অনুচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ (সা) এর ওফাতের তারীখ ও সময় ওফাত কালে উনার বয়স, তার গোসল ও কাফন দাফনের বিবরণ তাঁর সমাধির স্থান নির্ধারণ

বায়হাকী (র) বলেছেন, সাল্লাম আত্তাবীল (র) হতে হাদীসটি উদ্ধৃত করলে মুহাম্মদ ইবন
আবদুল্লাহ্র অনুগামী (তাৰি রিওয়ায়াত বর্ণনাকারী) হয়েছেন আহমদ ইবন ইউনুস (র) ৷ তবে
সাল্লাম আত্-তাবীল (র) হাদীসটি একাকী রিওয়ায়াত করেছেন ৷

গ্রন্থকারের মন্তব্য : ইনি হলেন, সাল্লাম ইবন মুসলিম, মতাম্ভরে ইবন সুলায়ম মতান্তয়ে
সুলায়মান তবে প্রথম অভিমতটি অধিক বিশুদ্ধ ৷ (ইনি) তামীম গোত্রের সাদী শাখার লোক ৷
আত্-তাবীল (দীর্ঘকায়) ৷ তীর উর্ধতন রাবী (ও শায়খ ) তালিকায় উল্লেখযোগ্য মনীষী রয়েছেন ৷
জাফার সাদিক, হুমায়দ আত্-তাবীল, যায়দ আলু আশী (র) প্রমুখ এবং আরো অনেকে ৷ তার
অধস্তন রাবী ও শাগরিদ তালিকায়ও রয়েছেন অনেকে ৷ যাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য আহমদ ইবন
আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস, আসাদ ইবন মুসা, খালাফ ইবন হিশাম, আলু বাঘৃযার, আলী ইবনুল
জা’দ, কাবীস৷ ইবন উক্বান (র) প্রমুখ ৷ তবে হাদীস ৰিশারদগণের মাঝে আলী ইবনুল মাদীনী,
আহমদ ইবন হাম্বড়াল, ইয়াহ্য়া ইবন মাঈন, বুখারী, আবু হাতিম, আবু যুরআ আল-জাওযজানী,
াসাঈ (র) এবং আরো অনেকে তাকে দুর্বল বলেছেন ৷ কোন কোন ইমাম তো তাকে মিথুকেও
বলেছেন এবং অন্য অনেকে তাকে বর্জন’ করেছেন ৷ কিন্তু হাফিজ আবু বাক্র আলু-বাঘৃযার এ
হাদীসটি অনুরুপ দীঘ বর্ণনা সহকারে এই সাল্লাম (র) ব্যতীত অন্য একটি সুত্রেও রিওয়ায়াত
করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল আহমাসী (র) আবদুল্লাহ (ইবন
মাসউদ) হতে দীর্ঘ হাদীসটি আনুপুর্বিক উল্লেখ করেছেন ৷ এরপর বাবৃযার (র) বলেছেন, মুর রা
হতে পরস্পর কাছাকাছি একাধিক সনদে একাধিক পন্থায় হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷ তবে আবদুর
রহমান (ইবন) আল্-ইস্পাহানী (র ) মুররা (র) হতে সরাসরি এ হাদীস শুনেন নি ৷ বরং ঘুরবৃা’
হতে খবর দাত৷ জনৈক ব্যক্তির কাছে তিনি শুনেছেন ৷ কিন্তু আবদুল্লাহ সুত্রে ঘুবৃর৷ হতে অন্য
কেউ এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই ৷

অনুচ্ছেদ : রাসুলুল্পাহ (না)-এর ওফাতের তারীখ ও সময় ওফাত কালে তার বয়স তার
গোসল ও কাফন দাফনের বিবরণ তার সমাধির স্থান নির্ধারণ

