আজকের মাদরাসাছাত্রদের জন্য যা জরুরি : মুফতী ফয়জুল্লাহ

মানুষ যে কোনো মহৎ কাজ করে তার মধ্যে তিনটি পর্যায় থাকে। যথা, (১) মন্তব্য (২) গন্তব্য (৩) কর্তব্য। মন্তব্যের অর্থ মনের খেয়াল বা ধারণা। যে কাজ আল্লাহ পাকের মহান দরবারে যত বেশি মূল্যবান, সে কাজের ধারণা মনে জাগ্রত হওয়া একজন মানুষের ততবড় সৌভাগ্য।

এেেত্র ইল্‌ম শিা করার ময়দানে পদার্পন করার মর্যাদা সর্বোর্ধ্বে। কেননা, কুরআন-হাদীসে এ মহৎ কাজটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। যেমন, দারেমী শরীফে বর্ণিত একখানা হাদীসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, নিষ্ঠার সাথে ইলম শিারত অবস্থায় যার মৃত্যু এসে যায় তার এবং নবীদের মাঝে জান্নাতে শুধু এক দরজা (স্তর) ব্যবধান থাকবে। দুররে মানসুরের মধ্যে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, আলেমগণের মরতবা সাধারণ মুসলমানদের চাইতে সাত শত দরজা বেশি। এক দরজা থেকে অপরটির দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। সিহাহ সিত্তার মধ্যে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদীস- \’তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম সে-ই, যে কুরআন শিখে এবং শিখায়।\’ কোন কোন কিতাবে হাদীসখানার মধ্যে \’ওয়াও\’ হরফের পরিবর্তে \’আও\’ শব্দ বর্ণিত রয়েছে। এ হিসাবে অর্থ হবে শিখে অথবা শিখায়। অর্থাৎ শুধু শিার্থীর জন্যেও উক্ত ফযীলত রয়েছে। আরো একখানা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, \’তুমি আলিম হও অথবা ইলম অন্বেষণকারী বা শ্রবণকারী বা আলিমের সাথে ভালোবাসা স্থাপনকারী হও। পঞ্চম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে।\’ (মাকাসিদে হসানা) ইলম শিার ফযীলতের উপর আরো অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে। সুতরাং ইলম শিার্থীর সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হল, আল্লাহ তায়ালা তার মনে ইলম হাসিল করার অদম্য স্পৃহা ও কল্পনা জাগ্রত করেছেন। সে সারাজীবন নিরন্তর সাজদারত হয়ে কাটিয়ে দিলেও এ নেয়ামতের শুকর আদায় করতে সম হবে না। আর ইলম শিখার গন্তব্য বা ল্য হল আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছা। তথা আল্লাহকে পাওয়া। বিখ্যাত কবি শেখ সাদী রহ. বলেন- \’মোমের ন্যায় বিগলিত হয়ে ইলমের পিছনে নিজেকে বিলীন করে দাও। কেননা, ইলম ছাড়া আল্লাহর পরিচয় লাভ করা যায় না।