কিভাবে পর্ন বা অশ্লীল ছবি/ভিডিও দেখা থেকে বেঁচে থাকা যায়?

Question

পর্ণগ্রাফি থেকে মুক্তির দোয়া

চোখের যিনা থেকে বাঁচার দোয়া

মাস্টারবেশন থেকে মুক্তির উপায়

পর্ণগ্রাফি থেকে বাঁচার উপায়

আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

পাপ কাজ থেকে মুক্তির উপায়

খারাপ ছবি দেখার শাস্তি

in progress 0
MD Sanaullah 6 days 2021-06-09T12:29:17+06:00 0 Answers 74 views সক্রিয় মেম্বার 0

Answers ( 2 )

    0
    2021-06-09T12:33:19+06:00

    যেভাবে বেরিয়ে আসবেন পর্ন আসক্তি থেকে


    পর্ন আসক্তি একটি ভয়ংকর কুঅভ্যাস। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর কুফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটা এমন একধরনের যৌনবিকৃতি, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে ড্রাগসের মত তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এজন্য পৃথিবীজুড়েই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও নৈতিক পর্যায়ে একে প্রতিহত করার উপায়ে চলছে বিস্তর গবেষণা।চলুন জেনে নেয়া যাক, ভার্চুয়াল এই মারাত্নক অ্যাডিকশন থেকে বেরিয়ে আসার উপায়গুলি।
    ১. সচেতনতাই প্রথম ধাপ: পর্ন আসক্তি দূর করার জন্য এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। এর কুফলগুলো যদি ঠিকমত উপলব্ধি করেন, তাহলে সহজাতভাবেই এর প্রতি আপনার চিন্তাধারায় একটি পরিবর্তন সূচিত হবে। আপনাকে উপলব্ধি করতে হবে, পর্ন আসক্তি একটি মনোসামজিক ব্যধি। এর শারীরীক ও মানসিক কুফল অনেক। স্নায়ুকে ক্রমাগত উত্তেজিত করার মাধ্যমে এটি আপনার রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করার পাশপাশি হরমোনাল ডিজঅর্ডার ঘটায়। এর জন্য আপনাকে মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশন করতে হয়, যা পরবর্তীতে আপনার ব্যাপক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সেই সাথে নৈতিক অবক্ষয় ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টাকেও মাথায় রাখুন। আপনার স্বাভাবিক জীবন ও সামাজিক সম্পর্ক সুরক্ষার তাগিদে তাই এর বিরুদ্ধে সচেতন হোন এখনই।
    ২. সরিয়ে ফেলুন পর্নগ্রাফিক উপাদান: সেক্সুয়াল যেসব কন্টেন্ট আপনার পিসির হার্ড ড্রাইভ বা ফোনে সংরক্ষিত আছে তা মুছে ফেলুন দৃড়চিত্তে। নইলে হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য উপাদানের আকর্ষণে আবারও আপনি সেই জগতে ফিরে যেতে পারেন। সেই সাথে ইন্টারনেটের সেইসব ওয়েব সাইটের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য ব্যবহার করতে পারেন প্রোটেকশনাল সফটওয়্যার। পর্ণ সাইট ব্লক করার জন্য K9 নামে অসাধারণ একটি ফ্রি সফটওয়্যার আছে, ওটা ইন্সটল করে দেখতে পারেন। সফটওয়্যার টি কিভাবে ব্যবহার করবেন বুঝতে না পারলে How to use K9 web protection লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে প্রচুর টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন।
    ৩. গড়ে তুলুন সুস্থ বিনোদনের অভ্যাস: সাধারণত একাকীত্ব, বিষণ্নতা, হতাশার চাপ থেকে মুক্তির জন্যই মানুষ অসুস্থ বিনোদনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সঙ্গ দোষ কিংবা মাদকাসক্তিও এসবের উল্লেখযোগ্য কারণ। তাই সুস্থ বিনোদনের অভ্যাস গঠন করা অপরিহার্য। এতে আপনি পর্ন আসক্তি তো বটেই মাদকাসক্তি থেকেও বেরিয়ে আসতে পারবেন। ভালো গান শোনা, ভালো মুভি দেখা, ভালো বই পড়া হতে পারে সম্ভাব্য ভালো অপশন। এছাড়া প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। হাঁটা কিংবা জগিং করার মত এক্সারসাইজগুলোও আপনাকে দেবে বাড়তি অনুপ্রেরণা। বন্ধুদের সাথে ভালো আ্ড্ডাও হতে পারে আপনার ইতিবাচক পরিবর্তনের উত্‍স।
