অনুচ্ছেদ : নবম হিজরীতে জনতার সাথে আবু বকর (রা) এর হজ্জ সম্পাদন

৭৮ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া

উলঙ্গ ব্যক্তি বায়ভুল্লাহ্ তাওয়াফ করবে না ৷ আর আল্লাহ্র রাসুল (না)-এর সাথে যদি কারো
কোন চুক্তি থেকে থাকে, তাহলে তা তার মেয়াদ পুর্তি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ৷

যথানির্দোশ আলী ইবন আবু তালিব (রা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিজস্ব বাহন উষ্টী আল
আযবা’র আরেড়াহী হয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং পথিমধ্যেই আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর সাথে
মিলিত হলেন ৷ র্তাকে দেখে আবু বকর (রা) জিজ্ঞেস করলেন, আঘীর না মামুর দলপতি
হয়ে না সহকর্মী হয়ে? তিনি বললেনববং মামুর আদিষ্ট ও অধীনস্থ হয়ে ৷ পরে দুজন এক
ঘোগে সফর করলেন ৷ আবু বকর (রা) লোকদের হজ অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেন ৷ সাধারণ
(অঘুসলিম) আরবরা এ বছরের এ সময়টিতেও জাহিলিয়্যাত যুগে প্রচলিত তাদের রীতি প্রথার
হজ পালন করছিল ৷ অবশেষে নাহ্র’ জিলহজের দশম দিবসে আলী ইবন আবু তালিব (রা)
জনসমক্ষে দাড়িয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ফরমান অনুসারে ঘোষণা দিলেন এবং ঘোষণার দিন
থেকে অনুর্ধ্ব চার মাসের সময় দিয়ে বললেন, এ সময়ের মধ্যে প্রত্যেক জাতিগােষ্ঠিকে তার
স্বদেশ ও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার উপদেশ দেয়া হচ্ছে ৷ ঐ সময়সীমার পরে কারো
সাথে কোন চুক্তি বা কারো বিষয় কোন প্রকার দায়-দায়িতু অবশিষ্ট থাকবে না; তবে যাদের
রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর সাথে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের (স্বল্পমেয়াদী) চুক্তি রয়েছে, তা মেয়াদপুর্তি
পর্যন্ত অব্যাহত থক্যেব ৷ফলে পরবর্তী বছর থেকে কোন মুশরিক হল করতে আসে নি এবং
কোন উলঙ্গ ব্যক্তিকে বায়ভুল্পাহ্ তাওয়াফ করতেও দেখা যায় নি ৷তারপর তারা দৃক্রা আবু
বকর ও আলী (বা)! এক সাথে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ফিরে এলেন ৷ এ সুত্রে হাদীসটির
এ রিওয়ায়াত ঘুরসাল (অসংযুক্ত) ধরনের ৷

এ প্রসঙ্গে বুখায়ী (র)-এর বর্ণনা নিম্নরুপ-

অনুচ্ছেদ : নবম হিজ্জীতে জ্যাতার সাথে আবু বকর (না)-এর হজ্জ সম্পাদন

সুলায়মান ইবন দাউদ আবুর রাবী (র)আবু ছরায়রা (বা) সুত্রে বিদায় হজের পুর্বেকার
যে হজে নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আবু বকর (রা)-কে আমীর নিয়োগ করেছিলেন ৷
সে (হজ পালনকালে) তিনি (আবু বকর রা) তাকে (আবু হুরায়রা না) সে ঘোষক দলের সাথে
পাঠালেনশ্ যাদের কতব্যি ছিল এ ঘোষণা দেয়া যে, বর্ত্যা৷ন বছরের পরে কোন মুশরিক হঅ
করতে আসতে পারবে না এবং উলঙ্গ কোন লোক বায়তুল্লাহ্ তাওয়ফে করতে পারবে না ৷