নবী করীম (না)-এর ওফাত সোমবারে হওয়ার বিষয়টি সর্ব সম্মত, ইবন আব্বাস (বা)
বলেন, তোমাদের নবী করীম (সা) জন্মগ্রহণ করেছেন সোমবারে; নবুয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন
সোমবারে; হিজরাত করে মক্কা ত্যাগ করেছেন সোমবারে; মদীনায় উপনীত হয়েছেন সোমবারে
এবং ইনতিকাল করেছেন সোমবারে ৷ এ রিওয়ায়াত আহমদ ও বায়হাকী (র) এর সুফিয়ান
ছাওরী (র) আ ৷ইশা (বা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন, আ ৷ইশা (বা) বলেন, আবু বকর (বা) আমাকে
বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা) কোন দিন ওফাত বরণ করেছিলেন? আমি বললাম, সোমবারে ৷ আবু
বকর (রা) বললেন, আমি আশা করছি যে আমিও ঐ দিনে মারা যাব ৷ তিনি ঐ দিনেই
ইনতিকাল করলেন ৷ ছাওরী (র) এর এ রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন বায়হাকী (র) ৷

ইমাম আহমাদ (র) বলেন, আসওয়াদ ইবন আমির আইশা (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেছেন ৷ সোমবার এবং সমাহিত হয়েছেন (মংগলবার
দিবাগত) বুধবারের রাতে ৷ এ বর্ণনা একাকী আহমদ (র)-এর ৷ উরওয়৷ ইবনুয্ যুবায়ের তার
মাগাষী’-তে এবং মুসা ইবন উক্বা (র) ইবন শিহাব (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ রাসুলুল্লাহ

(না)-এর অসুস্থতা প্রকট হলে অইিশা (বা) আবু বকর (রা)-এর কাছে, হাফসা (রা) উমর
(রা) এর কাছে এবং ফাতিমা (বা) আলী (রা) এর কাছে খবর পাঠালেন ৷ বিস্তু তারা সমবেত
হতে না হতেই রাসুলুল্লাহ (সা)এর ওফাত হয়ে গেল ৷ তখন তিনি মাথা রেখে ছিলেন আইশা
(রা)-এর বুকে এবং পালা হিসাবেও সে দিনটি ছিল আইশা (রা)-এর ৷ দিনটি ছিল সোমবার
রবীউল আউয়াল মাসের নতুন র্চড়াদের দিনে সুর্য (পশ্চিমে) চলে যাওয়ার সময় ৷

আবু ইয়ালা (র) বলেছেন, আবু খায়ছামা (র) আনাস (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন,
শেষ যে দৃষ্টি আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর প্রতি নিবেদিত করেছিলাম তা ছিল সোমবার ৷ তিনি
(হুজরার দরযার) পর্দা তুললেন; লোকেরা আবু বকর (রা)-এর পিছনে সালাত আদায়
করছিল ৷ আমি তার মুখমণ্ডলের দিকে দৃষ্টি দিলাম, যেন তা ভুল জ্বল করছিল ৷ লোকেরা তাকে
দেখে (সালাত ছেড়ে দিয়ে) ছুটোছুটি করার উপক্রম করছিল ৷ তিনি তাদের যথাস্থানে
অবস্থানের ইংপিত করে পর্দা ছেড়ে দিলেন এবং সে দিনের শেষ ভাগেই ইনতিকাল করলেন ৷
এ হাদীস রয়েছে সহীহ্ বুখারীতে এবং এ হাদীস দুপুরের পরে ওফাত হওয়া নির্দেশ করছে ৷
আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

ইয়াকুব ইবন্ সুফিয়ান (র) আওযাঈ (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি আওযাঈ (র) বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেছেন সোমবার দৃপুরের আগে ৷ বারহার্কী (র) বলেন, আবু
আবদুল্লাহ আল হাফিজ (র) সুলায়মান ইবন তুরখান আত-তায়মী (র) সুত্রে (কিতাবুল
মড়াপাযীতে) বর্ণিত হয়েছে ৷ সুলায়মান (র) বলেন, সফর মাসের বাইশ তারিখে রাসুলুল্লাহ (সা)
অসুস্থ হলেন ৷ তার এ অসুস্থতা দেখা দিয়েছিল ইয়ড়াহুদী বন্দিনীদের অন্যতমড়া বায়হানা নান্নী
বাদীয় ঘরে ৷ তার অসুস্থতা শুরু হয়েছিল শনিবার এবং তার ওফাত হয়েছিল রাবীউল
আউয়ালের দুই তারিখ (দু’রাত অতিক্রান্ত হলে) সোমবার তার মদীনায় পদার্পণের দশ বছর
পুর্তি কালে ৷