    ৪. অনুশীলন করুন ধর্মীয় মূল্যবোধ: আপনি যে ধর্মেরই অনুসারী হোন না কেন, তার মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা আপনাকে পর্ন আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই সহায়তা করবে। নামাজ বা প্রার্থণা আপনাকে দেবে আত্নিক পরিশুদ্ধি। এছাড়া ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে পারেন নিজের জীবনকে আরো সুসংহত করার তাগিদে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপদেশ এবং জীবনী থেকেও শিখতে পারবেন, কী করে পাপাসক্তি থেকে প্রত্যাবর্তন করে নির্মল জীবন শুরু করা যায়।
    ৫. প্রয়োজনে মানসিক চিকিত্‍সা নিন: আমরা সহসা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের শরনাপন্ন হতে চাইনা। অথচ পর্ন আসক্তির মত মনোসামাজিক বিপর্যয়ের জন্য মানসিক রোগের ডাক্তাররা আপনাকে দিতে পারেন, সঠিক দিক নির্দেশনা। মনে রাখবেন, রাতারাতি এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। তাই চিকিত্‍সকের কাছে কাউন্সেলিং নিন। তার পরামর্শ মাফিক জীবন পরিচালনা করতে থাকুন। আশা করা যায়, ধীরে ধীরে আপনি এই কুঅভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।
    ৬. কমিয়ে দিন নেট ব্রাউজিং: উইকিপিডিয়ার মতে, ‘পর্নোগ্রাফি যৌন আবেগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যৌনসংক্রান্ত বিষয়বস্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন বা পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা’। বিগত কয়েক দশকে পর্নোগ্রাফি উত্‍পাদন তথা ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোগকে কেন্দ্র করে একটি বিরাট শিল্প গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ইন্টারনেট এর প্রধান উত্‍সস্থল হিসেবে বিবেচিত। তাই ইন্টারনেটে বেশি সময় কাটানো কমিয়ে দিন। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে দ্রুত বেরিয়ে আসুন বাস্তব জগতে। সামাজিক মেলামেশা ও কর্ম তত্‍পরতা বৃদ্ধি করুন। ভার্চুয়াল জগতে সময় অপচয় রোধ করা গেলে পর্ণ অ্যাডিকশন কমানো সম্ভব হবে অনেকাংশে।
    ৭. মেতে উঠুন নতুন শখে: যেহেতু পর্ন দেখা ছাড়তে চাচ্ছেন, তাই ঘরে একা একা কম্পিউটার/ল্যাপটপ/ট্যাব বা মোবাইলে সময় কাটানোর চেয়ে মন কে অন্য দিকে ডাইভার্ট করার জন্য নতুন এক বা একাধিক হবি তৈরি করুন। তারপর সেই হবি নিয়ে মেতে উঠুন। যখনই পর্ণ দেখতে মন চাইবে, সাথে সাথে উঠে পড়ুন এবং সেই হবি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন। এটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রথম দিকে অনেক কঠিন লাগলেও ধীরে ধীরে সহজ হয়ে আসবে। হবি হতে পারে বডিবিল্ডিং এর জন্য জীমে জয়েন করা, গিটার, কবিতা আবৃত্তি কিংবা গান শেখা, ফটোগ্রাফি কিংবা পেইন্টিং, বই পড়া, গাড়ি চালানো শেখা, খেলাধুলা কিংবা সাঁতার শেখা কিংবা নতুন বন্ধু তৈরি করা। মোট কথা, নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