অন্যত্র বুখারী (র) বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)আবু ছরায়রা (রা) সুত্রে
বলেছেন, সেই’ হ্জে আবু বকর (বা) আমাকে ঘোষকদের সাথে পাঠালেন; দশ্ইি জিলহজ
মিনা সমাবেশে এ মর্মে ঘোষণা প্রচারের জন্য তিনি তাদের নিযুক্ত করেছিলেন যে, “এ বছরের
পরে কোন ঘুশরিক হজ করতে পারবে না আর কোন উলঙ্গ লোক আল্লাহর ঘর তাওয়াফ
করতে পারবে না ৷ ” (এ সনদের অন্যতম) রাবী হুমায়দ (র) বলেননবী করীম (সা) পরে
আলী (রা)-া:ক (আবু বকর রা-এর) পিছনে পাঠিয়ে দিয়ে বরােআত তথা সম্পর্কচ্ছেদের
ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিলেন ৷ আবু হুরায়রা (বা) বলেন, দশ তারিখের মিনা সমাবেশে আলী
(রা)ও আমাদের সাথে থেকে সম্পর্কচ্ছেদ ও দায়িত্যুক্তির ঘোষণা দিলেন ৷ এ বছরের পরে
কোন যুশরিক হজ করতে পারবে না এবং কেউ উলঙ্গ হয়ে বয়েতৃল্লাহ্ তাওয়াফ করতে পারবে

কিতাবুল জিহাদে’ এ প্রসঙ্গে বুপারী (র) বলেছেন, আবুল ইয়ামান (র)আবু
ক্ষো (বা) সুত্রে বলেছেন, আবু বকর (যা) আমাকে দশ তারীখেৱ মিনা সমাবেশে
ঘোৰ্ষ্মদানকারীদের সাথে পাঠালেন, এ বারের পরে কোনও মুশরিক হজ করতে পারবে না ৷
কোন উলঙ্গ ব্যক্তি বায়ভুল্লাহ্ তাওয়ড়াফ করতে পারবে না ৷ আর আল হাজ্জ্বল আকরার (বড়
হজ)এর দিন হল ইয়ড়াওঘুন নাহ্ৱ, জিলহজ মাসের দশ তারিখের দিনটিই ৷ তবে একে বড়’
নামে আখ্যায়িত করার কারণ হল, সাধারণ লোকেরা উমরাকে ছোট হজ নামে অভিহিত করে
থাকে ৷ যেটি কথা আবু বকর (বা) ঐ বছর লোকদের সামনে উন্মুক্ত ও ব্যাপক ঘোষণা দিলেন,
ফলে (পরের বছর) বিদায় হজ ৱাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর হজ পালনকালে কোনও যুশব্লিককে হ্জ
করতে দেখা গেল না ৷ ইমাম মুসলিম (র)-ও যুহরী সুত্রে উল্লিখিত সনদে হাদীসটি রিওয়ায়াত
করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন জাফর (র)(যুহরিয (র) তার পিতা)
আবু হুরায়রা (রা ) থেকেতিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) যখন আলী ইবন আবু তালিব (রা)-
কে (বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে মক্কায়) পাঠালেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম ৷ তিনি (যুহরিয)
বললেন, আপনারা কি বলে ঘোষণা দিভাে? তারা (?) বললেন, আমরা এই বলে ঘোষণা
দিভাম যে, ঘু’মিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাবে না; বায়তুল্লাহ্-এ কেউ উলঙ্গ
হয়ে তাওয়াফ করতে পারবে না ৷

যার আল্লাহ্র রাসুল (না)-এর সাথে কোন চুক্তি রয়েছে তার সময়সীমা অথবা (তিনি
বললেন) তার মেয়াদ চার মাস ৷ এ চার মাস অতিক্রাত হয়ে গেলেই যুশরিকদের সাথে
আল্লাহ্র কোন দায়-দায়িতু থাকবে না এবং তার রাসুলের না; এ বছরের পরে যুশরিকর৷ এ
ঘরের হজ করতে পারবে না ৷ তিনি বলেন, ঘোষণা দিতে দিতে আমার আওয়াষ ধরে গেল ৷ এ
সনদটি জায়িাদ উত্তম ৷ বিক্ষ্ম যাদের কোন চুক্তি রয়েছে, তাদের সময়সীমা চারযাস
বর্ণনাকারীর এ উজ্যি সুত্র ধরে হাদীসটির গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুগ্ন হয়েছে ৷

