়ে
দিয়েছিলেন; রিসালাতের দায়িতু পালনকালে তিনি ঈস৷ (আ)-এর সাথে সাথে থাকতেন এবং
নবীর বিরোধীদেরকে তিনি প্রতিহত করতেন ৷ দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে কথা
বলার” অর্থ তুমি শিশুকালে দোলনায় থাকা অবস্থায় মানুষকে আল্লাহ্র দিকে আহ্বান করেছ
এবং পরিণত বয়সেও তাদেরকে আহ্বান করবে ৷” কিত৷ ৷ব ও হিক্মত শিক্ষা দেওয়ার অর্থ লিপি

জ্ঞান ও গভীর অনুধাবন শ্ ৷ক্তি দান করা ৷ প্রাচীন যুগের আলিম এরুপ ব্যাখ্যা করেছেন ৷ “কাদা
দ্বারা পাথীর আকৃতি ৩নগঠ অর্থাং আল্লাহর অনুমতিক্রয়েতু মি কাদা দ্বার বাপাখীর আকৃতি অবয়ব
গঠন করতে ৷ “আমার অনুমতিত্রুমেপাখী হ য় যেত ৷” অনুমতিক্রমে অর্থ আদেশক্রমে আল্লাহর
অনুমতি কথাটি আমার উদ্দেশ্য হল, মানুষ যাতে এই সন্দেহন৷ করে যে, ঈস৷ নিজের ক্ষমতা
বলেই এরুপ করেছেন ৷ জন্মান্ধ বলতে এখানে কোন কোন আলিম বলেছেন : যার কোন
চিকিৎসা নেই ৷ কুষ্ঠ রােগীও এমন কুষ্ঠরোগ, যার কোন চিকিৎসা নেই ৷ “মৃতকে জীবিত করা”
অর্থাৎ কবর থেকে জীবিত অবস্থায় উঠানাে ৷ আমার অনুমতিক্রা ম শব্দটির পুনরুক্তি ৷ এ কথা
দ্বারা ঐ ঘটনার দিকে ইংগিত করা হয়েছে, যখন বনী ইসরাঈলরা র্তাকে শুলে টড়াবার জন্যে
উদ্যত হয়েছিল ৷ তখন আল্লাহ র্তাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং আপন সান্নিধ্যে
তুলে নিয়েছিলেন ৷ “আমি যখন হাওয়ারীদেরকে ওহী মারফত আদেশ দিয়েছিলাম ” এখানে
ওহীব দৃ’প্রকার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ৷

এক; ওহী অর্থ ইলহাম বা প্রেরণা জাগিয়ে দেওয়া ৷ এ অর্থে কুরআনের আয়াত যেমন :

শু১টুট্রি তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে উহার অম্ভরে ইংগিত দ্বারা
নির্দেশ দিয়েছেন (১৬ নাহ্ল : ৬৮);

মুসার মায়ের অম্ভরে আমি ইহা গতে নিদের্শ করলাম শিশুটিকে স্তন দান করতে থাক ৷
যখন তুমি তার সম্পর্কে কোন আশংকা করবে তখন একে দরিয়ায় নিক্ষেপ করে দিও ৷ (২৮
কাসাস : ৭ )

দুই; রাসুলের মাধ্যমে প্রেরিত ওহী এবং তাদেরকে সত্য গ্রহণের তাওফীক দেওয়া ৷ এ
জন্যেই তারা প্ৰতি উত্তরে বলেছিল ষ্সৌং ৷ ব্লু ৷ “আমরা ঈমান আনলাম
এবং তুমি সাক্ষী থ৷ ৷ক যে আমরা মুসলিম ৷” হযরত ঈস৷ ৷-(আ) এর প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহ
সমুহের মধ্যে অন্যতম বড় অনুগ্রহ এই যে, তিনি তাকে এমন একদল সাহায্যকারী ও সেবক
দিয়েছিলেন, বাবা তাকে সর্বোততাবে সাহায্য সহযোগিতা করতেন এবং মানুষকে এক অদ্বিভীয়
আল্লাহর ইবাদবুত র দিকে আহ্বান জানাতেন ৷ যেমন আল্লাহ তা আল৷ হযরত মুহাম্মাদ (সা)
সম্পর্কে বলেছেন :

তিনিণ্ তামাকে আপন সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন; এবং তিনি ওদের
পরস্পরের হৃদয়ের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন ৷ পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ ব্যয় করলেও তুমি
তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহত তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন
করেছেন ৷ নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় ৷ (৮ আনফাল০ : ৬২৬২)

এবং তিনি তাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত তাওরাত ও ইনজীল এবং তাকে বনী
ইসরাঈলের জন্যে রাসুল করবেন ৷ সে বলবে, আমি তোমাদের প্ৰনি প লকেব পক্ষ হতে
তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে এসেছি ৷ আমি তোমাদের জন্যে কাদা দিয়ে একটি পাখীর
আকৃতি গঠন করব; তাতে আমি কুৎকার দিব; ফলে আল্লাহর হুকুমেত তা পাথী হয়ে যাবে ৷ আমি
জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করব এবং আল্লাহর ছকুমে মৃতকে জীবন্ত করব ৷ তোমরা
তোমাদের ঘরে যা আহার কর ও মওজুদ কর তা’তোমাদেরকে বলে দেব ৷ তোমরা যদি মৃমিন
হও তবে এতে তোমাদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে ৷ আর আমি এসেছি আমার সম্মুখে তাওরাতের
যা রয়েছে তার সমর্থকরুপে ও তোমাদের জন্যে যা নিষিদ্ধ ছিল তার কতকগুলােকে বৈধ
করতে ৷ এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ৫৩ তামাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে
এসেছি ৷ সুতরাংঅ অ ৷ল্লাহ্কে ভয় কর ও আমাকে অনুসরণ কর ৷ আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং
তোমাদেরও প্ৰতিপালক, সুতরাং তোমরা তার ইবাদত করবে ৷ এটাই সরল পথ ৷ যখন ঈসা
তাদের অবিশ্বাস উপল ব্ধি করল তখন সে বলল, আল্লাহর পথে কারা আমার সা ধ্ায্যকারীা
হাওয়ারীরা বলল, আমর ই আল্লাহ্র পথে সাহায্যকারী ৷ আমরা আল্লাহ্তে মানঈ এসেছি ৷
আমরা আত্মসমর্পণকড়ারী, তুমি এর সাক্ষী থাক ৷ হে আমাদের প্রতিপালক ! তুমি যা অবতীর্ণ
করেছ তাতে আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা এই রাসুলের অনুসরণ করেছি ৷ সুতরাং
আমাদেরকে সাক্ষ্য দানকারীদের তালিকাভুক্ত কর ৷ এবং৩ তারা চক্রাম্ভ করেছিল, আল্লাহও
কৌশল করেছিলেন; আল্লাহ কৌশলীদের শ্রেষ্ঠ ৷” (৩ আলে ইমরান : : ৮-৫৮ )

প্রত্যেক নবীর মু ’জিয) ছিল তার নিজ যুগের মানুষের চাহিদার উপযোগী ৷ যেমন হযরত
মুসা (আ) এর যুগের লোকের) ছিল ভীক্ষ্ণধী যাদুকর ৷ অ )ল্লাহ তাকে এমন মু’জিয) দান করলেন
যা য)দুকরদের চোখ ঝলসিয়ে দিয়েছিল এবং য)দুকররাত তার নিকট আত্মসমর্পণ করেছিল)
, য)দুকরর) যাদু সং ক্রান্ত তথ্যাদি সম্পর্কে অবগত ছিল ৷ যাদুর দৌড় যে কী পর্যন্ত, যে সম্পর্কেও
তার) অবস্থিত ছিল ৷ সুতরাং যখন তারা মুসা (আ) এর মুজিয) প্রত্যক্ষ করল তখন তার)
বুঝতে পারলে) যে এতো )ম)নবীয় ক্ষমতার বহির্ভুত ব্যাপার আল্লাহর সাহায্য ও প্রদত্ত ক্ষমতা
ব্যভীত কোন মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু প্রকাশ হতে ৩পারে না ) কোন নবীর সতা৩ )
প্রমাণের জন্যে আল্লাহ এরুপ ম)নবীয ক্ষমতার বহির্ভুত কিছু প্রকাশ করে থাকেন ) সুতরাং
ক)লবিলম্ব না করে তারা মুসা (আ) এর নিকট আত্মসমর্পণ করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ
করলেন ৷ অনুরুপভ) বে হযরত ঈসা ইবন মারয়াম (আ) কে যে যুগে প্রেরণ করা হয় সে যুপটি
ছিল উন্নত চিকিৎসার জন্যে প্রসিদ্ধ ) আল্লাহ৩ তাকে এর সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ এমন ঘু’জিযা দান
করলেন যা ছিল তাদের ক্ষমতা ও আয়ত্তের ব) )ইরে ৷ একজন চিকিৎসক যখন অন্ধ, খঞ্জ,কুষ্ঠ ও
পঙ্গুকে ভাল করতে অক্ষম , সেখানে একজন জন্ম)ন্ধকে ভাল করার প্রল্লুই উঠে ন) ৷ আর একজন
মৃত ব্যক্তিকে কবর থেকে জীবিত উঠাব)র শক্তি মানুষের জন্যে তে) কল্পন)ই কর) যায় ন) ৷
ত্যেকেই বুঝে যে, এসব এমন মু’,জিযা যার মাধ্যমে এগুলো প্রকাশ পায় তার দাবির পক্ষে
এটা হয়ে থাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং যে সত্তা তাকে প্রেরণ করেন তার কুদরত ও মহ)শক্তির
প্রমাণ ৷