\’ যাহোক, মন্তব্য ও গন্তব্যের পর এবার কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনায় আসা যাক। তো এ ব্যাপারে ধ্রুব সত্য এই যে, আলিম সমাজের দায়িত্ব যেহেতু সর্ববৃহৎ সেহেতু তাঁদের কর্তব্যও ততোধিক। কারণ, বর্তমান অশান্ত ও উচ্ছৃঙ্খল পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার, শোষণ-নিপীড়ন, সুদ-ঘুষ ও দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত সমাজকে মুক্তকরার, অবয়ের অতল গহ্বরে নিপতিত জাতিকে উদ্ধার করার, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের পথ নির্দেশ করার মহান দায়িত্ব একমাত্র আলিম সমাজের স্কন্ধে অর্পিত। কারণ, দীর্ঘকাল যাবৎ প্রচলিত মানব রচিত শাসন ব্যবস্থা এসকল অপরাধ দমনে উপর্যুপরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা অর্থের সুষম বণ্টনে বার বার অম প্রমাণিত হয়েছে। সর্বোপরি অসংখ্য প্রকারের পাপ-পঙ্কিলতার সর্বগ্রাসী বন্যায় ভেসে যাওয়া সমাজকে বাঁচাবার কোন সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনাই প্রচলিত শাসন ব্যবস্থায় নেই। বরং এ মমূর্র্ষু সমাজকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও সচল করার নির্ভুল প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন এমন একজন আলিম যিনি কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হবেন। তাইতো ল করা যায়, ইসলামী খিলাফতের সোনালি যুগে খলীফা ও অন্যান্য প্রশাসকগণ আলিম সমাজের সুপারিশ ব্যতীত রাষ্ট্রের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না। তাহলে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, আলিমগণই পরোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। যাহোক, বর্তমান দিগ্‌ভ্রান্ত সমাজের হাল ধরতে হবে একমাত্র আলিমদেরকেই।
কবির ভাষায়, \’সবক পড়্‌হ ফের সদাকাতকা সাখাওয়াতকা শাজা-আতকা, লিয়া জায়েগা তুজ্‌হ্‌ সে-কা-ম দুনিয়াকী ইমামতকা।\’ অর্থাৎ, সত্যতা, বদান্যতা ও বীরত্বের সবক পড় পুনর্বার। কারণ, তোমাকেই নিতে হবে দুনিয়ার নেতৃত্ব আবার।
\’উঠ্‌কে আব্‌ বয্‌মে জাহাঁমে,এ-ক নাই আন্দা-য্‌ হায়, মাশরিক ও মাগরিব মে তে-রেহী দাউরকা-গা-য্‌ হায়।\’ অর্থ- উঠ! বিশ্বসভায় এসেছে এক নব চেতনা, প্রাচ্যে প্রতিচ্যে হচ্ছে তোমারই যুগের সূচনা। একখানা সুদীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন আলেমদের উদ্দেশ্যে ইরশাদ করবেন, \’তোমাদের এজন্য সৃষ্টি করেছি যে তোমরা দুনিয়াতে মানুষের হেদায়েতের কাজ করবে আর পরকালে তাদের শাফা\’আতের কাজ করবে।\’ তখন আলেমগণ শাফা\’আতের মাধ্যমে লাখো মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে আনবেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন তোমরা নিজ দায়িত্ব পালন করেছ। এবার আরশের ডানে আমার পাশে এসে অবস্থান গ্রহণ কর (সুবহানাল্লাহ)। যাহোক, নিজেদেরকে এমন বৃহত্তর দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলার ল্েয ইলম শিার্থীদের বহু করণীয় রয়েছে। আমি অধম এখানে কয়েকটি উল্লেখ করছি।