কেননা, যদিও অনেকেই সব ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রেই চার মাস সীমা বেধে দেয়ার মত
পোষণ করেছেন; কিন্তু বিশুদ্ধ অভিমত হল, যাদের সাথে নির্ধারিত সময়ের চুক্তি ছিল, তাদের
জন্য সময়সীমা চুক্তিতে বর্ণিত মেয়াদপুর্তি পর্যন্ত তা যত দিনেরই হোক, চইি তা চার মাসের
অধিক সময়ের জন্যই হোক না কেন (বহাল থাকবে) ৷ আর যাদের সাথে একেবারেই কোন
(চুক্তি বা) মেয়াদ উল্লিখিত চুক্তি ছিল না, তাদেরই জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া
হয়েছিল, চার মাস ৷ এছাড়াও তৃতীয় আর এক ধরনের লোক ছিল ৷ তারা হল সময়সীমা বেধে
দেয়ার এ ঘোষণার পরে চার মাস পুর্ণ হওয়ার আগেই যাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যেত ৷
স্কোক প্রথমােক্ত দলের সাথে সংশ্লিষ্ট করা যায় ৷ যার অর্থ হবে যথাসময় মেয়াদ শেষ
তা চার মাসের কমই হোক না কেন ৷ পক্ষান্তরে, এদের জন্যও সময়সীমা চার মাসে
ঝুত হওয়ার কথা বলা যায়; কেননা, সম্পুর্ণ চুক্তিবিহীন বা যেয়াদৰিহীনদের জন্য উল্লিখিত
সময় প্রদানের বিচারে এদের ক্ষেত্রে ঐ সুবিধা সম্প্রসারিত হওয়া অধিকতর
আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷

ষ্াহ্মদ (র) আরও বলেন, আফ্ফান (র)আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা
স্ল্যাং (সা) আবু বকর (রা)-এর সাথে সম্পর্কহীন ও দায়মুজ্যি ঘোষণা পাঠালেন ৷

তিনি যুল হুযায়ফাতে পৌছলেন এমন সময় নবী করীম (সা) বললেন, “আমি নিজে কিৎবা আমার পরিবারভুক্ত কোন একজনের পক্ষেই তা পৌছানাে
সমীচীন ৷” তাই আলী ইবন আবু তালিব (না)-কে সে দায়িত্ভার দিয়ে তিনি পাঠালেন ৷
তিরমিযী (র) এ হাদীসটি হস্ফোদ ইবন সালামা (র) থেকে রিওয়ায়াত করে মন্তব্য করেছেন ৷
আনাস (রা) সুত্রে বর্ণিত এ রিওয়ারাতটি হাসানও গয়ীব পর্যায়ের ৷

আবদুল্লাহ্ ইবন আহমদ (র)আলী (রা)-এর বরাতে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্পাহ্
(সা) আবু বকর (রা)-এর পশ্চাতে আলী (রা)-কে পাঠালেন তিনি দ্ভুহক্ষার পৌছে র্তার কাছ
থেকে ঘোষণা পত্রটি দিয়ে নিলেন ৷ আবু বকর (রা) মধ্যপৰ্ থেকে হ্মেত এনে বাসুলুল্পাহ্
(সা) কে বললেন, ইয়া রাসুলল্লোহ্ ! আমার বিষয়ে কি কিছু নক্ষি৷ হয়েছে? তিনি মোঃ,