ওয়াকিদী (র) বলেন, আবু মাশার (র) মুহাম্মদ ইবন কায়স (র) সুত্রে বর্ণনা করেছেন,
হিজরতের একাদশ বর্ষের সফর মাসের এ গড়ার রাত (দিন) অবিশিষ্ট থাকাকালে বুধবার যায়নড়াব
বিনত জাহাশ (বা) এর ঘরে রােগাক্রাত হলেন ৷ তার এ অসুস্থতা ছিল কঠিন ধরনের ৷ তার
বিবিগণ সকলেই তার কাছে সমবেত হলেন ৷ তেব দিন অসুস্থ থাকার পরে একাদশ হিজরীর
রবীউল আউয়াল মাসের দুই রাত অতিক্রাস্ত হলে তিনি ইনতিকাল করলেন ৷ ওয়াকিদী আরো
বলেন, বর্ণনা দাতাগণ বলেছেন, সফর মাসের দুই দিন বাকী থাকা কালে বুধবার রাসুলুল্লাহ
(সা) এর অসুস্থতার সুচনা হল এবং রবীউল আউয়ালের বার দিন অতিবাহিত হলে সােমৰারে
তিনি ওফাত বরণ করলেন ৷ ওয়াকিদী (র)-এর কাতিব (সচিব) মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) এ
বর্ণনার অনুকুলে দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেছেন ৷ তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, “এবং মংগলবার
তাকে সমাহিত করা হয়েছে ৷ ” ওয়াকিদী (র) এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে সাঈদ ইবন আবদুল্লাহ
ইবন আবুল আবয়ায (র) উম্মু সালামা (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)-
এর রোগের সুচনা হয়েছিল মায়মুনা (রা) এর ঘরে ৷

ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান (র) বলেন, আহমদ ইবন ইউনুস (র) মুহাম্মদ ইবন কড়ায়স (র)
থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ণ্তর দিন অসুস্থ ছিলেন ৷ যখনই একটু হালকা ও

সুস্থ বোধ করতেন তখন নিজে (ইমাম হয়ে) সালাত আদায় করতেন, আর বেশী অসুস্থতা
বোধ হলে আবু বকর (বা) (ইমাম হয়ে) সালাত আদায় করতেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বাবীউল আউয়ালের যায় দিন গত
হলে ইনতিকাল করলেন ৷ এই দিন এবং এ তারিখেই তিনি হিজরত করে মদীনায় আগমন
করেছিলেন ৷ অর্থাৎ বাসুলুল্লাহ (সা) তীর হিজরতের দশটি বছর পুর্ণ করলেন ৷ ওয়ড়াকিদী
বলেছেন, আমাদের কাছে বিষয়টি এ ভাবেই সংরক্ষিত আছে ৷ ওয়াকিদী-র কাতিব মুহাম্মাদ
ইবন মধ্যে এ বিষয় আস্থা ও দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন ৷ ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান (র) লায়ছ (র)
সুত্রে বলেছেন, লায়ছ (র) বলেন, রবীউল আউয়ালের এক দিন অতিক্রান্ত হলে রাসুলুল্পাহ
(সা) ইনতিকাল করলেন, তীর আগমনের দশ বছর পুর্তির মাথায় ৷ দশ বছর আগের ঐ দিলেই
তিনি মদীনায় আগমন করেছিলেন ৷ সাদ ইবন ইবরড়াহীম অড়াঘৃ যুহরী (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ
(না)-এর মদীনায় আগমনের দশ বছর পুর্ণ হলে রবীউল আউয়ালের দুই তারিখ অতিক্রহ্বন্ত
হওয়ার সময় সােমবারে তিনি ইনতিকাল করলেন ৷ ইবন আসাকির (র)ও এ বিবরণ উদ্ধৃত
করেছেন ৷ ওয়ড়াকিদী (র) এ বিবরণ নিয়েছেন আবু মামার সুত্রে মুহাম্মদ ইবন কায়স (র)
থেকে, অবিকল অনুরুপ ৷ খালীফা ইবন থায়্যাত (র)-ও অনুরুপ বলেছেন ৷ আবু নুঅড়ায়ম আলু
ফাঘৃল ইবন দৃকায়ন (র) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) তীর মদীনায় আগমনের সময় হতে
একাদশ বর্ষের সুচনায় রবীউল আউয়ালের নতুন র্চড়াদের সময় সোমবার দিন ইনতিকাল
করলেন ৷ ইবন আসাকির (র)-ও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