একই পদ্ধতিতে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) কে যে যুগে প্রেরণ কর) হয় সে ষুপটি ছিল
ব)ল)প)ত ফ)স)হ)ত তথা অলৎকারশাস্তে সমৃদ্ধ উন্নত ভাষা শিল্পের যুগ ৷ আল্লাহ তার উপর
কুরআন মাজীদ অবতীর্ণ করেন ৷ যে কোন ত্রুটি থেকে তা মুক্ত ৷ কুরআনের বাক্য ও শব্দগুলো
এমনই মু’জিয) যে, মানব ও জিন জাতিকে সম্মিলিতভাবে এই কুরআনের অনুরুপ একটি
কুরআন, কিৎব) অনুরুপ ১০টি সুরা অথবা মাত্র ক্ষুদ্র একটি সুরা রচনা করার চ্যালেঞ্জ কর)
হয়েছে ) এরপর দৃঢ়ত)র সাথে বল) হয়েছে যে, তার) কোন দিন এ চ্যালেঞ্জের মুক)বিলা করতে
পারবে ন)-বর্তম)নেও ন), ভবিষ্যতেও ন), এখনই যখন পারেনি, ভবিষ্যতে কখনও পারবে ন) ৷
এরকম ভ যে) তার) তৈরি করতে ৩এ জন্যে পারবে ন), যেহেতু এটা আল্লাহর বাণী ৷ আর আল্লাহর
সাথে কে ন কিছুরই তুলনা হতে পারে ন) ন) তার সত্তার সাথে ন) তার গুণ)বলীর সাথে, ন)
ত)র ক) )র্যারলীর সাথে ৷

হযরত ঈসা (আ) যখন বনী ইসর) ঈলের নিকট অকাট্য দলীল প্রমাণ স্পষ্টভ) )বে তুলে ধরেন
তখন তাদের অধিক) ংশ লে)রইি কুফরী, ভ্রষ্টত), বিদ্বেষ ও অব)ধ্য৩ )র উপর অটল থেকে যায় ৷
তবে তাদের একটি ক্ষুদ্র দল তার পক্ষ অবলম্বন করে এবং বিরোধিতাক)রীদের প্রতিবাদ
)জন)ন ৷ তার) নবীর স)হ)য্যকা )রী হন ও তার শিষ্যতু বরণ করেন ৷ তার) নবীর আনুগত্য করেন,
স)হ)য) সহযোগিতা করেন ও উপদেশ মেনে চলেন ৷ এই ক্ষুদ্র দলটির আত্মপ্রকাশ তখন ঘটে
যখন বনী ইসর)ঈল তাকে হত্যার জন্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সে যুগের জনৈক ব)দশ)হর
সাথে ষড়যন্ত্র পাক)পে)ক্ত করে তাকে হত্যা ও শুলে চড়ানাের চক্র)ম্ভ সম্পন্ন করে ৷ কিভু আল্লাহ

তাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন ৷ তাদের মধ্য থেকে নবীকে তার সান্নিধ্যে উঠিয়ে নেন

ৎতার একটি শিষ্যকে তার চেহারার অনুরুপ চেহারায় রুপান্তরিত ৩করে দেন ৷ কিন্তু বনী

ইসরা ঈলরা তাকে ঈস৷ মনে করে হত্যা করে ও শুলে চড়ায় ৷ এব্যাপারে তারা ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ

করে ও সতাকে উপেক্ষা করে ৷ খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকা ৷ৎশ লোক এদের দাবিকে সমর্থন
করে ৷ কিন্তু উভয় দলই এ ব্যাপারে ভুলের মধ্যে রয়েছে ৷

আল্লাহর বাণী “তারা এক চক্রাম্ভ করেছিল আর আল্লাহ এক কৌশল অবলম্বন করলেন ৷
আল্লাহই উত্তম কৌশল অবলম্বনকাবী’ ৷ আল্লাহ আরও বালনং : স্মরণ কর মারয়াম তনয় ঈসা
বলেছিল, হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসুল এবং আমার পুর্ব হতে
তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সমর্থক এবং আমার পরে আহ্ ৷দ নামে যে
রাসুল আসবেন আমি তার সুসংরাদদাতা ৷ পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের ৷নকট আসল
তারা বলতে লাগল, এতো এক স্পষ্ট যাদৃ ৷ যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহুত হয়েও আল্লাহ সম্বন্ধে
মিথ্যা রচনা করে তার অপেক্ষা অধিক জালিম আর কে? আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়াক সৎপাথ
পরিচালিত করেন না ৷ তারা তা ৷ল্পাহ্র নুর ফুৎক৷ রে নিভা৩ ৷তে চায় কিন্তু আল্লাহ তার নুর পুর্ণরুপে
উদ্ভাসিত করবেন যদিও কাফিরর৷ তা অপছন্দ করে ৷” (সুরা সাফ্ং : ৬-৮)

এরপরে আল্লাহ বলেন “হে মুমিনগণ ৷! আল্লাহর দীানর সাহায্যকারী হও যেমন মারয়াম
ত তনয় ঈসা বলেছিল তার শিষ্যগণকে, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হলো শিষ্যপণ
বলেছিল, আমরা ৷তেই ৩াআল্লাহ্র পথে সাহায্যকারী ৷ অতঃপর বনী ইসরাঈলদের একদল ঈমান
আনল এবং একদল কুফরী করল ৷ পরে আমি মুামনদেরকে শক্তিশালী করলাম তাদের শত্রুদের
মুকাবিলায়: ফলে৩ তারা বিজয়ী হল ৷ (৬ সুরা সাফ্ ১৪) ৷ অত এর, ঈস৷ (আ ) হলেন বনী
ইসরাঈলের শেষ নবী ৷ তিনি তাদের তার পরে আগমনকারী সর্বশেষ নবীর সুসংবাদ দনে
করেন, তার নাম উল্লেখ করেন এবং৩ তার লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্যসমুহ বর্ণনা করেন, যাতে করে সেই
নবী যখন আগমন করবেন তখন তারা তাকে চিনতে পারে ও তার আনুগত্য করতে পারে ৷
তারা যাতে কোন রকম অজুহাত তুলতে না পারে, সে জন্যে তিনি দলীল-প্রমাণচ চুড়াম্ভত্যাব
পেশ করেন এবং তাদের প্রতি এটা ছিল আল্লাহ্র অনুকষ্প৷ স্বরুপ ৷ যেমনটি আল্লাহ বলেন :
“যায়৷ অনুসরণ করে বার্তাবাহক উমী নবীর যার উল্লেথ৩ ৷ ওাবাত ও ইনৃজীল যা তাদের নিকট
আছে তাতে লিপিবদ্ধ পায় ৷ যে৩ তাদেরকে সৎকাজর নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে বাধা দেয়, যে
তাদের জন্যে পবিত্র বন্তু বৈধ করে ও অপবিত্র বন্তু অবৈধ করে এবং যে মুক্ত করে তাদেরকে
তাদের গুরুভার থেকে ও শৃত্খল থেকে যা তাদের উপর ছিল ৷ সুতরাং যারা৩ তার প্ৰতি বিশ্বাস
স্থাপন করে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যে নুর তার সাথে অবতীর্ণ হয়েছে
তার অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম ৷ ( ৭ আরাফ : ১৫৭)

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক রাসুল (না)-এর কতিপয় সাহাৰীদের বরাতে বর্ণনা করেন যে,
একদা তারা বলেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ৷ আমাদেরকে আপনার নিজের সম্পর্কে অবহিত করুন ৷
উত্তরে তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম (আ)-এর দােয়ার ফলে, ঈসা (আ)এর সুসংরাদ ৷ যখন
আমি মায়ের পেটে ছিলাম তখন আমার মা স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, তার থেকে একটি নুর বের