(১) প্রতিটি সবক খুব ভালো করে বুঝে পূর্ণ আস্থা সহকারে পড়া, যাতে কখনো কেউ কোনো সন্দেহ সৃষ্টি করতে না পারে। এ সম্পর্কে অত্যন্ত মুহাক্কিক ও তত্ত্বজ্ঞ মুহাদ্দিস উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা তাফাজ্জুল হুসাইন (রহ.)-এর মুখে একটি ঘটনা শুনেছিলাম। এক তালেবে ইলম খুব ভালো করে বুঝে \’মিযান\’ পড়েছে। একদিন সে তেলাওয়াতের সময় তাব্বাত য়্যাদা…আয়াতটি পাঠ করছিল। এমন সময় জনৈক বুযুর্গ সেখান দিয়ে গমন করছিলেন। তিনি কাশফ দ্বারা জানতে পারলেন, ছেলেটি খুবই নিষ্ঠাবান। তাই তিনি ছেলেটিকে পরীা করার মানসে বললেন,\’তাব্বাত য়্যাদা\’ ভুল \’তেব্বাত য়্যাদা\’ সহীহ। ছেলেটি বলল, না, না, \’তাব্বাত য়্যাদা\’ সহীহ, \’তেব্বাত য়্যাদা ভুল। এভাবে বিতর্কের এক পর্যায়ে উক্ত বুযুর্গ বিভিন্ন ছাপার কুরআন শরীফ ছেলেটির সামনে পেশ করতে থাকেন এবং তাসখীরের মাধ্যমে \’তেব্বাত\’ বানিয়ে দেখাতে থাকেন আর ছেলেটি বলতে থাকে, ভুল, ভুল। অতঃপর বুযুর্গ নিজ বাহু উত্তোলন করে বগলের নিচে হাত রেখে বললেন, ঐ দেখ লাউহে মাহফূজের মধ্যেও তেব্বাত লিখিত রয়েছে।
ছেলেটি বলল: আচ্ছা ঠিকই তো! একটা কলম দিন আমি যবর লাগিয়ে দেই; লাউহে মাহ্‌ফূজে ভুল উঠেছে! বুযুর্গ বললেন: কতবড় সাহস তোমার লাউহে মাহ্‌ফূজকে ভুল বলছ। ছেলে বলল, \’তাব্বাত\’ সীগায়ে ফে\’লে মাজী- যার প্রথম অরে কখনো যের হতে পারে না। বুযুর্গ তার পিঠে হাত মেরে বললেন, \’শাবাশ! তোমার দ্বারা ভবিষ্যতে কাজ হবে।\’ উক্ত ছেলেটির ন্যায় প্রতিটি সবক ইয়াকীনের সাথে বুঝে পড়তে হবে। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) কে বলতে শুনেছি: \’কিতাব এমনভাবে বুঝে পড়বে যেনো পড়াতে পারো।\’ হযরত থানভী (রহ.) বলেন, \’কেউ যদি দরসী কিতাব (পাঠ্য পুস্তক) ভালো করে বুঝে পড়ে তবে সে করতে পারবে না এমন কোনো কাজ নেই। এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও যদি তার হাতে এসে যায় তবুও সে সবার চেয়ে ভালোভাবে তা আনজাম দিতে পারবে।\’
(২) কিতাব এবং উস্তাদের যথাযথ আদব রা করে চলবে। এ সম্পর্কে হযরত থানভী (রহ.) নিজের কথা বলেন, \’আমার কিতাব যেখানে রাখা থাকত, আমি নিজের ব্যবহৃত বস্ত্র সে বরাবর উপরে কখনো ঝুলিয়ে রাখতাম না।\’ শাহ্‌ কাশ্মীরী (রহ.) বলতেন, \’দু\’কারণে আল্লাহ পাক আমাকে ইলম দান করেছেন। এক. আমি সর্বদা ওযুর সাথে কিতাব অধ্যয়ন করতাম। দুই. যদি কখনো হাশিয়া (টিকা) দেখার প্রয়োজন হত আর হাসিয়া বিপরিত দিকে থাকত, তখন আমি নিজ স্থান ছেড়ে ঘুরে গিয়ে হাশিয়া দেখতাম, হাদীসের কিতাবকে ঘুরাতাম না।\’ আর উস্তাদের সাথে বেয়াদবি করার কারণে বহু মেধাবী ছাত্রের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের দ্বারা দ্বীনের কোনো খেদমত হয়নি। কেউ কেউ বড় বেদআতি হয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো দুর্বল ছাত্র কাসে নিম্নমানের প্রশ্ন করলে তজ্জন্য হাসাহাসি করবে না। কেননা, ইহা এক ধরনের কিব্‌র বা অহংকারের লণ- যা থেকে বাঁচার জন্য হযরত থানভী (রহ.) তাগিদ করেছেন।
