qawmiadmin
  • 0
Professional

হালাল ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব থেকে উপার্জন হালাল কিনা?

  • 0

কেউ যদি হালাল কন্টেন্ট দিয়ে বা ইসলামিক ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করে তাহলে তা হালাল হবে কিনা তার নির্ভরযোগ্য তথ্যবহুল আলোচনা চাই।

আপনার উত্তর যোগ করুন

উত্তর দিতে লগিন করুন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

  1. বর্তমানে ইউটিউবে অনেকেই কাজ করছেন । রীতিমত একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে এটি ! এই হুজুগের তালে গা ভাসিয়ে অনেক এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। করছেন না হালাল হারামের চিন্তা ও । আমি এই পোস্টে চেষ্টা করবো কিভাবে হালাল ভাবে ইউটিউবে কাজ করা যেতে পারে সেই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে।

    আসলে সত্যি কথা হল,বর্তমানে ১০০ % হালাল ইনকাম করা এক মহা দূরহ কাজ । কোন কোন ক্ষেত্রে তো রীতিমত অসম্ভবও বটে !

    তাহলে কি করবেন এখন ? হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন ?

    যেহেতু পুরোপুরি হালাল ভাবে আয় করা অনেক কঠিন । তাই আপনি আপনার সাধ্যমত চেষ্টা করবেন যাতে আপনার আয়টা হালাল হয়,যতটুকু সম্ভব । কিছু ভুল ভ্রান্তি হবেই। কিন্তু আপনি সবসবময় চেষ্টা করবেন হারাম থেকে দূরে থাকতে । আপনার এই প্রচেষ্টাই তো আল্লাহ পাক চান। আমি আসলে কি বুঝাতে চাচ্ছি, আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন ।

    এবার দেখি এসবের সমাধান কিভাবে করা যেতে পারে ?

    ১.তথ্যভিত্তিক বা শিক্ষামুলক ভিডিও করুনঃ

    বিনোদন মুলক ভিডিও করলে কম বেশি হারামের সংমিশ্রণ ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে । তাহলে উপায় ?

    তথ্য ভিত্তিক ভিডিও নিয়ে কাজ করলে এটা যেমন লং টাইম লাস্টিং একটি চ্যানেল হবে। তেমনি অনেক নাজায়েজ বিষয় থেকে দূরে থাকা সহজ হবে । যেমনঃ How to , Top Ten, Narration, Story Telling,Tutorial Based

    ২. ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকঃ

    আমরা সাধারণত বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ইউজ করি , যেগুলো আসলে জায়েজ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় ! তো কি করবেন এখন ?

    এখেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিতে পারেন বিভিন্ন নাশিদ এর ভোকাল ভার্সন আছে । ওগুলো চাইলে ইউজ করতে পারেন । হারাম থেকে কিছুটা হলে ও বাঁচবেন।

    ৩.ইমেজ ইউজঃ

    ইমেজ ইউজ করার জন্য দেখি অনেক রকম ফন্দি করতে হয় অনেক ভাই কে । কিন্তু ওই ইমেজটা তো আসলে আপনারই না ! যাই করেন সেটা কি বৈধ হবে ?

    তাহলে উপায় কি ?

    উপায় হল ফ্রি ইমেজের অনেক গুলো সাইট আছে । আপনি ওখান থেকে নিতে পারেন । কারন ওগুলো বিনামূল্যে ইউজ করার পারমিশন আছে ।

    ৪. সফটওয়্যার ইউজঃ

    আমরা যেসব সফটওয়্যার ইউজ করি ভিডিও বানানোর জন্য, ওগুলো সাধারণত প্যাচ, ক্র্যাক সহ আরও নানা উপায়ে ব্যাবহার করতে হয় । কিন্তু এটা কি জায়েজ ? এগুলো তো পেইড সফট । এভাবে ইউজ করা মানে হচ্ছে তাদেরকে ঠকানো ! তাহলে উপায় ?

    উপায় হল ওপেন সোর্স সফট ইউজ করা । নেটে সার্চ দিলে নানা ওপেন সোর্স সফট পাবেন ।এই ধরনের সফট গুলো বিনামূল্যে বিতরণের জন্যই তৈরি করা। খালি খালি কেন পাপ কামাবো আমরা ?

    ৫.তথ্য ইউজঃ

    ধরুন আপনি একটি টপ টেন ভিডিও বানাতে চাচ্ছেন। কিন্তু আপনি তো এইসব ইনফো জানেন না । তাহলে কই পাবেন ? আরেকজনের ভিডিও থেকে চুরি বা অন্য কোন ফন্দি ? কোন দরকার নাই ।

    তাহলে উপায় ?

    এখানে ও উপায় হল ওপেন সোর্স এর ওয়েব সাইট গুলো ইউজ করতে পারেন ! যেমন উইকিপিডিয়া,উইকিহাউ ।

    আর যদি এখানে না পান তাহলে টপ টেন রিভিউজ নামে একটা সাইট আছে, ওখান থেকেও নিতে পারেন ।

    কিন্তু ভিডিও ডেসক্রিপশনে তথ্য সুত্র দিতে ভুলবেন না যেন । এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবেন !

    এক.

    আপনার ভিডিওতে আপনি যে তথ্য দিলেন তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে । তথা, আপনার ভিডিওর অথরিটি বাড়বে।

    দুই .

    আপনি যে ওদের তথ্য ইউজ করলেন তার ক্রেডিট দিয়ে দিলেন । ওরা ও একটা ব্যাকলিঙ্ক পেল।

    ৬. অপ্রাসঙ্গিক ট্যাগঃ

    অনেক ভাই তার ভিডিও তে ইচ্ছে মত ট্যাগ ব্যাবহার করেন। এতে করে ভিউয়ারদের কে কি ধোঁকা দেওয়া হল না ? মানুষকে ঠকানো এটা কি জায়েজ ?

    উপায় কি ?

    এটার উপায় পানির মত সহজ । প্রাসঙ্গিক ট্যাগ ইউজ করুন । অতিরিক্ত ট্যাগ দেওয়া ভাল নয় । অল্প দিন, রিলিভেন্ট দিন ।

    ৭.ভুলভাল টাইটেলঃ

    ভিডিও হল একটার, টাইটেল দিয়ে রাখলেন আরেকটার ! এভাবে ভিউয়ারদেরকে ধোঁকা দিয়ে যে আয় হবে সেটা কি জায়েজ হবে ভাইয়া ?

    উপায় কি ?

    এটার উত্তর ও সহজ । রিলিভেন্ট টাইটেল দিন । ভিতরে যা আছে, তাই দিন । কোন বাটপারি করার দরকার নাই।

    ৮.উল্টাপাল্টা থাম্বনেইলঃ

    ভিতরে আছে আবুলের নাটক। থাম্বনেইল দিলেন জোসনার নাটক ! না দেখলে মিস !

    এভাবে আর কত দিন ?

    আকর্ষণীয় থাম্বনেইল দিতে হবে। তার মানে এই নয় যে যা খুশি তাই দিবেন। সঠিক থাম্বনেইল দিন। এক্ষেত্রেও ফ্রি ইমেজের সাইট গুলোকে ব্যাবহার করতে পারেন ।

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের উপায় করে দিন । আল্লাহ হাফেজ ।

    • 0