অনুচ্ছেদ : প্রথম বারের তাওয়াফের পরে যারা আরাফার গিয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত পুনরায় কা’বার সান্নিধ্য গমন ও তাওয়াফ করেন না তাদের প্রসংগ

করলেন এবং আবার সে তাওয়াফের পরে আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত কারার
কাছে আর পেলেন না ৷ এটি বুখায়ী (র)-এর একক বর্ণনা ৷

অনুচ্ছেদ ! আবতাহে অবস্থান ও আলী (না)-র আগমন প্ৰসৎগ

এ সময় মক্কার বইিরে রাতহার কং করময় ভুমিতে নবী করীম (সা) এর অবস্থান কালে
ইয়ামান হতে হযরত আলী (রা) আগমন করলেন ৷ নবী কয়ীম (সা) খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ
(না)-এর স্থানে তাকে আমীর নিয়োগ করে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন (যেমন, আমরা পুর্বে বলে
এসেছি) ! তিনি এসে দেখলেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এব সহধর্মিনীগণ এবং হাদীৰিহীন হজ্জ
যড়াত্রীদের মত তার শ্রী ও রাসুল তনয়! ফাতিমা (রা) ও হাসান হয়ে গিয়েছেন এবং সুরমা
ব্যবহার ও রংগীন কাপড় পরে সাজ লজ্জা করেছেন ৷ আলী (রা) বললেন, তোমাকে এসব কে
করতে বলেছে? ফাতিমা (রা) বললেন, আমার আব্বাজান ৷ আলী (রা) তখন শ্রীর প্ৰতি ক্রোধে
উত্তেজিত হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাকে অবহিত করলেন যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ্
ফাতিমা হালড়াল হয়ে গিয়েছেন, রংগীন কাপড় পরেছেন, সুরমা লাগিয়েছেন এবং বলেছেন যে,
আপনিই নাকি তাকে এসব করতে বলেছেন ৷ জবাবে নবী করীম (সা) বললেন,
সে সত্য বলেছে! সে সত্য বলেছে! সে সত্য বলেছে! তারপর রাসুলুল্পাহ্
(সা) বললেন, হজ্যে বিরত করার সময় তুমি কী বলে ইহরাম বেধেছিলে ? আলী (রা)
বললেন নবী করীম (না)-এর ইহরামের ন্যায় ইহরামের নিয়ত করেছি ৷ নবী করীম (সা)
বললেন, তবে আমার সাথে তো হাদী রয়েছে, সুতরাং তৃমিও হালাল হবে না ৷ তখন ইয়ামান
হতে আলী (রা)-রনিয়ে আসা হাদী এবং মদীনা হতে ও পরে খরিদ করে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
নিয়ে আসা হাদীর সমষ্টি ছিল একমত উট ৷ তড়ারা উভয়ের এসব হাদীতে পরস্পরে শরীক
হলেন ৷ সহীহ্ মুসলিমের বরাতে এ সব বিবরণ আগেই উল্লেখিত হয়েছে ৷ এ বিবরণ হাফিজ
আবুল কাসিম আত তাবারানী (র)-র বর্ণনাকে প্ৰভ্যাখান করে যা তিনি ইকরিমা ইবন আব্বাস
(রা) সুত্রে উল্লেখ্য করেছেন, এ মর্মে যে, আলী (রা) জুহফায় নবী করীম (সা) এর সাথে
মিলিত হয়েছিলেন ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

আবু মুসা (রা) ছিলেন আলী (রা)-এর সহযাত্রীদের অন্যতম ৷ কিন্তু তিনি হাদী নিয়ে
আসেন নি ৷ তাই তিনি উমরায় জন্য তাওরাক ও সাঈ করার পরে নবী করীম (সা) তাকে
হলোল হয়ে যেতে বললেন, তিনি হজ্জ (এর ইহরাম) বাতিল করে তা উমরায় পরিণত করে
তামাত্তু আদায়কারী হলেন ৷ তাই, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর খিলফোতকালে তিনি এরুপ
করার ফাতওয়া দিতে লাগলেন ৷ তবে উমর (রা) উমর) হতে হজ্জাক পৃথক করার অভিমত
গ্রহণ করলে আমীরুল যুমিন উমর (রা) এর প্ৰতিপত্তির স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাকে সন্তুষ্ট করার
মানসে তিনি এ ফাতওয়া প্রদান থেকে রিবত রইলেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুর রাঘৃযাক (র) আবু জুহায়ফা (রা) সুত্রে বষ্নাি করেন,
তিনি বলেন, আমি বিলাল (রা) কে নবী করীম (সা) এর রাতহায় অবস্থানকালে আমান দিতে
দেখেছি ৷ তিনি তখন ঘুরে ঘুরে এদিকে ওদিকে সুখ করছিলেন এবং তার দৃআংওলছিলর্তার
দু কানে ৷ (বর্ণনা কারী বলেন,) রাসুলুল্লাহ (সা) তার একটি লাল বর্ণের, আমার যতদুর মনে
পড়ে চামড়ার তৈরী র্তাবুতে অবস্থান করছিলেন ৷ রাবী বলেন, ৰিলাল (রা) একটি ণ্কটি বর্শা