(৩) জীবনের মূল্যবান সময়গুলো যাতে অযথা নষ্ট না হয় সেদিকে শতর্ক দৃষ্টি রাখবে। কিতাব অধ্যয়ন ও সময়ের মূল্যায়নে আমাদের পূর্বসূরি মহামনীষীগণ কেমন যত্নবান ছিলেন- এসম্পর্কে জানার জন্য \’আদর্শ ছাত্র\’ (মুফতী আমিনী সাহেব লিখিত) এবং \’ক্বীমাতুয্‌ যামান \’ইনদাল ওলামা\’ (শায়খ আবু গুদ্দাহ্‌ (রহ.) লিখিত) পাঠ করা প্রতিজন বিদ্যার্থীর একান্ত প্রয়োজন।
(৪) সর্বপ্রকার পাপাচার থেকে দূরে থাকা চাই। বিশেষ করে বেদআত বর্জন ও সুন্নাতের অনুসরণ করা চাই। মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রহ.)-এর বাণী প্রসিদ্ধ আছে যে, খেলাফে সুন্নাত কোটি কোটি রাত ইবাদত করার চেয়ে দুপুরে সুন্নাত আদায়ের জন্য সামান্য বিশ্রাম করাই অতি উত্তম। পরিপূর্ণ ইখলাসের সাথে উক্ত কাজগুলো করতে থাকলে যদি কিতাব বুঝে না-ও আসে তবুও এমন তালেবে ইলম দ্বারা দ্বীনের বড় বড় অভাবনীয় খেদমত হবে। এ সম্পর্কে উস্তাদে মুহতারাম বাহরুল উলুম ওয়াল ফুনূন হযরত মাওলানা আব্দুল খালেক (শায়খজী হুজুর রহ.)-এর মুখে শুনেছি, পাঞ্জাব থেকে একজন ছাত্র দেওবন্দ মাদ্রাসায় এসে ভর্তি হয়। সারাদিন সে কিতাব অধ্যয়নে নিজজ্জিত থাকত এবং পাবন্দির সাথে দরস ও তাকরারে শরীক হত কিন্তু সে মোটেই কিতাব বুঝত না। বুঝলেও মনে রাখতে পারত না। তাই উপহাস স্বরূপ তার উপাধি হয়ে গেল, \’তাজুল আগবিয়া\’ অর্থাৎ মেধাহীন ও বোকাদের মাথার মুকুট। কোন পরীায় সে পাস নম্বর পেত না। আর দেওবন্দের নিয়ম ছিলো, কোনো ছাত্র যদি কিতাব না বুঝে এবং পরীায় কখনো পাশ না করে আর সে মাদ্রাসাও ছাড়তে না চায়, সব সময় কিতাব নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তার আর পরীায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে না। বরং শুধু মুরুর ও সামা\’আত-এর অনুমতি দেয়া হয়। অর্থাৎ কোনো রকম সবকে বসে বসে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পৌঁছার সুযোগ দেয়া হয়। উক্ত ছেলেটির েেত্রও তাই করা হল। এমতাবস্থায় সে দাওরা পর্যন্ত মুরুর করে গেল। অতঃপর চিন্তা করল, আমার দ্বারা তাদরীস অর্থাৎ কিতাব পড়ানো তো সম্ভব নয়। সুতরাং কোন মসজিদে ইমামতি নিয়ে নেই। সে তাই করল। কিছুদিন পর ঐ এলাকার জনৈক আর্যপণ্ডিত ঘোষণা করল, আমি মুসলমানদের সাথে মুনাযারা (তর্ক যুদ্ধ) করব। মহল্লার জনগণ এসে ইমাম সাহেবকে ধরল। তিনি চিন্তা করলেন, আমি এলাকার ইমাম, সুতরাং আমাকেই একাজ সমাধা করতে হবে। তাই মুনাযারা করার জন্য মনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মত