shakil1420
  • 1
Begginer

হাদিসের ব্যাখ্যা

  • 1

রাসুল (স.) বলেছেন “আমি আমার উম্মতের উপর দুই ব্যাপারে খুব বেশি ভয় করি। ১. প্রবৃত্তির কামনা। ২. দীর্ঘ হায়াতের আকাঙ্ক্ষা বা দীর্ঘ আশা আকাঙ্ক্ষা। “

  1. আমার জানার বিষয় হল, বড় কিছু হওয়ার লক্ষ্য (যেমন ডক্টর,ইঞ্জিনিয়ার পাইলট বা অন্য কিছু) ই কি দীর্ঘ আশা আকাঙ্ক্ষা? বুঝিয়ে বলবেন।

আপনার উত্তর যোগ করুন

উত্তর দিতে লগিন করুন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

  1. This answer was edited.

    উত্তরঃ
    আপনার দেওয়া হাদিসের পূর্ণরূপ।
    وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وسم: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَتَخَوَّفُ عَلَى أُمَّتِي الْهَوَى وَطُولُ الْأَمَلِ فَأَمَّا الْهَوَى فَيَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ وَأما طول الأمل فيُنسي الْآخِرَةَ وَهَذِهِ الدُّنْيَا مُرْتَحِلَةٌ ذَاهِبَةٌ وَهَذِهِ الْآخِرَةُ مُرْتَحِلَةٌ قَادِمَةٌ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ فَإِنِ اسْتَطَعْتُم أَن لَا تَكُونُوا بَنِي الدُّنْيَا فَافْعَلُوا فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ فِي دَارِ الْعَمَلِ وَلَا حِسَابَ وَأَنْتُمْ غَدًا فِي دَارِ الْآخِرَةِ وَلَا عَمَلَ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَان» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10616 ، نسخۃ محققۃ : 10132) * فیہ علی بن ابی علی اللھبی : منکر الحدیث متروک ۔ (ضَعِيف)

    জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আমার উম্মার্তের ওপর দু’ ব্যাপারে খুব বেশি ভয় করি। প্রবৃত্তির কামনা আর দীর্ঘ হায়াতের আকাঙ্ক্ষা। অতঃপর প্রবৃত্তি সত্য থেকে বাধা দেয় আর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা পরকালকে ভুলিয়ে দেয়। এই যে দুনিয়া! এটা প্রবহমান প্রস্থানকারী এবং ঐ আখিরাত! তা প্রবহমান আগমনকারী। আর এদের প্রত্যেকটির সন্তানাদিও রয়েছে। অতএব যদি তোমার সাধ্য হয়, দুনিয়ার সন্তান না হওয়ার তোমাদের সাধ্যে কুলায় তবে তাই করো। কেননা আজ তোমরা ‘আমলের গৃহে রয়েছ, (এখানে কোন হিসাব-কিতাব নেই। আর আগামীকাল তোমরা পরকালের অধিবাসী। হবে, আর তথায় কোন ‘আমাল নেই। (বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান)

    হাদিসের মানঃ যঈফ; আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১০৬১৬, সানাদে মুনকাদির ইবনু মুহাম্মাদ য’ঈফ, আর ‘আলী ইবনু আবূ ‘আলী আল লাহবীও য’ঈফ। ফাতহুল বারী ১১/২০২, হিদায়াতুর রুওয়াত রুওয়াতি ৫/২৩ পৃ.।

    ব্যাখ্যা : নফস্ বা প্রবৃত্তির খাহেশাত অনেকটাই মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব। এটা যখন বিপথে পরিচালিত হয় তখন সেটা হয় নিন্দনীয় এবং আল্লাহর অনভিপ্রেত, দীর্ঘ আশাও মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। এটাও যখন হয় হিদায়াত শূন্য এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস সর্বস্ব তখন সেটাও হয় নিন্দনীয়।
    নফস্ বা প্রবৃত্তি মানুষকে সত্যগ্রহণ ও তার আনুগত্য থেকে ফিরিয়ে রাখে। আর দীর্ঘ আশা আল্লাহর স্মরণ ও তার আনুগত্য থেকে দূরে রাখে। যেমন- অনেক মুসলিমকে বাড়ী-ঘর নির্মাণে ব্যস্ত অবস্থায় সালাতে ডাকলে উত্তর দেয় মসজিদে যাওয়ার সময় নেই, ফকীর ভিক্ষা চাইলে বলে ব্যস্ত আছি দেখ না? দুনিয়া এবং আখিরাতের দৃষ্টান্ত হলো চলমান দুটি বাহনের ন্যায়। তবে এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো দুনিয়া তোমার নিকট থেকে তোমার হায়াতকে নিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে আর আখিরাত তোমার নিকট দ্রুত চলে আসছে। এ দুনিয়ার পোষ্য সন্তান রয়েছে, সে সন্তান হলো মানুষ। অর্থাৎ যে দুনিয়ার পিছনে দৌড়ায়, তা কঠিনভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আখিরাত ভুলে যায় সেই দুনিয়ার সন্তান। পক্ষান্তরে যারা প্রকৃত মুমিন তারা হবে আখিরাতমুখী, এদের জন্য দুনিয়া হলো ‘আমলের গৃহমাত্র।

    নাবী (সা.)-এর বাণী : (فَإِنِ اسْتَطَعْتُم أَن لَا تَكُونُوا بَنِي الدُّنْيَا فَافْعَلُو) “যদি তোমার সাধ্য হয়, দুনিয়ার সন্তান না হওয়ায় তবে তাই কর।” এ বাক্যে দুনিয়া বর্জনের পরিপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। এবং আখিরাত গ্রহণের অধিকতর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অতএব মু’মিন আখিরাতই কামনা করে থাকে। আল্লাহ তা’আলা বলেন : “যে পরকালের ক্ষেত্রে পুণ্যফল কামনা করে আমি তাকে তার ক্ষেত্রে উন্নতি দান করি, আর যে দুনিয়ার ক্ষেত্র কামনা করে আমি তাকে দুনিয়ার কিছু অংশ প্রদান করি কিন্তু পরকালে তার জন্য কোনই অংশ নেই।” (সূরা আশ শূরা- ৪২ : ২০)
    রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বাণী : (فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ فِي دَارِ الْعَمَلِ) “তোমরা আজ ‘আমলের ঘরে রয়েছে।” অর্থাৎ দুনিয়ায় আজ তোমরা এমন অবস্থানে রয়েছে যে, আখিরাতে তোমাদের নিকট এই দিনের ‘মাল তলব করা হবে। অতএব দুনিয়ার দায়িত্ব পালনের জায়গা মৃত্যু আসার আগেই গ্রহণ কর। তোমার অবস্থান দুনিয়ায় এক ঘণ্টা মাত্র, তাই উচিত তাকে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা ।

    হাদীসের বাণী : “আগামীকাল তোমরা এমন ঘরে যাবে যেখানে কোন ‘আমাল নেই।” আগামীকালের ঘর হলো আখিরাতের ঘর। সেখানে হিসাব দিয়ে সাওয়াব অথবা শাস্তি গ্রহণ করতে হবে। সেখানে কোন ‘আমল করার সুযোগ নেই। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ দৃষ্টান্ত দ্বারা দুনিয়ার তুচ্ছতা এবং দ্রুত ধ্বংস হওয়ার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আখিরাতের প্রতি তা’যীম ও প্রস্তুতির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা আখিরাতের ঘর চিরস্থায়ী এবং চির সুন্দর। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ আন্ হাকায়িকিস্ সুনান ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৩৩০২ পৃ., লু’আতুত্ তানকীহ ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৪৪২

    • 0