একটু আগেই আমরা উরওয়া, মুসা ইবন উক্বা ও যুহরী (র) প্রমুখ সুত্রে মাগাযী’ গ্রন্থের
বরাতে অনুরুপ বিবরণ উল্লেখ করে এসেছি ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷ তবে এ ক্ষেত্রে ইবন
ইসহাক ও ওয়াকিদীর (বার তারিখ সম্বলিত) অভিমতই প্ৰসিদ্ধি পেয়েছ ৷ ওয়াকিদী বিষয়টি
ইবন আব্বাস ও আইশা (রা) সুত্রেও বর্ণনা করেছেন ৷ তাতে তিনি বলেছেন, ইব্রাহীম ইয়াযীদ
(র) ইবন আব্বাস থেকে এবং মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (র) আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷
তারা বলেছেন, ণ্সামবার রবীউল আউয়ালের বার দিন অতিবাহিত হলে রাসুলুল্লাহ (সা)
ইনতিকাল করেন ৷ ইবন ইসহাক (র) এ বিবরণটি উদ্ধৃত করেছেন আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর
ইবন হাঘৃম (এর পিতা) ইবন হাযম সুত্রে ৷ এতে অধিক রয়েছে এবং বুধবারের (পুর্ব) রাতে
র্তীকে সমাহিত করা হয় ৷ শ্

সায়ফ ইবন উমর (র) ইবন আব্বাস (রা) থেকে রিওয়ায়ড়াত করেছেন৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) বিদায় হজ সম্পন্ন করার পরে মদীনায় এসে উপনীত হলেন এবং সেখানে
যিলহজের অবশিষ্ট দিনগুলি সহ পুর্ণ মুহাররম ও সফর মাস অবস্থান করলেন এবং রবীউল
আউয়ালের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সােমবারে ইনতিকাল করলেন ৷ মুহাম্মদ ইবন
ইসহাক (র) উরওয়া (র) সনদের অনুরুপ বর্ণিত” হয়েছে ৷ ফাতিমা (বা) আইশা (বা) সনদের
হাদীসেও অনুরুপ রয়েছে ৷ তবে ইবন আব্বাস (না)-এর রিওয়ায়াতে রয়েছে মাসের (রবীউল
আউয়াল) শুরুতে কয়েকদিন গত হওয়ার পর ৷ আর আইশা (বা) বলেছেন, মাসের কতক
দিন “অতিবাহিত হওয়ার পরে ৷