    ৮. গড়ে তুলুন পারিবারিক পরিসর: পরিবারকে সময় দিন। নির্জনতা ও একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসুন। পিসি বা ল্যাপটপ রুমের এমন একটা পজিশনে রেখে ইউজ করুন, যেন সেটা রুমে ঢুকলে সবার দৃষ্টিগোচর হয়। বাবা-মা তাদের সন্তানদের কম্পিউটার টেবিল ঘরে ঢুকলে, সহজেই চোখে পড়ে এবং মনিটর করা যায় এমন অবস্থানে রাখুন। সেইসাথে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া কিংবা পিকনিক করাও হতে পারে ভালো অল্টারনেটিভ। কাজের দিনগুলোর ফাঁকে এই সুন্দর উদ্যোগগুলো আমাদের পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি সরবরাহ করবে পজেটিভ এনার্জি।
    ৯. বদলে ফেলুন সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: পর্ন বলতে যে প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও রগরগে যৌনতার প্রদর্শণী আপনার সামনে ভেসে ওঠে, তা সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্য এক বিশাল হুমকি। এখানে নারী সত্ত্বার যে ভয়াবহ অবমাননা করা হয়, তার বিরুদ্ধে আপনার চিন্তা-চেতনাকে জাগ্রত করুন। শিশু বা পশুদের ক্ষেত্রে যা করা হয়, তা অসভ্যতা ও বর্বরতার চরম নিদর্শণ। সুতরাং, পর্নকে বিনোদন বা আনন্দায়ক হিসেবে দেখার ট্রেন্ডটাই বদলে ফেলুন। একে সমাজ-পরিবার ও স্বাভাবিক যৌন জীবনের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করুন এবং সেই অনুপাতে নিজের ভেতরে লড়াই করার মানসিকতা গড়ে তুলুন।
    শেষ কথা হল, পর্নগ্রাফির আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাকে দীর্ঘদিনের অব্যাহত প্রচেষ্টায় নামতে হবে।খুব দ্রুত কিংবা চটজলদি আপনি এ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেননা। তবে সদিচ্ছা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা সহকারে উপরের ধাপগুলো অনুসরন করলে আপনি অবশ্যই সুফল পাবেন। মনে রাখবেন নির্জনতা, আলস্য, হতাশা এবং একাকীত্ব থেকে আপনাকে মুক্ত হতে হবে। সেইসাথে হতে হবে প্রো-অ্যাকটিভ ও গতিশীল মানুষ। নিত্য নতুন উদ্যোগ ও কর্মতত্‍পরতায় এগিয়ে নিতে হবে জীবনকে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার নেতিবাচক অভ্যাসুগলো হ্রাস পেতে থাকবে। সূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ডডটকম

    0
    2021-06-09T12:36:53+06:00

    প্রযুক্তির উচ্চতর আবিষ্কারগুলো আল্লাহর একান্ত রহমত ও তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। আল্লাহর সৃষ্টির অপার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির নানা দিক ও আবিষ্কারগুলোই এর বড় দৃষ্টান্ত।

    কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরনের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে। যা উঠতি বয়সী কিশোর যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকেও অন্যায় অপরাধের দিকে অনেক বেশি ধাবিত করছে।

    হাদিসের বর্ণিত দোয়াটির নিয়মিত আমলের ফলে দুনিয়ার সব নিকৃষ্ট কাজ যেমন- পর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা, চারিত্রিক কামনা-বাসনা, পরনারীর প্রতি কুদৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকা যাবে। হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটি নামাজের সেজদায় বেশি বেশি পড়াই সর্বোত্তম। আর তাহলো-

    হজরত যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

    সুতরাং তথ্য প্রযুক্তিসহ দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকতে কুরআন-সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া ও আমল অত্যন্ত জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সিজদায় দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। অশ্লীলতা ও বেহায়পনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

Leave an answer