হয়ে শাম দেশের বুসরা নগরী প্রাসাদরাজিকে আলোকে উদ্ভাসিত করে দিয়েছে ৷ ইরবায ইবন
সারিয়া ও আবু উমামাও রাসুলুল্লাহ (সা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তাদের বর্ণনায় এসেছে
যে, আমি ইবরাহীম (আ)-এর দোয়া এবং ঈসা (আ)-এর সুসংবাদ ৷ ইবরাহীম (আ) যখন
কা’বা ঘর নির্মাণ করেন তখন আল্লাহর নিকট দোয়া করেছিলেন যে, “হে আমাদের প্রতিপালক ৷
তাদের মধ্য হতে তাদের নিকট এক রাসুল প্রেরণ কর ৷ (২ বকোরা ল্গু ১২৯) ৷

অতঃপর বনী ইসরাঈলের মধ্যে নবুওতের ধারাবাহিকতা যখন ঈসা (আ) পর্যন্ত এসে শেষ
হল তখন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেন যে, তাদের মধ্যে নবী প্রেরণের ধারা শেষ হয়ে
গিয়েছে ৷ এরপর আরবদের মধ্যে এক উঘী নবী আসবেন ৷ তিনি হবেন খাতিমুল আন্বিয়া বা
শেষ নবী ৷ তার নাম হবে আহমদ, তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব
ইবন হাশিম ৷ ইসমাঈল ইবন ইবরাহীমের বংশধর ৷

আল্লাহ বলেন, “পরে সে যখন স্পষ্ট নিদশ্নিসহ তাদের নিকট আসল, তারা বলতে লাগল,
এতেড়া এক স্পষ্ট যাদু” (৬ সাফ্ : ৬) ৷ “সে যখন আসল এখানে ’সে’ সর্বনাম দ্বারা ঈসা
(আ)-কেও বুঝান হতে পারে, এবং আবার মুহাম্মদ (সা)-কেও বুঝান হতে পারে ৷ তারপার
আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে ইসলামের সেৰায় আত্মনিয়োগ করতে , মুসলমানদেরকে সাহায্য
করতে এবং নবীকে সম্মান করতে ও ইকামতে দীন এবং দাওয়াত সম্প্রসারণ কাজে সহযোগিতা
করতে নির্দেশ দান করেন ৷

আল্লাহ বলেন, “হে ঘুমিনগণশু আল্লাহর দীনেব সাহায্যকারী হও, যেমন মারয়ামতনয়
বলেছিল তার শিষ্যগণকে , আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে ৷ ” অর্থাং আল্লাহর দিকে
মানুষকে আহ্বান জানাবার কাজে কে আমাকে সাহায্য করবো “শিষাগণ বলেছিল, আমরাই
তো আল্লাহর পথে সাহায্যকারী ৷ ” নাসিরা নামক একটি গ্রামে ঈসা নবীর সাথে শিষ্যদের এই
কথাবার্তা হয়েছিল; এ জন্যেই পরবর্তীতে তারা নাসারা নামে আখ্যায়িত হয় ৷

আল্লাহ্ড়ার বাণী : “অতঃপর বনী ইসরাঈলদের একদল ঈমান আনল এবং একদল কুফবী
করল ৷” অর্থাং ঈসা (আ) যখন বনী ইসরাঈলসহ অন্যদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন
তখন কিছু লোক দাওয়াত কবুল করল এবং কিছু লোক প্রত্যাখ্যান করল ৷ সীরাতবেত্তা
ইতিহাসবিদ ও তাকন্সীরবিদগণ লিখেছেন যে, এন্টিয়কের সমস্ত অধিবাসী ঈসা৷ (আ) এর প্ৰতি
ঈমান আনয়ন করে ৷ ঈসা (আ) এন্টিয়কে তিনজন দুত প্রেরণ করেন তাদের এক জনের নাম
শামউন আস-সাফা ৷ তারা তার আহ্বানে সাড়া দেয় এবং ঈমান গ্রহণ করে ৷ সুরা ইয়াসীনে যে
তিনজন দুতের উল্লেখ আছে, এরা সেই তিনজন নন, আলাদা তিনজন ৷ আসহাবুল কারিয়ার
ঘটনায় আমরা এ বিষয়ে আলোচনা ইতিপুর্বে করেছি ৷ বনী ইসরাঈলের অধিকাংশ ইয়াহুদী ঈসা
(আ)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে ৷ পরবর্তীতে আল্লাহ ঈমান গ্রহণকারীদেরকে সাহায্য ও
শক্তি দান করেন ৷ ফলে তারা ঈমান প্ৰত্যাখ্যানকাবীদেরকে পর্বুদস্ত করে এবং তাদের উপর
বিজয় লাভ করে ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন,“ম্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা ! আমি
তোমার মেয়াদ পুর্ণ করছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলে নিচ্ছি এবং যারা সত্য প্রত্যাখ্যান
করেছে তাদের মধ্য হতে তোমাকে মুক্ত করছি ৷ আর তোমার অনুসাবীগণকে কিয়ামত পর্যন্ত

কাফিরদের উপরে প্রাধান্য দিচ্ছি ৷ (৩ আলে ইমরান : ৫৫) এ আঘাতের আলোকে যে সব দল
ও সম্প্রদায় হযরত ঈসা(আ)-এর দীন ও দাওয়াতের অধিক নিকটবর্তী, তারা তুলনামুলক
নিম্নবর্তীদের উপর বিজয় ও প্রাধান্য লাভ করবে ৷ সুতরাং ঈসা (আ ) এর ব্যাপারে
ঘুসলামানদের বিশ্বাসই যথার্থ যাতে কো ন সন্দেহ নেই ৷ আর তা হচ্ছে৩ তিনি আল্লাহর বান্দ৷ ও
রাসুল ৷ সুতরাং নাসাবাদেব (খ্রীষ্টানদের) উপর৩শর৷ বিজয়ী থাকবেন ৷ কেননা, নাসারাগণ তার
ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে৩ তার ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছে এবং আল্লাহ তাকে যে মর্যাদা
দিয়েছেন তার ৷ বতার চাইতে উর্ধে স্থান দিয়েছে ৷

যেহেতু মােটাঘুটিভাবে অভিশপ্ত ইয়াহুদীদের তুলনায় ঈসা (আ)-এর আদর্শের কাছাকাছি
অবস্থানে আছে, সে জন্যে তারা ইয়াহুদীদের উপরে বিজয়ী হয়ে ইসলামের পুর্বেও ছিল এবং
ইসলামের অড়াবির্ভাবের পরেও রয়েছে ৷

আসমানী খাঞ্চার বিবরণ
আল্লাহ্র বাণী ;

“স্মরণ কর, হাওয়ারীগণ বলেছিল, হে মারয়াম তনয় ঈসা! তোমার প্ৰতিপালক কি
আমাদের জন্যে আসমান হতে খাদ্য পরিপুর্ণ খাঞ্চা (মায়িদা) প্রেরণ করতে সক্ষম ? সে বলেছিল,
আল্লাহ্কে ভয় কর, যদি তোমরা ৷মৃমিন হও ৷৩ তারা বলেছিল আমরা ৷চাই যে, শ থেকে কিছু
খাব এবং আমাদের অন্তর প্রশা ৷ন্তি লাভ করবে ৷ আর আমরা জানতে চ ই যে,তু মি আমাদেরকে
সত্য বলেছ এবং আমরা এর সাক্ষী থাকতে চাই ৷ মারয়াম-তনয় ঈসা বলল, হে আল্লাহ,
আমাদের প্রতিপালক ! আমাদের জন্যে আসমান হতে খাদ্যপুর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ কর; এটা আমাদের
পুর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্যে হবে আনন্দোৎসব স্বরুপ ও তোমার নিকট হতে নিদশ্নি ৷
এবং আমাদেরকে জীবিকা দান কর; তৃমিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা ৷ আল্লাহ বললেন, আমিই
তোমাদের নিকট এটা প্রেরণ করব; কিন্তু এরপর তোমাদের মধ্যে কেউ কুফরী করলে তাকে
এমন শাস্তি দিব, যে শাস্তি বিশ্বজপতের অপর কাউকেও দিব না ৷ ” (মায়িদা : ১ ১ ২ ১ ১ ৫ )