“না তেমন কোন ব্যাপার নয়; তবে জিবৰীল (আ) আমার কাছে এসে আমাকে বললেন,
আপনি স্বয়ং কিংবা আপনার পক্ষে আপনার পরিবারস্থ কেউই এ কর্য সম্পাদন মতে পারে ৷
এ হাদীসের সনদ যেমন দুর্বল তেমনি এর মুল পাঠও অমহ্যায়োগ্য ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, সুফিয়ান (র)যায়দ ইবন বুছার (র) হামাদানী সুত্রে বলেন,
আমরা আলী (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হজ সম্পাদনের দায়িত্ব দিয়ে রাসুলুল্পাহ্ (না) যখন
আবু বকর (রা)-কে পাঠালেন, তখন কোন বিষয়ের দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে তার সাথে
পাঠানো হয়েছিল ? তিনি বললেন, চারটি বিষয় দিয়ে (এক) ঈমানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে
যাবে না, (দুই) বোন উলস ব্যক্তি বায়তৃল্পাহ্ তাওয়াফ করবে না, (তিন) রাসুলুল্পাহ্ (সা)-
এর সাথে যাদের কোন (নির্দিষ্ট মেয়াদের) চুক্তি রয়েছে, তাদের চুক্তি মেয়াদপুর্তি পর্যন্ত
বলবৎ থাকবে এবং (চার) এ বর্তমান বছরের পরে মুশরিকরা হজ পালনে আসতে পারবে
না ৷ তিরমিযী (র) সুফিয়ান ইবন উয়ায়না (র) সুত্রে মায়দ ইবন আহীল (রা) থেকে
অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ (সুফিয়ান) ছাওরী (র)-ওআলী (রা) থেকে , হাদীসটি
রিওয়ায়াত করেছেন ৷

আমি বলি, ইবন আবীর হাদীসখানি মামারআলী (রা) সনদে বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন
জারীর অন্য এক সনদে বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হক্যেম (র)আবুস
সাহ্ৰা আল ৰিকরী (র) সুত্রে বলেন, আমি আলী (বা)-কে হজে আকরার (বড় হজ)-এর ঘটনা
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবু বকর ইবন আবু কৃহাফা (রা )-
কে পাঠালেন জনতার হজব্রত সম্পাদনের উদ্দেশে; আর আমাকে তীর সাথে পাঠালেন সুরা
তাওবার চল্লিশটি আয়াত দিয়ে ৷ আবু বকর (রা) আরাফাত প্রান্তরে উপনীত হলেন এবং
আরাফা দিবস ৯ই জিলহজ সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে হজের খুতবা দিলেন ৷ খুতৰা সম্পন্ন
করে তিনি আমার দিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বললেন, আলী ! উঠে র্দাড়াও এবং আল্পাহ্র রাসুল (সা)-
এর পয়গাম পৌছিয়ে দাও ৷ আমি উঠে দাড়িয়ে সমাবেশের সামনে সুরা তাওবার (প্ৰখনাংশের)
চল্পিশটি আয়াত তিলাওয়াত করে শ্যেনালাম ৷ তারপর আমরা মিনার গিয়ে গৌছলাম ৷ সেখানে
জামরায় কংকর নিক্ষেপ করলাম, উট কুরবানী করলাম এবং মাথা মুণ্ডালাম ৷ তখন আমার

উপলব্ধি হল যে, সমাৰেশে (মিনা-মুযদালিফায় সমবেত) সকলেই আরাফাতে প্রদত্ত আবু
বকর (রা)-এর অতিতাষণে উপস্থিত ছিল না ৷ তাই আমি যে আয়াতগুলো নিয়ে প্রতিটি র্তাবুতে
ঘুরে ঘুরে তা তাদের পড়ে গোনাতে লাখলাম ৷ তারপর আলী (রা) বললেন, (শেষের) এ
ঘটনার কারাণ আমার মনে হয় তোমাদের ধারণা জন্মেছে যে, এ ঘোষণা দেয়া হয়েছিল
দশই জিলহজ কুরবানীর দিনে; কিন্তু আসলে তা ছিল আরাফা দিবস ৯ই জিলহজ তারিখ ৷
আত্-তড়াফসীর এ পর্যায়ে চুড়ান্ত বিশ্নেবণধর্ষী আলোচনা করা হয়েছে এবং সেখানে হাদীস ও
আছারসমুহের (বাণীমালার) সনদ নিয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে ৷ সমস্ত প্রশংসা ও
অনুগ্রহ আল্পাহ্রই ৷