নিয়ে বেরিয়ে এসে তার সামনে সেটি পুতে দিলে রাসুলুল্পাহ্ (সা) সালাত আদায় করলেন
বাতহায় কিন্তু আবদুর রাঘৃযাক (র) বলেন, তাকে (উর্ধ্বতন রাবী সুফিয়ান কে আমি মক্কায়
কথাটি বলতে শুনেছি) তার সামনে দিয়ে (সুতরাং রুপে ব্যবহৃত বল্লমের অপর পাশ দিয়ে)
কুকুর, নারী ও মধ্যে চলাচল করছিল এবং তার পায়ে শোভা পাচ্ছিল এক জোড়া লাল পোষাক
আজো যেন, আমি তার পায়ের গোছাদ্বয়ের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাচ্ছি ৷ বর্ণনাকারী আরো বলেন,
আমি আবতাহে নবী কবীম (না)-এর কাছে উপস্থিত হলাম ৷ তিনি তখন একটি লাল র্তাৰুতে
অবস্থান করছিলেন ৷ বিলাল (না) তখন নবী করীম (না)-এর উযুর অবগ্রিষ্টি পানি নিয়ে বেরিয়ে
এলেন ৷ (তখন সে পানির বরকত লাভের জন্য হৈচৈ পড়ে গেল) কেউ কিছু পেল, কেউ ছিটা
ফৌটা পেয়ে ধন্য হলেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, বিলাল (বা) আযান দিলেন ৷ আমি তার মুখ
ঘুরানাে প্রত্যক্ষ করছিলাম, কখনো এদিকে বা কখনো ওদিকে অর্থাৎ ড্যান বীমে ৷ বর্ণনাকারী
বলেন, তারপর তার জন্য একটি ক্ষুদে বল্লম পুতে দেয়া হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বেরিয়ে এলেন,
তখন তার পরিধড়ানে ছিল একটি লাল জুব্বা কিং বা লাল জে ৷ড়া পোষাক (জামা ও লুৎর্গী), আমি
যেন (এখনও) তার গোছাদ্বয়ের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পা ড়াচ্ছি ৷ তিনি আমাদের নিয়ে একটি বল্লম
সামনে রেখে যুহর কিৎবা আসর সালাত দুই রাকআত আদায় করলেন ৷ (সামনে দিয়ে)
নির্বিবাদে যেয়ে লোক, কুকুর ও মধ্যে চলাচল করছিল ৷

তারপর মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু বাকআত করে আদায় করতে থাকলেন ৷ বর্ণনাকারী
কখনো কখনো বলেছেন-যুহর এবং আসর, দু রাকআত (করে) আদায় করলেন ৷ প্রধান
ইমামদ্বয় তাদের দুই সহীহ্ গ্রন্থে এ হাদীস সুফিয়ান ছাওরী (র)-এর বরাতে উদ্ধৃত করেছেন ৷
আহমদ (র) আরো বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন জাফর (র) আবু জুহায়ফা (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেছেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) দুপুর বেলা ক০ করময় মাঠে বেরিয়ে এসে উযু করলেন
এবং যুহর দুই রাকআত আদায় করলেন ৷ তখন তার সামনে (সুতরাং রুপে) ছিল একটি ছোট্ট
বল্লম ৷ এ রিওয়ায়াতে আওন অতিরিক্ত যোগ করেছেন ৷ আমাদের সামনে দিয়ে মধ্যে ও নারীরা
চলাচল করছিল ৷ (মুহাম্মদ ইবন জাফরের অন্যতম শায়খ) হাজ্জাজ (বা) এ হাদীসে
অতিরিক্ত বলেছেন ৷ তারপর লোকেরা দাড়িয়ে তার হাত ধরে ধরে তা নিজেদের মুখমওলে
লাগিয়ে নিচ্ছিল ৷ আবু জুহায়ফা (রা) বলেন, আমিও তার হাত ধরলাম এবং তা আমার মুখে
লাগালাম ৷ আমি অনুভব করলাম যে, বরফের চাইতে শীতল ও মিশকের চাইতে অধিকতর
সুগন্ধিযুক্ত ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ের গ্রন্থকারদ্বয় শুবা (র)-এর হাদীস সংগ্রহ হতে এ হাদীস পুর্ণাৎগ
আহরণ করেছেন ৷

অনুচ্ছেদ : মিনা অভিমুখে যাত্রা ও নবী জ্জীম (না)-এর ভাষণ ও ইহৰাম তালবিয়া প্রসংগ
পুবেই যেমন বিবৃত করেছি, নবী করীম (সা) রবিবার হতে বুধবার পর্যন্ত আবতাহে অবস্থান
করলেন এবং হড়াদীবিহীন লোকেরা হালাল হয়ে গেল ৷ আলী (বা) এ সময় ইয়ামান হতে তার
সহযাত্রী মুসলমান কাফেলা ও অর্থ সম্পদ সহকারে আগমন করলেন ৷ প্রথম বারের তাওয়াফের
পরে নবী করীম (সা) আর কাবায় ফিরে পেলেন না ৷ তারপর নবী করীম (সা) বৃহস্পতিবারের
সকালে আবতাহে সে দিনের ফজর সালাত আদায় করলেন ৷ এ দিনটি ইয়াওঘুততারবিয়া
নামে অভিহিত এবং এ দিন মিনা অভিমুখে যাত্রা করা হয়, বিধায় এদিকে মিনা দিবসও বলা

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.