একটি তাত্তিক আলোচনা : আর রাওযগ্রন্থে আবুল কাসিম আসৃ সুহায়লী (র) বলেছেন,
তার সারমর্ম হলো এই যে, একাদশ হিজরী বর্ষের বারই রবীউল আউয়াল সোমবারে নবী
কবীম (না)-এর ওফাত হওয়ার ব্যাপারটি এক অকল্পনীয় ব্যাপার ৷ কেননা, দশম বর্ষের বিদায়
হজে নবী করীম ণ্প্(সা) আরাফায় উকুফ করেছিলেন শুক্রবারে, যা ছিল যিলহজ মাসের নয়
তারিখ ৷ সুতরাং যিলহজ মাসের প্রথম তারিখ ছিল অনিবার্যত বৃহস্পতিবার ৷ আর সে হিসাবে
পরবর্তী মাসগুলি সব কটি পুর্ণাত্গ ত্রিশ দিন কিৎবা সব কটি উনত্রিশ দিন ধরা হলে কিৎবা
কোন কোন মাস ত্রিশ দিনের ও অন্যান্য মাস উনত্রিশ দিনের ধরা হলে এর কোন হিসাবেই
রবীউল আউয়ালের বার তারিখ সোমবার হওয়া সাব্যস্ত হয় না ৷ আর বার তারিখের অভিমতটি
যেমন প্রসিদ্ধ তার প্রতিকুলে এ প্রশ্নটিও তেমনই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে ৷ অনেকে অনেক ভাবে
এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন ৷ তবে সুষ্ঠু জবাব হতে পারে মাত্র একটি পন্থায় ৷
তা হল মক্কা ও মদীনায় চীদ দেখার ব্যবধান মােন নেয়া ৷ অর্থাৎ এ ভাবে যে, মক্কাবাসীরা
দশম হিজরীর যিলহভ্রুজ্জ্বর র্চাদ দেখছিলেন বৃহস্পতিবার রাতে ৷ ১ কিন্তু মদীনাবাসীগণ
শুক্রবারের (পুর্ববর্তী) সন্ধ্যড়ার আগে তা দেখতে পাননি ৷ আইশড়া (বা) প্রমুখের বর্ণনায় এ
বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় ৷ (তিনি বলেছেন) রড়াসুলুল্লাহ (সা) যিলকদ মাসের পাচ দিন
অবশিষ্ট থাকাকালে বিদায় হফ্তের উদ্দেশ্যে মদীনা হতে প্রস্থান করলেন ৷ আমাদের পুর্ব
আলোচনা সুত্রে তার প্ৰস্থান দিবস ছিল শনিবার ৷ ইবন হড়াঘৃম (র)-এর ধারণা অনুযায়ী
বৃহস্পতিবার হতে পারে না ৷ কেননা, তাতে সন্দেহাতীতভাবে পড়াচ দিনের অধিক অবশিষ্ট
থাকা অনিবার্য হয়ে পড়ে ৷ আবার প্রস্থান দিবস শুক্রবারও হতে পারে ন্ না ৷ কেননা, আনাস
(রা)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) যুহরের সালাত আদায় করলেন মদীনায় চার
রাকআত আর আসৃর আদায় করলেন ঘুলু-হুলায়ফোয় দুই রাকআত ৷ যেটি কথা, এ কথা
প্রমাণিত যে, তিনি মাসের পাচ দিন বাকী থাকা কালে শনিবার প্রস্থান করেছিলেন ৷ এ হিসাব
অনুসারে মদীনাবাসীগণ যিলহজের চীদ দেখেছিলেন শুক্রবার পুর্ববর্তী সন্ধ্যড়ায় ৷ তা হলে
মদীনাবাসীগণের কাছে যিলহজের প্রথম দিন ছিল শুক্রবার ৷ পরবর্তী মাসওলি (যিলহজ ১০ হি
ও যুহড়াররম, সফর ১১ হিজরী) পুর্ণাৎগ ত্রিশ দিনের ধরা হলে পহেলা রবীউল আউয়াল হবে
বৃহস্পতিবার ৷ সুতরাং বারই রবীউল আউয়াল হয়ে সোমবার ৷ আল্লাহ সমধিক অবগত ৷

নবী করীম (না)-এর বয়স সম্পর্কিত আলোচনা : সহীহ্ ৰুখারী মুসলিম গ্রন্থদ্বয়ে মালিক
(র), আনাস (বা) সনদের হাদীস সাব্যস্ত হয়েছে যে, আনাস ইবন মালিক (বা) বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) অতি দীর্ঘও ছিলেন না, আবার অতি খর্বকায়ও ছিলেন না ৷ একেবারে ধবধবে
সাদাও ছিলেন না, আবার শ্যামলাও ছিলেন না ৷ তার কেশ অতিশয় ফৌকড়ানােও ছিল না,
আবার একেবারে সেজােও ছিলো না ৷ চল্লিশ বছরের মাথায় মহান মহীয়ান আল্লাহ র্তাকে
নৰুয়তে ভুষিত করলেন ৷ পরে মক্কায় দশ বছর অবস্থান করলেন এবং মদীনায় দশ বছর
অবস্থান করলেন এবং ষাট বছরের মাথায় আল্লাহ তাকে ওফাত দান করলেন ৷ তখন তার মাথা
ও দাড়ির কুড়িটাও সাদা হয়নি ৷ ইবন ওয়াহ্ব (র)-ও উরওয়া (র) (একাধিক সনদে) আনাস

১ অর্থাৎ র্চড়াদের নিয়মড়ানুসারে বুধবার দিন শেষের বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার সন্ধ্যড়ায় ৷ অনুবাদক

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.