আল-বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ২২-
তাফসীর গ্রন্থে এ আঘাতের ব্যাখ্যার আমরা খাঞ্চা অবতারণ প্রসংগে সেই সব হাদীস
উল্লেখ করেছি যা হযরত ইবন আব্বাস, সালমান ফারসী, আম্মার ইবন ইয়াসির প্রমুখ থেকে
বর্ণিত হয়েছে ৷ ঘটনার সারসংহ্মেপ এই; হযরত ঈস৷ (আ) হাওয়ারীগণকে ত্রিশ দিন সওম
পালনের নির্দেশ দেন ৷ তার৷ ত্রিশ দিন সওম পালন শেষে ঈস৷ (আ) এর নিকট আসমান
থেকে খাদ্যপুর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করার আবদার জানায় ৷ উদ্দেশ্য ছিল্ তারা আল্লাহর প্রেরিত
এই খাদ্য আহার করবে ৷ তাদের সওম ও দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন এ ব্যাপারে অম্ভরে
প্রশান্তি লাভ করবে, সওমের মেয়াদ শেষে সওম তংগের দিনে ঈদ উৎসব পালন করবে,
তাদের পুর্ব পুরুষ ও উত্তর পুরুষ এবং তা ধনী ও দরিদ্র সকলের জন্যে আনন্দের বিষয় হিসেবে
গণ্য হবে ৷ ঈস৷ (আ) এ ব্যাপারে তাদেরকে অনেক উপদেশ দিলেন ৷ তার আশংকা হল এরা
আল্লাহর এ নিয়ামতের শুকরিয়৷ আদায় করতে এবং এর শর্তা ৷দি পুরণ করতে সক্ষম হবে না৷
কিন্তু তারা তাদের আবদার পুরণ না হওয়া পর্যন্ত উপদেশ শুনতে প্রস্তুত হল না ৷ অবশেষে
তাদের পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে তিনি আল্লাহর নিকট দোয়া করতে প্রস্তুত হন ৷ তিনি সালাতে
দণ্ডায়মান হলেন ৷ পশম ও চুলের তৈরি কম্বল পরিধান করলেন এবং অবনত মস্তকে কান্নায় বুক
তাসিয়ে দিলেন ৷ তিনি আল্লাহর নিকট কাকুতি-মিনতি করে দোয়া করলেন যেন তাদের প্ৰার্থীত
জিনিস তিনি দিয়ে দেন আর আল্লাহ আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা অবতীর্ণ করেন ৷

মানুষ তাকিয়ে দেখছিল যে, দু’টি মেঘের মাঝখান থেকে খাঞ্চাটি ধীরে ধীরে নীচের দিকে
নেমে আসছে ৷ খাঞ্চাটি যতই পৃথিবীর নিকটবর্তী হচ্ছিল ততই ঈস৷ (আ) বেশী বেশী করে
আল্লাহর নিকট দোয়া করছিলেন, “হে আল্লাহ! একে তুমি রহমত, বরকত ও শান্তি হিসেবে
দান কর ৷ শাস্তি হিসেবে দিও না ৷” খাঞ্চাটি ক্রমান্বয়ে নেমে এসে একেবারে নিকটবর্তী হয়ে
গেল এবং ঈস৷ (আ) এর সম্মুখে মাটির উপর থামল ৷ খাঞ্চ টি ছিল রুমাল দিয়ে ঢাকা ৷ ঈসা
(আ) বলে রুমালখা না উঠালেন ৷ দেখলেন, তাতে সাতটি
মাছ ও সাতটি রুটি আছে ৷ কেউ বলেছেন, এর সাথে সির্ক৷ ছিল ৷ আবার কেউ কেউ বলেছেন,
ঐগুলোর সাথে তালিম এবং ফল ফলাদিও ছিল ৷ উক্ত খাদ্য দ্রব্যগু লো ছিল অত্যন্ত সুগন্ধি ৷
আল্লাহ বলেছিলেন, হও আর তাতে তা হয়ে গিয়েছিল ৷’ তারপর ঈস৷ ৷(আ) তাদেরকে
খাওয়ার জন্যে আহ্বান করেন ৷ তারা বলল, আপনি প্রথমে খাওয়া আরম্ভ করুন তারপরে আমরা
খাব ৷ ঈস৷ ৷(আ) বললেন, এ খাঞ্চার জন্যে তোমরা ৷ই প্রথমে আবেদন করেছিলে; কিন্তু প্রথমে
খেতে ত বা কিছুতে ই রাজি হল না ৷ হযরত ঈস৷ ( আ) তখন ফকীর, মিসকীন, অভা ৷বগ্রস্ত,
রোপাক্রান্ত ও পঙ্গুদেরকে খাওয়ার আদেশ দেন ৷ এ জাতীয় লোকদের সং খ্যা ছিল তেরশ ৷
সকলেই তা ৷থেকে থােলা ৷ ফলে দুঃখ-দুর্দশা ও রোগ-শোক যার যে সমস্যা ছিল , এই খাদ্যের
বরকতে তা থেকে সে নিরাময় লাভ করল ৷ যায়৷ খেতে অস্বীকার করেছিল তা দেখে তারা
খুবই লজ্জিত হল ও অনুশোচন৷ করতে লাগল ৷ কথিত আছে, এই খাঞ্চা প্রতিদিন একবার করে
আসত ৷ লোক এ থেকে তৃপ্তি সহকারে আহার করত ৷ খাদ্য একর্টুও হ্রাস পেতে৷ না ৷ প্রথম
দল যেভাবে আহার করত, শেষের দলও ঐ একইভ৷ রুাব আহার করত ৷ কথিত আছে, প্রতিদিন
সাত হাজার লোক ঐ খাদ্য আহার করত ৷

কিছু দিন অতিবাহিত হলে একদিন পর পর খাঞ্চা অবতরণ করত ৷ যেমন সালিহ (অড়া)-এর
উটনীর দুধ একদিন পর পর লোকেরা পান করত ৷ অতঃপর আল্লাহ্ হযরত ঈসা (আ)-কে
আদেশ দেন যে, এখন থেকে খাঞ্চার খাবার শুধুমাত্র দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত লোকেরাই আহার
করবে ৷ ধনী লোকেরা তা থেকে আহার করতে পারবে না ৷ এই নির্দেশ অনেককেই পীড়া দেয় ৷
মুনাফিকরা এ নিয়ে বিরুপ সমালোচনা করতে শুরু করল ৷ ফলে আসমানী খাঞ্চা সম্পুণরুপে বন্ধ
হয়ে গেল এবং সমালোচনাকারীরা শুকরে পরিণত হল ৷

ইবন আবি হাতিম ও ইবন জারীর উভয়ে আমার ইবন ইয়াসির (রা) থেকে বপ্টা

করেন ৷ নবী করীম (সা) বলেছেন : রুটি ও গোশতসহ খাঞ্চা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল
এবং বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা এর অপব্যবহার করবে না, সঞ্চয় করে
রাখবে না ও আগামী দিনের জন্যে ঘরে তুলে নিবে না ৷ কিভু তারা এতে খিয়ানত করে সঞ্চয়
করে রাখে ও আগামী দিনের জন্যে ঘরে তুলে নেয় ৷ ফলে তাদেরকে বানর ও শুকরে পরিণত
করা হয় ৷ ইবন জারীর আমার (বা) থেকে বিভিন্ন সুত্রে মওকুফরুগে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন
এবং এটাই সঠিক ৷ হাদীসটি যে সুত্রে মারফুরুগে বর্ণিত হয়েছে তা মুনকাতা বা বিভিন্ন সুত্রের
হাদীস ৷ হাদীসটির মারফু হওয়া নিশ্চিত হলে এ ব্যাপারে এটি হবে চুড়ান্ত ফয়সালা ৷ কেননা,
খড়াদ্যপুর্ণ খাঞ্চা আদৌ অবতীর্ণ হয়েছিল কি না সে সম্পর্কে অড়ালিমদের মধ্যে মতভেদ আছে ৷
তবে অধিকাৎশের মতে তা’ অবতীর্ণ হয়েছিল ৷ উপরোক্ত হাদীস ও কুরআনের প্ৰকাশতংগী
থেকে তাই বুঝা যায় ৷

বিশেষ করে এই আয়াত (আমি অবশ্যই তা তোমাদের উপর
অবতীর্ণ করব ৷)” ইবন জারীর দৃঢ়তার সাথে এই মতের্ব পক্ষে প্ৰমাণাদি উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি
বিশুদ্ধ সনদে মুজাহিদ ও হাসান বসরীর মতামত উল্লেখ করেছেন ৷ তারা বলেছেন, মাযিদা
আদৌ অবতীর্ণ হয়নি ৷ তারা বলেন, এই আয়াত “এরপর তোমাদের মধ্যে কেউ কুফরী করলে
তাকে এমন শাস্তি দিব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকেও দিব না” ৷ (মায়িদা : ১ ১ ৫ ) যখন
নাযিল হয় তখন বনীইসরাঈলরা মাযিদা অবতীর্ণের আবদার প্রত্যাহার করে নেয় ৷ এ কারণেই
বলা হয়ে থাকে যে, নাসারাপণ মায়িদার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নয় এবং তাদের কিতাবেও এ
ঘটনার বাস্তবে কোন উল্লেখ নেই ৷ অথচ এমন একটি ঘটনা বাস্তবে সংঘটিত হলে তার উল্লেখ
না থেকে পারে না ৷ তাফসীর গ্রন্থে এ বিষয়ে আমরা বির্শদভাবে আলোচনা করেছি ৷ আগ্রহী
ব্যক্তি সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন ৷