হল। কিন্তু, মনে মনে যারপর নাই অস্থির ও চিন্তাকিষ্ট হয়ে গেল এই ভেবে যে, আমি তো কোনো রকম বেহেস্তী যেওরের মাসআলা দেখে নামাজ পড়াই। এত বড় পণ্ডিতের সঙ্গে কীভাবে মুনাযারা করবো? (কারণ আর্যরা কোনো সময় ফেকহী মাসায়েলের মধ্যে ত্রুটি বের করে মুসলমানদের পরাস্ত করার অপচেষ্টা করে, কোনো সময় যুক্তি-দর্শনের মাধ্যমে। মোটকথা বিভিন্ন উপায়ে)। আমার ভিতরে তো কিছুই নেই। পরদিন মুনাযারার তারিখ। রাত্রে তিনি আল্লাহর দরবারে খুব কান্নাকাটি করলেন। অতঃপর স্বপ্নে প্রিয় নবী (সা.)-এর যিয়ারত লাভ করলেন। হুজুর (সা.) ইরশাদ করলেন, তুমি কোনো চিন্তা করো না, মুনাযারাতে শরীক হয়ে যাও। পরদিন মুনাযারার আয়োজন করা হলো। তিনি মঞ্চে আরোহন করে চুদ্বয় বন্ধ করে বসে গেলেন। এদিকে গায়েবী মদদের মাধ্যমে আল্লাহ তা\’আলা তাঁর ডান কাঁধে ইমামে আ\’যম আবু হানিফা (রহ.) কে ও বাম কাঁধে দার্শনিক, যুক্তিবিদ আবু আলী সীনাকে এনে বসিয়ে দিলেন (জ্যোতির্দেহের মাধ্যমে)। শুরু হলো মুনাযারা। আর্যরা ফিকহি কোনো বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলে তাঁর ডান কাঁধ থেকে ইমামে আ\’যম পটাপট উত্তর শুনিয়ে দেন। আর মানতিক-ফাল্‌সাফা তথা তর্ক ও দর্শন বিষয় উত্থাপিত হলে আবু আলী সীনা বাম কাঁধ থেকে তৎণাত উত্তর শুনিয়ে দেন। মোটকথা, তিনি অনায়াসে কঠিন কঠিন প্রশ্নাবলির উত্তর দিয়ে চললেন। আবশেষে আর্যরা শোচনীয় ভাবে পরাস্ত ও খুবই লজ্জিত হলো। ইমাম সাহেব বেঁহুশ হয়ে মাটিতে লুটে পড়লেন। মাথায় পানি ঢালার পর চেতনা ফিরে পান। অন্য দিকে এ খবর দেওবন্দ মাদরাসায় পৌঁছলে আসাতিযায়ে কিরাম বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাকে দেখতে আসেন। এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমিতো কেমন ছাত্র ছিলে- আমরা জানি। এসব উত্তর কীভাবে প্রদান করলে? বহু উত্তর আমাদেরও তো জানা নেই। সে বলে না… বলে না…। অনেক পিড়াপিড়ির পর পূর্ণ ঘটনা খুলে বললো। অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি আর্যদের এহেন কঠিন প্রশ্নাবলির উত্তর প্রদানের জন্যে দাঁড়াবেন কিনা- ইতস্ত করছিলেন। এমন সময় মঞ্চে তাঁর পিছনে উপবিষ্ট সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, ওঠ মিয়া! ওঠ…। আসাতিযায়ে দেওবন্দ সমীপে হুলিয়া পেশ করলে ওনারা বললেন, তিনি হলেন কাসেম নানুতবী (রহ.)। অর্থৎ জ্যোতির্দেহের মাধ্যমে ওনাকেও উপস্থিত করা হয়। উক্ত ঘটনা প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি পূর্ণ এখলাসের সাথে ইলমের পিছনে লেগে থাকে, সে যত মেধাহীন ও নির্বোধই হোক না কেন, প্রয়োজন মুহূর্তে তার দ্বারা দ্বীনের অভাবনীয় খেদমত হয়ে যায়।
লেখক : মুহাদ্দিস জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া, লালবাগ, ঢাকা