ওয়াকিদী (র) বলেন, মদীনা থেকে আবু বকর (রা)-এর সাথে তিনশ সাহাবীর একটি
জামাআত এ সফরে গিয়েছিলেন ৷ এদের মাঝে আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা)-ও ছিলেন ৷
আবু বকর (রা) নিজে পড়াচঢি কুরবানীর উট নিয়েছিলেন; রাসুলুল্লাহ্ (সা) তীর হাতে
পাঠিয়েছিলেন ৰিশটি এবং পরে আলী (রা)-কে তীর পশ্চাতে পাঠালে আরজ’ নামক স্থানে
আলী (রা)এর সাথে মিলিত হলেন এবং হজ উপলক্ষে সমবেত জনতার সামনে (আরাফাতে)
সুরা তাওবার ঘোষণা প্রদান করলেন ৷

এক নজরে নবম হিজরীর ঘটনাবলী

এ বছর অর্থাৎ হিজরী নবম সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মাঝে রয়েছে তাবুক অভিযান
রজব মাসে; যার বিবরণ ৰিবৃত হয়েছে ৷ ওয়াক্কিদী (র)এর মতে এ বছরেই রজব মাসেই
আবিসিনীর রাজ (বর্তমান ইথিশুপিরা) নজ্যেশী (রা)-এর মৃত্যু হয় এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা)
সাহাৰীগণের কাছে তার মৃত্যু সংবাদ পরিবেশন করেন ৷ এ বছরেরই শাবন্ন মাসে রাসুলুল্লাহ্
(সা) দৃহিতা উম্মু শো (বা) ইস্তিকাল করেন ৷ আসমা বিনৃত উমারস ও সাফিয়্যা ৰিনৃত
অৰেদুণ মুত্তালিব তাকে গোসল দেন ৷ মতান্তরে কতিপয় আনসারী মহিলা তাকে গোসল
দিয়েছিলেন; উম্মু আতিয়্যা (মা) ছিলেন যাদের অন্যতমা ৷

মন্তব্য : শেষোক্ত ঘটনাটি সহীহ্ গ্রন্থদ্বয় বুখারী, মুসলিম থেকেই প্রমাণিত ৷ এছাড়া
হাদীসে এ কথাও প্রড়ামাণ্যরুপে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী আলায়হিস সালাম যখন কন্যার জানাযার
নামায আদায় করে তাকে দাফন করতে মনস্থ করলেন, তখন বললেন, “আজ রাতে ত্রী
সহবাস করেছে এমন কেউ কবরে অবতরণ করবে না ৷ ফলে তার স্বামী উছমান (বা)
উল্লিখিত কারণে বিরত রইলেন এবং আবু তালহা আল-আনসারী (বা) তাকে কবরে নামালেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর এ বক্তব্যের লক্ষো উছমান (বা) না হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা বিদ্যমান,
বরং এ বক্তব্যের লক্ষ্য হবেন সাহাবী জামাআত্তের সে লোকেরা র্ষার৷ কবর খনন ও দাকনর্দ্ধ
কাফন ইত্যাদি কাজে অগ্রণী স্বেচ্ছাসেবকের ভুমিকা পালন করতেন ৷ যেমন আবু উবারদা,
আবু তালহা (রা) প্রমুখ ও র্তীদের সহযােগীবৃন্দ ৷ কাজেই রাসুল (সা)এর বক্তব্যের অন্তর্নিহিত
উদ্যেশ্য হল (মারা দাফন-কাফনের কাজে স্বেচ্ছাসেবা করে থাকে) সে লোকদের মাঝে যে
অন্য রাত্রিডে শ্রী সহবাস করে নি এমন নােকই কবরে অবতরণ করবে ৷ অতএব, উছমান (বা)
এ বক্তব্যের লক্ষ্য উপলক্ষ্য কিছুই নন এবং তীর বিরত থাকাকে উপরিউক্ত কারণে সাব্যস্ত করা

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.