পরিচ্ছেদ

আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া বকর ইবন আবদিল্লাহ মুমানী থেকে বর্ণনা করেনঃ
একদা হাওয়াবীপণ হযরত ঈসা (আ) কে খুজে পাচ্ছিলেন না ৷ জনৈক ব্যক্তি তাদেরকে বলল,
তিনি সমুদ্রের দিকে গিয়েছেন ৷ তারা সন্ধান করতে করতে সমুদ্রের দিকে গেল ৷ সমুদ্রের তীরে
গিয়ে দেখেন, তিনি পানির উপর দিয়ে হীটছেন ৷ সমুদ্রের তরঙ্গ একবার তাকে উপরে উঠাচ্ছে
এবার নীচে নামাচ্ছে ৷ একটি চাদরের অর্ধেক গায়ের উপর দিয়ে রেখেছেন আর বাকী অর্ধেক
তার পরিধানে আছে ৷ পানির উপর দিয়ে হীটতে হীটতে তিনি তাদের নিকটে আসেন ৷ তাদের

মধ্যকার শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিটি বললেন, “হে আল্লাহর নবী ! আমি কি আপনার নিকট আসর ? তিনি
বললেন, হীা, এস, যখন তিনি এক পা পানিতে রেখে অন্য পা তুলেছেন, অমনি চিৎকার করে
উঠেন উহ্৪ হে আল্লাহর নবী! আমি তো ডুবে গেলাম ৷ ঈস৷ (আ) বললেন, ওহৈ দুর্বল
ঈমানদার তোমার হাত আমার দিকে বাড়াও ৷ কোন আদম সন্তানের যদি একটা বব পরিমাণও
ঈমান থাকে তাহলে সে পানির উপর দিয়েছু ন্ ৷টতে পারে ৷

আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী বকর থেকে অনুরুপ ঘটনা বণ্ না করেছেন ৷ ইবন আবিদ
দুনিয়া ফুযায়ল ইবন ইয়ায থেকে বর্ণনা ৷করেনং , জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে ঈস৷
আপনি কিসের সাহায্যে পানির উপর দিয়ে ইাটেনঃ তিনি বললেন ঈমন ও ইয়াকীনের বলে ৷
উপস্থিত লোকেরা বলল, আপনি যেমন ইয়াকীন রাখেন, আমরাও তেমনি ইয়াকীন রাখি ৷ ঈসা
বললেন, ত ই যদি হয় তা হলে তোমরাও পানির উপর দিয়ে হেটে চল ৷ তখন নতারা নবী
ঈসার সাথে পানির উপর দিয়ে হাট৷ শুরু করল ৷ কিন্তু ঢেউ আস৷ মাত্রই তারা সকলেই ডুবে
গেল ৷ নবী বললেন, তে ৷মাদের কী হল হে? তারা বলল, আমর ঢেউ দেখে ভীত হয়ে
গিয়েছিলাম ৷ নবী বললেন, কত ৩াল হত যদি ঢেউ এর মালিককে তোমরা ভয় করতে ৷
অতংপর তিনি৩ তাদেরকে বের করে আনলেন ৷ কিছুক্ষণ পর তিনি মাটিতে হাত মেরে এক মুষ্টি
মাটি নিলেন ৷ পরে হাত খুললে দেখা গেল এক হাতে স্বর্ণ এবং অন্য হাতে মাটির ঢেলা কিৎবা
কঙ্কর ৷ তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন এ দুহাভ্রুত র কােনটির বস্তু তোমাদের কাছে
প্রিয়তর? তারা বলল, স্বর্ণ ৷ নবী বললেন, আমার নিকট স্বর্ণ ও মাটি উভয়ই সমান ৷ ইতিপুর্বে
ইয়াহ্ইয়া ইবন যাকারিয়৷ (আ)-এর ঘটনায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, হযরত ঈস৷ (আ) পশমী
বস্ত্র পরিধান করতেন, গাছের পাতা আহার করতেন ৷ তার বসবাসের কোন ঘরবাড়ী ছিল না ৷
পরিবার ছিল না, অর্থ সম্পদ ছিল না এবং আগামী দিনের জ্যন্য কিছু সঞ্চয় করেও তিনি
রাখতেন না ৷ কেউ কেউ বলেছেন, তিনি তার মায়ের সুতা কাটার চরকার আয় থেকে আহার
করতেন ৷

ইবন আসাকির শা’বী থেকে বংনাি করেছেন যে, ঈস৷ (আ) এর সম্মুখে কিয়ামতের
আলোচনা করা হলে তিনি চিৎকার করে উঠতেন এবং বলতেন, ইবন মারয়ামের নিকট
কিয়ামতের আলাচনা করা হবে আ র তিনি চুপচাপ থাকবেন তা’ হয় না ৷ আবদুল মালিক ইবন
সাঈদ ইবন বাহ্র থেকে বর্ণিত৪ হযরত ঈস৷ (আ) যখন উপদেশ বাণী শুনাতেন তখন তিনি
সন্তান হারা মায়ের ন্যায় কান্া৷ক টি করতেন ৷ আবদুর রায্যাক জা ’ফর ইবন বালকাম থেকে
বর্ণনা করেন যে, ঈস৷ (আ) সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে এরুপ দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ !
আমার যা অপছন্দ তা থেকে আত্মরক্ষ৷ করতে আমি সক্ষম নই; যে কল্যাণ আমি পেতে চাই তা
আমার অধিকারে সেই, সব বিষয় রয়েছে অন্যের হাতে আমি আমার কাজের মধ্যে বন্দী;
সুতরাং আমার চেয়ে অসহায় আর কেউ নেই ৷ হে আল্লাহ ! আমার শত্রুকে হাসিয়ো না এবং
আমার কারণে আমার বন্ধুকে কষ্ট দিও না ৷ আমার দীনের মধ্যে ৎকট সৃষ্টি করিও না এবং
আমার প্রতি সদয় হবে না এমন লোককে আমার উপর চাপিয়ে দিও না ৷”

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১ ৭৩

ফুযায়ল ইবন ইয়ায, ইউনুস ইবন উবায়দ সুত্রে বর্ণনা করেন, হযরত ঈসা (আ) রলতেন
যতক্ষণ আমরা দুনিয়ার ভোগ বিমান থেকে বিমুখ হতে না পারবো, ততক্ষণাপ্ৰকৃত ঈমানের
াদ অনুভব করতে পারব না ৷ ফুযায়ল আরও বলেছেন, ঈসা (আ) বলরু তন, আমি সৃষ্টিতত্ত্ব
নিয়ে চিন্তা গবেষণা করেছি ৷ তাতে আমি দেখেছি যে মাঝে সৃষ্টি করা হয়েছে তার তুলনায়
যাকে সৃষ্টি করা হয়নি সে ই আমার কা ছে বেশী ঈর্ষণীয় ৷ ইসহাক ইবন বিশর হাসান (র)
সুত্রে বংনাি করেন, কিয়ামভ্রু তর দিন হযরত ৩ঈসা (আ) হবেন সংসার বিমুখদের নেতা তিনি
আরও বলেছেন০ কিয়ামতৃত তর দিন পাপ থেকে পলাযনকারী লোকদের হাশর হভ্রুব ঈসা
(আ ) এর সাথে ৷

রাবী আরও বলেনঃ একদিন হযরত ঈসা (আ) একটি পাথরের উপর মাথা রেখে শুয়ে
পড়েন ৷ তিনি গভীর ফ্লিায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন ৷ এমন সময় ৯ স্থান দিয়ে ইবলিস যাচ্ছিল ৷ সে
বলল, “ওহে ঈসা তুমি কি বলে থাক না যে, দুনিয়ার ;কান বস্তুর প্ৰতিঢন্ ৩ামার আগ্রহ (নই?
কিভু এই পাথরটি তো দুনিয়ার বস্তু তখন হযরত ঈসা (আ) পাথরটি ধরে তার দিকে ছুড়ে
মারলেন এবং বললেন, দুনিয়ার সাথে এটিও তুই নিয়ে যা ৷ ণুতামির ইবন সুলায়মান বলেন
একদা হযরত ঈসা (আ) তার শিষ্যদের সাথে নিয়ে বের হন ৷ ৩ার পরিধানে ছিল পশমের
জুব্বা, চাদর ও অতর্বাস ৷ তার পায়ে কো ন জুতা ছিল না ৷ তিনি ছিলেন ক্রন্দনরত ৷ র্তার মাথার
চুল ছিল এলােমেলো৷ ক্ষুধার তীব্রায় ঢেহারা ছিল ফাকাশে ৷াপপাসায় ঠোট দু টি শুষ্ক ৷ এ
অবস্থায় তিনি বনী ইসরাঈলের লোকদেরকে সালাম দিয়ে বললেন০ : আল্লাহর যেহেরবানীতে
আমি দুনিয়াকেতারা সঠিক অবস্থানে রেখেছি ৷ এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই এবং এর জন্যে
আমার গৌরবেরও কিছু নেই ৷ তামরা কি জান আমার ঘর কোথায়? তারা বলল, হে কহুল্লাহ্!
কোথায় আপনার ঘর? তিনি বললেন আমার ঘর হল মসজিদ, পানি দিয়েই আমার অঙ্গসজ্জা ৷
ক্ষুধাই আমার ব্যঞ্জন ৷ রাতে র র্চাদ আমার বাতি শীতকালে আমার স লাত পুবাচল, শাক সজিই
আমার জীবিকা, যে টা পশমই আমার পোষাক ৷ আল্লাহর ভয়ই আমার পরিচিতি, পঙ্গু ও
নিঃারা আমার সঙ্গী-সাথী ৷ আমি যখন সকালে উঠি তখন আমার হাত শুন্য যখন সন্ধ্য৷ হয়
তখনও আমার হাতে কিছু থাকে না ৷ এতে আমি সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত এবং নিরুদ্বিগ্ন ৷ সুতরাং আমার
চাইতে ধনী ও সচ্ছল আর কে আছো বংনিাটি ইবন আসাকিরের ৷

আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে তিনি বংনাি করেছেনং রাসুলুল্লাহ (না) বলেন আল্লাহ হযরত
ঈসার নিকট এই মর্মে ওহী পাঠান যে, তোমাকে শত্রুরা যাতে চিনতে ও কষ্ট দিতে না পারে সে
জন্যে ভুমি সর্বদা স্থান পরিবর্তন করতে থাকবে ৷ আমার স্স্তুম ও প্ৰতিপত্তির কলম, আমি
তোমাকে এক হাজার হুরের সাথে বিবাহ দিব এবং চারশ’ বছর যাবত ওলীমা খাওয়ার ৷ এ
হাদীসটি গরীব পর্যায়ের ৷ এটা একটি ইসরাঈলী বর্ণনা ৷ আবদুল্লাহ ইবন মুরারক, খালফ ইবন
হাওশব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত ঈসা (আ) হাওয়ারীদেরকে বলেছিলেন, রাজা-বাদশাহরা
যেমন দীন ও হিকমত তোমাদের জন্যে ছেড়ে দিয়েছে, তােমরাও তেমন তাদের জন্যে দুনিয়া
ছেড়ে দাও ৷ কাতাদা বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) বলেছিলেন : তোমরা আমার নিকট প্রশ্ন কর ৷
কেননা, আমার অন্তর কোমল, নিজের কাছে আমি ক্ষুদ্র ৷ ইসমাঈল ইবন আইয়্যাশ ইবন

উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) হাওয়ারীদেরকে বলেছিলেন : যবের রুটি আহার
কর খালিস পানি পান কর এবং দুনিয়া থেকে শান্তি ও নিরাপদের সাথে বের হয়ে যাও ৷ আমি

তােমাদেরকে নিপুঢ় তত্ত্বকথ৷ জা ৷নাচ্ছি যে, দুনিয়ার যা সুস্বাদু, আখিরাতে তা বিস্বাদ আর দুনিয়ার
যা বিস্বাদ আখিরাতে তা ই সুস্বাদু ৷ আল্লাহর প্রকৃত বান্দ বা দুনিয়ার ভোগ বিলাসের জীবন
যাপন করতে পারে না ৷ তােমাদেরকে আমি সঠিক বলছি যে, তোমাদের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট
ব্যক্তি হচ্ছে সেই লোক, যে জ্ঞানী হওয়া সত্বেও প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং চার যে, সকলেই
যেন তার মত হয় ৷

আবু হুরায়রা (বা) থেকেও অনুরুপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ আর মুসআব মালিক থেকে

বর্ণনা করেন ঈসা (আ) বনী ইসরাঈলদেরকে বলতে ন৪ খালিস পানি পান কর, তাজা সজি
খাও এবং ঘরের রুটি আহার কর ৷ পমের রুটি থেয়ো না যেন ৷ কেননা তোমরা এর শোকর
আদায় করতে পারবে না ৷ ইবন ওহাব ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা (আ)
বলতেন : তোমরা দুনিয়া অতিক্রম করে যাও ৷ একে আবাদ করো না ৷ তিনি বলতেন :
দুনিয়ার মহব্বত সকল গুনাহের মুল এবং কুদৃষ্টি অম্ভরেয় মধ্যে কাম-ভাব উৎপন্ন করে ৷
উহায়ব ইবন ওয়াবদও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তবে তার বর্ণনায় এইটুকু বেশী আছে যে,
কামনা-বাসনা অধিকাৎশ ক্ষেত্রে মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী দুঃখে ফেলে ৷ ঈসা (আ) বলতেন, হে
দুর্বল আদম-সন্তান ! যেখানেই থাক আল্লাহ্কে ভয় কর, দুনিয়ার মেহমান হিসেবে জীবন যাপন
কর ৷ মসজিদকে নিজের ঘর বানাও ৷ চক্ষুদ্বয়কে র্কাদতে শিখাও , দেহকে ধৈর্যধারণ করতে ও
অন্তরকে চিন্তা করতে অভ্যস্ত কর ৷ আগামী দিনের খাদ্যের জন্যে দুশ্চিম্ভা করে৷ না এটা পাপ ৷
তিনি বলতেন, সমুদ্রেরত তরঙ্গের উপরে ঘর বানান যেমন সম্ভব নয় তেমনি দুনিয়ার স্থায়ীভাবে
থাকাও সম্ভব নয় ৷ ’কবি সাবিকুল বরবরী এ প্ৰসংগে সুন্দর কথা বলেছেন যথা :

অর্থাৎ তলোয়ারের পথেই তোমাদের ঘর শোভা পায় ৷ যে ঘরের ভিত্তি মাটির উপবে,ত
কি পানির উপরে বানানো সম্ভব ?

সুফিয়ান ছাওরী বলেন, ঈসা (আ) বলেছেন : মুমিনের অস্তরে দুনিয়ার মহব্বত ও
আখিরাতের মহব্বত একত্রে থাকতে পারে না যেভাবে একত্রে থাকতে পারে না একই পাত্রে
আগুন ও পানি ৷ ইব্রাহীম হারবী আবৃ আবদুল্লাহ সুফী সুত্রে বলেন, ঈসা (আ ) বলেছেন :
দুনিয়া অম্বেষণকাবী লোক সমুদ্রের পানি পানকারীর সাথে তুলনীয় ৷ সমুদ্রের পানি যত বেশী
পান করবে ৩৩ বেশী পিপাসা বৃদ্ধি পাবে এবংত তা তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেবে ৷ ঈসা (আ)
বলেছেন : শয়তান দুনিয়া অন্বেষণ ও কামনাকে আকর্ষণীয় করে এবং প্রবৃত্তির লালসার সময়
শক্তি যোগায় ৷

আ’মাশ খায়ছামা থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) সংপী-সাথীদের সামনে আহার্য রেখে
নিজে আহার থেকে বিরত থাকতেন এবং বলতেন, মেহমানদের সাথে তােমরাও এইরুপ আচরণ
করবে ৷ জনৈক মহিলা ঈসা (আ)-কে বলেছিল , ধন্য সেই লোক, যে আপনাকে ধারণ করেছিল

এবং ধন্য সেই স্থান যে আপনাকে দুধ পান করিয়েছিল ৷ উত্তরে ঈসা (আ) বলেছিলেন, ধন্য
সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে ও তার বিধান মেনে চলে ৷ ঈসা (আ) আরও
বলেছেন, সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যের অধিকারী যে নিজের গুনাহ স্মরণ করে কান্নাকাটি করে ,
জিহ্বাকে সংযত রাখে এবং যার ঘরই তার জন্য যথেষ্ট হয় ৷ তিনি বলেছেন, ঐ চক্ষুর জানা
সুসংবাদ, যে গুনাহ থেকে চিন্তামুক্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে যায় এবং, জেগে উঠে গুনাহ বিহীন কাজে
মনোনিবেশ করে ৷ মালিক ইবন দীনার থেকে বর্ণিত ৷ ঈসা (আ) আপন শিষ্যবর্গের সাথে
কোথাও যাচ্ছিলেন ৷ পথে একটি মৃত দেহ দেখতে পেলেন ৷ শিষ্যরা বলল , মৃত দেহ থেকে তীব্র
দুর্গন্ধ বের হচ্ছে ৷ ঈসা (আ) বললেন, তার দীতগুলাে কত সাদা ৷ এ কথা বলে তিনি
শিষ্যদেরকে পীবত করা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিচ্ছিলেন ৷ আবু বকর ইবন আবিদু

