Qawmi Admin
  • 0
Professional

ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট থেকে উপার্জন হালাল কিনা ?

  • 0

একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কারনে সবসময়-ই ডেভলপমেন্টের কাজ করতেই হয়। বিশেষ করে ক্লাইন্ট এবং কোম্পানির রিকয়রমেন্ট অনুযায়ী মাঝেমদ্ধেই বিভিন্ন মেয়েদের ছবি তাদের ওয়েব সাইটে এড করে দিতে হয়। আর নন-মাহরাম নারিদের তো দেখা জাইয়েজ নাই। তা সত্তেও আমাকে এই কাজ করতে হচ্ছে। আবার মাঝেমদ্ধে সুদের ক্যাল্কুলেশন এর জন্য ওয়েবসাইটে ক্যালকুলেটর বানিয়ে দিতে হচ্ছে। এই সম্পূর্ণ বিষয় টার যদি একটু সমাধান দিতেন আমি অনেক উপকৃত হতাম। আমি কোন কাজ করতে পারতেছি না এই হালাল এবং হারাম এর কনফিউশন এ।

আপনার উত্তর যোগ করুন

উত্তর দিতে লগিন করুন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

  1. জবাবঃ-
    অনলাইনে দেশী-বিদেশী যে কোনো কম্পানি বা ক্লায়েন্টের সাথে পারিশ্রমিক নির্ধারণ পূর্বক আপনি কাজ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে কোন হারাম কাজ হতে পারবেনা।
    যেমন সুদী কম্পানি বা মদ,জোয়া ইত্যাদি সম্পর্কিত কম্পানি বা ছবি আকার কাজ হতে পারবেনা।বিশেষ করে ছবির দিকটি লক্ষ্যণীয়,যে কোনো কিছুতেই এখন ছবি হিরিক পড়েছে।
    এই ছবি আকার কাজ সহ নানাবিধ হারাম কাজ আপনি করতে পারবেন না।ছবি সম্পর্কে হাদীস শরীফে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে,যেমনঃ-
    হযরত ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত,
    عن ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ 🙁 ﻣﻦ ﺻَﻮَّﺭ ﺻﻮﺭﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻛُﻠِّﻒ ﺃﻥ ﻳَﻨْﻔُﺦ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﺮُّﻭﺡ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻭﻟﻴﺲ ﺑﻨﺎﻓﺦ )
    তরজমাঃ- ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, আমি নবী কারীম সাঃ কে বলতে শুনেছি, যে তিনি বলেছেন,
    যে ব্যক্তি পৃথিবীতে কোন(জানোয়ারের) ছবি আকবে,কিয়ামতের দিন তাকে দায়িত্ব দেয়া হবে,সে যেন উক্ত ছবির ভিতরে রূহ প্রদান করে, অথচ রূহ প্রদান করা তার জন্য কস্মিনকালে ও সম্ভব হবে না(অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে আযাব প্রদান করা হবে)(সহীহ বুখারী -৫৬১৮)

    ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﺇﻥْ ﻛُﻨْﺖَ ﻻَ ﺑُﺪَّ ﻓَﺎﻋِﻼً ﻓَﺎﺻْﻨَﻊِ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَ ، ﻭَﻣَﺎ ﻻَ ﻧَﻔْﺲَ ﻟَﻪ
    হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ কে এক ব্যক্তি ছবি আকার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি উত্তরে বললেনঃযদি তোমার ছবি একে উপার্জন করতেই হয় তাহলে তুমি গাছের ছবি আকো বা এমন ছবি আকো যাতে কোনো প্রাণীর ছবি নেই।(সহীহ বুখারী- ২২২৫)

    লেনদেন বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হল,মূল্য /বা পারিশ্রমিক নির্ধারণ হওয়া।কাজ করার পর যদি কম্পানি বা ক্লায়েন্ট আপনাকে পারিশ্রমিক দেয় না।তাহলে সে গুনাহগার হবে, এতে আপনার কিছু যায় আসে না। বরং জায়েয কাজ হলে আখেরাতে আপনি আপনার পূর্ণ হক্ব পাবেন।সুতরাং হারাম কাজ থেকে বেছে থাকা এবং পারিশ্রমিক নির্ধারণী হওয়ার শর্তে ফ্রীল্যান্সিং পেশা জায়েয আছে।

    সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
    সুদ হারাম।সুদী লেনদেনে সহযোগিতা করাও হারাম। তাছড়া ছবি হারাম। সুতরাং ওয়েবসাইট যদি সুদী সম্পর্কিত হয়,বা ওয়েব সাইটে যদি সুদ বিত্তিক কাজ বেশী থাকে, বা ছবি মূখ্য উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে এমন ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয়া কখনো জায়েয হবে না।কিন্তু যদি ওয়েব সাইটটি সুদ বিত্তিক না হয়,বা সুদের কাজ নিতান্তই কম থাকে, ছবি মূখ্য উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে ততদিন পর্যন্ত রুখসত থাকবে, যতদিন না কোনো হালাল চাকুরীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

    (আল্লাহ-ই ভালো জানেন)
    ——————————–
    মুফতী ইমদাদুল হক
    ইফতা বিভাগ
    Islamic Online Madrasah(IOM)

    • 0