দুনিয়া যাকারিয়া ইবন আদী সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ একদা ঈসা (আ) ইবন মারয়াম বললেন,
হে হাওয়ারীগণ ! দীন নিরাপদ থাকলে দুনিয়ার নিম্নমান নিয়েই সন্তুষ্ট থাক; যেমন দুনিয়াদার
ব্যক্তিরা দুনিয়ার জীবন নিরাপদ থাকলে দীনের নিম্নমান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে ৷ এ প্রসংগে করি
বলেন :

অর্থাৎ আমি লক্ষ্য করেছি, এক শ্রেণীর লোক আছে যাদের মধ্যে দীন কম থাকলেও তাতে
তারা সত্তুষ্ট ৷ কিন্তু দুনিয়ার সৎকীর্ণতড়ায় তারা রাজী নয় ৷ সৃতরাৎ রাজা বাদশাহ্দের দুনিয়া
থেকে বিমুখ হয়ে দীন নিয়েই তুমি সন্তুষ্ট থাক, যেমন রজো বাদশাহ্রা দীন থেকে বিমুখ হয়ে
দুনিয়া পেয়ে সন্তুষ্ট থাকে ৷

আবু মাসআব মালিক থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা ইবন মারয়াম বলেছেন : আল্লাহর যিকির
ব্যতীত কথাবার্তা বেশী বল না; অন্যথায় তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে যাবে ৷ আর কঠিন অন্তর
আল্লাহ থেকে দুরে থাকে, কিন্তু তোমরা সে বিষয়ে অবগত নও ৷ মানুষের গুনাহের প্ৰতি
এমনভাবে দৃষ্টি দিও না, যেন তুমিই প্রভু বরং নিজেকে দাসের ভুমিকায় রেখে যে দিকে লক্ষ্য
কর ৷ কেননা, মানুষ দুই শ্রেণীর হয়ে থাকে ৷ কেউ বিপদ থেকে মুক্ত, কেউ বিপদগ্রস্ত ৷
বিপদগ্রস্তের প্ৰতি সদর হও এবং বিপদমুক্তের জনেই আল্লাহর প্রশংসা কর ৷ ছাওরী
ইবরাহীম তড়ায়মী সুত্রে বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) তীর সাথীদেরকে বলেছেন, আমি ভোমড়াদেরকে
যথার্থ বলছি, যে ব্যক্তি ফিরদাউস আশা করেন তার উচিত যবের রুটি আহার করা এবং
আবর্জনা ন্তুপের মধ্যে কুকুরদের সাথে বেশী বেশী ঘুমড়ান ৷ মালিক ইবন দীনার বলেন, ঈসা
(আ) বলেছেন, ছাইযুক্ত যৰ্ আহার করা এবং আবর্জনার উপরে কুকুরের সাথে ঘুমানাের
অভ্যাস ফিরদাউস প্রত্যাশীদের মধ্যে খুব কমই দেখা যাচ্ছে ৷

আবদুল্লাহ ইবন মুবারক সালিম ইবন আরিল জা’দ সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ হযরত ঈসা
(আ) বলেছেন : তোমরা কাজ কর আল্লাহর জন্যে, পেটের জন্যে নয় ৷ পাখীদের প্রতি লক্ষ্য
কর, তারা সকালে বের হয় ৷ সন্ধ্যায় ফিরে তারা চাষাবাদও করে না ফসলও ফলায় না;
আল্লাহ ই তাদেরকে থাওয়ান ৷ যদি বল যে, পাখীদের চেয়ে আমাদের পেট বড় ৷ তা হলে গরু
ও গাধার দিকে ত ৷কাও ৷ সকালে যায়, সন্ধ্যায় ফিরে আসে ৷ এব৷ ও না ক্ষেত করে, না ফসল
ফলায়; আল্লাহ-ই এদেরকে রিযিক দান করেন ৷ সাফওয়ান ইবন আমরইয়াযীদ ইবন
মায়সার৷ থেকে বর্ণনা করেন, একদা হাওয়ারীগণ ঈস৷ ৷(আ) কে বললেন হে মাসীহুল্লাহ!
দেখুন, আল্লাহর মসজিদ ক৩ ই না সুন্দর ৷ মাসীহ বললেন, ঠিক ঠিক তবে আমি তোমাদেরকে
যথার্থ জ৷ ৷নাচ্ছি, আল্লাহ এ মসজিদের পাথরগুলোকে স্থা ৷য়ীভ৷ ৷বে দণ্ড য়মান রাখবেন না ৷ বরং তার
সাথে সৎশ্রিষ্টদের গুনাহের কারণে ধ্বংস করে দিবেন ৷ তোমাদের স্বর্ণ রৌপ্য ও পছন্দনীয়
ধন-সম্পদ দিয়ে আল্লাহর কোন কাজ সেই ৷ এই দুনিয়ায় আল্লাহর নিকট প্রিয় বস্তু হচ্ছে সৎ
অন্তর ৷ এর সাহায্যেই আল্লাহ দুনিয়াকে আবাদ রেখেছেন এবং এর জন্য তিনি দুনিয়া ধ্বংস
করে দিবেন, যখন তা’ পরিবর্তিত হয়ে যাবে ৷

ইবন আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে মুজাহিদের সুত্রে ইবন আব্বাস (বা ) থেকে বর্ণনা
করেন, নবী আকরম (সা) বলেছেন৪ একদা হযরত ৩ঈসা (আ) একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের উপর
দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ শহরের বিধ্বস্ত প্রাসাদরাজি দেখে তিনি অবাক হয়ে৩ তাকিয়ে থাকেন ৷ কিছু
সময় পর তিনি আল্লাহ্র নিকট আবেদন করেন, হে আল্লাহ! এই শহরকে আমার কতিপয়
প্রশ্নের উত্তর দেয়ার অনুমতি দিন ৷ আল্লাহ তা’আলা বিধ্বস্ত শহরটিকে ঈসার প্রশ্নের উত্তর
দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন ৷ তখন শহরটি ঈস৷ (আ)-কে ডেকে বলল, হে প্রিয় নবী ঈসা
(আ) ! আপনি আমার নিকট কী জানতে চান? ঈস৷ (আ) বললেন, তোমার বৃক্ষরাজি কোথায়
গেল? তোমার নদী-নালার কী হলো? তোমার প্রাসাদ-রাজির কী অবস্থা ?৫ তোমার বাসিন্দারা
কোথায় গেল? উত্তরে শহর বলল হে প্রিয় নবী আল্লাহর ওয়াদা কার্যকরী হয়েছে ৷৩ তাই আমার
বৃক্ষরাজি শুকিয়ে গিয়েছে, নদী-ন৷ ৷ল৷ পানিশুন্য হয়ে গিয়েছে, প্রাসাদরাজি ধ্বংস ন্তুপে পরিণত
হয়েছে এবং আমার বাসিন্দারা সবাই মারা গিয়েছে ৷ ঈস৷ (আ) বললেন, তবে তাদের
ধন সম্পদ কোথায়? শহরটি উত্তর দিল, ত বা হ লাল ও হারাম পন্থায় নির্বিচারে সম্পদ সঞ্চয়
করেছিল, যে সবই আমার অভ্যন্তরে রক্ষিত আছে ৷ আসমান ও যমীনের সব কিছুর সত্ত্ব৷ ৷ধিকারী

তো আল্লাহ্ই ৷

অতঃপর ঈস৷ (আ) বললেন : তিন ব্যক্তির ব্যাপারে আমার অবাক লাগে ৷ তারা হল ( ১ )
যে ব্যক্তি দুনিয়ার সন্ধানে মত্ত ৷ অথচ মৃত্যু তার পশ্চাতে লেগে আছে (২) যে ব্যক্তি প্রাসাদ
নির্মাণ করছে, অথচ কবর৩ তার ঠিক না (৩) যে ব্যক্তি অট্টহাসিতে মজে থাকে, অথচ তার
সম্মুখে আগুন ৷ আদম সন্তানের অবস্থা ৷এই যে, অধিক পেয়েও সে তৃপ্ত হয় না; আর কম
পেলেও ভুষ্ট থাকে না ৷ হে আদম সন্ত ন তুমি তোমার ধন-সম্পদ এমন লোকদের জন্যে সঞ্চয়
করে রেখে যাচ্ছ, যার৷ তোমার প্রশংসা করবে না ৷ তুমি এমন প্রভুর পানে এগিয়ে চলছ, যিনি

তোমার কোন ওযর শুনবেন না ৷ তুমি তো তোমার পেট ও প্ৰবৃত্তির গোলাম হয়ে রয়েছে ৷ কিন্তু
তোমার পেট সেই দিন পুর্ণ হবে, যে দিন তুমি কবরে প্রবেশ করবে ৷ হে আদম-সন্তান ৷
অচিরেই তুমি কবরে প্রবশ করবে ৷ হে আদম সন্তান ! অচিরেই তুমি দেখতে পাবে, তোমার
সঞ্চিত ধন-রতু অন্যের পাল্লাকে ভারী করছে ৷ এ হড়াদীসটি সনদের বিচারে খুবই গরীব ’
পর্যায়ের ৷ কিন্তু উক্তা উপদেশপুর্ণ হওয়ায় উল্লেখিত হলো ৷

সুফিয়ান ছাওরী ইবরাহীম তড়ায়মী সুত্রে বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) বলেন : হে হাওয়ারীগণ ৷
তোমরা তোমাদের মুল্যবান সম্পদ আসমানে রাখ ৷ কেননা, মানুষের অন্তর সেই দিকেই আকৃষ্ট
থাকে, যেখানে তার মুল্যবান সম্পদ সঞ্চিত থাকে ৷ ছাওর ইবন ইয়াযীদ আবদুল আযীয ইবন
যুবয়ান থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা ইবন মারয়াম থেকে বংনাি করেন,ঈসা ইবন মারয়াম
বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইলম শিখে অন্যকে শিখায় এবং সে মতে আমল করে , উর্ধজগতে তাকে
বিরাট সম্মানে ভুষিত করা হয় ৷ আবু কুরায়ব বলেন, বর্ণিত আছে , হযরত ঈসা (আ) বলেছেন :
যেই ইলম তোমাকে কাজের ময়দানে নিয়ে যায় না, কেবল মজলিস মাহফিলে নিয়ে যায়, তাতে
কোন কল্যাণ নেই ৷ ইবন আসড়াকির এক গরীর ’ সনদে ইবন আব্বাস থেকে মারকু হাদীস বর্ণনা
করেছেন যে, ঈসা (আ) বনী ইসরাঈলদের মাঝে গিয়ে এক ভাষণে বলেন ? হে হাওয়ারীগণ ৷
অযোগ্য লোকদের নিকট হিকমতের কথা বলিও না ৷ এরুপ করলে হিকমত ও প্রজ্ঞাকে হেয়
করা হবে ৷ কিন্তু যোগ্য লোকদের নিকট তা’ বলতে কৃপণতা কর না ৷ তা হলে তাদের উপর
অবিচার করা হবে ৷ যে কোন বিষয়ের তিনটি অবস্থা হতে পারে ( ১ ) যার উত্তম হওয়া স্পষ্ট ;
এগুলোর অনুসরণ কর ৷ (২) বার মন্দ হওয়া স্পষ্ট ; এর থেকে দুরে থাক ; (৩) যার ভাল বা
মন্দ হওয়া সন্দেহযুক্ত ; তার ফয়সাল) আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও ৷ আবদুর রায্যাক ইকরিমা
থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) বলেছেন শুকরের কাছে ঘুক্তা ছড়ায়ো না ৷ কেননা মুক্তা দিয়ে
সে কিছুই করতে পারে না, আর জ্ঞানপুর্ণ কথা ঐ ব্যক্তিকে বলো না, যে তা শুনতে চায় না ৷
কেননা জ্ঞানপুর্ণ কথা মুক্তার চাইতেও মুল্যবান আর যে তা’ চায় না, সে শুকরের চাইতেও
অধম ৷ ওহাব প্রমুখ রাবী ইকরিমা থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

ইকরিমা আরও বর্ণনা করেন, ঈসা (আ) হাওয়ারীদেরকে বলেছেনঃ তোমরা হচ্ছ পৃথিবীতে
লবণ তু ল্য ৷ যদি নষ্ট হয়ে যাও তবে তোমাদের জন্য কোন ঔষধ নেই ৷ তোমাদের মধ্যে
মুহতিার দু’টি অভ্যাস আছে (১) বিনা কারণে হলো এবং (২) রাত্রি জাগরণ না করে সকালে
উঠা ৷ ইকরিমা থেকে বর্ণিত , ঈসা (আ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন ব্যক্তির ফিৎনা সবচাইতে
মারাত্মক? তিনি বললেনঃ আলিমের পদস্খালন ৷ কেননা আলিমের পদস্থালনে আরও বহু লোক
বিপথপামী হয়ে যায় ৷ রাবী আরও বলেন, হয রত ঈসা (আ) বলেছেনঃ হে জ্ঞান পাপীরা!
দুনিয়াকে তোমরা মাথার উপরে রেখেছ, আর আখিরাতকে রেখেছ পায়ের নীচে ৷ তোমাদের
কথাবার্তা যেন সর্বরােগের নিরাময় হয় ৷ কিন্তু তোমাদের কার্যকলাপ হচ্ছে মহাব্যাধি ৷ তোমাদের
উপমা হচ্ছে সেই মাকাল গাছ যা দেখলে মানুষ আকৃষ্ট হয় কিন্তু তার ফল খেলে মারা যায় ৷
ওহাব থেকে বর্ণিত, ঈসা (আ) বলেছেনঃ হে নিকৃষ্ট জ্ঞান পাপীরা ! তোমরা জান্নাতের দরজায়

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ২৩-

বসে আছ, কিন্তু তাতে প্রবেশ করছো না আর নিঃস্বদেরকে তাতে প্রবেশ করার জন্যে আহবানও
করছ না ৷ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক নিকৃষ্ট মানুষ সেই জ্ঞানী ব্যক্তি, যে তার জ্ঞানের বিনিময়ে
দুনিয়া অর্জন করে ৷ মাকহ্রল বর্ণনা করেন, একবার ঈসার সাথে ইয়াইয়া (আ )-এর সাক্ষাত
হয় ৷ ঈসা (আ) হাসিমুখে তার সাথে মুসাফাহা করেন ৷ ইয়াহ্ইয়া (আ) বললেন, কি খালাত
ডাই! হাসছেন যে, মনে হচ্ছে আপনি নিরাপদ হয়ে গেছেনঃ ঈসা (আ) বললেন, তোমাকে
বিষণ্ন দেখাচ্ছে কেন, নৈরাশ্যে ভুগছ না কি? তখন আল্লাহ উভয়ের নিকট ওহী প্রেরণ করে
জানালেন, তোমাদের দুজনের মধ্যে সে-ই আমার নিকট প্রিয়তরন্ যে তার সঙ্গীর সাথে
অধিকতর হাসিমুখে মিলিত হয় ৷ ’

ওহাব ইবন মুনাবৃবিহ বর্ণনা করেছেন, একদা হযরত ঈসা ও তার সংগীরা একটি কবরের
পাশে থামলেন ৷ ঐ কবরবাসী সংকটপুর্ণ অবস্থায় ছিল ৷ তখন সংগীরা কবরের সংকীংতাি নিয়ে
আলাপ করতে লাগলেন ৷ তাদের কথা শুনে ঈসা (আ) বললেনঃ তোমরা মায়ের পেটে এর
চেয়ে সংকীর্ণ স্থানে ছিলে ৷ তারপরে আল্লাহ যখন চাইলেন প্রশস্ত জায়গায় নিয়ে আসলেন ৷
আবু উমর বলেন, ঈসা (আ) যখন মৃত্যুর কথা আলোচনা করতেন, তখন তার চামড়া ভেদ
করে রক্ত ঝরে পড়ত ৷ হযরত ঈসা (আ)-এর থেকে এ জাতীয় অনেক উক্তি বর্ণিত আছে ৷
হাফিজ ইবন আসাকির তার গ্রন্থে বহু উক্তি উদ্ধৃত করেছেন ৷ আমরা এখানে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু
উল্লেখ করলাম ৷
হযরত ঈসা (আ) কে আসমানে উঠিয়ে নেয়ার বর্ণনা

আল্লাহ তআিলা কতৃক ঈসা (আ) কে রক্ষা এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের
তান্ক শুলে চড়াৰার মিথ্যা দাবি প্রসঙ্গ

এ প্রস গে আল্লাহর বাণী
এবং তারা চক্রান্ত করেছিল, আল্লাহও কৌশল করেছিলেন, আল্লাহ কৌশলীদের শ্রেষ্ঠ ৷

স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন, “হে ঈসা ! আমি তোমার কাল পুর্ণ করছি এবং আমার নিকট

তোমাকে তুলে নিচ্ছি এবং যারা কুযহ্বী করেছে তাদের মধ্য হতে তোমাকে পবিত্র করছি ৷ আর

তোমার অনুসারীদেরকে কিয়ড়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিচ্ছি ৷ অতঃপর আমার কাছে

তোমাদের প্রত্যাবর্তন ৷ তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতাম্ভর ঘটছে আমি তা মীমাংসা করে
দিব ৷ ” (আলে-ইমরান : ৫৪ ৫৫)

অৰুল্লাহ্ আরও বলেন০ ং

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>